
ফরম্যাট বদলে গেছে, বদলে গেছে কোচ থেকে শুরু করে দলের বড় একটা অংশ। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বের ফিরতি লেগের ম্যাচ বলেই বার্সেলোনা ভক্তদের মনে ফিরে আসছে দুটি তিক্ত অভিজ্ঞতা। প্রথম লেগে বড় জয় পাওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত বাদ পড়ার ঘটনা যে সহজেই ভোলার নয়। রোমা ও লিভারপুলের বিপক্ষে সেই দুই লড়াইয়ে প্রথম লেগে তাও ছিল বড় জয়। সেখানে এবার ইন্তার মিলানের বিপক্ষে প্রথম লেগে হান্সি ফ্লিকের দল করেছে ড্র। দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও তাই শেষ হাসি হাসতে হলে অতীতের সেই ‘ভূত’ তাড়ানো কিছুটা হলেও কঠিন হতে পারে বার্সেলোনার জন্য।
শুরুটা ছিল রোমাকে দিয়ে। লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজদের নিয়ে গড়া বার্সেলোনার সেই দল শেষ আটের প্রথম লেগে ঘরে মাঠে হেসেখেলেই জেতে ৪-১ গোলে, যেখানে দুটি ছিল আবার আত্মঘাতী গোল। তিন গোলে এগিয়ে থাকায়, আর সাথে দল হিসেবে রোমার সেই সময়ের সেরা পর্যায়ে না থাকা মিলিয়ে বার্সেলোনার সেমিফাইনাল নিশ্চিত বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছিল। তবে বিধিবাম!
আরও পড়ুন
| ব্রাজিল নয়, জাতীয় দলে রাফিনিয়ার প্রথম পছন্দ ছিল ইতালি! |
|
ঘরের মাঠে ফিরতি লেগে প্রথম লেগে গোল করা এদিন জেকো শুরুতেই গোল করে ম্যাচ জমিয়ে দেন। ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামা বার্সেলোনা অতিরিক্ত ডিফেন্সিত হতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত হজম করে বসে আরও দুই গোল। ফলে দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-৪। তবে সেই সময়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিপক্ষের মাঠে গোলের হিসেবে এগিয়ে বার্সাকে কাঁদিয়ে সেমিতে চলে যায় রোমাই।
এই ঘটনা যে স্রেফ ‘ফ্লুক’ ছিল না, তা প্রমাণ করতে যেন বার্সেলোনা মঞ্চস্থ করে প্রায় একই রকমের আরেকটি পারফরম্যান্স। সেমিফাইনালে কাম্প নাউয়ে প্রথম লেগে লিভারপুলকে কোনঠাসা করে মেসির দুটি ও সুয়ারেজের এক গোলে দলটি জয় পায় ৩-০ ব্যবধানে। আগের বছর রোমার কাছে ওই হারের পরও দ্বিতীয় লেগে বার্সেলোনা ফাইনালে খেলার পক্ষেই ভোট ছিল বেশি।
তবে আরও একবার তিন গোলের লিড নিয়ে ভজকট পাকিয়ে ফেলে বার্সেলোনা। ৫৩ মিনিট পর্যন্ত অ্যানফিল্ডে এক গোল হজম করলেও এরপরই খেই হারায় তারা। একে একে তিনটি গোল করে বসে লিভারপুল। রোমার বিপক্ষে সেই হারের তরতাজা স্মৃতির কারণেই কিনা, এই অর্ধে প্রতিটি গোল হজক করার সাথে সাথে যেন আরও মলিন ফুটবল উপহার দিতে থাকে বার্সেলোনা। তারই প্রতিশ্রুতিতে আসে বহুল চর্চিত সেই ‘কর্নার টেকেন কুইকলি’ খ্যাত গোলটি, যেখানে বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের অপ্রস্তুত থাকার সুযোগ নিয়ে আচমকাই গোল করে লিভারপুল। ৪-৩ গোলে হারের পর বিধ্বস্ত মেসি-পিকেদের চেহারাই বলে দিচ্ছিল, কীভাবে কি হয়ে গেল সেটা যেন তারা ঠাওরই করতে পারছেন না।
বুধবার মিলানে যে ইয়ামাল-পেদ্রিদেরও একই অভিজ্ঞতা হবে না, ঠিক এই মুহূর্তে জোর গলায় সেটা বোলার অবস্থা নেই বার্সেলোনার বড় সমর্থকেরও। রণটা খুব স্পষ্ট, সাম্প্রতিক ফর্ম কিছুটা খারাপ গেলেও গোটা মৌসুমে ইন্তার খেলছে দুর্দান্ত ফুটবল। তাছাড়া নকআউট পর্বে কোনো দলকেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এর সাথে যোগ হবে প্রথম লেগে তিন গোল খাওয়া এবং দুটি নকআউট পর্বের ম্যাচে তিন গোলে এগিয়ে থেকেও বাদ পড়ার ভুলে যাওয়ার স্মৃতি।
তবে এবার ভিন্ন কিছু হওয়ার বার্তাও আছে বার্সেলোনার এই দলে। দায়িত্ব নিয়ে প্রথম মৌসুমেই দলটিকে রাতারাতি বদলে দেওয়া হান্সি ফ্লিকের কাছে ইতিবাচক ফুটবলই শেষ কথা। দল ৩-৪ গোলে জিতলেও তাই তিনি আক্ষেপ করেন শেষের দিকে মিস করা একটি গোল নিয়ে। দল লিড নিলে ব পিছিয়ে থাকলেও তিনি খেলান হাই প্রেসিং ফুটবল। ফলে ৯০ মিনিট জুড়ে এই দলটিকে আটকে রাখা প্রায় অসম্ভব এক লড়াই হতে পারে ইন্তারের জন্য।
আরও পড়ুন
| লিভারপুল ছাড়ার ঘোষণা আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের |
|
এর সাথে যোগ করতে হবে লামিন ইয়ালাম আতঙ্ক, যিনি প্রথম লেগে রীতিমত নাচিয়ে ছেড়েছেন ডিফেন্ডারদের। গোলও করেন একটি। সাথে আছেন সেরা ফর্মে থাকা রাফিনিয়া। আর চোট কাটিয়ে এই ম্যাচ দিয়ে বদলি হিসেবে মাঠে ফেরার ভালো সম্ভাবনাই আছে তারকা স্ট্রাইকার রবার্ট লেভনদভস্কির, যাকে ছাড়াই কোপা দেল রের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ফ্লিকের দল।
সব মিলিয়ে অতীতের ভূত ফিরে আসার সম্ভাবনা যেমন আছে, বার্সেলোনার সামনে তেমনি সুযোগ আছে ঐতিহাসিক ট্রেবল জয়ের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়ার। ফ্লিকের দল কী সেটা করতে পারবে? উত্তর জানা যাবে যার কয়েক ঘণ্টা পরই।
No posts available.
২২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪২ পিএম

দিনভর দফায় দফায় আলোচনা। লিয়াম রসেনিয়র চেলসির কোচ থাকছেন, নাকি এফএ কাপের আগেই তাকে বরখাস্ত করা হবে। অবশেষে নীতি-নির্ধারকদের সম্মতিতে এখনই চেলসি অধ্যায় শেষ হলো এই ইংলিশ কোচের।
বুধবার এক বিবৃতিতে রসেনিয়রের বরখাস্তের খবর নিশ্চিত করে চেলসি। দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস পর বরখাস্ত হয়েছেন এই ইংলিশ কোচ। স্ট্যাম্পফোর্ড ব্রিজের ক্লাবটির সঙ্গে ছয় বছরের চুক্তি ছিল তার।
রসেনিয়রের দায়িত্বকালে ২৩ ম্যাচের ১০টিতে হার, দুটিতে ড্রয়ের বিপরীতে ১১টি ম্যাচ জিতেছে দ্য ব্লুজরা। যা চেলসির সহস্রাব্দের ইতিহাসে কোনো স্থায়ী কোচের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত মাসে চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে ৫-২ গোলে হারার পর থেকেই পতন শুরু হয় ক্লাবটির। ১৯১২ সালের নভেম্বরের পর (টাইটানিক ডোবার সাত মাস পর) এই প্রথম টানা পাঁচ ম্যাচে কোনো গোল না করেই হারের তেতো স্বাদ পেল চেলসি।
সবশেষ প্রিমিয়ার লিগে ব্রাইটনের বিপক্ষে হারের পর বুধবার জরুরি বৈঠকে বসে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাজ্যভিত্তিক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘স্ট্যান্ডার্ড স্পোর্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ৪১ বছর বয়সী ইংলিশ কোচ লিয়াম রসেনিয়রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বুধবার দিনভর দফায় দফায় আলোচনা করেছে ক্লাবের নীতি-নির্ধারকরা। গত আট ম্যাচের মধ্যে সাতটি এবং টানা পাঁচ ম্যাচে হেরেছে চেলসি। আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়স লিগে খেলার স্বপ্ন এখন সুদূরপরাহত।
জানুয়ারির শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এতদিন টিম এবং ম্যানেজম্যান্ট নিয়ে চুপ থাকলেও এই প্রথম হারের জন্য সরাসরি খেলোয়াড়দের দায়ী করেছেন রসেনিয়র। ব্রাইটনের বিপক্ষে পারফরম্যান্সকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘অমার্জনীয়’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, তার শিষ্যরা ৮০ শতাংশ ডুয়েল (বল দখলের লড়াই) হেরেছে এবং তাদের মধ্যে কোনো লড়াই করার মানসিকতা ছিল না।
মঙ্গলবার ব্রাইটনের মাঠে উপস্থিত ছিলেন চেলসির সহ-মালিক বেহদাদ এগবালি এবং স্পোর্টিং ডিরেক্টর পল উইনস্ট্যানলি। সেখানে সমর্থকরা কোচের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি ‘ব্লু-কো’ মালিকানাধীন গোষ্ঠীকে ক্লাব ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে ব্যানার প্রদর্শন করেন।
এতকিছুর পরও রসেনিয়রের বিশ্বাস ছিল, তিনি চাকরি হারাচ্ছেন না। সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,
‘মালিকপক্ষের সঙ্গে আমার প্রতিদিন কথা হয়। আমার প্রতি খুবই ইতিবাচক। স্পোর্টিং ডিরেক্টররাও আমার এবং দলের প্রতি দারুণ সমর্থন দেখাচ্ছেন।’

প্রিমিয়ার লিগে টানা পাঁচ ম্যাচ হেরে বেশ বিতর্কে চেলসি। ১৯১২ সালের পর এই প্রথম লিগে টানা পাঁচ ম্যাচ হারের পথে কোনো গোল করতে পারল না স্টামফোর্ড ব্রিজের ক্লাব। হারের বৃত্তে বন্দী থাকা চেলসিতে এবার নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, চেলসি ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়ার ব্যক্তিগত হেয়ারড্রেসার (নাপিত) ম্যাচের আগেই ক্লাবের অভ্যন্তরীণ গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ব্রাইটনের বিপক্ষে চেলসির অ্যাওয়ে ম্যাচের (০-৩ গোলে হার) কয়েক ঘণ্টা আগে এই তথ্য ফাঁস হয়।
কুকুরেয়ার চুল কাটার একটি ছবি সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে তার হেয়ারড্রেসার লেখেন, ‘পালমার এবং জোয়াও পেদ্রো—দুজনেই চোটাক্রান্ত। আপনাদের জন্য এক্সক্লুসিভ খবর।’ পরবর্তীতে সেই অ্যাকাউন্টটি মুছে ফেলা হলেও ততক্ষণে তথ্যটি ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ময়করভাবে সেই তথ্য শতভাগ সঠিক প্রমাণিত হয়। কোল পালমার বা জোয়াও পেদ্রো কেউই ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচে নামতে পারেননি।
ম্যানেজমেন্টের ক্ষোভ ব্রাইটনের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ক্লাবের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সহকারী ম্যানেজার লিয়াম রসেনিয়র নিজের ক্ষোভ লুকাতে পারেননি। তিনি বলেন,
‘আমি অনেক সময় খেলোয়াড়দের পক্ষ নিয়ে কথা বলেছি, কিন্তু আজকের এই পারফরম্যান্সের পক্ষে সাফাই গাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
রেকর্ড ব্যর্থতা অবনমন আতঙ্কে থাকা প্রতিবেশী টটেনহ্যাম হটস্পার (২ পয়েন্ট) ছাড়া গত ৯ ম্যাচে চেলসির চেয়ে খারাপ অবস্থা আর কোনো ক্লাবের নেই। পয়েন্ট টেবিলের সাতে নেমে যাওয়া চেলসির জন্য আগামী মৌসুমে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নেওয়া এখন পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গ্রীষ্মকালীন দলবদলে মিডফিল্ডে শক্তি বাড়াতে অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির দিকে নজর দিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। গত বছর আক্রমণভাগ এবং গোলকিপার পজিশনে নজর দেওয়ার পর এবার মিডফিল্ড পুনর্গঠনকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাব।
ইউনাইটেডের সংক্ষিপ্ত তালিকায় নটিংহাম ফরেস্টের এলিয়ট অ্যান্ডারসন, ব্রাইটনের কার্লোস বালেবা এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের অ্যাডাম ওয়ার্টনের নাম নিয়মিত শোনা যাচ্ছে। ম্যাথিউস কুনিয়া এবং ব্রায়ান এমবিউমোর মতো প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড়রা এ মৌসুমে সফল হওয়ায় এই তিনজনের প্রতি ক্লাবের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।
ম্যান ইউনাইটেডের বড় সিদ্ধান্ত রিয়াল মাদ্রিদের ২৬ বছর বয়সী চুয়ামেনিকে নিয়ে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবে তার চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত এবং স্প্যানিশ ক্লাবটি তা আরও বাড়াতে আগ্রহী। তবে বার্নাব্যুতে কোনো ট্রফিহীন এই হতাশাজনক মৌসুম শেষ হওয়ার পর বড় কোনো পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আকর্ষণীয় প্রস্তাব পেলে রিয়াল তাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতে পারে। ২০২২ সালে মোনাকো ছাড়ার সময়ও চুয়ামেনিকে নিতে চেয়েছিল ইউনাইটেড। তখন রিয়ালকেই বেছে নিয়েছিলেন ফরাসি অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার।
চেলসির অপ্রত্যাশিত পতনে মাইকেল ক্যারিকের দল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিশ্চিত করার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। সোমবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ব্রেন্টফোর্ডকে হারাতে পারলে পরবর্তী চার ম্যাচ থেকে মাত্র একটি ইতিবাচক ফলাফল পেলেই দুই বছর পর ইউরোপসেরা টুর্নামেন্টে ফিরবে রেড ডেভিলরা।
চুয়েমেনির দলবদলের ব্যাপারটা কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। ক্যাসেমিরো এবং জেডন সানচোর মতো উচ্চ বেতনভোগী দুই খেলোয়াড়ের ক্লাব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ইউনাইটেডের বেতন কাঠামোতে বড় জায়গা তৈরি হবে। পাশাপাশি ১৫ জুনের ডেডলাইনের আগে বার্সেলোনা ৩ কোটি ইউরোর বিনিময়ে মার্কাস রাশফোর্ডকে কেনার সুযোগ নেয় কি না, তার ওপরও ক্লাবের পরবর্তী পরিকল্পনা নির্ভর করছে।

চ্যাম্পিয়নশিপে হাল সিটির বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করায় লিগ ওয়ানে অবনমন নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত হামজা চৌধুরীর ক্লাব লেস্টার সিটির। ২৪ দলের চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে ৪৪ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে ২৩তম লেস্টার। তাদের হাতে আর দুই ম্যাচ। অবনমন অঞ্চল থেকে বাঁচতে ৭ পয়েন্টের দূরত্বে রয়েছে ক্লাবটি। বাকি দুই ম্যাচ জিতলেও লেস্টারের পক্ষে এই ব্যবধান কাটিয়ে ওঠা সম্ভব না।
লেস্টার সিটির অবনমন নিশ্চিত হওয়ার ভীষণ চাপে কোচ গ্যারি রোয়েট। সামাজিক মাধ্যম এবং মাঠেই তাকে অপসারণের ডাক ওঠে। রোয়েট অবশ্য নিজেও বেশ হতাশ। ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্টস ফুটবলে নিজের চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
রোয়েট বলেন,
‘এটি হতাশাজনক। আজকের ম্যাচটি আমাদের পুরো মৌসুমের পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। প্রথমার্ধে আমরা একটি ভয়াবহ ভুল করে বসি যা প্রতিপক্ষকে এগিয়ে দেয়। আমরা বারবার এমনটা করেছি। ম্যাচের গুরুত্ব বুঝে যে ধরণের তাড়ণা দেখানোর কথা ছিল, তা আমরা দেখাতে পারিনি। যদিও আমরা গোল করার মতো কিছু ভালো সুযোগ তৈরি করেছিলাম।’
দ্বিতীয়ার্ধ নিয়ে তিনি,
‘দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। গত ৫-৬টি ম্যাচে যদি আমরা এই তাড়ণা নিয়ে খেলতাম, তবে আজ আমাদের পয়েন্ট আরও বেশি হতো। আমাদের লড়াকু মানসিকতা দেখা গেছে, অনেক সুযোগও তৈরি হয়েছে, কিন্তু আমরা সেগুলো কাজে লাগাতে পারিনি।’
লেস্টারের অবনমন প্রসঙ্গে রোয়েট বলেন,
‘বড় পরিসরে দেখলে, একটি দল কেবল তিন-চারটি ম্যাচের কারণে অবনমন হয় না। বরং পুরো মৌসুমের ব্যর্থতাই এর কারণ। আমরা গোল করার প্রচুর সুযোগ নষ্ট করেছি ঠিকই, সেটা একমাত্র কারণ নয়। মৌসুমে আমরা মাত্র পাঁচটি ক্লিন শিট রাখতে পেরেছি, তাই দোষটা শুধু ফরোয়ার্ডদের নয়। আমরা আজকেও খুব বাজেভাবে গোল হজম করেছি।’
লেস্টারের এমন পরিস্থিতিতে রোয়েটের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ঢের। তিনি বলেন,
‘ম্যানেজার হিসেবে সম্ভবত এটাই আমার সবচেয়ে হতাশাজনক সময়। কারণ আমি বিশ্বাস করি আমাদের পারফরম্যান্স আরও বেশি পয়েন্ট পাওয়ার যোগ্য ছিল। কিন্তু সুযোগ নষ্ট করার মাশুল আমাদের দিতে হচ্ছে।’

আগামী ২৫ মে ভারতের গোয়ায় পর্দা উঠতে যাচ্ছে অষ্টম সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। গত আসরের মতো এবারও প্রতিবেশী দুই দেশ বাংলাদেশ ও ভারত একই গ্রুপে।
বুধবার ঢাকার সাফ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র। ড্র অনুযায়ী ‘এ’ গ্রুপে পড়েছে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে ভারত, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ। ছয় দেশের অংশগ্রহণে এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে না পাকিস্তান।

ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে অনুষ্ঠিত হয়েছে ড্র। র্যাঙ্কিংয়ে ভারত ও নেপাল শীর্ষ দুই অবস্থানে থাকায় তাদের রাখা হয়েছে দুটি আলাদা গ্রুপে। আর বাংলাদেশ রয়েছে তিন নম্বরে।
২০১০ সালে ঢাকায় প্রথম নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই থেকে ভারত টানা পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তাদের সাফল্যে ভাগ বসায় বাংলাদেশ। গত দুটি আসরের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের সামনে এবার হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের লড়াই।