১৭ এপ্রিল ২০২৫, ৬:২০ পিএম

ভক্তরা মুখিয়ে থাকেন তাদের পছন্দের ফুটবলারের খেলায় মত্ত হয়ে থাকতে, তাঁর গোল করা দেখতে। কিন্তু নেইমার ভক্তদের জন্য এ যেন এক বিলাসীতা। যখন তাদের আকুল হয়ে চেয়ে থাকতে হয়--ব্যস, খেলুক বা না খেলুক, চোটে না পরুক নেইমার।
কিন্তু বলে না, যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধ্যে হয়। নেইমারের ক্ষেত্রেও তাই। মাঠে নামলেই কেন যেন চোটের কবলেই পড়তে হয় তাঁকে। বুধবার রাতে এক মাইলফলকের ম্যাচেও সেই দুঃখই সঙ্গী হলো তাঁর। সান্তোসের মাঠ ভিলা বেলমিরোতে তার শততম ম্যাচ। তাই মাঠে নেমেছিলেন ‘১০০’ নম্বর জার্সি গায়ে। অনেকটা দিন পর জায়গা করে নিয়েছিলেন শুরুর একাদশে। তাঁকে দেখতে মাঠে ছিল দর্শকের ভীড়, গ্যালারিতে ছিল উন্মাদনা। ম্যাচে দলের শুরুটাও ছিল দুর্দান্ত। কিন্তু স্বপ্নময় সেই আবহ বদলে গেল দুঃস্বপ্নে। প্রথমার্ধেই নেইমারকে মাঠ ছাড়তে হলো অশ্রুসিক্ত চোখে।
আরও পড়ুন
| সাহসী ফুটবলে রিয়ালকে হারিয়ে সেমিতে আর্সেনাল |
|
চোট দুর্ভাগ্য নেইমারের নিত্যসঙ্গী হয়ে আছে সান্তোসেও। অনেক দিন বাইরে থাকার পর গত রোববার ফ্লুমিনেসির বিপক্ষে ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে ফেরেন তিনি। বুধবার আতলেতিকো মিনেইরোর বিপক্ষে তাঁকে শুরুর একাদশে রাখেন কোচ সেজার সাম্পাইয়ো।
নেইমারের ফিট থাকা নিয়ে সংশয় অবশ্য ছিল শুরু থেকেই। দুই উরুতেই মোটা করে টেপ পেচিয়ে নামতে দেখা যায় তাঁকে। মাঠেও খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন না তিনি।
তাঁর দল অবশ্য ২৪ ও ২৭তম মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় ২-০ ব্যবধানে। তবে ভুগতে থাকা নেইমার ৩৪ তম মিনিটের পর আর পারলেন না। বাঁ উরুতে হাত রেখে একটু খোঁড়াতে দেখা যায় তাকে। ডাগআউটের দিকে ইশারা করেন বদলির জন্য। উরু চেপে বসে পড়েন মাঠে। এতক্ষণ ধরে উল্লাস করতে থাকা গ্যালারিও তখন প্রায় নিশ্চুপ।
সান্তোসে নিজের ১০০ তম ম্যাচের দিনেও এমন করুণ, অসহায় পরিণতিতে কান্না ছাড়া আর কিছুই সঙ্গী হলো না নেইমারের। সেই কান্না তিনি চেপেও রাখতে পারেননি। তাঁর চোখ জোড়া অশ্রুসিক্ত হয়েছে মাঠেই। সতীর্থ ও প্রতিপক্ষ দুদিক থেকেই সকলে তখন নেইমরাকে স্বান্তনা দিচ্ছেন। শেষমেশ দুজনের সহায়তায় কার্টে বসে মাঠ ছাড়েন নেইমার। আর সে সময় গ্যালারি থেকে আসতে থাকে জোর করতালির আওয়াজ।
চোটে পড়ে আগেও নানা সময়ে চোখের পানিতে মাঠ ছেড়েছেন নেইমার। সৌদি আরবের আল-হিলাল থেকে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে গিয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রথমবার মাঠে নামেন তিনি। টানা সাতটি ম্যাচে খেলেন এই তারকা, আস্তে আস্তে তাঁর মাঠে থাকার সময় বাড়তে থাকে। তবে গত ২ মার্চ করিঞ্চাসের বিপক্ষে ম্যাচে আবার চোটে পড়ে বাইরে থাকেন ছয় সপ্তাহ।
আরও পড়ুন
| ইন্তার বাধায় শেষ আটেই থামল বায়ার্নের পথচলা |
|
মাঝে ব্রাজিল জাতীয় দলে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত ওই চোটের কারণে মার্চের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দুটি ম্যাচে তিনি খেলতে পারেননি। যে উরুর চোটের কারণে তিনি বাইরে ছিলেন, সেখানেই আবার সমস্যা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। চোটের ধরন কী বা কতটা গুরুতর, তা অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো জানানো হয়নি।
No posts available.
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:২৯ পিএম
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১:৪৭ পিএম
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৭ এম

ক্রীড়াজগতের চিরাচরিত নিয়ম—বয়স বাড়লেই প্রয়োজন ফুরিয়ে আসে। নামী তারকাদের খুব কমজনই ক্যারিয়ারের শেষটা রাঙাতে পারেন সাফল্যে। যত দিন দাপট আর জৌলুস, তত দিনই কদর। ভার্জিল ভ্যান ডাইকের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হবে—এমন নিশ্চয়তা দিয়ে বলা কঠিন।
৩৪ বছর বয়সী নেদারল্যান্ডস সেন্টারব্যাক আট বছর ধরে লিভারপুলের রক্ষণভাগের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০১৮ সালে সাউথাম্পটন ছেড়ে স্বপ্নের ক্লাব অ্যানফিল্ডে পা রেখেছিলেন তিনি। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হয়ে ওঠেন দলের আস্থার প্রতীক। কোচ বদলেছে, সতীর্থ বদলেছে—কিন্তু লিভারপুলের লাল জার্সিতে জয়ের ক্ষুধা নিয়ে ছুটে চলেছেন ভ্যান ডাইক।
অল রেডসের হয়ে এখন পর্যন্ত ৩৫৩ ম্যাচ খেলেছেন ভ্যান ডাইক। রক্ষণভাগের নেতা হলেও নামের পাশে রয়েছে ৩১টি গোল। লিভারপুলের জার্সিতে জিতেছেন সম্ভাব্য সব বড় শিরোপা—চ্যাম্পিয়নস লিগ, প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ, ক্লাব বিশ্বকাপ ও ইএফএল কাপ।
আরও পড়ুন
| ফাইনালে নতুন তারকার জন্য নিয়ম পাল্টানোর দাবি গার্দিওলার |
|
তবুও বাস্তবতা এড়ানো যায় না। সময়ের সঙ্গে একদিন হয়তো ছাড়তে হবে নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা। কারণ, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে রক্ষণভাগে নতুন মুখ যোগ করছে লিভারপুল। ২০২৫–২৬ মৌসুমের শীতকালীন দলবদলে রেঁনের ফরাসি সেন্টার ব্যাক জেরেমি জাকেতকে প্রায় ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে ভেড়ায় ক্লাবটি।
মাত্র ২০ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে নেওয়ার পেছনে রয়েছে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। সে কারণেই ভ্যান ডাইকের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তবে লিভারপুল কোচ আর্নে স্লট স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন—এটি কোনো তাড়াহুড়োর সিদ্ধান্ত নয়।
প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে স্লট বলেন, ক্লাব কখনোই কেবল স্বল্পমেয়াদি ভাবনায় সিদ্ধান্ত নেয় না; বরং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই এখানে অগ্রাধিকার পায়। তিনি স্বীকার করেন, ভ্যান ডাইক আর ১০ বছর লিভারপুলে খেলবেন না। তবে তার চুক্তির এখনও দেড় বছর বাকি আছে এবং ফিট থাকলে সময়টা আরও বাড়তে পারে।
স্লট আরও বলেন, এই বয়সেও প্রতি তিন দিনে একবার করে খেলা—ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে—ভ্যান ডাইকের পেশাদারিত্বের বড় প্রমাণ। একই সঙ্গে তিনি জানান, ভবিষ্যতে ভ্যান ডাইক ছাড়া সময় আসবে—এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই লিভারপুল সব পজিশনে আগেভাগে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে হারিয়ে গতকাল রাতে ইংলিশ লিগ কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে প্রতিযোগিতার একটি নিয়ম নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন] সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা। এই নিয়মের পরিবর্তনও চেয়েছেন তিনি।
আর্সেনালের বিপক্ষে আগামী ২২ মার্চ ওয়েম্বলিতে লিগ কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ম্যান সিটি। এই ম্যাচে নতুন ডিফেন্ডার মার্ক গেইহিকে খেলাতে নিয়ম পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন গার্দিওলা।
লিগ কাপের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড়কে যদি সেমিফাইনালের প্রথম লেগ শুরু হওয়ার পর দলে নেওয়া হয়, তাহলে প্রতিযোগিতার বাকি ম্যাচে তাকে আর খেলানোর সুযোগ নেই।
নিউক্যাসলের বিপক্ষে সেমিফাইনালের প্রথম লেগ জয়ের পর জানুয়ারিতে ক্রিস্টাল প্যালেস থেকে গেইহিকে দলে ভেড়ায় সিটি। ফলে এই ইংলিশ ডিফেন্ডার টুর্নামেন্টের বাকি অংশে খেলতে পারছেন না।
এই নিয়মকে ‘অযৌক্তিক’ বলছেন গার্দিওলা। সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগ শেষে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক টাকা দিয়ে একজন খেলোয়াড় কিনেছি, কিন্তু সে কেন (গেইহি) ফাইনালে খেলতে পারবে না-এটা আমি বুঝতে পারছি না। আশা করি লিগ কাপ কর্তৃপক্ষ বিষয়টা বিবেচনা করবে।’
গার্দিওলা আরও বলেন, ‘আমরা তাঁর বেতন দিচ্ছি, সে আমাদের খেলোয়াড়। তাহলে সে কেন ফাইনাল খেলতে পারবে না? এটা তো যৌক্তিক না।’
জানুয়ারিতে সিটির আরেক সাইনিং অঁতোয়ান সেমেনিও সেমিফাইনালে খেলেছেন। মূলত প্রথম লেগের আগেই দলে যোগ দেওয়ায় সুযোগ পান তিনি। এই বৈষম্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গার্দিওলা।
ম্যানচেস্টার সিটির পক্ষ থেকে লিগ কাপ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন গার্দিওলা। তবে একই সাথে স্বীকার করেছেন টুর্নামেন্টের মাঝপথে নিয়ম পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভবও।

সৌদি প্রো লিগে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর খেলা নিয়ে অস্থিরতা যেন কাটছেই না। আল নাসরের ম্যানেজমেন্টে পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নিশ্চয়তা না পাওয়ায় টানা দ্বিতীয় লিগ ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্তেই অটল রয়েছেন রোনালদো।
সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) ভূমিকায় অসন্তোষ থেকেই এই অবস্থান নিয়েছেন পর্তুগিজ তারকা।
ইএসপিএনের খবর, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যদি পিআইএফের পক্ষ থেকে পরিবর্তনের নিশ্চয়তা না আসে, তাহলে চলতি মৌসুম শেষে জুনে আল নাসর ছাড়ার আবেদন জানাতে পারেন রোনালদো।
পিআইএফ মূলত সৌদি আরবের প্রধান চারটি ক্লাব- আল নাসর, আল হিলাল, আল ইত্তিহাদ ও আল আহলি নিয়ন্ত্রণ করে। রোনালদোর অভিযোগ- পিআইএফ আল নাসরের চেয়ে আল হিলালের মতো প্রতিদ্বন্দী ক্লাবগুলোকে বেশি আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে।
একই কারণে আল ইত্তিহাদ থেকে করিম বেনজেমার আল হিলালে সম্ভাব্য দলবদল ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন রোনালদো। তার মতে, এই ট্রান্সফার আল-হিলালের শিরোপা জয়ের পথ আরও সহজ করে দিত।
প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সোমবার আল রিয়াদের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জেতা লিগ ম্যাচ বয়কট করেন রোনালদো। তবে তাতেও কোন লাভ হয়নি, ঐদিনই আল হিলালের সঙ্গে চুক্তি করেন বেনজেমা।
গতকাল নিজের অনুশীলনের ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন রোনালদো। তবে আল-নাসরের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে বুধবার প্রকাশিত অনুশীলনের ছবিতে তাকে দেখা যায়নি।
রোনালদোর অসন্তোষের আরেকটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আল নাসরের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন। গত মাসে বোর্ড মিটিংয়ের পর আল নাসরের স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমাও কৌতিনহো এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসে সেমেদোর ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হন রোনালদো। একই সঙ্গে ক্লাবের খরচ কমানোয় শীর্ষ মানের খেলোয়াড় আনার পথও কঠিন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে আল হিলাল পেয়েছে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা। ক্লাবটির পৃষ্ঠপোষক সৌদি যুবরাজ আল ওয়ালিদ বিন তালাল আল সৌদ নিজ অর্থায়নে দল শক্তিশালী করেছেন। বেনজেমার পাশাপাশি চলতি ট্রান্সফার উইন্ডোর সব সাইনিংই তার অর্থায়নে হয়েছে বলে জানিয়েছে ইএসপিএন।
রোনালদো নাকি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ক্লাব ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা দ্রুত পুনর্বহাল করা এবং সদ্য সমাপ্ত ট্রান্সফার উইন্ডোতে যে হস্তক্ষেপ হয়েছে, ভবিষ্যতে তা যেন আর না ঘটে- এই নিশ্চয়তার ওপরই তার মাঠে ফেরার সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে।
২০২২ সালে আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর এখনও বড় কোন শিরোপা জিততে পারেননি রোনালদো। গত গ্রীষ্মে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত আল নাসরের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেন রোনালদো। সেই চুক্তিতে তার রিলিজ ক্লজ ধরা আছে ৫ কোটি ইউরো।
আগামীকাল শুক্রবার আল ইত্তিহাদের মুখোমুখি হবে আল নাসর। সেই ম্যাচে রোনালদোর খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

ইংলিশ লিগ কাপের (কারাবাও কাপ) সেমিফাইনালে প্রথম লেগে জয়ের পর দ্বিতীয় লেগেও সহজ জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে হারিয়ে প্রতিযোগিতায় ১০ বারের মতো ফাইনালে উঠল সিটিজেনরা।
বুধবার রাতে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ম্যানচেস্টার সিটির জয় ৩-১ ব্যবধানে। দুই লেগ মিলিয়ে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে ৫-১ গোলের জয় পেপ গার্দিওলার দলের।
এ নিয়ে ২০২১ সালের পর আবারো এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠলো ম্যান সিটি। আরেক সেমিফাইনালে চেলসিকে হারিয়ে আগেই ফাইনালে উঠেছে আর্সেনাল।
বুধবার রাতে ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ম্যান সিটি। সপ্তম মিনিটে ওমর মারমুশের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এই ম্যাচে যে কি না খেলেছেন আর্লিং হলান্ডের জায়গায়।
এরপর একের পর এক আক্রমণ শানায় ম্যান সিটি। তবে নিউক্যাসলও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল। জো উইলক ও অ্যান্থনি গর্ডনের শট দারুণভাবে ঠেকান সিটি গোলকিপার জেমস ট্র্যাফোর্ড।
২৯ মিনিটে হেড থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন মারমুশ। তিনি মিনিট পর তিজানি রেইনডার্স গোল করলে বিরতির আগেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আকাশি-নীলরা।
দ্বিতীয়ার্ধে নিউক্যাসল কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। ৬২ মিনিটে অ্যান্থনি এলাঙ্গা দৃষ্টিনন্দন শটে একটি গোল শোধ দেন।
তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো বড় পরিবর্তন হয়নি। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কারাবাও কাপের ফাইনালে ওঠে ম্যানচেস্টার সিটি।
আগামী ২২ মার্চ লন্ডনের ঐতিহাসিক ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ফাইনালে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার সিটি।
ট্যাগঃ ফুটবল, ম্যানচেস্টার সিটি, কারাবাও কাপ, নিউক্যাসল ইউনাইটেড।

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো কে? তাঁকে প্রথম দেখে কেন ভাষা হারিয়ে ফেলতে হবে? কেন কেউ কেঁদে ফেলে তাঁকে প্রথমবার দেখতে গিয়ে?
এইতো। একজন ফুটবলারই তো। তবে কিছু তো আছে। নামের সঙ্গে ৪০ পেরিয়ে লাখ খানেক মিনিট ফুটবল ঘাসে মাড়িয়ে দেখবেন ৯৬১ গোল। ২৬০ অ্যাসিস্ট আর ৩৬টা ট্রফি।
রোজকার যাপিত জীবনে অভিযোগের শেষ নেই। এটা নেই, ওটা পেলাম না কেন? ও আমার চেয়ে খারাপ? সে কিন্তু আমার চেয়ে ভালো। মানুষ এমনই, চিরায়ত অভ্যাসটা আরকি। চারপাশটা যখন এমন, এক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোই ভিন্ন। সেই ভিন্নটা দিয়েই হাজারটা মানুষের প্রেরণা। হাজারটা বলছি, মাফ করবেন। সংখ্যাটা কোটি।
প্রতি ১১১ মিনিটে একটা গোল রোনালদোর ক্যারিয়ারে, গড়ে প্রতি ৮৮ মিনিটে একটা করে গোলে অবদান। এই না হলো ক্রিস্তিয়ানো।
লোকে কতো নিন্দা ছড়ায়, না দেখতে পারা। ওসবে থোড়াই কেয়ার রোনালদোর। নিজের মতো বলে উঠেন, 'আমি যখন চাই, তখনই কথা বলি... আমি বুলেটপ্রুফ, লোহার পোশাক পরে আছি...' আসলেই কিন্তু। ওই যে মদ্যপ পিতার রাস্তা পরিস্কার করতে থাকা ছেলেটা যেদিন ফুটবল দুনিয়াটা পায়ের কাছে এনে রাখল সেদিন থেকে তার জন্য এসব আর এমন কী? হাজারটা নিন্দা, ধুর ছাই, ওসবে বয়েই গেছে রোনালদোর... একটাই সিউউউ সেলিব্রেশনেই তো সবাইকে চুপ করিয়ে দেওয়া।
প্রচণ্ড দারিদ্রটাকে দেখিয়েছেন বুড়ো আঙুল। জীবনে এতোই বদলে দিয়েছেন, যে ফোর সিজনস হোটেলে রোনালদো রিয়াদে এসে থেকেছেন তাঁর মাসিক খরচই নাকি ছিল ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকার মতো। যেখান থেকে পাখির চোখে দেখা যায় পুরো রিয়াদ শহর।
ম্যাকডোনাল্ডসের সেই কর্মচারীর নাম ছিল এডানা। তীব্র ক্ষুধা নিয়ে ছোট্ট রোনালদো জিজ্ঞেস করতেন, 'খাওয়ার জন্য অতিরিক্ত কিছু বেঁচে আছে?' এডানা ওই ক্ষুধার্ত কিশোরকে খেতে দিতেন কিছু। শখানেক কোটি টাকার মালিক হওয়ার পরে এডানাকে খুঁজে বেরিয়েছেন এই রোনালদোই। শুধু পরিশ্রম? কৃতজ্ঞতা, শব্দটাও যেনো রোনালদোর অভিধানে অতি প্রিয়।
শুনেছি, পড়েছি পর্তুগালে নাকি একটা সময় হাহাকার ছিল। পর্তুগাল মৃতপ্রায়। পর্তুগালে যেন আর কিছু নেই। পর্তুগালে চাকরি নেই, জীবন নেই, মর্যাদা নেই। পর্তুগালের শুধু আস্ত একটা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ছিল, আছে। রোনালদো ফুটবল খেলার আগ পর্যন্ত গোটা দেশটার ছিল না কোনো মেজর ট্রফি৷ মোটে তিনটে ইউরো আর তিনটে বিশ্বকাপ খেলার স্মৃতি৷ রোনালদোর পরে পাঁচটা বিশ্বকাপ, পাঁচটা ইউরো খেলা। সঙ্গে তো দুটো মেজর ট্রফি জেতা আছেই।
জাতীয় দলের হয়ে রোনালদো করেছেন ১৪৩ গোল। আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসেই দেশের হয়ে এরচেয়ে বেশি গোল নেই আর কারো। প্রায় প্রতি ১০০ মিনিটে একটা গোল অবদান।
ওই ফান ফ্যাক্ট বলার লোভ সামলাতে পারি না। সোশ্যাল মিডিয়ায় রোনালদোর যত ফ্যান আছে, সবাই নাকি একসঙ্গে হাত ধরে দাঁড়ালে দুবার পৃথিবী সমান দূরত্ব পার হবে৷ শুধু 'ফুটবলার' পরিচয়টাও অনেক আগে থেকেই সাবেক হয়েছে রোনালদোর নামের পাশ থেকে। এখন মহাতারকা বলতেও যে কাউকেই খুব একটা ভাবতে হবে না দুবার...এক বিলিয়ন সহজ করে বললে ১০০ কোটি মানুষ নাকি ফলো করে রোনালদোকে।
বয়শ শুধুই সংখ্যাই ছিল এই লোকটার কাছ। ত্রিশ পেরোনোর পরেই করেছেন প্রায় ৫০০ ছুঁইছুই গোল, ত্রিশের বেশি হ্যাটট্রিক৷ ইউরোপের অনেক নামী স্ট্রাইকারের পুরো ক্যারিয়ার এই লোকটা শুধু বয়স ত্রিশ পেরোনোর পরের ১০ বছরেই দেখে ফেলেছেন। তাঁর জন্য তো বয়স আক্ষরিক অর্থেই একটা সংখ্যা ছিল।
লক্ষ্যটা ১০০০ গোল করা, নিজেই জানিয়েছেন। চোট বাধা না দিলে হাজার স্পর্শ করেই থামতে চান। আর ৩৯ গোলেই স্পর্শ হবে তা। অবসর আসবে শ্রীঘ্রই। প্রস্তুত আছেন তাও তো নিজেই জানিয়ে রেখেছেন।
ইউরোপকে ছুটি দিয়ে আপাতত সৌদি আরবে। তবু এখনো রোনালদোর গোলের পর ক্লাস নাইনের সদ্য গোঁফ-দাড়ি ওঠা ছেলের মতো লাফিয়ে উঠে অনেকেই। অনেকটা জীবন শিখিয়ে গেছেন রোনালদো। যতবার মনে হবে, হবে না... হচ্ছে না... ততবার মনে হবে রোনালদোও পেরেছেন। 'হ্যাপি বার্থডে' ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো...। আপনি চিরকালীন... মাদেইরা থেকে অমরত্ব।