
পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুইয়ের লড়াই। জিতলে বড় লাফ দেবে বায়ার্ন মিউনিখ সেটি জানাই ছিল। তবে তাদেরকে হারিয়ে শিরোপা রেস জমিয়ে তুলবে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড, সেই প্রত্যাশা ছিল ক্লাবটির সমর্থকদের। কিন্তু তা হয়নি। ঘরের মাঠ সিগনাল ইদুনা পার্কে এগিয়ে গিয়েও পয়েন্ট পেলো না নিকো কোভাচের দল। দারুণ জয়ে বুন্দেসলিগা শিরোপার পথে বড় লাফ দিলো বায়ার্ন মিউনিখ।
শনিবার রাতে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে বায়ার্ন। নিকো স্লোটারবেকে গোলে শুরুতে লিড নেয় ডর্টমুন্ড। ৫৪ ও ৭০ মিনিটে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন হ্যারি কেইন। নির্ধারিত সময়ের ৭ মিনিট আগে ড্যানিয়েল সভেনসনের গোলে ফের ২-২ সমতায় ফেরে হলুদ আর্মিরা। তবে ৪ মিনিট পর জশুয়া কিমিখের দারুণ গোলে রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভিনসেন্ট কোম্পানির বায়ার্ন। লিগে এ নিয়ে টানা চতুর্থ জয় তুলে নিলো বাভারিয়ানরা।
আরও পড়ুন
| মেসির যে রেকর্ড নিজের করে নিলেন ইয়ামাল |
|
বায়ার্ন মিউনিখ কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি খেলা শেষে বলেছেন, ‘দারুণ একটা ম্যাচ হলো। ডর্টমুন্ড তাদের সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। আমরা পুরো ৯০ মিনিট ধরে এটি অনুভব করেছি। এমনকি ২-২ ব্যবধানের পরও তারা উঠে আসতে থাকে এবং জিততে চেয়েছে। কিন্তু আমাদের ছেলেরা কেবল পিছিয়ে থাকেনি। তারা মোমেন্টাম খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে গেছে। আমার মতে এটি বুন্দেসলিগার জন্য একটি ভালো ম্যাচ ছিল। দুই দলের মধ্যেই জেতার আকাঙ্ক্ষা ছিল।’
শেষ গোলটি কিমিখের হলেও ম্যাচের নায়ক হ্যারি কেইন। দল পিছিয়ে থাকার পর জোড়া গোল করেছেন নায়ক ইংলিশ স্ট্রাইকার। এবারের বুন্দেসলিগায় ২৪ ম্যাচে কেইনের গোল হলো ৩০টি, তাঁর চেয়ে ১৭ গোল কম নিয়ে তালিকায় দুইয়ে সতীর্থ লুইস দিয়াস। ২০২৩ সালে বায়ার্নে যোগ দিয়ে আগের দুই মৌসুমেও লিগে সর্বোচ্চ স্কোর ছিলেন কেইন; ২০২৩-২৪ আসরে ৩৬টি এবং ২০২৪-২৫ আসরে ২৬টি।
শনিবার রাতের জয়ের পর ২৪ ম্যাচে ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বায়ার্ন। সমান ম্যাচে ১১ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। শিরোপা জিতকে কে সেটি এখনও নিশ্চিত নয়। তবে বুন্দেসলিগায় ১১ পয়েন্টের লিড, যে কারণে অনেকেই মনে করেন শিরোপার ঘ্রাণ পাচ্ছে বায়ার্ন। বাকি থাকা ১০ খেলায় ১১ পয়েন্টের ব্যবধান ডর্টমুন্ড কমাতে পারে কি না সেটিই দেখার অপেক্ষা।
No posts available.
১৩ মে ২০২৬, ২:৫২ পিএম

বিশ্বকাপে নেইমার জুনিয়র কি খেলবেন? এই একটি প্রশ্ন এখন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) অন্দরমহলে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। তবে খবর হচ্ছে, কোচ কার্লো আনচেলত্তি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। নেইমারকে বিশ্বকাপে দেখা যাবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে! কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত তিনি এতটাই গোপন রেখেছেন, সিবিএফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশও এখনো অন্ধকারে।
লন্ডনে ব্রাজিল ফুটবল দলের সমন্বয়ক রদ্রিগো কায়েতানোর সঙ্গে কোচ আনচেলত্তির সাম্প্রতিক আলাপচারিতার পর থেকেই গুঞ্জন ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। পুরো ব্রাজিল জুড়ে সাধারণ মানুষ যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে, সেই একই প্রশ্ন দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের অনেক কর্মকর্তারও!
নির্ভরযোগ্য সূত্রে গ্লোবর প্রতিবেদন, আনচেলত্তি তাঁর এই বড় সিদ্ধান্তের কথা মাত্র হাতেগোনা কয়েকজনকে জানিয়েছেন। সিবিএফের কর্মকর্তাদের মধ্যে শুধুমাত্র জাতীয় দলের সমন্বয়ক এবং কোচের অতি বিশ্বস্ত রদ্রিগো কায়েতানোই জানেন আসল সত্য। এর বাইরে ইতালিয়ান কোচের নিজস্ব কোচিং স্টাফের নির্দিষ্ট সদস্যরাই কেবল এই আলোচনার অংশ হতে পারছেন।
আরও পড়ুন
| পদত্যাগ নয়, আবার রিয়ালের প্রেসিডেন্ট হতে চান পেরেজ |
|
আশ্চর্যের বিষয় হলো, সিবিএফ সভাপতি সামির শাউদ কিংবা পরিচালনা পর্ষদের কাউকেই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে জানা গেছে, বোর্ড থেকেও এই মুহূর্তে কোচের ওপর কোনো ধরনের বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে না।
ভেতরের পরিবেশ শান্ত দেখানোর চেষ্টা করা হলেও বাইরের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ব্রাজিলের বর্তমান ও সাবেক ফুটবলাররা, যাদের সঙ্গে আনচেলত্তির সুসম্পর্ক রয়েছে, তাঁরা নেইমারের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য করে চলেছেন। অনেকে চাইছেন দলের সেরা তারকাকে যেন শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে সুযোগ দেওয়া হয়।
তবে আনচেলত্তি তাঁর পেশাদারিত্বের জন্য বেশ সুপরিচিত। ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, আবেগ নয় বরং নেইমারের শারীরিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত উপযোগিতা বিচার করেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সেই রহস্যের চাবিকাঠি আনচেলত্তি এবং কায়েতানোর পকেটেই থাকছে।
নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই লুকোচুরি ভক্তদের মনে যেমন শঙ্কা বাড়াচ্ছে, তেমনি বাড়িয়ে দিচ্ছে রোমাঞ্চ। শেষ পর্যন্ত কি ‘১০ নম্বর’ জার্সিধারীকে দেখা যাবে বিশ্বজয়ের মিশনে, নাকি নতুন কোনো অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছেন আনচেলত্তি? উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ কে হবেন এ নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই। তবে হুট করেই দৃশ্যপটে এল নতুন মোড়। গায়ানা জাতীয় দলের কোচের পদ থেকে আকস্মিক পদত্যাগ করেছেন বাফুফের (বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন) সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা টমাস ডুলি।
ডুলির পদত্যাগ ঘিরেই জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে, তবে কি হাভিয়ের কাবরেরার উত্তরসূরি হিসেবে বাংলাদেশের ডাগআউটে দেখা যাবে এই হাই-প্রোফাইল জার্মান-মার্কিন কোচকে?
বাফুফে ইতিমধ্যে নতুন কোচের জন্য ১১ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা (শর্টলিস্ট) চূড়ান্ত করেছে এবং আগামী ১৫ মে নতুন কোচের নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে। ঠিক তিন দিন আগে ১২ মে ডুলির পদত্যাগ করার বিষয়টি কোনো সাধারণ কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে না। ৯ মাস গায়ানার দায়িত্বে থেকে অপরাজিত রেকর্ড গড়ার পরও 'নতুন চ্যালেঞ্জ' গ্রহণের কারণ দেখিয়ে তাঁর বিদায় নেওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাংলাদেশের প্রস্তাবটি হয়তো তাঁর কাছে এখন অনেক বেশি বাস্তবসম্মত।
যদিও বাফুফে থেকে নতুন কোচের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম হিলটন বলেছেন, 'টমাস ডুলি আমাদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন। এখন কোচ নিয়োগের বিষয়টি পুরোপুরি সভাপতি (তাবিথ আউয়াল) নিজেই দেখছেন। উনি ১৫ মে ঘোষণা দেবেন বলে জানি।'
৬৪ বছর বয়সী ডুলি খেলোয়াড় হিসেবে যেমন বুন্দেসলিগা ও ইউয়েফা কাপ জয়ী। কোচ হিসেবেও তাঁর প্রোফাইল বেশ ভারী। ছিলেন জার্মান কিংবদন্তি ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানের সহকারীও। বিশেষ করে ফিলিপাইন জাতীয় দলকে সাফল্য এনে দেওয়া এবং প্রথমবার এশিয়ান কাপের মূল পর্বে কোয়ালিফাই করানোর অভিজ্ঞতা তাঁকে বাফুফের তালিকার শীর্ষে রাখার বড় কারণ হতে পারে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বর্তমানে এমন একজন অভিজ্ঞ কোচ খুঁজছে যিনি এশিয়ান ফুটবল সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখেন।
তবে ডুলির কোচিং ক্যারিয়ারে শৃঙ্খলার বিষয়টি যেমন প্রশংসিত, তেমনি গায়ানায় স্থানীয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব কিছুটা বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছিল। বাফুফের শর্টলিস্টে থাকা অন্য ১০ জন প্রার্থীর নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, ডুলির পদত্যাগের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন শুধুই তিনি।
টমাস ডুলিই কি তবে বাংলাদেশের পরবর্তী হেড কোচ হতে যাচ্ছেন? নাকি শেষ মুহূর্তে আসবে অন্য কোনো চমক?

মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) আয়ের সব রেকর্ড ভেঙে নিজের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন লিওনেল মেসি। মঙ্গলবার এমএলএস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত সর্বশেষ বেতন তালিকা অনুযায়ী, ইন্টার মায়ামির এই মহাতারকার বার্ষিক মূল বেতন এখন ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
গত অক্টোবরে মায়ামির সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তি সই করেন মেসি। নতুন এই চুক্তিতে তাঁর মূল বেতন দ্বিগুণ হয়েছে। সব মিলিয়ে গ্যারান্টিড ক্ষতিপূরণসহ তাঁর বার্ষিক আয় দাঁড়াবে ২ কোটি ৮৩ লাখ ডলারে। এই হিসেবে মেসির বিভিন্ন বিজ্ঞাপন বা এনডোর্সমেন্ট চুক্তির আয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
আরও পড়ুন
| গোলকিপারের অবিশ্বাস্য ভুলে শিরোপার অপেক্ষা বাড়ল রোনালদোর |
|
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সন হিউং-মিন। গত আগস্টে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসিতে যোগ দেন দক্ষিণ কোরিয়ার এই তারকা। সনের বার্ষিক মূল বেতন ১ কোটি ৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার।
৯৭ লাখ ডলার নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে আছেন মেসির মায়ামি ও আর্জেন্টিনা সতীর্থ রদ্রিগো ডি পল। মেক্সিকোর হার্ভিং লোসানো ৯৩ লাখ ডলার আয় নিয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। আর পঞ্চম স্থানে থাকা আতলান্তার মিগুয়েল আলমিরনের আয় ৭৯ লাখ ডলার।
২০২৩ সালে এমএলএসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মাঠ এবং মাঠের বাইরে লিগটিকে বদলে দিয়েছেন মেসি। মায়ামির হয়ে ৬৪ ম্যাচে তাঁর গোল সংখ্যা ৫৯।
গত বছর নিয়মিত মৌসুমে ২৯ গোল করে দলকে এমএলএস কাপ জেতানোর পাশাপাশি টানা দ্বিতীয়বারের মতো লিগের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন মেসি। আগামী মাসে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনে মাঠে নামবেন এই ফুটবল জাদুকর।

শিরোপাহীন মৌসুম আর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে টালমাটাল রিয়াল মাদ্রিদ; চারপাশ থেকে ধেয়ে আসছে সমালোচনার তির, উঠছে পদত্যাগের দাবি। তবে চরম এই সংকটেও দমে যাওয়ার পাত্র নন ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। পদত্যাগের গুঞ্জন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে উল্টো নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করতে ক্লাবে আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন ৭৯ বছর বয়সী এই ফুটবল সংগঠক।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় নির্বাচিত হওয়া পেরেজ মঙ্গলবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘দুঃখিত, আমি পদত্যাগ করছি না। বরং আমি নির্বাচনের ডাক দিচ্ছি। নির্বাচক কমিটিকে বোর্ড অফ ডিরেক্টরস নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছি, যেখানে বর্তমান বোর্ড আবারও প্রার্থী হিসেবে লড়বে।‘
স্প্যানিশ মিডিয়ার একটি অংশের প্রতি ক্ষোভ ঝেড়ে পেরেজ অভিযোগ করেন, তাঁর এবং রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে। শারীরিক অবস্থা নিয়ে ছড়ানো গুজব প্রসঙ্গে পেরেজ বলেন, ‘অনেকে রটাচ্ছে আমার নাকি মরণব্যাধি ক্যান্সার হয়েছে। আমি জানাতে চাই, আমার স্বাস্থ্য ঠিক আছে। যদি আমার ক্যান্সার হতো তবে কি আমি বিশ্বজুড়ে সংবাদ শিরোনাম হতাম না?’
আরও পড়ুন
| গোলকিপারের অবিশ্বাস্য ভুলে শিরোপার অপেক্ষা বাড়ল রোনালদোর |
|
রোববার বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোতে ২-০ গোলে হেরেছে লস ব্লাঙ্কোসরা। মাঝ মৌসুমে জাবি আলোনসোকে বরখাস্ত করে আলভারো আরবেলোয়াকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিলেও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। শিরোপাহীন মৌসুম কাটাতে হচ্ছে আবারও।
রিয়ালের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়েও বিতর্ক কম নয়। বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে অনুশীলনে ফেদেরিকো ভালভার্দে ও অরেলিয়ে চুয়ামেনির মধ্যে হাতাহাতির খবর সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়। এই ঘটনায় দুই ফুটবলারকেই ৫ লাখ ইউরো করে জরিমানা করেছে ক্লাব।
বিবাদের খবর ফাঁস হওয়া নিয়ে পেরেজ বলেন, ‘আমি খেলোয়াড়দের নিয়ে কথা বলব না। তবে আমার সময়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি এই প্রথম নয়, কিন্তু এবারই প্রথম এটি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হলো।‘
২০০৯ সাল থেকে টানা সভাপতির দায়িত্ব পালন করা পেরেজ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘যারা নির্বাচন করতে চান, তাদের স্বাগত। আমি সদস্যদের স্বার্থ রক্ষায় লড়ব। কোনো হুমকি আমাকে দমাতে পারবে না, বরং এটি আমাকে আরও শক্তি জোগাচ্ছে।‘
পেরেজ তাঁর সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, ‘আমি সবকিছু জিততে চাই। আমার সভাপতিত্বে আমরা ফুটবল ও বাস্কেটবল মিলিয়ে যথাক্রমে ৩৭টি ও ২৯টি শিরোপা জিতেছে।‘
সৌদি প্রো লিগের শিরোপা উৎসবের সব প্রস্তুতিই সেরে ফেলেছিল আল নাসর। কিন্তু ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে গোলকিপার বেন্তোর অবিশ্বাস্য ভুলে শিরোপা জেতার অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হলো ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোদের।
মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠে আল হিলালের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের আত্মঘাতী গোলে ১-১ ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে আল নাসরকে।
আল-আউয়াল পার্কে ম্যাচের ৩৭ মিনিটে কিংসলে কোমানের অ্যাসিস্ট থেকে গোল করে আল নাসরকে এগিয়ে দেন মোহামেদ সিমাকান। দ্বিতীয় হাফের ইনজুরি টাইমের একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সেই লিড বজায় ছিল।
নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ের খেলা শেষ হতে বাকি ছিল ১০ সেকেন্ড। এমন সময় আল হিলালের একটি লম্বা থ্রো-ইন ধরতে সামনে এগিয়ে গিয়ে উপরে লাফিয়ে ওঠেন বেন্তো। আশেপাশে কোনো প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় না থাকলেও বলটি তাঁর হাত ফসকে সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়। এই আত্মঘাতী গোলের পর মাথায় হাত দিয়ে মাঠে বসে পড়েন সতীর্থরা, আর ডাগআউটে হতাশায় ভেঙে পড়েন রোনালদো।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে যোগ দেওয়ার পর আল নাসরের হয়ে এটিই ছিল রোনালদোর প্রথম বড় ট্রফি জেতার সবচেয়ে বড় সুযোগ। ম্যাচ শেষ হওয়ার সাত মিনিট আগে যখন তুলে নেওয়া হয়, তখন গ্যালারির দর্শকদের উৎসাহ দিচ্ছিলেন সিআরসেভেন।
কিন্তু শেষ মুহূর্তের ওই ভুলে সব ওলটপালট হয়ে যায়। চলতি মৌসুমে ৩৩ লিগ ম্যাচে ২৬ গোল করেছেন রোনালদো। সব মিলিয়ে আল নাসরের হয়ে এই পর্তুগিজ মহাতারকার গোল সংখ্যা ১২৭, আর ক্যারিয়ার গোল ৯৭১। ১০০০ গোলের মাইলফলক থেকে এখন মাত্র ২৯ গোল দূরে রোনালদো।
এই ড্রয়ের পর ৩৩ ম্যাচ শেষে ৮৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষেই রয়েছে আল নাসর। এক ম্যাচ কম খেলা আল হিলাল ৭৮ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। শিরোপার ফয়সালা হবে এখন লিগের শেষ ম্যাচে।
আল হিলাল যদি পরের ম্যাচে নিওম এসসির বিপক্ষে জয় পায়, তবে আল নাসরের সাথে তাদের পয়েন্ট ব্যবধান নেমে আসবে ২-এ। সেক্ষেত্রে লিগের শেষ ম্যাচে আল নাসরকে শিরোপা নিশ্চিত করতে অবশ্যই দামাক এফসির বিপক্ষে অন্তত ড্র বা জয় পেতে হবে।