
রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে জয় পেলেই লা লিগার শিরোপার লড়াইয়ে লিডটা বড় হয়ে যেত আরও। তবে তা আর পারেনি বার্সেলোনা। সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। হতাশা থাকলেও কাতালান ক্লাবটির কোচ হান্সি ফ্লিক মনে করেন, এই ফলাফলও মন্দ নয় তাদের জন্য।
গত শনিবার রাতে বেতিসের সাথে বার্সেলোনার লিগ ম্যাচটি শেষ হয় ১-১ গোলে। এই ড্রয়ের ফলে বার্সার পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৬৭, যা দুইয়ে থাকা রিয়ালের চেয়ে চার পয়েন্ট বেশি। কার্লো আনচেলত্তির দল দিনের অন্য ম্যাচে হেরে যাওয়ায় নিজেদের ম্যাচে জিতলেই লিড বাড়িয়ে নিতে পারত বার্সেলোনা।
আরও পড়ুন
| রিয়ালের জেতা উচিত ছিল, মনে করেন আনচেলত্তি |
|
সেটা না হলেও ইতিবাচকই আছেন ফ্লিক।
“আমরা জেতার জন্য সব চেষ্টাই করেছিলাম, কিন্তু আমরা তা করতে পারিনি। আজকের মত একটা দিনে, যখন আপনি গোল করতে পারেন না, তখন আপনাকে এটা (ড্র) মেনে নিতে হবে এবং ফলাফলকে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে। আমি এটা বলতে পারি যে আমরা সবরকম চেষ্টাই করেছি এবং ম্যাচে স্পষ্ট আধিপত্য দেখিয়েছি।”
স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতা বার্সেলোনা এই মৌসুমে এখন লড়তে আছে ট্রেবল জয়ের জন্য। লা লিগায় শীর্ষে থাকা দলটি জায়গা করে নিয়েছে কোপা দেল রের ফাইনালে। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলবে শেষ আটে।
দলের নিবেদনে সন্তুষ্ট বার্সেলোনা কোচ।
“এই দলের খেলোয়াড়রা শেষ কয়েকটি ম্যাচে যা করেছে, তা নিয়ে আমি গর্ব করতে পারি। আমরা (কোপা দেল রের) ফাইনালে পৌঁছেছি এবং এই ড্র সত্ত্বেও আমরা লিগে লিড আরও বাড়িয়েছি। আমি খুশি, দারুণ একটা অবস্থান।”
No posts available.
৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:১৫ পিএম

আগের রাতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার জয়ে ফাইনালে এল ক্লাসিকোর মঞ্চ প্রস্তুতই ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল রিয়াল মাদ্রিদও।
সৌদি আরবের জেদ্দায় স্প্যানিশ সুপার কাপের সেমিফাইনালে মাদ্রিদ ডার্বিতে রিয়ালের জয় ২-১ গোলের। রিয়ালের হয়ে গোল করেন ফেদেরিকো ভালভের্দে ও রদ্রিগো। এক গোল শোধ দেন আতলেতিকোর আলেকজান্ডার সরলথ।
কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে শুরুতেই এগিয়ে যায় রিয়াল। ম্যাচ শুরুর মাত্র ৭৭ সেকেন্ডেই ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া ফ্রি-কিকে গোল করেন ভালভের্দে।
দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিটের মাথায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রদ্রিগো। ভালভের্দের পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কয়েক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিখুঁত ফিনিশিং টানেন তিনি। ব্রাজিলিয়ান এই উইঙ্গারের মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তৃতীয় গোল এটি।
তিন মিনিট পর আলেকজান্ডার সরলথের হেডে ব্যবধান কমায় আতলেতিকো। আতলেতিকোর ২২টি শটের মধ্যে এটিই ছিল একমাত্র গোল। বাকি সুযোগগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় দিয়েগো সিমিওনের দল।
আরও পড়ুন
| এবার আর্সেনালের বিপক্ষে লিভারপুলের ড্র |
|
প্রথমার্ধের শেষ দিকে কনর গ্যালাহারের ক্রসে সরলথের হেড অল্পের জন্য বাইরে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে হুলিয়ান আলভারেজও একটি সুযোগ নষ্ট করেন।
চোটের কারণে কিলিয়ান এমবাপেকে ছাড়াই খেলতে নামা রিয়াল শেষ দিকে কিছুটা চাপে থাকলেও শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে।
এই জয়ের ফলে রিয়াল মাদ্রিদ ফাইনালে মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার সঙ্গে। বুধবার রাতে প্রথম সেমিফাইনালে অ্যাথলেটিক ক্লাবকে ৫-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে বার্সা।
সোমবার স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে আরও একবার মাঠে নামবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও রিয়াল। গত বছর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হওয়া ফাইনালে রিয়ালকে ৫-২ গোলে হারিয়েছিল কাতালানরা।
এবারও সৌদি আরবে হবে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনাল। ২০২৯ সাল পর্যন্ত দেশটিতে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের চুক্তি করেছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।

গত নভেম্বরে অ্যানফিল্ডে পিএসভি আইন্দহোভেনের কাছে অপ্রত্যাশিত ৪-১ গোলে ম্যাচ হারে লিভারপুর। চ্যাম্পিয়নস লিগের ওই ম্যাচে পর অ্যানফিল্ডের সাবেক কোচ স্টিভেন জেরার্ড বলেছিলেন- এটি আরেকটি রক্তক্ষরণ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সে সময় সর্বশেষ ১২ ম্যাচে লিভারপুলের নবম হার ছিল সেটি। এর আগে অল রেডদের এমন বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছিল সাত দশক আগে, ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে।
লিভারপুল সেই যন্ত্রণাদায়ক সময়ের ধারা রোধ করেছে পরে। ডাচ চ্যাম্পিয়নদের কাছে লজ্জাজনকভাবে পরাজিত হওয়ার পর থেকে এখন টানা ১০ ম্যাচে অপরাজিত তারা। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্নে স্লটের দল গোলশূন্য ড্র করেছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের বিপক্ষে।
টানা পাঁচ ম্যাচ জেতার পর গতরাতে প্রথম পয়েন্ট হারাল আর্সেনাল। মৌসুমে দ্বিতীয়বার লিভারপুলের বিপক্ষে পয়েন্ট হারাল গানাররা। লিগে দুই দলের প্রথম দেখায় অ্যানফিল্ডে ১-০ হেরেছিল মিকেল আর্তেতার দল। অন্যদিকে প্রিমিয়ার লিগে টানা তিন ম্যাচে ড্র করল লিভারপুল।
ম্যাড়মেড়ে ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্সেনাল প্রায় ৬০ শতাংশ বল দখলে রাখে। তবে ৬টি শটের কেবল দুটি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। বিপরীতে ৩ শটের একটিও লক্ষ্যে ছিল না অতিথিদের। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে যায় লিভারপুল। প্রায় ৬৫ শতাংশ বল দখলে নিয়ে ৫টি শট নেয় তারা, একটিও ছিল না অন টার্গেটে।
২১ ম্যাচে ১৫ জয় ও চার ড্রয়ে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল। ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে পরের দুটি স্থানে ম্যানচেস্টার সিটি ও অ্যাস্টন ভিলা। ১০ জয় ও পাঁচ ড্রয়ে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে লিভারপুল।

শেষ হয়েছে নারী ফুটবল লিগের তৃতীয় রাউন্ডের খেলা। দুই ম্যাচ খেলে শতভাগ জয় ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের। তবে দুশ্চিন্তাও আছে পুরান ঢাকার ক্লাবটির। ৪ জানুয়ারি কাচারিপাড়া একাদশের বিপক্ষে ২৩-০ গোলে জেতা ম্যাচে হাতাহাতিকান্ডে লাল কার্ড দেখে দুই ম্যাচের জন্য ছিটকে গেছেন দলটির তারকা দুই ফুটবলার তহুরা খাতুন ও মনিকা চাকমা। লিগে ক্লাবের হয়ে প্রত্যাশা, নতুন ক্লাবে অভিজ্ঞতা এবং সেই ম্যাচের কী হয়েছিল সেসব নিয়ে টি-স্পোর্টসের সঙ্গে কথা বলেছেন ফরাশগঞ্জের জাতীয় দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার মনিকা।
টি-স্পোর্টস : এক সপ্তাহের বেশি হয়ে গেছে ফরাশগঞ্জে আছেন। এখন কি মনে হয় সিদ্ধান্তটা ঠিক ছিল নাকি...
মনিকা : অবশ্যই ঠিক ছিল। এখানে আমরা আছি। ওনারা দল নিয়ে, খেলোয়াড় নিয়ে অনেক প্রফেশনাল। এখন পর্যন্ত আমাদের অভিজ্ঞতা বেশ ভালো। আমাদের যা যা দরকার বা যা চাই সেটা স্যারেরা (ক্লাব কর্মকর্তা) ফুলফিল করছেন। তো কোন কিছুতেই কমতি রাখছেন না।
টি-স্পোর্টস : ফরাশগঞ্জের হয়ে খেলার সিদ্ধান্তটা নিলেন কেন, অন্য কোন ক্লাবে না কেন?
মনিকা : অন্য কোন ক্লাবে বলতে... শুরু থেকে একটা ক্লাবের সঙ্গে আমাদের কথা হচ্ছিল। পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে আমাদের আর কথাবার্তা এগোয়নি। পরবর্তীতে ফরাশগঞ্জ ক্লাবে থেকে আমাদেরকে বলছিল খেলার জন্য। আমরাও সিদ্ধান্ত নিলাম বসে থাকার চেয়ে খেলাটাই ভালো হবে। আর জানি যে ফরাশগঞ্জ হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এবং অনেক পুরনো ক্লাব। ওরা আগে প্রিমিয়ার লিগে অনেক ভালো করছে। ফয়সাল স্যারও বলছিলেন যে উনি এক সময় ফরাশগঞ্জের হয়ে খেলছেন। তো এখান থেকেও আগ্রহ হলাম আর কি।
টি-স্পোর্টস : কাচারিপাড়ার বিপক্ষে ২৩-০ গোলে জয়টি বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগের ইতিহাসে রেকর্ড ব্যবধানের জয়। এর আগে নাসরিন স্পোর্টস একাডেমির হয়ে ১৯-০ গোলের জয়ের রেকর্ড গড়া ম্যাচেও ছিলেন আপনি। কেমন লাগছে?
মনিকা : যত গোল দিতে পারবো ততই ভালো লাগবে, এটা আমাদের এক সময় এগিয়ে দিতে পারে লিগে। অন্য দলগুলোও শক্তিশালী। তবে এটা (গোল) তো আসলে বলে হয় না। আমরা তো এটা নিয়ে কোন দিন চিন্তাও করি নাই সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়ে জিতবো। এটা আমাদের মাথায় আছে যে গোল নিয়ে ভাবলেই হবে না। আসল লক্ষ্য ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলা।
টি-স্পোর্টস : একটু ৪ জানুয়ারির ম্যাচে আসি। মাঠে আসলে সেদিন কী ঘটেছিল?
মনিকা : আমরা শুরু থেকে দেখছিলাম ওরা (কাচারিপাড়া একাদশ) উইদাউট বলে মারতেছে। ওদের কোচিং স্টাফরা বাইরে থেকে মারতে উৎসাহিত করছিল। তখন আমি সবাইকে বলি তোমরা একটু সাবধানে খেলো। একটা সময় ওরা আমাদের পূজা রানাকে (নেপালি ফুটবলার) মারল, ওকে ইনজুরড করল। আমাকে পেছন থেকে এসে মারা হলো। আমি তখন বসেছিলাম কিন্তু রেফারি বাঁশি বাজায়নি। আমি উঠে জাস্ট একটা একটা ধাক্কা দিয়েছি। এমন নয় যে আমি ওকে অ্যাটাক করেছি। কিন্তু ও (সাবিত্রী) এসে আমাকে মারল। ওখান থেকে মারামারি শুরু হয়ে গেল। এরপর আমাকে লাল কার্ড আর মারিয়াকে হলুদ কার্ড দেওয়া হয়। আমি ভেবেছিলাম অধিনায়ক হিসেবে মারিয়াকেও কার্ড দেওয়া হয়েছে। তখন রেফারিকে জিজ্ঞাসা করলাম ওকে কেন হলুদ কার্ড দেওয়া হয়েছে। রেফারি বললেন ভিডিও ফুটেজ দেখে ওকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মারিয়া তো ওখানে ছিলই না। তবুও বারবার রেফারি বলছিলেন ভিডিও ফুটেজ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপর ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমাদের (তহুরা খাতুন ও মনিকা) দুই ম্যাচ ড্রপ করা হয়েছে। এটা যদি করারই হতো মাঠেই ভিডিও ফুটেজ দেখে রেফারি, ম্যাচ কমিশনার সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। ওনারা তা না করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নিলেন। আমরা তখনই বারবার বলছিলাম যে ভিডিও ফুটেজ দেখুন। তখন যদি তহুরাকে ড্রপ দেওয়া হতো তবে আমরা মেনে নিতাম। আর মারিয়াকে হলুদ কার্ড দেওয়ার কোনো কারণই সেখানে ছিল না। রেফারিরা ভিডিও ফুটেজ দেখে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা ওনারাই ভালো বলতে পারবেন।
টি-স্পোর্টস: মাঠে আবারও যদি এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, কী করবেন?
মনিকা : দেখুন আমরা যখন জাতীয় দলে খেলি তখন আমাদের সব সময় বলা হয় তোমরা মারামারিতে জড়াবে না। আমাদের কোচেরা নির্দেশ দেন রেফারির সঙ্গে কোনো কথা বলা যাবে না এবং ওনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমরা এখনো রেফারিদের সম্মান করি। তবে আমাদের সঙ্গে যা হলো তা… আসলে হয়ে গেছে। সামনে আমাদের জাতীয় দলের খেলা আছে। অনেকে বলছে যে জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা এমন মারামারি করেছে, এমন অনেক কিছু… এটা আমরা মানি, মারামারিতে জড়ানো ঠিক হয়নি। আমাদেরও একটা দায়িত্ববোধের জায়গা আছে।
টি-স্পোর্টস: নিজেদের সঙ্গে অন্যায় হলেও আপনারা ধৈর্য ধরবেন,কিংবা আপনাদের কাছ থেকে আরও নমনীয়তা আশা করে সবাই।
মনিকা : অবশ্যই। আমরা যেহেতু জাতীয় দলে খেলি তাই তরুণদের শেখানো আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু বাইরে থেকে যখন কাউকে উৎসাহ দেওয়া হয় মারার জন্য তখন জুনিয়র খেলোয়াড়েরাও সিনিয়রদের মারতে দ্বিধাবোধ করে না। বাইরে থেকে যদি শেখানো হতো যে ওরা সিনিয়র ওদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে, তবে হয়ত এমনটা হতো না।
টি-স্পোর্টস: আপনি এখন দুই ম্যাচ খেলতে পারবেন না, নিশ্চয়ই এ নিয়ে মন খারাপ…
মনিকা : হ্যাঁ, দুই ম্যাচ ড্রপ যাওয়ার কারণে একটু তো মন খারাপই। তবে মাঠে যখন ফিরব তখন আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরব ইনশাআল্লাহ।
টি-স্পোর্টস: আপনাদের দলের মধ্যে বোঝাপড়া কেমন?
মনিকা : আমাদের প্লেয়াররা যারা আছে বেশিরভাগেই জুনিয়র। তবে ওদের সঙ্গে কমিউনিকেশন খুব ভালো। নতুন হিসেবে ওরা খুব ভালো খেলছে। আমরা যা বলছি ওরা তা শুনছে এবং মাঠে সেই অনুযায়ী খেলছে।
টি-স্পোর্টস: কি মনে হয় এশিয়ান কাপের প্রস্তুতির জন্য আপনারা যে লিগটা খেলছেন এটা কি ঠিক আছে বা প্রস্তুতির জন্য আদর্শ হচ্ছে?
মনিকা : এইটা নিয়ে আসলে কিছু বলতে চাই না।
টি-স্পোর্টস : সব মিলিয়ে ব্যক্তিগতভাবে লিগটা আপনার কেমন লাগছে?
মনিকা: অনেক দিন পর লিগ হচ্ছে, তো এই দিক থেকে আমাদের সবারই ভালো লাগছে। অনেক মাস পরে আমরা আবার মাঠে ফিরছি লিগ দিয়ে, তো ভালোই।
টি-স্পোর্টস : মাঠে আলো স্বল্পতা আছে, ম্যাচ ঘড়ি নেই। এটা খেলায় কোনো প্রভাব ফেলে কিনা?
মনিকা: আমরা পেশাদার খেলোয়াড়। যখন যে পরিস্থিতি আসে সেখানেই মানিয়ে নিতে হয়। এসব ভাবলে খেলায় ফোকাস থাকে না। যে কোনো পরিস্থিতিতে সামনে তাকাতে চাই। যখন যে দায়িত্ব থাকে সেটা পালন করার ব্যাপারে মনোযোগী থাকি।
টি-স্পোর্টস : প্রথমবার এমন একটা ক্লাবে আছেন যার সামনে ঐতিহ্যবাহী লালকুঠি দালান, সামনে বুড়িগঙ্গা, লঞ্চ, সবকিছু মিলে অন্যরকম পরিবেশ। কেমন উপভোগ করছেন?
মনিকা : যেদিন প্রথম গাড়িতে আসছিলাম তখনই বলছিলাম- স্যার এটা কি? পরে স্যার বলছিলেন এটা লালকুঠি। এখানের পরিবেশ অনেক ভালো। সন্ধ্যার সময় একটু রুমে যদি বোরিং হই বা শুয়ে থাকতে ভালো লাগে না, তখন নিচে গিয়ে হাঁটাহাঁটি করি। এমন পরিবেশ আসলেই অন্য জায়গায় নেই। সকালে আমরা ঘুম থেকে উঠে লালকুঠি দেখি, হাঁটাহাঁটি করি। ভালো লাগে, লঞ্চ দেখতে পাই।
টি-স্পোর্টস : লঞ্চে ঘুরা হয়েছে এখন পর্যন্ত?
মনিকা: না আসলে ঘুরা হয়নি। তবে ইচ্ছে আছে।
টি-স্পোর্টস : চ্যাম্পিয়ন হয়েই কি তবে লঞ্চ ট্যুরটা দেওয়া জমিয়ে রেখেছেন?
মনিকা : আসলে এখনই এটা বলবো না যে আমরাই চ্যাম্পিয়ন হবো বা অন্য কিছু। যদি হই তাহলে পরে দেখা যাবে।
টি-স্পোর্টস : আপনার একটি গোল ছিল মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে। যে গোলটা পরে জায়গা করে নেয় ফিফার ‘ফ্যানস ফেভারিট’ তালিকার সেরা পাঁচে। এরপর আপনার উপাধি হয়ে যায় ‘ম্যাজিক্যাল চাকমা’ নামে। সেটা কি এখনো শোনেন বা উপভোগ করেন?
মনিকা : হ্যাঁ, উপভোগ করি, মানুষ যখন বলে বা লেখে। যেখানেই যাই, বিশেষ করে আমার খাগড়াছড়িতে বেশিরভাগই বলে ‘ম্যাজিকাল মনিকা’। তো এগুলো শুনতে আসলে ভালো লাগে। অবশ্যই এগুলো ভালো খেলতে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
টি-স্পোর্টস : কিভাবে ফুটবলার হলেন বা এই পথটা কেমন ছিল?
মনিকা: আসলে বলতে গেলে অনেক লম্বা স্টোরি, আমি একটু ছোট করে বলি। ২০১১-১২ সালে বঙ্গমাতা (প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ড কাপ) খেলা হয়েছিল। সেবার উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আমরা জেলা পর্যায়ে যাই। ওখানে আবার হেরে আসছিলাম। পরের বছর উপজেলা, জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে আসি। এবং সেখানে ভালো খেলি। ওখানেই রাঙামাটির বীরসেন স্যার ছিলেন। উনি আমার খেলা পছন্দ করেন। খেলা শেষে আমাকে ডেকে নাম জিজ্ঞেস করলেন, আমি বললাম মনিকা চাকমা। পরে বাবাকে উনি বলেন যে সব জায়গা থেকে ভালো ভালো খেলোয়াড়দের নিয়ে এক জায়গায় প্র্যাকটিস করান। আমাকে একাডেমিতে দেওয়ার জন্য বাবাকে উনি অনুরোধ করেন। তখন প্রথমে আমি না করছিলাম। তখন অনেক ছোট ছিলাম তো। আমি মা’কে ছেড়ে যেতে চাইছিলাম না। বাবা আমাকে বলে যে তোমাকে এখনই ভর্তি হতে হবে না, ওই জায়গাটা দেখে আসো। ভালো লাগলে ভর্তি হবা, না লাগলে নাই। এরপর একদিন ঘুরতে যাই, স্যার ঘুরিয়ে দেখান, আমারও ভালো লেগে যায়। পরবর্তীতে ২০১৩ সাল থেকে বীরসেন স্যারের অধীনে থেকে উঠে আসা।
সংক্ষেপে প্রশ্নোত্তর:
টি-স্পোর্টস : আপনার পছন্দের ফুটবলার কে?
মনিকা : লিওনেল মেসি। মেসি ভক্ত আমি।
টি-স্পোর্টস: বাংলাদেশে কোন নারী ফুটবলার আপনার পছন্দের?
মনিকা : সাবিনা খাতুন। বাংলাদেশে সাবিনা আপু আমার প্রিয় ফুটবলার।
টি-স্পোর্টস : ফুটবলের বাইরে আর কোন খেলা দেখেন?
মনিকা : খুব একটা দেখা হয় না। তবে ফুটবলের পাশাপাশি এক সময় আমি ভলিবল খেলতাম। তাই ভলিবলটা একটু ভালো লাগে।
টি-স্পোর্টস : ফুটবলার না হলে কি হতেন?
মনিকা : ওটা তো বলতে পারি না (হাসি)।
টি-স্পোর্টস : মনিকা কি টিকটকে নিয়মিত?
মনিকা : একচুয়ালি আমি তো টিকটকই করি না।
টি-স্পোর্টস : মোবাইল ছাড়া থাকতে পারবেন একদিন?
মনিকা : মনে হয় না।
টি-স্পোর্টস : সকালে উঠে কাকে প্রথম কল দেন বা কার ফোন প্রথমে আসে?
মনিকা: কাউকে না। বাসা থেকে আমাকে ফোন দেয়। সারা দিনের মধ্যে যে কোনো একটা সময়ে বাবা ফোন দেয় আমাকে।
টি-স্পোর্টস : মনিকা বাবার প্রিয় না মায়ের প্রিয়?
মনিকা: দুজনেরই প্রিয়।

নগরপ্রতিদ্বন্দ্বিদের বিপক্ষে সেই হার নিশ্চয়ই এখনও তাড়িয়ে বেড়ায় রিয়াল মাদ্রিদকে। ‘মাদ্রিদ ডার্বির’ ইতিহাসে অন্যতম লজ্জার ৫-২ গোলের ওই হারের ক্ষতে আজ খানিকটা প্রলেপ দেওয়ার সুযোগ এসেছে রিয়ালের। তবে স্প্যানিশ সুপার কাপের সেমি ফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে শোধ তোলার ম্যাচে লস ব্লাঙ্কোসরা পাচ্ছে না তাদের সবচেয়ে বড় তারকাকে। হাঁটুর চোটে মাঠের বাইরে আছেন কিলিয়ান এমবাপে।
সৌদি আরবের জেদ্দায় কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটিতে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মুখোমুখি হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ-আতলেতিকো মাদ্রিদ। এই ম্যাচের জয়ী দল ফাইনালে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া বার্সেলোনার বিপক্ষে।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবকিভাবেই সবশেষ রিয়ালের বিপক্ষে বড় জয়ের সুখস্মৃতি নিয়েই প্রশ্নের মুখোমুখি হলেন আতলেতিকোর কোচ দিয়েগো সিমিওনে। গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর লা লিগার ওই ম্যাচে ঘরের মাঠে ক্লাবটির জয়ের নায়ক ছিলেন হুলিয়ান আলভারেজ। ওই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে একটি গোলের পর ফ্রি-কিক থেকে চোখধাঁধানো আরেকটি গোল করেন আর্জেন্টাইন তারকা ফরোয়ার্ড। অবশ্য শুধু ৫-২ গোলের ওই ম্যাচে জোড়া গোলই নয়। রিয়ালের বিপক্ষে আগের তিনটি ম্যাচের দু’টিতেও লক্ষ্যভেদ করেন ২৫ বছর বয়সী আলভারেজ।
আবারও কী রিয়ালের বিপক্ষে আলভারেজ জাদু দেখা যাবে? অবশ্য আতলেতিকোর কোচ অতীত টেনে আনতে নারাজ। সিমিওনে বলেন,
‘অতীতের কথা বারবার বলার কোনো প্রয়োজন নেই। হুলিয়ান ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে সে কেমন ফুটবলার। অনেক সময় কথার চেয়ে কাজই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, ওর একটা দারুণ ম্যাচ হবে।’
এদিকে আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা এমবাপেকে না পেলেও সবশেষ ম্যাচের পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি করতে চাইবে রিয়াল মাদ্রিদ। নিজেদের সবশেষ ম্যাচে জাবি আলোনসোর দল রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ৫-১ গোলের বড় জয় পেয়েছে। ফরাসি তারকা ফরোয়ার্ডের জায়াগায় খেলে হ্যাটট্রিক করেন গঞ্জালো গার্সিয়া।
এমবাপে ছাড়াও মাদ্রিদ ডার্বিতে রিয়াল পাচ্ছে না দুই ডিফেন্ডার এদের মিলিতাও ও আন্তনিও রুদিগারকে। মরক্কোর হয়ে আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে খেলছেন ব্রাহিম দিয়াজ, গোল্ডেন বুটের দৌড়েও এগিয়ে আছেন তিনি। তবে চোট কাটিয়ে দলে ফিরতে পারেন ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ড।
রিয়ালে দায়িত্ব পাওয়ার পর অন্যতম বাজে হার থেকে শিক্ষা নিয়েছেন বলে জানান জাবি আলোনসো। ম্যাচের আগে স্প্যানিশ এই কোচ বলেন,
‘আমার মনে হয়, প্রতিটি ম্যাচই বিশ্লেষণ করা দরকার। তবে হারগুলো অনেক সময় আমাদের আরও ইতিবাচক শিক্ষা দেয়। আগেই আপনার সহকর্মীকে বলেছি—সেই ম্যাচে এমন কিছু বিষয় ছিল, যেগুলোর পুনরাবৃত্তি আমরা চাই না। সেখান থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। আমি খুবই আশাবাদী যে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হবে। যেগুলো ভালো কাজ করেনি, সেগুলো ভুলে গেলে চলবে না।’
এই ম্যাচের গুরুত্ব নিয়ে রিয়াল কোচ বলেন,
‘এটা একটি সেমিফাইনাল। মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে, লড়াই করতে হবে এবং ছোট ছোট বিষয়ের দিকে নজর দিতে হবে। আতলেতিকো মাদ্রিদ সব সময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ। তবুও এই ম্যাচটা আমরা অনেক উদ্যম ও উচ্ছ্বাস নিয়ে খেলতে চাই। এই মৌসুমে এটিই প্রথম শিরোপার জন্য লড়াই, আর সে কারণেই এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

শুধু ফুটবল কিংবা ক্রীড়াঙ্গনেই নয়, লিওনেল মেসির জনপ্রিয়তা আছে এসবের বাইরেও। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির নাম-ডাক নিয়ে নতুন করে কিছু বলারও নেই। ফুটবলে নতুন মাত্রা যোগ করা আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ইউরোপ জয় করে এখন মার্কিন মুল্লুকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে কত ফুটবলার কত লোকের সঙ্গেই তো মিশতে হয়েছে মনের ভাব প্রকাশ করতে হয়েছে মেসিকে। আর এই ভাব প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ইন্টার মায়ামির মহাতারকা বেছে নিয়েছেন শুধু স্প্যানিশ ভাষাকেই। আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃত ইংরেজি ব্যবহার করেন না বললেই চলে ৩৮ বছর বয়সী ফুটবলার। মেসির ক্যারিয়ারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে মনে করা হয় যাকে, সেই ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো এই ভাষায় বেশ পটু হলেও ভাষার এই মাধ্যম ব্যবহারে অনীহা আছে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের।
অনেকের কাছে মনে হতেই পারে, স্পেনের বার্সেলোনায় বড় হওয়া মেসি কী চাইলেই ইংরেজিটা শেখে নিতে পারতেন না? কেন বৈশ্বিক এই ভাষা আয়ত্ত করাকে জরুরি মনে হয়নি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরার?
সম্প্রতি আর্জেন্টিনার স্ট্রিমিং চ্যালেন ‘লুজু টিভ’কে দেওয়া দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকারে ফুটবল ক্যারিয়ার সহ ব্যাক্তিগত জীবনের অনেক খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে কথার ঝাঁপি খুলে বসেন মেসি। সেখানেই তিনি জানান, কেন স্প্যানিশ ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় কথা বলা এড়িয়ে চলেন।
আলোচনার শুরু হয় একটি প্রমোশনাল ভিডিও নিয়ে। বার্সেলোনায় খেলার সময় নেইমার ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে চাইনিজ নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে ওই ভিডিওটি করেছিলেন মেসি। ওই ভিডিওতে দেখা যায়—নেইমার ও সুয়ারেজ চীনা ভাষায় কথা বললেও মেসি কথা বলেন স্প্যানিশে।
এই প্রসঙ্গে মেসি জানান, ক্লাবের সঙ্গে আগেই তার সমঝোতা ছিল—বিনয়ের কারণে তিনি ভাষা বদলাবেন না। পরে তিনি আরও বলেন, ইংরেজিতে কথা বলতেও তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। মেসির ভাষায়, ‘কথা বলার সময় আমার অস্বস্তি লাগে। আমি এটা পছন্দ করি না। তাই সবকিছু স্প্যানিশেই করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তবে ইংরেজির ক্ষেত্রে, আমি মনে করি আমি বলতে পারি এবং অন্যরা তা বুঝতেও পারে।’
অবশ্য এটি আগ্রহের অভাব নয়—মেসি নিজেই জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত পরিসরে তিনি ইংরেজিতে কথা বলেন। আসলে এই সিদ্ধান্ত ফুটবল মহাতারকার সরল ও বিচক্ষণ ব্যক্তিত্বেরই প্রতিফলন, যা ইউরোপ অধ্যায়ের পর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইংরেজি ভাষার ওপর নির্ভরশীল দেশে খেললেও বদলায়নি।