
রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে জয় পেলেই লা লিগার শিরোপার লড়াইয়ে লিডটা বড় হয়ে যেত আরও। তবে তা আর পারেনি বার্সেলোনা। সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। হতাশা থাকলেও কাতালান ক্লাবটির কোচ হান্সি ফ্লিক মনে করেন, এই ফলাফলও মন্দ নয় তাদের জন্য।
গত শনিবার রাতে বেতিসের সাথে বার্সেলোনার লিগ ম্যাচটি শেষ হয় ১-১ গোলে। এই ড্রয়ের ফলে বার্সার পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৬৭, যা দুইয়ে থাকা রিয়ালের চেয়ে চার পয়েন্ট বেশি। কার্লো আনচেলত্তির দল দিনের অন্য ম্যাচে হেরে যাওয়ায় নিজেদের ম্যাচে জিতলেই লিড বাড়িয়ে নিতে পারত বার্সেলোনা।
আরও পড়ুন
| রিয়ালের জেতা উচিত ছিল, মনে করেন আনচেলত্তি |
|
সেটা না হলেও ইতিবাচকই আছেন ফ্লিক।
“আমরা জেতার জন্য সব চেষ্টাই করেছিলাম, কিন্তু আমরা তা করতে পারিনি। আজকের মত একটা দিনে, যখন আপনি গোল করতে পারেন না, তখন আপনাকে এটা (ড্র) মেনে নিতে হবে এবং ফলাফলকে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে। আমি এটা বলতে পারি যে আমরা সবরকম চেষ্টাই করেছি এবং ম্যাচে স্পষ্ট আধিপত্য দেখিয়েছি।”
স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতা বার্সেলোনা এই মৌসুমে এখন লড়তে আছে ট্রেবল জয়ের জন্য। লা লিগায় শীর্ষে থাকা দলটি জায়গা করে নিয়েছে কোপা দেল রের ফাইনালে। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলবে শেষ আটে।
দলের নিবেদনে সন্তুষ্ট বার্সেলোনা কোচ।
“এই দলের খেলোয়াড়রা শেষ কয়েকটি ম্যাচে যা করেছে, তা নিয়ে আমি গর্ব করতে পারি। আমরা (কোপা দেল রের) ফাইনালে পৌঁছেছি এবং এই ড্র সত্ত্বেও আমরা লিগে লিড আরও বাড়িয়েছি। আমি খুশি, দারুণ একটা অবস্থান।”
No posts available.
১৯ মার্চ ২০২৬, ১২:২০ পিএম
১৯ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৩ এম
১৯ মার্চ ২০২৬, ১১:৩০ এম
১৯ মার্চ ২০২৬, ১১:০৮ এম

বুধবার রাতে
কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের শেষ ষোলোর দ্বিতীয়
লেগে ন্যাশভিল এসসিকে মোকাবিলা করে ইন্টার মায়ামি।
এই ম্যাচে গোল করে ইতিহাস
গড়েন লিওনেল মেসি। বিশ্বের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে পেশাদার ফুটবলে ৯০০ গোলের অনন্য
উচ্চতায় পা রাখলেন তিনি।
টেনেসি’র জিওডিস পার্কে
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই গোল করে ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে আলিঙ্গন
করেন মেসি। ২০২৩
সালের জুনে মায়ামিতে যোগ
দেওয়ার পর থেকে এখন
পর্যন্ত ৯২ ম্যাচে ৮১টি
গোল করেছেন ৩৮ বছর বয়সী
এই মহাতারকা। যা ক্লাবটিকে লিগস
কাপ এবং এমএলএস কাপ
জিততে সাহায্য করেছে। যদিও এই রাতে মেসির দল হারাতে
পারেনি ন্যাশভিলকে।
বার্সেলোনা,
পিএসজি এবং আর্জেন্টিনা, সবখানেই
গোলের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন ৮বারের
ব্যালন ডি’অর জয়ী।
এক নজরে দেখে নেওয়া
যাক তার এই যাত্রার
পেছনের কিছু বিশেষ পরিসংখ্যান:
শুরু
থেকেই রেকর্ড ভাঙার খেলা
২০০৫
সালের মে মাসে বার্সেলোনার
হয়ে আলবাসেতের বিপক্ষে মাত্র ১৭ বছর ১০
মাস বয়সে নিজের প্রথম
গোলটি করেন মেসি। বদলি
হিসেবে নামার মাত্র তিন মিনিটের মাথায়
গোল করে তিনি বার্সার
ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হয়েছিলেন। এরপরের গল্পটা শুধুই সাফল্যের।
বার্সেলোনা:
১৭ বছরের ক্যারিয়ারে ৭৭৮ ম্যাচে রেকর্ড
৬৭২ গোল
করেছেন ফুটবল জাদুকর।
জিতেছেন ১০টি লা লিগা
এবং ৪টি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ
অসংখ্য ট্রফি।
পিএসজি:
প্যারিসে দুই মৌসুমে নেইমার
ও এমবাপ্পের সঙ্গে খেলে ৭৫ ম্যাচে
করেছেন ৩২ গোল।
ফ্রান্সে লিগ শিরোপা জিতেছেন।
আর্জেন্টিনা:
জাতীয় দলের হয়ে ১৯৬
ম্যাচে এখন পর্যন্ত তাঁর
গোল সংখ্যা ১১৫টি। যার মধ্যে
অন্যতম প্রাপ্তি ২০২২ সালের কাতার
বিশ্বকাপ জয়। এছাড়া দেশের হয়ে কোপা আমেরিকাসহ অসংখ্য
শিরোপা জিতেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।
৯০০’র ক্লাবে আর কে কে আছেন?
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
আগেই এই মাইলফলক স্পর্শ
করেছেন। ৪১ বছর বয়সী
রোনালদো ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে
৯০০ গোলের কোটা পূর্ণ করেন।
বর্তমানে ক্লাব ও দেশ মিলিয়ে
তাঁর গোল সংখ্যা ৯৫৯।
অফিসিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী, ফুটবল ইতিহাসে কেবল এই দুজনই
৯০০ গোলের গণ্ডি পার করেছেন।
যদিও
কিংবদন্তি পেলে
দাবি করেছিলেন তিনি ১,০০০-এর বেশি গোল
করেছেন। কিন্তু আরএসএসএসএফ (সকার পরিসংখ্যান ফাউন্ডেশন)
-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী তাঁর স্বীকৃত গোল
সংখ্যা ৭৭৮। অন্যদিকে ব্রাজিলের
আরেক নায়ক রোমারিও’র
গোল সংখ্যা ৭৮৫।
২০১২
সালের সেই অবিশ্বাস্য কীর্তি
ইন্টার
মায়ামি কোচ হাভিয়ের মাশ্চেরানো
মেসিকে ‘অনন্য’ বলে অভিহিত করেছেন।
২০১২ সালে মেসি এক
বছরে রেকর্ড ৯১টি গোল করেছিলেন
(ক্লাবের হয়ে ৭৯ এবং
দেশের হয়ে ১২টি)।
এছাড়া মাত্র ১২৩ ম্যাচে চ্যাম্পিয়নস
লিগে ১০০ গোলের দ্রুততম
রেকর্ডটিও তাঁর দখলে।
মাশ্চেরানো
বলেন, ‘৯০০ গোল। এই সংখ্যাটা
অবিশ্বাস্য! লিও (মেসি) সত্যিই একজন অনন্য ফুটবলার।
মাঠের খুব কাছ থেকে
তাঁর এত সব গোল
দেখাটা আমার জন্য এক
বিশাল সৌভাগ্যের ব্যাপার।’
কোন ক্লাবের বিপক্ষে বেশি গোল মেসির
সেভিয়া- ২৫
গোল
অ্যাথলেটিক
ক্লাব- ২৪ গোল
আতলেতিকো মাদ্রিদ-
২৩ গোল
ভ্যালেন্সিয়া-
১৮ গোল
রিয়াল মাদ্রিদ-
১৭ গোল
লেভান্তে- ১৬
গোল
হেতাফে- ১৫
গোল
কোন জার্সিতে কত গোল মেসির
বার্সেলোনা-
৬৭২ গোল
আর্জেন্টিনা-
১১৫ গোল
পিএসজি- ৩২
গোল
ইন্টার মায়ামি-
৮১ গোল
যেমন ছিল
৯০০ গোল
মেসির
বাম পা মানেই যাদু!
পরিসংখ্যানেও তার প্রমাণ মিলেছে।
অপটার মতে মেসির
মোট গোলের প্রায় ৮৪ শতাংশ (৭৫৫টি
গোল) এসেছে বাম পা থেকে।
ডান পায়ে ১১১টি
গোল। হেডে করেন
৩০টি গোল। বাকি চার গোল অন্যান্য উপায়ে।
মেসি
শুধু বক্সের ভেতরেই না, বক্সের বাইরে
থেকেও গোল করতে সমান
পারদর্শী। বক্সের ভেতর থেকে
৭২৪টি গোল করেছেন। আর বক্সের বাইরে
থেকে ১৭৬টি
গোল করেন। ক্যারিয়ারের ৯০০ গোলের
১১২টি আসে পেনাল্টি থেকে আর ৭০টি ফ্রি কিক থেকে।

৩১ মার্চ ফিফা প্রীতি ম্যাচে গুয়াতেমালার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এজন্য বুধবার রাতে ২৮ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টিনা বুয়েনস আইরেসের লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচটি।
কাতারে আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ছিলেন মেসি। তাঁকে ঘিরেই বিশ্বকাপের মুকুট ধরে রাখার স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের আগে দলের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ৩৮ বছর বয়সী তারকার থাকায় অনেকটাই স্পষ্ট, তিনি থাকছেন আমেরিকা বিশ্বকাপে।
মেসির সঙ্গে দলে আছেন তাঁর ক্লাব সতীর্থ রদ্রিগো ডি পল। নিয়মিতদের মধ্যে আরও আছেন ফরোয়ার্ড জুলিয়ান আলভারেস, গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেস, মিডফিল্ডার এন্সা ফের্নান্দেস ও ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেস।
জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন এস্তুদিয়ান্তেসের ডিফেন্ডার তমাস পালাসিওস ও রেসিংয়ের ডিফেন্ডার গাব্রিয়েল রোহাস। আর গত নভেম্বরে অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে দলের ২-০ গোলে জেতা সবশেষ প্রীতি ম্যাচে অনুপস্থিত থাকা মার্কোস আকুনা দলে ফিরেছেন।
আর্জেন্টিনার ২৮ সদস্যের দল:
গোলকিপার: এমিলিয়ানো মার্তিনেস, জেরোনিমো রুলি, হুয়ান মুস্সো।
ডিফেন্ডার: নাহুয়েল মলিনা, গনসালো মনতিয়েল, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনার্দো বালের্দি, নিকোলাস ওতামেন্দি, মার্কোস সেনেসি, তমাস পালাসিওস, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, গাব্রিয়েল রোহাস, মার্কোস আকুনা।
মিডফিল্ডার: লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টার, মাক্সিমো পেরোনে, রদ্রিগো ডি পল, এনসো ফের্নান্দেস, ভালেন্তিন বার্কো, এসেকিয়েল পালাসিওস, নিকো পাস, থিয়াগো আলমাদা।
ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি, জুলিয়ানো সিমেওনে, জানলুকা প্রেস্তিয়ানি, নিকোলাস গন্সালেস, হোসে মানুয়েল লোপেস, জুলিয়ান আলভারেস।

চ্যাম্পিয়নস
লিগে এবারের মৌসুমে একবার লিগ পর্বে এবং পরেরবার শেষ ষোলোর প্রথম লেগে লিভারপুলকে হারায়
গালাতাসারাই। তুরস্কের ক্লাবটির ধাঁধার উত্তর যেন মেলাতে পারছিল না অল রেডরা। পিছিয়ে
থেকে বুধবার রাতে আরেকবার সেই গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে মাঠে নামে আর্নে স্লটের শিষ্যরা।
প্রতিশোধের মঞ্চে এবার তুরস্কের জায়ান্ট কিলারদের কাঁদিয়ে প্রতিযোগিতার শেষ আটে উঠেছে
৬বারের চ্যাম্পিয়নরা।
অ্যানফিল্ডে
বুধবার রাতে গালাতাসারাইকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে
থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিনবার প্রতিপক্ষের জাল কাঁপায় স্লটের দল। একবার করে জালের
দেখা পেয়েছেন ডোমিনিক সোবোসলাই, হুগো একিতিকে, রায়ান গ্রাভেনবার্খ ও মোহাম্মদ সালাহ।
এর
আগে গত ১০ মার্চ শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ইস্তানবুলের র্যামস পার্ক থেকে ১-০ গোলে হেরে
আসে লিভারপুল। বুধবার রাতের জয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-১ গোলে এগিয়ে থাকায় কোয়ার্টার ফাইনালে
উঠেছে অ্যানফিল্ডের ক্লাবটি। পরের রাউন্ডে তারা পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজিকে
(প্যারিস সেন্ট জার্মেই)। যাদের কাছে গেলবার শেষ ষোলোয় হেরে বিদায় নিয়েছিল লিভারপুল।
রাতটা
সালাহর জন্য হয়ে থাকলো মাইলফলকের। ম্যাচের
অন্যতম সেরা মুহূর্তটি আসে ৬২ মিনিটে সালাহর পা থেকে। বক্সের বাইরে থেকে নিজের ট্রেডমার্ক
বাকানো শটে বল জালে জড়ান তিনি। তাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৫০তম গোলের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন ৩৩ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। প্রথম
আফ্রিকান ফুটবলার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন এই মিশরীয় তারকা।
রাতের
অন্য ম্যাচে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় আতালান্তাকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। লেনার্ট
কার্ল ও লুইস দিয়াসদের একবার করে জাল কাঁপানোর রাতে জোড়া গোল করে অনন্য উচ্চতায় উঠেছেন
হ্যারি কেইন। সবচেয়ে কম ম্যাচে ৫০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার দৌড়ে কেইন এখন কিংবদন্তিদের
সারিতে। মাত্র ৬৬ ম্যাচে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি, যৌথভাবে যা লিওনেল মেসির রেকর্ডের
সমান।
অন্যদিকে,
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর এই উচ্চতায় পৌঁছাতে কেইনের চেয়ে আরও ২৫টি ম্যাচ বেশি লেগেছিল।
তবে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হলান্ড। ৪৯ ম্যাচে ৫০ গোলের
দেখা পেয়েছিলেন নরওয়েজিয়ান।
ইতালিয়ান
ক্লাব আতালান্তার বিপক্ষে দুই লেগ মিলে ১০-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রতিযোগিতার শেষ
আটে উঠেছে বায়ার্ন মিউনিখ। পরের রাউন্ডে ৬বারের চ্যাম্পিয়নরা পেয়েছে ১৫বারের চ্যাম্পিয়ন
রিয়াল মাদ্রিদকে।
একই
সময়ে আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারালেও প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখা হলো না টটেনহ্যাম হটস্পারের।
ঘরের মাঠে স্প্যানিয়ার্ডদের ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েও তাই বিদায় নিতে হলো টটেনহ্যামকে।
মোট এগ্রিগেটে ইংলিশ ক্লাবটি পিছিয়ে ছিল ৫-৭ ব্যবধানে। জাভি সিমন্স করেন জোড়া গোল।
স্পার্সের হয়ে অন্য গোলটি কোলো মুয়ানি। অতিথিদের হয়ে একবার করে জুলিয়ান আলভারেজ এবং
ডেভিড হ্যাঙ্কো জালের দেখা পেয়েছেন। শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে এবার আতলিকোকে মোকাবিলা করতে
হবে স্বদেশি ক্লাব বার্সেলোনাকে।

চ্যাম্পিয়নস
লিগের শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড থেকে উঠেছিল পাঁচটি দল। সেখান থেকে শেষ আটে উঠতে পেরেছে
কেবল লিভারপুল ও আর্সেনাল। বিদায় নিয়েছে প্রতিযোগিতার দুইবারের চ্যাম্পিয়ন চেলসি, ২০২২-২৩
মৌসুমের ট্রফিজেতা ম্যানচেস্টার সিটি এবং টটেনহ্যাম হটস্পার।
শেষ
আটে প্রথম শিরোপার খোঁজে থাকা আর্সেনাল পেয়েছে পর্তুগালের ক্লাব স্পোর্টিং লিসবনকে।
আর লিভারপুলকে মোকাবিলা করতে হবে পিএসজিকে (প্যারিস সেন্ট জার্মেই)। সবশেষ মৌসুমে ফরাসি
চ্যাম্পিয়নদের কাছে হেরেই শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছিল অল রেডরা। আর্নে স্লটের দলের
সামনে এবার প্রতিশোধের সুযোগ।
স্পেন
থেকে এই মৌসুমে শেষ আটে উঠেছে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা এবং আতলেতিকো মাদ্রিদ। প্রতিযোগিতার
সর্বোচ্চ ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা পেয়েছে বায়ার্ন মিউনিখকে। সবশেষ ২০২৩-২৪ মৌসুমে বায়ার্নকে
সেমিফাইনাল থেকে বিদায় করে দিয়েছিল লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। আর বার্সেলোনা পেয়েছে আতলেতিকো
মাদ্রিদকে।
চ্যাম্পিয়নস
লিগের শেষ চারে ওঠার লড়াই মাঠে গড়াবে আগামী ৭ এপ্রিল।
শেষ আটে কে কার মুখোমুখি:
পিএসজি
বনাম লিভারপুল
রিয়াল
মাদ্রিদ বনাম বায়ার্ন মিউনিখ
বার্সেলোনা
বনাম আতলেতিকো মাদ্রিদ
আর্সেনাল
বনাম স্পোর্টিং লিসবন

বিধ্বংসী বার্সেলোনার কাছে চুরমার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় নিল নিউক্যাসল ইউনাইটেড। রাফিনহা ও রবার্ট লেভানদোভস্কির জোড়া গোলে ইংলিশ ক্লাবটিকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে কাতালুনিয়ারা।
বুধবার রাতে শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে মুখোমুখি হয় দুই দল। যেখানে ৭-২ গোলের বিরাট জয় তুলে নিয়েছে হ্যান্সি ফ্লিকের দল। প্রথমার্ধ ৩-২ গোলে এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা। দ্বিতীয়ার্ধে অতিথিরা গোল হজম করেছে আরও ৪টি। রাফিনহা লেভানদোভস্কির জোড়া গোল বাদে একবার করে জালের দেখা পেয়েছেন মার্ক বার্নাল, ফেরমিন লোপেজ এবং লামিন ইয়ামাল। নিউক্যাসলের হয়ে দুটি গোল করেন অ্যান্থনি এলেঙ্গা।
এর আগে প্রথম লেগের খেলায় সেন্ট জেমস পার্কে ইয়ামালের শেষ মুহূর্তের গোলে ১-১ গোলে ড্র করে ফিরেছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। দুই লেগ মিলে ৮-৩ ব্যবধানে নিউক্যাসলকে হারিয়ে শেষ আটে উঠেছে বার্সেলোনা।
ক্যাম্প ন্যু পুনরায় খোলার পর এটিই ছিল এই মাঠে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ম্যাচ। এখানে টানা ১৩টি ম্যাচ জিতেছে হান্সি ফ্লিকের দল। ২০২৬ সালের শুরু থেকে ঘরের মাঠে তাদের শেষ ৭টি জয়ের প্রতিটিতেই করেছে অন্তত ৩টি গোল। সেই ধারা অব্যাহত রেখে আজও নিউক্যাসলের জালে তিনের অধিক (৭) গোল দিয়েছেন রাফিনহা, ইয়ামালরা।
তবে নিউক্যাসলের লজ্জার হারের শুরুটা ছিল ভিন্ন। প্রবল চাপের মুখে প্রথমার্ধ সমান তালে লড়াই করেছে নিউক্যাসল (গোলের দিক থেকে)। দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরে দারুণ প্রতিরোধের ইঙ্গিত ছিল অতিথিদের কাছ থেকে। যদিও পরের অর্ধে ভিন্ন এক বার্সেলোনাকে দেখেছে ইংলিশ ক্লাবটি।
বিরতির ঠিক আগে ইয়ামালের পেনাল্টিতে বার্সা ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও ম্যাচে তখনো টিকে ছিল নিউক্যাসল। বিরতির পর দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। একে একে ফের্মিন লোপেজ, রাফিনহা এবং লেভানদোভস্কির জোড়া গোলে নিউক্যাসলের ইউরোপীয় যাত্রার স্বপ্ন এক প্রকার দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়।