১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:৩৪ পিএম

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) একটি নতুন নিয়ম অনুমোদন করেছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় দলে সুযোগ পেতে হলে একটি বাধ্যতামূলক নিয়ম মানতে হবে। এখন থেকে আর্জেন্টিনার সব তরুণ ফুটবলারকে দেশটির স্থানীয় কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি করতেই হবে। চুক্তির পর চাইলে ইউরোপ বা অন্য যেকোনো দেশের ক্লাবে খেলতে পারবে খেলোয়াড়রা। মূলত নতুন নীতিটি এই আর্জেন্টিনার ক্লাবগুলোকে তাদের যুব খেলোয়াড় হারানোর থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি একাডেমি খেলোয়াড়দের উন্নয়নের জন্য উৎসাহিত করতে তৈরি করা হয়েছে।
এই নিয়ম অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী লিওনেল মেসি জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতেন না। ১৩ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার ক্লাব নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজ থেকে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছিলেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মহাতারকা। ক্লাবটির সঙ্গে মেসির ছিল না কোনো পেশাদার চুক্তি।
এছাড়া, এই নিয়মে ফেঁসে যেতে পারতেন আর্জেন্টিনার বর্তমান জাতীয় দলের একাধিক খেলোয়াড়ও। যেমন বিশ্বকাপ জয়ী গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, জুলিয়ানো সিমিওনে, এমিলিয়ানো বুন্দিয়া, এনজো বারেনেচিয়া, জোয়াকিন পানিচেল্লি এবং ভ্যালেন্টিন কারবোনি। নতুন নিয়মে গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে যারা স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন, তাঁরা নির্বাচনযোগ্য হতেন না।
আরও পড়ুন
| কেইনকে চায় সৌদির দুই ক্লাব |
|
এএফএ জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা এবং ‘পাত্রিয়া পোতেস্তাদ’ আইনের প্রয়োগের কারণে। এই আইন অনুযায়ী, খেলোয়াড়ের অভিভাবকরা ঠিক করতে পারেন যে তাদের সন্তান কোন ক্লাবের সঙ্গে পেশাদার চুক্তি করবে, এমনকি বর্তমান ক্লাবের অনুমতি ছাড়াই। আর্জেন্টিনায় খেলোয়াড় ১৬ বছর বয়সে পেশাদার চুক্তি করতে পারে, এবং আইন ১৮ বছর পর্যন্ত প্রযোজ্য থাকে। ফলে, যদি কোনো খেলোয়াড় চুক্তি সাইন করার আগে বিদেশে চলে যায়, তাহলে তার ক্লাব শুধু প্রশিক্ষণ ফি পাবে, ট্রান্সফার ফি নয়।
আর্জেন্টিনায় খেলোয়াড়রা ১৬ বছর বয়স থেকে ক্লাবের সঙ্গে পেশাদার চুক্তি করতে পারে। তবে ‘পাত্রিয়া পোতেস্তাদ’ আইন অনুযায়ী ১৮ বছর পর্যন্ত প্রযোজ্য থাকে। তাতে যদি খেলোয়াড় পেশাদার চুক্তি সাইন করার আগে দেশের বাইরে চলে যায়, তাহলে তার বর্তমান ক্লাব শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ ফি পায়, পূর্ণ ট্রান্সফার ফি নয়।
এএফএ-এর নতুন নিয়ম অবশ্য তরুণ ফুটবলারদের চুক্তির বিষয়টি পুরোপুরি আটকাবে না, তবে জাতীয় দলের সুযোগ পাওয়ার যোগ্যতা সীমিত করে, বিদেশে যাওয়ার প্রলোভন কমানোই মূল এর উদ্দেশ্য।
এখন কেন এই পদক্ষেপ ?
মূলত আর্জেন্টিনা যুব খেলোয়াড়দের দেশের ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি করার আগে বিদেশে চলে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে এই নীতি আনা হয়েছে। পূর্বে অনেক প্রতিভাবান কিশোর ক্লাবের চুক্তি সাইন করার আগেই ইউরোপের ক্লাবে চলে গেছে। এর সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ লিওনেল মেসি, যিনি ১৩ বছর বয়সে নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজ থেকে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছিলেন।
সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে এসেছে লুকাস স্কারলাটো, ১৬ বছর বয়সী মিডফিল্ডার, যিনি রিভার প্লেট থেকে ইতালির ক্লাব পার্মাতে চলে যান। স্কারলাটো এখনও সিনিয়র ক্লাবে খেলেননি, তবে অর্নূধ্ব-১৬ দলের হয়ে জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। রিভার প্লেটের যুব প্রশিক্ষণ পরিচালক গ্যাব্রিয়েল রদ্রিগেজ বলেছিলেন, ‘আমি চাই তার জন্য সবচেয়ে ভালোটা হোক, কিন্তু রিভারে সে সেরা অবস্থায় ছিল। আমি মনে করি না তাঁর তখন ক্লাব ছাড়া উচিত ছিল। এজেন্টরা শুধুমাত্র নিজের স্বার্থ দেখেন, যা ফুটবলে একটি প্রয়োজনীয় সমস্যা।’
রিভার প্লেট পরে ফিফা-তে এজেন্ট মার্টিন অ্যারিয়েল গুয়াস্টাদিসেগনোর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে, অভিযোগ করেছে তিনি খেলোয়াড় প্রতিনিধির নিয়ম ভঙ্গ করেছেন। এজেন্ট দাবি করেছেন, তিনি খেলোয়াড় ও পরিবারের স্বার্থে সেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই নিয়ম কি বৈধ?
ক্রীড়া ও বাণিজ্যিক আইন বিশেষজ্ঞ, ব্যারিস্টার স্যামুয়েল কাথবার্ট বলেন, ‘ফিফা খেলোয়াড়দের জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্বের যোগ্যতার নিয়ম আরোপ করে, তবে জাতীয় ফেডারেশনগুলোর নির্বাচনী নীতি নির্ধারণে বাধ্য করা হয় না। তাই আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এই পদক্ষেপ ফিফার-এর কোনো নিয়ম ভঙ্গ করে না।’
এই আইনের প্রতিক্রিয়ায় আর্জেন্টিনার ক্লাব লানুসের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস রুসো বলেন, ‘কিছু এজেন্ট ক্লাবকে ক্ষতি করে, আর আমরা আমাদের যুব খেলোয়াড়দের রক্ষা করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছি।’ অ্যারেরনাল ও আর্জেন্টিনার সাবেক খেলোয়াড় এবং কোচ গ্যাব্রিয়েল হেইনজে বলেন, ‘এজেন্টদের দায় সবচেয়ে বেশি। ক্লাবরা খেলোয়াড় তৈরি করে, কিন্তু পরে পরিবার সিদ্ধান্ত নেন। ফিফা-কে অবশ্যই বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে।’
অন্য কোনো দেশে কি এমন নিয়ম আছে?
কাথবার্ট উল্লেখ করেন, ‘ইংল্যান্ড রাগবিতেও ২০১২ থেকে এমন নীতি রয়েছে—বিদেশে থাকা খেলোয়াড়কে জাতীয় দলে ডাক দেওয়া হয় না, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া। মূল উদ্দেশ্য হল খেলোয়াড়দের দেশের মধ্যে রাখা, যাতে স্থানীয় ফুটবল ভালো হয়। তবে বড় ক্লাবের বড় চুক্তি কিছু খেলোয়াড়কে বাধ্য করবে বিদেশে যেতে। নতুন নীতি কতটা সফল হবে তা জাতীয় দলের সাফল্য এবং খেলোয়াড়দের বিদেশি চুক্তি নেওয়ার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।’
No posts available.
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:০০ পিএম

লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা
তরুণ প্রতিভাদের মধ্যে অন্যতম নজরকাড়া নাম দ্রো ফার্নান্দেজ। বার্সেলোনার মূল দলে খেলে
ইতোমধ্যেই মুগ্ধ করেছেন দর্শক ও বিশেষজ্ঞদের। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে ১৮ বছর বয়সী
এই তারকা বার্সেলোনা ছেড়ে প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি) বেছে নেন।
চুক্তির ৬০ লাখ ইউরো রিলিজ
ক্লজ পরিশোধ করে দ্রোকে দলে ভিড়ায় পিএসজি। ইউরোপের কয়েকটি শীর্ষ ক্লাব থেকে প্রস্তাব
থাকা সত্ত্বেও তিনি ফরাসি ক্লাবকে বেছে নিয়েছেন। রবিবার মার্সেইয়ের বিপক্ষে লিগ ম্যাচে
প্রথমবার পিএসজির জার্সিতে মাঠে নামেন দ্রো। ৫-০ গোলে জয়ী হওয়ার পর তিনি নিজের সিদ্ধান্তের
কারণ ব্যাখ্যা করেন।
দ্রো বলেন,
“লুইস এনরিকে অবিশ্বাস্য একজন কোচ। সবাই আমাকে বলেছে, তিনি অসাধারণ এবং তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর অনেক আস্থা রাখেন। প্যারিসই আমার জন্য সেরা জায়গা।”
বার্সেলোনায় নিয়মিত খেলার
সুযোগ সীমিত থাকায় হতাশ হয়ে পড়ার গুঞ্জন ছিল। তবে দ্রো স্পষ্ট করেছেন, এখানে কোনো তাড়াহুড়ো
নেই।
“যতটুকু খেলার সময় পাব, সেটার সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর চেষ্টা করব। সবকিছু ঠিকঠাক এগোবে এমন ভাবেই কাজ চালিয়ে যাব। এখানে এসে সবকিছু সহজ হয়েছে। আমি যেন মৌসুমের শুরু থেকে এখানে আছি, এমন অনুভূতি পেয়েছি। সবাইকে স্বাগত জানানোর জন্য ধন্যবাদ।”

প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটি ম্যাচে লাল কার্ডের কারণে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না ডমিনিকি সোবস্লাই। যোগ করা সময়ে লিভারপুল মিডফিল্ডারের লাল কার্ডের বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা। দলের অন্যতম পারফর্মারের অনুপস্থিতি মানতে কষ্ট হচ্ছে অলরেডস ম্যানেজার আর্নে স্লটের। তবে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি নেই নেদারল্যান্ডস কোচের।
বৃহস্পতিবার স্টেডিয়াম অব লাইটের ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে স্লট বলেছেন,
“আমার অনুভূতি বদলায়নি। যখন তাকে (সোবস্লাই) রেড কার্ড দেখায়, হতাশ হই। কারণে, সে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে পারবে না। অন্যদিকে, আমি মনে করি রেফারি তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন।’’
স্লট আরও যোগ করেন,
“নিয়ম সকলের জন্য সমান এবং রেফারিরা সেটাই নিশ্চিত করছেন। আমাদের কাজ হলো নিয়ম মেনে মাঠে খেলা এবং সুযোগ কাজে লাগানো।”
অ্যানফিল্ডে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে হার নিয়ে অনেক কথাই হচ্ছে। যেখানে সবসময় অলরেডসদের দাপট চলে সেখানে চড়ি ঘুরিয়েছে পেপ গার্দিওলার দল।
স্লট বলেছেন,
“আমি আমার খেলোয়াড়দের ক্রেডিট দিতে চাই। আমরা অনেক বাধার মুখোমুখি হয়েছি। যা পাওয়ার যোগ্য ছিলাম তা পাইনি, কিন্তু তারা প্রতি তিনদিন পর পর মাঠে হাজির হয় এবং ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।’’
তিনি যোগ করেন,
“আমি অনেকবার বলেছি, এই মৌসুমে মাত্র তিনটি হাফ ছিল যখন আমাদের চেয়ে প্রতিপক্ষ ভালো খেলেছে—ক্রিস্টাল প্যালেস, ম্যান সিটি এবং হয়তো আর্সেনালের বিপক্ষে প্রথম হাফ। কিন্তু সেটিও শুধুমাত্র প্রথম হাফের জন্য প্রযোজ্য। এটি খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব, কারণ তারা এই মৌসুমে অসংখ্য বাধার মুখোমুখি হয়েছে।”
সান্ডারল্যান্ড ম্যাচ সম্পর্কে স্লট বলেছেন,
“তাদের ঘরের মাঠে ভালো রেকর্ড আছে। সান্ডারল্যান্ড খুবই ভালো একটি সিজন কাটাচ্ছে। তারা ইতোমধ্যেই সিটি এবং আর্সেনালকে হোমে খেলেছে, যা দেখায় তারা কতটা শক্তিশালী এবং ভালো ঘরের মাঠে।”

প্রিমিয়ার লিগের এক ফুটবলারের অপহৃত বাবার মুক্তিকে উদ্যাপন করতে কোকেনের ওপর বিশেষ ছাড় ঘোষণা করা একটি ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় মাদক সরবরাহ চক্র। ইংল্যান্ডের একটি আদালত চক্রের আট সদস্যকে মোট ৬৩ বছর আট মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা ২০২৩ সালের নভেম্বরে লিভারপুলের সাবেক ফরোয়ার্ড লুইস দিয়াজের বাবার মুক্তির পর তাদের ব্যবহৃত ‘গ্রাফট ফোন’ থেকে প্রায় ৯ হাজার ক্রেতার কাছে একটি বার্তা পাঠায়। বার্তায় লেখা ছিল, ‘কলম্বিয়ার জঙ্গলে অপহৃত লুইস দিয়াজের বাবার মুক্তি উপলক্ষে পরের এক ঘণ্টার জন্য ৭৫ পাউন্ডে তিন প্যাকেট।’ দিয়াজের বাবা কলম্বিয়ায় গেরিলা গোষ্ঠীর হাতে ১৩ দিন অপহৃত ছিলেন।
মার্সিসাইড অর্গানাইজড ক্রাইম পার্টনারশিপের (ওসিপি) তদন্ত শেষে স্থানীয় সময় সোমবার লিভারপুল ক্রাউন কোর্টে এই রায় ঘোষণা করা হয়। তদন্তে ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) ও মার্সিসাইড পুলিশের কর্মকর্তারা যৌথভাবে কাজ করেন।
চক্রটির নেতৃত্বে ছিলেন ৪২ বছর বয়সী পল লকিয়ার। সহযোগীদের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘দ্য বিগ ফেল্লা’ নামে। তাঁর ডানহাত হিসেবে কাজ করতেন ৫৭ বছর বয়সী জেমস নিয়ারি। লিভারপুলভিত্তিক এই চক্রটি উচ্চমাত্রার ‘ফ্লেক’ কোকেন ও মিশ্রিত ‘মিক্স’—দুই ধরনের কোকেন উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ করত।
তদন্তে জানা গেছে, চক্রের সদস্যরা শিফট ভাগ করে দিনে শত শত অর্ডার পূরণ করত। লিভারপুলের বিভিন্ন বাড়িতে মাদক মজুত রাখা হতো। কোকেন বিক্রির অর্থে লকিয়ার বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন—দামি গয়না ও পোশাক পরা, ব্যক্তিগত ইয়টে ভ্রমণ এবং বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করতেন তিনি।
চক্রের একটি প্রধান মোবাইল ফোন থেকেই ২৪ ঘণ্টা অর্ডার নেওয়া হতো। পল ম্যাকআর্ডল এই ফোন পরিচালনার অন্যতম দায়িত্বে ছিলেন। ক্রিস্টোফার হোরক্স ও স্টিফেন লিঞ্চ মাদক সরবরাহ ও পুনরায় মজুতের দায়িত্ব সামলাতেন। হোরক্স ফোনটি সচল রাখার ব্যবস্থাও করতেন। মিশেল হিগিন্স নিজের বাসায় কোকেনের প্রধান গুদাম পরিচালনা করতেন, সেখানেই অর্ডার প্রস্তুত করা হতো। লি নাজেন্ট ডিলারের দায়িত্বে ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গী জুলি ম্যাকাফার্টি ফোন পরিচালনা ও ডেলিভারির নির্দেশনা দিতেন।
২০২৫ সালের ৬ মে পুলিশ একযোগে অভিযান চালিয়ে আটজনকেই গ্রেপ্তার করে। হিগিন্সের বাসা থেকে একটি কেজি কোকেন, বিপুল পরিমাণ মিশ্রণ সামগ্রী ও অর্ডার নেওয়ার ফোন উদ্ধার করা হয়। পুরো তদন্তে প্রায় ৮৭৪ গ্রাম কোকেন, মাদক মেশানোর যন্ত্রপাতি এবং প্রায় ৩ হাজার ৫০০ পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করা হয়। ফোনটিতে ৯ হাজারের বেশি গ্রাহকের নম্বর সংরক্ষিত ছিল এবং প্রতিদিন শত শত মাদক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়।
তদন্তকারীদের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত এই চক্র অন্তত ৯ দশমিক ৯ কেজি কোকেন বিক্রি করেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার পাউন্ড।
এনসিএর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জন হিউজ বলেন,
“এই চক্রটি যেন ফাস্টফুড ডেলিভারি সেবার মতো মাদক সরবরাহ করত। প্রতিটি অর্ডার সমাজে আরও ক্ষতি ডেকে আনত। এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করে সবাইকে কারাগারে পাঠানো একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।”
আট আসামিই ২০২৫ সালের জুনে ক্লাস ‘এ’ মাদক সরবরাহের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন।

লিওনেল মেসি আবারও বার্সেলোনায় ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। স্পেনের স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসি তাঁর স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো এবং তিন সন্তানকে নিয়ে শৈশবের ক্লাবে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। ২০২১ সালে আবেগঘন পরিস্থিতিতে ক্যাম্প ন্যু থেকে বিদায় নেওয়া মেসি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামির সঙ্গে ২০২৮ পর্যন্ত চুক্তিতে যুক্ত রয়েছেন।
আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি লা মাসিয়ার একাডেমি থেকে উঠে এসেছেন। তার ইচ্ছা ছিল ন্যু ক্যাম্পের ক্লাবে ক্যারিয়ার ইতি টানা। তবে ২০২১ সালে বার্সেলোনার সঙ্গে তার চুক্তি শেষ হওয়ায় প্যারিস সেন্ট জার্মেইনে (পিএসজি) যোগ দিতে হয়েছিল। সেখানে দুই মৌসুম খেলার পর ২০২৩ সালে ডেভিড বেকহ্যামের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানেই তিনি লিগ কাপ, সাপোর্টার্স শিল্ড এবং এমএলএস কাপ জিতে নিজের মর্যাদা আরও শক্ত করেছেন।
মেসি বার্সেলোনায় ফিরতে আগ্রহী হলেও বর্তমান ক্লাব সভাপতি জোয়ান লাপোর্তার সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা জটিল। খেলোয়াড় হিসেবে ক্যাম্প ন্যুতে ফেরার সম্ভাবনা নেই। তবে একটি ফ্রেন্ডলি বা প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন হতে পারে, যাতে মেসি এক শেষবার মাঠে উপস্থিত হয়ে ভক্তদের কাছে বিদায় নিতে পারেন।
ইন্টার মায়ামির সঙ্গে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর মেসি পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে স্বস্তিতে জীবন পার করছেন। তবে ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় বার্সেলোনা এখনও মুখ্য স্থান দখল করছে। মেসি স্পোর্টকে বলেছেন,
“আমি সত্যিই বার্সেলোনায় ফিরে যেতে চাই। আমার স্ত্রী, সন্তানরা এবং আমি সবসময় সেখানে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছি। আমাদের বাড়িও আছে, সবকিছু আছে। আমি নতুন স্টেডিয়ামে ফিরে যাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।”
স্পোর্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসি তার এমএলএস চুক্তি শেষ হলে বার্সেলোনায় ফিরে আসবেন। ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি ক্লাবের দৈনন্দিন কার্যক্রমে জড়িত হওয়ার সুযোগ পাবেন এবং স্পোর্টিং ম্যানেজমেন্ট টিমে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করবেন।

রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ালেও ক্লাবটির ইতিহাসের জড়িয়ে আছেন টনি ক্রুস। বারবার তাই আলোচনায়ও আসেন তিনি। জার্মান এই মিডফিল্ডারের বিদায়কে রিয়ালের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর চলে যাওয়ার পর থেকেই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ও ড্রেসিংরুমের ভারসাম্য ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ক্লাব কর্তৃপক্ষও আগামী মৌসুমে একজন ‘নতুন ক্রুস’ খোঁজার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে সাবেক সতীর্থদের নিয়ে নিজের পডকাস্ট আইনফাখ মাল লুপেনে কথা বলেছেন টনি ক্রুস। সেখানে বিভিন্ন ব্যাপারে কথা বলেছেন। এর মধ্যে জানিয়েছেন, নিজের ক্যারিয়ারে যাঁদের সঙ্গে খেলেছেন, তাঁদের মধ্যে সেরা ফুটবলার হলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। বললেন, ‘আমি যাঁদের সঙ্গে খেলেছি, তাঁদের মধ্যে সেরা খেলোয়াড় রোনালদো।’
রোনালদোকে সেরা বলার এই সিদ্ধান্ত কেন ক্রুসের জন্য সহজ ছিল, সেটিও ব্যাখ্যা করেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই মিডফিল্ডার। তাঁর ভাষায়, ‘রিয়াল মাদ্রিদে রোনালদো যত ম্যাচ খেলেছেন, তার চেয়েও বেশি গোল করেছেন।’
আরও পড়ুন
| কেইনকে চায় সৌদির দুই ক্লাব |
|
রোনালদোর প্রশংসার পাশাপাশি সৌদি প্রো লিগ নিয়েও কড়া মন্তব্য করেছেন ক্রুস। বর্তমানে আর্থিক বিষয় নিয়ে সৌদি লিগ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন রোনালদো। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সৌদি লিগ একটি অদ্ভুত ঘটনা। রোনালদোর আগমনের আগে কেউই এই লিগের কথা জানত না। অথচ এখন তারাই সেই মানুষটিকেই অসম্মান করছে, যিনি লিগটিকে বিশ্ব মানচিত্রে পরিচিত করেছেন।’
ক্রুস মনে করেন, রোনালদো এই লিগ ছাড়লে, সৌদি লিগ আকর্ষণ হারাবে। বললেন, ‘আগামীকাল যদি রোনালদো এই লিগ ছেড়ে চলে যান, তাহলে সৌদি লিগ তার সব আকর্ষণ হারাবে। রোনালদো না থাকলে কেউই এই লিগ দেখবে না।’
রোনালদোর সঙ্গে সৌদি লিগের এই টানাপোড়েনের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আর্থিক সহায়তার বৈষম্যের বিষয়টি। অভিযোগ রয়েছে, আল-নাসরের তুলনায় তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল-হিলালকে বেশি আর্থিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি আল-হিলাল বড় অঙ্কের চুক্তিতে রিয়াল মাদ্রিদের আরেক কিংবদন্তি করিম বেনজেমাকে দলে ভেড়ানোয় বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।