
আর মাত্র একদিন পর পর্দা উঠবে এএফসি উইমেন’স অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের। উদ্বোধনী দিনেই ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। স্বাগতিক থাইল্যান্ডকে মোকাবিলা করবে পিটার বাটলারের দল। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ।
এশিয়ান কাপের লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে জর্ডান ও ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। থাইল্যান্ড থেকে বাফুফের (বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন) মাধ্যমে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন দলের অন্যতম ফরোয়ার্ড সৌরভী আকন্দ প্রীতি। তিনি বলেন, ‘আমরা গত ম্যাচে জর্ডানের সঙ্গে ড্র করেছি। ঐ ম্যাচে আমাদের যা যা ভুলত্রুটি হয়েছে কোচ সেটা আজ (গতকাল) মাঠে প্র্যাকটিসের মাধ্যমে শুধরানোর চেষ্টা করছেন।’
টুর্নামেন্টটি সামনে রেখে গত ২০ মার্চ থাইল্যান্ডের উদ্দেশে দেশ ছাড়ে বাংলাদেশ। এরপর থেকে সেখানে বাটলারের অধীনে নিবিড় অনুশীলন করছেন আফঈদা খন্দকাররা। দলের অবস্থা জানিয়ে প্রীতি বলেন, ‘এখানে মাঠের পরিবেশ খুব সুন্দর, খুব ভালো লাগছে। প্রস্তুতি আলহামদুলিল্লাহ ভালো, সবাই প্রস্তুত। আমরা প্রত্যেকটা টুর্নামেন্টে, প্রত্যেকটা ম্যাচে খুব ভালো পারফর্ম করার চেষ্টা করছি।’
থাইল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর করবে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের মোকাবিলার আগে চিন্তিত নন প্রীতি। কোচের কথা মতো মাঠে খেলে জয় ছিনিয়ে আনতে চান তারা।
No posts available.
৩০ মার্চ ২০২৬, ৩:১৫ পিএম

আফ্রিকান ফুটবল এক বন্ধুর পথ ধরে হাঁটছে। আফকনের (আফ্রিকান কাপ অব নেশন্স) ফাইনালিস্ট দলের নাম বদল। আফ্রিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (কাফ) প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিয়েক মোৎসেপের সতর্ক বার্তা। নতুন করে জানা গেল, আফ্রিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবলের (সিএএফ) মহাসচিব ভেরন মোসেঙ্গো–ওমবা পদত্যাগের খবর।
আফ্রিকা মহাদেশের ফুটবলে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে অনেকটা চাপের মুখে পদ ছাড়লেন মোসেঙ্গো-ওমবা। সোমবার এক বিবৃতিতে নিজেই পদত্যাগের খবর জানিয়েছেন তিনি। তবে বিদায়ের ঘোষণায় মোসেঙ্গো-ওমবা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কারণেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে মোসেঙ্গো–ওমবা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা, শিক্ষা দেওয়া এবং প্রত্যাশার নতুন দ্বার খোলার পর আমি সিএএফ মহাসচিবের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন ব্যক্তিগত উদ্যোগে মনোযোগ দিতে চাই।’
আগের দিন একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে কাফ প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিয়েক মোৎসেপ বলেন, ‘সেনেগালের আপিলের পর ক্রীড়া সালিশি আদালত যে সিদ্ধান্ত নেবে, সে বিষয়ে আগাম কোনো মন্তব্য করা হবে না।’ তার ভাষায়, ‘ক্রীড়া সালিশি আদালত যা সিদ্ধান্ত দেবে, আমরা সেটিই মেনে নেব।’
শিরোপা কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ক্রীড়া আদালত কোর্ট অব আরবিট্রেশনে (সিএএস) আপিল করেছে সেনেগাল। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক এই ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কাফের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিয়েক মোৎসেপে জানিয়েছেন, ক্রীড়া সালিশি আদালত যা সিদ্ধান্ত দেবে, সেটিই মেনে নেব তাঁরা।

প্রতিপক্ষ বসনিয়া-হার্জেগোভিনা বলেই হয়তো জেনারো গাত্তুসো একটু মৃদু সুরে গাইছেন—স্বপ্ন এবার হয়ে যাবে বেলা সত্যি। তবে ইতালির কোচ যে খুব একটা স্বস্তিতে আছেন, সেটাও বলা যাবে না। চোখের পলকে মৃত্যুমুখে পড়ে যাওয়া ফুটবলটা রীতিমতো ভোগাচ্ছে দুবার বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব পেরোতে না পারা ইতালিকে।
সান্দ্রো টোনালি ও মোইজে কিনের বদৌলতে ইউরোপিয়ান প্লে–অফের সেমিফাইনাল উৎরে ফাইনালে আজ্জুরিরা। বিলিনো পোলিয়ে স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে চারবারের চ্যাম্পিয়নদের সামনে তৃতীয়বার বাজে অভিজ্ঞতা থেকে নিজেদের বাঁচানোর সুযোগ। বসনিয়ারও লক্ষ্য অভিন্ন— পাশাপাশি দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলার গৌরব অর্জন।
ঐতিহ্য এবং শক্তিমত্তায় বসনিয়া থেকে ঢের এগিয়ে ইতালি। দু’দলের পাঁচ দেখায় চারটিতে জয় আজ্জুরিদের। একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। দল দুটি সবশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০২৪ সালের ১০ জুন। সে ম্যাচ ১-০ গোলে রাঙিয়েছিল চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
মুখোমুখি লড়াইয়ে ইতালি এগিয়ে থাকলেও একটি বিষয়ে অবশ্য স্বস্তি পেতে পারে বসনিয়া। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সবশেষ পাঁচ ম্যাচের তিনটিতে জিতেছে বসনিয়া। দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে তাদের। ইতালির একটি হার। চারটিতে জয়।
এই ম্যাচের ইতিহাসও রয়েছে বসনিয়ার জন্য। স্বাধীন দেশ হিসেবে ইতালির বিপক্ষে বসনিয়ার প্রথম জয় হয়েছিল প্রায় ৩০ বছর আগে। দলটির খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে ১৯৫০ সালেও, তখন তারা ছিল ইউগোস্লাভিয়ার অংশ। দেশটি ১৯৯২ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও, ফিফার সদস্যপদ পেতে বসনিয়াকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
সদস্যপদ পাওয়ার পর একই বছরের ৬ নভেম্বর একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় বসনিয়া ও ইতালি। সে ম্যাচে আজ্জুরিদের ২-১ গোলে হারায় বসনিয়া। কসভো অলিম্পিক স্টেডিয়ামে তখন আলো ঠিকমতো কাজ করত না, তাই ম্যাচ দুপুরে শুরু হয়েছিল। ৪০ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন এবং এটি ইতালীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।
বসনিয়ার কাছে ২-১ গোলে হারের পর ইতালির কোচ আরিগো সাকি তাৎক্ষণিক পদত্যাগ করেন। এবারও হয়তো সেরকম একটি ঘটনার সামনে গাত্তুসো।
গোত্তুসো যদিও এবার একটু বেশিই আত্মবিশ্বাসী, তবে সতর্কতার সঙ্গেই ফেলছেন পা। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এখন আমরা এই ফাইনাল খেলতে যাচ্ছি। আমরা জানি ম্যাচটা কঠিন হবে, তবে আগেই সেটা বুঝেছিলাম। আমরা যে চাপ অনুভব করছি, প্রতিপক্ষও একই চাপ অনুভব করবে।”
বসনিয়ার লক্ষ্য জাতিকে খুশি করানো। ইতিহাস রচনা। সে কথাই বলছেন কোচ সারবেগ বারবারেজ। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য জাতিকে খুশি করা। আমরা জানি, ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরে আমরা খারাপ সময় পার করছি। কিন্তু এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সূচনা আমরাই করতে পারি।
ইতালির বিপক্ষে ম্যাচটির জন্য আমি মুখিয়ে আছি। আমাদের যেসব খেলোয়াড় ইতালিতে খেলে—যেমন সেয়াদ কোলাশিনাচ ও তারিক মুহারেমোভিচ—তারা বাড়তি অনুপ্রেরণা পাবে। এ ধরনের ম্যাচ জিতলেই সফল হওয়া যায়।”
ইতালির শুরুর একাদশ: দোন্নারুমা, মানচিনি, বাস্তোনি, কালাফিওরি, পলিতানো, বারেল্লা, লোকাতেল্লি, টোনালি, দিমার্কো, কিন ও এসপোসিতো।
বসনিয়ার শুরুর একাদশ: ভাসিল, ডেডিচ, কাটিচ, মুহারেমোভিচ, কোলাশিনাচ, মেমিচ, হাজিয়াহমেতোভিচ, বাইরাকতারেভিচ, আলাইবেগোভিচ, জেকো ও দেমিরোভিচ।

আর মাত্র এক দিনের অপেক্ষা। তারপরই নতুন ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল দল। প্রথমবারের মতো তারা খেলতে নামবে অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের মঞ্চে। আর নিজেদের প্রথম ম্যাচে লড়াই করার আশা অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারের।
থাইল্যান্ডে বুধবার শুরু হবে অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের দ্বাদশ সংস্করণ। আগের ১১ আসরে ছিল না বাংলাদেশ। থাম্মাসাত স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী দিনেই স্থানীয় সময় রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা) স্বাগতিক থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট।
স্বাগতিক হিসেবে প্রায় সাত বছর পর বয়সভিত্তিক এই এশিয়ান কাপে ফিরেছে থাইল্যান্ড। ২০০৪ সালের আসরে চতুর্থ হওয়া এই টুর্নামেন্টে তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য। এরপর আর কখনও গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি তারা।
তবে জাতীয় দলের র্যাঙ্কিং বিবেচনায় বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাইল্যান্ড। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৫২ নম্বরে থাই মেয়েরা। আর বাংলাদেশের অবস্থান ১১৩তম। তাই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চান অনূর্ধ্ব-২০ দলের অধিনায়ক আফঈদা।
আলপিন ট্রেনিং ক্যাম্পে সোমবারের অনুশীলনের পর এই কথা বলেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার।
“আশা করি, থাইল্যান্ডের সঙ্গে ভালো ফাইটিং ম্যাচ হবে। সবার কাছে দোয়া চাই, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন ভালো খেলতে পারি।”
টুর্নামেন্টটি সামনে রেখে গত ২০ মার্চ থাইল্যান্ডের উদ্দেশে দেশ ছাড়ে বাংলাদেশ। এরপর থেকে সেখানে পিটার বাটলারের অধীনে নিবিড় অনুশীলন করছেন আফঈদা, সৌরভী আকন্দ প্রীতিরা। এরই মধ্যে ভারত ও জর্ডানের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে তারা।
সব মিলিয়ে গরমে কিছুটা সমস্যা হলেও, আগেভাগে থাইল্যান্ডে চলে যাওয়ায় মানিয়ে নিচ্ছেন বললেন আফঈদা।
“ট্রেনিং আলহামদুলিল্লাহ ভালো হয়েছে। একটা সমস্যা, অনেক গরম। গরমের সঙ্গে আমরা মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। যেহেতু অনেক দিন আগেই আমরা এখানে এসেছি, আগের থেকে অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছি। তো আলহামদুলিল্লাহ ভালোই।”
“দলের অবস্থা আলহামদুলিল্লাহ ভালো। সবাই মোটামুটি ভালোই আছে। যেহেতু আমরা দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছি, এরপর রিকভারিও করেছি। ঘুরতেও গিয়েছি, সবার মন সতেজ আছে। তো আলহামদুলিল্লাহ ভালো।”
এসময় সোমবারের অনুশীলন সম্পর্কেও ধারণা দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
“ওয়ার্ম-আপ করেছি, পাসিং ড্রিল করেছি। তারপর ম্যাচ সম্পর্কিত কিছু স্লাইড দেখিয়েছেন স্যার। যেহেতু থাইল্যান্ডের সঙ্গে খেলা, সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমাদের এগোতে হবে। তো আমরা সেভাবেই এগোচ্ছি।”

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা এক ফুটবলার খেলবেন বাংলাদেশের জার্সিতে। হামজা চৌধুরী আসার আগ পর্যন্ত এ নিয়ে কত জল্পনা। অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আসে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ। ভারতের শিলংয়ে জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে লাল সবুজের জার্সিতে অভিষেক হয় লেস্টার সিটি তারকার।
এরপর কেটে গেছে এক বছর। বাংলাদেশের হয়ে হামজা খেলেছেন ৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। গোল করেছেন, দলকে জিতিয়েছেন, আনন্দে ভাসিয়েছেন দেশের ফুটবল সমর্থকদের। আগামীকাল সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আরও একটি ম্যাচে মাঠে নামার আগে সেই এক বছরের জানা-অজানা গল্প বলেছেন টি-স্পোর্টসের সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক নাভিল খানের কাছে। একান্ত সাক্ষাৎকারের চৌম্বক অংশ তুলে ধরা হলো।
হামজার অভিষেক ম্যাচে বাংলাদেশ গোলশূন্য ড্র করে। তবে হোম ম্যাচে ভারতকে বাংলাদেশ হারায় ১-০ ব্যবধানে। এছাড়াও এএফসি এশিয়ান কাপে অ্যাওয়ে ম্যাচে বাংলাদেশ ড্র করে শক্তিশালী হংকংয়ের সঙ্গে।
আরও পড়ুন
| ক্রীড়াবিদদের জন্য নতুন দিগন্ত: বেতন কাঠামো ও ক্রীড়া কার্ডের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী |
|
হংকংয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠেও ড্রয়ের সুযোগ আসে, যদিও শেষ মুহূর্তের গোলে পয়েন্ট পাওয়া হয়নি। হারতে হয়েছিল ৩-৪ ব্যবধানে। ওই ম্যাচের ১৩ মিনিটে বাংলাদেশকে লিড এনে দেন হামজা। তারপরও এক পয়েন্ট না পাওয়ার হতাশা এতদিন পর এসেও লুকাননি এই মিডফিল্ডার। গত এক বছরে বাংলাদেশের নিজের কষ্টের মুহূর্ত কোনটি জানতে চাইলে হামজা বলেন, ‘হংকংয়ের সঙ্গে আমরা যে শেষ মুহূর্তে এসে ম্যাচটা হেরেছি সেটা অনেক কষ্টের ছিল।’
তবে ২২ বছরের খরা কাটিয়ে গত ১৮ নভেম্বর ঘরের মাঠে ভারতকে হারায় বাংলাদেশ। যে ম্যাচের একমাত্র গোলটি শেখ মোরছালিনের। তবে সেই ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন হামজা। দেশের হয়ে তাঁর আনন্দের মুহূর্তও সেটি। বলেন, ‘ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়টা আমার জন্য সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত।’
দেশের হয়ে নিজের এক বছর নিয়ে হামজা চৌধুরী অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে টেনে আনেন নারী ফুটবল দলের সাফল্য, ‘খুব ভালো লাগছে, আলহামদুলিল্লাহ। শুধু আমার জন্যই না, বাংলাদেশের জন্যই ভালো হয়েছে, সাফল্যও এসেছে। নারী দল খুব ভালো করছে, এশিয়ান কাপে খেলেছে, অনূর্ধ্ব-২০ দলও ভালো খেলছে। আসলে বাংলাদেশের জন্য খুব ভালো যাচ্ছে। ইনশা আল্লাহ আমরা আরও ফোকাস করতে পারব, এবং আরও সাফল্য আনতে পারব। সামনে আরও ভালো কিছু হবে।’
বাংলাদেশের জার্সিতে হামজা ৮ ম্যাচ খেলে করেছেন ৪ গোল। সবকটিই বাংলাদেশের মাঠে। যার মধ্যে নেপালের বিপক্ষে দুটি, হংকং ও ভুটানের বিপক্ষে একটি করে। দেশের মাঠে হামজার অভিষেক হয় গত বছরের ৪ জুন। ভুটানের সঙ্গে যে ম্যাচটি বাংলাদেশ জেতে ২-০ গোলে। ওই ম্যাচেই ষষ্ঠ মিনিটে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার কর্নারে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন ইংল্যান্ডে খেলা হামজা। যে গোলটি এখনও তাঁর কাছে স্মরণীয়।
আরও পড়ুন
| প্রতিটি টুর্নামেন্টেই সেরাটা দিতে চায় দল: প্রীতি |
|
ক্যারিয়ারের ৪ গোলের মধ্যে কোনটি সেরা জানতে চাইলে হামজা বলেন, ‘জাতীয় স্টেডিয়ামে আমার প্রথম গোলটা, ভুটানের বিপক্ষে যেটা করেছিলাম। সেটা অবশ্যই আমার মনে থাকবে। এটা স্পেশাল মেমোরি আমি রাখবো আমার সঙ্গে সব সময় ইনশা আল্লাহ। আর নেপালের বিপক্ষে গোলটা (বাইসাইকেল কিক) আমার অন্যতম ফেভারিট গোল।’
এএফসি এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ শেষ ম্যাচে আগামীকাল সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নামছে। এই ম্যাচ নিয়ে হামজা বলেছেন, ‘অবশ্যই আমরা জেতার জন্য আত্মবিশ্বাসী। ইনশা আল্লাহ আরা জিতব।’

ক্রীড়াঙ্গনে আজ এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে জাতীয় ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়া কার্ড পেয়েছেন। আগামী সপ্তাহের মধ্যে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এর আওতায় আনার লক্ষ্য সরকারের। ক্রীড়া ভাতা প্রদানের পাশাপাশি গত এক বছরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যক্তিগত স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ জয়ীদের তিন, দুই ও এক লাখ এবং দলগত পর্যায়ে দুই, দেড় ও এক লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
সাবিনা খাতুনের অধিনায়কত্বে ২০২২ ও ২০২৪ সালে পরপর বাংলাদেশ দুইবার সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তাঁর হাত ধরে ২০২৬ সালের সাফ ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন সাবিনা। একটি স্ক্রিপ্ট নিয়ে তিনি বক্তৃতা দিতে যান। তখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে নিজ থেকেই অনুভূতি প্রকাশ করতে বলেন। এরপর সাবিনা নিজের মতো করেই বলেন।
আরও পড়ুন
| ক্রীড়াবিদদের জন্য নতুন দিগন্ত: বেতন কাঠামো ও ক্রীড়া কার্ডের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী |
|
নারী ফুটসাল দলের অধিনায়ক সাবিনা আজকের অনুষ্ঠান ও এমন উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। অনুভূতি প্রকাশের এক পর্যায়ে তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের কাছে দাবি করেন, ‘স্পোর্টস অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। ফুটসাল প্রথমবার খেলতে গিয়েছিলাম, আমরা ভালো ফলাফল করেছি। বাংলাদেশে ভালো ফুটসাল গ্রাউন্ড নাই, আমাদের জন্য মাঠের ব্যবস্থা করেন।’
সাবিনার এই দাবির পরই প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেন। অধিনায়কের বক্তব্য শেষ হতেই তারেক রহমান বলেন, ‘সাবিনা, তোমার যে মাঠের দাবিটা, এটা আমরা প্রক্রিয়া শুরু করেছি। মোটামুটিভাবে শেষ হয়ে আসছে কাজটা। মেয়েরা যেন প্র্যাকটিস করতে পারে, খেলতে পারে সেটা মাঠ মোটামুটি সিলেকশন হয়েছে। অলমোস্ট ডান।’
আজকের অনুষ্ঠানে ফুটবল, ক্রিকেটসহ অনেক খেলার অনেক খেলোয়াড়, সংগঠক এসেছিলেন। তাদের প্রতি সাবিনা বলেন, ‘যে সকল ক্রীড়া ফেডারেশনের সদস্যরা রয়েছেন তাদের প্রতি অনুরোধ খেলোয়াড়দের প্রতি খেয়াল রাখবেন। আমরা খেলোয়াড়রা আরও বেশি সাফল্য এনে দিতে পারব।’