বিরতির আগে ও পরে দুই গোল হজম করে কাজটা ভীষণ কঠিন হয়ে গেল। তবে রাকিব হোসেনের গোলে জাগল আশা। পুরো দলই যেন এরপর ফিরে পেল লড়াইয়ের বাড়তি তাগিদ। শেষ ৩০ মিনিটে নিজেদের সম্ভাব্য সেরা ফুটবল খেলল লাল-সবুজ শিবির। সুযোগও আসল, তবে গোলের দেখা আর মিলল না। তাতে উজ্জীবত পারফরম্যান্স দেখিয়েও সিঙ্গাপুরের সাথে পেরে উঠল না বাংলাদেশ।
জাতীয় স্টেডিয়ামে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মঙ্গলবার বাংলাদেশ হেরে গেছে ২-১ গোলে। ‘সি’ গ্রুপে থাকা হামজা-শামিতদের দুই ম্যাচে পয়েন্ট ১। ‘সি’ গ্রুপে দিনের অন্য ম্যাচে হংকংয়ের (৪ পয়েন্ট) কাছে ১-০ গোলে হেরেছে ভারত (১ পয়েন্ট)।
এর মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে প্রথমবার হারল বাংলাদেশ। এর আগের হারটি ছিল ২০১৫ সালে ঢাকাতেই, তবে সেটা ছিল আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। সেবারও ব্যবধান ছিল ২-১। দশ বছর পর ফের একই স্কোরলাইনে হারতে হল বাংলাদেশকে।
আরও পড়ুন
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ‘টার্নিং পয়েন্টের’ সন্ধানে বাংলাদেশ |
![]() |
চলতি মাসে ভুটানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের একাদশ থেকে তিনটি পরিবর্তন এনে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দল সাজান কাবরেরা। নিয়মিত অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকে বেঞ্চে রেখে একাদশে সুযোগ দেন কানাডিয়ান লিগে খেলা মিডফিল্ডার শোমিত সোমকে, যিনি এই ম্যাচ দিয়ে লাল-সবুজ জার্সিতে অভিষিক্ত হন। এছাড়া সোহেল রানার বদলে মাঠে নামেন মোহাম্মদ হৃদয়, আর লেফট-ব্যাক পজিশনে তাজ উদ্দিনের পরিবর্তে জায়গা পান শাকিল আহাদ তপু।
ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখাতে থাকে সফরকারী সিঙ্গাপুর। নবম মিনিটে হ্যারিস স্টুয়ার্টের লং থ্রো থেকে ডিফেন্ডারদের ভুলে সুযোগ তৈরি করে দলটি। জটলার মধ্যে বল চলে যায় সন উই-ইয়াংয়ের কাছে, তবে তার শট পোস্টে বাইরে দিয়ে চলে যায়।
১৫তম মিনিটে বাংলাদেশের প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণ আসে তপুর বাম দিকের ক্রস থেকে। তবে রাকিব হোসেনের দুর্বল শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে সহজেই গোলকিপারের হাতে চলে যায়। এরপর ইখসান ফান্দির হেড যায় পোস্টের অল্পের জন্য চলে যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে। ঠায় দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষক মিতুল মারমার।
২৮তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। চোট পেয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার কাজী তারিক রায়হান। যদিও চিকিৎসা শেষে খানিক বাদেই তিনি আবার মাঠে ফিরলে কিছুটা স্বস্তি ফেরে স্বাগতিক শিবিরে। ৩০তম মিনিটে ফান্দির শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রক্ষা করে ত্রাতা হন মিতুল। ঝাপিয়ে আটকান ফান্দির প্রচেষ্টা।
এরপর বাংলাদেশের আক্রমণে কিছুটা ছন্দ আসে। শোমিতের ডিফেন্স চেরা পাসে দারুণ গতিতে দৌড় দেন রাকিব, তবে বলের নাগাল আর পাননি। ৩৫তম মিনিটে হামজার নেওয়া ফ্রি-কিক অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। পাঁচ মিনিটে বাদে সেরা সুযোগটা পায় বাংলাদেশ। বাম দিক দিয়ে উঠে আসা ফাহামিদুল খান কিছুটা দেরি করে ফেলায় শেষ পর্যন্ত দুটি ডিফেন্ডারের চাপে জোড়াল শট নিতে ব্যর্থ হন।
আরও পড়ুন
ম্যাচের কয়েক ঘন্টা আগে থেকেই উৎসবের আমেজে বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর লড়াই |
![]() |
ম্যাচের ৪৫তম মিনিটে জাতীয় স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে লিড নেয় সিঙ্গাপুর। হ্যারিসের শট বাংলাদেশের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে উঁচুতে গেলে গোলরক্ষক মিতুল এগিয়ে গিয়ে ফিস্ট করলেও পারেননি বিপদমুক্ত করতে। বল চলে যায় হ্যারিস স্টুয়ার্টের কাছে। তার ক্রস থেকে সাইড ভলিতে গোল করেন উই-ইয়াং। হামজার আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও বল গোললাইন পার করে ফেলে।
পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর আগে ফের খায় ধাক্কা। ৫৮তম মিনিটে সিঙ্গাপুর ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলে। হামি শাহিনের জোড়াল শট মিতুল ফিস্ট করলেও বল চলে যায় ফান্দির কাছে। তার শট মোহাম্মদ হৃদয়ের পায়ের ফাঁক দিয়ে চলে যায় জালে।
এরপরই ফাহমিদুলকে তুলে নামানো হয় ফয়সাল আহমেদ ফাহিমকে। ম্যাচে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হামজা ৬৭তম মিনিটে আবারো দেখান ঝলক। তার থ্রু পাস ধরে রাকিব শট নেন, সেটা সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষকের গায়ে লেগে গতি হারালেও শেষ পর্যন্ত গোললাইন পেরিয়ে যায়।
গোল করে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে বাংলাদেশ, প্রাণ ফিরে আসে গ্যালারিতেও। ৭৭তম মিনিটে হামজার ফ্রি কিক কর্নার সিঙ্গাপুরের প্রতিরোধে আটকে যায়।
৭৯তম মিনিটে ইমনের শট সহজেই সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষকের কাছে গিয়ে যায়। এরপর ৮২তম মিনিটের পর থেকে বাংলাদেশ মরিয়া হয়ে চাপ বাড়ায়। তবে চারটি কর্নার পেলেও গোলের জন্য তা যথেষ্ট আর হয়নি।
ইনজুরি টাইমে রাকিবের ক্রস থেকে সিঙ্গাপুরের এক ডিফেন্ডারের হেড চলে যায় ফাহিমের কাছে। তবে তার ভলি ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর হামজার শটও বাইরে দিয়ে যায়। আর শেষ সময়ে মোরসালিনের ক্রস থেকে তারিকের হেড গোলরক্ষকের হাতে লেগে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। লড়াই করেও হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।
গত তিন মৌসুম ধরে অবিশ্বাস্য উত্থানের গল্পে এবার নতুন অধ্যায় যোগ করল রেক্সহ্যাম এএফসি। দীর্ঘ ৪৩ বছর পর তারা জয়ের স্বাদ পেল ইংলিশ ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়নশিপে।
চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের ম্যাচে শনিবার মিলওয়াল এফসির বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় পায় রেক্সহ্যাম। প্রতিপক্ষের মাঠে দলকে জেতানো গোল দুটি করেন কিফার মুর ও লুইস ও'ব্রায়েন।
আরও পড়ুন
দুই মিনিটে দুই গোল করে শীর্ষে রিয়াল |
![]() |
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পরের ধাপ ইংলিশ ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়নশিপে এই ক্লাবের সবশেষ জয়টি ছিল ১৯৮১-৮২ মৌসুমের শেষ দিনে রদ্যারহ্যাম ইউনাইটেডের বিপক্ষে। মাঝে চ্যাম্পিয়নশিপে আর কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি তারা।
চলতি মৌসুম দিয়ে দীর্ঘদিন পর আবার চ্যাম্পিয়নশিপে ফিরেছে রেক্সহ্যাম। এখানেও প্রথম তিন ম্যাচে জয়হীন ছিল তারা। প্রথম তিন ম্যাচে একটি ড্র করেছিল, হেরেছিল বাকি দুটি। এবার চতুর্থ ম্যাচে এসে পেয়েছে প্রথম জয়।
১৮৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত রেক্সহ্যাম এএফসি ওয়েলসের সবচেয়ে পুরোনো ক্লাব। একইসঙ্গে বিশ্বের তৃতীয় প্রাচীনতম পেশাদার অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল ক্লাবও তারা।
রেকর্ড ২৩ বার ওয়েলস কাপ জিতেছে ক্লাবটি। তবে এর সবশেষ ট্রফিটি ১৯৯৫ সালে। এরপর ধীরে ধীরে তারা নেমে যায় ফুটবলের পঞ্চম স্তরে।
আরও পড়ুন
শেষ মুহূর্তে চেলসি ফরোয়ার্ডকে ছিনিয়ে নিল মিলান |
![]() |
এরপর নতুন মালিকানা আসার পর অভাবনীয় উন্নতির কীর্তি গড়ে একে একে পঞ্চম থেকে চতুর্থ, চতুর্থ থেকে তৃতীয় এবং এবার দ্বিতীয় স্তরে জায়গা করে নেয় তারা। ইংলিশ ফুটবল লিগের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা তিন মৌসুমে প্রমোশনের রেকর্ড গড়ে তারা।
এবার তাদের লক্ষ্য চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে প্রিমিয়ার লিগে জায়গা করে নেওয়া। প্রথম চার ম্যাচে অবশ্য অবস্থা সুবিধার নয়। চার ম্যাচে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে ২৪ দলের মধ্যে ১৫ নম্বরে আছে রেক্সহ্যাম। তবে সামনের দিনগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে পারলেই হতে পারে তাদের স্বপ্নপূরণ।
সপ্তম মিনিটে প্রথম গোল করলেন হোয়াও নেভেস। সেই যে শুরু, একের পর এক গোলের দেখা মিলল ম্যাচে। দুই দলের গোল উৎসবের ম্যাচে শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে জিতল পিএসজি।
লিগ ওয়ানের ম্যাচে শনিবার রাতে তুলুজের মাঠে খেলতে গিয়ে ৬-৩ গোলের জয় নিয়ে ফেরে পিএসজি। দলের বড় জয়ে দর্শনীয় তিন গোলে হ্যাটট্রিক করেন নেভেস। দুবার বল জালে জড়ান ওসুমানে দেম্বেলে। অন্য গোলটি করেন ব্র্যাডলি বার্কোলা।
আরও পড়ুন
দুই মিনিটে দুই গোল করে শীর্ষে রিয়াল |
![]() |
তিন ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। সমান ম্যাচে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পাওয়া তুলুজ ৬ পয়েন্ট নিয়ে আছে ছয় নম্বরে।
ম্যাচের শুরুতেই দারুণ এক বাইসাইকেল কিকে গোল করে পিএসজিকে এগিয়ে দেন নেভেস। এর দুই মিনিট পর বার্কোলার গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে পিএসজি।
১৪ মিনিটের সময় আবার নেভেসের বাইসাইকেল কিক। কর্নার থেকে আসা বল ডি-বক্সের ভেতর থেকে চমৎকার বাইসাইকেলে কিকে জাল খুঁজে নেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার।
৩১ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি পায় পিএসজি। স্পট কিক থেকে দেম্বেলে অনায়াসেই গোল করলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফরাসি জায়ান্ট ক্লাবটি।
এর ৬ মিনিট পর একটি গোল শোধ করে তুলুজ। স্কোরশিটে নাম তোলেন চার্লি ক্রিসওয়েল।
প্রথমার্ধে পাঁচ গোল হয়ে যাওয়া ম্যাচে বিরতির পর আবার পেনাল্টি পায় পিএসজি। আরও একবার স্পট কিক থেকে বল জালে জড়ান দেম্বেলে।
আরও পড়ুন
৯৭ মিনিটের পেনাল্টি গোলে ইউনাইটেডের প্রথম জয় |
![]() |
পরে ৭৮ মিনিটের সময় ডি-বক্সের বাইরে থেকে দারুণ শটে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন নেভেস। স্কোরলাইন তখন পিএসজি পক্ষে ৬-১!
শেষ দিকে তুলুজের হয়ে একটি করে গোল দেন ইয়ান বোহো এবং অ্যালেক্সিস ভোসা। তাতে পরাজয়ের ব্যবধান কমে কিছুটা।
শুরুতে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে ঘুরে দাঁড়াতে সময় নিল না তারা। পরপর দুই মিনিটে দুই গোল করে ম্যাচে নিজেদের দাপট দেখাল জায়ান্ট ক্লাবটি। দারুণ জয়ে তারা উঠে গেল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে।
ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে শনিবার রাতের ম্যাচে মায়োর্কাকে ২-১ গোলে হারায় রিয়াল। দলের হয়ে গোল দুটি করেন আর্দা গুলের ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
স্প্যানিশ লা লিগার তিন ম্যাচে রিয়ালের এটি তৃতীয় জয়। পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে লিগের সর্বোচ্চ শিরোপাধারীরা। সমান ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে ১৮ নম্বরে মায়োর্কা।
নিজেদের মাঠে দাপট দেখিয়েই খেলে রিয়াল। প্রায় ৫৮ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখে তারা। গোলের জন্য ১৭টি শট নিয়ে ৭টি লক্ষ্যে রাখে রিয়াল। বিপরীতে ৯টি শট করে ৫টি লক্ষ্য বরাবর রাখতে পারে সফরকারী মায়োর্কা।
গুলের ও ভিনিসিয়ুসের দুই গোলের বাইরেও আরও তিনবার বল জালে পাঠায় রিয়াল। কিন্তু অফসাইড ও হ্যান্ডবলের কারণে সেগুলোয় গোল পায়নি তারা।
ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে অফসাইডে বাতিল হয় কিলিয়ান এমবাপের গোল। এরপর ১৮তম মিনিটে রিয়ালকে স্তব্ধ করে মায়োর্কাকে লিড এনে দেন ভেদাত মুরিকি।
সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে পড়ে রিয়াল। একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে তারা। অবশেষে ম্যাচের ৩৭ মিনিটে পায় কাঙ্খিত গোল। আলভারো কারেরাসের ক্রসে দূরের পোস্টে হেড পাস দেন ডিন হাউসেন। পরে হেড দিয়েই বল জালে পাঠান গুলের।
পরের মিনিটে আবার গোলের উল্লাস। ফেদে ভালভার্দের পাস ধরে সামনে এগিয়ে বাম পায়ের চমৎকার শটে দলকে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস।
ম্যাচে লিড নেওয়ার পর ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যায় রিয়াল। কিন্তু আরও একবার অফসাইডের ফাঁদে পড়েন এমবাপে। আর হ্যান্ডবলের কারণে বাতিল হয় গুলেরের গোল। এরপর আর গোলের দেখা পায়নি কোনো দল।
একের পর এক হতাশাজনক পারফরম্যান্সে ডুবতে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য যেন স্বস্তির সুবাতাস হয়ে এলো বার্নলি। প্রথমে আত্মঘাতী গোল আর পরে পেনাল্টি উপহার দিয়ে ইউনাইটেডকে প্রথম জয় পাইয়ে দিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নবাগত ক্লাবটি।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে শনিবার রাতের ম্যাচে বার্নলিকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ইউনাইটেড। এর মধ্যে দুটি গোলই তারা পেয়েছে বার্নলির কাছ থেকে উপহারের মতো। শেষের জয়সূচক গোলটি আবার ম্যাচের ৯৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে পাওয়া আত্মঘাতী গোলে প্রথমে লিড নেয় ইউনাইটেড। পরে দ্বিতীয়ার্ধে বার্নলি সমতা ফেরালে আবার এগিয়ে যায় তারা। এরপর আবার সমতা আনে বার্নলি। সেই গোল শোধ করতে অপেক্ষা করতে হয় ৯৭ মিনিট পর্যন্ত। ব্রুনো ফার্নান্দেসের পেনাল্টিতে নিশ্চিত হয় জয়।
আরও পড়ুন
‘বাংলাদেশ তিন বিভাগেই পরাস্ত করেছে আমাদের’ |
![]() |
লিগের তিন ম্যাচে এটিই ইউনাইটেডের প্রথম জয়। আসরের প্রথম ম্যাচে আর্সেনালের কাছে হেরেছিল তারা। পরের ম্যাচে ফুলহ্যাম ইউনাইটেডের সঙ্গে করেছিল ড্র।
বার্নলির বিপক্ষে পুরো ম্যাচে দাপট দেখিয়েই খেলে ইউনাইটেড। প্রায় ৬২ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে গোলের জন্য ২৬টি শট করে তারা। এর মধ্যে ৬টি থাকে লক্ষ্য বরাবর। এর বিপরীতে গোলের জন্য মাত্র ৬টি শট করতে পারে বার্নলি।
শুরু থেকেই গোলের জন্য একের পর আক্রমণ করে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। কিন্তু গোলের দেখা পাচ্ছিল না। পরে ভাগ্যের ছোঁয়ায় মেলে প্রথম গোল।
২৭ মিনিটে ব্রুনোর ফ্রি কিকে জোরাল হেড করেন কাসেমিরো। কিন্তু ক্রসবারে লাগে বল। তবে ফিরতি বার্নলির ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার জস কালেনের গায়ে লেগে ঢুকে যায় জালে। গোলের উল্লাসে মাতে ইউনাইটেড।
আরও পড়ুন
দাপুটে জয়ে বড় প্রাপ্তি সাইফের প্রত্যাবর্তন |
![]() |
প্রথমার্ধে মেলেনি আর গোলের দেখা। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৫৫ মিনিটের সময় লাইল ফস্টারের গোলে ম্যাচ ১-১ সমতায় ফেরায় বার্নলি। এর দুই মিনিট পরই ব্রায়ান এমবুমোর গোলে আবার এগিয়ে যায় রুবেন আমোরির শিষ্যরা।
লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি তারা। ৬৬ মিনিটে স্কোরলাইন ২-২ করেন বার্নলির ইংলিশ ফরোয়ার্ড জেইডন অ্যান্থনি।
পরে অতিরিক্ত যোগ করা সময়ের শুরুতে অ্যান্থনির ফাউলেই পেনাল্টি পায় ইউনাইটেড। বেশ কিছুক্ষণ সময় নিয়ে ভিএআর দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে প্রথম জয় এনে দেন ব্রুনো।
তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত নবম স্থানে আছে ইউনাইটেড। আর সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ১২ নম্বরে বার্নলি।
সারা দেশে ফুটবল জাগিয়ে তুলতে আজ শনিবার থেকে শুরু হয়েছে ১৮ কোটি টাকার জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ। মুন্সিগঞ্জের শহীদ মীর মুগ্ধ স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিকদের মোকাবিলা করে মাদারীপুর জেলা।
তারুণ্যের উৎসবের ব্যানারে নামকরণ করা হয় জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেছেন, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের পাইপলাইন শক্ত হবে।
প্রায় চার বছর পর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ফের মাঠে গড়াল। অংশ নিচ্ছে ৬৪ জেলা দল। আটটি পটে বিভক্ত করা হয়েছে জেলাগুলোকে। পটগুলোর নামকরণ করা হয়েছে জুলাই শহীদদের নামানুসারে। তাদের প্রতি স্মরণ রেখেই নিজের বক্তব্য শুরু করেন তাবিথ।
আরও পড়ুন
তাসকিনের ৪ উইকেট, ১৩৭ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশের |
![]() |
“৫ আগস্টের পরে বাংলাদেশের একটা বড় পরিবর্তন এসেছে। তরুণ প্রজন্ম বারে বারে বলেছে আমরা পিছিয়ে থাকব না। তারই একটা লক্ষ্য নিয়ে ফুটবলকে নতুনভাবে আমরা ঢেলে সাজাতে সক্ষম হয়েছি। তারুণ্যের উৎসবের ব্যানারে বাফুফের নবনির্বাচিত কমিটির উদ্যোগ আবার আন্তঃজেলা জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে শুরু হতে যাচ্ছে।”
বাফুফের পরিকল্পনা আরও বড়। এই প্রতিযোগিতা চলার মধ্যেই মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৪ নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। সামনে ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপ করার কথাও শোনা গেছে। প্রতি জেলায় ফুটবল ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাবিথ। তাতে ঘরোয়া লিগ ও টুর্নামেন্ট শক্তিশালী হবে বলে মনে করেন তিনি।
“আমরা একদিকে নজর রাখতে চাচ্ছি না। আন্তঃজেলা ফুটবলের মাধ্যমে জেলাতেও লিগগুলো এবং ঘরোয়া লিগ শক্তিশালী হবে। এই লিগ গুলো থেকে যেন আন্তর্জাতিকভাবে কিছু না কিছু খেলোয়াড় বাইরে খেলার সুযোগ পায়। এরকম খেলা থেকে জাতীয় দলকে শক্তিশালী করার জন্য আমরা একটা স্ট্রং পাইপলাইন নিশ্চয়ই পাব।”
আরও পড়ুন
ক্রোয়েসকে ফিরিয়ে তাসকিনের ৪ উইকেট |
![]() |
এবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের সভাপতি করা হয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপিকে। নিজের স্বাগত বক্তব্যে এদিন তিনিও সুর মিলিয়েছেন বাফুফে সভাপতির সঙ্গে। বলেছেন এই টুর্নামেন্ট থেকে জাতীয় দলের পাইপলাইন আরও অনেক বেশি সমৃদ্ধ হবে।
খেলাটাকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে ব্যাপক আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবেই এবার বড় বাজেট নিয়ে মাঠে নেমেছে বাফুফে। সামনে সেটি আরও বড় আকারে করার ইচ্ছার পোষণ করে তাবিথ আউয়ালের বর্তমান কমিটি।
“যেকোনো খেলা আমরা কোয়ালিটি মেইনটেইন করার জন্য করে থাকি। সেখানে অর্থনীতি অবশ্যই একটা বড় বিষয়। যে বাজেট নিয়ে আমরা প্রথমবারের মতো শুরু করেছি, চেষ্টা করব আরও বাড়ানোর জন্য।”
আরও পড়ুন
তাসকিনের তৃতীয় শিকার কাইল ক্লেইন |
![]() |
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করেছে বাফুফে। বাজেটের ১৮ কোটি টাকার মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আলাদা আলাদাভাবে ৫ কোটি করে মোট ১০ কোটি টাকা দিচ্ছে ফুটবল ফেডারেশনকে।
মুন্সিগঞ্জের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ছাড়াও ছিলেন ফেডারেশনের একাধিক সদস্য। এছাড়া জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের সভাপতি এবং বাফুফের সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মুন্সিগঞ্জের বিপক্ষে মাঠে নামে মাদারীপুর জেলা। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে মুন্সিগঞ্জ ২-১ গোলে হারায় মাদারীপুর জেলাকে।
৮ ঘণ্টা আগে
৯ ঘণ্টা আগে
১০ ঘণ্টা আগে
১০ ঘণ্টা আগে
৫ দিন আগে
৫ দিন আগে
৫ দিন আগে
৫ দিন আগে
৬ দিন আগে
৬ দিন আগে
৬ দিন আগে
৬ দিন আগে
৮ দিন আগে
৮ দিন আগে
১০ দিন আগে