
বিরতির আগে ও পরে দুই গোল হজম করে কাজটা ভীষণ কঠিন হয়ে গেল। তবে রাকিব হোসেনের গোলে জাগল আশা। পুরো দলই যেন এরপর ফিরে পেল লড়াইয়ের বাড়তি তাগিদ। শেষ ৩০ মিনিটে নিজেদের সম্ভাব্য সেরা ফুটবল খেলল লাল-সবুজ শিবির। সুযোগও আসল, তবে গোলের দেখা আর মিলল না। তাতে উজ্জীবত পারফরম্যান্স দেখিয়েও সিঙ্গাপুরের সাথে পেরে উঠল না বাংলাদেশ।
জাতীয় স্টেডিয়ামে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মঙ্গলবার বাংলাদেশ হেরে গেছে ২-১ গোলে। ‘সি’ গ্রুপে থাকা হামজা-শামিতদের দুই ম্যাচে পয়েন্ট ১। ‘সি’ গ্রুপে দিনের অন্য ম্যাচে হংকংয়ের (৪ পয়েন্ট) কাছে ১-০ গোলে হেরেছে ভারত (১ পয়েন্ট)।
এর মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে প্রথমবার হারল বাংলাদেশ। এর আগের হারটি ছিল ২০১৫ সালে ঢাকাতেই, তবে সেটা ছিল আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। সেবারও ব্যবধান ছিল ২-১। দশ বছর পর ফের একই স্কোরলাইনে হারতে হল বাংলাদেশকে।
আরও পড়ুন
| সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ‘টার্নিং পয়েন্টের’ সন্ধানে বাংলাদেশ |
|
চলতি মাসে ভুটানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের একাদশ থেকে তিনটি পরিবর্তন এনে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দল সাজান কাবরেরা। নিয়মিত অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকে বেঞ্চে রেখে একাদশে সুযোগ দেন কানাডিয়ান লিগে খেলা মিডফিল্ডার শোমিত সোমকে, যিনি এই ম্যাচ দিয়ে লাল-সবুজ জার্সিতে অভিষিক্ত হন। এছাড়া সোহেল রানার বদলে মাঠে নামেন মোহাম্মদ হৃদয়, আর লেফট-ব্যাক পজিশনে তাজ উদ্দিনের পরিবর্তে জায়গা পান শাকিল আহাদ তপু।
ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখাতে থাকে সফরকারী সিঙ্গাপুর। নবম মিনিটে হ্যারিস স্টুয়ার্টের লং থ্রো থেকে ডিফেন্ডারদের ভুলে সুযোগ তৈরি করে দলটি। জটলার মধ্যে বল চলে যায় সন উই-ইয়াংয়ের কাছে, তবে তার শট পোস্টে বাইরে দিয়ে চলে যায়।
১৫তম মিনিটে বাংলাদেশের প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণ আসে তপুর বাম দিকের ক্রস থেকে। তবে রাকিব হোসেনের দুর্বল শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে সহজেই গোলকিপারের হাতে চলে যায়। এরপর ইখসান ফান্দির হেড যায় পোস্টের অল্পের জন্য চলে যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে। ঠায় দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষক মিতুল মারমার।
২৮তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। চোট পেয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার কাজী তারিক রায়হান। যদিও চিকিৎসা শেষে খানিক বাদেই তিনি আবার মাঠে ফিরলে কিছুটা স্বস্তি ফেরে স্বাগতিক শিবিরে। ৩০তম মিনিটে ফান্দির শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রক্ষা করে ত্রাতা হন মিতুল। ঝাপিয়ে আটকান ফান্দির প্রচেষ্টা।
এরপর বাংলাদেশের আক্রমণে কিছুটা ছন্দ আসে। শোমিতের ডিফেন্স চেরা পাসে দারুণ গতিতে দৌড় দেন রাকিব, তবে বলের নাগাল আর পাননি। ৩৫তম মিনিটে হামজার নেওয়া ফ্রি-কিক অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। পাঁচ মিনিটে বাদে সেরা সুযোগটা পায় বাংলাদেশ। বাম দিক দিয়ে উঠে আসা ফাহামিদুল খান কিছুটা দেরি করে ফেলায় শেষ পর্যন্ত দুটি ডিফেন্ডারের চাপে জোড়াল শট নিতে ব্যর্থ হন।
আরও পড়ুন
| ম্যাচের কয়েক ঘন্টা আগে থেকেই উৎসবের আমেজে বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর লড়াই |
|
ম্যাচের ৪৫তম মিনিটে জাতীয় স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে লিড নেয় সিঙ্গাপুর। হ্যারিসের শট বাংলাদেশের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে উঁচুতে গেলে গোলরক্ষক মিতুল এগিয়ে গিয়ে ফিস্ট করলেও পারেননি বিপদমুক্ত করতে। বল চলে যায় হ্যারিস স্টুয়ার্টের কাছে। তার ক্রস থেকে সাইড ভলিতে গোল করেন উই-ইয়াং। হামজার আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও বল গোললাইন পার করে ফেলে।
পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর আগে ফের খায় ধাক্কা। ৫৮তম মিনিটে সিঙ্গাপুর ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলে। হামি শাহিনের জোড়াল শট মিতুল ফিস্ট করলেও বল চলে যায় ফান্দির কাছে। তার শট মোহাম্মদ হৃদয়ের পায়ের ফাঁক দিয়ে চলে যায় জালে।
এরপরই ফাহমিদুলকে তুলে নামানো হয় ফয়সাল আহমেদ ফাহিমকে। ম্যাচে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হামজা ৬৭তম মিনিটে আবারো দেখান ঝলক। তার থ্রু পাস ধরে রাকিব শট নেন, সেটা সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষকের গায়ে লেগে গতি হারালেও শেষ পর্যন্ত গোললাইন পেরিয়ে যায়।
গোল করে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে বাংলাদেশ, প্রাণ ফিরে আসে গ্যালারিতেও। ৭৭তম মিনিটে হামজার ফ্রি কিক কর্নার সিঙ্গাপুরের প্রতিরোধে আটকে যায়।
৭৯তম মিনিটে ইমনের শট সহজেই সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষকের কাছে গিয়ে যায়। এরপর ৮২তম মিনিটের পর থেকে বাংলাদেশ মরিয়া হয়ে চাপ বাড়ায়। তবে চারটি কর্নার পেলেও গোলের জন্য তা যথেষ্ট আর হয়নি।
ইনজুরি টাইমে রাকিবের ক্রস থেকে সিঙ্গাপুরের এক ডিফেন্ডারের হেড চলে যায় ফাহিমের কাছে। তবে তার ভলি ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর হামজার শটও বাইরে দিয়ে যায়। আর শেষ সময়ে মোরসালিনের ক্রস থেকে তারিকের হেড গোলরক্ষকের হাতে লেগে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। লড়াই করেও হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।
No posts available.
১৯ মার্চ ২০২৬, ১২:২০ পিএম
১৯ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৩ এম
১৯ মার্চ ২০২৬, ১১:৩০ এম

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কট করবে না ইরান। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ জানিয়েছেন, ইরান বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে না, তবে তারা তাদের কোনো ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে যাবে না।
বুধবার ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মেহেদি তাজ বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমেরিকাকে বয়কট করব, কিন্তু বিশ্বকাপকে নয়।‘
ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনার ছায়া পড়েছে জুনে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানি খেলোয়াড়দের যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানো হলেও তাদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেখানে খেলাটা সমীচীন হবে না।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মেহেদি তাজ বলেন, ‘যখন খোদ আয়োজক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না, তখন আমাদের সেখানে যাওয়া সম্ভব নয়।‘
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ইরানকে তাদের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে হবে। ইরানের ফুটবল ফেডারেশন ইতোমধ্যেই ফিফার কাছে এই ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক দেশ মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম জানিয়েছেন, ফিফা রাজি থাকলে তারা ইরানকে আতিথেয়তা দিতে প্রস্তুত। তবে ফিফা এখন পর্যন্ত তাদের অবস্থানে অনড়। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই সব দলের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছে।
বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ইরান। বর্তমানে তুরস্কে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করছে তারা। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২৭ মার্চ নাইজেরিয়া এবং ৩১ মার্চ কোস্টারিকার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে টিম মেলির।

বুধবার রাতে
কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের শেষ ষোলোর দ্বিতীয়
লেগে ন্যাশভিল এসসিকে মোকাবিলা করে ইন্টার মায়ামি।
এই ম্যাচে গোল করে ইতিহাস
গড়েন লিওনেল মেসি। বিশ্বের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে পেশাদার ফুটবলে ৯০০ গোলের অনন্য
উচ্চতায় পা রাখলেন তিনি।
টেনেসি’র জিওডিস পার্কে
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই গোল করে ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে আলিঙ্গন
করেন মেসি। ২০২৩
সালের জুনে মায়ামিতে যোগ
দেওয়ার পর থেকে এখন
পর্যন্ত ৯২ ম্যাচে ৮১টি
গোল করেছেন ৩৮ বছর বয়সী
এই মহাতারকা। যা ক্লাবটিকে লিগস
কাপ এবং এমএলএস কাপ
জিততে সাহায্য করেছে। যদিও এই রাতে মেসির দল হারাতে
পারেনি ন্যাশভিলকে।
বার্সেলোনা,
পিএসজি এবং আর্জেন্টিনা, সবখানেই
গোলের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন ৮বারের
ব্যালন ডি’অর জয়ী।
এক নজরে দেখে নেওয়া
যাক তার এই যাত্রার
পেছনের কিছু বিশেষ পরিসংখ্যান:
শুরু
থেকেই রেকর্ড ভাঙার খেলা
২০০৫
সালের মে মাসে বার্সেলোনার
হয়ে আলবাসেতের বিপক্ষে মাত্র ১৭ বছর ১০
মাস বয়সে নিজের প্রথম
গোলটি করেন মেসি। বদলি
হিসেবে নামার মাত্র তিন মিনিটের মাথায়
গোল করে তিনি বার্সার
ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হয়েছিলেন। এরপরের গল্পটা শুধুই সাফল্যের।
বার্সেলোনা:
১৭ বছরের ক্যারিয়ারে ৭৭৮ ম্যাচে রেকর্ড
৬৭২ গোল
করেছেন ফুটবল জাদুকর।
জিতেছেন ১০টি লা লিগা
এবং ৪টি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ
অসংখ্য ট্রফি।
পিএসজি:
প্যারিসে দুই মৌসুমে নেইমার
ও এমবাপ্পের সঙ্গে খেলে ৭৫ ম্যাচে
করেছেন ৩২ গোল।
ফ্রান্সে লিগ শিরোপা জিতেছেন।
আর্জেন্টিনা:
জাতীয় দলের হয়ে ১৯৬
ম্যাচে এখন পর্যন্ত তাঁর
গোল সংখ্যা ১১৫টি। যার মধ্যে
অন্যতম প্রাপ্তি ২০২২ সালের কাতার
বিশ্বকাপ জয়। এছাড়া দেশের হয়ে কোপা আমেরিকাসহ অসংখ্য
শিরোপা জিতেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।
৯০০’র ক্লাবে আর কে কে আছেন?
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
আগেই এই মাইলফলক স্পর্শ
করেছেন। ৪১ বছর বয়সী
রোনালদো ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে
৯০০ গোলের কোটা পূর্ণ করেন।
বর্তমানে ক্লাব ও দেশ মিলিয়ে
তাঁর গোল সংখ্যা ৯৫৯।
অফিসিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী, ফুটবল ইতিহাসে কেবল এই দুজনই
৯০০ গোলের গণ্ডি পার করেছেন।
যদিও
কিংবদন্তি পেলে
দাবি করেছিলেন তিনি ১,০০০-এর বেশি গোল
করেছেন। কিন্তু আরএসএসএসএফ (সকার পরিসংখ্যান ফাউন্ডেশন)
-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী তাঁর স্বীকৃত গোল
সংখ্যা ৭৭৮। অন্যদিকে ব্রাজিলের
আরেক নায়ক রোমারিও’র
গোল সংখ্যা ৭৮৫।
২০১২
সালের সেই অবিশ্বাস্য কীর্তি
ইন্টার
মায়ামি কোচ হাভিয়ের মাশ্চেরানো
মেসিকে ‘অনন্য’ বলে অভিহিত করেছেন।
২০১২ সালে মেসি এক
বছরে রেকর্ড ৯১টি গোল করেছিলেন
(ক্লাবের হয়ে ৭৯ এবং
দেশের হয়ে ১২টি)।
এছাড়া মাত্র ১২৩ ম্যাচে চ্যাম্পিয়নস
লিগে ১০০ গোলের দ্রুততম
রেকর্ডটিও তাঁর দখলে।
মাশ্চেরানো
বলেন, ‘৯০০ গোল। এই সংখ্যাটা
অবিশ্বাস্য! লিও (মেসি) সত্যিই একজন অনন্য ফুটবলার।
মাঠের খুব কাছ থেকে
তাঁর এত সব গোল
দেখাটা আমার জন্য এক
বিশাল সৌভাগ্যের ব্যাপার।’
কোন ক্লাবের বিপক্ষে বেশি গোল মেসির
সেভিয়া- ২৫
গোল
অ্যাথলেটিক
ক্লাব- ২৪ গোল
আতলেতিকো মাদ্রিদ-
২৩ গোল
ভ্যালেন্সিয়া-
১৮ গোল
রিয়াল মাদ্রিদ-
১৭ গোল
লেভান্তে- ১৬
গোল
হেতাফে- ১৫
গোল
কোন জার্সিতে কত গোল মেসির
বার্সেলোনা-
৬৭২ গোল
আর্জেন্টিনা-
১১৫ গোল
পিএসজি- ৩২
গোল
ইন্টার মায়ামি-
৮১ গোল
যেমন ছিল
৯০০ গোল
মেসির
বাম পা মানেই যাদু!
পরিসংখ্যানেও তার প্রমাণ মিলেছে।
অপটার মতে মেসির
মোট গোলের প্রায় ৮৪ শতাংশ (৭৫৫টি
গোল) এসেছে বাম পা থেকে।
ডান পায়ে ১১১টি
গোল। হেডে করেন
৩০টি গোল। বাকি চার গোল অন্যান্য উপায়ে।
মেসি
শুধু বক্সের ভেতরেই না, বক্সের বাইরে
থেকেও গোল করতে সমান
পারদর্শী। বক্সের ভেতর থেকে
৭২৪টি গোল করেছেন। আর বক্সের বাইরে
থেকে ১৭৬টি
গোল করেন। ক্যারিয়ারের ৯০০ গোলের
১১২টি আসে পেনাল্টি থেকে আর ৭০টি ফ্রি কিক থেকে।

৩১ মার্চ ফিফা প্রীতি ম্যাচে গুয়াতেমালার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এজন্য বুধবার রাতে ২৮ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টিনা বুয়েনস আইরেসের লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচটি।
কাতারে আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ছিলেন মেসি। তাঁকে ঘিরেই বিশ্বকাপের মুকুট ধরে রাখার স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের আগে দলের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ৩৮ বছর বয়সী তারকার থাকায় অনেকটাই স্পষ্ট, তিনি থাকছেন আমেরিকা বিশ্বকাপে।
মেসির সঙ্গে দলে আছেন তাঁর ক্লাব সতীর্থ রদ্রিগো ডি পল। নিয়মিতদের মধ্যে আরও আছেন ফরোয়ার্ড জুলিয়ান আলভারেস, গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেস, মিডফিল্ডার এন্সা ফের্নান্দেস ও ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেস।
জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন এস্তুদিয়ান্তেসের ডিফেন্ডার তমাস পালাসিওস ও রেসিংয়ের ডিফেন্ডার গাব্রিয়েল রোহাস। আর গত নভেম্বরে অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে দলের ২-০ গোলে জেতা সবশেষ প্রীতি ম্যাচে অনুপস্থিত থাকা মার্কোস আকুনা দলে ফিরেছেন।
আর্জেন্টিনার ২৮ সদস্যের দল:
গোলকিপার: এমিলিয়ানো মার্তিনেস, জেরোনিমো রুলি, হুয়ান মুস্সো।
ডিফেন্ডার: নাহুয়েল মলিনা, গনসালো মনতিয়েল, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনার্দো বালের্দি, নিকোলাস ওতামেন্দি, মার্কোস সেনেসি, তমাস পালাসিওস, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, গাব্রিয়েল রোহাস, মার্কোস আকুনা।
মিডফিল্ডার: লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টার, মাক্সিমো পেরোনে, রদ্রিগো ডি পল, এনসো ফের্নান্দেস, ভালেন্তিন বার্কো, এসেকিয়েল পালাসিওস, নিকো পাস, থিয়াগো আলমাদা।
ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি, জুলিয়ানো সিমেওনে, জানলুকা প্রেস্তিয়ানি, নিকোলাস গন্সালেস, হোসে মানুয়েল লোপেস, জুলিয়ান আলভারেস।

চ্যাম্পিয়নস
লিগে এবারের মৌসুমে একবার লিগ পর্বে এবং পরেরবার শেষ ষোলোর প্রথম লেগে লিভারপুলকে হারায়
গালাতাসারাই। তুরস্কের ক্লাবটির ধাঁধার উত্তর যেন মেলাতে পারছিল না অল রেডরা। পিছিয়ে
থেকে বুধবার রাতে আরেকবার সেই গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে মাঠে নামে আর্নে স্লটের শিষ্যরা।
প্রতিশোধের মঞ্চে এবার তুরস্কের জায়ান্ট কিলারদের কাঁদিয়ে প্রতিযোগিতার শেষ আটে উঠেছে
৬বারের চ্যাম্পিয়নরা।
অ্যানফিল্ডে
বুধবার রাতে গালাতাসারাইকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে
থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিনবার প্রতিপক্ষের জাল কাঁপায় স্লটের দল। একবার করে জালের
দেখা পেয়েছেন ডোমিনিক সোবোসলাই, হুগো একিতিকে, রায়ান গ্রাভেনবার্খ ও মোহাম্মদ সালাহ।
এর
আগে গত ১০ মার্চ শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ইস্তানবুলের র্যামস পার্ক থেকে ১-০ গোলে হেরে
আসে লিভারপুল। বুধবার রাতের জয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-১ গোলে এগিয়ে থাকায় কোয়ার্টার ফাইনালে
উঠেছে অ্যানফিল্ডের ক্লাবটি। পরের রাউন্ডে তারা পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজিকে
(প্যারিস সেন্ট জার্মেই)। যাদের কাছে গেলবার শেষ ষোলোয় হেরে বিদায় নিয়েছিল লিভারপুল।
রাতটা
সালাহর জন্য হয়ে থাকলো মাইলফলকের। ম্যাচের
অন্যতম সেরা মুহূর্তটি আসে ৬২ মিনিটে সালাহর পা থেকে। বক্সের বাইরে থেকে নিজের ট্রেডমার্ক
বাকানো শটে বল জালে জড়ান তিনি। তাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৫০তম গোলের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন ৩৩ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। প্রথম
আফ্রিকান ফুটবলার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন এই মিশরীয় তারকা।
রাতের
অন্য ম্যাচে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় আতালান্তাকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। লেনার্ট
কার্ল ও লুইস দিয়াসদের একবার করে জাল কাঁপানোর রাতে জোড়া গোল করে অনন্য উচ্চতায় উঠেছেন
হ্যারি কেইন। সবচেয়ে কম ম্যাচে ৫০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার দৌড়ে কেইন এখন কিংবদন্তিদের
সারিতে। মাত্র ৬৬ ম্যাচে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি, যৌথভাবে যা লিওনেল মেসির রেকর্ডের
সমান।
অন্যদিকে,
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর এই উচ্চতায় পৌঁছাতে কেইনের চেয়ে আরও ২৫টি ম্যাচ বেশি লেগেছিল।
তবে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হলান্ড। ৪৯ ম্যাচে ৫০ গোলের
দেখা পেয়েছিলেন নরওয়েজিয়ান।
ইতালিয়ান
ক্লাব আতালান্তার বিপক্ষে দুই লেগ মিলে ১০-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রতিযোগিতার শেষ
আটে উঠেছে বায়ার্ন মিউনিখ। পরের রাউন্ডে ৬বারের চ্যাম্পিয়নরা পেয়েছে ১৫বারের চ্যাম্পিয়ন
রিয়াল মাদ্রিদকে।
একই
সময়ে আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারালেও প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখা হলো না টটেনহ্যাম হটস্পারের।
ঘরের মাঠে স্প্যানিয়ার্ডদের ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েও তাই বিদায় নিতে হলো টটেনহ্যামকে।
মোট এগ্রিগেটে ইংলিশ ক্লাবটি পিছিয়ে ছিল ৫-৭ ব্যবধানে। জাভি সিমন্স করেন জোড়া গোল।
স্পার্সের হয়ে অন্য গোলটি কোলো মুয়ানি। অতিথিদের হয়ে একবার করে জুলিয়ান আলভারেজ এবং
ডেভিড হ্যাঙ্কো জালের দেখা পেয়েছেন। শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে এবার আতলিকোকে মোকাবিলা করতে
হবে স্বদেশি ক্লাব বার্সেলোনাকে।

চ্যাম্পিয়নস
লিগের শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড থেকে উঠেছিল পাঁচটি দল। সেখান থেকে শেষ আটে উঠতে পেরেছে
কেবল লিভারপুল ও আর্সেনাল। বিদায় নিয়েছে প্রতিযোগিতার দুইবারের চ্যাম্পিয়ন চেলসি, ২০২২-২৩
মৌসুমের ট্রফিজেতা ম্যানচেস্টার সিটি এবং টটেনহ্যাম হটস্পার।
শেষ
আটে প্রথম শিরোপার খোঁজে থাকা আর্সেনাল পেয়েছে পর্তুগালের ক্লাব স্পোর্টিং লিসবনকে।
আর লিভারপুলকে মোকাবিলা করতে হবে পিএসজিকে (প্যারিস সেন্ট জার্মেই)। সবশেষ মৌসুমে ফরাসি
চ্যাম্পিয়নদের কাছে হেরেই শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছিল অল রেডরা। আর্নে স্লটের দলের
সামনে এবার প্রতিশোধের সুযোগ।
স্পেন
থেকে এই মৌসুমে শেষ আটে উঠেছে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা এবং আতলেতিকো মাদ্রিদ। প্রতিযোগিতার
সর্বোচ্চ ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা পেয়েছে বায়ার্ন মিউনিখকে। সবশেষ ২০২৩-২৪ মৌসুমে বায়ার্নকে
সেমিফাইনাল থেকে বিদায় করে দিয়েছিল লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। আর বার্সেলোনা পেয়েছে আতলেতিকো
মাদ্রিদকে।
চ্যাম্পিয়নস
লিগের শেষ চারে ওঠার লড়াই মাঠে গড়াবে আগামী ৭ এপ্রিল।
শেষ আটে কে কার মুখোমুখি:
পিএসজি
বনাম লিভারপুল
রিয়াল
মাদ্রিদ বনাম বায়ার্ন মিউনিখ
বার্সেলোনা
বনাম আতলেতিকো মাদ্রিদ
আর্সেনাল
বনাম স্পোর্টিং লিসবন