
এশিয়া কাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। প্রথমবারের মতো বড় কোনো টুর্নামেন্টে ভারতের নেতৃত্ব দেবেন সূর্যকুমার যাদব। তাঁর সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে শুবমান গিলকে। চোট থেকে সেরে না ওঠায় জায়গা হয়নি উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ঋষভ পান্তের।
দলে গিলই যেন সবচয়ে বড় চমক। আলোচনা হচ্ছিল দলে জায়গা পাবেন কি না, এ ব্যাপরে। গিল সব শেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ১ বছর পেরিয়ে গেছে। কুড়ি ওভরের সবশেষ ম্যাচ খেলেছেন গত বছরের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে। তাই এমন আলোচনা হওয়াটাও স্বাভাবিক ছিল।
ভারতের দলে অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের দারুণ মিশ্রণ। সূর্যকুমার, হার্দিক পান্ডিয়া, অক্ষর প্যাটেল, কুলদীপ যাদব, জসপ্রিত বুমরাহর মতো অভিজ্ঞ তারকা ক্রিকেটাররা রয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার বেশি দিনের না হলেও তিলক বর্মা, রিঙ্কু সিং, জিতেশ শর্মা , অভিষেক শর্মার মতো কার্যকর ব্যাটাররা রয়েছেন দলে।
আরও পড়ুন
| শেফালিকে ছাড়াই ভারতের বিশ্বকাপ দল |
|
আছেন নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ডার পান্ডিয়া ও শিবম দুবে। স্পিন বিভাগে দারুণ বৈচিত্র্য- কুলদীপ, অক্ষর ও বরুণ চক্রবর্তীর। পেস আক্রমণে নেতৃত্ব দেবেন বুমরাহ। তাঁর সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন আর্শদীপ সিং ও তরুণ পেসার হর্ষিত রানা। উইকেটরক্ষক হিসেবে দলে আছেন জিতেশ শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন।
রিজার্ভ বেঞ্চে আছেন প্রসিধ কৃষ্ণ, ওয়াশিংটন সুন্দর, রিয়ান পরাগ, ধ্রুব জুরেল ও যশস্বী জয়সওয়াল।
ভারতের এশিয়া কাপের দল:
সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), শুবমান গিল (সহ-অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, তিলক বর্মা, হার্দিক পান্ডিয়া, শিবম দুবে, অক্ষর প্যাটেল, জিতেশ শর্মা (উইকেটরক্ষক), জসপ্রিত বুমরাহ, আর্শদীপ সিং, বরুণ চক্রবর্তী, কুলদীপ যাদব, সঞ্জু স্যামসন (উইকেটরক্ষক), হর্ষিত রানা, রিঙ্কু সিং।
রিজার্ভ খেলোয়াড়: প্রসিধ কৃষ্ণ, ওয়াশিংটন সুন্দর, রিয়ান পরাগ, ধ্রুব জুরেল, যশস্বী জয়সওয়াল।
No posts available.
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৫৬ পিএম
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:০২ পিএম

বিপিএলে মোহাম্মদ নবি নতুন নয়। বিপিএল 'টু' থেকে নিয়মিত। এবারের অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে বিপিএলের ৯টি সংস্করনে খেলা হয়ে গেছে তার। তবে বিপিএলে ছেলে হাসান ঈসাখিলের অভিষেক হয়েছে রোববার, সিলেটে, ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে খেলার মধ্য দিয়ে।
টসে'র পর ১৯ বছর বয়সী ছেলে হাসান ঈসাখিলের মাথায় নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ক্যাপটা যখন পরিয়ে দিলেন ৪১ বছর বয়সী বাবা মোহাম্মদ নবি, তখন কে জানতো বাবা-ছেলে হবেন ব্যাটিং পার্টনার, দ্রুততম ফিফটি পার্টনারশিপে রাখবেন তাঁরা দুজন অবদান! বাবা-ছেলের পারফরমেন্সে জয় উদযাপন করবে তাদের দল নোয়াখালী এক্সপ্রেস, এটাও দেখলো সিলেটের দর্শক।
বিপিএলে অলরাউন্ড পারফরমেন্সের সুবাদে নেয়াখালী এক্সপ্রেসে সুযোগ পাওয়া মোহাম্মদ নবি-কে এদিন ছাড়িয়ে গেছে ছেলে হাসান ঈসাখিল।
১৩ মাস আগে নেপাল প্রিমিয়ার লিগে (এনপিএল) অভিষেকে ফিফটি (৫২ বলে ৬৫) উদযাপন করেছেন হাসান ঈসাখিল। সেই ইনিংস থেকে টনিক নিয়ে, বাবার পরিয়ে দেয়া ক্যাপের মর্যাদা দিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এই তরুণ। ৩৫ বলে ৭ চার, ২ ছক্কায় ফিফটি উদযাপন করে বিপিএলে অভিষেকে নিজের ইনিংসটাকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করার সমূহ সম্ভাবনাও ছিল তাঁর। বাবার সঙ্গে ৪র্থ উইকেট জুটিতে ২৯ বলে ৫২ রানে নেতৃত্ব দিয়েছেন ছেলে। ১৭তম ওভারে আফগান পেসার জিয়াউর রহমানকে যেভাবে লং অফের উপর দিয়ে পর পর ২টি ছক্কা মেরেছেন, তাতে হাসান ঈসাখিলের সেঞ্চুরির দিকেই তাকিয়ে ছিল দর্শক। তবে ১৮তম ওভারে আবদুল্লাহ আল মামুনের ফুলটসে থার্ডম্যানে নবি ক্যাচ দিলে (১৩ বলে ২ বাউন্ডারিতে ১৭) বাবার শোকে কাতর ঈসাখিল পরের ওভারে সাইফুদ্দিনের বলে স্ল্যশ করতে যেয়ে ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে থেমেছেন (৬০ বলে ৭ চার,৫ ছক্কায় ১৫৩.৩৩ স্ট্রাইক রেটে ৯২)।
বাবা-ছেলের ব্যাটিংয়ে নোয়াখালীর স্কোর উঠেছে ১৮৪/৪। যে স্কোরে ঈসাখিলের ওপেনিং পার্টনার সৌম্য সরকারের ২৫ বলে ৭ চার, ১ ছক্বায় ৪৮, ওপেনিং পার্টনারশিপে ৫৬ বলে ১০১ রানও উল্লেখ করার মতো।
বাংলাদেশের মাটিতে অফ স্পিনে ভেল্কি দেখাতে পারদর্শী মোহাম্মদ নবির বোলিংটাও (৪-০-২৩-২) ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ৪১ রানের জয়ে রেখেছে বিশেষ অবদান। ২৪টি ডেলিভারির মধ্যে ১২টি দিয়েছেন ডট। ম্যাচে লড়াই চালিয়ে যাওয়া ঢাকা ক্যাপিটালস অধিনায়ক মিঠুনকে (৩১ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৩৩) শর্ট মিড অফ পজিশনে নবি যে রিটার্ন ক্যাচটি নিয়েছেন, তা সত্যিই অসাধারন। শামীম পাটোয়ারীর ব্যাটটা যখন চওড়া হতে শুরু করেছে (১৬ বলে ৪ চার, ১ ছক্কায় ২৯) তখন তাকে লং অফে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন নবি।
এমন এক ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১৪৩ রানে অল আউটে পার্শ্ব চরিত্র ছিলেন পেস বোলার হাসান মাহমুদ (৩.২-০-২১-২) এবং মেহেদী হাসান রানা ( ৪-০-২৫-২)।
যে দলটি টানা ৬ ম্যাচ হারের বৃত্তে ছিল, সেই নোয়াখালী উপযুপরি দ্বিতীয় জয়ে পয়েন্ট তালিকার তলানী থেকে উপরে ওঠার ভরসা পাচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ক্রিকেটে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্ত বার্তা দিচ্ছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। টানা ছয় ম্যাচ হারের পর এবার তারা পেয়েছে পরপর দুই জয়। ঢাকা ক্যাপিটালসকে বড় ব্যবধানেই উড়িয়ে দিয়েছে নবাগত দলটি।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকার বিপক্ষে নোয়াখালীর জয় ৪১ রানে। আগে ব্যাট করে ১৮৪ রানের বড় পুঁজি পায় নোয়াখালী। জবাবে ৮ বল বাকি থাকতেই ১৪৩ রানে গুটিয়ে যায় ঢাকা।
আট ম্যাচে নোয়াখালীর এটি দ্বিতীয় জয়। অনেক জটিল সমীকরণে মারপ্যাঁচে এখনও টিকে আছে তাদের প্লে-অফ খেলার সম্ভাবনা। বিপরীতে সাত ম্যাচে ঢাকারও জয় দুটি।
ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে সৌম্য সরকারের সঙ্গে ১০১ রানের জুটি গড়েন হাসান ইসাখিল। মাত্র ২৫ বলে ৪৮ রানের ইনিংস খেলে আউট হন সৌম্য। এরপর শাহাদাত হোসেন দীপু ও হাবিবুর রহমান সোহান তেমন কিছুই করতে পারেননি।
১৩তম ওভারে নবী ক্রিজে গেলে জুটি বাধেন আফগান বাবা-ছেলে মোহাম্মদ নবী ও ইসাখিল। ঢাকার বোলারদের তুলোধুনো করে দুজন মিলে দ্রুত বাড়াতে থাকেন দলের সংগ্রহ। তবে ১৮তম ওভারের শেষ বলে ছেলেকে ক্রিজে রেখে আউট হয়ে যান ১৩ বলে ১৭ রান করা নবী।
ইসাখিলও পরের ওভারে ধরেন ড্রেসিং রুমের পথ। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন ১৯ বছর বয়সী উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। ৭ চার ও ৫ ছক্কায় তার ব্যাট থেকে আসে ৬০ বলে ৯২ রানের ইনিংস।
তরুণ ব্যাটারের ৩১ ম্যাচের স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটিই সেরা ইনিংস। নোয়াখালীর পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাইফউদ্দিন ও তাইজুল ইসলাম।
পরে রান তাড়ায় শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ঢাকা। পাঁচ ওভারের মধ্যে আউট হয়ে যান রহমানউল্লাহ গুরবাজ (১১), আব্দুল্লাহ আল মামুন (২), সাইফ হাসান (০) ও নাসির হোসেন (০)।
ব্যর্থতার ধারায় চলতি বিপিএলে এখন পর্যন্ত ৬ ইনিংসে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক সাইফের সংগ্রহ মাত্র ৪৮ রান।
পরে প্রতিরোধ গড়েন মোহাম্মদ মিঠুন, শামীম হোসেনরা। কিন্তু একবারও মনে হয়নি জিততে পারে ঢাকা। মিঠুন ৩৩ ও শামীম ২৯ রান করে আউট হন।
শেষ দিকে ঝড় তোলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ৪ চার ও ২ ছক্কায় তিনি খেলেন ২০ বলে ৩৪ রানের ইনিংস। তবে এটি পরাজয়ের ব্যবধান কমানো ছাড়া কোনো কাজে আসেনি।
নোয়াখালীর পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন হাসান মাহমুদ, ইহসানউল্লাহ, মোহাম্মদ নবী ও মেহেদী হাসান রানা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ২০ ওভারে ১৮৪/৭ (ইসাখিল ৯২, সৌম্য ৪৮, দীপু ৩, সোহান ৪, নবী ১৭, হায়দার ০, জাকের ৮, হাসান ০*, রানা ৪*; ইমাদ ৪-০-৩৬-০, সাইফউদ্দিন ৩-০-২৩-২, জিয়াউর ৩-০-৪৬-০, নাসির ৩-০-২৪-০, তাইজুল ৪-০-২-২, মামুন ৩-০-২৪-২)
ঢাকা ক্যাপিটালস: ১৮.২ ওভারে ১৪৩ (গুরবাজ ১১, মামুন ২, নাসির ০, সাইফ ০, মিঠুন ৩৩, শামীম ২৯, সাব্বির ১৩, ইমাদ ৩, সাইফউদ্দিন ৩৪, তাইজুল ১, জিয়াউর ৪*; হাসান ৩-২-০-২১-২, ইহসানউল্লাহ ৪-০-৩২-২, রানা ৪-০-২৫-২, নবী ৪-০-২৩-২, রাহি ৩-০-৩৫-১)
ফল: নোয়াখালী এক্সপ্রেস ৪১ রানে জয়ী

বিপিএল অভিষেকে বাবা মোহাম্মদ নবীর সামনেই ঝড় তুললেন ছেলে হাসান ইসাখিল। বাবা-ছেলে একসঙ্গে মিলে গড়লেন এক বিধ্বংসী জুটিও। যার সৌজন্যে বড় পুঁজি পেল নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার সন্ধ্যার ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৭ উইকেটে ১৮৪ রান করেছে নোয়াখালী। দলের ঠিক অর্ধেক বল অর্থাৎ ৬০ বল মোকাবিলা করে রানেরও অর্ধেক ৯২ রান করেছেন ইসাখিল।
বিপিএলে এটিই ইসাখিলের প্রথম ম্যাচ। এই ম্যাচ দিয়েই টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবার একই দলে খেললেন নবী-ইসাখিলের বাবা-ছেলে জুটি। আর দুজন মিলে চতুর্থ উইকেটে মাত্র ৩০ বলে গড়েন ৫৩ রানের জুটি।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে সৌম্য সরকারের সঙ্গে ১০১ রানের জুটি গড়েন ইসাখিল। মাত্র ২৫ বলে ৪৮ রানের ইনিংস খেলে আউট হন সৌম্য। এরপর শাহাদাত হোসেন দীপু ও হাবিবুর রহমান সোহান তেমন কিছুই করতে পারেননি।
১৩তম ওভারে নবী ক্রিজে গেলে জুটি বাধেন আফগান বাবা-ছেলে। ঢাকার বোলারদের তুলোধুনো করে দুজন মিলে দ্রুত বাড়াতে থাকেন দলের সংগ্রহ। পরে ১৮তম ওভারের শেষ বলে ছেলেকে ক্রিজে রেখে আউট হয়ে যান ১৩ বলে ১৭ রান করা নবী।
ইসাখিলও পরের ওভারে ধরেন ড্রেসিং রুমের পথ। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন ১৯ বছর বয়সী উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। ৭ চার ও ৫ ছক্কায় তার ব্যাট থেকে আসে ৬০ বলে ৯২ রানের ইনিংস।
তরুণ ব্যাটারের ৩১ ম্যাচের স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটিই সেরা ইনিংস।
নোয়াখালীর পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাইফউদ্দিন ও তাইজুল ইসলাম।

গত ৪ বছরে ভিন্ন দলের হয়ে বেশ কয়েকবার একই ম্যাচে খেলেছেন মোহাম্মদ নবী ও হাসান ইসাখিল। এই প্রথম একই দলে টি-টোয়েন্টি খেলতে নামবেন আফগানিস্তানের এই বাবা-ছেলে জুটি। নোয়াখালী এক্সপ্রেস একাদশে আছেন তারা দুজন।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার সন্ধ্যার ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে টস জিতে আগে ব্যাটিং নিয়েছে নোয়াখালী। দলের হয়ে এই ম্যাচ দিয়েই অভিষেক হচ্ছে মোহাম্মদ নবীর ছেলে উইকেটরক্ষক ব্যাটার ইসাখিলের।
আফফগানিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে এর আগে ছয়টি ম্যাচে ভিন্ন দুই দলের হয়ে খেলেছেন নবী ও ইসাখিল। এবার বিপিএলের সৌজন্যেই প্রথমবার একই দলের হয়ে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে বাবা-ছেলের।
রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদ পাওয়া একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছে নোয়াখালী। বাদ পড়েছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, বিলাল সামি, জহির খান। তাদের জায়গায় এসেছেন হাসান ইসাখিল, আবু জায়েদ চৌধুরি রাহি ও ইহসানউল্লাহ।
ঢাকার একাদশে পরিবর্তন শুধু একটি। অভিজ্ঞ পেসার তাসকিনের আহমেদের জায়গায় তারা নিয়েছে অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামকে।
ঢাকা ক্যাপিটালস একাদশ
রহমানউল্লাহ গুরবাজ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাইফ হাসান, সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ মিঠুন, নাসির হোসেন, শামীম হোসেন, ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তাইজুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান শরিফি
নোয়াখালী এক্সপ্রেস একাদশ
হাবিবুর রহমান সোহান, হায়দার আলি, মেহেদি হাসান রানা, মোহাম্মদ নবী, হাসান ইসাখিল, হাসান মাহমুদ, ইহসানউল্লাহ, শাহাদাত হোসেন দিপু, সৌম্য সরকার, জাকের আলি অনিক, আবু জায়েদ চৌধুরি রাহি

রংপুর রাইডার্সের ১৭৮/৪ তাড়া করে জেতার চ্যালেঞ্জটা সহজ হওয়ার কথা নয়। মোস্তাফিজ, নাহিদ রানা, খুশদিল শাহ, আকিফ জাভেদ, আলিস আল ইসলামরা আছেন যে দলে, সেই রংপুর রাইডার্সের পক্ষেই বাজি ধরবে অধিকাংশ বাজিকর। অথচ, ১৭৯ রানের টার্গেটটা অনায়াসে পাড়ি দিয়েছে রাজশাহী ওরিয়র্স।৫ বল হাতে রেখে রাজশাহী ওরিয়র্স ৭ উইকেটে জিতে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সঙ্গে যৌথভাবে পয়েন্ট তালিকায় ( ৭ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট) শীর্ষে উঠে এসেছে।
কীভাবে এতো সহজে জয় পেল রাজশাহী ? এ প্রশ্নের উত্তরে প্রথমেই কৃতিত্ব দিতে হবে রাজশাহী ওরিয়র্সের দ্বিতীয় উইকেট জুটিকে। নাজমুল হোসেন শান্ত-মোহাম্মদ ওয়াসিমের ৮২ বলে ১৪২ রানের বড়সড় এই পার্টনারশিপ দুদলের মধ্যে ব্যবধান তৈরি করেছে সন্দেহ নেই। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে উড়িয়ে আনা মোহাম্মদ ওয়াসিমের চওড়া ব্যাটে ৫৯ বলে ৭ চার ৫ ছক্কায় ৮৭ রানের হার না মানা ইনিংসের পাশে শান্ত'র ৪২ বলে ৬ চার, ৪ ছক্কায় ৭২ রানের ইনিংস রংপুর রাইডার্সের বোলিং এলোমেলো করে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
সুক্ষ্ণ চোখে ব্যবধান তৈরি করেছে আরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে। পুরো ইনিংসে রংপুর রাইডার্স যেখানে ৪২টি বল ডট করেছে, সেখানে রাজশাহী ওরিয়র্স করেছে ৩১টি ডট। ছক্কার সংখ্যায়ও তৈরি হয়েছে ব্যবধান। রংপুর রাইডার্স ব্যাটারদের ছক্কার সমষ্টি যেখানে ৯টি, সেখানে রাজশাহী ওরিয়র্সের ১৩টি! ইনিংসের দ্বিতীয় পাওয়ার প্লে'র ৯ ওভারেও (৭ম থেকে ১৫তম) ব্যবধান স্পষ্ঠ। রংপুর রাইডার্স এই পর্বে উইকেট বাঁচিয়ে ব্যাট করেছে ধীরগতিতে, যোগ করেছে ৫০ রান। সেখানে দ্বিতীয় পাওয়ার প্লে-তে ব্যাটটা একটু বেশি চওড়া করেছে রাজশাহী ওরিয়র্স ব্যাটাররা। যে পর্বে ১ উইকেট হারিয়ে ৮৪ রান যোগ করেছে রাজশাহী ওরিয়র্স। শেষ পাওয়ার প্লে-তে তাই বেশি চাপ নিয়ে হয়নি রাজশাহীকে। ৩০ বলে ৩৪ রানের মামুলি টার্গেট অনায়াসে পার করেছে রাজশাহী।
দর্শকের পয়সা উশুল হওয়া এই ম্যাচে ম্লান হয়েছে তাওহিদ হৃদয়ের হৃদয় জুড়ানো ব্যাটিং। সেঞ্চুরির মাত্র ৩ রান দূরে থেকে থেমেছেন তিনি। তবে ৫৬ বলে ৮ চার, ৬ ছক্কায় শোভিত ৯৭ রানের হার না মানা ইনিংসটা সত্যিই আক্ষেপে ভোগাবে হৃদয়কে। চতুর্থ উইকেট জুটিতে খুশদিল শাহ-কে নিয়ে ৫১ বলে ১০৫ রানের পার্টনারশিপটাও বিফলে যাওয়ার কষ্টটা পেতে হচ্ছে হৃদয়কে।
এই ম্যাচে ডেথ ওভারে রিপন মন্ডলকে পাড়া মহল্লা মানে নামিয়ে এনেছিলেন হৃদয়-খুশদিল শাহ। ১৯তম ওভারে হৃদয়-খুশদিল শাহ ২টি করে ছক্কা মেরেছেন ডেথ ওভারের বিপজ্জনক এই পেস বোলারদের। ওই ওভারে ২৮ রান খরচা করে মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল রিপন মন্ডলের। তবে দলের জয়ে সেই রিপনের মুখেই ফুটে উঠেছে হাসি। এই ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের পেসার জেমস নিশামকে (৩-০-২৭-১) অন্তর্ভুক্ত করার সুফলও পেয়েছে রাজশাহী ওরিয়র্স। নেপালের লেগ স্পিনার স্বন্দ্বীপ লামিচানের মিতব্যয়ী বোলিং (৪-০-২১-১)ও রংপুরের স্কোরকে স্ফীত করতে দেয়নি।