
পুরো ক্যারিয়ার জুড়েই সুযোগ পেলেই বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। অবসরের পরও বিরেন্দর শেবাগ বজায় রাখছেন একই ধারা। বাংলাদেশ ও ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচের পর যথারীতি সমালোচনায় বিদ্ধ করেছেন শান্ত-মুশফিকদের। রান তাড়ায় কিছুটা চাপে পড়ে ভারত ম্যাচটা জিতলেও সাবেক এই ওপেনার দাবি করেছেন, সহজেই ম্যাচটা জিতে গেছে ভারত এবং জয় নিয়ে তার কোনো চিন্তাই হয়নি।
আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ দাঁড় করায় ২২৮ রানের স্কোর। রানটা খুব বড় না হলেই দুবাইয়ের উইকেটে এই রানও চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। ভারতের শুরুটা তাই ভালো হলেও শেষ বিশ ওভারে ৬ উইকেট হাতে নিয়ে দরকার ছিল ৮৫ রান। সেই সময়ে একটি উইকেট গেলেই জমে যেত পারত ম্যাচটি। কারণ, সেটা না হওয়ার পরও ম্যাচ গড়িয়েছে ৪৭ ওভার পর্যন্ত।
আরও পড়ুন
| ক্যাচ মিসের আক্ষেপে শান্ত, সব দায় নিজেকেই দিলেন তাওহীদ |
|
তবে ক্রিকবাজের এক অনুষ্ঠানে ম্যাচের পর শেবাগ দাবি করেছেন, ভারতকে জয় পেতে বেগ পেতে হয়নি একেবারেই।
“এটা খুব সহজ একটা জয় ছিল। প্রায় চার ওভার বাকি থাকতে জিতেছে তারা। গিল ধরে খেলেছে, ধীরে এগিয়েছে। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি বা শ্রেয়াস আইয়ার যদি আরও বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারত, তাহলে আমরা দেখতাম যে এই ম্যাচটাও ৩৫ ওভারে শেষ হয়ে গেছে।”
ভারতের ইনিংসের ত্রিশ থেকে চল্লিশ ওভারের মধ্যে ম্যাচে কিছুটা ফিরে আসে বাংলাদেশ। রানের গতি অনেকটাই কমিয়ে আনার পাশাপাশি কয়েকটি উইকেট নিয়ে ভালোই চাপ তৈরি করেছিলেন বোলাররা। ওই সময়ে পরে ৪১ রানে অপরাজিত থাকা লোকেশ রাহুল একটা ক্যাচ দিয়েছিলেন, যা ধরতে পারেননি জাকের আলি অনিক। সেটা যদি ক্যাচ হত, ভারত আরেকটি চাপে পড়ে যেত। কে জানে, হয়ত নাটকীয় কিছুর শুরুও হতে পারত এর মধ্য দিয়ে।
আরও পড়ুন
| জুটির রেকর্ডে সবার ওপরে তাওহীদ-জাকের |
|
তবে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য বিখ্যাত শেবাগ বলেছেন, প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ বলেই নির্ভার ছিলেন তিনি।
“আমি মনে করি না ভক্তদের মধ্যেও দুশ্চিন্তা ছিল। এটা বাংলাদেশ… আপনারা আমাকে এমনভাবে তাদের প্রশংসা করতে বলছেন, যেন তারা একটা অবিশ্বাস্য দল। আমি যখন খেলতাম, তখন (বাংলাদেশকে নিয়ে) আমার কোনো ভয় ছিল না। তাই আজকে এই স্টুডিওতে বসে আমি আর কী ভয় পেতাম বলুন। দেখুন, এটা বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া বা পাকিস্তান নয়। আমার মনে হয় না ম্যাচের সময় জয় নিয়ে কোনো ভক্তের মনে এক শতাংশ ভয় ছিল।”
No posts available.
১২ মার্চ ২০২৬, ৮:০৬ পিএম

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টস জিতল বাংলাদেশ দল। সফরকারীদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
প্রথম ওয়ানডেতে ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। আজ মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজ লক্ষ্যে মাঠে নামছে স্বাগতিকেরা। পাকিস্তানের সুযোগ সিরিজ বাঁচানোর।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একাদশে কোনো পরিবর্তন নেই বাংলাদেশের। ছয় ব্যাটারের সঙ্গে দুই স্পিনার ও তিন পেসার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। পাকিস্তানের একাদশে অবশ্য একটি পরিবর্তন আছে। বাদ পড়েছেন লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ। তাঁর জায়গায় একাদশে ফিরেছেন অভিজ্ঞ পেসার হারিস রউফ।
২০১৫ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশ-পাকিস্তান কোনো দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে খলেছে। নিজেদের মাঠে আবারও সফরকারীদের সিরিজ হারানোর দারুণ সুযোগ তাসকিন-মোস্তাফিজদের।
আরও পড়ুন
| ট্রু উইকেটে বল করা চ্যালেঞ্জিং, বললেন মিরাজ |
|
এই সিরিজে ২-১ বা ৩-০ ব্যবধানে জয় পেলে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে নবম স্থানে উঠে আসবে বাংলাদেশ। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জনের দৌড়ে তাদের অবস্থান আরও সমৃদ্ধ হবে।
বাংলাদেশ একাদশ:
তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাস (উইকেটকিপার), আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), রিশাদ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা।
পাকিস্তান একাদশ:
সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, শামিল হুসাইন, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), সালমান আলী আগা, হুসাইন তালাত, আব্দুল সামাদ, ফাহিম আশরাফ, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র ও শাহিন শাহ আফ্রিদি (অধিনায়ক) ও হারিস রউফ।

লন্ডনের পিকাডিলি লাইটসে তখন বিডিং যুদ্ধ। পাঁচ দলের সেই যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জিতেছে লন্ডন স্পিরিট। সাসেক্সের ২১ বছর বয়সী তরুণ অলরাউন্ডার জেমস কোলস হয়তো ভাবতেও পারেননি তাকে নিয়ে এমন কাড়াকাড়ি হবে। কারণ, ২০২৬ দ্য হানড্রেডের নিলামে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন বিশ্বের বাঘা বাঘা সব নাম।
বৃহস্পতিবারের নিলামে কোলসকে নিয়ে বিডিংয়ের শুরুটা করেছিল সানরাইজার্স লিডস। এরপর যোগ দেয় ট্রেন্ট রকেটস। ৭৫ হাজার পাউন্ড ভিত্তিমূল্যের কোলসকে শেষ পর্যন্ত ৩ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে দলে ভেড়ায় লন্ডন স্পিরিট। সাহসী এই সিদ্ধান্তে নিলাম কক্ষেই উপস্থিত অনেকের প্রশংসা পায় দলটি।
কোলস এর আগে সাদার্ন ব্রেভের হয়ে খেলেছেন। তাকে দলে নিতে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস ও বার্মিংহাম ফিনিক্সও আগ্রহ দেখায়। মোট পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে প্রতিযোগিতা হয় তাকে পাওয়ার জন্য। শেষ পর্যন্ত স্পিরিটই তাকে দলে ভেড়ায়। যদিও মনে হচ্ছিল সানরাইজার্স লিডসই হয়তো তাকে কিনে নেবে।
নিলামে কোলসকে চতুর্থ সর্বোচ্চ দামে কেনা হয়েছে। তার আগে ইংল্যান্ডের জোফরা আর্চার ৪ লাখ পাউন্ডে সাদার্ন ব্রেভে, ফিল সল্ট ৪ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডে ওয়েলশ ফায়ারে এবং হ্যারি ব্রুক ৪ লাখ ৬৫ হাজার পাউন্ডে সানরাইজার্স লিডসে যোগ দেন। এই তিনজনকে অবশ্য নিলামের আগেই দলে নেয় তাদের ক্লাবগুলো।
প্রশ্ন উঠেছে—কেন কোলসকে নিয়ে এত আগ্রহ? আর কেনই বা তার দাম পড়েছে ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ক্রিকেটার জো রুটের চেয়েও প্রায় দেড় লাখ পাউন্ড বেশি?
সাসেক্সের হয়ে মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় কোলসের। ২০২০ সালে তিনি ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী অভিষিক্ত ক্রিকেটার হন।
২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলের সদস্য ছিলেন তিনি। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া সফর করা ইংল্যান্ড ‘লায়ন্স’ দলেও জায়গা পান।
লন্ডন স্পিরিটে তিনি কাজ করবেন ইংল্যান্ডের সাবেক কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের অধীনে। গত অক্টোবরে ট্রেন্ট রকেটস ছেড়ে স্পিরিটের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন ফ্লাওয়ার।
কোলসকে দলে নেওয়ার বিষয়ে ফ্লাওয়ার বলেন, তিনি আগে থেকেই এই ক্রিকেটারকে চেনেন। তার ভাই গ্রান্ট ফ্লাওয়ার সাসেক্সে ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করেন এবং সেখানেই কোলসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতাতেও কোলসের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে তার।
ফ্লাওয়ারের মতে, কোলস একজন অলরাউন্ডার। নিলামে এমন ক্রিকেটারদের দাম সাধারণত বেশি হয়। সব ধরনের ক্রিকেটেই এখন ভালো করছেন তিনি।

শুরুর দিকে নাহিদ রানার তোপ। এরপর ঘূর্ণি বিষ নিয়ে হাজির মেহেদী হাসান মিরাজ। তাতেই তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে শিরদাঁড়া টান করে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮ উইকেটে হেরে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ ওয়ানডে সিরিজ শুরু অতিথিদের।
শাহিন আফ্রিদিদের বিপক্ষে পেসার নাহিদ রানার ফাইফারের ছায়ায় কিছুটা আড়াল হয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের কৃতিত্ব। তবে অতিথিদের ১২৪ রানে আটকে ফেলতে কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না তার ৩ উইকেট। বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন জানালেন, নিজেকে ফিরে পেতে বেশ কয়েকদিন ধরেই জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
শুক্রবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে দ্বিতীয় ও সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে নামবে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগের দিন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় নিজের বোলিং নিয়ে তিনি কথা বললেন।
আরও পড়ুন
| মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে পটারের সঙ্গে চুক্তি বাড়াল সুইডেন |
|
মিরাজ বলেন, ‘বেশ কয়েকদিন ধরেই বোলিং নিয়ে কাজ করছি আমি। মাঝখানে বোলিং নিয়ে স্ট্রাগল করছিলাম। কোথায় আমার উন্নতি করতে হবে সেটা আমি খুব ভালো করেই জানি। সেটা নিয়ে আমি কাজ করেছি। বিসিএলে দুটো ম্যাচ খেলেছি, সেখানেও কাজ করার চেষ্টা করেছি।’
খানিক বিলম্ব হলেও নিজেকে ফিরে পেয়ে খুশি মিরাজ। প্রথম ম্যাচে নিজের বোলিং পারফরম্যান্সের ওপর সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন তিনি, ‘আলহামদুলিল্লাহ কাল আমার বোলিংয়ের অনেক বেশি কন্ট্রোল ছিল এবং লাইন-লেন্থ অনেক ভালো জায়গায় ছিল। উইকেট অনেক ভালো ছিল। এই উইকেটে লাইন-লেন্থ মেইনটেইন করে যদি বল করতে না পারতাম, রান হয়ে যেত, উইকেটও বের করতে পারতাম না।’
সিরিজের আগে ট্রু উইকেটে কথা বলেছিলেন মেহেদী। দ্বিতীয় ম্যাচের আগেই সেই ট্রু উইকেট নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। জানিয়েছেন, ট্রু উইকেট স্পিনারদের জন্য একটু কঠিনই।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু ট্রু উইকেটে খেলছি, স্পিনারের জন্য ট্রু উইকেটে বল করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। যদি ভালো জায়গায় বল করতে পারি, লাইন লেন্থ ঠিক রাখতে পারি, আমার কাছে মনে হয় সফল হওয়ার সুযোগ বেশি থাকবে।’

বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ইংল্যান্ডের একশ বলের ক্রিকেট ‘দ্য হান্ড্রেড’ নিলামে দল পেলেন মোস্তাফিজুর রহমান। টুর্নামেন্টের সামনের সংস্করণে বার্মিংহাম ফিনিক্সের জার্সিতে দেখা যাবে বাংলাদেশের কাটার মাস্টারকে।
লন্ডনে বৃহস্পতিবার বিকেলে শুরু হওয়া নিলামের শেষ দিকে গিয়ে দল পান মোস্তাফিজ। তাকে ভিত্তিমূল্য ১ লাখ পাউন্ডেই কিনে নিয়েছে ফিনিক্স। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বেশি।
মোস্তাফিজের আগে নিলামে নাম উঠেছিল বাংলাদেশের তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের। তবে তার প্রতি আগ্রহ দেখায়নি কোনো দল। তাই হান্ড্রেডে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে থাকবেন মোস্তাফিজই।
একশ বলের এই টুর্নামেন্টে প্রধান কোচ হিসেবে নিউ জিল্যান্ড দলের সাবেক গতি তারকা শেন বন্ডকে পাবেন মোস্তাফিজ। এই দলটিতে নিলামের আগেই সরাসরি চুক্তিতে জায়গা পেয়েছেন জ্যাকব বেথেল, রেহান আহমেদ, মিচেল ওয়েন ও ডনোভান ফেরেইরা।
দ্য হান্ড্রেডের আগে চলতি বছরের আইপিএল ও পিএসএলেও দল পেয়েছিলেন মোস্তাফিজ। তবে নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে মোস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। তাই এখন পিএসএলে দেখা যাবে তাকে।
আগামী ২১ জুলাই শুরু হবে দ্য হান্ড্রেডের নতুন সংস্করণ। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা বিবেচনায় ইংল্যান্ডের এই টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়ার অনুমতি পেতে পারেন অভিজ্ঞ পেসার।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কায় এক নারীর সঙ্গে অসাদাচরণের অভিযোগ ওঠে সালমান মির্জার বিরুদ্ধে। তবে পাকিস্তানি এই পেসার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে প্রচারিত ওই প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা ও মানহানিকর’ বলে অভিযোগ করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সালমান মির্জার আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ নাকি টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করেছিল। এছাড়া সেখানে আরও দাবি করা হয়, আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তাকে জরিমানাও করেছিল। তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন মির্জা এবং এ কারণেই সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।
সালমান মির্জার পাঠানো আইনি নোটিশে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, পিসিবি তাদের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশ্যে এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে এবং প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যকে বিদ্বেষপূর্ণ, মনগড়া ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, মির্জার ওপর কোনো জরিমানাও আরোপ করা হয়নি। যাচাই-বাছাই ছাড়াই খবরটি প্রকাশ করায় মির্জা, পিসিবি এবং পুরো পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এছাড়া ওই প্রতিবেদনে বাঁহাতি এই পেসারকে অসম্মানজনক ও অপেশাদার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে, যা জনসাধারণ ও ক্রিকেট মহলের চোখে তার মর্যাদা কমিয়ে দিয়েছে।
নোটিশে আরও দাবি করা হয়, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ও প্রতিবেদক তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। যথাযথ যাচাই ছাড়া বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্যে তথ্য প্রকাশ করে তারা পেশাদার সাংবাদিকতার নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন।
১৭টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করা মির্জা নিজের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম রক্ষার জন্য আইনি প্রতিকার চাইছেন।
সালমান মির্জা দৃঢ়ভাবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন এবং প্রকাশ্যে প্রতিবেদনটির সমালোচনা করেছেন। পাকিস্তানি ফাস্ট বোলারের ভাষায় এটি দায়িত্বহীন কাজ যে যাচাই না করা তথ্য প্রচার করা। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন,
‘মিডিয়ায় একটি অবাস্তব খবর প্রচারিত হচ্ছে এবং আমি এই ধরনের সস্তা সাংবাদিকতা দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানাচ্ছি। কোনো মিডিয়া হাউস যাচাই না করা কোনো খবর সম্প্রচার করতে পারবে না।’
পিসিবিও অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে এবং খেলোয়াড়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। বোর্ড সাংবাদিকের কাছ থেকে একটি প্রকাশ্য ক্ষমা দাবি করেছে এবং সতর্ক করেছে যে, বিষয়টি সমাধান না হলে তারা ব্যবস্থা নেবে।