
একের পর এক হতাশাজনক পারফরম্যান্সে ডুবতে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য যেন স্বস্তির সুবাতাস হয়ে এলো বার্নলি। প্রথমে আত্মঘাতী গোল আর পরে পেনাল্টি উপহার দিয়ে ইউনাইটেডকে প্রথম জয় পাইয়ে দিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নবাগত ক্লাবটি।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে শনিবার রাতের ম্যাচে বার্নলিকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ইউনাইটেড। এর মধ্যে দুটি গোলই তারা পেয়েছে বার্নলির কাছ থেকে উপহারের মতো। শেষের জয়সূচক গোলটি আবার ম্যাচের ৯৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে পাওয়া আত্মঘাতী গোলে প্রথমে লিড নেয় ইউনাইটেড। পরে দ্বিতীয়ার্ধে বার্নলি সমতা ফেরালে আবার এগিয়ে যায় তারা। এরপর আবার সমতা আনে বার্নলি। সেই গোল শোধ করতে অপেক্ষা করতে হয় ৯৭ মিনিট পর্যন্ত। ব্রুনো ফার্নান্দেসের পেনাল্টিতে নিশ্চিত হয় জয়।
আরও পড়ুন
| ‘বাংলাদেশ তিন বিভাগেই পরাস্ত করেছে আমাদের’ |
|
লিগের তিন ম্যাচে এটিই ইউনাইটেডের প্রথম জয়। আসরের প্রথম ম্যাচে আর্সেনালের কাছে হেরেছিল তারা। পরের ম্যাচে ফুলহ্যাম ইউনাইটেডের সঙ্গে করেছিল ড্র।
বার্নলির বিপক্ষে পুরো ম্যাচে দাপট দেখিয়েই খেলে ইউনাইটেড। প্রায় ৬২ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে গোলের জন্য ২৬টি শট করে তারা। এর মধ্যে ৬টি থাকে লক্ষ্য বরাবর। এর বিপরীতে গোলের জন্য মাত্র ৬টি শট করতে পারে বার্নলি।
শুরু থেকেই গোলের জন্য একের পর আক্রমণ করে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। কিন্তু গোলের দেখা পাচ্ছিল না। পরে ভাগ্যের ছোঁয়ায় মেলে প্রথম গোল।
২৭ মিনিটে ব্রুনোর ফ্রি কিকে জোরাল হেড করেন কাসেমিরো। কিন্তু ক্রসবারে লাগে বল। তবে ফিরতি বার্নলির ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার জস কালেনের গায়ে লেগে ঢুকে যায় জালে। গোলের উল্লাসে মাতে ইউনাইটেড।
আরও পড়ুন
| দাপুটে জয়ে বড় প্রাপ্তি সাইফের প্রত্যাবর্তন |
|
প্রথমার্ধে মেলেনি আর গোলের দেখা। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৫৫ মিনিটের সময় লাইল ফস্টারের গোলে ম্যাচ ১-১ সমতায় ফেরায় বার্নলি। এর দুই মিনিট পরই ব্রায়ান এমবুমোর গোলে আবার এগিয়ে যায় রুবেন আমোরির শিষ্যরা।
লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি তারা। ৬৬ মিনিটে স্কোরলাইন ২-২ করেন বার্নলির ইংলিশ ফরোয়ার্ড জেইডন অ্যান্থনি।
পরে অতিরিক্ত যোগ করা সময়ের শুরুতে অ্যান্থনির ফাউলেই পেনাল্টি পায় ইউনাইটেড। বেশ কিছুক্ষণ সময় নিয়ে ভিএআর দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে প্রথম জয় এনে দেন ব্রুনো।
তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত নবম স্থানে আছে ইউনাইটেড। আর সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ১২ নম্বরে বার্নলি।
No posts available.
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩:২২ এম
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
.jpeg)
চ্যাম্পিয়নস লিগে এক রোমাঞ্চকর রাত শেষ হলো। যেখানে কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগের লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ-বায়ার্ন মিউনিখ এবং আর্সেনাল-স্পোর্টিং। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় প্রথম লেগের মতো ফিরতি লেগেও বাভারিয়ানদের কাছে পাত্তাই পায়নি ইউরোপের সফলতম দল রিয়াল। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যদের। অন্যদিকে, ভিন্ন মাঠে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিতের লড়াইয়ে নেমেছিল আর্সেনাল ও স্পোর্টিং।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে ফিরতি লেগে সুবিধা করতে পারেনি আর্সেনাল। প্রথম লেগে ১-০ গোলে জেতায় পরের ধাপে পৌঁছে গেছে মিকেল আরতেতার দল। তাতেই ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের চূড়ান্ত সূচি জানা গেছে।
প্রথম সেমিফাইনালে দিয়েগো সিমিওনের রক্ষণাত্মক কৌশলের আতলেতিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে দারুণ ছন্দে থাকা আর্সেনাল। অন্যদিকে, দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দেখা যাবে এক ব্লকবাস্টার লড়াই; যেখানে ফরাসি চ্যাম্পিয়ন পিএসজি লড়বে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে।
সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৮ ও ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে সেমিফাইনালের প্রথম লেগ। এরপর ৫ ও ৬ মে ফিরতি লেগের লড়াই শেষে নির্ধারণ হবে কারা খেলবে এবারের স্বপ্নের ফাইনালে।

১৯৭০-৭১ মৌসুমের পর কখনোই নিজেদের মাঠে নকআউট পর্বের প্রথম লেগ হেরে পরের রাউন্ডে যেতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে জিততে হলে আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যদের ফেরাতে হতো প্রায় ৫৬ বছর আগের স্মৃতি। তবে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার রাতটি ছিল কেবলই বাভারিয়ানদের। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ গোলে এগিয়ে আরও একবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল।
আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ইউসিএলের ফিরতি লেগে গোল বন্যা হয়েছে। ৫ গোলের পাগলাটে প্রথামার্ধে এগিয়ে ছিল রিয়াল। আর দ্বিতীয়ার্ধ ছিল বাভারিয়ানদের। এই অর্ধে মোট তিনটি গোল করেন কেইনরা।
ম্যাচ ঘড়ির মাত্র ৪৬ সেকেন্ডে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যানুয়েল নয়্যার বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে উল্টো বিড়ম্বনা বাড়ান। ফার্স্ট লেগের ম্যাচসেরা এই জার্মানি গোলকিপারের দূর্বল শট ২৫ গজ দূর থেকে জালে লক্ষ্যবেদ করেন আর্দা গুলের। তাতে মাদ্রিদ ১-০ গোলে এগিয়ে যায়। আর দুই লেগ মিলিয়ে ২-২ সমতায় ফেরে আলভারো আরবেলোয়ার দল!
বায়ার্ন শোধ নিতে বেশি সময় নেয়নি। প্রথম মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পর চতুর্থ মিনিটে দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তন করে বাভারিয়ানরা। বাঁ পাশের কর্নার থেকে জশুয়া কিমিখের নেওয়া ডেলিভারিটি ছিল এক কথায় অসাধারণ। পেনাল্টি বক্স তখন খেলোয়াড়দের ভিড়ে ঠাসা, আর বলের গতি এতই বেশি ছিল যে আন্দ্রি লুনিন কেবল ঠায় দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি। আলেকজান্ডার পাভলোভিচ গোললাইনের একদম কাছ থেকে আলতো হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন।
১৯তম মিনেটর ঘটনা চাইলেও ভুলতে পারবেন না কিলিয়ান এমবাপে। মিডফিল্ড থেকে ধেয়ে আসা একটি ক্রসের সূত্র ধরে বায়ার্নের হাই লাইন ডিফেন্স বেধ করে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন ফরাসি ফরোয়ার্ড। তবে ফিনিশিং শটের আগে গড়বড় করে ফেলেন। তার ডান পায়ের শট এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বারের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। লিগের সর্বোচ্চ গোলধারীর (১৪টি) সুযোগ ছিল দ্বিতীয় স্থানে থাকা হ্যারি কেইন থেকে দুরত্ব আরও বাড়াতে।
২৪তম মিনিটে জশুয়া কিমিখ আরও একটি দৃষ্টিনন্দন শট নেন। ডি বক্সের বাইর থেকে নেওয়া তার বুলেট গতির শট অবশ্য বিপদ বাড়াতে দেননি আন্দ্রে লুনিন। ফাঞ্চ করে বল বাইরে পাঠিয়ে দেন এই ইউক্রেন গোলকিপার।
২৮তম মিনিটে সেটপিস থেকে ফ্রি কিকে নয়্যারকে বোকা বানান গুলের। গুলের যেন একাই বায়ার্নকে স্তব্ধ করে দেওয়ার পণ করেছেন আজ। ম্যাচের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ডি-বক্সের বেশ বাইরে গুলেরকে ফাউল করে বসেন লাইমার। সেই সুযোগটিই কাজে লাগালেন এই তরুণ তুর্কি। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেয়া তার ট্রেডমার্ক বাঁকানো ফ্রি-কিকটি বায়ার্নের রক্ষণ দেয়াল টপকে টপ-রাইট কর্নার দিয়ে জালে আছড়ে পড়ে। নয়্যারের তাকিয়ে দেখা ছাড়া ছিল না কোনো উপায়। এই চোখধাঁধানো গোলের সুবাদে ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল। আর দুই লেগ মিলিয়ে ফিরল ৩-৩ সমতায়।
আর্দা গুলেরের দ্বিতীয় গোলের পর যখন রিয়াল মাদ্রিদ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, তখনই দৃশ্যপটে হাজির হ্যারি কেইন। দায়ো উপামেকানোর বাড়ানো বল থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে লুনেনকে পরাস্ত করেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে ২-২ সমতা ফিরলেও, এগ্রিগেটে বায়ার্ন এখন ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
গোল কনসিভের পরের মিনিটে মেজাজ ঠিক রাখতে পারেননি এদার মিলিতাও। ব্রাজিল সেন্টারব্যাক টেনে ফেলে দেন কেইনকে। রেফারিও হলুদ কার্ড দেখাতে ভুল করেননি।
৪০তম মিনেট ভুলের প্রায়ঃশ্চিত করেন কিলিয়ান এমবাপে। প্রথমবার ভুল করলেও এবার আর ভুল করেননি ফরাসি ফরোয়ার্ড। বা প্রান্ত থেকে আক্রমণে ওঠে সতীর্থ ভিনিকে ক্রস দেন ভিনি। সে শট থেকে গোল আদায় করেন এমবাপে। লিগে এটি তার ১৫তম গোল। লা লিগায় জিরোনার বিপক্ষে মাথায় আঘাত পাওয়া ফরাসি ডিফেন্ডার মোটেও বুঝতে দিচ্ছেন না দূর্বলতা। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় রিয়াল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই শোধের নেশায় মরিয়া হয়ে ওয়ে বায়ার্ন। তবে রিয়ালের ইস্পাত-লৌহ ডিফেন্স ফাটল ধরাতে ব্যর্থ হচ্ছিল তারা। উল্টো ৫৪ মিনিটে সহজ গোল মিস করে বসেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের ক্রস খুঁজে নেয় ফাঁকায় থাকা ব্রাজিল লেফটব্যাক। ভিনির নেওয়া বুলেট গতির ভলিটি জালে জড়ানোর ঠিক আগমুহূর্তে অতিমানবীয় ক্ষিপ্রতায় এক হাত দিয়ে তা রুখে দেন বায়ার্ন প্রাচীর ম্যানুয়েল ন্যয়ার। নিশ্চিত গোল হজম থেকে বায়ার্নকে রক্ষা করে ম্যাচে টিকিয়ে রাখলেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
এ ঘটনার ঠিক ৮মিনিট পর ভিনি আরও একটি সহজ সুযোগ মিস করেন। ড্রিবলিং করে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন ব্রাজিল ফরোয়ার্ড। তার সামনে ছিলেন কেমন নয়্যার। তবে ভিনির শট বারের বেশ বাইর দিয়ে চলে যায়।
৬৭ মিনিটে ওলিসের র্কাল শট রিয়ালের বারের কয়েক ইঞ্চি উপর দিয়ে চলে গেলে বেচে যায় রিয়াল। গুলেরের সঙ্গে ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে ছিলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। তবে সেটপিস থেকে তার বাঁকানো শট শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।
৮৫তম মিনিটে জটলা থেকে এগিয়ে যাওয়ার সুর্বণ সুযোগ পায় বায়ার্ন। প্রথমে লুইস দিয়াস আক্রমণ শানান রিয়াল গোলবারে। সুবিধা করতে না পেরে তিনি বল পাঠান কেইনকে। কিন্তু ডিফেন্স বাঁধায় সুবিধা করতে পারেননি তিনি।
পরের মিনিটে দুঃস্বপ্ন নেমে আসে রিয়াল শিবিরে। কেইনকে ফাউল করে দ্বিতীয় কার্ড দেখেন কামাভিঙ্গা। বদলি হিসেবে নামার পর ৭৬তম মিনিটে জামাল মুসিয়ালাকে ফাউল করে প্রথম কার্ড দেখেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। এরপর ৮৬তম মিনিটে কেইনকে।
৮৮তম মিনিটে সুযোগ বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগান দিয়াস। বাঁ-প্রান্ত দিয়ে বায়ার্ন ওয়ান টু ওয়ানে ব্যস্ত ছিল। দিয়াস ও মুসিয়ালার দুর্দান্ত রসায়নের পর ২০ গজ দূর থেকে এক চোখধাঁধানো শট নেন দিয়াস। মিলিতাওয়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করায় বলটি লুনিনের নাগালের বাইরে চলে যায় এবং টপ-রাইট কর্নার দিয়ে জালে জড়ায়। তাতে এগ্রিগেটে এখন ৫-৪ ব্যবধানে এগিয়ে বায়ার্ন!”
যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেন ওলিসে। রিয়ালের সব প্রচেষ্টায় জল ঢেলে দিলেন ফরাসি রাইট উইঙ্গার। ম্যাচের শেষ দিকে রিয়াল যখন মরিয়া হয়ে অল-আউট আক্রমণে, ঠিক তখনই কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মাদ্রিদের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন তিনি।
ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে অলিসের নেওয়া বাঁকানো শটটি গোলপোস্টের কোণা দিয়ে যখন জালে জড়ায়, তখন বার্নাব্যু জুড়ে শুধুই বায়ার্নের জয়গান। এই গোলের সুবাদে ৪-৩ ব্যবধানে জয় এবং দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ এগ্রিগেটে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করল বায়ার্ন।
লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের আরেক ম্যাচে এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্সেনাল ও স্পোর্টিংয়ের ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছে। প্রথম লেগে ১-০ গোলে জেতায় পরের ধাপে পৌঁছে গেছে আর্সেনাল।
.jpeg)
চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচে ছাদঢাকা সান্তিয়াগো বার্নাব্যু থেকে ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে ফিরেছিল ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। সেই ঘটনার রেশ ধরে ফিরতি লেগের আগে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার ছবি পোস্ট করে রিয়ালকে খোঁচা দিয়ে বায়ার্ন লেখে, ‘ছাদ কিন্তু খোলাই আছে’। তবে মাঠের লড়াইয়ে বায়ার্নের এই রসিকতাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে ও আর্দা গুলেররা। যাদের একের পর এক আক্রমণে প্রথমার্ধে বেশ কোণঠাসাই ছিল বুন্দেসলিগা জায়ান্টরা।
আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ইউসিএলের ফিরতি লেগের প্রথমার্ধে গোল বন্যা হয়েছে। ৫ গোলের পাগলাটে প্রথামার্ধে এগিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ। ফার্স্ট লেগে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা লস ব্লাঙ্কোসরা ফিরতি লেগের প্রধমার্ধে এগিয়ে ৩-১ ব্যবধানে।
ম্যাচ ঘড়ির মাত্র ৪৬ সেকেন্ডে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যানুয়েল নয়্যার বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে উল্টো বিড়ম্বনা বাড়ান। ফার্স্ট লেগের ম্যাচসেরা এই জার্মানি গোলকিপারের দূর্বল শট ২৫ গজ দূর থেকে জালে লক্ষ্যবেদ করেন আর্দা গুলের। তাতে মাদ্রিদ ১-০ গোলে এগিয়ে যায়। আর দুই লেগ মিলিয়ে ২-২ সমতায় ফেরে আলভারো আরবেলোয়ার দল!
বায়ার্ন শোধ নিতে বেশি সময় নেয়নি। প্রথম মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পর চতুর্থ মিনিটে দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তন করে বাভারিয়ানরা। বাঁ পাশের কর্নার থেকে জশুয়া কিমিখের নেওয়া ডেলিভারিটি ছিল এক কথায় অসাধারণ। পেনাল্টি বক্স তখন খেলোয়াড়দের ভিড়ে ঠাসা, আর বলের গতি এতই বেশি ছিল যে আন্দ্রি লুনিন কেবল ঠায় দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি। আলেকজান্ডার পাভলোভিচ গোললাইনের একদম কাছ থেকে আলতো হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন।
১৯তম মিনেটর ঘটনা চাইলেও ভুলতে পারবেন না কিলিয়ান এমবাপে। মিডফিল্ড থেকে ধেয়ে আসা একটি ক্রসের সূত্র ধরে বায়ার্নের হাই লাইন ডিফেন্স বেধ করে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন ফরাসি ফরোয়ার্ড। তবে ফিনিশিং শটের আগে গড়বড় করে ফেলেন। তার ডান পায়ের শট এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বারের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। লিগের সর্বোচ্চ গোলধারীর (১৪টি) সুযোগ ছিল দ্বিতীয় স্থানে থাকা হ্যারি কেইন থেকে দুরত্ব আরও বাড়াতে।
২৪তম মিনিটে জশুয়া কিমিখ আরও একটি দৃষ্টিনন্দন শট নেন। ডি বক্সের বাইর থেকে নেওয়া তার বুলেট গতির শট অবশ্য বিপদ বাড়াতে দেননি আন্দ্রে লুনিন। ফাঞ্চ করে বল বাইরে পাঠিয়ে দেন এই ইউক্রেন গোলকিপার।
২৮তম মিনিটে সেটপিস থেকে ফ্রি কিকে নয়্যারকে বোকা বানান গুলের। গুলের যেন একাই বায়ার্নকে স্তব্ধ করে দেওয়ার পণ করেছেন আজ। ম্যাচের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ডি-বক্সের বেশ বাইরে গুলেরকে ফাউল করে বসেন লাইমার। সেই সুযোগটিই কাজে লাগালেন এই তরুণ তুর্কি। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেয়া তার ট্রেডমার্ক বাঁকানো ফ্রি-কিকটি বায়ার্নের রক্ষণ দেয়াল টপকে টপ-রাইট কর্নার দিয়ে জালে আছড়ে পড়ে। নয়্যারের তাকিয়ে দেখা ছাড়া ছিল না কোনো উপায়। এই চোখধাঁধানো গোলের সুবাদে ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল। আর দুই লেগ মিলিয়ে ফিরল ৩-৩ সমতায়।
আর্দা গুলেরের দ্বিতীয় গোলের পর যখন রিয়াল মাদ্রিদ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, তখনই দৃশ্যপটে হাজির হ্যারি কেইন। দায়ো উপামেকানোর বাড়ানো বল থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে লুনেনকে পরাস্ত করেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে ২-২ সমতা ফিরলেও, এগ্রিগেটে বায়ার্ন এখন ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
গোল কনসিভের পরের মিনিটে মেজাজ ঠিক রাখতে পারেননি এদার মিলিতাও। ব্রাজিল সেন্টারব্যাক টেনে ফেলে দেন কেইনকে। রেফারিও হলুদ কার্ড দেখাতে ভুল করেননি।
৪০তম মিনেট ভুলের প্রায়ঃশ্চিত করেন কিলিয়ান এমবাপে। প্রথমবার ভুল করলেও এবার আর ভুল করেননি ফরাসি ফরোয়ার্ড। বা প্রান্ত থেকে আক্রমণে ওঠে সতীর্থ ভিনিকে ক্রস দেন ভিনি। সে শট থেকে গোল আদায় করেন এমবাপে। লিগে এটি তার ১৫তম গোল। লা লিগায় জিরোনার বিপক্ষে মাথায় আঘাত পাওয়া ফরাসি ডিফেন্ডার মোটেও বুঝতে দিচ্ছেন না দূর্বলতা। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় রিয়াল।

প্রিমিয়ার লিগে চেলসির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। গত মাসে বোর্নমাউথের বিপক্ষে লাল কার্ড পাওয়ার পর রেফারির সাথে অশোভন আচরণের দায়ে হ্যারি মাগুয়ারের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক ম্যাচ বাড়ানো হয়েছে। শনিবার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে দেখা যাবে না ৩৩ বছর বয়সী এই ইংলিশ ডিফেন্ডারকে।
মার্চে বোর্নমাউথের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্রয়ের ম্যাচের ৭৮ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মাগুয়ার। মাঠ ছাড়ার সময় ম্যাচ অফিসিয়াল ম্যাট ডনোহিউকে উদ্দেশ্য বাজে মন্তব্য করেন ইংলিশ সেন্টারব্যাক। পরবর্তীতে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) তার বিরুদ্ধে ‘অশোভন আচরণ’-এর অভিযোগ আনে।
এক ম্যাচের নিয়মিত নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি মাগুয়ারকে ৩০ হাজার পাউন্ড জরিমানাও করেছে এফএ। বুধবার সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাঠ ছাড়ার সময় মাগুয়ার চতুর্থ অফিসিয়ালের প্রতি অবমাননাকর বা আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করেছেন।
ম্যাট ডনোহিউয়ের ভাষ্যমতে, মাঠ ছাড়ার সময় মাগুয়ার চিৎকার করে তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন,
‘তোমরা একটা জোক (তামাশা)। তোমরা সবাই একটা জোক।’ তবে মাগুয়ার এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি কোনো নির্দিষ্ট অফিসিয়ালকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলেননি। মাগুয়ারের দাবি ছিল, তিনি স্রেফ পরিস্থিতি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘এটা একটা জোক।’
অবশ্য নিজের আচরণের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন মাগুয়ার। কমিশন প্রথমে দুই ম্যাচের বাড়তি নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবলেও, মাগুয়ারের ক্ষমা প্রার্থনা ও অভিযোগ মেনে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শাস্তির মেয়াদ এক ম্যাচ নির্ধারণ করে।
চেলসি সফরে মাগুয়ার ছাড়াও লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে পাচ্ছে না ইউনাইটেড। লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে ডমিনিক ক্যালভার্ট-লেউইনের চুল টেনে ধরায় ‘ভায়োলেন্ট কন্ডাক্ট’-এর দায়ে লাল কার্ড পেয়েছিলেন এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। যদিও কোচ মাইকেল ক্যারিক এই সিদ্ধান্তকে ‘সবচেয়ে বাজে সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং ক্লাব থেকে এর বিরুদ্ধে আপিল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
পাশাপাশি ম্যাথিয়াস ডি লিটও পিঠের পুরনো চোটের কারণে স্কোয়াডের বাইরে রয়েছেন। এর ফলে ক্যারিকের হাতে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে এখন কেবল ১৯ বছর বয়সী এইডেন হেভেন এবং ২০ বছর বয়সী লেনি ইয়োরো ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট নেই।
লিগে টেবিলের তিনে থাকা ইউনাইটেড বর্তমানে চুতুর্থ স্থানে থাকা অ্যাস্টন ভিলার সমান পয়েন্টে দাঁড়িয়ে আছে। হাতে আছে মাত্র ৬টি ম্যাচ। শনিবার চেলসির কাছে হারলে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে রেড ডেভিলদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

২০২০ সালের নভেম্বরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। মস্তিষ্কের রক্ত জমাট বাঁধায় অস্ত্রোপচারের পর বাড়িতে থাকাকালীন মৃত্যু হয় আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ডের।
আর্জেন্টিনার সরকারি কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেছেন, ম্যারাডোনার চিকিৎসায় নিয়োজিত সাত সদস্যের দলটি যদি একটুও পেশাদারত্ব দেখাত, তবে বেঁচে থাকতেন এই ফুটবল কিংবদন্তি। দেশটির আদালতে আবারও শুরু হয়েছে ফুটবল কিংবদন্তিরর মৃত্যুর বিচার। সরকারপক্ষের আইনজীবীরা এবার সরাসরি বলেছেন, ম্যারাডোনার চিকিৎসক দল তাঁকে বাঁচানোর সুযোগ পেয়েও কাজে লাগায়নি।
প্রসিকিউটরদের দাবি, ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা মেডিকেল টিম আগে থেকেই জানত, কিন্তু তাকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তারা নেয়নি।
নতুন বিচার প্রক্রিয়া শুরু: তিনজন নতুন বিচারপতির প্যানেলে ম্যারাডোনা মৃত্যু পরবর্তী বিচারকার্য পরিচালিত হচ্ছে। এখানে প্রায় ১০০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের কথা রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং এই প্রক্রিয়া জুলাই মাস পর্যন্ত চলতে পারে।
অভিযুক্ত সাতজন হলেন—নিউরোলজিস্ট লিওপোল্ডো লুকে, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অগাস্টিনা কোসাচভ, মনোবিজ্ঞানী কার্লোস দিয়াজ, চিকিৎসক ন্যান্সি এডিথ ফোরলিনি, নার্স রিকার্ডো আলমিরন ও মারিয়ানো আরিয়েল পেরোনি এবং চিকিৎসক পেড্রো পাবলো দি স্পাগনা। তারা সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।
পূর্ববর্তী বিচারের স্থগিতাদেশ: ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এই মামলার মূল বিচার শুরু হয়েছিল এবং তা প্রায় তিন মাস চলে। কিন্তু ২০২৫ সালের মে মাসে বিচারক জুলিয়েটা মাকিনতাচ আদালতের ভেতরে একটি ডকুমেন্টারির জন্য অননুমোদিতভাবে চিত্রগ্রহণের অনুমতি দেওয়ায় সেই বিচার বাতিল করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের ৮ থেকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।