
লা লিগায় সেলতা ভিগোর বিপক্ষে খেলতে নেমে চোটে পড়েন লামিনে ইয়ামাল। বুধবার ক্যাম্প ন্যুতে ম্যাচের ৪০তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। গোলের পরই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ইয়ামাল। এরপর খুড়িয়ে খুড়িয়ে ছাড়েন মাঠ এবং টানেল দিয়ে সোজা পৌঁছান ড্রেসিংরুমে।
চোটের কারণে শঙ্কা তৈরি হয় আদৌ মৌসুমের অবশিষ্ট অংশ এবং বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবেন কি না ইয়ামাল। যদিও বৃহস্পতিবার বার্সার ট্রেনিং গ্রাউন্ডে স্পেন তারকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানা গেছে, ইয়ামালকে অস্ত্রোপচার করাতে হবে না। তবে ‘কনজারভেটিভ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান’ বা বিশেষ পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে তাকে। অর্থাৎ লিগের শেষ ছয় ম্যাচে তাকে পাচ্ছে না কাতালান ক্লাব।
স্প্যানিশ ফুটবল ভক্তদের জন্য আশার কথা হলো, ১৫ জুন আটালাল্টায় কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্পেনের বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগেই ইয়ামাল সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। গ্রুপ ‘এইচ’-এ স্পেনের অন্য দুই প্রতিপক্ষ সৌদি আরব ও উরুগুয়ে।
ইয়ামালের অনুপস্থিতি বার্সার শিরোপা জয়ের পথে কিছুটা জটিলতা তৈরি করলেও তারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। লিগে রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা বার্সার হাতে আর ৬টি ম্যাচ রয়েছে। আগামী ১০ মে ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিতব্য মৌসুমের দ্বিতীয় লিগ ‘এল ক্লাসিকো’ শিরোপা নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।
হান্সি ফ্লিকের অধীনে টানা দ্বিতীয় লিগ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে বার্সাকে হেতাফে এবং ওসাসুনার বিপক্ষে কঠিন অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে হবে। শেষ তিন ম্যাচে তারা আলাভেস, রিয়াল বেতিস এবং ভ্যালেন্সিয়ার মুখোমুখি হবে।
মৌসুমে ইয়ামাল সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৫টি ম্যাচ খেলেছেন। ২৪ গোলের পাশাপাশি ১৭টি অ্যাসিস্ট করে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন তিনি।
No posts available.

দলবদল শুরু হওয়ার আগেই ঘরে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন নিকোলাস ওতামেন্দি। অনেকদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল, তবে এবার সেই পালে হাওয়া দিলেন আর্জেন্টাইন এই রক্ষণপ্রহরী। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসে প্রথমবার নিজ দেশের ক্লাব ফুটবলে ফিরতে পারেন তিনি। ক্লাব রিভার প্লেটের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন ওতামেন্দি।
টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুলাইয়েই দেখা যেতে পারে এই বড় চমক। রিভার প্লেট কেবল ওতামেন্দিতেই থমকে নেই, তার প্রমাণ মিলেছে আনহেল কোরেয়া আর মাউরো আরামবারির সঙ্গে তাদের আলোচনার খবরে। তবে ওতামেন্দির মতো একজন বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারকে ঘরে ফেরানো হবে রিভারের জন্য বড় সাফল্যও।
৩৮ ছুঁইছুঁই ওতামেন্দি ভালো করেই জানেন, এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ। বিশ্বমঞ্চের লড়াই শেষে যখন বুট তুলে রাখার সময় ঘনিয়ে আসবে, তখনই তিনি ক্যারিয়ারের পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে চূড়ান্ত সিলমোহর দেবেন। রিভারের কোচ এদুয়ার্দো কুদেত অনেক আগে থেকেই এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারকে নিজের ডেরায় ভেড়াতে মুখিয়ে আছেন।
তবে রিভার প্লেটের পথে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে স্প্যানিশ ক্লাব ভ্যালেন্সিয়া। ওতামেন্দির পুরনো ঠিকানা হওয়ায় তাদের প্রতিও একটা আলাদা টান থাকতে পারে এই ফুটবলারের। বিশাল অর্থের হাতছানি নিয়ে প্রস্তুত সৌদি আরবের ক্লাবগুলোও।
বেনফিকার হয়ে গত মৌসুমটা দারুণ কেটেছে ওতামেন্দির। হোসে মরিনিয়োর কোচিংয়ে ৪৬ ম্যাচে মাঠে নেমে সরাসরি ৭টি গোলে অবদান রেখেছেন, ঝুলিতে পুরেছেন পর্তুগিজ সুপার কাপ। বেনফিকার সঙ্গে তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই জুনেই। রিভার প্লেট তাঁকে ফ্রি-ট্রান্সফারে বা বিনা মূল্যে দলে পাওয়ার সুযোগ পেলেও, তার আকাশচুম্বী বেতনের চাহিদা মেটানোই হবে ক্লাব কর্তৃপক্ষের আসল পরীক্ষা।
এখন প্রশ্ন একটাই—টাকার মোহ আর ইউরোপের আভিজাত্য ছেড়ে ওতামেন্দি কি তবে শৈশবের সেই চেনা আঙ্গিনাতেই ফিরছেন? উত্তরটা পেতে বিশ্বকাপ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হচ্ছে ভক্তদের।

নৌ এস্তাদি মিউনিসিপ্যালের প্রবেশপথে একটি অস্থায়ী দোকানে ঝুলছে একটি সবুজ জার্সি, যার পেছনে কেবল একটি শব্দ লেখা—‘মেসি’। আর এই দৃশ্যটিই নিশ্চিত করছে সম্প্রতি তোলপাড় সৃষ্টি করা খবরটিকে। বার্সেলোনার শিল্পাঞ্চলের অন্যতম শহর কর্নেয়া, যেখানে প্রায় এক লক্ষ মানুষের বসবাস এবং যাদের দীর্ঘদিনের শ্রমিক ও সমাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য রয়েছে (গণতন্ত্র ফেরার পর থেকে শহরের সব মেয়রই এই ঘরানার)।
গত ১৬ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়, বার্সেলোনার ইতিহাসের সেরা এবং তর্কাতিতভাবে ফুটবল ইতিহাসেরই সর্বকালের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় মেসি—ইউই কর্নেয়া ক্লাবটি কিনে নিয়েছেন। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটি বর্তমানে স্পেনের ‘তেরসেরা আরএফইএফ’-এ খেলছে এবং তাদের যুব একাডেমিটি স্পেনের অন্যতম সেরা হিসেবে স্বীকৃত।
কাতালান ফুটবলে এই ঘটনাকে সমর্থকরা গ্যালারিতে বসে বলছেন, ‘বছরের সেরা বোমা’। খবরটি প্রায় সবাইকে চমকে দিলেও কেউ কেউ হয়তো কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন। কর্নেয়ার মেয়র আন্তোনিও বালমন ভিডিও কলের মাধ্যমে মেসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। যদিও কর্নেয়ার মূলধন ব্যক্তিগত মালিকানাধীন, কিন্তু ক্লাবের মাঠ ও অবকাঠামো সরকারি (মিউনিসিপ্যাল)। ফলে নগর কাউন্সিল ও স্পেনের উচ্চতর ক্রীড়া কাউন্সিলকে এই প্রক্রিয়ায় অবগত রাখতে হয়েছে।
আরও পড়ুন
| আরও বিধ্বংসী রূপে ফেরার বার্তা চোটাক্রান্ত ইয়ামালের |
|
কর্নেয়ার শহরটি কাতালোনিয়ার স্পোর্টিং ইঞ্জিন বা ক্রীড়াক্ষেত্রের প্রাণকেন্দ্র। গত ১৭ বছর ধরে এস্পানিওল ক্লাবের হোম গ্রাউন্ড ‘আরসিডিই স্টেডিয়াম’ ঠিক কর্নেয়ার পাশেই অবস্থিত। ফুটবলের মেসির নতুন এই ডেরাই এখন তাঁর একসময়ের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও প্রতিবেশী ক্লাব এস্পানিওলের ঠিক উল্টো দিকে! এছাড়া মাঠ দুটি থেকে মাত্র কয়েকশ ফুট দূরেই রয়েছে এক বিশাল আন্তর্জাতিক টেনিস সেন্টার, যেখানে বিশ্বসেরা সব উদীয়মান খেলোয়াড় তৈরি করা হচ্ছে।
২০২২-২৩ মৌসুমে কর্নেয়ার স্টেডিয়ামের মান সন্তোষজনক না হওয়ায় ক্লাবটিকে ভাড়াটিয়া হিসেবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এস্পানিওলের আরসিডিই স্টেডিয়ামে খেলতে হয়েছিল। কিন্তু সেটি মাত্র এক বছর স্থায়ী হয়। এরপর ক্লাবটিকে আবারও যাযাবর হতে হয়; তারা প্রথমে গাভা এবং পরে পালামোসে গিয়ে খেলা শুরু করে। সমর্থকদের তাদের প্রিয় দলের খেলা দেখতে প্রায় ১৫৫ মাইল পথ পাড়ি দিতে হতো। কর্নেয়ার ফুটবলার ভিসেন্তে আশাবাদী হয়ে বলেন, ‘আমার মনে হয় না সামনে এমন আর ঘটবে।’
ভিসেন্তে আশাবাদী হতেই পারেন। তাঁর ক্লাবটি মেসি কিনে নেওয়ার পর যে হু হু করে বাড়ছে কর্নেয়ার ব্র্যান্ড ভেল্যু। ক্লাবের ইনস্টাগ্রাম অনুসারী এখন পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। ইন্টার মায়ামির সামাজিক মাধ্যমের পরিসংখ্যানই বলে দেয় মেসির প্রভাব ঠিক কতটা বিশাল। আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী কিংবদন্তি ক্লাবটিতে দেওয়ার আগে তাদের ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার ছিল ৯ লাখ ৫৩ হাজার, টুইটারে ২ লাখ ৭ হাজার এবং টিকটকে ১০ লাখ। আর মেসি আসার পর এই সংখ্যাগুলো এক লাফে যথাক্রমে ১ কোটি ৮২ লাখ, ১৩ লাখ এবং ১ কোটি ৩০ লাখে গিয়ে ঠেকেছে।
ক্লাব মালিক হিসেবে মেসির অভিজ্ঞতা এটিই প্রথম নয়। ২০১৫ সালে তিনি আর্জেন্টিনায় ‘লিওনেস এফসি’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার দেখভাল করেন তাঁর ভাই মাতিয়াস। এছাড়া ২০২৫ সালে তিনি লুইস সুয়ারেজের সাথে উরুগুয়ের লিগের দল ‘দেপোর্তিভো এলএসএম’-এর সঙ্গেও যুক্ত হন।
ইগনাসি সেনাব্রের অধীনে কর্নেয়া বর্তমানে ‘তেরসেরা আরএফইএফ’-এর গ্রুপ ৫-এ খেলছে। তাদের লক্ষ্য ‘সেগুন্দা আরএফইএফ’-এ প্রমোশন পাওয়া, যেখানে বার্সেলোনা আতলেতিকো খেলে থাকে। বর্তমানে তারা প্লে-অফ পজিশনে আছে এবং এই স্কোয়াডে দুটি পরিচিত নাম বেশ নজর কাড়ছে। একজন হলেন গোলরক্ষক রুবেন মিনো, যিনি একসময় মেসির সঙ্গে বার্সার ড্রেসিংরুম শেয়ার করেছিলেন। অন্যজন হলেন সেন্টার ব্যাক ইভান দে লা পেনা—যিনি আশির দশকের স্প্যানিশ ফুটবলের মহাতারকা দে লা পেনার ছেলে। দে লা পেনাই বর্তমানে গাভি এবং এরিক গার্সিয়ার মতো তারকাদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন।
আরও পড়ুন
| ইরানের জায়গায় বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তাবকে ‘লজ্জাজনক’ বলে প্রত্যাখান ইতালির |
|
বার্সেলোনায় বসবাসরত বুলগেরিয়ান নাগরিক দিমিতার বেলচেভ, যিনি লস অ্যাঞ্জেলেস এবং নিউ ইয়র্কে বড় হয়েছেন, তাঁর গায়ে ছিল মেসির অটোগ্রাফ করা একটি জার্সি। তিনি বলেন, ‘মেসি এখানে খেলোয়াড় হিসেবে না এলেও মালিক হিসেবে আসছেন। তিনি সর্বকালের সেরা এবং তাঁর ব্র্যান্ডটি বৈশ্বিক। কর্নেয়া এখনই সারা বিশ্বে পরিচিতি পেয়ে গেছে। আমি নিশ্চিত তিনি যুব ফুটবলে বিনিয়োগ করবেন এবং একটি দুর্দান্ত দল গড়ে তুলবেন।’
অবশ্য মেসির এই নতুন প্রজেক্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা খুব ধীরস্থিরভাবে এগোতে চাচ্ছেন। তাঁরা খুব একটা প্রচার-প্রচারণা চাচ্ছেন না, এমনকি খেলোয়াড়দেরও খুব একটা মিডিয়ার সামনে আনা হচ্ছে না (এখনও কোনো সাক্ষাৎকার দেওয়া হয়নি)। যেহেতু পুরো ক্রয় প্রক্রিয়াটি মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে, তাই তাঁরা এখন ক্লাবের বর্তমান পরিস্থিতি, সুযোগ-সুবিধা এবং উন্নতির সম্ভাবনাগুলো গভীরভাবে বুঝতে চাইছেন। আপাতত মেসি কেবল কর্নেয়া নামটি বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরেছেন।

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল কি নিজের শেষ রাঙিয়ে দেওয়ার মঞ্চ হিসেবে বেছে নিতে পারবেন নেইমার? ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টারের ভাগ্য নির্ধারণে এখন আর এক মাসও বাকি নেই। কোচ কার্লো আনচেলত্তির ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত তালিকায় নিজের নাম লেখাতে মাঠ এবং মাঠের বাইরে সমানতালে লড়ে যাচ্ছেন নেইমার। গ্লোবোর প্রতিবেদন, একদিকে চলছে নিজের শরীরকে শতভাগ ফিট করার লড়াই, অন্যদিকে চলছে ফুটবল ফেডারেশনের নীতিনির্ধারকদের ‘তদবির’।
সান্তোসের হয়ে টানা চার ম্যাচে ৯০ মিনিট খেলেছেন নেইমার। প্রায় এক বছর পর এমন টানা খেলার অভিজ্ঞতা হলো তাঁর। তবে শরীরকে অতিরিক্ত চাপের হাত থেকে বাঁচাতে আগামী শনিবার বাহিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ এবং নেইমারের নিজস্ব চিকিৎসক দল মিলে একটি বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছে, যাতে চোটের ঝুঁকি এড়িয়ে ১৮ মে দল ঘোষণার আগে তিনি নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে পারেন।
ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ হিসেবে কার্লো আনচেলত্তির এটাই প্রথম বড় পরীক্ষা। ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নেইমার দলে জায়গা পাবেন কি না তা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে তাঁর শারীরিক সক্ষমতা এবং টেকনিক্যাল স্কিলের ওপর। তবে সিবিএফ (ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন) প্রধান সামির জাউদের পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন নেইমার। জাউদ নিজে নেইমারের বড় ভক্ত এবং তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপে এই অভিজ্ঞ তারকার উপস্থিতি দলের জন্য ইতিবাচক হবে।
আরও পড়ুন
| আরও বিধ্বংসী রূপে ফেরার বার্তা চোটাক্রান্ত ইয়ামালের |
|
অবশ্য জাউদ এও মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনচেলত্তিরই। এখানে কারিগরি যোগ্যতাই হবে একমাত্র মাপকাঠি।‘
ব্রাজিল ড্রেসিংরুমে নেইমার এখনো এক মহীরুহ। ক্যাসেমিরোর মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় থেকে শুরু করে হোয়াও পেদ্রোর মতো তরুণ তুর্কি—সবাই নেইমারকে দলে চান। চোটের কারণে রদ্রিগো ও এস্তেভাওর বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে সংশয় থাকায় নেইমারের প্রয়োজনীয়তা এখন আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। অলিম্পিক লিওঁর এনড্রিক কিংবা ব্রেন্টফোর্ডের ইগর থিয়াগোদের মতো তরুণেরা লাইমলাইটে থাকলেও নেইমারের অভিজ্ঞতাকে ছোট করে দেখছেন না কেউই।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র বলেছে, ‘নেইমার কেবল একজন খেলোয়াড় নন, তিনি এই দলের অনুপ্রেরণা। তাঁর উপস্থিতি ড্রেসিংরুমের আবহাওয়া বদলে দেয়।’
আপাতত সান্তোসের ‘রেই পেলে’ ট্রেনিং সেন্টারে ঘাম ঝরাচ্ছেন নেইমার। কখনো ক্লাবের মাঠে, কখনো নিজের বাড়ির ব্যক্তিগত জিমনেসিয়ামে চলছে হেক্সা জয়ের স্বপ্ন পূরণের প্রস্তুতি। হাতে সময় মাত্র কয়েক সপ্তাহ। রিও ডি জেনিরোর ফুটবল সদরদপ্তর থেকে যখন আনচেলত্তি স্কোয়াড ঘোষণা করবেন, সেখানে নেইমারের নাম থাকবে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে পুরো ফুটবল বিশ্ব।
ষষ্ঠ শিরোপার খোঁজে থাকা ব্রাজিলের জন্য নেইমার কি হতে পারবেন ট্রাম্প কার্ড, নাকি সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাবে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র? উত্তরটা তোলা রইল মে মাসের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য।

চেলসির সাম্প্রতিক অস্থিরতা আর ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে এনজো ফার্নান্দেজের ভবিষ্যৎ এখন সুতোয় ঝুলছে। মাঠের খেলায় ব্লুজদের টালমাটাল অবস্থা আর মাঠের বাইরের বিবাদ আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডারকে চেলসি থেকে প্রস্থানের পথ দেখাচ্ছে। আর ঠিক এই সুযোগেরই অপেক্ষায় আছেন ম্যানচেস্টার সিটির মাস্টারমাইন্ড পেপ গার্দিওলা।
ব্রাইটনের বিপক্ষে চেলসির শেষ হারটি যেন এনজোর জন্য ছিল তিতকুটে অভিজ্ঞতার চূড়ান্ত বিন্দু। এখন চ্যাম্পিয়নস লিগ বা প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা নিয়ে ভাবার বদলে, কিংবা ঘনিয়ে আসা ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে পরিকল্পনার চেয়েও এনজোর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে চেলসির নতুন কোচ কে হবেন তা নিয়ে। লিয়াম রোজনিয়রের বিদায়ের পর লন্ডনের ক্লাবটিতে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই অস্থিতিশীল পরিবেশই এনজোকে ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্তে প্রলুব্ধ করছে।
চেলসির এই সংকটময় মুহূর্তটি কেবল সমর্থকরাই নয়, খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন খোদ পেপ গার্দিওলা। রিভার প্লেটে এনজোর সোনালী দিনগুলো থেকেই তাঁর ওপর নজর ছিল এই শিরোপাজয়ী কোচের। এবার চেলসির অন্দরমহলের বিবাদ সেই সুপ্ত আগ্রহকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।
আরও পড়ুন
| ইরানের জায়গায় বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তাবকে ‘লজ্জাজনক’ বলে প্রত্যাখান ইতালির |
|
সিটির মাঝমাঠের প্রাণভোমরা বার্নার্দো সিলভা মৌসুম শেষে বিদায় নিচ্ছেন। আরেক মিডফিল্ডার রদ্রিও আবার স্পেনে ফেরার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। মাঝমাঠে এমন একজন ফুটবলার প্রয়োজন যার শারীরিক শক্তির সঙ্গে দক্ষতাও হবে সেই অভাব পূরণের জন্য এনজো যোগ্যতম ব্যক্তি মনে করছে সিটি। দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদন বিষয়টি উঠে আসে।
এনজোর দলবদল নিয়ে নাটকীয়তা কম হয়নি। সম্প্রতি ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা এবং রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ায় তাঁকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল চেলসি কর্তৃপক্ষ। তবে তাঁর প্রতিনিধি হাভিয়ের পাস্তোরে জানিয়েছেন, আপাতত ক্লাবের সঙ্গে বিবাদ মিটে গেছে। ২০৩২ সাল পর্যন্ত চেলসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এনজোর রিলিজ ক্লজ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ কোটি ১০ লাখ ইউরো।
অঙ্কটা বিশাল মনে হলেও ম্যানচেস্টার সিটি, রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা পিএসজির মতো ধনকুবের ক্লাবগুলোর জন্য এটি খুব একটা বড় বাধা নয়। বেনফিকা থেকে রেকর্ড মূল্যে দলে আসা এই আর্জেন্টাইন চেলসির হয়ে ১৬৩ ম্যাচে ২৮ গোল ও ২৯টি গোলে সহায়তা করেছেন। জিতেছেন ক্লাব বিশ্বকাপ ও ইউরোপা লিগের শিরোপাও।
আপাতত চেলসির নীল জার্সিতেই দেখা যাবে এনজোকে। তবে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ইউরোপীয় ফুটবলের দলবদলের বাজারে সবচেয়ে বড় নাম হতে যাচ্ছেন তিনি।

মৌসুম তো ছিটকে পড়া নিশ্চিত ছিলই, এরসঙ্গে বিশ্বকাপের মঞ্চে দর্শক বনে যাওয়ার শঙ্কা চেপে বসেছিল। এমন মুহূর্তে চোট বড় ধাক্কা হয়েই এসেছে লামিনে ইয়ামালের জন্য। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাঠে নেমে দলকে সাহায্য করতে না পারার বাস্তবতা মানতেই পারছেন না বার্সেলোনার ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার। তবে ভক্ত-সমর্থকদের কথা দিলেন, আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার।
লা লিগায় সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে গোল করার ঠিক পরেই হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় ইয়ামালকে। পরীক্ষার পর ক্লাব নিশ্চিত করেছে, ইয়ামালের জন্য এই মৌসুমের সমাপ্তি এখানেই। ২০২৫-২৬ মৌসুমে বার্সার হাতে এখনও লিগের ছয়টি ম্যাচ বাকি।
কাতালান ক্লাবটি সমর্থকদের জন্য অবম্য কিছুটা আশার আলোও দেখিয়েছে। বার্সা জানিয়েছে, ইয়ামাল আসন্ন বিশ্বকাপের আগে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং স্পেনের হয়ে খেলতে পারবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
| ইরানের জায়গা বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তাবকে ‘লজ্জাজনক’ বলে প্রত্যাখান ইতালির |
|
চোটের এই এমন কঠিন সময়ে ইয়ামাল নীরবতা ভেঙে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে একটি বার্তা দিয়েছেন। বার্সার ১০ নম্বর জার্সিধারী লিখেছেন, ‘ঠিক যখন দলের সঙ্গে মাঠে থাকা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখনই এই চোট আমাকে মাঠের বাইরে ছিটকে দিল। এর যন্ত্রণা কতটা গভীর, তা ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষমতা আমার নেই।’
সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে থাকতে না পারার কষ্ট স্বীকার করলেও, লা লিগার শিরোপা লড়াইয়ে ইয়ামাল তাঁর দলের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন, ‘সতীর্থদের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করতে না পারা আর দলের প্রয়োজনে সাহায্য করতে না পারার আক্ষেপ আমাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। কিন্তু আমি ওদের ওপর বিশ্বাস রাখি। আমি জানি প্রতিটা ম্যাচে ওরা নিজেদের সবটুকু ঢেলে দেবে।’
এই ধাক্কা কাটিয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার প্রতিজ্ঞা করে ইয়ামাল আরও যোগ করেন, ‘আমি থাকব, যদিও সেটা মাঠের বাইরে থেকে—তবুও সাধারণ একজন ভক্তের মতোই ওদের সমর্থন দেব, উৎসাহ দেব এবং জয়ের জন্য অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাব।’
এই মৌসুমেও বার্সার আক্রমণভাগের মধ্যমণি হয়ে ছিলেন ইয়ামাল। লিগে ২৮ ম্যাচে ২৭ গোল অবদান রেখেছেন। গোল করেছেন ১৬টি আর সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছে ১১টি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমে তাঁর গোল ২৪।
চোটের ধাক্কা কাটিয়ে আরও বিধ্বংসী রূপে ফেরার বার্তা দিয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘এটা শেষ নয়, এটা শুধুই একটি বিরতি। আমি আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরব, আগের চেয়েও বেশি ক্ষুধা নিয়ে ফিরব। আগামী মৌসুমটা হবে আরও দুর্দান্ত। ভিসকা এল বার্সা (বার্সা দীর্ঘজীবী হোক)।’