২৪ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৫৪ এম

আসন্ন বিশ্বকাপে সুযোগ পেতে পারে ইতালি—এমন জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে দেশটি। গুঞ্জন উঠেছিল, ইতিমধ্যে যোগ্যতা অর্জন করা ইরান যদি টুর্নামেন্টে অংশ না নেয়, তবে ইতালি সেই জায়গায় খেলার সুযোগ পাবে। এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিশেষ দূত প্রস্তাব করেন—টানা তৃতীয়বারের মতো কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়া ইতালিকে ইরানের বদলে বিশ্বকাপে জায়গা দেওয়া উচিত। তবে এভাবে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ নেওয়াকে ‘অনুচিত’ বলল ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। ইরানের গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেই ইরানের পরিবর্তে ইতালির মতো বড় দলকে বিশ্বকাপে সুযোগ দেওয়ার আলোচনা শুরু হয়েছিল, যা এখন সরকারিভাবে নাকচ করে দেওয়া হলো।
এরমধ্যে গত বুধবার ইরানের সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানান, ইরানের ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রণালয় বিশ্বকাপে জাতীয় দলের অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছে। অর্থাৎ ইরান খেলার জন্য শতভাগ প্রস্তুত।
আরও পড়ুন
| সালাহর ট্রান্সফার নিয়ে সত্যতা জানাল জুভেন্টাস |
|
বিপরীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিশেষ দূত প্রস্তাব করেছেন—টানা তৃতীয়বারের মতো কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়া ইতালিকে ইরানের বদলে বিশ্বকাপে জায়গা দেওয়া উচিত। পাওলো জাম্পোলি নামের এই ইতালীয়-আমেরিকান দূত, যিনি বৈশ্বিক সম্পর্কের জন্য আমেরিকার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন, তিনি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানান, তিনি এই প্রস্তাবটি সরাসরি ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জান্নি ইনফান্তিনোকে দিয়েছেন।
জাম্পোলি বলেন, ‘আমি জন্মগতভাবে ইতালীয়, তাই আমেরিকার মাটিতে আয়োজিত টুর্নামেন্টে 'আজ্জুরি'দের (ইতালি) দেখাটা হবে এক স্বপ্নের মতো। চারটি বিশ্বকাপ জয়ী দল হিসেবে তাদের সেই ঐতিহ্য আছে যা দিয়ে তাদের অন্তর্ভুক্তিকে যুক্তিযুক্ত করা যায়।’
জাম্পোলির এই প্রস্তাবের বিষয়ে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বিবিসি তাদের সূত্র বরাতে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বিষয়টি নিয়ে ফিফার কোনো পরিকল্পনা নেই।
ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি এই প্রস্তাবকে রীতিমতো ধিক্কার জানিয়ে বলেছেন, ‘এটি একদমই অনুচিত... যোগ্যতা অর্জন করতে হয় খেলার মাঠে।’ এমনকি ইতালির অর্থনীতি মন্ত্রী জানকার্লো জিওরজেত্তি এই বিষয়টিকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এই অদ্ভুত প্রস্তাব খোদ ইতালিয়ান সমর্থকদেরও বিব্রত করেছে। দেশটির প্রধান ক্রীড়া ওয়েবসাইটগুলো এই খবরটিকে স্রেফ এড়িয়ে গেছে, রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তারাও এটি প্রত্যাখ্যান করতে দেরি করেননি। ইতালীয় অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট লুসিয়ানো বুওনফিগ্লিও বলেন, ‘প্রথমত, আমি মনে করি না এটি সম্ভব। দ্বিতীয়ত, আমি এতে অপমানিত বোধ করছি। বিশ্বকাপে যেতে হলে সেটা অর্জন করে নিতে হয়।’
ইতালির প্রখ্যাত কোচ জিয়ান্নি ডি বিয়াসি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘এটি একটি অবাস্তব প্রস্তাব। তর্কের খাতিরে ইরান যদি নাও খেলে, তবে লজিক অনুযায়ী বাছাইপর্বে তাদের ঠিক পেছনে থাকা দলটিই সুযোগ পাবে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘ইতালির এই বিষয়ে ট্রাম্পের সমর্থনের প্রয়োজন নেই। আমরা নিজেদেরটা নিজেরা সামলাতে পারি।’
ইরান গত বছর টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। যুদ্ধ শুরুর পর তারা ফিফাকে অনুরোধ করেছিল তাদের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ যেন আমেরিকা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে নেওয়া হয়, কিন্তু ফিফা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপ নিয়ে শঙ্কা নেই ইয়ামালের |
|
ইরান এখন তাদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ীই এগোচ্ছে। গত বুধবার তেহরানে এক সরকারি সমাবেশে ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মেহেদি তাজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপের জন্য সবরকম প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা নিচ্ছি, তবে আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের প্রতি অনুগত।’
যদি কোনো নাটকীয় পরিস্থিতিতে ইরান বাদ পড়েও যায়, তবে তাদের বদলি কে হবে সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ফিফার হাতে। বিশ্বকাপের বিধিমালার 'ধারা ৬' অনুযায়ী, ফিফা চাইলে যেকোনো দেশকেই ডেকে নিতে পারে। তবে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) চাইবে এই জায়গাটি যেন এশিয়ার কোনো দেশই পায়। সেক্ষেত্রে গত নভেম্বরে ইরাকের কাছে প্লে-অফে হেরে যাওয়া সংযুক্ত আরব আমিরাত হতে পারে সবচেয়ে যৌক্তিক পছন্দ।
আগামী ১১ জুন বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে এবং ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরানের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
No posts available.

নৌ এস্তাদি মিউনিসিপ্যালের প্রবেশপথে একটি অস্থায়ী দোকানে ঝুলছে একটি সবুজ জার্সি, যার পেছনে কেবল একটি শব্দ লেখা—‘মেসি’। আর এই দৃশ্যটিই নিশ্চিত করছে সম্প্রতি তোলপাড় সৃষ্টি করা খবরটিকে। বার্সেলোনার শিল্পাঞ্চলের অন্যতম শহর কর্নেয়া, যেখানে প্রায় এক লক্ষ মানুষের বসবাস এবং যাদের দীর্ঘদিনের শ্রমিক ও সমাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য রয়েছে (গণতন্ত্র ফেরার পর থেকে শহরের সব মেয়রই এই ঘরানার)।
গত ১৬ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়, বার্সেলোনার ইতিহাসের সেরা এবং তর্কাতিতভাবে ফুটবল ইতিহাসেরই সর্বকালের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় মেসি—ইউই কর্নেয়া ক্লাবটি কিনে নিয়েছেন। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটি বর্তমানে স্পেনের ‘তেরসেরা আরএফইএফ’-এ খেলছে এবং তাদের যুব একাডেমিটি স্পেনের অন্যতম সেরা হিসেবে স্বীকৃত।
কাতালান ফুটবলে এই ঘটনাকে সমর্থকরা গ্যালারিতে বসে বলছেন, ‘বছরের সেরা বোমা’। খবরটি প্রায় সবাইকে চমকে দিলেও কেউ কেউ হয়তো কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন। কর্নেয়ার মেয়র আন্তোনিও বালমন ভিডিও কলের মাধ্যমে মেসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। যদিও কর্নেয়ার মূলধন ব্যক্তিগত মালিকানাধীন, কিন্তু ক্লাবের মাঠ ও অবকাঠামো সরকারি (মিউনিসিপ্যাল)। ফলে নগর কাউন্সিল ও স্পেনের উচ্চতর ক্রীড়া কাউন্সিলকে এই প্রক্রিয়ায় অবগত রাখতে হয়েছে।
আরও পড়ুন
| আরও বিধ্বংসী রূপে ফেরার বার্তা চোটাক্রান্ত ইয়ামালের |
|
কর্নেয়ার শহরটি কাতালোনিয়ার স্পোর্টিং ইঞ্জিন বা ক্রীড়াক্ষেত্রের প্রাণকেন্দ্র। গত ১৭ বছর ধরে এস্পানিওল ক্লাবের হোম গ্রাউন্ড ‘আরসিডিই স্টেডিয়াম’ ঠিক কর্নেয়ার পাশেই অবস্থিত। ফুটবলের মেসির নতুন এই ডেরাই এখন তাঁর একসময়ের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও প্রতিবেশী ক্লাব এস্পানিওলের ঠিক উল্টো দিকে! এছাড়া মাঠ দুটি থেকে মাত্র কয়েকশ ফুট দূরেই রয়েছে এক বিশাল আন্তর্জাতিক টেনিস সেন্টার, যেখানে বিশ্বসেরা সব উদীয়মান খেলোয়াড় তৈরি করা হচ্ছে।
২০২২-২৩ মৌসুমে কর্নেয়ার স্টেডিয়ামের মান সন্তোষজনক না হওয়ায় ক্লাবটিকে ভাড়াটিয়া হিসেবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এস্পানিওলের আরসিডিই স্টেডিয়ামে খেলতে হয়েছিল। কিন্তু সেটি মাত্র এক বছর স্থায়ী হয়। এরপর ক্লাবটিকে আবারও যাযাবর হতে হয়; তারা প্রথমে গাভা এবং পরে পালামোসে গিয়ে খেলা শুরু করে। সমর্থকদের তাদের প্রিয় দলের খেলা দেখতে প্রায় ১৫৫ মাইল পথ পাড়ি দিতে হতো। কর্নেয়ার ফুটবলার ভিসেন্তে আশাবাদী হয়ে বলেন, ‘আমার মনে হয় না সামনে এমন আর ঘটবে।’
ভিসেন্তে আশাবাদী হতেই পারেন। তাঁর ক্লাবটি মেসি কিনে নেওয়ার পর যে হু হু করে বাড়ছে কর্নেয়ার ব্র্যান্ড ভেল্যু। ক্লাবের ইনস্টাগ্রাম অনুসারী এখন পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। ইন্টার মায়ামির সামাজিক মাধ্যমের পরিসংখ্যানই বলে দেয় মেসির প্রভাব ঠিক কতটা বিশাল। আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী কিংবদন্তি ক্লাবটিতে দেওয়ার আগে তাদের ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার ছিল ৯ লাখ ৫৩ হাজার, টুইটারে ২ লাখ ৭ হাজার এবং টিকটকে ১০ লাখ। আর মেসি আসার পর এই সংখ্যাগুলো এক লাফে যথাক্রমে ১ কোটি ৮২ লাখ, ১৩ লাখ এবং ১ কোটি ৩০ লাখে গিয়ে ঠেকেছে।
ক্লাব মালিক হিসেবে মেসির অভিজ্ঞতা এটিই প্রথম নয়। ২০১৫ সালে তিনি আর্জেন্টিনায় ‘লিওনেস এফসি’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার দেখভাল করেন তাঁর ভাই মাতিয়াস। এছাড়া ২০২৫ সালে তিনি লুইস সুয়ারেজের সাথে উরুগুয়ের লিগের দল ‘দেপোর্তিভো এলএসএম’-এর সঙ্গেও যুক্ত হন।
ইগনাসি সেনাব্রের অধীনে কর্নেয়া বর্তমানে ‘তেরসেরা আরএফইএফ’-এর গ্রুপ ৫-এ খেলছে। তাদের লক্ষ্য ‘সেগুন্দা আরএফইএফ’-এ প্রমোশন পাওয়া, যেখানে বার্সেলোনা আতলেতিকো খেলে থাকে। বর্তমানে তারা প্লে-অফ পজিশনে আছে এবং এই স্কোয়াডে দুটি পরিচিত নাম বেশ নজর কাড়ছে। একজন হলেন গোলরক্ষক রুবেন মিনো, যিনি একসময় মেসির সঙ্গে বার্সার ড্রেসিংরুম শেয়ার করেছিলেন। অন্যজন হলেন সেন্টার ব্যাক ইভান দে লা পেনা—যিনি আশির দশকের স্প্যানিশ ফুটবলের মহাতারকা দে লা পেনার ছেলে। দে লা পেনাই বর্তমানে গাভি এবং এরিক গার্সিয়ার মতো তারকাদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন।
আরও পড়ুন
| ইরানের জায়গায় বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তাবকে ‘লজ্জাজনক’ বলে প্রত্যাখান ইতালির |
|
বার্সেলোনায় বসবাসরত বুলগেরিয়ান নাগরিক দিমিতার বেলচেভ, যিনি লস অ্যাঞ্জেলেস এবং নিউ ইয়র্কে বড় হয়েছেন, তাঁর গায়ে ছিল মেসির অটোগ্রাফ করা একটি জার্সি। তিনি বলেন, ‘মেসি এখানে খেলোয়াড় হিসেবে না এলেও মালিক হিসেবে আসছেন। তিনি সর্বকালের সেরা এবং তাঁর ব্র্যান্ডটি বৈশ্বিক। কর্নেয়া এখনই সারা বিশ্বে পরিচিতি পেয়ে গেছে। আমি নিশ্চিত তিনি যুব ফুটবলে বিনিয়োগ করবেন এবং একটি দুর্দান্ত দল গড়ে তুলবেন।’
অবশ্য মেসির এই নতুন প্রজেক্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা খুব ধীরস্থিরভাবে এগোতে চাচ্ছেন। তাঁরা খুব একটা প্রচার-প্রচারণা চাচ্ছেন না, এমনকি খেলোয়াড়দেরও খুব একটা মিডিয়ার সামনে আনা হচ্ছে না (এখনও কোনো সাক্ষাৎকার দেওয়া হয়নি)। যেহেতু পুরো ক্রয় প্রক্রিয়াটি মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে, তাই তাঁরা এখন ক্লাবের বর্তমান পরিস্থিতি, সুযোগ-সুবিধা এবং উন্নতির সম্ভাবনাগুলো গভীরভাবে বুঝতে চাইছেন। আপাতত মেসি কেবল কর্নেয়া নামটি বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরেছেন।

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল কি নিজের শেষ রাঙিয়ে দেওয়ার মঞ্চ হিসেবে বেছে নিতে পারবেন নেইমার? ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টারের ভাগ্য নির্ধারণে এখন আর এক মাসও বাকি নেই। কোচ কার্লো আনচেলত্তির ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত তালিকায় নিজের নাম লেখাতে মাঠ এবং মাঠের বাইরে সমানতালে লড়ে যাচ্ছেন নেইমার। গ্লোবোর প্রতিবেদন, একদিকে চলছে নিজের শরীরকে শতভাগ ফিট করার লড়াই, অন্যদিকে চলছে ফুটবল ফেডারেশনের নীতিনির্ধারকদের ‘তদবির’।
সান্তোসের হয়ে টানা চার ম্যাচে ৯০ মিনিট খেলেছেন নেইমার। প্রায় এক বছর পর এমন টানা খেলার অভিজ্ঞতা হলো তাঁর। তবে শরীরকে অতিরিক্ত চাপের হাত থেকে বাঁচাতে আগামী শনিবার বাহিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ এবং নেইমারের নিজস্ব চিকিৎসক দল মিলে একটি বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছে, যাতে চোটের ঝুঁকি এড়িয়ে ১৮ মে দল ঘোষণার আগে তিনি নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে পারেন।
ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ হিসেবে কার্লো আনচেলত্তির এটাই প্রথম বড় পরীক্ষা। ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নেইমার দলে জায়গা পাবেন কি না তা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে তাঁর শারীরিক সক্ষমতা এবং টেকনিক্যাল স্কিলের ওপর। তবে সিবিএফ (ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন) প্রধান সামির জাউদের পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন নেইমার। জাউদ নিজে নেইমারের বড় ভক্ত এবং তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপে এই অভিজ্ঞ তারকার উপস্থিতি দলের জন্য ইতিবাচক হবে।
আরও পড়ুন
| আরও বিধ্বংসী রূপে ফেরার বার্তা চোটাক্রান্ত ইয়ামালের |
|
অবশ্য জাউদ এও মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনচেলত্তিরই। এখানে কারিগরি যোগ্যতাই হবে একমাত্র মাপকাঠি।‘
ব্রাজিল ড্রেসিংরুমে নেইমার এখনো এক মহীরুহ। ক্যাসেমিরোর মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় থেকে শুরু করে হোয়াও পেদ্রোর মতো তরুণ তুর্কি—সবাই নেইমারকে দলে চান। চোটের কারণে রদ্রিগো ও এস্তেভাওর বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে সংশয় থাকায় নেইমারের প্রয়োজনীয়তা এখন আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। অলিম্পিক লিওঁর এনড্রিক কিংবা ব্রেন্টফোর্ডের ইগর থিয়াগোদের মতো তরুণেরা লাইমলাইটে থাকলেও নেইমারের অভিজ্ঞতাকে ছোট করে দেখছেন না কেউই।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র বলেছে, ‘নেইমার কেবল একজন খেলোয়াড় নন, তিনি এই দলের অনুপ্রেরণা। তাঁর উপস্থিতি ড্রেসিংরুমের আবহাওয়া বদলে দেয়।’
আপাতত সান্তোসের ‘রেই পেলে’ ট্রেনিং সেন্টারে ঘাম ঝরাচ্ছেন নেইমার। কখনো ক্লাবের মাঠে, কখনো নিজের বাড়ির ব্যক্তিগত জিমনেসিয়ামে চলছে হেক্সা জয়ের স্বপ্ন পূরণের প্রস্তুতি। হাতে সময় মাত্র কয়েক সপ্তাহ। রিও ডি জেনিরোর ফুটবল সদরদপ্তর থেকে যখন আনচেলত্তি স্কোয়াড ঘোষণা করবেন, সেখানে নেইমারের নাম থাকবে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে পুরো ফুটবল বিশ্ব।
ষষ্ঠ শিরোপার খোঁজে থাকা ব্রাজিলের জন্য নেইমার কি হতে পারবেন ট্রাম্প কার্ড, নাকি সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাবে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র? উত্তরটা তোলা রইল মে মাসের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য।

চেলসির সাম্প্রতিক অস্থিরতা আর ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে এনজো ফার্নান্দেজের ভবিষ্যৎ এখন সুতোয় ঝুলছে। মাঠের খেলায় ব্লুজদের টালমাটাল অবস্থা আর মাঠের বাইরের বিবাদ আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডারকে চেলসি থেকে প্রস্থানের পথ দেখাচ্ছে। আর ঠিক এই সুযোগেরই অপেক্ষায় আছেন ম্যানচেস্টার সিটির মাস্টারমাইন্ড পেপ গার্দিওলা।
ব্রাইটনের বিপক্ষে চেলসির শেষ হারটি যেন এনজোর জন্য ছিল তিতকুটে অভিজ্ঞতার চূড়ান্ত বিন্দু। এখন চ্যাম্পিয়নস লিগ বা প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা নিয়ে ভাবার বদলে, কিংবা ঘনিয়ে আসা ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে পরিকল্পনার চেয়েও এনজোর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে চেলসির নতুন কোচ কে হবেন তা নিয়ে। লিয়াম রোজনিয়রের বিদায়ের পর লন্ডনের ক্লাবটিতে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই অস্থিতিশীল পরিবেশই এনজোকে ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্তে প্রলুব্ধ করছে।
চেলসির এই সংকটময় মুহূর্তটি কেবল সমর্থকরাই নয়, খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন খোদ পেপ গার্দিওলা। রিভার প্লেটে এনজোর সোনালী দিনগুলো থেকেই তাঁর ওপর নজর ছিল এই শিরোপাজয়ী কোচের। এবার চেলসির অন্দরমহলের বিবাদ সেই সুপ্ত আগ্রহকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।
আরও পড়ুন
| ইরানের জায়গায় বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তাবকে ‘লজ্জাজনক’ বলে প্রত্যাখান ইতালির |
|
সিটির মাঝমাঠের প্রাণভোমরা বার্নার্দো সিলভা মৌসুম শেষে বিদায় নিচ্ছেন। আরেক মিডফিল্ডার রদ্রিও আবার স্পেনে ফেরার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। মাঝমাঠে এমন একজন ফুটবলার প্রয়োজন যার শারীরিক শক্তির সঙ্গে দক্ষতাও হবে সেই অভাব পূরণের জন্য এনজো যোগ্যতম ব্যক্তি মনে করছে সিটি। দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদন বিষয়টি উঠে আসে।
এনজোর দলবদল নিয়ে নাটকীয়তা কম হয়নি। সম্প্রতি ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা এবং রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ায় তাঁকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল চেলসি কর্তৃপক্ষ। তবে তাঁর প্রতিনিধি হাভিয়ের পাস্তোরে জানিয়েছেন, আপাতত ক্লাবের সঙ্গে বিবাদ মিটে গেছে। ২০৩২ সাল পর্যন্ত চেলসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এনজোর রিলিজ ক্লজ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ কোটি ১০ লাখ ইউরো।
অঙ্কটা বিশাল মনে হলেও ম্যানচেস্টার সিটি, রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা পিএসজির মতো ধনকুবের ক্লাবগুলোর জন্য এটি খুব একটা বড় বাধা নয়। বেনফিকা থেকে রেকর্ড মূল্যে দলে আসা এই আর্জেন্টাইন চেলসির হয়ে ১৬৩ ম্যাচে ২৮ গোল ও ২৯টি গোলে সহায়তা করেছেন। জিতেছেন ক্লাব বিশ্বকাপ ও ইউরোপা লিগের শিরোপাও।
আপাতত চেলসির নীল জার্সিতেই দেখা যাবে এনজোকে। তবে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ইউরোপীয় ফুটবলের দলবদলের বাজারে সবচেয়ে বড় নাম হতে যাচ্ছেন তিনি।

মৌসুম তো ছিটকে পড়া নিশ্চিত ছিলই, এরসঙ্গে বিশ্বকাপের মঞ্চে দর্শক বনে যাওয়ার শঙ্কা চেপে বসেছিল। এমন মুহূর্তে চোট বড় ধাক্কা হয়েই এসেছে লামিনে ইয়ামালের জন্য। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাঠে নেমে দলকে সাহায্য করতে না পারার বাস্তবতা মানতেই পারছেন না বার্সেলোনার ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার। তবে ভক্ত-সমর্থকদের কথা দিলেন, আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার।
লা লিগায় সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে গোল করার ঠিক পরেই হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় ইয়ামালকে। পরীক্ষার পর ক্লাব নিশ্চিত করেছে, ইয়ামালের জন্য এই মৌসুমের সমাপ্তি এখানেই। ২০২৫-২৬ মৌসুমে বার্সার হাতে এখনও লিগের ছয়টি ম্যাচ বাকি।
কাতালান ক্লাবটি সমর্থকদের জন্য অবম্য কিছুটা আশার আলোও দেখিয়েছে। বার্সা জানিয়েছে, ইয়ামাল আসন্ন বিশ্বকাপের আগে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং স্পেনের হয়ে খেলতে পারবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
| ইরানের জায়গা বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তাবকে ‘লজ্জাজনক’ বলে প্রত্যাখান ইতালির |
|
চোটের এই এমন কঠিন সময়ে ইয়ামাল নীরবতা ভেঙে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে একটি বার্তা দিয়েছেন। বার্সার ১০ নম্বর জার্সিধারী লিখেছেন, ‘ঠিক যখন দলের সঙ্গে মাঠে থাকা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখনই এই চোট আমাকে মাঠের বাইরে ছিটকে দিল। এর যন্ত্রণা কতটা গভীর, তা ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষমতা আমার নেই।’
সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে থাকতে না পারার কষ্ট স্বীকার করলেও, লা লিগার শিরোপা লড়াইয়ে ইয়ামাল তাঁর দলের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন, ‘সতীর্থদের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করতে না পারা আর দলের প্রয়োজনে সাহায্য করতে না পারার আক্ষেপ আমাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। কিন্তু আমি ওদের ওপর বিশ্বাস রাখি। আমি জানি প্রতিটা ম্যাচে ওরা নিজেদের সবটুকু ঢেলে দেবে।’
এই ধাক্কা কাটিয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার প্রতিজ্ঞা করে ইয়ামাল আরও যোগ করেন, ‘আমি থাকব, যদিও সেটা মাঠের বাইরে থেকে—তবুও সাধারণ একজন ভক্তের মতোই ওদের সমর্থন দেব, উৎসাহ দেব এবং জয়ের জন্য অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাব।’
এই মৌসুমেও বার্সার আক্রমণভাগের মধ্যমণি হয়ে ছিলেন ইয়ামাল। লিগে ২৮ ম্যাচে ২৭ গোল অবদান রেখেছেন। গোল করেছেন ১৬টি আর সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছে ১১টি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমে তাঁর গোল ২৪।
চোটের ধাক্কা কাটিয়ে আরও বিধ্বংসী রূপে ফেরার বার্তা দিয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘এটা শেষ নয়, এটা শুধুই একটি বিরতি। আমি আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরব, আগের চেয়েও বেশি ক্ষুধা নিয়ে ফিরব। আগামী মৌসুমটা হবে আরও দুর্দান্ত। ভিসকা এল বার্সা (বার্সা দীর্ঘজীবী হোক)।’

গ্রীষ্মেই লিভারপুল ছাড়ছেন মোহাম্মদ সালাহ। মিশরীয় রাজপুত্রের সম্ভাব্য পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে আলোচনা বেশ জোরদার। গুঞ্জন উঠেছে, জুভেন্টাসে ভিড়ছেন সালাহ। যদিও ইতালিয়ান ক্লাবটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে— লিভারপুল ফরোয়ার্ডকে কোনো প্রস্তাবই দেওয়া হয়নি।
অ্যানফিল্ডের ক্লাবের সঙ্গে আরও একবছরের চুক্তি রয়েছে সালাহর। তবে এই মৌসুম শেষে তাকে ফ্রি ট্রান্সফারে ক্লাব ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ৩৩ বছর বয়সী তারকাকে পেতে ইতোমধ্যে ইউরোপ ও সৌদির বিভিন্ন ক্লাব যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। তার মধ্যে ঘটা করে কথা উঠেছে জুভেন্টাসের নাম।
সিরি’আ জায়ান্ট জুভেন্টাস সালাহর প্রতিনিধির সাথে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে—এমন খবর গণমাধ্যমে চাউর। যদিও জুভেন্টাসের স্পোর্টিং ডিরেক্টর মার্কো ওত্তোলিনি এই খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি ‘৩৬৫ স্কোরস’-কে বলেন,
‘মোহাম্মদ সালাহকে নিয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে তা সত্য নয়। এই মুহূর্তে তাকে নিয়ে আমাদের কোনো পরিকল্পনা নেই।’
সালাহর এজেন্ট রামি আব্বাস ইসাও গতমাসে জানিয়েছেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন,
‘মোহাম্মদ আগামী মৌসুমে কোথায় খেলবেন তা আমরা নিজেরাও জানি না। এর অর্থ হলো, অন্য কারও জানার প্রশ্নই আসে না।’