২৫ মার্চ ২০২৬, ১০:২৮ পিএম

অদ্ভুত বোলিং অ্যাকশনের কারণে আলোচনায় আসেন পাকিস্তানের স্পিনার উসমান তারিক। অনন্য বোলিং স্টাইলের কারণে নজর কেড়েছেন তিনি। এই স্পিনারের বোলিংয়ে রয়েছে নানান বৈচিত্র্য, কিন্তু তাঁর ডেলিভারির ধরণই সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয়। উসমান তাঁর সাইড-আর্ম অ্যাকশনে মাঝে হঠাৎ থামেন, তারপর বল ছাড়েন। এমন বোলিং অ্যাকশন ব্যাটারদের জন্য রীতিমতো গোলকধাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে।
অন্যরকম এই বোলিংয়ে বেশ সাফল্যও পাচ্ছেন উসমান তারিক। আর তাই তো অনেক স্পিনারই এটিকে নকল করার চেষ্টাও করছেন। এমনই একটি ঘটনা দেখা গেল শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ম্যাচে। উসমানের এই অ্যাকশনকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) দুইবার বৈধ হিসেবে অনুমোদন দিলেও পার পেলেন না শ্রীলঙ্কান ওই স্পিনার। কিন্তু আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত সবাইকে চমকে দিয়েছে।
ঘটনা শ্রীলঙ্কার ‘লাভার্স কোয়ারেল’ প্রতিযোগিতায়। যখন রিচমন্ড কলেজ ও মহিন্দা কলেজ একে অপরের বিপক্ষে খেলছিল। রিচমন্ডের হয়ে খেলা লেফট-আর্ম স্পিনার নেথুজা বাসিথা উসমান তারিকের স্টাইল অনুকরণ করার চেষ্টা করেছিলেন। বল ছাড়ার আগমুহূর্তে একমুহূর্ত থেমে যাওয়ার পর বল ছুঁড়লেন তিনি। তবে দুঃখের বিষয় আম্পায়ার সেটিকে ‘ডেড বল’ ঘোষণা করেন।
মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের ৪১.১ ধারা অনুযায়ী, কোনও বোলার যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাটারকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন, তখন আম্পায়ার ‘ডেড বল’ ঘোষণা করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বাসিথার বল করতে করতে থেমে যাওয়া, স্বাভাবিক বোলিং অ্যাকশনের অংশ নয় বলেই মনে করেছেন আম্পায়ার। এটাকে ইচ্ছাকৃত গণ্য করা হয়েছে। এখানেই তারিকের বোলিং অ্যাকশনের সঙ্গে পার্থক্য। পাক স্পিনারের বোলিং অ্যাকশনে এই থেমে যাওয়া একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত অংশ, তাই বৈধ বলে ধরা হয়।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের জন্য আতঙ্ক হয়ে উঠবে বলে আশা করা হয়েছিল, কিন্তু পাকিস্তান স্পিনার মূলত শান্তভাবেই টুর্নামেন্টটি পার করেছেন। দল সুপার এইটের পর সেমিফাইনালে যেতে না পারলেও তিনি ছয় ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন, ইকোনমি রেট ৭.২৩।
টুর্নামেন্ট চলাকালীন তারিক বলেন,
‘আমি আশা করিনি যে এতটা প্রশংসা পাবো, কিংবদন্তির কাছ থেকেও এবং আপনাদের (ধারাভাষ্যকর) কাছ থেকেও। প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি এবং আমার পারফরম্যান্স উপভোগ করছি।’
উসমান জানান, তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে টেনিস বল দিয়ে খেলার সময় থেকেই অনন্য এই বোলিং অ্যাকশন রপ্ত করেছিলেন তিনি, যা তার খেলার শুরু থেকেই ছিল এবং এখনও তাকে সাফল্য এনে দিচ্ছে,
‘হ্যাঁ, এই অ্যাকশনও শুরু থেকেই তৈরি করা হয়েছিল যখন আমি টেনিস বল দিয়ে বোলিং করতাম। যদি ধীর গতিতে আমার অ্যাকশন দেখেন, আপনি দেখবেন টাইমিং এখনও আছে, তবে আমি ধীরে ধীরে মুভ করছি। আমি শুধু বোলিং অ্যাকশনের ক্ষুদ্র ফ্র্যাকশনগুলো ভাঙার চেষ্টা করি। এভাবেই এটি আমার জন্য কাজ করছে।’
No posts available.
২৫ মার্চ ২০২৬, ৩:৪৫ পিএম

বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে সাকিব-তামিমের সঙ্গে শুরু করেছেন মুশফিকুর রহিম। নেতৃত্বগুনও তার ছিল দারুণ। বিকেএসপি থেকে বেড়ে ওঠা মুশফিকুর রহিমের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে সাকিব-তামিমের আগে। তবে ক্যারিয়ারজুড়ে সাকিব-তামিমের তারকাদ্যুতির কাছে ছিলেন না মুশফিকুর রহিম কোনো দিন। তবে সাকিব-তামিমের চেয়েও নিজের প্রোফাইলটা নিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিম ডাবলের সংখ্যার দিক থেকেও সবার উপরে (৩টি)।বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সবার আগে আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন মুশফিকুর রহিম।
মাত্র ১৭ বছর বয়সে টেস্ট ম্যাচের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে মুশফিকুর রহিম। ২১ বছর পেরিয়েও টেস্টে টিকে আছেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের মধ্যে সবার আগে টেস্ট ম্যাচের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন মুশফিকুর রহিম। প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে আরও বেশ কিছু মাইলস্টোনের সামনে দাঁড়িয়ে এই ক্রিকেটার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রানের মালিক ( ১৫৮০৫ রান) মুশফিকুর রহিমের সামনে এখন হাতছানি দিচ্ছে ১৬ হাজার রানের রানের মাইলফলক স্পর্শ করা। আর মাত্র ১৯৫ রান করলে মুশফিকুর রহিম এই মাইলস্টোনে পা রাখবেন।
আরও পড়ুন
| নিউ জিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার হ্যাটট্রিক |
|
টেস্টে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ৬ হাজার রান স্পর্শ করেছেন মুশফিকুর রহিম। সবার আগে টেস্টে ৭ হাজার রান পূর্ণ করার হাতছানিও দিচ্ছে মুশফিকুর রহিমের সামনে। টেস্টে আর ৪৯০ রান হলেই এই গর্বিত ল্যান্ডমার্কে পা রাখবেন মুশফিকুর রহিম।
গত নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের শততম টেস্টে সেঞ্চুরিতে ইতিহাস রচনার পর পরবর্তী টেস্টের জন্য মুশফিককে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ৬ মাস। আগামী মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ দিয়ে শুরু হবে মুশফিকুর রহিমের নুতন মিশন। তবে পরের টেস্ট সিরিজগুলোতে অপেক্ষার প্রহর বাড়ছে না। এ বছরে এখনও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে খেলতে হবে ৮টি টেস্ট। সেকারণেই টেস্টে অপরিহার্য মুশফিকুর রহিমের এই ল্যান্ডমার্কে পা দেয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
২১ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ইনজুরি খুব একটা ভোগায়নি মুশফিকুর রহিমকে। মিরপুরে ব্যাটিং রাজ মুশফিকুর রহিম ইতোমধ্যে ছাড়িয়ে গেছেন সবাইকে। ইতোমধ্যে তিন ফরম্যাট মিলে মোট প্রিয় ভেন্যুতে ১৫৬ ম্যাচে ৫১০৯ রানে আছেন সবার উপরে। ওডিআই, টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানিয়ে এখন শুধু টিকে আছেন টেস্টে। তারপরও ২ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের একটি যেহেতু মিরপুর বছরের পর বছর বরাদ্দ পেয়ে আসছে, তাই শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে মুশফিকুর রহিমের ল্যান্ডমার্কটা হতে যাচ্ছে আরও বড়। এই ভেন্যুতে ৬ হাজার রানে চোখ রেখেছেন মুশফিকুর রহিম।
আরও পড়ুন
| টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে নিউ জিল্যান্ড পেসারদের জয়জয়কার |
|
ওডিআই ক্রিকেটে আর মাত্র ২০৫ রান করতে পারলে তামিম ইকবালের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে ৮ হাজার রান পূর্ণ করতে পারতেন মুশফিকুর রহিম। তবে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে থেমেছেন মুশফিকুর রহিম। রাওয়ালপিণ্ডিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে ওডিআই ক্রিকেটকে গুডবাই জানিয়ে প্রিয় এই ফরম্যাটকে জানিয়েছেন বিদায়।
আক্ষেপ আছে তাঁর আরও। উইকেট কিপার কাম ব্যাটারের পরিচয় থেকে টেস্টে উইকেট কিপিং গ্লোভস খুলে ফেলতে হয়েছে নানামুখী পার্শ্বচাপে। এবং সেই চাপটা দিয়েছিলেন বিসিবির সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ২০১৭ সালে ভারতের হায়দারাবাদ টেস্ট চলাকালে সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাতকারে মুশফিকুর রহিমকে কিপিং গ্লোভস খুলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের পর সাদা জার্সি-লাল বলের ক্রিকেটে কিপিং গ্লোভস হাতে উঠেছে কদাচিৎ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫০০ ডিসমিসালের স্বপ্ন তার পূর্ণ হয়নি। ২৮টি ডিসমিসালের আক্ষেপ নিয়ে উইকেট কিপিং গ্লোভস খুলে ফেলতে হয়েছে মুশফিকুর রহিমকে।
আরও পড়ুন
| স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে লাল-সবুজের লড়াই |
|
৫০০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের মাইলস্টোন পূর্ণ করাও তার জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ৩৮ বছর ৩২০ দিন বয়সে দাঁড়িয়ে ক্রিকেট ক্যারিয়ারকে কতোটাইবা বড় করার কথা ভাবছেন। চল্লিশ বছর পেরিয়েও কী টিকে থাকতে পারবেন টেস্টে ? আন্তর্জাতিক ম্যাচের ৫০০ পূর্ণ করতে এখনও যে তার বাকি ২৪টি ম্যাচ। একাধিক ফরম্যাটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকলে হয়তবা প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ৫০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাইলস্টোন থাকতো না অপূর্ণ। তবে যেখানে বাংলাদেশ বছরে গড়পড়তা ৮টির বেশি টেস্ট খেলেনি অতীতে, সেই হিসেবে অবশিষ্ট ২৪টি ম্যাচ খেলতে মুশফিকুর রহিমকে অপেক্ষা করতে হবে আরও অন্তত ৩ বছর। সে পর্যন্ত নিজেকে ফিট রেখে সমালোচকদের মুখ থামিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে মুশফিকুর রহিমের টিকে থাকাটা ভবিষ্যতের উপর ছেড়ে দিতে হচ্ছে। ৫০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড আছে ১১ কিংবদন্তি ক্রিকেটারের। যে রেকর্ডে উইকেটবিপার-কাম ব্যাটারের সংখ্যা দুজন-সাঙ্গাকারা এবং ধোনি। মাত্র ১ ম্যাচের জন্য ৫০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচের এলিট লিস্টে নাম ওঠাতে পারেননি পাকিস্তান লিজেন্ডারি ইনজামাম উল হক। খুব কাছে যেয়ে থেমে যাওয়ার শঙ্কাও তাই দেখছেন মুশফিক ভক্তরা।

পরপর দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে আলো ছড়ালেন কনর এস্তেহেইজেন। তরুণ ব্যাটারের চমৎকার ব্যাটিংয়ে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর দারুণ গল্প লিখল দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ দুই ম্যাচ জিতে কিউইদের মাঠে টানা তিন সিরিজ জিতল প্রোটিয়ারা।
ক্রাইস্টচার্চের হাগলি ওভালে বুধবার সিরিজ নির্ধারণী পঞ্চম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৩৩ রানে জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আগে ব্যাট করে এস্তেহেইজেনের ঝড়ে ১৮৭ রানের পুঁজি পায় সফরকারীরা। জবাবে ৮ উইকেটে ১৫৪ রানের বেশি করতে পারেনি কিউইরা।
এই জয়ে পাঁচ ম্যাচ সিরিজটি ৩-২ ব্যবধানে জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা। অথচ প্রথম তিন ম্যাচের দুটি জিতে ভালো অবস্থানেই ছিল নিউ জিল্যান্ড। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে পরপর দুই ম্যাচ জিতে সিরিজটি নিজেদের করল প্রোটিয়ারা।
এ নিয়ে নিউ জিল্যান্ডের মাঠে খেলা তিন টি-টোয়েন্টি সিরিজের সবকটিই জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা। সব মিলিয়ে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা ছয় সিরিজে অপরাজিত তারা।
শেষ ম্যাচে ৫ চারের সঙ্গে ৬টি ছক্কা মেরে মাত্র ৩৩ বলে ৭৫ রানের ইনিংস খেলেছেন এস্তেহেইজেন। তার হাতেই উঠেছে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। একইসঙ্গে সব মিলিয়ে ২০০ রান করে সিরিজ সেরার পুরস্কারও জিতেছেন ২৪ বছর বয়সী ব্যাটার।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে এস্তেহেইজেনের ব্যাটেই বড় পুঁজি পায় প্রোটিয়ারা। একাদশ ওভারের প্রথম বলে দ্বিতীয় উইকেট পড়ার পর ক্রিজে যান তিনি। তখন স্কোরবোর্ডে মাত্র ৭৬ রান। সেখান থেকে শেষের ৫৯ বলে এস্তেহেইজেনের সৌজন্যেই ১০৮ রান করতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা।
আরও পড়ুন
| টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে নিউ জিল্যান্ড পেসারদের জয়জয়কার |
|
তাণ্ডব চালিয়ে মাত্র ২৫ বলে পাঁচ ম্যাচের ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ফিফটি করেন এস্তেহেইজেন। একই ছন্দে এগিয়ে পরের ৭ বলে নেন আরও ২৫ রান। ইনিংসের শেষ ওভারে বড় শটের খোজেই ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন তরুণ এই ব্যাটার।
দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন রুবিন হারমান (৩১ বলে)। এছাড়া ভিয়ান মুল্ডার ২৯ বলে খেলেন ৩১ রানের ইনিংস।
নিউ জিল্যান্ডের পক্ষে ৩৭ রানে ২ উইকেট নেন বেন সিয়ার্স।
বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় একবারের জন্যও তেমন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারেনি নিউ জিল্যান্ড। পাঁচ নম্বরে নেমে বেভন জ্যাকবস ২ চার ও ৩ ছক্কায় খেলেন ১৯ বলে ৩৬ রানের ইনিংস। আর কেউ ত্রিশ রানও করতে পারেননি।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ২টি করে উইকেট নেন জেরাল্ড কুটসিয়া, ভিয়ান মুল্ডার ও ওটনিল বার্টম্যান।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেল নিউ জিল্যান্ডের পেসাররা। আজ আইসিসির সবশেষ হালনাগাদকৃত টি-টোয়েন্টি বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ের বড় লাফ দিয়েছেন লকি ফার্গুসনসহ চার কিউই পেসার।
পাঁচ ম্যাচের সিরিজের প্রথম চার ম্যাচ শেষে দুই দলের বেশ কিছু ক্রিকেটার র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে গেছেন। অকল্যান্ডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে মাত্র ৯ রান খরচায় ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হওয়া ফার্গুসন ১২ ধাপ এগিয়ে ৩৯তম স্থানে উঠে এসেছেন।
নিউ জিল্যান্ডের পেসারদের মধ্যে বেন সিয়ার্স ২০ ধাপ এগিয়ে ৫৯তম, কাইল জেমিসন ৫ ধাপ এগিয়ে ৭৬তম এবং জ্যাক ফোকস ৮ ধাপ এগিয়ে ৮১তম স্থানে উঠে এসেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক কেশব মহারাজ ৫ ধাপ এগিয়ে ৪৭তম স্থানে রয়েছেন। প্রোটিয়া বোলারদের মধ্যে ওটনিল বার্টম্যান (৬৬তম) ও জেরাল্ড কোয়েটজি ৪৬ ধাপ এগিয়ে ৮৮তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন। অলরাউন্ডারদের তালিকায় দক্ষিণ আফ্রিকার জর্জ লিন্ডে এক ধাপ এগিয়ে ২২ নম্বরে উঠে এসেছেন।
ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব দুই ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছেন। ভারতের বাঁহাতি ওপেনার অভিষেক শর্মা শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন, দুই নম্বরে আছেন ঈশান কিশান।
চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ৩২ রানের ইনিংসের সুবাদে দুই ধাপ এগিয়ে ৩৪তম স্থানে উঠে এসেছেন কিউই ওপেনার টিম রবিনসন। সিরিজে না খেলায় টিম সেইফার্ট (এক ধাপ নেমে অষ্টম) ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের (দুই ধাপ পিছিয়ে দশম) র্যাঙ্কিংয়ে অবনতি হয়েছে।
টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডারদের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন জিম্বাবুয়ের তারকা সিকান্দার রাজা। বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে যথারীতি শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন রশিদ খান।

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেও (বিসিবি)। কাল মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে হবে বিশেষ প্রদর্শনী ক্রিকেট ম্যাচ। যেখানে মাঠে নামছে রেড টিম ও গ্রিন টিম।
বিসিবি জানিয়েছে, সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হবে রেড ও গ্রিন টিমের ম্যাচ। খেলবেন শুধু সাবেক ক্রিকেটাররাই। গ্রিন টিমের কোচ খন্দকার ওয়াহিদুল গণির সঙ্গে ম্যানেজার হিসেবে আছেন সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদ।
রেড টিমের ডাগআউটে থাকবেন স্বনামধন্য কোচ মো. সারওয়ার ইমরান। ম্যানেজার হিসেবে আছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম রকিবুল হাসান।
এটি শুধু একটি ক্রিকেট ম্যাচ নয়, এটি স্বাধীনতার আনন্দ উদযাপনের রঙিন অনুষ্ঠান, যেখানে খেলাধুলার সঙ্গে মিলেমিশে থাকবে উৎসবমুখর পরিবেশ। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটি হবে একটি বিশেষ দিন।
আরও পড়ুন
| হামজাকে ঠেকাতে ভিডিও বিশ্লেষণ করছে ভিয়েতনাম |
|
গ্রিন টিম: শাহরিয়ার নাফীস, জাভেদ ওমর বেলিম, আবদুল হান্নান সরকার, নাদিফ চৌধুরী, ফয়সাল হোসাইন ডিকান্স, তুষার ইমরান, শাহরিয়ার হোসাইন বিদ্যুৎ, মোহাম্মদ সালিম, তালহা জুবায়ের, আনোয়ার হোসাইন মনির, আব্দুর রাজ্জাক, হাসিবুল হুসাইন শান্ত, জামাল উদ্দিন বাবু ও হাসানুজ্জামান ঝরু।
কোচ: খন্দকার ওয়াহিদুল গণি
ম্যানেজার: ফারুক আহমেদ
রেড টিম: জাহাঙ্গীর আলম, মেহরাব হোসাইন ওপি, মোহাম্মদ আশরাফুল, নাসির উদ্দিন ফারুক, মোহাম্মদ রফিক, মো. এহসানুল হক, খালেদ মাসুদ পাইলট, আনোয়ার হোসাইন (উইকেটকিপার), মো. তারেক আজিজ খান, মাহবুবুল আলম রবিন, ডলার মাহমুদ, ইলিয়াস সানি, মুশফিকুর রহমান বাবু ও সাজ্জাদ আহমেদ শিপন।
কোচ: মো. সারওয়ার ইমরান
ম্যানেজার: এসএম রকিবুল হাসান

পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) শুরু হচ্ছে কাল থেকে। তার আগে আজ দলের শক্তি বাড়ালো নবাগত ফ্র্যাঞ্চাইজি হায়দরাবাদ কিংসমেন। শ্রীলঙ্কার রহস্য স্পিনার মাহেশ থিকশানাকে দলে ভেড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে তারা।
ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে লিখেছে, ‘দারুণ ফর্মে থাকা ধুরন্ধর বোলার মাহিশ থিকশানা এখন হায়দরাবাদ কিংসমেনের অংশ।’
সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে থিকশানার অভিজ্ঞতা বেশ সমৃদ্ধ। ২৫ বছর বয়সী এই স্পিনার শ্রীলঙ্কার হয়ে ৮৩ টি-টোয়েন্টিতে ৮২টি উইকেট নিয়েছেন, তাঁর ইকোনমি রেট ৭.০৮। সব মিলিয়ে স্বীকৃত ২৫৫ টি-টোয়েন্টিতে ২৩০টি উইকেট শিকার করেছেন, ইকোনমি ৭.০৭।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও তাঁর উপস্থিতি বিস্তৃত। তিনি খেলেছেন আইএলটি-টোয়েন্টি, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ, এসএ-টোয়েন্টি, সিপিএল ও এলপিএলের মতো বড় টুর্নামেন্টে।
২৬ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত হবে পিএসএলেরে একাদশ সংস্করণ। এবার প্রথমবার আটটি দল অংশ নিচ্ছে। নতুন দল হিসেবে হায়দরাবাদ কিংসমেন ও রাওয়ালপিন্ডি যুক্ত হয়েছে। ৩৯ দিনে ৪৪টি ম্যাচ এবারের পিএসএলে।
তবে পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা থেকে সরে এসে আয়োজনে পরিবর্তন এনেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। সব ম্যাচই এখন কেবল করাচি ও লাহোর—এই দুই ভেন্যুতেই হবে এবং দর্শকশূন্য মাঠে খেলা হবে।
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সঙ্গে বৈঠক এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে পরামর্শের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন সূচি অনুযায়ী, এলিমিনেটর ১ ও ২ এবং ফাইনাল হবে লাহোরে, আর কোয়ালিফায়ার হবে করাচিতে। উদ্বোধনী ম্যাচে হায়দরাবাদ কিংসমেনের প্রতিপক্ষ থাকবে লাহোর কালান্দার্স।
দর্শকশূন্য এই আসরে ঘরে বসে দেখার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে সম্প্রচার ও প্রোডাকশনে নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করার কথাও জানিয়েছে আয়োজকরা।
পিএসএলের একাদশ সংস্করণের জন্য হায়দরাবাদ কিংসমেনের হালনাগাদ স্কোয়াড: মার্নাস লাবুশেন (অধিনায়ক), হাসান খান (সহ-অধিনায়ক), উসমান খান, আকিফ জাভেদ, মাজ সাদাকাত, সাইম আইয়ুব, মোহাম্মদ আলি, কুশল পেরেরা, মুহাম্মদ ইরফান খান, শায়ান জাহাঙ্গীর, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, হাম্মাদ আজম, রাইলি মেরেডিথ, শরজিল খান, আসিফ মেহমুদ, হুনাইন শাহ, রিজওয়ান মেহমুদ, সাদ আলি, তায়্যাব আরিফ, মাহিশ থিকশানা ও আহমেদ হুসাইন।