১২ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:১৮ পিএম

২০২৬ নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি ইতিমধ্যে ২০১৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের মোট বিক্রিকেও ছাড়িয়ে গেছে। আগামী জুনে ইংল্যান্ডে হবে এবারের টুর্নামেন্ট।
বিশ্বকাপ শুরুর পাঁচ মাস আগেই ১ লাখের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা। আগামী ১২ জুন উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এবারের নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) আশা করছে, ফুটবলে লায়নেসেস ও রাগবি ইউনিয়নে রেড রোজেসের সাম্প্রতিক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এই গ্রীষ্মটি যুক্তরাজ্যে নারী ক্রিকেটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।
২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে শিরোপা জিতেছিল স্বাগতিকেরা। লর্ডসে সেই ফাইনালটি ছিল স্মরণীয়। তবে নারীদের ক্রিকেটে বড় অগ্রগতি আসে দ্য হানড্রেড প্রতিযোগিতা চালুর পর।
এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে ফেভারিটদের একজন হিসেবে ধরা হলেও সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোতে দলটি প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। গত তিনটি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোনো একটিতেও তারা ফাইনালে উঠতে পারেনি। নতুন কোচ শার্লট এডওয়ার্ডসের অধীনে গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড।
এডওয়ার্ডস মনে করেন, এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের মাঠের সমর্থন ইংল্যান্ডকে আবারও শিরোপা জিততে সহায়তা করতে পারে। ২০০৯ সালে প্রথম নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে শিরোপা জিতেছিলেন তিনি।
বিবিসি স্পোর্টকে এডওয়ার্ডস বলেন,
‘ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা দলের জন্য বড় ভূমিকা রাখে। এতে শুধু দলই নয়, পুরো খেলাটাই উপকৃত হয়।’
১২ দলের এবারের টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ড গ্রুপ পর্ব শুরু করবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, এজবাস্টনে। একই গ্রুপে আছে নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আরও দুটি বাছাইপর্ব পেরোনো দল।
আগামী ৫ জুলাই লর্ডসে ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্বকাপ। এ ছাড়া হেডিংলি, ওল্ড ট্রাফোর্ড, দ্য ওভাল, ব্রিস্টল ও সাউদাম্পটনেও ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
ইংল্যান্ড অধিনায়ক ন্যাট স্কিভার–ব্রান্ট বলেন,
‘এত আগেই ১ লাখ টিকিট বিক্রি হওয়া দারুণ রোমাঞ্চকর। ২০১৭ সালের পুরো বিশ্বকাপের চেয়েও বেশি টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে—এটা অবিশ্বাস্য। ওই টুর্নামেন্টটি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে নারী ক্রিকেটের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট ছিল। এবার ছয় মাস আগেই এত বেশি টিকিট বিক্রি হওয়া আমাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।’
No posts available.

পরপর তিন উইকেট পতনের পর সালমান আলী আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের ব্যাটে ভর করে বড় সংগ্রহের দিকে এগোচ্ছিল পাকিস্তান। জমে যাওয়া এই জুটি ভেঙে ব্রেকথ্রু এনে দিতে পারছিল না বাংলাদেশের বোলাররা। হঠাৎ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটে যায় বিতর্কিত এক ঘটনা। আউট হয়ে যান সালমান। আর এই আউট নিয়েই এখন যত আলোচনা-সমালোচনা।
বাংলাদেশ–পাকিস্তান দ্বিতীয় ওয়ানডের ৩৯তম ওভারের ঘটনা। চতুর্থ উইকেটে ১০৯ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেওয়ার পথে এগোচ্ছেন সালমান-রিজওয়ান। ব্যাটিংয়ে রিজওয়ান, বোলার ছিলেন মিরাজ। ওভারের চতুর্থ ডেলিভারিতে সোজাসুজি খেলেন রিজওয়ান। বল পা দিয়ে থামান মিরাজ। বল তখনো পুরোপুরি থামেনি, হাত দিয়ে ধরার চেষ্টা করেন নন স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা সালমান, তবে এ সময় তিনি পপিং ক্রিজের বাইরে ছিলেন।
প্রথমে মনে হচ্ছিল ক্রিজের ভেতরে ঢুকতে চাচ্ছেন সালমান। এরপর একই সময়ে সালমান–মিরাজ দুজনে বলের দিকে হাত বাড়ালেও মিরাজই সেটি আগে তুলে নেন, এরপর আন্ডার আর্ম থ্রোতে স্টাম্প ভেঙে দেন। আম্পায়ার তানভীর আহমেদের কাছে রানআউটের আবেদনও করেন। তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে সিদ্ধান্ত যাওয়ার আগেই মিরাজকে উদ্দেশ্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সালমান।
Crucial moment! Mehidy Hasan Miraz removes Salman Agha with a brilliant run-out. ⚡🏏#BCB #Cricket #Bangladesh #Pakistan #ODI pic.twitter.com/N0inKkZVwz
— Bangladesh Cricket (@BCBtigers) March 13, 2026
নিয়ম অনুযায়ী সালামানের আউট নিয়ে কোনো প্রশ্নই নেই। সেটা ভালোভাবেই জানা ছিল সালমানেরও। আইন টিভি আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা একবার রিপ্লে দেখেই সেই সিদ্ধান্তটা জানিয়ে দেন। রাগে ফুঁসতে থাকা সালমান ড্রেসিংরুমের দিকে ফেরার পথে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের দিকে তাকিয়ে হাত দিয়ে কিছু একটা ইঙ্গিত করেন। ৬২ বলে ৬৪ করা ডানহাতি ব্যাটারকে ফিরতে হলো অন্যরকম এক আউটের শিকার হয়ে।
ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তা এবং খেলার নৈতিকতা/স্পিরিট দুটি আলাদা বিষয়। সালমান সহজেই ক্রিজে ফিরে আসতে পারত। কিন্তু অসচেতনতা বা বল নিয়ে ফিল্ডারের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ‘দয়া’ দেখানোই কাল হয়ে দাড়ালো সালমানের জন্য।
ক্ষুব্ধ সালমান আগা ড্রেসিংরুমের পথে বাউন্ডারি সীমানা পার হওয়ার মুহূর্তে গ্লাভস ও হেলমেট ছুড়ে মারেন। তবে বল ‘ডেড’ হওয়ার আগে ক্রিজের বাইরে থাকায় নিয়মানুযায়ীই রানআউট হয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁকে।
সালমান-রিজওয়ানের এই জুটি ভাঙার পর পথ হারায় পাকিস্তানও। ৩৮.৪ ওভারে ২৩১ থেকে ৪৭.৩ ওভারে অলআউট হয় সফরকারীরা।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বৈরিতার প্রভাব ক্রিকেটেও স্পষ্ট। বাংলাদেশ ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার বড় কারণ ছিল এটি। এর মধ্যে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়ায় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইটরাইডার্সের ছেড়ে দেওয়া।
আইপিএলে দল পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভারতের সংবাদমাধ্যমে মোস্তাফিজকে দলে ভেড়ানোয় কলকাতার ওপর সমালোচনা ও চাপ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত তাঁকে ছেড়ে দেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার।
মোস্তাফিজের মতো এবার আবরার আহমেদকে দলে ভিড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার-মুখে সানরাইজার্স লিডস। দ্য হান্ড্রেডে আইপিএল স্বত্বাধিকারীদের চারটি দল রয়েছে। বেশ কিছু দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল—ভারতীয় মালিকদের এই চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিলামে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের কিনবে না।
এ ব্যাপারে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডও (ইসিবি) স্পষ্ট বার্তায় জানিয়েছিল, দ্য হান্ড্রেডে এমন কোনো কিছু হবে না। সমালোচনা করেছিলেন সাবেক ক্রিকেটাররাও। গতকাল নিলামে পাকিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার আবরারকে ১ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে দলে ভেড়ায় সানরাইজার্স লিডস।
আবরারকে দলে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্রে আক্রোশের মুখে পড়েছে সানরাইজার্স। এনডিটিভির প্রতিবেদন, বিতর্কের মধ্যেই দলটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ডেড দেখায়। বেশ কিছুক্ষণ উধাও হলেও এখন দেখা যাচ্ছে তাদের অ্যাকাউন্ট। তবে অনেক্ষণ ধরে নেই কোনো পোস্ট।
এর মাধ্যমে ভারতীয় মালিকানাধীন কোনো দলের হয়ে এই প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো জায়গা পান পাকিস্তানের কোনো ক্রিকেটার। তবে সিদ্ধান্তটি ভালোভাবে নেননি অনেক ভারতীয় সমর্থক। দুই দেশের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের একজন ক্রিকেটারকে দলে নেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন তাঁরা। দলটির মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের লক্ষ্য করে নানা সমালোচনাও ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় দলটির সহমালিক কাভিয়া মারানকেও কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ আবার ভারতের জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি লিগে একই মালিকানার দল হায়দরাবাদকে বর্জনের ডাকও দেন। বিষয়টি দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়।
এই বিতর্কের মধ্যেই হঠাৎ করে লিডসের সানরাইজার্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট স্থগিত হয়ে যায়। সেখানে প্রবেশ করতে গেলে একটি বার্তা দেখা যায়—নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে হিসাবটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে ঠিক কোন কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কর্তৃপক্ষ।
এদিকে একই নিলামে পাকিস্তানের আরেক রহস্য স্পিনার উসমান তারিককে ১ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ডে দলে নেয় বার্মিংহামের ফিনিক্স। তবে এই দলের সঙ্গে ভারতের কোনো লিগ বা ফ্র্যাঞ্চাইজির সরাসরি সম্পর্ক নেই।
অন্যদিকে পাকিস্তানের কয়েকজন পরিচিত ক্রিকেটার নিলামে কোনো দল পাননি। তাঁদের মধ্যে আছেন পেসার হারিস রউফ, অলরাউন্ডার সাইম আইয়ুব ও লেগ স্পিনার শাদাব খান। পাকিস্তানের অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি অবশ্য নিলামের আগেই নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন।
নারীদের নিলামেও পাকিস্তানের দুই ক্রিকেটার—ফাতিমা সানা ও সাদিয়া ইকবাল—কোনো দল পাননি।
বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ১ লাখ পাউন্ডে দলে নেয় বার্মিংহাম ফিনিক্স। এই নিলামে দিনের সবচেয়ে বড় দর ওঠে সাসেক্সের অলরাউন্ডার জেমস কোলসের জন্য। তাঁকে ৩ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে দলে নেয় লন্ডন স্পিরিট।

ইংল্যান্ডের একশো বলের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট দ্য হান্ড্রেডের নিলামে দল পাওয়ার পরদিনই মুদ্রার উল্টোপিঠ দেখলেন আবরার আহমেদ। বাংলাদেশের বিপক্ষে শুক্রবার দ্বিতীয় ওয়ানডের একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন পাকিস্তানি এই লেগস্পিনার। তাঁর পরিবর্তে দলে ডাক পেয়েছেন পেসার হারিস রউফ।
মিরপুরে প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের কাছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারে পাকিস্তান। সেই ম্যাচে তিন ওভার বল করে ২৫ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি টসের সময় আবরারকে পরিবর্তনের কারণ হিসেবে বিশ্রামের কথা বলেছেন।
হান্ড্রেডের নিলামে বৃহস্পতিবার আবরার আহমেদকে দলে ভিড়ায় সানরাইজার্স লিডস। আইপিএল মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তার জন্য ১ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ড খরচ করে।
আরও পড়ুন
| ৮ রানে ৬ উইকেট, সাকিবের রেকর্ডে ভাগ উসামার |
|
ভারতভিত্তিক মিডিয়া প্রতিষ্ঠান সান টিভি নেটওয়ার্কের মালিকানাধীন সানরাইজার্স লিডস। একই গ্রুপ আইপিএলের সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টি-টোয়েন্টি লিগের সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ দলেরও মালিক।
২০০৯ সালের পর থেকে আইপিএলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ বন্ধ রয়েছে। এরপর আইপিএল মালিকানাধীন বিশ্বের অন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিতেও পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দেখা যায়নি। সেদিক বিবেচনায় ভারতীয় মালিকানাধীন দলে আবরারের অন্তর্ভুক্তি ব্যতিক্রমী ঘটনাই বলা যায়। এই ঘটনার পর ভারতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং সানরাইজার্স লিডসের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
আবরারকে দলে নেওয়ার কারণও জানিয়েছেন লিডসের কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টোরি। তিনি জানিয়েছেন, আদিল রশিদকে না পাওয়ার পর তারা একজন মানসম্পন্ন বিদেশি স্পিনার খুঁজছিলেন। আবরারের বৈচিত্র্য এবং মিডল ওভারে উইকেট নেওয়ার ক্ষমতার জন্য তাকে দলে নিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

পাকিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে সিয়ালকোটের হয়ে খেলছেন উসামা মির। দেশের জার্সিতে এখন পর্যন্ত ১৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই লেগ স্পিনার দারুণ একটি রেকর্ড গড়েছেন সেখানে। দুই ম্যাচে সাত উইকেট নেওয়া উসামার ছয়টিই এসেছে লাহোরের বিপক্ষে।
বৃহস্পতিবার প্রথমে ব্যাট করে চার উইকেটে ২১০ রান করে সিয়ালকোট। ৩১ বলে ৫৭ রান করেন পাকিস্তান দলের ব্যাটার আবদুল্লাহ শফিক। ১৭ বলে অপরাজিত ৪৭ রান করেন আহসান হাফিজ ভাট্টি। তাদের ইনিংসে দল দুই শতাধিক রান তুলতে সক্ষম হয়।
ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় ওভারেই উইকেট হারায় লাহোর। এরপর ওপেনার উমর সিদ্দিক খান ও হামজা জহুর দ্বিতীয় উইকেটে ৫৫ রান যোগ করেন। তবে উমরকে ফিরিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন উসামা।
আরও পড়ুন
| ধর্ষণ মামলা থেকে মুক্তি বাবরের |
|
প্রতিপক্ষের ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামান তিনি। দুই ওভার শেষে তার বোলিং ছিল ৬ রানে ২ উইকেট, যা তৃতীয় ওভার শেষে দাঁড়ায় ৮ রানে ৪ উইকেটে।
শেষ পর্যন্ত লাহোর ১০০ রানে আট উইকেট হারায় এবং ১৪ ওভার ২ বলে সবকটি উইকেট হারিয়ে ফেলে। শেষ দুই উইকেট কোনো রান না দিয়েই উইকেট নেন উসামারা। তার বোলিং বিশ্লেষণ ৮ রানে ৬ উইকেট—যা পাকিস্তানের মাটিতে টি–টোয়েন্টিতে সেরা বোলিং। এর আগে ২০২৩ সালে ১৬ রানে ৬ উইকেট নিয়ে এই রেকর্ড গড়েছিলেন মোহাম্মদ ইমরান।
টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি উসামা মিরের দ্বিতীয়বার ছয় উইকেট নেওয়ার ঘটনা। এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তান সুপার লিগে মুলতানের হয়ে লাহোরের বিপক্ষে ৪০ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
সব মিলিয়ে টি–টোয়েন্টিতে দুইবার ছয় উইকেট নেওয়া বোলারের তালিকায় তিনি এখন চতুর্থ। তার আগে এই কীর্তি গড়েছেন অজন্তা মেন্ডিস, সাকিব আল হাসান ও অর্জন নাগওয়াসওয়ালা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টস জিতল বাংলাদেশ দল। সফরকারীদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
প্রথম ওয়ানডেতে ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। আজ মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজ লক্ষ্যে মাঠে নামছে স্বাগতিকেরা। পাকিস্তানের সুযোগ সিরিজ বাঁচানোর।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একাদশে কোনো পরিবর্তন নেই বাংলাদেশের। ছয় ব্যাটারের সঙ্গে দুই স্পিনার ও তিন পেসার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। পাকিস্তানের একাদশে অবশ্য একটি পরিবর্তন আছে। বাদ পড়েছেন লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ। তাঁর জায়গায় একাদশে ফিরেছেন অভিজ্ঞ পেসার হারিস রউফ।
২০১৫ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশ-পাকিস্তান কোনো দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে খলেছে। নিজেদের মাঠে আবারও সফরকারীদের সিরিজ হারানোর দারুণ সুযোগ তাসকিন-মোস্তাফিজদের।
আরও পড়ুন
| ট্রু উইকেটে বল করা চ্যালেঞ্জিং, বললেন মিরাজ |
|
এই সিরিজে ২-১ বা ৩-০ ব্যবধানে জয় পেলে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে নবম স্থানে উঠে আসবে বাংলাদেশ। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জনের দৌড়ে তাদের অবস্থান আরও সমৃদ্ধ হবে।
বাংলাদেশ একাদশ:
তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাস (উইকেটকিপার), আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), রিশাদ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা।
পাকিস্তান একাদশ:
সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, শামিল হুসাইন, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), সালমান আলী আগা, হুসাইন তালাত, আব্দুল সামাদ, ফাহিম আশরাফ, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র ও শাহিন শাহ আফ্রিদি (অধিনায়ক) ও হারিস রউফ।