১১ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৬ এম

লম্বা বিরতির পর আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সূচি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হতাশা শেষ হওয়ার পর এখন পুরো মনোযোগ ৫০ ওভারের ক্রিকেটে। সামনে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ—সেই লক্ষ্যেই নতুন পরিকল্পনায় এগোতে চায় বাংলাদেশ।
গত কয়েক মাস আন্তর্জাতিক ম্যাচ না থাকলেও ক্রিকেটাররা মাঠের বাইরে ছিলেন না। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল), অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ এবং বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন তারা। তবু আন্তর্জাতিক ম্যাচ না থাকায় ব্যস্ততার মধ্যে এক ধরনের শূন্যতা ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান হচ্ছে পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে।
এই সিরিজ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার আরেকটি কারণ আছে। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পেতে হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ নয় দলের মধ্যে থাকতে হবে। তাই সামনে থাকা প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দলের জন্য।
আরও পড়ুন
| গোলকিপারের ভুলে টটেনহামের বিপর্যয়, বায়ার্নের গোলবন্যা |
|
বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ মনে করেন, সামনে থাকা ম্যাচগুলো দলের জন্য বড় সুযোগ। তাঁর মতে, এই বছরে বেশ কিছু ওয়ানডে ম্যাচ রয়েছে বাংলাদেশের সূচিতে এবং সেগুলোর ফলই ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ করবে। বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে র্যাঙ্কিং ধরে রাখা দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় পাকিস্তানও ৫০ ওভারের ক্রিকেটে নতুনভাবে দল গুছানোর চেষ্টা করছে। এই সিরিজে তারা কয়েকজন নতুন ক্রিকেটারকে সুযোগ দিয়েছে। দলে থাকা ছয় অনভিষিক্ত ক্রিকেটারের মধ্যে চারজনই টপ অর্ডারের ব্যাটার। এর মধ্যে সাহিবজাদা ফারহানকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা, যিনি সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রান করেছিলেন।
তাই অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকলেও পাকিস্তানের নতুন মুখগুলোকে সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ দেখছে না বাংলাদেশ। বাংলাদেশের স্কোয়াডে বড় কোনো চমক না থাকলেও দীর্ঘদিন পর আবার সুযোগ পেয়েছেন লিটন দাস ও আফিফ হোসেন।
ওয়ানডে ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে লিটনের পারফরম্যান্স প্রত্যাশামতো ছিল না। তবু স্পিন ভালো খেলতে পারার কারণে তাঁকে আবার দলে ফেরানো হয়েছে। দলের কোচ ফিল সিমন্স মনে করেন, ব্যাটিং অর্ডারের মাঝামাঝি জায়গায় খেললে লিটনের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে উইকেটকিপিংয়ের পর বিশ্রামও পেতে পারেন তিনি। এখন তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পুরোনো ছন্দে ফিরে আসা।
পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেবেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। তাঁর অধিনায়কত্বে সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি সিরিজ জিতেছে পাকিস্তান। যদিও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্স খুব একটা নজরকাড়া ছিল না।
আরও পড়ুন
| শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় নিউক্যাসলকে থামাল বার্সেলোনা, স্লটের শততম ম্যাচে লিভারপুলের হার |
|
মিরপুরে ম্যাচ মানেই উইকেট নিয়ে আলোচনা। আগের সিরিজে এই মাঠে স্পিনারদের প্রভাব ছিল অনেক বেশি। বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচগুলোতে বেশির ভাগ ওভারই করেছিলেন স্পিনাররা। এমনকি এক ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পুরো ইনিংসই স্পিনে শেষ করেছিল।
তবে এবার দুই দলের কোচই জানিয়েছেন, উইকেট আগের তুলনায় কিছুটা ভালো। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবার বিকেলের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে।
ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ জিতেছিল ৩–০ ব্যবধানে। এবারও সেই স্মৃতি মনে রেখে মাঠে নামবে স্বাগতিকরা। সিরিজে জয় পেলে ঈদের আগে সেটি দেশের সমর্থকদের জন্য দারুণ আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠতে পারে।
No posts available.
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ৪:২০ পিএম

বাংলাদেশ-নিউ জিল্যান্ডের তিন ওয়ানডের সিরিজ শুরু হচ্ছে আগামী পরশু (শুক্রবার)। কিউই দলে নেই তারকা ক্রিকেটারদের অনেকেই। আইপিএল ও পিএসএল নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এতে অবশ্য বিচলিত নন নিউ জিল্যান্ডের কোচ রব ওয়াল্টার। তাঁর মতে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রিকেটারদের ছড়িয়ে থাকা তাদের ক্রিকেটের ভালো অবস্থার বহিঃপ্রকাশ।
ওয়ানডে সিরিজের আগে আজ মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে ওয়াল্টার বললেন,
‘বর্তমানে আমাদের প্রায় ৫৪ জন ক্রিকেটার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যেমন আইপিএল, পিএসএল, শ্রীলঙ্কা এবং এখানে (বাংলাদেশে) খেলছে। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় ইতিবাচক দিক। আমরা বিশাল সংখ্যক খেলোয়াড়কে বিভিন্ন স্তরে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দিচ্ছি যাতে আমাদের পুরো ক্রিকেট কাঠামো শক্তিশালী হয়, শুধু নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড় নয়।’
সিরিজের ম্যাচগুলো দুপুর ২টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল, তবে চলমান জ্বালানি সংকটে তিন ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে। পুরো সিরিজই খেলতে হতে পারে তীব্র রোদে। বাংলাদেশের এই গরমকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন নিউ জিল্যান্ড কোচ। সেরা তারকারা না এলেও কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের ওপর আস্থা রাখছেন ওয়ালটার,
‘আমাদের এই স্কোয়াডের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় নিউ জিল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে এখানে খেলে গেছে। যদিও সেটা চার দিনের ম্যাচ ছিল, কিন্তু তারা এই কন্ডিশন সম্পর্কে জানে—এটা ভালো দিক।‘
সবশেষ ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বোলিং-ব্যাটিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগের দাপট দেখিয়েছে স্বাগতিকেরা। আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশকে নিয়ে তাই সাবধানী সুর ওয়াল্টারে,
‘বাংলাদেশ ভালো প্রতিপক্ষ, মানসম্পন্ন দল। তারা সম্প্রতি পাকিস্তানকে হারিয়ে সেটা প্রমাণ করেছে। আমাদের কম অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ভিনদেশি কন্ডিশনে এমন দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ দেওয়া আমাদের জন্য বড় পাওয়া।‘
বাংলাদেশের পেস আক্রমণের প্রশংসা ঝরল ওয়াল্টারের কণ্ঠে,
‘বাংলাদেশ দলে দারুণ কিছু ফাস্ট বোলার আছে। মোস্তাফিজুর রহমান শুরু থেকেই একজন চমৎকার ফাস্ট বোলার। তাই তাদের যে শুধু স্পিন সহায়ক পিচই বানাতে হবে এমন কোনো কথা নেই, সব বিভাগেই তাদের সামর্থ্য আছে।‘
বাংলাদেশ ও নিউ জিল্যান্ডের তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডে হবে মিরপুরে শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে হবে। শেষ ম্যাচটি হবে চট্টগ্রাম। সব ম্যাচই শুরু হবে বেলা ১১ টায়।

সম্প্রতি ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে স্টোকস জানিয়েছেন, সেই বলটি আর কয়েক ইঞ্চি এদিক-সেদিক হলেই তাঁর জীবন চিরতরে বদলে যেতে পারত। এমনকি প্রাণহানির শঙ্কাও ছিল।
সেই ভয়াবহ চোট নিয়ে ৩৪ বছর বয়সী স্টোকস বলেন, ‘খুবই বাজে পরিস্থিতি ছিল। তবে সত্যি বলতে, খারাপের মধ্যে এটাই বোধহয় সেরা ফলাফল। বলটা সরাসরি আমার মুখে এসে লেগেছিল। আঘাতটা যদি মাত্র কয়েক ইঞ্চি এদিক-সেদিক হতো কিংবা আমি যদি মাথাটা না ঘোরাতাম, তবে আজ হয়তো আমি এখানে বসে এই সাক্ষাৎকার দিতে পারতাম না।’
চোটের কারণে স্টোকসের গালের হাড় (চিকবোন) একদম ভেঙে গিয়েছিল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা ঠিক করা হয়েছে। নিজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বলেন, ‘সব দিক বিবেচনা করলে আমি অনেক ভাগ্যবান। গালের হাড়ের নিচে সব ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল। বড় ধরনের ফেসিয়াল সার্জারি করাতে হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আমি যে সুস্থভাবে ফিরে আসতে পেরেছি, তার জন্য কৃতজ্ঞ।’
মাঠে ফিরবেন কবে? এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণে স্টোকসের স্বাভাবিক ক্রিকেটে ফেরার সূচি প্রায় এক মাস পিছিয়ে গেছে। তবে আশার কথা হলো, তিনি এখন পুনর্বাসনের শেষ পর্যায়ে আছেন। আগামী জুনে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে ইংল্যান্ড। সেই সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবে মে মাসে ডারহামের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের দুটি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
স্টোকস বলেন, ‘সিজন শুরুর যে পরিকল্পনা ছিল, এই চোট সব পিছিয়ে দিয়েছে। আমাকে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হয়েছে। এখন লক্ষ্য হলো ডারহামের হয়ে অন্তত দুটি ম্যাচ খেলে টেস্ট সামারের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। ওটা ছিল এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। ভাগ্যক্রমে আমি এখনো বেঁচে আছি এবং সবকিছু ঠিকঠাক আছে।’

ক্রিকেট ইতিহাসের এক মহেন্দ্রক্ষণ ঘনিয়ে আসছে। দেড়শ বছর আগে যেখানে শুরু হয়েছিল সাদা পোশাকের লড়াই, সেই মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড (এমসিজি) আবারও সেজেছে নতুন রূপে। ২০২৭ সালের ১১-১৫ মার্চ হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ‘১৫০তম বর্ষপূর্তি টেস্ট’। মেলবোর্নের ঐতিহাসিক এই মাঠে পাঁচ দিনের এই লড়াই দেখতে এখন থেকেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে ক্ষণগণনা।
তবে মেলবোর্ন শুধু ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ নেই। এই উপলক্ষকে ঘিরে পুরো শহর হয়ে উঠেছে উৎসবমুখর। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও দর্শকদের জন্য থাকছে রোমাঞ্চকর সব আয়োজন। মেলবোর্নের গলি থেকে রাজপথ—সবই এখন প্রস্তুত পর্যটক আর ক্রিকেটপ্রেমীদের বরণ করে নিতে।
মেলবোর্নের সংস্কৃতি ও আভিজাত্য
ক্রিকেট ম্যাচের অবসরে পর্যটকদের জন্য মেলবোর্ন যেন এক স্বর্গরাজ্য। শহরের বিখ্যাত গলিগুলোতে (লেনওয়েজ) ছড়ানো বৈচিত্র্যময় স্ট্রিট আর্ট, সদ্য রোস্ট করা কফির সুগন্ধ আর আধুনিক বুটিক শপগুলো মুহূর্তেই মন জয় করে নেবে। যারা গান ভালোবাসেন, তাদের জন্য রয়েছে চেরি বার, দ্য টোট কিংবা দ্য কর্নারের মতো আইকনিক লাইভ মিউজিক ভেন্যু।
আরও পড়ুন
| বাংলা নববর্ষে ক্রিকেট ভক্তদের সুখবর দিয়েছেন নাহিদ রানা |
|
খাবার বিলাসী দর্শকদের জন্য মেলবোর্ন যেন এক সাজানো থালা। গিমলেটের রাজকীয় পরিবেশ থেকে শুরু করে কোডার আধুনিক আয়োজন—সবই মিলবে এখানে। আর যারা একটু খোলামেলা পরিবেশে বার্গার খেতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য সেরা গন্তব্য হতে পারে রুফটপ জয়েন্ট ‘ইজিস’।
ভিক্টোরিয়ার পথে পথে রোমাঞ্চ
শহর ছাড়িয়ে ভিক্টোরিয়ার আঞ্চলিক এলাকাগুলোতেও রয়েছে রোমাঞ্চের হাতছানি। মেলবোর্ন থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বেই অপেক্ষা করছে জীবনের সেরা কিছু অভিজ্ঞতা। ইয়াররা ভ্যালির আঙুর বাগান কিংবা ভিক্টোরিয়ার প্রাচীনতম স্টিম রেলওয়ে ‘পাফিং বিলি’তে ভ্রমণ আপনার সফরের আনন্দ বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ। প্রকৃতির খুব কাছে যেতে চাইলে হিলসভিল স্যাঙ্কচুয়ারিতে দেখা মিলবে কোয়ালা, ওমব্যাট আর ক্যাঙ্গারুর।
সমুদ্র সৈকত ও প্রকৃতির মেলবন্ধন
দ্বীপপুঞ্জ ও সমুদ্রপ্রেমীদের জন্য রয়েছে ফিলিপ আইল্যান্ড। মেলবোর্ন থেকে মাত্র দুই ঘণ্টার এই পথ পাড়ি দিলেই দেখা মিলবে পুঁচকে পেঙ্গুইনদের দলবেঁধে চলাফেরা। এ ছাড়া মার্নিংটন পেনিনসুলার উপকূলীয় সূর্যালোক আর জিওথার্মাল হট স্প্রিংয়ের উষ্ণতা পর্যটকদের দেবে অনাবিল শান্তি।
তবে সবকিছুর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে থাকবে ‘গ্রেট ওশান রোড’। ঘন রেইনফরেস্ট, গর্জনকারী জলপ্রপাত আর চুনাপাথরের বিখ্যাত পাহাড় ‘টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস’ দেখার জন্য পর্যটকদের ভিড় এখন থেকেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ক্রিকেটবোদ্ধারা মনে করছেন, ১৫০তম বর্ষপূর্তি টেস্ট শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং এটি হতে যাচ্ছে ক্রিকেট এবং মেলবোর্নের সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন। এমসিজির গ্যালারি থেকে শুরু করে ভিক্টোরিয়ার প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্র এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায়।
১৫০তম বর্ষপূর্তি টেস্টে খেলবে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচটি হবে দিবারাত্রি।

দলের তারকা ক্রিকেটারদের অনেকেই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ও পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) নিয়ে ব্যস্ত। নতুনদের পরখ করার দারুণ সুযোগ পেয়েছে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট (এনজেডসি)। বাংলাদেশ সফরে দলের আশপাশে থাকা ক্রিকেটারদের সংখ্যাই বেশি।
কারো মতে, বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউ জিল্যান্ড ‘দ্বিতীয় সারির’ দল নিয়ে খেলবে, সিরিজটি কিছুটা সহজ হবে। তবে ব্যাপারটির সঙ্গে দ্বিমত মিরাজ-তামিমদের কোচ ফিল সিমন্স, ‘দ্বিতীয় সারির দল বলতে আমি কিছু বুঝি না। যেকোনো দেশের জাতীয় দলই তাদের সেরা দল। বিশেষ করে নিউ জিল্যান্ডের মতো দল, যেখানে নিয়মিত নতুন প্রতিভা উঠে আসে। মনে রাখবেন, এই খেলোয়াড়রা ঘরোয়া ক্রিকেটে সব ফরম্যাটে প্রচুর ম্যাচ খেলেছে। তারা যথেষ্ট অভিজ্ঞ। হয়তো আন্তর্জাতিক ম্যাচ কম খেলেছে, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা তাদের আছে। তাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দ্বিতীয় সারির দল বলে কিছু নেই।’
সবশেষ ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বোলিং-ব্যাটিংয়ে দাপট দেখিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম-নাহিদ রানারা। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষেও স্পোর্টিং উইকেটে প্রত্যাশা সিমন্সের, ‘আমরা তেমনই চাচ্ছি (পাকিস্তান সিরিজের মতোই হবে)। আমি দেখেছি, যখন আমরা ভালো উইকেটে খেলি, তখন দলের উন্নতি দ্রুত হয়। তাই আমি যতটা সম্ভব ভালো উইকেটে খেলার চেষ্টা করছি।’
আরও পড়ুন
| বছর না ঘুরতেই তিন সভাপতি—অবাক হননি সিমন্স |
|
সালমান আলি আগাদের বিপক্ষে দাপটের সঙ্গে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। পেস-স্পিনে টম লাথামরা কতটা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে স্বাগতিকদের? সিমন্স অবশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ হবে বলেই মনে করছেন। বাংলাদেশ কোচ বললেন, ‘পাকিস্তানেরও মানসম্পন্ন পেসার ছিল। দেখুন, প্রতিটি সিরিজই চ্যালেঞ্জিং। নিউ জিল্যান্ড হয়তো ভিন্নভাবে আমাদের চ্যালেঞ্জ জানাবে। আমরা সব ধরণের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হচ্ছি, যেমনটা পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের আগে করেছিলাম। আমরা একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ আশা করছি।’
বাংলাদেশ-নিউ জিল্যান্ডের সীমিত ওভারে দুটি সিরিজই হবে দিনের আলোয়। কোনো দিবা-রাত্রির ম্যাচ নেই। কন্ডিশন বিবেচনায় প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশও। সিমন্স বললেন, ‘কিছুটা পার্থক্য তো থাকেই। দিনের আলোতে উইকেট কিছুটা মন্থর হতে পারে বা স্পিন ধরতে পারে। আমাদের অনুশীলনের সময়টিও এমনভাবে রাখা হয়েছে যাতে আমরা এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারি।’
আগাম পরশু থেকে শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ। মিরপুরে শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে হবে প্রথম দুই ম্যাচ। শেষ ওয়ানডে হবে চট্টগ্রাম।

ফারুক আহমেদের পর হঠাৎ করে বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি পদে আসীন হন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আর সব শেষে দায়িত্ব নিয়েছেন তামিম ইকবাল। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিসিবির কমিটির এমন রদবদল নিয়ে চলছে আলোচনা।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সিরিজের আগে সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটীয় আলোচনা ছাপিয়ে বিসিবির কমিটি নিয়েই যেন সবার আগ্রহ। বাংলাদেশের কোচ ফিল সিমন্সকে তাই মুখোমুখি হতে হলো বিসিবি-র নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পরিবর্তন নিয়ে নানান প্রশ্ন।
বিসিবির এমন পরিবর্তন কি সিমন্সকে অবাক করেছে? না, বাংলাদেশের কোচকে নাকি জীবনের এই পর্যায়ে এসে তেমন কিছুই অবাক করে না, ‘জীবনে কোনো কিছুই এখন আর আমাকে অবাক করে না। এটা শুধু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বলছি না, জীবনের অভিজ্ঞতাই এমন। আমি যা যা দেখেছি, তাতে জানি যে প্রতিদিন কত কিছু বদলে যেতে পারে। তাই কোনো কিছুতেই আমি অবাক হই না।’
বাংলাদেশের কোচকে হয়তো পরিবর্তনের এসব বিষয় ভাবায় না। তবে খেলোয়াড়দের মধ্যে মানসিক তো প্রভাব পড়তেই পারে। অনুশীলনে সিমন্সের চোখে অবশ্য তেমন কিছুই ধরা পড়েনি, বরং কেউ কেউ নাকি আরও বেশি ঘাম ঝরাচ্ছে, ‘প্রথমত, আমরা যেভাবে কাজ করি বা যেভাবে অনুশীলন করি, তার ওপর এসবের কোনো প্রভাব পড়েনি। আমাদের ক্যাম্প যেভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেভাবেই শেষ হয়েছে। আর খেলোয়াড়দের ওপর এর কোনো মানসিক প্রভাব পড়েছে কি না—সেটা তাদের জিজ্ঞেস করলেই ভালো জানবেন। আমি তো তেমন কিছু দেখছি না; কারণ তারা অনুশীলনে জানপ্রাণ দিয়ে খেটেছে, কেউ কেউ তো আগের চেয়েও বেশি পরিশ্রম করছে। এই সিরিজের প্রস্তুতির জন্য যা যা দরকার, তারা তার সবটুকুই করছে।’
বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর এ নিয়ে বিসিবির তিনটি কমিটি দেখেছেন সিমন্স। একের পর এক পরিবর্তনে কাজে কোনো ব্যঘাত ঘটে কি না এমন প্রশ্নে সিমন্স বলেন, ‘আপনি ঠিকই বলেছেন, এটি আমার দেখা তৃতীয় প্রেসিডেন্ট। তবে আমরা যেভাবে দল গুছিয়েছি বা একটা সিরিজের জন্য যেভাবে খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করি, সেই কাজের ধরনে কোনো বদল আসেনি। তাই কোচিং প্যানেলের কাজ করার পদ্ধতিতে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।’
বিসিবি-র অধীনে নতুন সভাপতির কারণে একজন পেশাদার কোচ হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য আসতে পারে। সিমন্সের ক্ষেত্রে সেটা আগের মতোই একই ধারায় কাজ চলছে, ‘তারা তো আর হেড কোচ হয়ে আসছেন না। আমি আমার কাজটা করে যাচ্ছি কারণ আমরা বিশেষ কিছু করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি এবং একটা ভিত গড়ার চেষ্টা করছি। আমি একটা বিষয় বলতেই পারি যে—বোর্ডে যারাই এসেছেন, আমাদের গড়ার প্রক্রিয়ায় কেউ হস্তক্ষেপ করেননি। আমরা যেভাবে কাজটা শুরু করতে চেয়েছিলাম, সেভাবেই এগোচ্ছি।’
এরমধ্যে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ও কোচিং স্টাফদের সঙ্গে কথা হয়েছে সিমন্সের, ‘গত পরশু যখন খেলা চলছিল, তিনি ড্রেসিংরুমেও এসেছিলেন আমাদের সাথে কথা বলতে। তো হ্যাঁ, কয়েকবার কথা হয়েছে।’
পুরো খেলোয়াড়ি জীবন বা কোচিং ক্যারিয়ারে পৃথিবীর কোথাও কি কাউকে এত দ্রুত ক্রিকেট বোর্ডের একদম শীর্ষ পদে (প্রেসিডেন্ট) বসতে দেখেছেন কি না এমন প্রশ্নের কোনো জবাবই দেননি সিমন্স।