
চার-ছক্কার চেয়েও ম্যাচ জয়ে অত্যাবশ্যক ‘স্মার্ট ক্রিকেট’। আধুনিক ক্রিকেট বলতে বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস বুঝিয়েছেন ‘বুঝে-শুনে পথচলা’। একই সঙ্গে রানিং বিট্যুইন দ্য উইকেট , প্রতিপক্ষের পালস বিশ্লেষণ, আদোপ্রান্ত যাচাই-বাছাই ও বাউন্ডারি লাইনের পরিমাপ নখদর্পণে রাখা- ছোটখাট বিষয়গুলো কাজ সহজ করে দেয়, পৌঁছে দেয় কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে। পরিকল্পনা যেমন কাজের অংশ, অ্যাথলেটিক্সে স্মার্ট এপ্রোচ ঠিক ততটাই। এশিয়া কাপ মিশন কিংবা তারও আগে থেকেই লিটন দাসের সরব বার্তা - ‘টু বি স্মার্ট ক্রিকেট’। অধিনায়কের তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা সতীর্থদের কেউ আমলে নিয়েছেন, কেউবা এড়িয়ে গেছেন। যা এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে কিছুটা হলেও দৃশ্যমান।
লিটন দাসের ছিল স্মার্ট ক্রিকেটের প্রতিশ্রুতি। তার দলকেও বিশেষ দুটি পরামর্শ দিয়ে রেখেছিলেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট। বাংলাদেশ অধিনায়ক ও তার সতীর্থরা নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কতটা রাখতে পেরেছেন এবং আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পরামর্শ গ্রহণ করেছেন কীনা তা-ই আলোচ্য। সরল দৃষ্টিতে হংকংয়ের বিপক্ষে ৭ উইকেটে জয়ে এশিয়া কাপে শুভসূচনা হয়েছে বাংলাদেশের। এই ম্যাচে পারফরম্যান্স করেছেন লিটন ও তাওহীদ হৃদয়। বল হাতে আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও তানজিম হাসান সাকিব। এরপর...
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের শুরুতে দেশের দুই ওপেনারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যেতে পারে। গত কয়েকটি টি-টোয়েন্টি সিরিজের মতো হংকংয়ের বিপক্ষে ওপেনিং ভরসা রাখা হয় তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেনের ওপর। ভরসা না করেও যে উপায় নেই। কারণ দেশীয় ক্রিকেটের হেলে পড়া ওপেনিং সিংহাসন টিকিয়ে রেখেছেন এই দুই তরুণ ব্যাটার। তাছাড়া দুই ব্যাটার প্রায় প্রতি ম্যাচে প্রতিযোগিতা করে হাঁকিয়েছেন চার-ছক্কা। উদ্বোধনে তাদের ওপরই আস্থা নির্বাচকদের।
আরও পড়ুন
| তানজিদ শোনালেন আশার বানী |
|
হংকং ম্যাচে তানজিদ-পারভেজ ছিলেন ফ্রন্টলাইনার সোলজার। বৃহস্পতিবার শেখ আবু জায়েদ স্টেডিয়ামে ব্যাট হাতে নামার আগে চলতি বছরে চলতি বছরে ৪৫টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন দুই ব্যাটার। অথচ গতকাল এই সংখ্যাটা বেড়ে হয়েছে কেবল ৪৬। দুজনের মাঝে ভয়হীন ও ছক্কা মারার যে প্রতিযোগিতা, তা এশিয়া কাপ মঞ্চে দেখা যায়নি। ভালো শুরুর পরও লাল-সবুজ দলকে প্রথমে বিপদে ফেলেন ইমন। সবশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত অর্ধশতক হাঁকানো ইমন এদিন করতে পারেন ১৯ রান (১৪ বল)।
চলতি বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে নিজের ২৩তম ছক্কাটি মারার ২ বল পরেই আরেকটি ছক্কা মারার চেষ্টা করেন পারভেজ। হিতে বিপরীত হয়ে ছাড়েন মাঠ। অর্থাৎ হংকংয়ের লড়াকু পুঁজির বিপরীতে অল্পতে উইকেট বিলিয়ে দেন তিনি। তারই সঙ্গী তানজিদ থেমেছেন আরও অল্পতে। দুই অঙ্কের রান স্পর্শ করেছেন ঠিকই, সেটাকে পারেনি ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বড় করতে। ঘরের মাঠ সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নিজের সবশেষ ম্যাচে চোখজুড়ানো ইনিংস খেলেছিলেন তানজিদ। চায়ের শহরে তার অপরাজিত ৫৪ রানের ওপর ভর করে স্বাগতিকরা সহজ জয় পায়। অথচ হংকংয়ের বিপক্ষে ২৪ বর্ষী ব্যাটারের না ছিল ধার-ভার। ১৮ বলে করতে পেরেছেন কেবল ১৪। ছিল না ছক্কা। সান্ত্বনা কেবল ১ বাউন্ডারি।
দুই ওপেনারের পতনে দায়িত্ব বর্তায় টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারের ব্যাটারদের ওপর। অবশ্য বহুদিন ধরে দুর্বল এই জায়গায় বাহবা পাওয়ার মতো কাজ করে দেখিয়েছে ব্যাটাররা। এই সেক্টরের মূল ব্যাটন ছিল লিটনের হাতে। এশিয়া কাপ শুরুর আগে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রকাশিত প্রোমো ভিডিওতে বাংলাদেশ দলপতি যেভাবে বলেছেন, “মাঠে আমাদের আগ্রাসন”, ঠিক তারই প্রতিচ্ছবি ছিল আশার বাইশ গজে।
দলপতি লিটন এমনিতেই চাপে ছিলেন। পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা সিরিজে ছিলেন ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দী। সেখান থেকে ফেরার একটা তাড়না ছিল। বের হয়েছেন সুনিপুণ দক্ষতায়। হাত খুলে খেলেছেন সবশেষ নেদারল্যান্ডস সিরিজে। ফিফটির দেখা পাওয়া ছাড়াও সিরিজসেরা হয়েছেন। স্মার্ট ক্রিকেট খেলে হংকংয়ের বিপক্ষেও বাজিমাত করেছেন। ক্রিজে যতক্ষণই ছিলেন ব্যাটিং সৌন্দর্য বিলিয়েছেন। স্টেডিয়ামে আশা হাজার খানেক দর্শকরাও তার মনোমুগ্ধকর ব্যাটিং উপভোগ করেছেন। এশিয়ার কাপের দোরগোড়ায় নিজের প্রথম ম্যাচে ৩৯ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেছেন লিটন। গড়েছেন ছক্কার রেকর্ড। দেশের ছক্কার রাজা এখন তিনিই।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের ১১১তম কুড়ি কুড়ি ম্যাচ অংশ নেওয়া লিটন হংকংয়ের বিপক্ষে নেমেছিলেন নামের পাশে ৭৭ ছক্কা নিয়ে। গত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলা মাহমুদউল্লাহর ছক্কাও ৭৭টি। যৌথ নামের রেকর্ডটাকে গতকাল হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচে নিজের একার করে নিয়েছেন লিটন। আর সেটা মাহমুদউল্লাহর চেয়ে ২১ ইনিংস কম খেলেই। মোদ্দাকথা আশার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
আট জাতির টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয়ে লিটনের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৭০ বলে ৯৫ রানের জুটি গড়েন তাওহীদ হৃদয়। অনেক সমালোচনা মাড়িয়ে একাদশে টিকে যাওয়া এই হার্ডহিটার ব্যাটারের কাছ থেকে দেখা মেলেনি পাওয়ার হিটিং। ব্যাটিংয়ে ছিল না ঝাঁজ। ক্রিকেটীয় ভাষায় ‘আগলি ইনিংস’ যেটাকে বলে সে কাজটিই করেছেন ডানহাতি ব্যাটার। শেষ দিকে তামিম সাজঘর মুখো হলেও হৃদয় ৩৬ বলে ৩৫ রান নিয়ে খেলা শেষ করেছেন। লিটনের স্ট্রাইকরেট ১৫১.২৮ থাকলেও হৃদয়ের স্ট্রাইকরেট ছিল ১০০-এর চেয়ে কম। সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে প্রশ্নাবানে জর্জরিত হতে হয়েছে তাকে। আধুনিক ক্রিকেট, পাওয়ার হিটিং, রানিং বিট্যুইন দ্য উইকেটে দুর্বলতা নিয়ে হৃদয়ের উত্তর ছিল, দলের প্রয়োজনটাই আগে।
লিটন-হৃদয়ের বদৌলতে পরীক্ষার হটসিটে বসতে হয়নি জাকের আলী, শামীম পাটোয়ারী ও রিশাদ হোসেনদের। তবে বোলিং সেক্টর নিয়ে একটু হতাশা থেকেই গেল। বোলাররা সুযোগের সুবিচার কতখানি করতে পেরেছেন সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ, ভারতের বিপক্ষে শতকের নিচে গুটিয়ে যাওয়া হংকং ১৪৩ রানের লড়াকু স্কোর দাঁড় করায় বাংলাদেশের বিপক্ষে। যা টাইগার শিবিরে অস্বস্তি জন্ম দিয়েছে। ফলে ইচ্ছা সত্ত্বেও ম্যাচপরবর্তী তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে পারেননি লিটন।
আরও পড়ুন
| রানরেট নিয়ে বিচলিত নন হৃদয় |
|
এদিন ৬ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৩৪ রান করা হংকং শেষ পর্যন্ত স্কোর বোর্ডে জমা করে ১৪৩ রান। যা বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জে ফেলে। কারণ, আবু ধাবির এই মাঠে এর আগে কখনও জয়ের স্বাদ পায়নি টাইগাররা। ‘জুজু’ নিয়েই খেলতে নামে তারা। তারমধ্যে চিরচেনা পারফরম্যান্স দেখাতে ব্যর্থ ছিলেন মেহেদী হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান। কাটার মাস্টার বরাবরের মতো ডেথ ওভারে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চেপে রেখেছেন। তবে ছিলেন উইকেটশূন্য। তাসকিন আহমেদ কোটার সবগুলো ওভার হাত ঘুরিয়ে দুই উইকেট তুলেছেন। তবে সাড়ে নয় ইকোনমি রেটে রান দিয়েছেন।
টাইগার বোলারদের মধ্যে সফল তানজিম হাসান ও রিশাদ। তানজিম একদম অচেনা কন্ডিশনে খেলতে নেমেছিলেন। এর আগে শেখ আবু জায়েদের মাঠে বিচরণ হয়নি তার। তারপরও উইকেট বুঝে-পড়ে পেয়েছেন সাফল্যের দেখা। চার ওভারে ২ উইকেট তুলেছেন। দলের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে কম রান (২১) খরচ করেছেন তিনি। লেগ স্পিনার রিশাদও প্রতিপক্ষকে খুব একটা সুবিধা করতে দেননি। রান খরচ করেছেন একটু বেশিই।
এশিয়া কাপের দোরগোড়া পেরোনো বাংলাদেশের পরবর্তী লক্ষ্য শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানদের মুখোমুখির আগে নিশ্চয়ই আপন কাঠগড়ায় নিজেদের দাঁড় করাবেন ক্রিকেটাররা। ভুল-শুদ্ধির এই মিশনে এক্সর্টা রান কমিয়ে আনা, ভালো ফিল্ডিং এবং পাওয়ার হিটিংয়ে পূর্ণ মনোযোগ-তবেই তিনবার এশিয়া কাপের শিরোপার মঞ্চে ওঠার কষ্ট চারবারে গিয়ে মোচন বাংলাদেশের।
No posts available.
১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ৬:২০ পিএম

তিনি যতটা না দৌড়েছেন, তার চেয়েও বেশি চার-ছক্কা হাঁকিয়েছেন। গতকাল অস্ট্রেলিয়ান টি-টোয়েন্টি ডিভিশন ওয়ান ক্লেঞ্জো গ্রুপ শিল্ডের টি-টোয়েন্টি লিগে বোলারদের ওপর রীতিমতো ঝড় বয়ে দিয়েছেন নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস।
ম্যাচে এডওয়ার্ডস ৮১টি বল মোকাবিলা করেছেন, যাতে ছিল ২৩টি ছক্কা ও ১৪টি চার। তাঁর স্ট্রাইকরেট ছিল ২৮২।
অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সাব-অর্বস চার্চেস অ্যান্ড কমিউনিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত টুর্নামেন্টের চতুর্থ রাউন্ডে ভিক্টোরিয়ার আলটোনা স্পোর্টস ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন এডওয়ার্ডস।
উইলিয়ামস ল্যান্ডিং এসসির বিপক্ষে ম্যাচটি স্বীকৃত কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ছিল না। ফলে ২০১৩ আইপিএলে ক্রিস গেইলের খেলা ১৭৫ রানের ইনিংসই টি-টোয়েন্টিতে এখনো সর্বোচ্চ।
এদিন ২৩ বলে ফিফটি করেন এডওয়ার্ডস। ১১তম ওভারে করেন সেঞ্চুরি, ১৭তম ওভারে ছুঁয়ে ফেলেন ১৫০। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ২২৯ রানে, আর দলের স্কোর দাঁড়ায় ৩০৪ রান।
রান তাড়া করতে নেমে উইলিয়ামস ল্যান্ডিং থামে ১১৮ রানে।

বড় জয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ যাত্রা শুরু করল ভারত। সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ২৩৪ রানে হারিয়েছেন আয়ুষ মাত্রেরা।
দুবাইয়ে আইসিসি একাডেমি মাঠে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪৩৪ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাবে ৭ উইকেটে ১৯৯ রানে থামে আমিরাতের ইনিংস।
এদিন দলীয় ৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় ভারত। ৪ রান করে আউট হন আয়ুষ মাত্রে। এরপরের গল্প শুধুই বৈভব সূর্যবংশী-এর। মারমুখী ভঙ্গিতে চড়াও হতে থাকেন আরব আমিরাতের বোলারদের ওপর। ৩০ বলে তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। পরের ৫০ রানের মধ্যে সেঞ্চুরি করতে ১৪ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটার খেলেন মাত্র ২৬ বল।
৫৬ বলে শতক ছুঁয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন সূর্যবংশী। ৮৪ বলে দেড়শো পেরিয়ে যান এই বাঁহাতি। ডাবল সেঞ্চুরির আশা জাগিয়ে শেষ পর্যন্ত ৯৫ বলে ১৭১ রানে থামেন।
সূর্যবংশীর ইনিংসে ছিল ৯টি চার, ১৪টি ছয়। যুব ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ইনিংসে আজ সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড গড়েন সূর্যবংশী। ২০০৮ সালে ১২ ছয় মারা নামিবিয়ার ব্যাটার মাইকেল হিল-এর রেকর্ড ভাঙেন তিনি।
অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস এটি। সূর্যবংশী ছাড়িয়ে গেছেন শুবমান গিল, শিখর ধাওয়ান এবং মায়াঙ্ক আগারওয়াল-এর রেকর্ড।
সূর্যবংশীর বিধ্বংসী ইনিংসের সঙ্গে আরও দুই ব্যাটারের ফিফ্টিতে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৪৩৩ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় ভারত।
জবাবে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে আমিরাত। ১৪তম ওভারে ৫৩ রানে ৬ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
ষষ্ঠ উইকেটে ৮৫ রানের জুটি গড়েন পৃথ্বী মাধু ও উদিশ সুরি। মাধু ৫০ রানে ফিরলেও ৭৮ রানে অপরাজিত ছিলেন সুরি। এই দুজনের নৈপুণ্যে অলআউট হওয়া থেকে রক্ষা পায় আমিরাত।

বয়স ৪৩ পেরিয়ে ৪৪ বছরের পথে। তারপরও পেশাদার ক্রিকেট দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন জেমস অ্যান্ডারসন। আগামী মৌসুমে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে পূর্ণকালীন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি।
শৈশবের ক্লাব ল্যাঙ্কাশায়ারে অধিনায়কত্ব করবেন অ্যান্ডারসন। গত মৌসুমে দুইবার অন্তর্বর্তীকালীন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। কিটন জেনিংসের পদত্যাগের পর এবার অ্যান্ডারসনকে স্থায়ীভাবে নেতৃত্বের দায়িত্ব দিয়েছে ক্লাবটি।
২০২৪ সালে ৭০৪ টেস্ট উইকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান অ্যান্ডারসন। তবে নিজের শেকড় ল্যাঙ্কাশায়ারে খেলা থামাননি। ২০০২ সালে শুরু হওয়া তার ল্যাঙ্কাশায়ার ক্যারিয়ার এখনো চলছে। গত মৌসুমে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ৬ ম্যাচে নিয়েছিলেন ১৭ উইকেট।
অধিনায়কত্ব পেয়ে উচ্ছ্বসিত অ্যান্ডারসন বলেন,
‘ল্যাঙ্কাশায়ারের অধিনায়ক হওয়া বিশাল সম্মানের। আমাদের দলে অভিজ্ঞতা ও তরুণদের দুর্দান্ত মিশেল আছে। লক্ষ্য একটাই- প্রথম ডিভিশনে ফেরার লড়াইয়ে সফল হওয়া।’
২০২৬ সালের ৩ এপ্রিল ল্যাঙ্কাশায়ার তাদের চ্যাম্পিয়নশিপ অভিযান শুরু করবে।

অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ২৯৭ রানের রেকর্ড রান ব্যবধানে হারিয়েছে পাকিস্তান। দুবাইয়ে সামির মিনহাজ ও আহমেদ হুসাইন সেঞ্চুরিতে ৩ উইকেটে ৩৪৫ রান তোলে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
৩৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে আলি রাজা ও মোহাম্মদ সায়্যামের তোপ দাগানো বোলিংয়ে মাত্র ৪৮ রানে গুটিয়ে যায় মালয়েশিয়া। যুব ওয়ানডে ইতিহাসে এটি তাদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের হার। রানের দিক থেকে পাকিস্তান পেল নিজেদের সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়, সব দল মিলিয়ে যুব ওয়ানডেতে সপ্তম।
মালয়েশিয়ার ব্যাটারদের ইনিংস ছিল ১১ ডিজিটের মোবাইল নম্বর! কোনো ব্যাটারই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। তাঁদের ইনিংসগুলো—০, ৫, ৪, ৯, ৫, ৭, ৯, ২, ০, ১ ও ০। পাকিস্তানের দুই পেসার আলি রাজা ও মিনহাজ ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন। ১৯.৪ ওভারেই অলআউট হয়ে যায় মালয়েশিয়া।
সেভেনহি সেভেনস স্টেডিয়ামে টস জিতে পাকিস্তানকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান মালয়েশিয়ার অধিনায়ক দিয়াজ পাত্র। ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল হতাশার। দ্বিতীয় ওভারে দলীয় ৪ রানে ফেরেন ওপেনার উসমান খান (১)।
পাকিস্তানের ওপর আধিপত্য দেখিয়ে দশম ওভারে টপ অর্ডারের আরেক ব্যাটার আলি হাসান বালুচকেও (১৪) ফেরান পেসার নাগিনেস্বরন সাথনাকুমারান। পাওয়ার-প্লেতে ২ উইকেট হারিয়ে ৩০ রান তোলে পাকিস্তান। তবে তৃতীয় উইকেটে মিনহাজ ও আহমেদের ২৩৪ বলে ২৯৩ রান জুটিতে পাকিস্তান গড়ে ৩৪৫ রানের পাহাড়সম স্কোর।
১৪৮ বলে ১৭৭ রানে অপরাজিত থাকেন ওপেনার মিনহাজ। তাঁর ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৮টি ছক্কা। ১১৪ বলে ১৩২ রান করেছেন আহমেদ। মেরেছেন ৮টি চার ও ২টি ছক্কা।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রেকর্ড গড়লেন বাহরাইনের পেসার আলি দাউদ। ভুটানের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তাঁর ৭/১৯ বোলিং ফিগার টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে দ্বিতীয় সেরা।
শীর্ষে মালয়েশিয়ার সিয়াজরুল ইদ্রুস। ২০২৩ সালে চীনের বিপক্ষে ৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তৃতীয়তে হর্ষ ভরদ্বাজ। ২০২৪ সালে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ৩ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
নাইজেরিয়ার পিটার আহো ৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে তালিকায় চারে। ২০২১ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওনের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েছিলেন তিনি।
পাঁচ নম্বরে ভারতের পেসার দীপক চাহার। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৭ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
দুবাইয়ে প্রথমে ব্যাট করে ১৬১ রান তোলে বাহরাইন। লক্ষ্য তাড়ায় নামার পর তৃতীয় ওভারেই আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ৩৩ বছর বয়সী এই পেসার। নিজের প্রথম ওভারেই নেন দুই উইকেট।
মাঝে ভুটান চতুর্থ উইকেটে ৬৭ রান যোগ করে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। কিন্তু দাউদ আবারও আঘাত হানেন শেষ ভাগে। ১৬তম ওভারে নেন তিন উইকেট, পরের ওভারে নেন আরও দুই উইকেট।
দাউদের রেকর্ডে ভুটানকে ৩৫ রানে হারিয়েছে বাহরাইন।