
চার-ছক্কার চেয়েও ম্যাচ জয়ে অত্যাবশ্যক ‘স্মার্ট ক্রিকেট’। আধুনিক ক্রিকেট বলতে বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস বুঝিয়েছেন ‘বুঝে-শুনে পথচলা’। একই সঙ্গে রানিং বিট্যুইন দ্য উইকেট , প্রতিপক্ষের পালস বিশ্লেষণ, আদোপ্রান্ত যাচাই-বাছাই ও বাউন্ডারি লাইনের পরিমাপ নখদর্পণে রাখা- ছোটখাট বিষয়গুলো কাজ সহজ করে দেয়, পৌঁছে দেয় কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে। পরিকল্পনা যেমন কাজের অংশ, অ্যাথলেটিক্সে স্মার্ট এপ্রোচ ঠিক ততটাই। এশিয়া কাপ মিশন কিংবা তারও আগে থেকেই লিটন দাসের সরব বার্তা - ‘টু বি স্মার্ট ক্রিকেট’। অধিনায়কের তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা সতীর্থদের কেউ আমলে নিয়েছেন, কেউবা এড়িয়ে গেছেন। যা এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে কিছুটা হলেও দৃশ্যমান।
লিটন দাসের ছিল স্মার্ট ক্রিকেটের প্রতিশ্রুতি। তার দলকেও বিশেষ দুটি পরামর্শ দিয়ে রেখেছিলেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট। বাংলাদেশ অধিনায়ক ও তার সতীর্থরা নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কতটা রাখতে পেরেছেন এবং আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পরামর্শ গ্রহণ করেছেন কীনা তা-ই আলোচ্য। সরল দৃষ্টিতে হংকংয়ের বিপক্ষে ৭ উইকেটে জয়ে এশিয়া কাপে শুভসূচনা হয়েছে বাংলাদেশের। এই ম্যাচে পারফরম্যান্স করেছেন লিটন ও তাওহীদ হৃদয়। বল হাতে আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও তানজিম হাসান সাকিব। এরপর...
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের শুরুতে দেশের দুই ওপেনারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যেতে পারে। গত কয়েকটি টি-টোয়েন্টি সিরিজের মতো হংকংয়ের বিপক্ষে ওপেনিং ভরসা রাখা হয় তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেনের ওপর। ভরসা না করেও যে উপায় নেই। কারণ দেশীয় ক্রিকেটের হেলে পড়া ওপেনিং সিংহাসন টিকিয়ে রেখেছেন এই দুই তরুণ ব্যাটার। তাছাড়া দুই ব্যাটার প্রায় প্রতি ম্যাচে প্রতিযোগিতা করে হাঁকিয়েছেন চার-ছক্কা। উদ্বোধনে তাদের ওপরই আস্থা নির্বাচকদের।
আরও পড়ুন
| তানজিদ শোনালেন আশার বানী |
|
হংকং ম্যাচে তানজিদ-পারভেজ ছিলেন ফ্রন্টলাইনার সোলজার। বৃহস্পতিবার শেখ আবু জায়েদ স্টেডিয়ামে ব্যাট হাতে নামার আগে চলতি বছরে চলতি বছরে ৪৫টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন দুই ব্যাটার। অথচ গতকাল এই সংখ্যাটা বেড়ে হয়েছে কেবল ৪৬। দুজনের মাঝে ভয়হীন ও ছক্কা মারার যে প্রতিযোগিতা, তা এশিয়া কাপ মঞ্চে দেখা যায়নি। ভালো শুরুর পরও লাল-সবুজ দলকে প্রথমে বিপদে ফেলেন ইমন। সবশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত অর্ধশতক হাঁকানো ইমন এদিন করতে পারেন ১৯ রান (১৪ বল)।
চলতি বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে নিজের ২৩তম ছক্কাটি মারার ২ বল পরেই আরেকটি ছক্কা মারার চেষ্টা করেন পারভেজ। হিতে বিপরীত হয়ে ছাড়েন মাঠ। অর্থাৎ হংকংয়ের লড়াকু পুঁজির বিপরীতে অল্পতে উইকেট বিলিয়ে দেন তিনি। তারই সঙ্গী তানজিদ থেমেছেন আরও অল্পতে। দুই অঙ্কের রান স্পর্শ করেছেন ঠিকই, সেটাকে পারেনি ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বড় করতে। ঘরের মাঠ সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নিজের সবশেষ ম্যাচে চোখজুড়ানো ইনিংস খেলেছিলেন তানজিদ। চায়ের শহরে তার অপরাজিত ৫৪ রানের ওপর ভর করে স্বাগতিকরা সহজ জয় পায়। অথচ হংকংয়ের বিপক্ষে ২৪ বর্ষী ব্যাটারের না ছিল ধার-ভার। ১৮ বলে করতে পেরেছেন কেবল ১৪। ছিল না ছক্কা। সান্ত্বনা কেবল ১ বাউন্ডারি।
দুই ওপেনারের পতনে দায়িত্ব বর্তায় টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারের ব্যাটারদের ওপর। অবশ্য বহুদিন ধরে দুর্বল এই জায়গায় বাহবা পাওয়ার মতো কাজ করে দেখিয়েছে ব্যাটাররা। এই সেক্টরের মূল ব্যাটন ছিল লিটনের হাতে। এশিয়া কাপ শুরুর আগে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রকাশিত প্রোমো ভিডিওতে বাংলাদেশ দলপতি যেভাবে বলেছেন, “মাঠে আমাদের আগ্রাসন”, ঠিক তারই প্রতিচ্ছবি ছিল আশার বাইশ গজে।
দলপতি লিটন এমনিতেই চাপে ছিলেন। পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা সিরিজে ছিলেন ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দী। সেখান থেকে ফেরার একটা তাড়না ছিল। বের হয়েছেন সুনিপুণ দক্ষতায়। হাত খুলে খেলেছেন সবশেষ নেদারল্যান্ডস সিরিজে। ফিফটির দেখা পাওয়া ছাড়াও সিরিজসেরা হয়েছেন। স্মার্ট ক্রিকেট খেলে হংকংয়ের বিপক্ষেও বাজিমাত করেছেন। ক্রিজে যতক্ষণই ছিলেন ব্যাটিং সৌন্দর্য বিলিয়েছেন। স্টেডিয়ামে আশা হাজার খানেক দর্শকরাও তার মনোমুগ্ধকর ব্যাটিং উপভোগ করেছেন। এশিয়ার কাপের দোরগোড়ায় নিজের প্রথম ম্যাচে ৩৯ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেছেন লিটন। গড়েছেন ছক্কার রেকর্ড। দেশের ছক্কার রাজা এখন তিনিই।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের ১১১তম কুড়ি কুড়ি ম্যাচ অংশ নেওয়া লিটন হংকংয়ের বিপক্ষে নেমেছিলেন নামের পাশে ৭৭ ছক্কা নিয়ে। গত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলা মাহমুদউল্লাহর ছক্কাও ৭৭টি। যৌথ নামের রেকর্ডটাকে গতকাল হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচে নিজের একার করে নিয়েছেন লিটন। আর সেটা মাহমুদউল্লাহর চেয়ে ২১ ইনিংস কম খেলেই। মোদ্দাকথা আশার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
আট জাতির টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয়ে লিটনের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৭০ বলে ৯৫ রানের জুটি গড়েন তাওহীদ হৃদয়। অনেক সমালোচনা মাড়িয়ে একাদশে টিকে যাওয়া এই হার্ডহিটার ব্যাটারের কাছ থেকে দেখা মেলেনি পাওয়ার হিটিং। ব্যাটিংয়ে ছিল না ঝাঁজ। ক্রিকেটীয় ভাষায় ‘আগলি ইনিংস’ যেটাকে বলে সে কাজটিই করেছেন ডানহাতি ব্যাটার। শেষ দিকে তামিম সাজঘর মুখো হলেও হৃদয় ৩৬ বলে ৩৫ রান নিয়ে খেলা শেষ করেছেন। লিটনের স্ট্রাইকরেট ১৫১.২৮ থাকলেও হৃদয়ের স্ট্রাইকরেট ছিল ১০০-এর চেয়ে কম। সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে প্রশ্নাবানে জর্জরিত হতে হয়েছে তাকে। আধুনিক ক্রিকেট, পাওয়ার হিটিং, রানিং বিট্যুইন দ্য উইকেটে দুর্বলতা নিয়ে হৃদয়ের উত্তর ছিল, দলের প্রয়োজনটাই আগে।
লিটন-হৃদয়ের বদৌলতে পরীক্ষার হটসিটে বসতে হয়নি জাকের আলী, শামীম পাটোয়ারী ও রিশাদ হোসেনদের। তবে বোলিং সেক্টর নিয়ে একটু হতাশা থেকেই গেল। বোলাররা সুযোগের সুবিচার কতখানি করতে পেরেছেন সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ, ভারতের বিপক্ষে শতকের নিচে গুটিয়ে যাওয়া হংকং ১৪৩ রানের লড়াকু স্কোর দাঁড় করায় বাংলাদেশের বিপক্ষে। যা টাইগার শিবিরে অস্বস্তি জন্ম দিয়েছে। ফলে ইচ্ছা সত্ত্বেও ম্যাচপরবর্তী তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে পারেননি লিটন।
আরও পড়ুন
| রানরেট নিয়ে বিচলিত নন হৃদয় |
|
এদিন ৬ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৩৪ রান করা হংকং শেষ পর্যন্ত স্কোর বোর্ডে জমা করে ১৪৩ রান। যা বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জে ফেলে। কারণ, আবু ধাবির এই মাঠে এর আগে কখনও জয়ের স্বাদ পায়নি টাইগাররা। ‘জুজু’ নিয়েই খেলতে নামে তারা। তারমধ্যে চিরচেনা পারফরম্যান্স দেখাতে ব্যর্থ ছিলেন মেহেদী হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান। কাটার মাস্টার বরাবরের মতো ডেথ ওভারে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চেপে রেখেছেন। তবে ছিলেন উইকেটশূন্য। তাসকিন আহমেদ কোটার সবগুলো ওভার হাত ঘুরিয়ে দুই উইকেট তুলেছেন। তবে সাড়ে নয় ইকোনমি রেটে রান দিয়েছেন।
টাইগার বোলারদের মধ্যে সফল তানজিম হাসান ও রিশাদ। তানজিম একদম অচেনা কন্ডিশনে খেলতে নেমেছিলেন। এর আগে শেখ আবু জায়েদের মাঠে বিচরণ হয়নি তার। তারপরও উইকেট বুঝে-পড়ে পেয়েছেন সাফল্যের দেখা। চার ওভারে ২ উইকেট তুলেছেন। দলের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে কম রান (২১) খরচ করেছেন তিনি। লেগ স্পিনার রিশাদও প্রতিপক্ষকে খুব একটা সুবিধা করতে দেননি। রান খরচ করেছেন একটু বেশিই।
এশিয়া কাপের দোরগোড়া পেরোনো বাংলাদেশের পরবর্তী লক্ষ্য শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানদের মুখোমুখির আগে নিশ্চয়ই আপন কাঠগড়ায় নিজেদের দাঁড় করাবেন ক্রিকেটাররা। ভুল-শুদ্ধির এই মিশনে এক্সর্টা রান কমিয়ে আনা, ভালো ফিল্ডিং এবং পাওয়ার হিটিংয়ে পূর্ণ মনোযোগ-তবেই তিনবার এশিয়া কাপের শিরোপার মঞ্চে ওঠার কষ্ট চারবারে গিয়ে মোচন বাংলাদেশের।
No posts available.
২ মার্চ ২০২৬, ১০:০০ পিএম
২ মার্চ ২০২৬, ৪:১৬ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে পাকিস্তান নারী ক্রিকেটারদের দেশে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে লাগাতার পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে তেহরান। এই পরিস্থিতিতে দুবাই, সৌদি আরব, ওমানসহ কয়েকটি দেশের বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
যুদ্ধের সংঘাত এবং বিমান বন্দর সাময়িক বন্ধ থাকায় দেশে ফিরতে বিলম্ব হচ্ছে পাকিস্তান নারী দলের ক্রিকেটারদের। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ শেষে সোমবার রাতে ডারবান থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল ফাতিমা সানাদের। কিন্তু বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। বর্তমানে তারা ডারবানেই অবস্থান করছেন।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছে, আকাশসীমা পুনরায় খোলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়ার পরই দল দেশে ফেরার পথে রওনা দেবে। পিসিবি সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত খেলোয়াড়রা দক্ষিণ আফ্রিকাতেই থাকবেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় পাকিস্তান নারী দল তিনটি টি-টোয়েন্টি এবং তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে, যেখানে উভয় সিরিজই ২-১ ব্যবধানে জিতেছে স্বাগতিক দল।

ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। ওমরাহ শেষে শনিবার জেদ্দা থেকে দুবাই হয়ে দেশে ফেরার কথা ছিল জাতীয় দলের উইকেটকিপার ব্যাটারের। তবে ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাতে আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রাপথে বিঘ্ন ঘটে মুশফিকের। তবে সোমবার নিরাপদে দেশে ফিরেছেন তিনি।
সোমবার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে জাতীয় দলের ক্রিকেটারের ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারই সহধর্মিণী জান্নাতুল কিফায়েত মন্ডি।
তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মুশফিক নিরাপদে বাসায় ফিরে এসেছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তার জন্য সবকিছু সহজ করে দিয়েছেন। যারা আমার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং আমাকে মানসিক সমর্থন দিয়েছেন, সকল আপনজনকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’
যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুশফিকের স্ত্রী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক যেন হয়, এ জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন তিনি, ‘আমরা দোয়া করি, ইন শা আল্লাহ, পৃথিবীর পরিস্থিতি খুব শিগগিরই শান্ত ও স্বাভাবিক হয়ে উঠুক।’
রবিবার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছিলেন ইসরায়েল-ইরানের সংঘাতে জেদ্দা বিমানবন্দরে আটকে পড়া মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন তিনি। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, রবিবার রাতের ফ্লাইটে মুশফিক দেশে ফিরে আসবেন।

আগামীকাল মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ফাইনালে নর্থ জোনের বিপক্ষে মাঠে নামবে সেন্ট্রাল জোন। তার আগে সোমবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন সেন্ট্রাল জোনের অলরাউন্ডার সাইফ হাসান। এসময় তিনি দলের লক্ষ্য এবং ব্যক্তিগত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
আগামী সপ্তাহে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে। ফলে বিসিএল আসন্ন সিরিজের আগে দেশের ক্রিকেটারদের জন্য ভালো প্রস্তুতির মঞ্চ হতে পারে। সাইফ হাসানও বলছেন সে কথা।
সাইফ বলেন, 'যেহেতু আমরা ফাইনালে উঠেছি এবং একটা ম্যাচ খেলার সুযোগ বেড়েছে। ওয়ানডে সিরিজের আগে এটা ভালো একটা প্রস্তুতি আমাদের জন্য। আশা করি কালকের ম্যাচটায় আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারবো।'
'গত এক-দেড় বছর ওরকম ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাইনি। কিছু ওয়ানডে আমরা পেয়েছি তাও টি-টোয়েন্টির মাঝখানে। এখন যেগুলাই ওয়ানডে সিরিজ আছে অবশ্যই প্রস্তুতিটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে।'-যোগ করেন তিনি।
বিসিএলে বাদবাকি ম্যাচগুলো বগুড়া ও রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হলেও ফাইনাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিরপুর। শিরোপার মঞ্চে ব্যক্তিগত লক্ষ্য জানাতে গিয়ে সাইফ বলেন,
'বগুড়া-রাজশাহীতে সাধারণত খুব ভালো উইকেট থাকে। আর মিরপুরে কালকে যেহেতু দিবা-রাত্রির ম্যাচ, আশা করি ভালো উইকেট থাকবে। একটা সিরিজের আগে যদি ম্যাচ অনুশীলন থাকে, অবশ্যই খুবই ভালো ব্যাটসম্যান হিসেবে যদি বলি। তাই ম্যাচটি যেখানেই খেলি না কেন, নিজের শতভাগ দেয়ার চেষ্টা করি।'
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা হয়নি বাংলাদেশ দলের। চলতি বছরেও কোনো আইসিসি ইভেন্ট নেই। যদিও আগামী বছর রয়েছে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ। যেখানে সরাসরি খেলবে টাইগাররাও।
সাইফ বলেন, ‘সবাই আসলে মন খারাপ করেছে (বিশ্বকাপ খেলতে না পেরে)। এখানে অস্বীকার করার কিছু নেই। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়াটাই জরুরি।’

সুপার এইটে নিজেদের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ঠিকই হারিয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু রান রেটের সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। তাতেই সালমান আলী আগাদের সেমি-ফাইনাল স্বপ্ন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। পাকিস্তানকে টপকে গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে নিউ জিল্যান্ড। তিনটি ম্যাচই জিতে গ্রুপ সেরা হয়েছে ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে শনিবার। এখনও থামেনি সমালোচনার ঝড়। শূলে চড়ানো হচ্ছে নির্বাচক, কোচিং স্টাফদের সদস্যদেরও। শোনা গেছে, বিশ্বকাপে ব্যর্থতায় জরিমানা করা হয়েছে ক্রিকেটারদের। জবাবদিহিতার মধ্যে আনা হচ্ছে কোচিং স্টাফদের। ইতোমধ্যে বৈশ্বিক আসরে ব্যর্থতায় পিসিবিতে ফাটল ধরেছে।
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে দেশটির জাতীয় নির্বাচক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক আন্তর্জাতিক আম্পায়ার আলিম দার। পাকিস্তানের সামা টিভি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে আজ।
এক প্রতিবেদনে তারা জানায়, জাতীয় দলের ধারাবাহিক বাজে ফলের কারণে সৃষ্ট উদ্বেগ থেকেই আলিম দার পদত্যাগপত্র জমা দেন। এতে দল পরিচালনা ও নির্বাচকদের ওপর চাপ যে বাড়ছে, সেটিও স্পষ্ট হয়েছে।
বিশ্বকাপে মাঠের ব্যর্থতার পর নির্বাচক প্যানেলে এটিই প্রথম বড় পরিবর্তন। তবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত কে হবেন বা কমিটিতে আরও কোনো পরিবর্তন আসছে কি না—এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচই পাকিস্তান খেলেছে শ্রীলঙ্কায়। তাদের গ্রুপ পর্বের লড়াইগুলো হয়েছে কলম্বোয়। সুপার এইটের দুটি ম্যাচ খেলেছে তারা পাল্লেকেলেতে।
গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও শেষ চারে খেলতে পারেনি পাকিস্তান। আসরে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি তারা। আর এবার এই ব্যর্থতা।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অন্যান্য দেশেও। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে এই সিরিজের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
এদিকে, বিসিবির সূত্র বলছে, এই বিষয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে এখনও কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
৫০ ওভারের তিনটি ম্যাচ খেলতে ৯ মার্চ ঢাকায় আসার কথা রয়েছে পাকিস্তানের। শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ১১, ১৩ এবং ১৫ মার্চ হওয়ার কথা ম্যাচগুলো। অনিশ্চয়তার মধ্যে সিরিজটি আলোর মুখ এখন না-ও দেখতে পারে। তবে সূত্র বরাতে জিও সুপার বলেছে ভ্রমণ ঝুঁকি, নিরাপত্তা উদ্বেগ যদি না বাড়ে তবে পাকিস্তান অবশ্যই সফর করবে।
আরও পড়ুন
| নতুন মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবে ভারত |
|
এদিকে আসন্ন সিরিজে দল নিয়ে এই সপ্তাহে বসার কথা পাকিস্তান ম্যানেজমেন্টের। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর তারা ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে মনোযোগ দিচ্ছে। আগামী বছর সাদা বলের লঙ্গার ভার্সনের বিশ্বকাপ হবে জিম্বাবুয়ে, নামিবিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকায়।
সূত্র জানায়, ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে বাংলাদেশের বিপক্ষে সফর দিয়েই ব্যাপক পরিবর্তন আনতে চায় পাকিস্তান। বাবর আজম, মোহাম্মদ নওয়াজ ও সাইম আইয়ুবদের মতো প্রথম পছন্দের ক্রিকেটাররা বাদ পড়তে পারেন। তাদের জায়গায় তরুণদের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে পাকিস্তানের নির্বাচক প্যানেল। এছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকা আরও ৫-৬ জন ক্রিকেটার বাদ পড়তে পারেন বলে জানায় সূত্র।
বাংলাদেশে আসার আগে সর্বশেষ গত নভেম্বরে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল পাকিস্তান। সেবার ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে আতিথেয়তা দেয় পাকিস্তান। রাওয়ালপিন্ডিতে হওয়া তিন ম্যাচেই জয়লাভ করে পাকিস্তান।