নাটকীয় সমাপ্তির দিকে এখন ওভাল টেস্ট। এই টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে কঠিন এক সমীকরনের সামনে দাঁড়িয়ে দু'দল। জিততে হলে ভারতের দরকার ৯ উইকেট। ইংল্যান্ডের সেখানে দরকার ৩২৪ রান। প্রথম ইনিংসে ২৩ রানের লিড নিয়েও টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে ইংল্যান্ডের চ্যালেঞ্জটা কঠিন করে দিয়েছে ভারত। চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৭৮ রান তাড়া করে জয়ের অতীত আছে ইংল্যান্ডের। ২০২২ সালে বার্মিংহাম টেস্টে ভারতের বিপক্ষে ৭ উইকেট জয়ের ছবিটা তাই চোখের সামনে ভেসে উঠছে ইংল্যান্ড সমর্থকেদের। চলমান টেস্ট সিরিজে হেডিংলিতে ৩৭১ তাড়া করে ৫ উইকেটে জয়ের তরতাজা স্মৃতি থেকেও টনিক নিতে পারে ইংল্যান্ড।
ওভাল টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে ইংল্যান্ড নিজেদের কাজটা কঠিন করে দিয়েছে বাজে ফিল্ডিং এবং ক্যাচ ড্রপে। একটি দুটি নয়, ৬টি ক্যাচ ইংল্যান্ড ফিল্ডারদের হাত থেকে ফসকে গেছে। যার মধ্যে স্লিপে পড়েছে ৪টি ক্যাচ। অন্য ২টি লং অন এবং গালিতে। টেস্ট ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরি (২৮৬ মিনিটে ১৪ চার, ২ ছক্কায় ১১৮) উদযাপন করেছেন জসওয়াল ভাগ্যের কৃপায়। একটি-দুটি নয়, তার তিনটি ক্যাচ ফেলে দিয়েছেন ইংল্যান্ড ফিল্ডাররা।জসওয়ালের পার্টনার আকাশদ্বীপের ৬৬ রানেও আছে একবার লাইফ। তৃতীয় উইকেট জুটিতে এই দুইজন ১০৭ রান যোগ করে ভারতকে লড়াইয়ে রেখেছেন। দ্বিতীয় দিন শেষে ৭৫/২ স্কোর নিয়ে কতো স্কোরই বা প্রত্যাশা করেছে ভারত ? তৃতীয় দিন ৮ উইকেটে ৩২১ রান যোগ করে ভারতের স্কোর ৩৯৬ পর্যন্ত টেনে নেয়ার পেছনে অবদান টেল এন্ডারদের। ৭ম উইকেট জুটির ৬০, ১০ম উইকেট জুটির ৩৯ রানে তা সম্ভব হয়েছে। জাদেজার ৫৩, ওয়াশিংটন সুন্দরের ৫৩ রানের ইনিংসও ইংল্যান্ডকে চতুর্থ ইনিংসে বড় পরীক্ষায় দিয়েছে ফেলে। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারি ইংল্যান্ড পেসার অ্যাটকিনসন দ্বিতীয় ইনিংসে পেয়েছেন ৩ উইকেট (৩/১২৭)। প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট শিকারি পেসার জস টং দ্বিতীয় ইনিংসে পেয়েছেন ৫ উইকেট (৫/১২৫)।
চতুর্থ ইনিংসে ৩৭৪ রানের চ্যালেঞ্জে পড়ে তৃতীয় দিনের অন্তিম সময়ে সিরাজের ইয়র্কারে ক্রাউলি বোল্ড হয়েছেন (১৪)। বেন ডাকেট আছেন ৩৪ রানে ব্যাটিংয়ে। তৃতীয় দিন শেষে ইংল্যান্ডের স্কোর ৫০/১।
৩১ আগস্ট ২০২৫, ৮:৩৭ এম
আগামী মাসে ১৯ বছর পূর্ণ হবে দাভিনা পেরিনের। নিজের জন্মদিনের আগে বিধ্বংসী এক ইনিংসে যেন উপলক্ষ্য রাঙানোর অগ্রীম আভাস দিলেন তরুণ ব্যাটার।। মাত্র ৪৩ বলে ১০১ রান করে রেকর্ড বইয়ে ঝড় তুললেন ইংল্যান্ডের এই টপ-অর্ডার।
দা হান্ড্রেডের নারীদের প্রতিযোগিতায় শনিবার রাতে নর্দার্স সুপার চার্জার্সের হয়ে এই ইনিংস খেলেন পেরিন। এলিমিনেটর ম্যাচে লন্ডন স্পিরিটের বোলারদের বেধড়ক পিটিয়ে দা হান্ড্রেডের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন তিনি।
আরও পড়ুন
৫ উইকেটের আক্ষেপ নেই, সামনে হবে: তাসকিন |
![]() |
তিন অঙ্ক ছুঁতে ৪২ বল খেলেন পেরিন। দা হান্ড্রেড তো বটেই, স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডের যে কোনো ব্যাটারের এটিই দ্রুততম সেঞ্চুরি। এর আগে ২০১৩ সালে সমারসেটের হয়ে ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন আনা শ্রাবসোল।
সব মিলিয়ে মেয়েদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এর চেয়ে কম বলে সেঞ্চুরি আর মাত্র দুটি- ২০২১ সালে ৩৬ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন নিউ জিল্যান্ডের সোফি ডিভাইন আর ২০১০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেয়ান্দ্রা ডটিন তিন অঙ্কে পা রেখেছিলেন ৩৮ বলে।
পেরিনের সমান ৪২ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ড আছে অস্ট্রেলিয়ার গ্রেস হ্যারিসের, ২০১৮ সালে। সবগুলো সেঞ্চুরিই ঘরোয়া টুর্নামেন্টে করা।
দা হান্ড্রেডে ছেলে-মেয়েদের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পেরিনের চেয়ে দ্রুত সেঞ্চুরি আছে শুধু হ্যারি ব্রুকের। ২০২৩ সালে ৪২ বলে ১০৫ রানের ইনিংস খেলার পথে ৪১ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন ইংল্যান্ডের মারকুটে এই ব্যাটার।
পেরিনের সেঞ্চুরির দিনে নির্ধারিত একশ বলে ৫ উইকেটে ২১৪ রান করে সুপারচার্জার্স। মেয়েদের দা হান্ড্রেডে এটিই দলীয় সর্বোচ্চ। এর আগে কোনো দল ১৯০ রানও করতে পারেনি। ২০২৩ সালে ৩ উইকেটে ১৮১ রান করে রেকর্ড ছিল ওয়েলশ ফায়ারের।
আরও পড়ুন
দুর্দান্ত কামব্যাকের পর সাইফ বললেন, 'ভালোর শেষ নেই, কেবল শুরু' |
![]() |
ইনিংসের ২১ বল বাকি থাকতে রান আউট হন পেরিন। ৪৩ বলের ইনিংসে ১৫ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মারেন ১৮ বছর বয়সী ব্যাটার। এছাড়া ১২ বলে ৩১ রানের ক্যামিও খেলে অপরাজিত থাকেন পাঁচ নম্বরে নামা নিকোলা ক্যারি।
রান তাড়ায় লন্ডন স্পিরিট ৯ উইকেট হারিয়ে করতে পারে ১৭২ রান। ২৯ বল খেলে দলের সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন জর্জিয়া রেডমেইন। দুই ইনিংস মিলিয়ে ম্যাচে হয় ৩৮৬ রান। দুই দলের ব্যাটাররা মিলে মারেন ৬৩টি বাউন্ডারি। দুটিই দা হান্ড্রেডের ইতিহাসের রেকর্ড।
লন্ডনকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে নর্দার্ন সুপারচার্জার্স। রোববার সন্ধ্যার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ সাউদার্ন ব্রেভ।
রান তাড়ায় প্রথম তিন বল দেখেশুনে খেললেন অ্যালেক্স হেলস। পরের চার বল মইন আলির ওপর দিয়ে ঝড় বইয়ে দিলেন ইংলিশ ওপেনার। টানা তিন ছক্কার পর মারলেন একটি। শুরুর ওই তাণ্ডবের পর ঝড়ো ইনিংস খেলে ১৪ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন হেলস।
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) ম্যাচে রোববার ভোরে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ৪৩ বলে ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন হেলস। যার সৌজন্যে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ১৪ হাজার রান পূর্ণ হয় ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলতে নামা ওপেনারের।
আরও পড়ুন
৫ উইকেটের আক্ষেপ নেই, সামনে হবে: তাসকিন |
![]() |
এই ফরম্যাটে ১৪ হাজার রান করা বিশ্বের তৃতীয় ব্যাটার হেলস। তার আগে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ১৪ হাজার রানের রেকর্ড স্পর্শ করেন ক্রিস গেইল ও কাইরন পোলার্ড। সিপিএলে ঠিক আগের ম্যাচেই এই ঠিকানায় পৌঁছান পোলার্ড।
৫০৫ ইনিংসে ৭ সেঞ্চুরির সঙ্গে ৮৯টি ফিফটিতে হেলসের সংগ্রহ এখন ১৪ হাজার ২৪ রান। তার সামনে শুধু ক্রিস গেইল। অবসরের আগে ৪৫৫ ইনিংসে ২২ সেঞ্চুরি ও ৮৮ ফিফটিতে ১৪ হাজার ৫৬২ রান করেছিলেন ইউনিভার্স বস।
হেলসের বয়স এখন ৩৬ বছর। নিয়মিতই তিনি খেলছেন বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে। তাই সামনের দিনগুলোতে হেলস যদি গেইলের রানের রেকর্ড ভেঙে দেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বরং তখন দেখা যাবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের নতুন রাজা।
অবশ্য খুব একটা পিছিয়ে নেই পোলার্ডও। ৬৩৪ ইনিংসে ক্যারিবিয়ান তারকা অলরাউন্ডারের সংগ্রহ ১৪ হাজার ১২ রান। তবে তার বয়স হয়ে গেছে ৩৮ বছর। বেশি দিন হয়তো আর খেলা হবে না তার। তাই গেইলকে ছাড়াতে হলে খুব দ্রুত রান করতে হবে পোলার্ডের।
এছাড়া এই সংস্করণে ১৩ হাজারের বেশি রান আছে আর চারজন ব্যাটারের- ডেভিড ওয়ার্নার (১৩ হাজার ৫৯৫), শোয়েব মালিক (১৩ হাজার ৫৭১), বিরাট কোহলি (১৩ হাজার ৫৪৩) ও জস বাটলার (১৩ হাজার ৩৩৮ রান)। তাদের পক্ষেও গেইলকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকছে।
আরও পড়ুন
দুর্দান্ত কামব্যাকের পর সাইফ বললেন, 'ভালোর শেষ নেই, কেবল শুরু' |
![]() |
হেলসের মাইলফলক ছোঁয়ার দিনে সহজ জয়ই পেয়েছে ত্রিনবাগো। গায়ানার করা ১৬৩ রান ১৬ বল বাকি থাকতেই ছুঁয়ে ফেলে তারা।
উদ্বোধনী জুটিতে কলিন মুনরোকে নিয়ে ১১৫ রান যোগ করেন হেলস। মুনরোর ব্যাট থেকে আসে ৩০ বলে ৫২ রান। ৩ চার ও ৭ ছক্কায় ৪৩ বলে ৭৪ রান করেন হেলস। শেষ দিকে ১৪ বলে ২৭ রানের ক্যামিও খেলে দলের জয় ত্বরান্বিত করেন আন্দ্রে রাসেল।
ছয় ম্যাচে পাঁচ জয়ে দশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ত্রিনবাগো। চার ম্যাচে চার পয়েন্ট পাওয়া গায়ানা আছে চার নম্বরে।
ওয়ানডে অভিষেকে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। টেস্টে এই সাফল্য পান তিনি গত বছর। তবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখনও ৫ উইকেট নেওয়া হয়নি অভিজ্ঞ পেসারের। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে খুব কাছে গিয়েও হয়নি।
তবে কোনো আক্ষেপ নেই তাসকিনের। সামনে টি-টোয়েন্টিতেও ৫ উইকেট হয়ে যাবে, বিশ্বাস ৩০ বছর বয়সী পেসারের।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের দাপুটে জয়ের মূল কারিগর তাসকিন। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ২৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তিনিই জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
আরও পড়ুন
দুর্দান্ত কামব্যাকের পর সাইফ বললেন, 'ভালোর শেষ নেই, কেবল শুরু' |
![]() |
ম্যাচে নিজের প্রথম বলেই উইকেট নেন তাসকিন। পরের ওভারেও প্রথম বলে সাফল্য পান অভিজ্ঞ পেসার। বাকি দুই ওভারেও একটি করে শিকার ঝুলিতে নেন অভিজ্ঞ এই পেসার।
নিজের শেষ ওভারে নোয়াহ ক্রোয়েসকে যখন আউট করেন তাসকিন, তখনও তার স্পেলের বাকি তিন বল। সম্ভাবনা থাকলেও অল্পের জন্য ৫ উইকেট পাওয়া হয়নি তার। ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো ৪ উইকেট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
ম্যাচ শেষে টি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ৫ উইকেট না পাওয়ায় কোনো আক্ষেপ নেই তার।
“(হাসি) না না! কোনো আক্ষেপ নেই। টি-টোয়েন্টি তো ৪ ওভারের খেলা। তবে হবে ইনশাআল্লাহ্।”
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখনও না পেলেও, স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে এরই মধ্যে দুবার ৫ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন। ২০১৬ সালের বিপিএলে ৩১ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি। আর বিপিএলের গত আসরে তো গড়েন ইতিহাস!
ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রানে ৭ উইকেট নেন দুর্বার রাজশাহীর হয়ে খেলতে নামা তাসকিন। বিপিএল ইতিহাসের সেরা বোলিং এটি। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসেরই তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার তাসকিনের এই ৭ উইকেট।
বিপিএলের ওই ছন্দ এখন জাতীয় দলেও দেখাচ্ছেন তাসকিন। সবশেষ ছয় ম্যাচের চারটিতেই অন্তত ৩ উইকেট নিয়েছেন অভিজ্ঞ পেসার। এই ছয় ম্যাচে তার শিকার ১৫ উইকেট।
আরও পড়ুন
আসিফের ৬ ছক্কার ঝড় সামলে পাকিস্তানের জয় |
![]() |
অথচ বছরের শুরুতে চোটে পড়ে ছন্দ হারাতে বসেছিলেন তিনি। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে তাসকিন এখন সামনে আরও ভালো করার অপেক্ষায়।
“প্রত্যেকটা আন্তর্জাতিক ম্যাচই আমার জন্য অনেক স্পেশাল। বিশেষ করে বছরের শুরুর দিকে হালকা ইনজুরি যখন হয়েছিল, তখন ফেরার পর একটু স্ট্রাগল করছিলাম। শ্রীলঙ্কা সিরিজ দিয়ে (ভালো করা) শুরু হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ। ভালোর দিকে যাচ্ছি। এখনও সেরা অবস্থায় আসিনি। পরিশ্রম করে যাচ্ছি, প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যাচ্ছি।”
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম সবসময়ই ব্যাটিংবান্ধব হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সেই উইকেটেই ব্যাট হাতে ভয়াবহ ব্যর্থ হলো নেদারল্যান্ডস। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে তারা ২০ ওভারে মাত্র ১৩৮ রান তুলতে পারে ৮ উইকেট হারিয়ে। শেষ পর্যন্ত সহজ জয় পায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। মাত্র ১৩.৩ ওভারেই ৮ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্য টপকে যায় লিটন কুমার দাসের দল।
ম্যাচটিতে নেদারল্যান্ডসের ব্যাটিং ব্যর্থতার বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায় অতিরিক্ত ডট বল খেলা। ইনিংসে মোট ১২০ বলের মধ্যে তারা খেলেছে ৫১টি ডট বল—অর্থাৎ পুরো ইনিংসের প্রায় ৪৩ শতাংশ সময় কোনো রান আসেনি। বিপরীতে বাংলাদেশের ব্যাটাররা মাত্র ২২টি ডট বল খেলেছে। ফলে ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে রান তুলতে পার্থক্যটা হয়ে গেছে আকাশছোঁয়া।
নেদারল্যান্ডসের প্রধান কোচ রায়ান কুক তাই ম্যাচ শেষে হতাশাই প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন
দুর্দান্ত কামব্যাকের পর সাইফ বললেন, 'ভালোর শেষ নেই, কেবল শুরু' |
![]() |
“ব্যাটিংয়ের মানসিকতাই সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল। ডট বলের সংখ্যা প্রায় ৪৭টি (আসলে ৫১)—এটা আসলে অপরাধ এই উইকেটে।”
তবে বাংলাদেশের বোলার-ফিল্ডারদেরও কৃতিত্ব দিয়েছেন কুক। মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদরা লাইন-লেংথে বল করেছেন। চমৎকার বোলিংয়ে তাসকিন নিয়েছেন ৪ উইকেট। মাত্র ১ উইকেট পেলেও মুস্তাফিজ ছিলেন কৃপণ।
তাই বাংলাদেশের বোলারদের প্রশংসায় ভাসান কুক।
“বাংলাদেশের বোলাররা ডিসিপ্লিনড ছিল, ফিল্ডাররাও অসাধারণ করেছে পুরো ম্যাচ। প্রতিবারই যখন আমরা পার্টনারশিপ গড়তে যাচ্ছিলাম, তখনই তারা উইকেট তুলে নিয়েছে। ফলে আমরা কখনোই সে অর্থে গতি পাইনি।”
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নেদারল্যান্ডস শুরুটা খারাপ করেনি। তিন ওভার শেষে তাদের স্কোর ছিল কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৫ রান। কিন্তু ওপেনার ম্যাক্স ও’ডাউড আউট হওয়ার পর এক ঝটকায় ভেঙে পড়ে ব্যাটিং।
পাওয়ার প্লেতে নেদারল্যান্ডস তুলতে পারে মাত্র ৩৪ রান, যা আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো নয়। ইনিংসে সর্বোচ্চ রান এসেছে ব্যাটার তেজা নিদামানুরুর ব্যাট থেকে, ২৬ রান। বাকিরা সবাই আসা-যাওয়ার মিছিলেই ব্যস্ত ছিলেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যাটাররা দেখিয়ে দিয়েছে একই উইকেটে কেমন ব্যাটিং করা যায়। লিটন দাস ৫৪ রান করেছেন ২৯ বলে। সাইফ হাসান খেলেছেন ১৯ বলে ৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংস। তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমনও দ্রুত রান তুলেছেন। ফলে ১৩৮ রানের লক্ষ্য হয়ে গেছে অনেক সহজ।
নিজেদের ব্যর্থতার পেছনে প্রস্তুতির ঘাটতিকেও দায়ী করেছেন কুক।
আরও পড়ুন
আসিফের ৬ ছক্কার ঝড় সামলে পাকিস্তানের জয় |
![]() |
“কিছু ব্যাটারকে তাদের স্বাভাবিক জায়গার বাইরে খেলতে হয়েছে, আবার কেউ দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছে। তাও ফ্লাডলাইটের আলোয় শিশির ভেজা উইকেটে, যেখানে বল স্কিড করছিল- এটা মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়। আমাদের হাতে মাত্র একটি প্র্যাকটিস সেশন ছিল, তাই প্রস্তুতির ঘাটতিও প্রভাব ফেলেছে।”
তবে ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক দিকও খুঁজে পাচ্ছেন কুক।
“আমরা শিখতে ভালোবাসি। দ্রুতই আমাদের পরের ম্যাচ আছে। আশা করি এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও প্রতিযোগিতামূলক পারফরম্যান্স দিতে পারব।
বল হাতে ২ উইকেট আর ব্যাটিংয়ে ১৯ বলে ৩৬ রানের ঝড়ো ইনিংস। স্বপ্নের মতো এক ম্যাচ খেলেছেন সাইফ হাসান। দুর্দান্ত কামব্যাক হয়তো একেই বলে। তবে এটুকুতেই থামতে চান না সাইফ। বরং দৃপ্ত কণ্ঠে বললেন, এখন মাত্র শুরু হয়েছে। ভালোর কোনো শেষ নেই তার।
২০২১ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় সাইফের। দুটি ম্যাচ খেলে সেবার বাদ পড়ে যান দল থেকে।
পরে ২০২৩ সালে হাংজু এশিয়ান গেমসে তিনটি ম্যাচ অবশ্য খেলেন সাইফ। ম্যাচগুলোর আন্তর্জাতিক মর্যাদাও ছিল। তবে একই সময়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপ চলায়, ওই আসরে কোনো দেশ তাদের মূল দল পাঠায়নি। তাই আসলে জাতীয় দলে ফেরার স্বাদ তখনও পাওয়া হয়নি সাইফের।
অবশেষে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ দিয়ে আবার টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন ২৬ বছর বয়সী অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার। আর ফেরার ম্যাচটি তিনি রাঙালেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে।
দশম ওভারে বোলিংয়ে এসে দ্বিতীয় বলে হজম করেন বাউন্ডারি। তবে ঘুরে দাঁড়াতে একদম সময় নেননি সাইফ। এক বলই তিনি ফিরিয়ে দেন স্কট এডওয়ার্ডসকে। ওভারের শেষ বলে তার শিকার তেজা নিদামানুরু।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের ১ হাজার ৩৮০ দিন পর প্রথম উইকেটের স্বাদ পান সাইফ। এর আগে খেলা পাঁচ ম্যাচে কোনো উইকেট ছিল না তার। ম্যাচের বাকি সময়ে আরও এক ওভার করলেও উইকেট পাননি তিনি।
চমৎকার বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতেও ঝড় তোলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার। চার নম্বরে নেমে ১ চারের সঙ্গে ৩টি বিশাল ছক্কা মেরে খেলেন ১৯ বলে ৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংস। তার টানা দুই ছক্কায়ই ম্যাচ জিতে যায় বাংলাদেশ।
এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের পর ম্যাচ সেরার পুরস্কারে সাইফও ছিলেন সমান প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে সেটি শেষ পর্যন্ত জিতেছেন ৪ উইকেট নেওয়া তাসকিন আহমেদ। ম্যাচ সেরা না হলেও দীর্ঘ দিন পর জাতীয় দলে ফিরে তৃপ্ত সাইফ।
ম্যাচ শেষে টি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাইফ বলেছেন, সামনে আরও ভালো পারফরম্যান্সের চেষ্টা থাকবে তার।
“অনেক দিন পর কামব্যাক হয়েছে। সুযোগটা পেয়েছি আল্লাহর রহমতে। সবই আল্লাহর ইচ্ছা। কষ্ট করলে অবশ্যই ফল পাওয়া যায়। ইনশাআল্লাহ্ সামনে আরও ভালো খেলার চেষ্টা করব।”
“ভালোর তো শেষ নেই। কেবল তো শুরু। মাত্র (দলে) আসা হলো। সবই আল্লাহর ইচ্ছা। চেষ্টা করব আরও হার্ডওয়ার্ক করতে, প্রক্রিয়াটা ধরে রাখতে। ফল আপনাআপনিই চলে আসবে।”
সাইফকে স্কোয়াডে ফেরানোর সময়ই প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেছিলেন, দলের প্রয়োজনের সময় ২-৩ ওভার বোলিং করতে পারবেন সাইফ। তাই মিডল অর্ডারের পাশাপাশি কার্যকর অফ স্পিনার হিসেবেও বিবেচিত হয়েছেন তিনি।
লিটন কুমার দাসও জানেন সাইফের বোলিং সামর্থ্য সম্পর্কে। তাই শিশিরের কারণে রিশাদ হোসেনের বোলিং করতে সমস্যা হওয়ায় দশম ওভারে সাইফকে আক্রমণে আনেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণ মঞ্চে লিটন নিজেই জানান সেই কথা।
“রিশাদ যখন বোলিংয়ে এলো, ততক্ষণে মাঠে শিশির পড়ে গেছে। তখন আমার মনে হয়েছে যে বল গ্রিপ করতে সমস্যা হচ্ছে রিশাদের। তাই আমি সাইফকে এনেছি যেখতে যে সে কেমন বোলিং করে।”
অধিনায়কের দেখতে চাওয়া দারুণভাবে কাজে লাগান সাইফ। রিশাদের চার ওভারের মধ্যে দুই ওভারে করে দেন তিনি। যেখানে ১৮ রান খরচ করে নেন ২ উইকেট। তার মতে, বিপিএল ও জিএসএল খেলে বোলিংয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলেন তিনি।
“আমি তৈরি ছিলাম। গত দুই বছর বিপিএল খেলেছি, জিএসএল (গ্লোবাল সুপার লিগ) খেলেছি। সেখানে বোলিংটা আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। এমনিতে বোলিং নিয়েও আলাদাভাবে কাজ করেছি। তবে অবশ্যই ম্যাচের বোলিং তো আলাদা। আমার রোল পরিষ্কার ছিল। যখনই ব্যাটিং বা বোলিংয়ে আসা হবে, চেষ্টা থাকবে দলের জন্য অবদান রাখার।”
পরে সাইফ যখন ব্যাটিংয়ে নামেন তখন জয় হাতের নাগালেই ছিল বাংলাদেশের। ৬৫ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৪৫ রান। চার নম্বরে নেমে এর মধ্যে ৩৬ রান একাই করেন সাইফ। যেটি তার ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস। আগের পাঁচ ম্যাচ মিলিয়ে করেছিলেন মাত্র ৫২ রান।
বিধ্বংসী ব্যাটিং করার পথে অধিনায়কের সঙ্গে ২৬ বলে ৪৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন সাইফ। পরে ব্যাটিং সম্পর্কে বলতে গিয়ে লিটনের কাছ থেকে সাহস পাওয়ার কথা জানান তিনি।
“লিটন ভাই অনেক সাপোর্ট করছিলেন। বলছিলেন সময় নিতে। শুরুর দিকে অবশ্যই অনেক নার্ভ কাজ করে। তখন লিটন ভাই সাপোর্ট দিচ্ছিলেন। বলছিলেন যে, এক-দুইটা বল খেললে বুঝতে পারব। তো এরকম সাপোর্ট পেলে আরও ভালো খেলার চেষ্টা করব।”
৬ ঘণ্টা আগে
৭ ঘণ্টা আগে
৫ দিন আগে
৫ দিন আগে
৬ দিন আগে
৮ দিন আগে
১০ দিন আগে
১০ দিন আগে
১২ দিন আগে
১২ দিন আগে
১৪ দিন আগে
১৪ দিন আগে
১৪ দিন আগে
১৪ দিন আগে
১৫ দিন আগে