১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৭ পিএম

সংবাদ সম্মেলন শেষ করে বের হতেই রমিজ রাজার সঙ্গে দেখা নাহিদ রানার। বিপিএলের ধারাভাষ্যকার ও পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথার পর তরুণ পেসারকে নিয়ে ধারাভাষ্যকারদের কক্ষের দিকে হাঁটা ধরলেন রংপুর রাইডার্সের কর্মকর্তা তাসভির উল ইসলাম।
প্রেসবক্সের ঠিক পাশেই ধারাভাষ্যকারদের কক্ষে ঢুকে কিংবদন্তি পেসার ওয়াকার ইউনিসের দেখা পেয়ে গেলেন নাহিদ। পরের ১৫ মিনিটে চলল ওয়াকারের পেস বোলিং ক্লাস আর মন্ত্রমুগ্ধের মতো সব পরামর্শ শুনলেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার। যেখানে ছিল ৩টি বিশেষ বার্তা- খেলা ভালোবাসো, উপভোগ করো আর জোরে বোলিং করো।
শুরুতেই ভারী ও গম্ভীর আলাপে না গিয়ে নাহিদকে ওয়াকার বলেন,
'উপভোগ করছ তো? যদি উপভোগ করো, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। উপভোগ করো, জোরে বল করো- এইটাই সবকিছু।'
উত্তরে নাহিদ ছোট্ট উত্তরে জানিয়ে দেন, খেলার বাইরে তেমন কিছু নিয়ে চিন্তা করেন না,
'আমি শুধু খেলতে চাই আর নিজের প্রভাব রাখতে চাই- এর বাইরে কিছু ভাবি না। যা আসার, আমার রিজিকের মধ্যেই আসবে।'
এরপর শুরু হয় বোলিং নিয়ে ওয়াকারের গভীর আলোচনা। স্কিল বাড়ানো, সাহস ধরে রাখা কিংবা নতুন কিছু করা- সব পরামর্শের ভিড়ে একটি কথা বারবার বলছিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার। সেটি হলো, কোনোভাবেই ১৫০ কিমি প্রতি ঘণ্টায় বোলিং থেকে সরা যাবে না।
“কপালে যা লেখা আছে, কেউ সেটা কেড়ে নিতে পারে না। একভাবে না হোক, অন্যভাবে ঠিকই আসবে। তোমার গতি আছে- এটা কখনও কমাবে না। ফিট থাকো, সেটার ওপরই ফোকাস করো। যখন জোরে বল করো, শরীর কেমন লাগছে, ফুসফুস কীভাবে রিঅ্যাক্ট করছে- সেগুলো বোঝো।”
“তোমার গতি আছে, তুমি ১৫০-র বোলার। লোকজন তোমাকে ভয় পাবে। তারা সামনে এসে খেলবে না। এটা হারিও না। যদি এটা হারিয়ে ১৩৫-এ নেমে যাও, তাহলে তুমি মিডিয়াম পেসার হয়ে যাবে। তাই কিছু বদলাবে না।”
এসময় নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের উদাহরণও টেনে আনেন ওয়াকার।
“আমার ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকবার পিঠের চোটে পড়েছি। আমার অধিনায়ক ছিলেন ইমরান খান। তিনি বারবার বলতেন, 'যত যাই হোক, ১৫০ কিমিতে বল করবে। গতি এর চেয়ে কমলে তোমাকে নামাব না!' আমিও এটাই ভাবতাম। পিঠে সমস্যা হলে সেরে যাবে। কিন্তু গতি কমানো যাবে না।”
তবে গতির পাশাপাশি স্কিলের প্রয়োজনীয়তাও মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি পাকিস্তানি কিংবদন্তি।
“সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তুমি কিছু জিনিস শিখে নেবে। বল করতে করতেই স্কিল আপগ্রেড হবে। কিন্তু গতি হারাবে না। আর কারও কথা শুনবে না। আমার অ্যাকশন, তোমার অ্যাকশন, ওর অ্যাকশন- সব আলাদা। আমার পথ আর তোমার পথ আলাদা।”
“যেটা তোমার জন্য কাজ করে, সেটা বদলাবে না। সব সময় হাতে একটা ক্রিকেট বল রেখো, ওটা নিয়ে খেলো। নিজেই অনেক কিছু আবিষ্কার করবে। কিন্তু নিজের স্বাভাবিকতা কখনও হারিও না।”
ওয়াকার জানতে চান, বোলিংয়ের কোন জিনিসটি সহজাতভাবে করতে পারেন নাহিদ। এর উত্তরে তরুণ গতিতারকা বলেন, নতুন বলে আউটসুইংটা এমনিতেই করতে পারেন তিনি। তাই এটি ধরে রাখার পরামর্শ দেন ওয়াকার।
অন্য কারও কথা শুনে কখনও যেন গতি না কমান, সেটি বারবার জোর দিয়ে বলেন একসময় গতির ঝড় তোলা সাবেক পেসার।
“মানুষ বলবে কিছু জিনিস বদলাতে। তুমি বদলাবে না। হাজার জন ঘিরে ধরবে- ‘এটা কাজ করছে না, ঠিক করতে হবে।’ প্লিজ, কিছু ঠিক করতে যেও না। যা নিয়ে এখানে এসেছ, এটাই তোমাকে এতদূর এনেছে। জোরে বল করতে গিয়ে আমার চোটও লেগেছে। সেটি থেকে ফিরে আসা যায়। কিন্তু ১৫০-র নিচে নামবে না। শরীরে শক্তি আছে। সাহসী হও, জোরে বল করো।”
নাহিদ তখন জানান, অন্য কারও কথায় কান দেন না তিনি। তবে নিজের কোনো সমস্যা মনে হলে তিনি ফিরে যান ছোটবেলার কোচের দুয়ারে। তার সঙ্গে কথা বলেই শুধরে নেন নিজের সমস্যা। যা ভালোভাবে স্বাগত জানান ওয়াকার।
“জোরে বল করো- বাকি সব নিজে থেকেই আসবে। সবার সঙ্গেই এমন হয়। মানুষ তোমাকে হাজারটা কথা বলবে। সেগুলো করতে গিয়ে হঠাৎ দেখবে তুমি মিডিয়াম পেসার হয়ে গেছ। তখন অনেকে বলবে, কে তাকে মিডিয়াম পেসার বানাল? আগে তো ঠিকই ছিল।”
“তুমি বললে আগে তোমার কন্ট্রোল ছিল না- এখন তো আছে, তাই না? তাহলে সময়ের সঙ্গে আসবেই। তুমি বল করতে থাকো, এটিই স্কিল এনে দেয়।”
এসময় নিজের কোচিং মেথড সম্পর্কেও ধারণা দেন ওয়াকার।
“এজন্যই আমি কোচিং করি না, মোটিভেট করি। কোচিংয়ে আমি একটাই কথা বলি- একটা বক্স আছে, সেটাকে ব্যবহার করো। মাঝখান থেকে, চওড়া লাইনে আর আম্পায়ারের কাছাকাছি থেকে বল করো। নিজের ভিডিও দেখো- কিছু করলে বল কীভাবে আচরণ করে। সেগুলো নিজেই শিখে নাও। কিন্তু গতি কমাবে না। সবসময় ১৫০ কিমি গতি ধরে রাখো।”
আলোচনা চলতে চলতে মাঠে ততক্ষণে হয়ে যায় দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের টস। তাই ওঠার তাড়া দেখা যায় দুজনের মাঝেই। শেষ করার আগে নাহিদ বলেন, বল ছাড়ার সময় যখন আঙুলে ভালো অনুভূতি হয়, তখনই তিনি বুঝতে পারেন ভালো করতে পারবেন। ওয়াকারও সায় দেন, 'আঙুল থেকে বল ভালোভাবে বের হলেই তোমার দিন ভালো যাবে।'
প্রায় ১৫ মিনিটের আলোচনা শেষে দুজনের ছবি তোলার পালা। তখনও নাহিদের চোখেমুখে অন্যরকম তৃপ্তি ও ভালো লাগা আর কিংবদন্তির কাছ থেকে শিখতে পারার আনন্দের ঝিলিক!
No posts available.
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:৫০ পিএম
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:৪৯ পিএম
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:০৭ পিএম
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৫:০৫ পিএম

পাকিস্তানের ক্রিকেটে হলো নতুন ইতিহাস। প্রেসিডেন্ট ট্রফির গ্রেড-ওয়ান ম্যাচে মাত্র ৪০ রানের পুঁজি নিয়েও জয় পেল পাকিস্তান টিভি (পিটিভি)। যা ভেঙে দিল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ২৩২ বছরের পুরোনো রেকর্ড।
করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে শনিবার শেষ হওয়া ম্যাচে সুই নর্দার্নের বিপক্ষে মাত্র ৪০ রানের লক্ষ্য দিয়ে ২ রানে জিতেছে পিটিভি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসে এত কম রানের লক্ষ্য দিয়ে জয়ের রেকর্ড নেই আর।
এর আগে ১৭৯৪ সালে লর্ডসের পুরোনো মাঠে এমসিসির বিপক্ষে মাত্র ৪১ রানের টার্গেট দিয়েও ৬ রানে জিতে গিয়েছিল ওল্ড ফিল্ড। প্রায় ২৩২ বছর ধরে টিকে থাকার পর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এই রেকর্ড এখন নিজের করে নিল পিটিভি।
ইতিহাস গড়া ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ১৬৬ রানে অলআউট হয় পিটিভি। জবাবে ২৩৮ রান করে ৭২ রানের লিড পায় সুই নর্দার্ন। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও বাজে ব্যাটিং করে মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে যায় পিটিভি। ফলে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৪০ রানের।
এই অল্প রান নিয়ে বল হাতে আগুন ঝরান আমাদ বাট ও আলি উসমান। ৯.৫ ওভারে মাত্র ৯ রানে ৬ উইকেট নেন উসমান। আর ২৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন আমাদ। সব মিলিয়ে ১৯.৫ ওভারে গুটিয়ে যায় সুই নর্দার্ন।

নাহিদ রানার ঠিক অফ
স্টাম্পের ওপর পিচ করানো গুড লেংথের গতিময় ডেলিভারি। রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলার চেষ্টা করলেন সাইফ হাসান। কিন্তু তার ব্যাটের বাইরের কানা ঘেঁষে বল আঘাত করল
অফ স্টাম্পে। উল্লাসে মাতলেন নাহিদ।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার দুপুরের ম্যাচে এরপর আরও দুইবার এমন আনন্দে মাতেন নাহিদ। তার গতির কাছে হার মেনে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন সাব্বির
রহমান ও মোহাম্মদ মিঠুন।
সব মিলিয়ে
৪ ওভারে কোনো বাউন্ডারি হজম করেননি ২৩ বছর বয়সী
পেসার। মাত্র ১১ রান খরচ
করে ৩ উইকেট নিয়ে তিনিই
দলের জয়ের বড় কারিগর। নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এর আগে কখনও
পুরো ৪ ওভার বল
করে এর চেয়ে কম
রান দেননি তিনি।
তবে নিজের
কোনো অর্জন বা সাফল্য নিয়ে উচ্ছ্বাস
নেই নাহিদের। বরং দলের জয়ের অবদান রাখতে পারার আনন্দের কথাই তিনি বললেন ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে।
“প্রথমত আলহামদুলিল্লাহ। বোলিংয়ে আসলে ব্যক্তিগত কোনো লক্ষ্য থাকে না যখন আমি
মাঠে নামি। তখন একটাই চিন্তা থাকে যে, আমি কেমনে
আমার দলকে ম্যাচ জেতাব, ম্যাচ উইনিং পারফর্ম করব। তো
দলের জন্য কিছু কন্ট্রিবিউট করতে পেরেছি এটা সবচেয়ে খুশির বিষয়।”
চলতি বিপিএলে শুরু থেকেই রান দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কৃপণ নাহিদ। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে ৪ ওভারে তিনি দিয়েছিলেন
মাত্র ১৭ রান। সব
মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১৯.১ ওভার
বল করে মাত্র ৬.৩৬ করে
রান দিয়েছেন তিনি।
রান কম
দেওয়ার প্রসঙ্গেও নাহিদ আবারও মনে করিয়ে দেন দলের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যের কথা।
“বেশি রান দেওয়া কম রান দেওয়া, এটা আমার কাছে ম্যাটার করে না। আমার কাছে ম্যাটার করে আমি দলকে উইনিং পারফর্মটা কীভাবে দিতে পারছি। সেটা হতে পারে আমি প্রথম তিন ওভারে ৩০ রান দিয়েছি, শেষ ওভারে দুইটা উইকেট বা আমি দুই রান দিয়ে।”
“আমি যদি ধরেন তিন ওভারে ৪০ রান দিই, কিন্তু শেষ ওভারে ধরেন যদি ৭-৮ রান লাগে, সেখান থেকে আমি যদি জিততে পারি, ওটাতে আমি খুশি। কারণ আমি এখানে ব্যক্তিগত লক্ষ্য বলে কিছু দেখি না। আমি দেখি একটা জিনিসই যে, কেমনে আমি আমার দলকে উইনিং পারফর্ম দেব। এটা করতে পারলে আমার অনেক খুশি লাগে।”
বিপিএলে এখন পর্যন্ত
৬ ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ। এর আগে
গত বছরের ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টিতে ৪ ম্যাচে নিয়েছিলেন ২ উইকেট।
টি-টোয়েন্টিতে এখনও নিজের
সেরা ছন্দ খুঁজে বেড়ানো পেসারকে বিশ্বকাপের দলেও রাখেনি বাংলাদেশ।
তবে এসব
নিয়ে ভাবতে চান না নাহিদ। বরং নিজের
কাজটা ঠিকঠাক রেখে সুযোগের অপেক্ষায় তিনি।
“আসলে দেখেন সিলেকশনের ব্যাপারটা আমার হাতে না। দ্বিতীয় আমার কাজ একটাই, কেমনে আমি পারফর্ম করব। আমি এই জিনিসটা করে যাচ্ছি এবং আমি জানি যে যেকোনো সময় সুযোগ আসবে। সুযোগ এলে তখন আমি প্রমাণ করব।”
“আমি তো এখন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নেই। তাই কখনও চিন্তা করি না যে আমি কেন নেই। ধরেন আমার যদি আমার ভেতরে স্কিল থাকে, যদি আমি যোগ্য হই অটোমেটিক আমি ওই জায়গাতে যাব। একদিন পরে হোক বা দশ দিন পরে- সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারব, যদি আমার মধ্যে প্রতিভাটা থাকে।”
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই
নাহিদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র তার গতি।
চলতি বিপিএলেও নিয়মিত ১৫০ কিমি প্রতি ঘণ্টা বা এর চেয়ে
বেশি গতিতে বোলিং করছেন তরুণ পেসার। গতির বিষয়ে কোনো লক্ষ্য আছে কিনা জিজ্ঞেস করা হলে স্কিল যোগ করার কথা বলেন নাহিদ।
“গতি আসলে... এটা নিয়ে আমি অত চিন্তা করি না। কারণ এটা কিছুটা গড গিফটেড। কীভাবে ডিসিপ্লিন থাকা যায়, সেই জিনিসগুলো সবসময় ট্রাই করি। চেষ্টা করি যে কীভাবে আরও স্কিল বাড়ানো যায়। গতিটা ম্যাটার করে, তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, যদি স্কিল ডেভলপ না করেন, তাহলে বেশিদিন টিকতে পারবেন না। তাই আমি গতির সঙ্গে চেষ্টা করছি কীভাবে স্কিলটা আরও উন্নতি করা যায়।”

বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই আলো ছড়ালেন আল ফাহাদ। চমৎকার বোলিংয়ে ৫ উইকেট নিলেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের তারকা পেসার। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে তার তোপে ২৩৮ রানে গুটিয়ে গেল ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দারুণ বোলিং করে ৯.২ ওভারে ৩৮ রান খরচ করে ৫ উইকেট নেন ফাহাদ। যুব বিশ্বকাপে ৫ উইকেট নেওয়ার বাংলাদেশের অষ্টম বোলার তিনি। এছাড়া ইকবাল হোসেন ইমন ও আজিজুল হাকিম তামিম নেন ২টি করে উইকেট।
এদিন বৃষ্টির কারণে দেরিতে হয় টস। নিয়মিত অধিনায়ক তামিমের বদলে টস করেন সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার। টস জিতে তিনি ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠান।
ফাহাদের তোপে পাওয়ার প্লের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত। পরপর দুই বলে ভারত অধিনায়ক আয়ুশ মাত্রে (৬) ও ভেদান্ত ত্রিভেদি (০) ড্রেসিং রুমে ফেরেন। বিহান মালহোত্রাও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
চাপের মুখে অবিচল ছিলেন বৈভব সূর্যবংশী। অন্য প্রান্তের ব্যাটাররা টুকটুক করলেও মাত্র ৩০ বলে ফিফটি করে ফেলেন বাঁহাতি ওপেনার। ৬৭ বলে ৭২ রান করা সূর্যবংশীকে আউট করেন ইকবাল হোসেন ইমন।
এরপর একপ্রান্ত ধরে রেখে খেলতে থাকেন অভিজ্ঞান কুন্ডু। রয়েসয়ে খেলে দলকে দুইশ পার করান তিনি।
নতুন স্পেলে ফিরে খিলান প্যাটেলের পর ৮০ রান করা কুন্ডুকেও ফেরান ফাহাদ। আর ভারতের শেষ ব্যাটার দিপেশ দেবেন্দ্রকে আউট করে নিজের ৫ উইকেট পূর্ণ করেন তরুণ পেসার।

সেরা দল নিয়েও ৮ম রাউন্ড শেষে রংপুর রাইডার্সের অবস্থান ছিল নড়বড়ে। ৮ ম্যাচ শেষে ৮ পয়েন্ট নিয়ে কোয়ালিফাইয়ার নিয়েই দুর্ভাবনায় পড়েছিল লিটন-মোস্তাফিজ-হৃদয়-নাহিদ রানা-সোহানদের দল রংপুর রাইডার্স। শেষ ৪ রাউন্ডের পরীক্ষায় পড়া দলটি শনিবার ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১১ রানে হারিয়ে প্লে অফের সমীকরণ মিলিয়েছে রংপুর রাইডার্স।
কীভাবে নবম রাউন্ডের হার্ডল পেরিয়েছে রংপুর, সেই আলোচনায় প্রথমে আনতে হবে দুই ওপেনারের নাম। ডেভিড মালান-তাওহিদ হৃদয়ের হৃদয় জুড়ানো ব্যাটিং, এই দুই ব্যাটারের জোড়া ফিফটি, ৮৫ বলে ১২৬ রানের পার্টনারশিপ বড় স্কোরের আবহ দিয়েছে রংপুর রাইডার্স।
সিলেটে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে চট্টগ্রাম রয়্যালসের মোহাম্মদ নাঈম-রশিংটনের অবিচ্ছিন্ন ১২৩ রানের জুটি ছিল চলমান বিপিএলে ওপেনিং পার্টনারশিপে সর্বোচ্চ। সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন মালান-হৃদয়। মারুফ মৃধাকে ইনিংসের তৃতীয় ওভারে দুর্দান্ত ফ্লিক শটে ছক্কা এবং পয়েন্ট ও মিড অফ দিয়ে দুটি বাউন্ডারিতে মালান ঝড় শুরু। ৩৫ বলে ৬ বাউন্ডারি, ২ ছক্বায় টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ৭৫তম, বিপিএল ক্যারিয়ারে ১২তম ফিফটি উদযাপনের ইনিংসটি থেমেছে নিজের ভুল শট সিলেকশনে। তাসকিনের সেকেন্ড স্পেলের ৬ষ্ঠ বলে লেগ এন্ড মিডল স্ট্যাম্পে পিচিং ডেলিভারিকে স্কুপ শট করতে যেয়ে থেমেছেন মালান ৭৮ রানে। তবে ১৫৯.১৮ স্ট্রাইক রেটে ৪৯ বলে ৮ চার, ৪ ছক্কায় ৭৮ রানের ইনিংসটি পেয়েছে হাততালি।
মিডল অর্ডার থেকে ওপেনিংয়ে প্রমোশন পেয়ে হৃদয় এই বিপিএলে নিজের জাত চেনাতে চেষ্ঠা করছেন। শনিবার শুরুতে ধীর গতিতে ব্যাটিং করে থিতু হওয়ার পর ব্যাটটাকে চওড়া করেছেন। ৪০ বলে ৪ চার, ৩ ছক্কায় টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ২১তম ফিফটি পূর্ণ করেছেন। মারুফ মৃধাকে লং অফের উপর দিয়ে খেলতে যেয়ে ধরা পড়েছেন যখন, তখন তার নামের পাশে ৪৬ বলে ৫ চার, ৪ ছক্কায় ৬২।
দারুণ ওপেনিং পার্টনারশিপের পর শেষ পাওয়ার প্লে-তে রংপুর রাইডার্স ব্যাটারদের কাছে ব্যাটিং ঝড়ের প্রত্যাশা ছিল সবার। তবে শেষ ৫ ওভারকে সেভাবে কাজে লাগাতে পারেনি, ৩ উইকেট হারিয়ে ৫১ রান যোগ করেছে রংপুর। তারপরও রংপুর রাইডার্স ১৮১/৪ স্কোর নিয়ে ছিল দুশ্চিন্তামুক্ত। দুই পেসার নাহিদ রানা (১-০-২-১) এবং ফাহিম আশরাফের (২-০-১৬-২) প্রথম স্পেলে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৩ উইকেট হারিয়ে (৫৩/৩) চাপের মুখে পড়ে ঢাকা ক্যাপিটালস। শেষ ৩০ বলে ৬৯ রানের টার্গেটে পড়ে ঝুঁকি নিয়েছিলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের লোয়ার অর্ডার সাইফুদ্দিন। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ফিফটি উদযাপন করেছেন ২৮ বলে। ৩০ বলে ৩ চার, ৫ ছক্কায় ৫৮ রানে অপরাজিত ইনিংসে অবশ্য ঢাকা ক্যাপিটালসকে জেতাতে পারেননি সাইফউদ্দিন। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গতির বোলার নাহিদ রানার বোলিং (৪-০-১১-৩) এদিন গড়ে দিয়েছে ব্যবধান। ২৪টি ডেলিভারির মধ্যে ১৪টি দিয়েছেন নাহিদ রানা ডট। একটিও বাউন্ডারি মারতে পারেনি তাকে কেউ। তাঁর প্রথম ডেলিভারিটি ছিল ইয়র্কার, সেই ডেলিভারিতে সাইফ হাসান হয়েছেন বোল্ড (৬ বলে ১২)। প্রথম স্পেলে (২-০-৫-২) তাঁর দ্বিতীয় শিকার সাব্বির, শর্ট বলে আপার কাট করতে যেয়ে থার্ডম্যানে থেমেছেন তিনি (৯ বলে ৮)। ৭ম উইকেট জুটিতে সাইফউদ্দিনের সাথে ২৯ বলে ৪৮ রানে অবদান রাখা মিঠুন নাহিদ রানার শেষ স্পেলে (২-০-৬-১) দিয়েছেন কভারে ক্যাচ ( ২৯ বলে ২৫)।

টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিং দিয়ে যেন নিজেদের বিপদই ডেকে আনল জাপান অনূর্ধ্ব-১৯ দল। শুরু থেকে তাণ্ডব চালিয়ে জোড়া বিশ্ব রেকর্ড গড়ল শ্রীলঙ্কার যুবারা। দুই ওপেনার মিলে গড়লেন তিনশ ছাড়ানো জুটি। আর ভিরান চামুদিথা করলেন সর্বোচ্চ রানের বিশ্ব রেকর্ড।
নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ সময় শনিবার দুপুরে শুরু হওয়া ম্যাচে উদ্বোধনী জুটিতে ৩২৮ রান যোগ করেছেন শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার চামুদিথা ও দিমন্থ মহাভিতানা। যুব ওয়ানডেতে যে কোনো জুটিতে এটিই সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।
বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ২০১৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ফিজির বিপক্ষে দ্বিতীয় উইকেটে ৩০৩ রানের জুটি গড়েছিলেন ইংল্যান্ডের দুই ব্যাটার ড্যান লরেন্স ও জ্যাক বার্নহাম। লরেন্সের ব্যাট থেকে আসে ১৭৪ রান ও বার্নহাম করেন ১৪৮ রান।
সেটি টপকে এবার ৪৩.৫ ওভারে ৩২৮ রানের জুটি গড়েছেন চামুদিথা ও মহাভিতানা। ১২৫ বলে ১১৫ রান করে মহাভিতানা রানআউট হলে ভাঙে এই জুটি। পরের ওভারে আউট হন ২৬ চার ও ১ ছক্কায় ১৪৩ বলে ১৯২ রান করা চামুদিথা।
যুব বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। এর আগে ২০১৮ সালের যুব বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে ১৯১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন কেনিয়ারই হাসিথা বোয়াগোড়া। তাকে টপকেই আউট হয়ে যান চামুদিথা।