২৮ অক্টোবর ২০২৫, ৫:১২ পিএম

ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আনন্দে বড় ধাক্কা দিয়েছে প্রথম টি-টোয়েন্টির ব্যাটিং ব্যর্থতা। হতাশার পরাজয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করে এখন কিছুটা চাপেই পড়ে গিয়েছে বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক সিআরবিতে উন্মোচন করা ট্রফি ঘরেই রাখতে বাকি দুই ম্যাচে তাদের লিখতে হবে প্রত্যাবর্তনের গল্প।
সেই মিশনে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। খেলা শুরু সন্ধ্যা ৬টায়।
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হারের পর মঙ্গলবার অনুশীলন রাখেনি বাংলাদেশ। ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে যাওয়া ক্যারিবিয়রাও বাতিল করে তাদের রুটিন অনুশীলন। তবে ঐচ্ছিক অনুশীলনে সাগরিকার তপ্ত রোদের মাঝের ঘাম ঝরান সফরকারীদের কয়েকজন ক্রিকেটার।
আরও পড়ুন
| রাব্বির দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তাইজুলদের হারাল চট্টগ্রাম |
|
সিরিজের বাকি দুই ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে এখন জয়ের বিকল্প নেই। স্বাগতিকরা চাইলে নিজেদের সাম্প্রতিক অতীত থেকেই নিতে পারে অনুপ্রেরণা। যেখানে প্রথম ম্যাচ হেরেও বাকি দুইটিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজের ট্রফি জিতেছে তারা।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত ২৪টি তিন ম্যাচের সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৬টি তারা জিতেছে ২-১ ব্যবধানে। সেই ছয় সিরিজের আবার ২টিতে প্রথম ম্যাচ হারের পরও সিরিজ নিজেদের করেছে বাংলাদেশ।
২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের প্রথম ম্যাচ হেরেও পরের দুইটি জিতে সিরিজ নিজেদের করেছে তারা। চলতি বছর জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফরেও প্রথম ম্যাচ হেরে কামব্যাকের গল্প লিখেছে তারা।
এবার মাস তিনেক আগের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে পারলেই মিলবে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে তৃতীয় সিরিজ জয়ের স্বাদ।
সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য হতাশার উপাখ্যানও কম নেই বাংলাদেশের। ২০২৩ সালে ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে শুরু। এবার আফগানদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলেও, ওয়ানডে সিরিজ হেরে যায় বাংলাদেশ।
গত বছরের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের পর তারা জিতে যায় ওয়ানডেতে। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ানডে সিরিজে সব ম্যাচ হারলেও, টি-টোয়েন্টিতে আবার স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ।
একই পরিণতি দেখা যায়, চলতি বছরের শ্রীলঙ্কা সফরে। যেখানে ওয়ানডে সিরিজ হেরে যায় বাংলাদেশ। তবে টি-টোয়েন্টিতে আবার জেতে তারা। পরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর ওয়ানডেতে মেলে হতাশা।
এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এরই মধ্যে ওয়ানডে সিরিজ জিতে গেছে বাংলাদেশ। তবে গত কয়েক সিরিজের মতো সাদা বলের আরেক সিরিজে নিশ্চয়ই হারতে চাইবে না তারা।
প্রথম ম্যাচে রভম্যান পাওয়েল ও শাই হোপের ঝড়ের পরও সফরকারীদের ১৬৫ রানে থামিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু রান তাড়ায় পাওয়ার প্লের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে একরকম ছিটকেই যায় তারা। শেষের ব্যাটাররা লড়াই করলেও পরাজয় এড়াতে পারেননি।
আরও পড়ুন
| ফোনে নির্দেশ ‘ভারতকে ছাড় দাও’—বিস্ফোরক অভিযোগ ম্যাচ রেফারির |
|
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অনুমিতভাবেই ব্যাটারদের ব্যর্থতার কথা বলেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার তানজিম হাসান সাকিব। তার বিশ্বাস, বাকি দুই ম্যাচে ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।
“আমরা একদম শুরু থেকেই প্রস্তুত ছিলাম। আমাদের একটা আত্মবিশ্বাস ছিল যে, আমরা ভালো করে আসছি টি-টোয়েন্টিতে। আজকে একটা আমরা হেরে গেছি, বাজে দিন ছিল। পরবর্তী দুই ম্যাচে আমরা কামব্যাক করব ইনশাল্লাহ। এখানে আর কোনো ব্যাকফুটে যাওয়ার সুযোগ নেই।”
“আরেকটা ম্যাচ হারলে সিরিজ হেরে যাব। আর এটা ঘরের মাঠ, অবশ্যই চেষ্টা করব সিরিজ জেতার, যে করেই হোক। কারণ বিদেশে যেহেতু ভালো করে আসছি, এখানে আমরা একটা বাড়তি সুবিধা অবশ্যই পাব। তাই পরবর্তী দুইটা ম্যাচ আমাদের জিততে হবে।”
পরের দুই ম্যাচ জিতে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লিখতে ব্যাটারদের ভালো করার বিকল্প নেই। চলতি বছর এই ফরম্যাটে ধারাবাহিকভাবে কারও কাছ থেকেই রান পাচ্ছে না বাংলাদেশ। বিশেষ করে শুরুতেই ভেঙে পড়ছে টপ-অর্ডার।
২০২৫ সালে খেলা ২০ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মধ্যে ৬টিতেই ৫০ রান হওয়ার আগেই ৪ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। আর ৫টি ম্যাচে দলীয় স্কোর ৩০ ছোঁয়ার আগেই ড্রেসিং রুমে ফিরেছেন তিন ব্যাটার। যা শুরুতেই পেছনে ঠেলে দিচ্ছে বাংলাদেশকে।
তাই বাকি দুই ম্যাচে বড় দায়িত্ব নিতে হবে ওপরের সারির ব্যাটারদের।
No posts available.
৯ মার্চ ২০২৬, ১০:১৬ এম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের একতরফা জয়ের পর ক্রিকেট বিশ্বজুড়ে চলছে নানা রকমের আলোচনা। অনেকেই ভারতের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করলেও, ভিন্ন সুর শোনা গেছে পাকিস্তানের সাবেক গতিতারকা শোয়েব আখতারের কণ্ঠে।
তার দাবি, ভারতের উত্থান মূলত ক্রিকেটকে শেষ করে দিয়েছে। বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের সামনে পাত্তাই পায়নি নিউ জিল্যান্ড। দুর্দান্ত ব্যাটিং-বোলিংয়ে কিউইদের ৯৬ রানে হারায় স্বাগতিকরা। এটি ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের রেকর্ড তৃতীয় শিরোপা।
বেশিরভাগ ক্রিকেট বিশ্লেষক যেখানে ভারতের নিখুঁত পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন, সেখানে ভিন্ন পথে হাঁটলেন শোয়েব আখতার। পাকিস্তানি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ট্যাপম্যাডের অনুষ্ঠান গেম অন হ্যায় অনুষ্ঠানে তিনি ভারতের দাপটকে তুলনা করেন পাড়ার খেলায় ধনী শিশুর সঙ্গে।
আরও পড়ুন
| আফঈদা-মিলিদের সমীহ করছে উজবেকিস্তান |
|
“পাড়া-মহল্লায় সবসময় একজন ধনী ছেলে থাকে, সে গরিব বাচ্চাদের ডেকে বলে- চলো ক্রিকেট খেলি, তবে জিতব কিন্তু আমিই। ভারত আমাদের সঙ্গে ঠিক সেটাই করছে।”
“আট দলের মধ্যে চারটি রাখে, তারপর আবার সেখান থেকে তিনটিকে ডাকে ও সামনে এগিয়ে যায়। শেষে বলে- দেখো, আমি জিতে গেছি। তারা পুরো ক্রিকেটটাই শেষ করে দিয়েছে।”
তার এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ভক্তই ভারতের বড় জয়ের পর এমন মন্তব্যকে তিক্ত প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।
তবে ফাইনালের আগে আখতারের সুর ছিল কিছুটা ভিন্ন। ভারতকে ফেভারিট মানলেও তিনি বলেছিলেন, ক্রিকেটের স্বার্থে নিউ জিল্যান্ডের জেতা উচিত। তার মতে, ভারতের ওপর ১৫০ কোটির বেশি মানুষের প্রত্যাশার চাপ থাকে এবং বড় ফাইনালে সেই চাপ কখনও কখনও প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতীয় ক্রিকেটে ব্যক্তিগত মাইলফলক উদযাপনের সময় শেষ- এমনটাই মনে করেন ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। তার মতে, দলগত খেলায় আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত ট্রফি জেতা, ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়।
রোববার ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে গম্ভীর বলেন, ভারতের ক্রিকেটে এত দিন ব্যক্তিগত মাইলফলক নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তিনি যত দিন দায়িত্বে আছেন, তত দিন সেই আলোচনায় যেতে চান না।
গম্ভীরের কোচিংয়ে এরই মধ্যে দুটি আইসিসি ট্রফি ও একটি এশিয়া কাপ জিতেছে ভারত। গত বছরের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তার মেয়াদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। এসব দলীয় সাফল্য নিয়েই বেশি আলোচনা করতে চান তিনি।
“অনেক দিন ধরে ভারতীয় ক্রিকেটে আমরা মাইলফলক নিয়ে কথা বলেছি। আমি আশা করি, আমি যত দিন আছি, তত দিন আমরা মাইলফলক নিয়ে কথা বলব না।”
আরও পড়ুন
| গ্রুপসেরা হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে দ. কোরিয়া, আশা বাঁচিয়ে রাখল ফিলিপাইন |
|
“আপনারা শেষ তিনটি ম্যাচ দেখলেই বুঝতে পারবেন। সঞ্জু কী করেছে- ৯৭*, ৮৯ ও ৮৯। যদি সে মাইলফলকের জন্য খেলত, হয়তো আমরা ২৫০ রান পেতাম না। তাই আপনাদের (গণমাধ্যমের) কাছেও আমার অনুরোধ- মাইলফলক নয়, ট্রফি উদ্যাপন করুন।”
সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল- দুই ম্যাচেই শতকের কাছাকাছি পৌঁছে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন ভারতের উইকেটকিপার-ব্যাটার সাঞ্জু স্যামসন। দুই দিনই তিনি শতকের মাত্র ১১ রান দূরে ছিলেন। তবে সেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সুবাদে দুই ম্যাচেই ভারতের দলীয় সংগ্রহ আড়াইশ ছাড়ায়।
গম্ভীরের মতে, বিশ্বকাপ জয়ের জন্য এই মানসিকতাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
“কেউ যদি ৯৪ রানে থাকে, সে কি পরের বলেই ছক্কা মেরে শতক করতে সাহস দেখাবে, নাকি কয়েক বল ধরে একশতে পৌঁছানোর কথা ভাববে- এই প্রতিক্রিয়াই আসলে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের খেলোয়াড়েরা অসাধারণভাবে সেটা করেছে।”
এসময় বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব গম্ভীর উৎসর্গ করেছেন তার তিন সাবেক সতীর্থ- রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষণ ও অজিত আগারকারকে।
“রাহুল ভাই ভারতের ক্রিকেটকে দারুণ অবস্থায় রেখে গেছেন। তার অবদানের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। ভিভিএস লক্ষণও নিঃশব্দে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য অনেক কাজ করছেন, বিশেষ করে সেন্টার অব এক্সেলেন্সের মাধ্যমে। আর অজিত আগারকার- ও অনেক সমালোচনা সহ্য করে সততার সঙ্গে কাজ করছে।”

ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ এখনও টাটকা। তবে সেখানেই থামতে চান না অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। আহমেদাবাদে রোববারের ফাইনাল শেষে সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, তার পরের লক্ষ্য ২০২৮ অলিম্পিকে সোনা জয়।
নিউ জিল্যান্ডকে ফাইনালে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর সূর্যকুমার বলেন, গত এক মাসের যাত্রাটা দলের জন্য ছিল অসাধারণ। শুরুটা অবশ্য প্রত্যাশামতো হয়নি, তবে খেলাধুলায় এমনটা স্বাভাবিক বলেই মনে করেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত দল হিসেবে যা অর্জন করেছে, তার প্রতীক এখন তাদের হাতে থাকা ট্রফি। এখান থেকেই পরবর্তী লক্ষ্যও ঠিক করে ফেলেছেন সূর্যকুমার।
আরও পড়ুন
| স্বপ্নভঙ্গ থেকে বিশ্বকাপ নায়ক: স্যামসনের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন |
|
“পুরো যাত্রাটা আজ পর্যন্ত খুবই বিশেষ ছিল। দল হিসেবে আমরা যা অর্জন করেছি, সেটাই এখন সবার সামনে। এতে আমরা খুব খুশি। এখন আমাদের পরের লক্ষ্য অলিম্পিক স্বর্ণপদক।”
দীর্ঘ ১২৮ বছর পর আবার অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৮ সালের অলিম্পিকে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পুরুষ ও নারী- দুই বিভাগেই ছয়টি করে দল অংশ নেবে।
অলিম্পিক ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হবে ২০২৮ সালের ১৪ থেকে ২৯ জুলাই। যুক্তরাষ্ট্রের পোমোনা শহরে হবে সব ম্যাচ। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের একটি অস্থায়ী ভেন্যু ফেয়ারগ্রাউন্ডস স্টেডিয়ামে।
বর্তমান টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিং অনুযায়ী এশিয়া অঞ্চল থেকে ভারত পুরুষ ও নারী- দুই বিভাগেই যোগ্যতা অর্জনের জন্য ভালো অবস্থানে রয়েছে।
এ মুহূর্তে ভারতীয় পুরুষ দল আইসিসির দুই বড় শিরোপার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন- আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সূর্যকুমারের মতে, দলের বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর, যখন অধিনায়ক ছিলেন রোহিত শর্মা।
“২০২৪ সালের পর থেকেই সবকিছু বদলে যায়। তখন আমরা ভিন্ন ধরনের ক্রিকেট খেলছিলাম। সেখান থেকেই বুঝতে পারি, এই দলকে সামনে এগোতে হলে কীভাবে খেলতে হবে। আমরা চাই ২০২৭, ২০২৮, ২০২৯- এভাবেই জয়ের ধারা চালিয়ে যেতে।”

বছরের শুরুতে ভেঙে পড়া একজন ক্রিকেটার। আর দুই মাস না যেতেই বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক হয়ে ওঠা। চলতি বছর এখন পর্যন্ত সাঞ্জু স্যামসনের গল্প যেন নাটকীয় কোনো সিনেমার চিত্রনাট্য।
গত জানুয়ারির শেষ দিন নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে ত্রিভ্যান্ড্রামে নিজের ঘরের মাঠে দাঁড়িয়ে প্রায় স্বপ্নভঙ্গের মুহূর্ত দেখেছিলেন স্যামসন। ওপেনার-উইকেটকিপার হিসেবে বিশ্বকাপ একাদশে জায়গা চলে যায় ইশান কিষানের কাছে।
২০২৫ সালের শুরু থেকেই ব্যাট হাতে খারাপ সময় কাটাচ্ছিলেন স্যামসন। এর মধ্যে দলীয় সমন্বয়ের কারণে তাকে মিডল অর্ডারেও নামানো হয়েছিল, যাতে ওপেনিংয়ে জায়গা করে দেওয়া যায় শুবমান গিলকে।
পরে নির্বাচকেরা আবার স্যামসনকে ওপেনিংয়ে ফেরালেও রানের দেখা ছিল না। সেই সুযোগেই জায়গা পাকা করেন ইশান। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে রোববার রাতে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক স্যামসন। টানা তিন ম্যাচে ৮০+ রান করে তিনিই জিতেছেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার।
সাফল্যের এই স্বীকৃতি গ্রহণ করেন বছরের শুরুর দিকের কঠিন সময়ের কথাই মনে করলেন স্যামসন।
“নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর আমি ভেঙে পড়েছিলাম। পুরোপুরি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। মনে হচ্ছিল, ‘আমার স্বপ্নগুলো তো শেষ হয়ে গেল। এখন আমি আর কী করতে পারি?’”
বিশ্বকাপের শুরুতেও স্যামসনের জায়গা ছিল বেঞ্চে। গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচে অসুস্থ অভিষেক শর্মার বদলি হিসেবে সুযোগ পান তিনি। তবে পরে আবার বেঞ্চেই ফিরতে হয়। কিন্তু টপ অর্ডারের তিনজন বাঁহাতি হওয়ায় অফ স্পিনের বিপক্ষে সমস্যা হচ্ছিল। সেই কারণে দলে ফেরানো হয় স্যামসনকে।
ফিরেই আত্মবিশ্বাসের ঝলক দেখান তিনি, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করেন ১৫ বলে ২৪ রান। তবে তার আসল বিস্ফোরণটা ঘটে ইডেন গার্ডেন্সে। সুপার এইটের ভার্চুয়াল নকআউট ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেন ৫০ বলে ৯৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।
এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ভুগিয়ে করেছেন ৪২ বলে ৮৯ রান আর ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন ৪৬ বলে ৮৯ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস।
খারাপ সময় পাশ কাটিয়ে আলোয় ফেরার পথে তিনি পরামর্শ পেয়েছেন কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের কাছ থেকে।
“গত কয়েক মাস ধরে আমি নিয়মিত শচীন স্যারের সঙ্গে কথা বলছিলাম। অস্ট্রেলিয়া সফরে যখন দলের বাইরে বসে ছিলাম, তখন ভাবছিলাম- এখন আমার মানসিকতা কী হওয়া উচিত? তখনই আমি স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমাদের দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।”
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের দিনও ফোন করে খোঁজ নিয়েছিলেন টেন্ডুলকার।
“গতকালও তিনি ফোন করেছিলেন- আমি কেমন অনুভব করছি জানতে। তার মতো একজনের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা পাওয়া- এর চেয়ে বেশি আর কী চাইতে পারি?”
এর আগে ২০২৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় স্কোয়াডেও ছিলেন স্যামসন, কিন্তু একটিও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। তবে তখন থেকেই পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলতে শুরু করেছিলেন স্টাইলিশ এই ওপেনিং ব্যাটার।
“ঈশ্বরের হয়তো অন্য পরিকল্পনা ছিল। হঠাৎ করে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে সুযোগ পেলাম আর দেশের জন্য যা পারি করেছি। এটা যেন স্বপ্নের মতো। কথায় বোঝানো কঠিন। ২০২৪ বিশ্বকাপে আমি একটি ম্যাচও খেলিনি, কিন্তু তখন থেকেই কল্পনা করতাম- একদিন এমন মুহূর্ত আসবে। সেই স্বপ্নের জন্যই কাজ করে গেছি।”

ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ড গড়েছে ভারত। একইসঙ্গে পরপর দুই বিশ্বকাপের ট্রফি নিজেদের করার কীর্তিও দেখিয়েছে তারা। সবচেয়ে তিনটি শিরোপার মালিক এখন তারাই।
এই ইতিহাস গড়া সাফল্যের বিশ্বাস ফাইনাল ম্যাচের আগের দিন থেকেই ছিল হার্দিক পান্ডিয়ার।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে ভারতের সামনে পাত্তা পায়নি নিউ জিল্যান্ড। রোববারের ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করে ২৫৫ রানের পাহাড়ে উঠে বসে ভারত। জবাবে মাত্র ১৫৯ রানে গুটিয়ে যায় কিউইরা।
ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জিততে পেরে আনন্দের সীমা নেই হার্দিকের। ম্যাচ শেষে সেই অনুভূতিরই জানান দেন ভারতের তারকা অলরাউন্ডার।
“(ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতা) এটি অনেকটা ইমোশনাল। কারণ ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ জেতা, সবার উত্তেজনা, রোমাঞ্চ অসাধারণ। এখন মনে হচ্ছে আমরা সহজেই জিতে গিয়েছি। কিন্তু আমরা যে এফোর্ট দিয়েছি... গতকাল থেকেই আমি জানতাম যে, আমরা চ্যাম্পিয়ন।”
গত তিন বছরের মধ্যে হার্দিকের এটি তৃতীয় আইসিসি ট্রফি। ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। আর ২০২৫ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়েই ট্রফি ঘরে তুলেছিল তারা।
এবার আরেকটি বিশ্বকাপ জিতে হার্দিক জানিয়েছেন, অন্তত ১০টি শিরোপা জিততে চান তিনি।
“আমার মধ্যে আরও ১০ বছর বাকি আছে ক্রিকেট খেলার। আমার অর্ধেক ক্যারিয়ার শেষ। আরও অর্ধেক বাকি আছে। আমি অন্তত ১০টি শিরোপা জিততে চাই, আইসিসি ও আইপিএল মিলিয়ে। তবে আমার জন্য আইসিসি ট্রফির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।”
“আমি এরই মধ্যে ৩টি ট্রফি জিতেছি। সামনে যে টুর্নামেন্টই খেলব, আমি জিততে চাই। তো আমি মনে করি, সামনের ১০ বছরে আরও অন্তত ৫-৬টি শিরোপা আসবে। এটিই আমার লক্ষ্য।”