
যাঁকে নক্ষত্র ভাবা হতো, পরে দেখা গেল সে নিজেই এক ক্রিকেট আকাশ। সাকিব আল হাসান, মোটে তিনটে শব্দ। অথচ নিজেই দেশের ক্রিকেটকে এনে দিয়েছে সহস্র শব্দের উৎসব। আবার রাজনীতিতে জড়িয়ে যেন হারিয়েছেন অনেকটা।
পুরনো সাকিবকে চেনা যাক, একটু ভিন্নভাবে, কিংবা সেই একই গল্পে। যাঁকে বোঝা দায় কিংবা সহজেই বোঝা যায়। যে দূর আকাশের তারা কিংবা যেন পাশের বাড়ির ফয়সাল। যার কাছে ম্যাচ জেতানোর ছিল হাজারটা আবদার!
এক সাকিবের জীবনের গল্পের অভাব নেই। গল্প হলেও তো সত্যিই।
প্রায় ৭২ হাজার জনসংখ্যার দেশ ডমিনিকায় একজনের নাম সাকিব আল হাসান। ২০০৯ সালে যখন সাকিব ডমিনিকায় খেলতে গিয়েছিল, তখন এক ছেলের জন্ম দেশটায়। সেবার সাকিবের খেলা দেখে জনৈক ভদ্রলোকের এত ভালো লেগে গিয়েছিল, উনি ছেলের নাম রেখে দিয়েছেন ‘সাকিব আল হাসান’।
প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার দূরের ডমিনিকা থেকে দুই হাজারেরও কম কিলোমিটারের কাশ্মীরে ফিরে যাই। সাকিব নিজেই পুরনো এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেছিলেন, পরিচিত একজন একবার কাশ্মীর যায়৷ কাশ্মীরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে একজনের ঘরে ঝোলানো ছিল সাকিবের ছবি। ক্যারিয়ারের মাঝপথে এই ছবি কিংবা কথাগুলো সাকিবকে বেশ অনুপ্রাণিত করেছিল।
এক বন্ধুবর ক্রীড়া সাংবাদিকের মুখেই শোনা। কাশ্মীরে সাকিবের প্রতি আবেগটা আসলেই অন্যরকম। কাশ্মীর ট্যুরে যে গাড়িতে তিনি ঘুরছিলেন সেই গাড়ির চালক স্পোর্টস রিপোর্টার শুনেই তাঁর কাছে সাকিবের কথা জানতে চাইলেন। বহুবার সাকিবের সংবাদ সম্মেলন কাভার করা হয়েছে শুনেই তাঁর সে কি আবেগ। সঙ্গে সঙ্গে ১০ বছরের ছেলেকে ফোন। বললেন, বাবা তোমার পছন্দের ক্রিকেটার সাকিবের কাছাকাছি গিয়েছিল এমন একজন আমার গাড়িতে চড়ছে।
শুধু তিনি নন। ঘোড়সওয়ার তরুণটাতো আরও আবেগী। 'সাকিব স্যার' সম্বোধন ছাড়া বাংলাদেশের মহাতারকার নামটা একবারও শুধু সাকিব বলে উচ্চারণ করেননি।
মাগুরা থেকে পাশের কাশ্মীর কিংবা সূদুর ডমিনিকা। এক জীবনে সাকিব আর কী চাইতে পারতেন?
শুধু সাধারণ সমর্থকরা? সাকিবকে কিংবদন্তি মানেন, যাঁদের সঙ্গে খেলেন তারাও। কিংবদন্তিদের চোখেও সাকিব কিংবদন্তি। এই তো একবার বিপিএলে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার বাবর আজম মুগ্ধ হয়ে করেছেন সাকিব বন্দনা। একই দলে সেবার রংপুর রাইডার্সের আরেক অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবিও সাকিবকে মেনেছেন সেরা। জস বাটলারের মুখেও শুনেছি সাকিব বন্দনা। এমন কতো ক্রিকেটার।
এমনকি যুব দলের ক্রিকেটরাও মুগ্ধ এক সাকিবে। এইতো সদ্য ২০ না পেরোনো যুব এশিয়া কাপ জেতা দলের জিসান আলম কিংবা পেসার রোহানাত দৌলা বর্ষণ প্রথমবার বিপিএলের মঞ্চে নেমে সাকিবকে খুব কাছ থেকে দেখেও প্রকাশ করেছেন উচ্ছ্বাস।
গল্প ছিল আরো। ইয়ান স্মিথের ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারটা ঠিক সেই অর্থে বড় হয়নি৷ তবে কমেন্ট্রি বক্সে মাইক্রোফোন হাতে বেশ নামই কামিয়েছেন৷ হুট করে নেলসনের ভদ্রলোককে মনে পড়ার কারণ বিশ্বকাপের একটা ম্যাচে কমেন্ট্রির জন্য।
সাকিব রান করেন, উইকেট নেন, দারুণ ফিল্ডিং করেন। ২০১৯ বিশ্বকাপে সর্বেসর্বা এই অলরাউন্ডার৷ একটা বিশ্বকাপে এভাবেও পারফরম্যান্স করা যায়, এই নতুন এক অবাক হওয়া ব্যাপারের সাথে সাকিব সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। বাউন্ডারি সীমানার কাছে খুব চেষ্টা করেও সাকিব একটা বাউন্ডারি বাঁচাতে পারেননি৷ সাকিবও পারেনা, এমনও হয়! ইয়ান স্মিথ অবাক হয়ে, মাইক্রোফোন হাতে বলেছিলেন, 'সাকিব ইজ অফিসিয়ালি হিউম্যান...।'
নানান ইস্যুতে সাকিবের যা অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে, এই যে সাকিবকে অনেকেই বিশেষণে বিশেষায়িত করতে সুপারম্যান, সুপার হিউম্যান বলেন সত্যিই কী তাই? মাঝেমধ্যে মনে হয়, কাড়ি কাড়ি টাকা থাকার পরেও সাকিব নিঃসঙ্গ। নিজের অনেক কথাই বলতে পারেননা। বড় তারকাদের এমন হয়, বোঝা যায় না, বুঝতেও দেয় না। সাকিবের চেয়ে বড় তারা আর কে আছে এদেশের ক্রিকেটে? সাকিবকে বোঝে সেই সাধ্যি কার? ইয়ান স্মিথ না হয়, একটা বাউন্ডারি বাঁচানোর আক্ষেপ দেখে বলেছিলেন, 'সাকিব ইজ অফিসিয়ালি হিউম্যান...' সত্যিই তাই?
ক্রিকেটার সাকিব মাঠের তর্কাতীত সেরা, দেশের সেরা অ্যাথলেট বললেও ভুল হবে কী? স্বাধীন বাংলাদেশের সেরা অ্যাথলেট মানুষ হিসেবে কেমন? খুব খারাপ? প্রায়শই তো আলোচনায় তা উঠে আসে। তবে সাকিবের ভালো কাজগুলো কেন জানি, সামনে আসতেই চায় না।
বিকেএসপির কেউ অসুস্থ, চোটে পড়লে সাকিব এগিয়ে আসেন। আগেপরে অনেক ঘটনা আছে। কয়েক মাস আগের রামিমের ঘটনা। অনূর্ধ্ব ২১ হকি প্লেয়ার রামিম ওমানে খেলতে গিয়ে লিগামেন্টের চোটে পড়লে সাকিব শোনা মাত্রই এগিয়ে এসেছেন।
এর আগে চট্টগ্রামে এক সিরিজে দুই ম্যাচে তিনটি পুরস্কার পেয়েছিলেন সাকিব। তবে চট্টগ্রাম ছাড়ার আগে একটা পুরস্কারের অর্থ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের মাঠকর্মীদের দিয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
এমনকি বিসিবিতে কর্মরত অফিস সহকারী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং মাঠকর্মীদের ঈদ উপলক্ষে ১০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন সাকিব।
কোভিডের সময়ে নানান সাহায্য করেছেন, নিজের রেকর্ডগড়া ব্যাট নিলামে তুলেছেন, ক্যান্সার ফাউন্ডেশনের ঘটনা তো একেবারে সবশেষ।
গল্পের মতো কিন্তু সত্যি…
পিটার রোবাক, ভদ্রলোক স্বীকৃত ক্রিকেটে রান করেছেন প্রায় ২৫ হাজার। ক্রিকেটার-কোচ-সাংবাদিক-লেখক পরিচয়ের অভাব নেই অক্সফোর্ডের এই মানুষটার। তবে এক যুগ আগে স্মৃতি হওয়া ভদ্রলোককে মনে পড়ার কারণ শচীন টেন্ডুলকার। ক্রিকেটের প্রতিশব্দ এসআরটির জনপ্রিয়তা দেখে অবাকই হয়েছিলেন...
অবশ্য অবাক না হয়ে আর যাবেন কই? শিমলা থেকে দিল্লি যাচ্ছিলেন, ট্রেন থামল শচীনের জন্য। শচীন তখন ৯৮ রানে অপরাজিত। জীবন ইনিংসে ৫৫ বছরেই কেপটাউনে স্মৃতি হওয়া রোবাক লিখেছিলেন, 'সবাই অপেক্ষা করছিল শচীন সেঞ্চুরি করবে বলে... এই জিনিয়াস ভারতে সময়কেই থামাতে জানত...।'
হুট করে পিটার রোবাক-শচীন টেন্ডুলকার এসেছেন সাকিব প্রসঙ্গে। এইতো গেল বছর, চেমসফোর্ডে কমেন্ট্রি বক্সে বসা নেইল ও'ব্রায়েন যা বললেন, তা ছিল এমন... 'সাকিব অধিনায়ক ছিল আগের এক বিপিএলে। সাকিবের সঙ্গে মিরপুরে ব্যাটিং করছিলাম। ২৫ হাজার মানুষ ম্যাচটা দেখছিল। সাকিব আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই চলে গেলো...।'
ভিন্ন আরেকটা ঘটনা। জনপ্রিয় উপস্থাপক বিক্রম সাঠে, শচীন নিয়ে একটা দারুণ বই লিখেছিলেন। বইটার নামের বাংলা তর্জমা হচ্ছে, 'শচীন যেভাবে আমার জীবন ধ্বংস করেছে... কিন্তু জীবনের সব ক্রিকেটীয় পরীক্ষায় পাস করার অনুমতি দিয়ে গেল...'
সাকিব এই বাংলায় সময় থামাতে পারেনি, কাউকে জীবনের সব ক্রিকেটীয় পরীক্ষায় পাস করার অনুমতি দিয়ে যেতে পারেননি। তবে অনেকের শৈশবের, কৈশোরের ক্রিকেট আনন্দের নাম হয়েছেন বটে। বাড়িয়ে বললাম কি?
শুভ জন্মদিন সাকিব।
No posts available.
১০ মে ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
১০ মে ২০২৬, ৪:১৭ পিএম

দ্বিতীয় ম্যাচ হেরে ধাক্কা খেলেও পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াল বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। চমৎকার ব্যাটিংয়ে দলের জয়ে বড় অবদান রাখলেন নুরুল হাসান সোহান।
ক্রিকেটার্স একাডেমি মাঠে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে ডিএলএস পদ্ধতিতে ১০ রানে হারিয়েছে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স।
ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৪৬.৩ ওভারে ২৩৫ রানের অলআউট হয় তারা। পরে বৃষ্টির কারণে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৪ ওভারে ১৯৪ রান। জবাবে ৩২.১ ওভারে ১৮৩ রানে অলআউট হয়ে যায় গাজী গ্রুপ।
তিন ম্যাচে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের এটি দ্বিতীয় জয়।
পাঁচ নম্বরে নেমে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৩ রান করেন সোহান। ৬০ বলের ইনিংসে ৬ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মারেন বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স অধিনায়ক। এছাড়া ওপেনার ইমরানউজ্জামান খেলেন ১২ চারে ৭৭ বলে ৫৯ রানের ইনিংস।
পরে আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের লেগ স্পিন জাদুতে তেমন কিছু করতে পারেনি গাজী গ্রুপ। ৬ ওভারে ৩৯ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন বিপ্লব। এছাড়া নাহিদুল ইসলাম নেন ২ উইকেট।
দিনের আরেক ম্যাচে লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জকে ডিএলএস পদ্ধতিতে ২০ রানে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৪৭.৫ ওভারে ২২৭ রানে অল আউট হয় রূপগঞ্জ।
জবাবে প্রাইম ব্যাংক ২৫.৪ ওভারে ২ উইকেটে ১০৮ রান করার পর নামে বৃষ্টি। পরে ডিএলএস পদ্ধতিতে জয়ী ঘোষণা করা হয় তাদের।
রুপগঞ্জের পক্ষে ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৫৬ বলে ৬১ রান করেন হাবিবুর রহমান সোহান। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে ৩ উইকেট নেন আবু হায়দার রনি। রান তাড়ায় প্রাইম ব্যাংকের হয়ে ৭৭ বলে ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন শাহাদাত হোসেন দীপু।
এছাড়া বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স মাঠে ডিএলএস পদ্ধতিতে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ৬০ রানে হারিয়েছে গুলশান ক্রিকেট ক্লাব।
আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ৩০১ রানের পুঁজি পায় গুলশান। পরে বৃষ্টির কারণে অগ্রণী ব্যাংকের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬ ওভারে ১৯৩ রান। এর জবাবে ২৪.২ ওভারে ১৩২ রানে গুটিয়ে যায় অগ্রণী ব্যাংক।
গুলশানের বড় জয়ের নায়ক শাহাদাত হোসেন সবুজ। ১৭ চার ও ১ ছক্কায় ১৩১ বলে ১৩২ রান করেন তিনি। শাহরিয়ার সাকিবের ব্যাট থেকে আসে ৯৪ বলে ৭৫ রান। দুজন মিলে গড়েন ১৮৭ রানের জুটি।
অগ্রণী ব্যাংকের হয়ে একাই চেষ্টা করেন মাহফিজুল ইসলাম রবিন। ৯ চারে ৫৭ বলে ৫৩ রান করেন তরুণ ওপেনার।
গুলশানের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন নাঈম হোসেন সাকিব, আব্দুর রহিম ও ফরহাদ রেজা।

প্রথম দুই রাউন্ডের ব্যর্থতা দারুণভাবেই পুষিয়ে দিলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে একের পর এক ছক্কা মেরে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি উপহার দিলেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ওপেনার। তার ঝড়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে টানা তৃতীয় জয়ের পথে ঐতিহ্যবাহী দলটি।
ইউ ল্যাব ক্রিকেট মাঠে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ৫ চারের সঙ্গে ১২টি ছক্কা মেরে ১৩৬ বলে ১৪৫ রানের ইনিংস খেলেন ২৬ বছর বয়সী ওপেনার। এই ইনিংসের সৌজন্যে ৬ উইকেটে ৩৪৫ রানের বড় পুঁজি পেয়েছে মোহামেডান।
তবে এদিনই আসেনি ম্যাচের ফল। কারণ বৃষ্টিতে খেলার অনুপযোগী হয়ে যায় মাঠ। তাই দ্বিতীয় ইনিংসে রূপগঞ্জ টাইগার্স ১৬.৫ ওভারে ৫ উইকেটে ৫৩ রান করার পর বন্ধ হয়ে যায় খেলা। এখান থেকেই সোমবার আবার শুরু হবে খেলা।
ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে কিছুটা সময় নেন নাঈম। দ্বিতীয় উইকেটে পারভেজ হোসেন ইমনের সঙ্গে গড়েন ৭৮ রানের জুটি। ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৫৬ বলে ৪৬ রান করে আউট হন ইমন। রয়েসয়ে খেলে ৮৩ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন নাঈম।
এরপর শুরু করেন তাণ্ডব। সেখান থেকে সেঞ্চুরি ছুঁতে তার লাগে আর মাত্র ৩৭ বল। পরে আরও ১৬ বল থেকে নেন ৪৫ রান। পঞ্চম উইকেটে ইয়াসির আলি রাব্বির সঙ্গে মিলে মাত্র ৭৪ বলে ১২৪ রানের জুটি গড়েন নাঈম।
সব মিলিয়ে লিস্ট 'এ' ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি করে ৫ চার ও ১২ ছক্কায় ১৪৫ রান করে আউট হন এই বাঁহাতি ওপেনার।
লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে এক ইনিংসে এর চেয়ে বেশি ছক্কা মারতে পেরেছেন শুধু সৌম্য সরকার। ২০১৮-১৯ মৌসুমের লিগে আবাহনী লিমিটেডের হয়ে ২০৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পথে ১৬টি ছক্কা মেরেছিলেন সৌম্য।
এছাড়া ২০২৩-২৪ মৌসুমের লিগে ভিন্ন ভিন্ন ম্যাচে একই দিনে ইনিংসে ১২টি করে ছক্কা মেরেছিলেন জাকির হাসান ও মাহফুজুর রহমান রাব্বি। এবার তাদের সঙ্গী হলেন নাঈম।
নাঈমের তাণ্ডবের সঙ্গে ইয়াসির রাব্বির ব্যাট থেকে আসে ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৪৪ বলে অপরাজিত ৬৯ রান। যার সৌজন্যে সাড়ে তিনশর কাছে যায় মোহামেডান।
পরে রান তাড়া করতে নেমে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর তোপে পড়ে রূপগঞ্জ টাইগার্স। ৫ ওভারের স্পেলে ২৪ রানে ৪ উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার। এছাড়া অন্য উইকেট নেন মুশফিক হাসান।

মিরপুরের উইকেট যে চেহরারই হোক না কেনো, বাংলাদেশের স্পিনাররা গর্জে উঠবে এই পিচে। এটাই মিরপুরের পিচের চিরায়ত বৈশিষ্ট্য। পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্টে সবুজাভ পিচ প্রস্তুত করেও বাংলাদেশ পেসারদের গর্জন দেখতে পারেনি বিসিবি। অফ স্পিনার মিরাজের ছোবলে (৩৮-৫-১০২-৫) পাকিস্তানকে ৩৮৬-তে থামিয়ে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।
মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষ ২১০ মিনিট নির্বিঘ্নে ব্যাট করে ১৭৯/১ স্কোরে লিডের স্বপ্ন দেখেছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় উইকেট জুটির ১১৯ রানও পাকিস্তানকে দেখিয়েছে লিডের স্বপ্ন। তবে দিনের প্রথম সেশনে উইকেট থেকে অ্যাডভান্টেজ না পেয়েও হেসেছে বাংলাদেশ। এই সেশনে ৭২ রান যোগ করে হারিয়েছে পাকিস্তান ৪ উইকেট। প্রথম সেশনে তাসকিন (৭-১-২১-২)-মিরাজের (১১-২-২৪-২) একটি স্পেলে তারাই নেমেছে ব্যাকফুটে। মাত্র ২০ রানের মধ্যে সফরকারী দলের ৪ উইকেট ফেলে দিয়ে প্রথম ইনিংসে লিডের পথটা প্রশস্ত করেছে বাংলাদেশ। বৃষ্টির পর ৫৩ মিনিটে পাকিস্তান ইনিংসে এক দমকা হাওয়া বইয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ বোলাররা। এই পর্বে মাত্র ৩৭ রান যোগ করে হারিয়েছে পাকিস্তান শেষ ৪ উইকেট।
বেলা ২টা ১৫ মিনিটে মুষলধারে বৃষ্টি বাংলাদেশের জন্য আশির্বাদ হয়েছে। ২ ঘন্টা খেলাহীন কাটিয়ে মাঠে ফেরা বাংলাদেশ
দিনের প্রথম ঘন্টায় ৪৭ রান যোগ করে হারিয়েছে ২ উইকেট। পেস বোলার তাসকিনের ৪ ওভারের স্পেলে (৪-১-১২-২) আজান (১০৩), শান মাসুদ (৯)ফিরেছেন ড্রেসিংরুমে। দিনের প্রথম ড্রিংকসের পরের ঘন্টাটি ছিল অফ স্পিনার মিরাজের। মিডল অর্ডার সউদ শাকিল (০) এবং অভিষিক্ত ওপেনার আবদুল্লাহ ফজলকে (৬০) ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। উইকেট পড়তে পারতো আরও একটি। তাসকিনের বলে সালমান আগা উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছিলেন। তবে ওভার স্টেপিংয়ে 'নো' ডেলিভারিতে গণ্য হওয়ায় 'ডাক' এর অপবাদ থেকে বেঁচে গেছেন তিনি।
দ্বিতীয় দিন শেষে ৮৫ রানে ব্যাটিংয়ে থেকে অভিষেকে সেঞ্চুরির আভাস দিয়েছিলেন। তৃতীয় দিনের ৫ম ওভারে নাহিদ রানার শর্ট বলে গালি অঞ্চল দিয়ে বাউন্ডারিতে পৌছে গেছেন তিন অঙ্কে। ১৯৬৪ সালে করাচিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকে সেঞ্চুুরির রেকর্ড করেছিলেন খালিদ ইবাদুল্লাহ। অভিষেকে ত্রয়োদশতম পাকিস্তানি সেঞ্চুরিয়ান আজান আইওয়াস।
বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেকে সেঞ্চুরির রেকর্ডে তৃতীয় পাকিস্তানি তিনি। ২০০১ সালে মুলতানে তৌফিক ওমর, ২০০৩ সালে করাচিতে ইয়াসির হামিদের পর চলমান টেস্টে আজান আইওয়াস (১০৩)।
প্রথম উইকেট জুটিতে ইমাম উল হক-এর সঙ্গে ১০৬ এবং দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আবদুল্লাহ ফজলকে নিয়ে ১০৪ রানের পার্টনারশিপে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। উইকেটে পাহাড় হয়ে দাঁড়ানো আজানের ইনিংসের স্থায়ীত্ব ছিল ১৭১ মিনিট। ১৬৫ বল মোকাবেলায় মেরেছেন ১৪টি চার। সেঞ্চুরির পর ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে তার। তাসকিনের চতুর্থ এবং তৃতীয় দিনের প্রথম স্পেলের তৃতীয় ওভারে শর্ট অব লেন্থ বলে ফার্স্ট স্লিপে শান্ত'র হাতে দিয়েছেন ক্যাচ এই অভিষেক সেঞ্চুরিয়ান। কাঁধ সমান উঁচু থেকে ভালো ক্যাচ নিয়েছেন শান্ত।
দ্বিতীয় দিনে ২টি ক্যাচ ড্রপে আফসোস করেছে বাংলাদেশ দল। তবে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে দুটি দর্শনীয় ক্যাচে কুড়িয়েছে প্রশংসা। তাসকিনের বলে শান মাসুদকে পয়েন্টে লো ক্যাচটি দূর্দান্ত ডাইভে নিয়েছেন ক্যাচ সাদমান। দ্বিতীয় দিন থেকে এক এন্ডে টানা বল করে যাওয়া অফ স্পিনার মিরাজ প্রথম উইকেটের মুখ দেখেছেন ২৩ তম ওভারে। সুইপ করতে যেয়ে সউদ শাকিল হয়েছেন এলবিডাব্লুউ (৪ বলে ০)। রিভিউ আপীলে লাভ হয়নি। বল ট্র্যাকিংয়ে মিডল এন্ড অফ স্ট্যাম্পের উপরে সম্ভাব্য আঘাতের দৃশ্য দেখতে পেয়েছেন টিভি আম্পায়ার। ২ ওভার পর মিরাজের পরবর্তী শিকার আবদুল্লাহ ফজল। অভিষেকে হাফ সেঞ্চুরিয়ান আবদুল্লাহ ফজল ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে যেয়ে মিড অনে তাইজুলের হাতে দিয়েছেন ক্যাচ (১২০ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৬০)।
লাঞ্চের পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে পাকিস্তান। ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে রিজওয়ান-সালমান আগা ১১৯ রান যোগ করে লিডের কক্ষপথে নিয়ে গেছেন পাকিস্তানকে। দুজন করেছেন পর পর ফিফটি। তবে আকাশে মেঘ দেখে ঝটপট রান নেয়ার প্রবণতা দেখে রিজওয়ানকে লফটেড শট খেলতে প্রলুব্ধ করে সফল বাঁ হাতি স্পিনার তাইজুল। ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে এসে পায়ের পেশিতে টান পড়ে মিড অফে ক্যাচ দিয়েছেন রিজওয়ান (৭৯ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ৫৯)।
বৃষ্টির পর পুনরায় খেলা শুরুর ১২ মিনিটের মাথায় নাহিদ রানার শর্ট বলে সেকেন্ড স্লিপের ফিল্ডার শান্ত'র হাতে ধরা পড়েছে সালমান আগা (৯৪ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৫৮)। শেষ স্পেলে (৪-১-৪-২) পর পর দুই ওভারে নোমান আলী (২৯ বলে ২) এবং শাহিন শাহ আফ্রিদিকে (১০ বলে ৬) ফিরিয়ে দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৪তম বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেটের দেখা পেয়েছেন অফ স্পিনার মিরাজ। ১৩ মাস পেলেন টেস্টে এক ইনিংসে মিরাজ ৫ উইকেট। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি তাঁর দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেটের কৃতিত্ব।
বৃষ্টির পর পুনরায় যখন খেলা শুরু হয়, তখন ফ্লাড লাইটের আলোয় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খেলা হওয়ার কথা ছিল। তবে ন্যাচারাল আলোর স্বল্পতায় ৫টা ৩০ মিনিটে খেলা থামিয়ে দিয়েছেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা। দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে এসে বাংলাদেশ দল ১১ বলে যোগ করে উইকেটহীন ৭ রান করেছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ৩৪ রানের লিড পেয়েছে।

মাঠের পারফরম্যান্সে দাপট দেখালেও মাঠের বাইরের রাজনীতি আর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। স্বায়ত্তশাসিত ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগের ব্যবস্থাপনা বেসরকারি খাতের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে জটিলতার রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে এল নতুন সংকট। কেন্দ্রীয় চুক্তিতে তুষ্ট নন দলটির পাঁচ তারকা ক্রিকেটার। তাঁরা এখনো ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া নতুন চুক্তিতে সই করেননি।
বিগ ব্যাশ লিগকে ঢেলে সাজাতে এবং ব্যবসায়িক লাভের উদ্দেশ্যে এটি ব্যক্তিগত মালিকানায় ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু শুরুতেই বড় ধাক্কা খেয়েছে এই উদ্যোগ। অস্ট্রেলিয়ার ছয়টি প্রাদেশিক ক্রিকেট সংস্থার মধ্যে তিনটি— নিউ সাউথ ওয়েলস, কুইন্সল্যান্ড ও সাউথ অস্ট্রেলিয়া এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রায় ৬০ থেকে ৮০ কোটি ডলারের এই বিনিয়োগ মডেল নাকচ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে বোর্ড।
আরও পড়ুন
| অভিষেকে ১৩তম পাকিস্তানি, বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয় |
|
একটি ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোর্ডের প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় চুক্তির শর্ত ও বেতন নিয়ে মোটেই খুশি নন পাঁচ সিনিয়র খেলোয়াড়। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ খেলোয়াড়দের রাজি করানোর চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি।
বোর্ড যেখানে ওয়ানডে ও টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে তিন বছরের জন্য বিশাল অংকের চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে, সেখানে অন্য তারকাদের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলা কামিন্সকে প্রায় ১২ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু বাকি সিনিয়র ক্রিকেটাররা মনে করছেন, তাদের প্রস্তাবিত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাজারের তুলনায় অনেক কম।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ বলেছেন,‘আমরা এখন এমন এক অবস্থায় আছি যেখানে পুরো বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল পুরো ক্রিকেটের উন্নয়ন, কিন্তু বর্তমানে আমরা ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে নেই।’
বিগ ব্যাশ লিগের বেসরকারীকরণ ভেস্তে যাওয়ায় স্থানীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে বড় ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। দেখা গেছে, এই টুর্নামেন্টে বিদেশি খেলোয়াড়দের তুলনায় স্থানীয় খেলোয়াড়রা প্রায় এক থেকে দুই লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার কম পারিশ্রমিক পান। চুক্তিতে এই বৈষম্য দূর না হওয়ায় অনেক তারকা ক্রিকেটার এখন দেশের খেলা বাদ দিয়ে বিদেশের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের দিকে ঝুঁকে পড়ার হুমকি দিচ্ছেন। অধিক আয়ের আশায় তারা জাতীয় দলের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে পারেন বলেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও বড় ‘শত্রু’ যখন প্রকৃতি |
|
সংকট নিরসনে বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাদেশিক সংস্থাগুলোর দফায় দফায় আলোচনা চলছে। টড গ্রিনবার্গ জানিয়েছেন, তাঁরা পুরো পরিস্থিতির গভীর বিশ্লেষণ করছেন। মার্কেটে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কীভাবে খেলোয়াড়দের সন্তুষ্ট রাখা যায় এবং অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের স্বার্থ রক্ষা করা যায়, সেটিই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। তবে চুক্তি নিয়ে এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে আগামী আন্তর্জাতিক সিরিজগুলোতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রবল।
সব মিলিয়ে বোর্ডের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতা এবং খেলোয়াড়দের আর্থিক অসন্তোষ অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

২০২৬ আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ১৫ সদস্যের দলের নেতৃত্বে দেবেন নিগার সুলতানা জ্যোতি।
জ্যোতির সঙ্গে সহ-অধিনায়ক হিসেবে রয়েছেন নাহিদা আক্তার। সবশেষ শ্রীলঙ্কা সিরিজের দলে খেলা শারমিন সুলতানার জায়গা হয়নি বিশ্বকাপ দলে। তাঁর জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন তাজনেহার।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ১১ জুন শুরু হবে এবারের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। গ্রুপ ১- এ জ্যোতি-নাহিদাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৪ জুন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ শুরু হবে।
বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ের আগে স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে ২৫ মে এডিনবার্গের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল। সেখান থেকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচগুলো খেলতে তারা লফবরায় যাবে।
এবার টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে কোয়ালিফাই করেছে বাংলাদেশ। বাছাই পর্বে গ্রুপ ও সুপার সিক্স মিলিয়ে মোট সাত ম্যাচ খেলে সবগুলোতেই জয় পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
বিশ্বকাপের অন্য গ্রুপে ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। প্রথম সেমিফাইনাল হবে ৩০ জুন এবং দ্বিতীয়টি ২ জুলাই। এরপর ৫ জুলাই লর্ডসের ফাইনালে নির্ধারিত হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল
নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ-অধিনায়ক), দিলারা আক্তার, জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়িতা, সোবহানা মোস্তারি, ফাহিমা খাতুন, শারমিন আক্তার সুপ্তা, রিতু মনি, স্বর্ণা আক্তার, রাবেয়া খান, মারুফা আক্তার, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, সুলতানা খাতুন, সানজিদা আক্তার মেঘলা, তাজনেহার।