
“সবাই শুধু তোমার রেকর্ড আর মাইলফলকগুলো নিয়েই কথা বলবে - কিন্তু আমি মনে রাখব সেই অশ্রুগুলোর কথা, যা তুমি কখনও কাউকে দেখাওনি; আমি মনে রাখব সেই যুদ্ধগুলো, যা কেউ দেখেনি; আর তোমার সেই নিঃশর্ত ভালোবাসা, যা তুমি এই ফরম্যাটটাকে দিয়েছ। প্রতিটি টেস্ট সিরিজের পর তুমি ফিরে এসেছো আরও একটু বেশি জ্ঞানী হয়ে, একটু বেশি স্থির হয়ে। তোমার এই পুরো যাত্রাটা দেখা ছিল আমার জন্য অনন্য এক সৌভাগ্য। কোনো এক অজানা কারণে আমি সবসময় ভেবেছি তুমি সাদা পোশাকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবে। কিন্তু সবসময়ের মত নিজের হৃদয়ের কথাই শুনেছো।”
- কথাগুলো বিরাট কোহলিকে নিয়ে বলেছেন তার সহধর্মিণী ও বলিউড অভিনেত্রী আনুশকা শর্মা। ক্রিকেটের প্রতি বিরাট কোহলির নিবেদন সবচেয়ে কাছ থেকে যিনি দেখেছেন, তার বলা কথাগুলোই বুঝিয়ে দেয় লাল বলের ক্রিকেটকে কীভাবে ধারণ করতেন ভারতীয় এই ব্যাটিং গ্রেট।
এই করতেন বলার কারণ, গত কয়েকদিনের গুঞ্জনকে সত্যি করে অনেকটা নীরবেই ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছেন কোহলি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে নাকি জোর চেষ্টাই ছিল অত্যন্ত ইংল্যান্ড সফরে তাকে খেলানোর। মাস দুয়েক আগেও ব্যাপারটি নিয়ে যে আলোচনা হতে পারে, সেটাই তো ছিল বিস্ময়কর। কারণ, টেস্টকেই তো সবচেয়ে বেশি লালন করলেন। তবে আনুশকা শর্মা যেমনটা বলেছেন, মনের কথা শুনেছেন আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটার।
আরও পড়ুন
| নাহিদ-তাসকিনদের নতুন বোলিং কোচ টেইট |
|
ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসেও কোহলি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন বর্ণিল এক চরিত্র হিসেবে। শচীন টেন্ডুলকার ভারতের ক্রিকেট ‘ঈশ্বর’, যিনি ছিলেন ব্যক্তি হিসেবে ধীরস্থির, শান্ত আর নিখুঁত ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী। আর কোহলি তার ঠিক বিপরীত। তিনি বুনো চরিত্রের ভীষণ আগ্রাসী একজন ক্রিকেটার, যিনি ব্যাটসম্যানশিপের চূড়ান্ত স্তরে থাকার পাশাপাশি মাঠে প্রতিপক্ষকে একচুল ছাড় দিতে নারাজ। অধিনায়ক ও খেলোয়াড় হিসেবে ভারতকে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে প্রতিকূল পরিবেশে কীভাবে চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে হয়। আর এই বিষয়গুলো অনেক সময়ই আড়াল হয়ে যায় হাজার হাজার রান বা সেঞ্চুরি, ডাবল সেঞ্চুরির স্তুতিগাথায়।
কোহলির অধিনায়কত্বে ভারত প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জেতে ২০১৮-১৯ মৌসুমে। তার সময়েই ভারত একটা লম্বা সময় ধরে থাকে টেস্টের র্যাংকিংয়ে শীর্ষে।
লাল বলের ক্রিকেটে কোহলির অবসরের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় শচীন বলেছেন, ভারতীয় ক্রিকেটের পরের প্রজন্মকে এই ফরম্যাটের প্রতি আগ্রহী করে তোলায় তার উত্তরসূরি রেখেছেন বিশাল এক অবদান। খুব একটা ভুল বলেননি তিনি। তবে টেস্ট ক্রিকেটে যে নিবেদন, আগ্রাসন দেখাতেন কোহলি, তা পুরো বিশ্ব ক্রিকেটেই ছিল উপভোগ্য এক বিষয়।
আর সেই কাজটা করতে গিয়ে অধিনায়ক হিসেবে বড় একটা পরিবর্তন আনেন ভারতীয় ক্রিকেট সংস্কৃতিতে। ফিটনেস ও পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে একটা বিপ্লব এসেছে তার হাত ধরেই। কীভাবে টেস্টের প্রতিটি বলেই সমান একাগ্রতা নিয়ে লড়তে হয়, খাদের কিনারায় থেকেও আশার প্রদীপ জ্বালাতে হয়, সেটা সামনে থেকে দেখিয়েছেন ম্যাচের পর ম্যাচ ধরে।
সবসময়ই স্পিনে শক্তিশালী হওয়ায় ভারতের জন্য দেশের মাটিতে জেতাটা সহজ হলেও বিদেশের মাটিতে টেস্টে বড় সাফল্য পাওয়া ছিল ভীষণ অনিয়মিত ঘটনা। সেটা বুঝতে পেরে কোহলি সবার আগে জোর দেন গতিময়, আগ্রাসী পেসারদের দলে নেওয়ার। সেটার ফলও ভারত পায় হাতেনাতে। ‘সেনা’ দেশগুলোতে তার অধিনায়কত্বেই দলটি পায় নিজেদের ইতিহাসের সেরা সব সাফল্য। এই ফরম্যাটকে বিদায় জানানোর সময় কোহলি যখন দেখছেন দলে পেসারদের আধিপত্য এমনকি ঘরের মাটিতেও, তখন তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতেই পারেন তিনি।
এক নজরে কোহলির টেস্ট ক্যারিয়ার :
• ১২৩টি টেস্ট
• ৯ হাজার ২৮৩ রান
• গড় : ৪৬.৮৫
• শতক : ৩০
• ডাবল সেঞ্চুরি : ৭ (ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ)
• ফিফটি ৩১
• সর্বোচ্চ : ২৫৪*
• অধিনায়ক হিসেবে ৬৮ ম্যাচে, ৪০টি জয় - ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
তবে টেস্টের কোহলিকে স্রেফ রান-সেঞ্চুরি দিয়ে মাপতে গেলে ভুলই করবেন আপনি। যে সময়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জোয়ারে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে পাঁচদিনের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ, সেই সময়েই কোহলি এই ফরম্যাটকে দিয়েছেন সর্বোচ্চ গুরুত্ব। ব্যাটিংয়ে প্রতিটি রানের জন্য তার লড়াই, ফিল্ডিংয়ে প্রতিটি বলেই আগ্রাসন দেখানো, উইকেট পতনে বুনো উল্লাসে মেতে ওঠা, এই জিনিসগুলোর কারণেই তিনি সবার চেয়ে আলাদা হয়ে থাকবেন। এভাবেই এই যুগে এসেও ভারতের তরুণ প্রজন্ম কোহলিকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়, হচ্ছে টেস্ট ক্রিকেট খেলার, রেকর্ড গড়ার, ইতিহাসের অংশ হওয়ার।
আরও পড়ুন
| রোহিতের পর টেস্ট অবসরের পথে কোহলিও? |
|
এই প্রসঙ্গে স্টিভেন স্মিথ একবার বলেছিলেন,
“সে শুধু একজন গ্রেট খেলোয়াড়ই নয়, একজন দুর্দান্ত প্রতিপক্ষও। খেলার মাঠে বিরাট শুধুমাত্র নিজের প্রাণশক্তিই নিয়ে আসে না, পুরো দলের মাঝেও সেটা ছড়িয়ে দেয়।”
খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দর্শকদের কাছেও কোহলি ছিলেন এমন একজন, যিনি টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি তৈরি করতে পেরেছিলেন অন্যরকম এক আবেদন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেমনই একজন যেমনটা বলেছেন,
“আমরা শুধু তাকে খেলতেই দেখতাম না, আমরা তার করা প্রতিটি রান, প্রতিটি চিৎকার, শূন্যে মারা প্রতিটি ঘুষিকেও অনুভব করতাম। সে কেবল ক্রিকেট খেলতই না, সে এটিকে কেন্দ্র করেই চলত।”
একজন স্পোর্টসম্যানের জন্য এরচেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে! কোহলি সেটা করতে পেরেছেন, কারণ টেস্ট ক্রিকেটকে তিনি সত্যিকারের ভালোবাসাই দিয়ে গেছেন শেষ দিন পর্যন্ত। এই কারণেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজের বিদায়ী টেস্ট সিরিজে তিনি সংগ্রাম করে একটা সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন, ছন্দে না থেকেও ছিলেন সিরিজের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। এতোটাই ছিল টেস্ট ক্রিকেটার কোহলির প্রভাব।
হার না মানা মানসিকতার কারণেই কোহলি ২০২০ সালের পর থেকে এই ফরম্যাটে সেরা ছন্দে না থেকেও লড়াই চালিয়ে যেতে পেরেছেন। আসলে ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের সময়টা বাদ দিলে কোহলির টেস্ট গড়টা থাকতে পারত আরও ইর্ষনীয়। এই মাপের একজন ব্যাটার কেন আর কীভাবে এত লম্বা সময় অফ ফর্মে আটকে থাকলেন, সেটা বড় এক রহস্যই থেকে যাবে। তবে ওয়ানডে গ্রেট কোহলিকে এরপরও আপনাকের টেস্টের সেরাদের কাতারের বিবেচনা করতেই হবে।
সেটা কেন, তা নিয়ে চলতে পারে নানা তর্ক। তবে ২০১৪ সালে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে চতুর্থ ইনিংস রান তাড়ায় যে ইনিংসটি খেলেছিলেন, সেটা ক্রিকেটের প্রিয় একজন ছাত্র সহজে ভুলতে পারবেন না। একটা হেরে যাওয়া ম্যাচে একটি সেঞ্চুরি কীভাবে দাগ কেটে যেতে পারে, সেটা অনুভব করতে হলে আপনাকে সেই ম্যাচটি দেখতে হবে বারবার।
প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর ৩৬৪ রানের টার্গেটে নেমে ড্রয়ের আশা বাদ দিয়ে ব্যাট চালান জয়ের লক্ষ্যে, প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যা ছিল অবিশ্বাস্য এক চেষ্টাই। এই দফায়ও সেঞ্চুরি করে ছুটছিলেন জয়ের লক্ষ্যেই। তবে নাথান লায়নের বলে ক্যাচ দিয়ে তার ফেরার পরই পথ হারিয়ে ভারত ম্যাচও হেরে যায়। আউট হওয়ার পর চোখেমুখে যে অবিশ্বাস আর হতাশা ছিল কোহলির, ঠিক সেই কারণেই তিনি টেস্ট গ্রেট হয়ে উঠেছেন। জয়ের জন্য শেষ বিন্দু নিংড়ে দেওয়া কোহলি তাই লাল বলের ক্রিকেটের একজন বড় বিজ্ঞাপন হয়েই প্রাণবন্ত থাকবেন ইতিহাসের পাতায়।
No posts available.
৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:০৯ পিএম

রংপুর রাইডার্সের শীর্ষস্থান নিশ্চিত নাকি নোয়াখালী এক্সপ্রেসের লজ্জার রেকর্ড থেকে রেহাই—বিপিএলের আজ বিপরীত সমীকরণ মাথায় রেখে খেলতে নেমেছিল দু’দল। শেষ পর্যন্ত সম্মান রক্ষা হয়েছে প্রথমবার বিপিএলে অংশ নেওয়া নোয়াখালীর। টানা ছয় ম্যাচে হারের পর সপ্তম ম্যাচে ৯ রানে জয় পেয়েছে হায়দার আলীর নেতৃত্বাধীন দলটি।
তুমুল আগ্রহ-উদ্দীপনা ও দর্শক সমর্থন নিয়ে প্রথমবার বিপিএল ক্রিকেট খেলতে এসে একের পর এক শুধু ব্যর্থতাই দেখছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। একে একে টানা ছয়টি ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্টে সবার নিচে রয়েছে বিপিএলের নবাগত দলটি। ২০১২ সালে টুর্নামেন্টের প্রথম সংস্করণে টানা সাত ম্যাচ পরাজয়ের পর অষ্টম ম্যাচে গিয়ে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছিল সিলেট রয়্যালস। টানা হারের সেই লজ্জার রেকর্ডে ভাগ বসানোর শঙ্কা ছিল নোয়াখালীর। তবে অবশেষে জয় পেয়ে সেই অপ্রীতিকর রেকর্ড এড়াল তারা।
শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯.৫ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রান করে নোয়াখালী। জবাবে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৯ রানে থামে রংপুর।
এ জয়ে পয়েন্ট টেবিলে উন্নতি হয়নি নোয়াখালী এক্সপ্রেসের। ষষ্ঠ নম্বরেই অবস্থান করছে দলটি। আজ জিতলে ১০ পয়েন্ট হতো রংপুর রাইডার্সের। নেট রান রেটে ভর করে বন্দর নগরীর ফ্রাঞ্চাইজিকে পেছনে ফেলার সুযোগ ছিল তাদের। তবে দুই পয়েন্ট না পাওয়া দুইয়েই অবস্থান করছে রংপুর।
রান তাড়ায় শুরুটা ভালো ছিল না রংপুরের। দলীয় ২৩ রানেই দুই ওপেনারকে হারায় তারা। হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বলে লিটন দাস বোল্ড হওয়ার পর ডেভিড ম্যালানকে বোল্ড করেন স্পিনার নবী।
অবশ্য দুই ওপেনারকে হারানোর পরও পথ হারায়নি রংপুর। তৃতীয় উইকেটে ৫১ বলে ৬৩ রান যোগ করেন তাওহিদ হৃদয় ও ইফতিখার আহমেদ। তাদের দুর্দান্ত এই জুটি শেষ হয় জহির খানের বলে ৩১ বলে ৩৭ করা ইফতিখার আউট হলে।
১৪.৫ ওভারে ১০০ রান তোলার পর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উইকেটও হারায় রংপুর। সবশেষ তিন ম্যাচে দারুণ ব্যাটিং করা এই ব্যাটার আউট হন ৮ বলে ৯ করে। আরও ৭ রান যোগ হতেই উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া হৃদয়ও আউট হয়ে সমীকরণ কঠিন করে ফেলেন রংপুরের। পঞ্চম উইকেট পতনের পর জয়ের জন্য শেষ চার ওভারে রংপুরের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ রান।
এবারের বিপিএলে ব্যর্থতার ধারা বজায় রাখেন সোহান। মেহেদী হাসান রানার বলে ৬ বলে ৪ রান করে আউট হয়ে দলকে আরও বিপদে ফেলেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। আট নম্বর ব্যাটার হিসেবে মাঠে নামেন মৃত্যুঞ্জয়।
এরপর রংপুরকে জেতানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিলেও ব্যর্থ হন খুশদিল শাহ। শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য সমীকরণ দাঁড়ায় ২৩ রান। বিলাল সামির করা ১৯তম ওভারে ৮ রান তোলার পর শেষ ওভারে লক্ষ্য দাড়ায় ১৫ রান।
নোয়াখালীর হয়ে শেষ ওভার করতে আসেন আগের তিন ওভারে ২১ রান দিয়ে এক উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ। মাত্র পাঁচ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়ে নোয়াখালীকে প্রথম জয় এনে দেন তিনি। তাঁর করা প্রথম ডেলিভারিতেই ১৬ বলে ২৪ করা খুশদিল আউট হন সৌম্য সরকারের ক্যাচ হয়ে। পরের বলে সিঙ্গেল নেওয়ার পর তৃতীয় বলে আউট হন মৃত্যুঞ্জয়ও। দশ নম্বরে নামা মোস্তাফিজ চার মেরে রংপুরকে আশা দেখালেও শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হাসে নোয়াখালীই।
টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শেষ দিকে ব্যাটিং ধসের কবলে পড়ার আগে শুরুটা মন্দ ছিল না নোয়াখালীর। প্রথম ৬ ওভারে তারা তুলেছিল ৬৬ রান। তবে ১৬ বলে ৩০ রান করা হাবিবুর রহমান সোহান, আর ২৭ বলে ৩১ করা সৌম্য সরকারের শুরুটা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় নোয়াখালী।
প্রথম ২ ওভারেই ২৫ রান তুলে নোয়খালী। রংপুর পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর প্রথম ওভার থেকে এসেছে দলটি তোলে ১৪ রান। এরপর ডানহাতি স্পিনার ইফতিখার আহমেদের ওভার থেকে এসেছে ১১।
আক্রমণে এসেই নোয়াখালীর ওপেনিং জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর প্রথম বলেই ব্যাট দিয়ে স্টাম্পে টেনে বোল্ড হয়েছেন শাহাদাত হোসেন। ৮ বলে ৩ চারে ১৪ রান করেছেন এই ব্যাটার।
দ্বিতীয় উইকেটে সোম্য-সোহানের ৪৫ রানের জমে যাওয়া জুটি ভাঙেন সুফিয়ান মুকিম। ৩০ রান করা হাবিবুর পাকিস্তানি স্পিনাররের বলে লং অনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর জোড়া আঘাত করেন রংপুরের স্পিনার খুশদিল শাহ। ওভারের প্রথম বলে ৩১ রান করা সৌম্যকে ফেরানোর পর দ্বিতীয় বলে বোল্ড করেন মোহাম্মদ নবীকে।
স্কোরবোর্ডে আর ৫ রান যোগ হতেই আরেক ব্যাটার সাজঘরের পথ ধরেন। ঘণ্টায় ১৪৯ কিলোমিটার গতিতে করা নাহিদ রানার শর্ট বলটি থেকে কোনোভাবে বাঁচতে চেয়েছিলেন হায়দার আলী। তবে বল গ্লাভসে লেগে চলে যায় উইকেটকিপার নুরুল হাসানের হাতে। ৪ বলে ১ রান করেছেন হায়দার।
৮৯ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া নোয়াখালীকে এরপর পথ দেখান জাকের আলী ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। ধীরলয়ে ব্যাটিং করা জাকের করেন ৩৮ বলে ৩৭ আর অঙ্কনের ব্যাট থেকে আসে ২১ বলে ২৮ রানের ইনিংস।
দলীয় ১৩৮ রানে টানা দুই বলে জাকের ও মেহেদীকে ফেরানোর হাসান মাহমুদকেও আউট করে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন মোস্তাফিজ। তবে এই পেসার নিজেই ক্যাচটা নিতে পারেননি। ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের সফলতম বোলার তিনি।
মোস্তাফিজ না পারলেও হ্যাটট্রিকের স্বাদ পান মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরি। একমাত্র বাংলাদেশি বোলার হিসেবে বিপিএলে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকের মালিক হলেন তিনি। শেষ ওভারের তৃতীয় বলে মাহিদুল, চতুর্থ বল মেহেদী রানা ও পঞ্চম বলে বিলাল সামিকে আউট করেন মৃত্যুঞ্জয়। ২.৫ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন তিনি। এর আগে ২০২২ সালে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন এই বাঁহাতি পেসার।
মৃত্যুঞ্জয়ের হ্যাটট্রিকের দিন গতির ঝড় তুলে ৪ ওভারে ১৭ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট নেন নাহিদ। বাঁহাতি স্পিনার খুশদিল শাহ ২৭ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন।

গত বছরের অক্টোবরে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফর করে আয়ারল্যান্ড। বাংলাদেশের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে যাওয়া সেই ১৫ সদস্যের স্কোয়াড অপরিবর্তিত রেখেই বিশ্বকাপের স্কোয়াড দিল আইরিশরা।
আগামী মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আজ আইরিশ ক্রিকেট (সিআই) পল স্টার্লিংকে অধিনায়ক করে ১৫ সদস্যের দল দিয়েছে । অভিজ্ঞ ব্যাটার পল স্টার্লিং টানা দ্বিতীয়বারের মতো আয়ারল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেবেন। এই স্কোয়াডের ১২ জনই যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে ছিলেন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ওই সিরিজের আগে চোটে পড়ে ছিটকে যান রস অ্যাডায়ার। হাঁটুর সেই চোট সেরে দলে ফিরেছেন এই ওপেনার। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে একটি সেঞ্চুরি করা অ্যাডায়ার এই সংস্করণে গড়ে ২৮.৮৪ রান করেছেন।
আসন্ন টুর্নামেন্ট দলের প্রস্তুতি ও লক্ষ্য নিয়ে আয়ারল্যান্ড জাতীয় দলের নির্বাচক অ্যান্ড্রু হোয়াইট বড় প্রত্যাশার কথা জানান। হোয়াইট বলেন, ‘এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অপেক্ষায় আমরা কতটা উন্মুখ, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ২০২২ সালের স্মরণীয় আসরের পর ২০২৪ সালে আমরা হয়তো প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারিনি, আর তখন থেকেই সেই ভুলগুলো শোধরানোর জন্য আমরা মুখিয়ে আছি।’
আয়ারল্যান্ডের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছে বেশ কয়েকজন উঠতি তারকা। ২২ বছর বয়সী টপ-অর্ডার ব্যাটার ও অফস্পিন বোলার টিম টেক্টর সুযোগ পেয়েছেন। তার সঙ্গে দলে রয়েছেন ২৩ বছর বয়সী বাঁহাতি মিডল-অর্ডার ব্যাটার বেন ক্যালিটজ এবং সমবয়সী বাঁহাতি স্পিনার ম্যাথিউ হামফ্রিজ।
দলের পরিকল্পনা আর কৌশল নিয়ে হোয়াইট আরও বলেন, ‘গত ১৮ মাসে আমরা কৌশল, ভূমিকা ও সমন্বয় নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প পরীক্ষা করেছি, এবং টুর্নামেন্টের আগে এই স্কোয়াড নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। ২০২৪ বিশ্বকাপের ১৫ জনের মধ্যে ১২ জনের এই দলে থাকা প্রমাণ করে আমাদের একটি বেশ স্থির দল রয়েছে। একই সঙ্গে টিম টেক্টর, বেন ক্যালিটজ ও ম্যাথিউ হামফ্রিজের মতো দারুণ নতুন প্রতিভাদের যুক্ত করতে পেরেছি, যারা দলে আরও প্রাণশক্তি যোগ করবে।’
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘বি’-তে আয়ারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, ওমান ও জিম্বাবুয়ে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আয়ারল্যান্ড তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। গ্রুপ পর্বে তাদের সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কায়।
আগামী মাসে বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রস্তুতি হিসেবে ২৩ থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ইতালির বিপক্ষে তিনটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা।
২০২৬ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের স্কোয়াড :
পল স্টার্লিং (অধিনায়ক), লরকান টাকার (সহ-অধিনায়ক), মার্ক অ্যাডায়ার, রস অ্যাডায়ার, বেন ক্যালিটজ, কার্টিস ক্যাম্পার, গ্যারেথ ডেলানি, জর্জ ডকরেল, ম্যাথিউ হামফ্রিজ, জশ লিটল, ব্যারি ম্যাককার্থি, হ্যারি টেক্টর, টিম টেক্টর, বেন হোয়াইট ও ক্রেইগ ইয়াং।

মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার আজমল শাহজাদ। তিনি লর্ডসের কোচিং বিভাগে ২০১৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত কাজ করেছিলেন, তারপর ডারবিশায়ারে সহকারী কোচ (বোলিং লিড) হিসেবে পাঁচ বছর কাটান।
শাহজাদ এখন লর্ডসে ফিরে এসে এমসিসির হেড কোচ হিসেবে পুরো কোচিং টিমকে নেতৃত্ব দেবেন। তাঁর লক্ষ্য হবে সব স্তরের ক্রিকেটে মানসম্মত কোচিং নিশ্চিত করা, যা অংশগ্রহণমূলক প্রোগ্রাম থেকে শুরু করে এলিট পারফরম্যান্স পরিবেশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
সাবেক ইয়র্কশায়ার, ল্যানকাশায়ার, নটিংহ্যামশায়ার ও সাসেক্সের পেসার শাহজাদ ২০১৭ সালে নিজের পেশাদার ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে কোচিং পেশায় যুক্ত হন তিনি। এখন নতুনভাবে সংস্কারকৃত লর্ডস পারফরম্যান্স সেন্টার থেকে ক্লাবের ক্রিকেট কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সব কোচিং কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেবেন।
নতুন দায়িত্ব পেয়ে শাহজাদ বললেন,
‘লর্ডসে ফিরে এসে আমাদের প্রতিভাবান কোচদের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত। খেলোয়াড় এবং কোচ হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে আশা করি। আমি চাই আমাদের দল এবং এমসিসি সব স্তরের ক্রিকেটে প্রভাব রাখতে সক্ষম হোক।’
এমসিসির হেড অফ প্রোগ্রামস রিকি রেনল্ডস বলেন,
‘আজমলকে ফের এমসিসিতে পেয়ে আমরা আনন্দিত। একজন অভিজ্ঞ কোচ হিসেবে তিনি এমন একটি কোচিং ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করতে পারবেন যা খেলোয়াড়দের বিকাশে সাহায্য করবে। লর্ডস পারফরম্যান্স সেন্টারকে বিশ্বমানের কোচিং, উদ্ভাবন ও কোচ উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এই পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রথমবার বিগ ব্যাশে খেলতে গিয়েই একের পর এক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে উপহার দিয়ে যাচ্ছেন রিশাদ হোসেন। ফ্রাঞ্চাইজি এই লিগে আজ আরও তিন উইকেট নিলেন বাংলাদেশি এই লেগ স্পিনার।
আজ অ্যাডিলেড স্টাইকার্সের বিপক্ষে ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়েছেন রিশাদ। বিগ ব্যাশে এ নিয়ে এই তাঁর মোট উইকেট হলো ১১টি। রিশাদের আরেকটি দারুণ পারফরম্যান্সের ম্যাচে জিতেছে হবার্ট হারিকেন্সও।
শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭৮ রান করে রিশাদের দল। এরপর অ্যাডিলেডকে ১৪১ রানেই থামিয়ে দেয় হারিকেন্স। হারিকেন্সের ইনিংসে রিশাদ সর্বোচ্চ উইকেট নিলেও ২ ওভারে ৭ রান দিয়ে দুই উইকেট শিকার করা নাথান এলিস হন ম্যাচসেরা।
এদিন পাওয়ার প্লে’এর শেষ ওভারে রিশাদের হাতে বল তুলে দেন হারিকেন্সের অধিনায়ক নাথান এলিস। ২১ রানেই চার উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে তখন অ্যাডিলেডে। নিজের করা প্রথম ওভারে খানিকটা খরুচে হলেও শেষ বলে একটি উইকেট তুলে নেন রিশাদ। হ্যারি মানেনেত্তিকে নিখিল চৌধুরির ক্যাচ বানান ২৩ বছর বয়সী স্পিনার। একটি ছক্কা হজম করে মোট ১০ রান দেন ওই ওভারে।
দলীয় নবম আর নিজের দ্বিতীয় ওভারে করতে এসে আবার আঘাত করেন রিশাদ। প্রথম বলেই জেমি ওভার্টনকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন রিশাদ। তাঁর করা দ্বিতীয় ওভার থেকে দুই চারে মোট ১১ রান তোলে প্রতিপক্ষ। ৫৯ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ১০০ রানের আগে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় তখন অ্যাডিলেড।
নিজের শেষ দুই ওভারে বেশ কিপটে ছিলেন রিশাদ। তৃতীয় ওভারে তিন রান দেওয়ার পর শেষ ওভারে মাত্র দুই রান দিয়ে লুক উডকে আউট করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রানে অ্যাডিলেডকে আটকে দেয় রিশাদের দল। তাতে ৩৭ রানের জয়ে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে নিজেদের স্থান আরও পোক্ত করল হবার্ট হারিকেন্স। ৮ ম্যাচে ছয় জয় নিয়ে ১২ পয়েন্ট অর্জন তাদের। আগামী রোববার হারিকেন্সের প্রতিপক্ষ সিডনি সিক্সার্স।

উইকেটে হালকা ঘাস, হাটু গেঁড়ে ঝুঁকে গভীর দৃষ্টিতে পরখ করছিলেন কোচ হান্নান সরকার। সেই স্থির চিত্র পোস্ট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের প্রধান কোচ ক্যাপশন জুড়ে দেন, ‘এক নম্বর জায়গাটা সুনিশ্চিত করার ম্যাচ।’ তবে সেই সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় তাঁর দল। শেষ ওভারের রোমাঞ্চে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে ২ উইকেটে হেরে গেছে রাজশাহী।
১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শেষ ওভারে জয়ের জন্য রাজশাহীয় প্রয়োজন ছিল ১০ রান। শেষ বলে সেটি দাঁড়ায় ২ রানে। হাসান নওয়াজের দক্ষতায় শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটি জিতে শীর্ষস্থান সুদৃঢ় করেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস।
উইকেট যে কিছুটা জটিল সেটি ভালো করেই বুঝেছেন হান্নান সরকার। টস জিতলে ব্যাটিং নাকি বোলিং নিলে ভালো হবে? এমন উইকেটের ভাষা বোঝা রাজশাহী-চট্টগ্রাম দুই দলের জন্য কঠিন ছিল। টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান।
তবে লড়াইয়ের মধ্যেও ছিল লড়াই। রাজশাহী কোচ তো বললেনই ‘শীর্ষে ওঠার’ ম্যাচ। এই ম্যাচে মাঠে নামার আগে দুই দলেরই সমান ৮ পয়েন্ট করে ছিল। জিতলেই ১০ পয়েন্ট নিয়ে চট্টগ্রামকে সরিয়ে শীর্ষে উঠে যেত রাজশাহী। দুই দলের জন্যই কঠিন পরীক্ষা।
বোলিং সহায়ক উইকেটে শুরু থেকেই রান তুলতে হাঁসফাঁস করছিল রাজশাহী। পাওয়ার-প্লেতে উড়ন্ত শুরু না পেলেও ২ উইকেটে স্কোরে জমা করে ৪২ রান। দলীয় ফিফটি হওয়ার আগেই হারায় তিন টপ অর্ডার ব্যাটারকে।
দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েও ১৪ বলে ১৯ রানে ফেরেন ওপেনার মোহাম্মদ ওয়াসিম। তানভীর ইসলামের ঘূর্ণি জাদু ব্যাটের নিচ দিয়ে সরাসরি স্টাম্পের লালবাতি জ্বালিয়ে দেয়। আউট হওয়ার আগে দুটি ছক্কা ও একটি চার মেরেছেন আরব আমিরাতের এই তারকা ক্রিকেটার।
তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি ছন্দে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত। ষষ্ঠ ওভারে খণ্ডকালীন হাসান নওয়াজের শিকার হন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১০ বলে ৭ রান। সংগ্রাম করছিলেন ওপেনার তানিজদ হাসান তামিমও। বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারলেন না, সপ্তম ওভারে আমের জামালের বলে আউট হন ১২ বলে ৫ রানে।
মিডল অর্ডারে মুশফিকুর রহিম (১৫), এসএম মেহরব (১৯), রায়ান বার্ল (১১), আকবর আলীরা (১৭) থিতু হয়েও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হয়েছেন। শরীফুল ইসলাম-আমের জামালদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে ৯ উইকেটে ১২৮ রান তুলতে সক্ষম হয় রজশাহী।
আমের জামাল ২৩ রান দিয়ে ৩টি, শরীফুল ও তানভীর ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।
১২৯ রান—বড়সড় লক্ষ্য নয়। তবে চট্টগ্রামের শুরুটা রাজশাহীর চেয়েও অনুজ্জ্বল ছিল। পাওয়ার-প্লেতে ৪ উইকেট হারিয়ে তোলে ৩৪ রান। মোহাম্মদ নাঈম (৭), অ্যাডাম রোসিংটন (১৭), মাহমুদুল হাসান জয় (৪) ও সাদমান ইসলাম ফেরেন রানের খাতা খোলার আগেই।
রাজশাহীর ব্যাটিং বিপর্যয়ে চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে একপ্রান্ত আগলে থিতু হয়ে থাকেন হাসান নওয়াজ। শেষ বলে ২ রান নিয়ে দলের জয় নিশ্চিতও করেন পাকিস্তানি এই তরুণ ব্যাটার। বোলাররা জয়ের আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত হেরে যায় রাজশাহী।
চট্টগ্রামের জয়ে মাঝে শেখ মেহেদী ২৫ বলে ২৮ ও আসিফ আলির ২৫ বলে ২৭ রানের ইনিংসটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ৩৬ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন হাসান। স্লো স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটি হয়ে গেল ম্যাাচসেরা। ইনিংসে ছিল মাত্র ২টি চার।
১৯তম ওভারে ৩ রানে ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান তানজিম হাসান সাকিব। শেষ ওভারে ১০ রান দরকার চট্টগ্রামের। স্পিনার মেহরবের করা প্রথম তিন বলে— ২, ২ ও ৪ রান নিয়ে ম্যাচ সহজ করে ফেলেন হাসান। তবে পরের দুই বলে রান নিতে ব্যর্থ হলে ম্যাচ জমে ক্ষীর হয়ে ওঠে। সুপার ওভার নিয়ে ধারাভাষ্য কক্ষে আলাপ হচ্ছিল। তবে লং অফ বল পাঠিয়ে তড়িৎ গতিতে শরীফুলের সঙ্গে দুবার জায়গা বদল করে জয় নিশ্চিত করেন হাসান। ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি।