২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ৮:২৪ পিএম

নিউজিল্যান্ডের কাছে হারের পর বাংলাদেশ সহ-অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ বলেছেন, ৩০০-৩১০ রান করলে জিততে পারত বাংলাদেশ। আর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তুলে ধরেছেন বিদেশের মাটিতে ভালো ক্রিকেট না খেলতে পারার বিষয়টি। দুজনের দুই রকমের মন্তব্যে আপনার মনে একটা প্রশ্ন জাগতেই পারে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কি স্রেফ খেলার জন্যই খেলছে বাংলাদেশ নাকি খেলোয়াড়দের সামর্থ্য ছিল বড় কিছু করার?
প্রশ্নটা করা এই কারণেই, একই টুর্নামেন্টে যেখানে দলগুলো করছে ৩০০, এমনকি ৩৫০ প্লাস স্কোরও, সেখানে দুই ম্যাচেই যে ব্যাট হাতে খাবি খেল বাংলাদেশ। দুবাইয়ের উইকেটে বড় রান করাটা চ্যালেঞ্জই, তবে সেই ম্যাচে ভারতের সাথে ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে সেখানেই ম্যাচটা হেরে বসে দলটি। অথছ, ওই সময়ে না হয়েছে এমন কোনো দুর্দান্ত বোলিং, না উইকেটে ছিল কোনো জুজু। ব্যাটারদের দায়িত্বহীন শটে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসার প্রবণতায় শুরুতেই মেরুদণ্ড ভেঙে যায় দলের।
আরও পড়ুন
| ভেসে গেল অস্ট্রেলিয়া-দ.আফ্রিকা লড়াই, চাপ বাড়ল ইংল্যান্ডের |
|
একটা টুর্নামেন্টের শুরুটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে অমন ভয়াবহ এক ব্যাটিং ধসে বাংলাদেশ পায় ভুলে যাওয়ার এক অভিজ্ঞতা। এরপর টেনেটুনে ২২৮ করলেও ম্যাচে সেভাবে লড়াই আর জমাতেই পারেনি বাংলাদেশ। ইনিংসের মাঝে কয়েকটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছে ভারত, ক্যাচও পড়েছে একটা বটে, তবে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে যাবে এমনটাও মনে হয়নি প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তার গভীরতার কারণেই।
আর এখানেই চলে আসে সামর্থ্যের প্রশ্ন। ভারত এই টুর্নামেন্ট খেলছে দলের তো বটেই, বিশ্ব ক্রিকেটেরই অন্যতম সেরা পেসার জাসপ্রিত বুমরাহকে ছাড়া। অথচ ঠিকই তারা হেসেখেলে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচেই তাদের ব্যাটাররা জানান দিয়েছেন নিজেদের সামর্থ্যের। আর সেটা স্পষ্ট হয়েছে শুবমান গিল ও বিরাট কোহলির দুই সেঞ্চুরিতে।
ভারত ম্যাচে দ্রুত ৫ উইকেট হারানোর পরও বাংলাদেশ ২২৮ পর্যন্ত যেতে পেরেছিল তাওহীদ হৃদয়ের লড়াকু সেঞ্চুরির কারণেই। তবে নব্বইয়ের ঘরে যেতে ক্র্যাম্পের কারণে দাঁড়াতেই যেন পারছিলেন না এই তরুণ ব্যাটার। ফলে ২৫০ রানের ভিত থাকলেও তিনি শেষের দিকে সেভাবে রানই বের করতে পারেননি। অর্জন বলতে ওই তার শতকই।
একই ম্যাচে গিল ওপেন করতে নামেন ৫০ ওভার ফিল্ডিংয়ের ক্লান্তি নিয়ে। আর মাঠ ছাড়েন দলকে জিতিয়ে, অপরাজিত সেঞ্চুরিতে। একবারও ক্যাম্প হয়নি তার। ম্যাচ শেষেও তার প্রাণশক্তি বলে দিচ্ছিল, চাইলেই অনায়াসে আরও ৫০ ওভার ব্যাট করা সম্ভব তার পক্ষে। তাওহীদ বা বাংলাদেশের অন্য ব্যাটারদের সাথে সামর্থ্যের ফারাকটা এখানেই হয়ে যায় শীর্ষ ব্যাটারদের।
আরও পড়ুন
| ‘বড় মঞ্চে সাকিবের মত পারফর্ম করতে ব্যর্থ মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ’ |
|
অন্য উদাহারণটি হতে পারেন কোহলি। দুবাইয়ের গরমের মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে রান তাড়ায় তিনিও উপহার দেন ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি। চেজ মাস্টার খ্যাত এই ব্যাটার শতক করেছেন নব্বইয়ের বেশি স্ট্রাইক রেটে। চার মারেন মাত্র ৭টি। অর্থাৎ, বাউন্ডারি থেকে মাত্র ২৮ রান করেও তিনি দারুণ একটা স্ট্রাইক রেট বজায় রেখেছেন। দৌড়ে রানই নিয়েছেন ৭২টি।
এর একদিন বাদে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওপেন করতে নেমে রাওয়ালপিন্ডির ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে শান্ত ৭৭ রান করতে বল খেলেছেন ১১০টি। তিনি কোহলির চেয়ে চার মেরেছেন দুটি বেশি। তবে ডট বলের সংখ্যাও তার বেশি, ৬২টি। আর এখানেই চলে আসে বাংলাদেশ ব্যাটারদের সামর্থ্যের বিষয়টি। একজন ব্যাটার প্রায় ১০ ওভার যদি একটা রানও না বের করতে পারেন, সেই দলের ইনিংস কার্যত নেমে আসে ৪০ ওভারে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই একটা দলের জন্য ৩০০ পার করা স্কোর গড়ার কাজটা ভীষণ কঠিন হয়ে যায়।
তাওহীদের ওই একশ করার আগেই ফিটনেসের কমতি ফুটে ওঠা বা শান্তর ডট বলের হিড়িক যেন বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিটের দীনতাই ফুটিয়ে তোলে। অবশ্য দুই ম্যাচে সর্বোচ্চ রান করা দুজনকে উদাহারণ হিসেবে টেনে আনাটা কিছুটা দৃষ্টিকটু লাগতেই পারে। মন্দের ভালো তো ছিলেন তারাই।
তবে অন্যদের দিকে তাকালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ কেন আর কোন লক্ষ্যে খেলছে, তা নিয়েই যে প্রশ্ন জাগতে বাধ্য। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে রিকি পণ্টিং যখন বলেছিলেন, বাংলাদেশের কোনো সম্ভাবনাই দেখছেন না তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক সাধারণত ক্রিকেট নিয়ে ভুল ভবিষ্যৎবাণী কমই করেন।
দুই ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটাররা প্রমাণ দিয়েছেন, ভুল ছিলেন না পন্টিং। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যর্থ ছিলেন তিন অভিজ্ঞ সৌম্য সরকার, মেহেদি হাসান মিরাজ ও মুশফিকুর রহিম। এদের মধ্যে দুজনই আবার মারেন ডাক। তিনজনের আউটের ডেলিভারি ছিল না খুব বিশেষ কিছু।
তবে নিউজিল্যান্ড ম্যাচ যেন ছাড়িয়ে গেছে সেই ব্যর্থতার গল্পও। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে বিশের ঘরে ভালো শুরু পেয়েও আউট হয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। দুটি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞ একজন ব্যাটারের কাছ থেকে বড় ইনিংস তো দল আশা করতেই পারে। অবশ্য অভিজ্ঞতার বিচারে দলের সবচেয়ে প্রবীণ দুই ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহই তো করেছেন সবচেয়ে বেশি হতাশ।
ভারত ম্যাচ মিস করা মাহমুদউল্লাহ ১০৬ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর নেমে যেভাবে মিচেল ব্রেসওয়েলকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হয়েছেন, তা অবাক করেছে ধারাভাষ্যকারদের। এর আগে একই ভুল করেছেন মুশফিকুরও। অথচ ওই সময়ে তাদের দরকার ছিল দেখেশুনে খেলে ইনিংস মেরামতের। এই টুর্নামেন্টেই ৩৫১ রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়ার তুলনামূলক দুই অনভিজ্ঞ ব্যাটার জস ইংলিশ ও অ্যালেক্স কেরি যেভাবে জুটি গড়েছেন খুব বেশি আগ্রাসন না দেখিয়েই, তা বাংলাদেশের ২০ বছরের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের জন্য হতে পারে এক শিক্ষা। ডট বলের চাপ এলেও তারা সিঙ্গেলস বের করে সেটা সরিয়েছেন। কয়েকটা বল ডট গেলেই মুশফিকুর বা মাহমুদউল্লাহরা বারবার চাপের মুখে স্রেফ বড় শটেই নিস্তার চান, তা উদ্বেগজনকই।
আরও পড়ুন
| রান আউট-ক্যাচ মিসের আক্ষেপে বিদায় বাংলাদেশের |
|
যেহেতু তারা দুজনই আছেন ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায়, সেদিক থেকে বাংলাদেশের বড় চিন্তার কারণ হতে পারেন মিরাজ। মূলত বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে খেললেও এই দলে তিনি এখন নিয়মিত ব্যাট করছেন ওপরের দিকেই। মজার ব্যাপার হল, ওয়ানডেতে তার সেরা সব পারফরম্যান্স এসেছে ব্যাট হাতেই। অবশ্যই সাকিব আল হাসান যুগে এটা বাংলাদেশের জন্য দারুণ খবর। তবে মিরাজের মূল কাজ তো বল হাতে, কারণ দলের চতুর্থ বা পঞ্চম বোলার যে তিনিই।
সেই মিরাজ ১০৫টি ওয়ানডেতে নিয়েছেন মাত্র ১১০ উইকেট। গড়ে প্রতি উইকেট নিতে গুনেছেন ৪৫ রানের বেশি। দলের একজন মূল বোলার যখন দিনের পর দিন গড়পড়তা পারফরম্যান্স উপহার দিবেন, তখন সেটা দলকে বাড়তি চাপে ফেলবেই। হচ্ছেও তাই। মিরাজের করা ১০টি ওভার ওয়ানডেতে প্রতিপক্ষকে সেভাবে চাপে ফেলতেই পারছে না মাঝের ওভারে। ফলে নিউজিল্যান্ড ম্যাচের মত পেসাররা শুরুটা দারুণ কিছু করলেও মিরাজের স্পেলে প্রতিপক্ষ পাচ্ছে সহজ রান বের করার সুযোগ। তাতে চাপও যাচ্ছে আলগা হয়ে।
সব মিলিয়ে তাই এক ম্যাচ হাতে রেখেই আসর থেকে বিদায় নেওয়া বাংলাদেশ দল ব্যর্থ হল বিরেন্দর শেবাগকে একটা জবাব দিতে। সাবেক ভারত ওপেনার প্রথম ম্যাচের পর বলেছিলেন, দলটা বাংলাদেশ বলেই তাদের কাছে হারার চিন্তাও নাকি হয়নি তার। ওয়াসিম জাফর বা শেন বন্ডের মত সাবেকরা এমন তির্যক মন্তব্য না করলেও বলেছেন, বড় মঞ্চে বাংলাদেশের এমন বাজে প্রদর্শনী অবাক করেছে তাদের।
এই অবাক বিস্ময়ে আছেন বাংলাদেশের সমর্থকরাও, যারা ভারত ম্যাচের আগের দিন রাতে শান্ত-তাসকিন-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহদের দেখলেন সাবেক ওপেনার তামিম ইকবালের সাথে ডিনার করতে। যেখানে তৈলাক্ত খাবারের সাথে ছিল আবার কোমল পানীয়ও। টুর্নামেন্টে নিজেদের সবচেয়ে বড় ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের নিবেদনের এই চিত্র বলে দেয়, নিজেদের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা যেন তারা মেনে নেন মাঠে নামার আগেই।
ক্রিকেট পাগল একটা দেশের সমর্থকদের জন্য এই নির্মম সত্য মেনে নেওয়াটা কঠিনই বটে। কারণ, তারা যে প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশকে সেরাদের সেরা হওয়ার। তবে খেলোয়াড়দের সামর্থ্যের কমতি থাকা বা লড়াইয়ের আগে হালকা মেজাজে থাকাটা বলে দেয়, সময় এসেছে ‘রিয়েলিটি চেক’ দেওয়ার। শান্তরা সেটা পাবেন কি?
No posts available.
৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:০৯ পিএম

রংপুর রাইডার্সের শীর্ষস্থান নিশ্চিত নাকি নোয়াখালী এক্সপ্রেসের লজ্জার রেকর্ড থেকে রেহাই—বিপিএলের আজ বিপরীত সমীকরণ মাথায় রেখে খেলতে নেমেছিল দু’দল। শেষ পর্যন্ত সম্মান রক্ষা হয়েছে প্রথমবার বিপিএলে অংশ নেওয়া নোয়াখালীর। টানা ছয় ম্যাচে হারের পর সপ্তম ম্যাচে ৯ রানে জয় পেয়েছে হায়দার আলীর নেতৃত্বাধীন দলটি।
তুমুল আগ্রহ-উদ্দীপনা ও দর্শক সমর্থন নিয়ে প্রথমবার বিপিএল ক্রিকেট খেলতে এসে একের পর এক শুধু ব্যর্থতাই দেখছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। একে একে টানা ছয়টি ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্টে সবার নিচে রয়েছে বিপিএলের নবাগত দলটি। ২০১২ সালে টুর্নামেন্টের প্রথম সংস্করণে টানা সাত ম্যাচ পরাজয়ের পর অষ্টম ম্যাচে গিয়ে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছিল সিলেট রয়্যালস। টানা হারের সেই লজ্জার রেকর্ডে ভাগ বসানোর শঙ্কা ছিল নোয়াখালীর। তবে অবশেষে জয় পেয়ে সেই অপ্রীতিকর রেকর্ড এড়াল তারা।
শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯.৫ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রান করে নোয়াখালী। জবাবে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৯ রানে থামে রংপুর।
এ জয়ে পয়েন্ট টেবিলে উন্নতি হয়নি নোয়াখালী এক্সপ্রেসের। ষষ্ঠ নম্বরেই অবস্থান করছে দলটি। আজ জিতলে ১০ পয়েন্ট হতো রংপুর রাইডার্সের। নেট রান রেটে ভর করে বন্দর নগরীর ফ্রাঞ্চাইজিকে পেছনে ফেলার সুযোগ ছিল তাদের। তবে দুই পয়েন্ট না পাওয়া দুইয়েই অবস্থান করছে রংপুর।
রান তাড়ায় শুরুটা ভালো ছিল না রংপুরের। দলীয় ২৩ রানেই দুই ওপেনারকে হারায় তারা। হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বলে লিটন দাস বোল্ড হওয়ার পর ডেভিড ম্যালানকে বোল্ড করেন স্পিনার নবী।
অবশ্য দুই ওপেনারকে হারানোর পরও পথ হারায়নি রংপুর। তৃতীয় উইকেটে ৫১ বলে ৬৩ রান যোগ করেন তাওহিদ হৃদয় ও ইফতিখার আহমেদ। তাদের দুর্দান্ত এই জুটি শেষ হয় জহির খানের বলে ৩১ বলে ৩৭ করা ইফতিখার আউট হলে।
১৪.৫ ওভারে ১০০ রান তোলার পর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উইকেটও হারায় রংপুর। সবশেষ তিন ম্যাচে দারুণ ব্যাটিং করা এই ব্যাটার আউট হন ৮ বলে ৯ করে। আরও ৭ রান যোগ হতেই উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া হৃদয়ও আউট হয়ে সমীকরণ কঠিন করে ফেলেন রংপুরের। পঞ্চম উইকেট পতনের পর জয়ের জন্য শেষ চার ওভারে রংপুরের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ রান।
এবারের বিপিএলে ব্যর্থতার ধারা বজায় রাখেন সোহান। মেহেদী হাসান রানার বলে ৬ বলে ৪ রান করে আউট হয়ে দলকে আরও বিপদে ফেলেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। আট নম্বর ব্যাটার হিসেবে মাঠে নামেন মৃত্যুঞ্জয়।
এরপর রংপুরকে জেতানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিলেও ব্যর্থ হন খুশদিল শাহ। শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য সমীকরণ দাঁড়ায় ২৩ রান। বিলাল সামির করা ১৯তম ওভারে ৮ রান তোলার পর শেষ ওভারে লক্ষ্য দাড়ায় ১৫ রান।
নোয়াখালীর হয়ে শেষ ওভার করতে আসেন আগের তিন ওভারে ২১ রান দিয়ে এক উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ। মাত্র পাঁচ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়ে নোয়াখালীকে প্রথম জয় এনে দেন তিনি। তাঁর করা প্রথম ডেলিভারিতেই ১৬ বলে ২৪ করা খুশদিল আউট হন সৌম্য সরকারের ক্যাচ হয়ে। পরের বলে সিঙ্গেল নেওয়ার পর তৃতীয় বলে আউট হন মৃত্যুঞ্জয়ও। দশ নম্বরে নামা মোস্তাফিজ চার মেরে রংপুরকে আশা দেখালেও শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হাসে নোয়াখালীই।
টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শেষ দিকে ব্যাটিং ধসের কবলে পড়ার আগে শুরুটা মন্দ ছিল না নোয়াখালীর। প্রথম ৬ ওভারে তারা তুলেছিল ৬৬ রান। তবে ১৬ বলে ৩০ রান করা হাবিবুর রহমান সোহান, আর ২৭ বলে ৩১ করা সৌম্য সরকারের শুরুটা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় নোয়াখালী।
প্রথম ২ ওভারেই ২৫ রান তুলে নোয়খালী। রংপুর পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর প্রথম ওভার থেকে এসেছে দলটি তোলে ১৪ রান। এরপর ডানহাতি স্পিনার ইফতিখার আহমেদের ওভার থেকে এসেছে ১১।
আক্রমণে এসেই নোয়াখালীর ওপেনিং জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর প্রথম বলেই ব্যাট দিয়ে স্টাম্পে টেনে বোল্ড হয়েছেন শাহাদাত হোসেন। ৮ বলে ৩ চারে ১৪ রান করেছেন এই ব্যাটার।
দ্বিতীয় উইকেটে সোম্য-সোহানের ৪৫ রানের জমে যাওয়া জুটি ভাঙেন সুফিয়ান মুকিম। ৩০ রান করা হাবিবুর পাকিস্তানি স্পিনাররের বলে লং অনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর জোড়া আঘাত করেন রংপুরের স্পিনার খুশদিল শাহ। ওভারের প্রথম বলে ৩১ রান করা সৌম্যকে ফেরানোর পর দ্বিতীয় বলে বোল্ড করেন মোহাম্মদ নবীকে।
স্কোরবোর্ডে আর ৫ রান যোগ হতেই আরেক ব্যাটার সাজঘরের পথ ধরেন। ঘণ্টায় ১৪৯ কিলোমিটার গতিতে করা নাহিদ রানার শর্ট বলটি থেকে কোনোভাবে বাঁচতে চেয়েছিলেন হায়দার আলী। তবে বল গ্লাভসে লেগে চলে যায় উইকেটকিপার নুরুল হাসানের হাতে। ৪ বলে ১ রান করেছেন হায়দার।
৮৯ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া নোয়াখালীকে এরপর পথ দেখান জাকের আলী ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। ধীরলয়ে ব্যাটিং করা জাকের করেন ৩৮ বলে ৩৭ আর অঙ্কনের ব্যাট থেকে আসে ২১ বলে ২৮ রানের ইনিংস।
দলীয় ১৩৮ রানে টানা দুই বলে জাকের ও মেহেদীকে ফেরানোর হাসান মাহমুদকেও আউট করে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন মোস্তাফিজ। তবে এই পেসার নিজেই ক্যাচটা নিতে পারেননি। ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের সফলতম বোলার তিনি।
মোস্তাফিজ না পারলেও হ্যাটট্রিকের স্বাদ পান মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরি। একমাত্র বাংলাদেশি বোলার হিসেবে বিপিএলে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকের মালিক হলেন তিনি। শেষ ওভারের তৃতীয় বলে মাহিদুল, চতুর্থ বল মেহেদী রানা ও পঞ্চম বলে বিলাল সামিকে আউট করেন মৃত্যুঞ্জয়। ২.৫ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন তিনি। এর আগে ২০২২ সালে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন এই বাঁহাতি পেসার।
মৃত্যুঞ্জয়ের হ্যাটট্রিকের দিন গতির ঝড় তুলে ৪ ওভারে ১৭ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট নেন নাহিদ। বাঁহাতি স্পিনার খুশদিল শাহ ২৭ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন।

গত বছরের অক্টোবরে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফর করে আয়ারল্যান্ড। বাংলাদেশের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে যাওয়া সেই ১৫ সদস্যের স্কোয়াড অপরিবর্তিত রেখেই বিশ্বকাপের স্কোয়াড দিল আইরিশরা।
আগামী মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আজ আইরিশ ক্রিকেট (সিআই) পল স্টার্লিংকে অধিনায়ক করে ১৫ সদস্যের দল দিয়েছে । অভিজ্ঞ ব্যাটার পল স্টার্লিং টানা দ্বিতীয়বারের মতো আয়ারল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেবেন। এই স্কোয়াডের ১২ জনই যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে ছিলেন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ওই সিরিজের আগে চোটে পড়ে ছিটকে যান রস অ্যাডায়ার। হাঁটুর সেই চোট সেরে দলে ফিরেছেন এই ওপেনার। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে একটি সেঞ্চুরি করা অ্যাডায়ার এই সংস্করণে গড়ে ২৮.৮৪ রান করেছেন।
আসন্ন টুর্নামেন্ট দলের প্রস্তুতি ও লক্ষ্য নিয়ে আয়ারল্যান্ড জাতীয় দলের নির্বাচক অ্যান্ড্রু হোয়াইট বড় প্রত্যাশার কথা জানান। হোয়াইট বলেন, ‘এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অপেক্ষায় আমরা কতটা উন্মুখ, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ২০২২ সালের স্মরণীয় আসরের পর ২০২৪ সালে আমরা হয়তো প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারিনি, আর তখন থেকেই সেই ভুলগুলো শোধরানোর জন্য আমরা মুখিয়ে আছি।’
আয়ারল্যান্ডের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছে বেশ কয়েকজন উঠতি তারকা। ২২ বছর বয়সী টপ-অর্ডার ব্যাটার ও অফস্পিন বোলার টিম টেক্টর সুযোগ পেয়েছেন। তার সঙ্গে দলে রয়েছেন ২৩ বছর বয়সী বাঁহাতি মিডল-অর্ডার ব্যাটার বেন ক্যালিটজ এবং সমবয়সী বাঁহাতি স্পিনার ম্যাথিউ হামফ্রিজ।
দলের পরিকল্পনা আর কৌশল নিয়ে হোয়াইট আরও বলেন, ‘গত ১৮ মাসে আমরা কৌশল, ভূমিকা ও সমন্বয় নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প পরীক্ষা করেছি, এবং টুর্নামেন্টের আগে এই স্কোয়াড নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। ২০২৪ বিশ্বকাপের ১৫ জনের মধ্যে ১২ জনের এই দলে থাকা প্রমাণ করে আমাদের একটি বেশ স্থির দল রয়েছে। একই সঙ্গে টিম টেক্টর, বেন ক্যালিটজ ও ম্যাথিউ হামফ্রিজের মতো দারুণ নতুন প্রতিভাদের যুক্ত করতে পেরেছি, যারা দলে আরও প্রাণশক্তি যোগ করবে।’
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘বি’-তে আয়ারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, ওমান ও জিম্বাবুয়ে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আয়ারল্যান্ড তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। গ্রুপ পর্বে তাদের সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কায়।
আগামী মাসে বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রস্তুতি হিসেবে ২৩ থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ইতালির বিপক্ষে তিনটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা।
২০২৬ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের স্কোয়াড :
পল স্টার্লিং (অধিনায়ক), লরকান টাকার (সহ-অধিনায়ক), মার্ক অ্যাডায়ার, রস অ্যাডায়ার, বেন ক্যালিটজ, কার্টিস ক্যাম্পার, গ্যারেথ ডেলানি, জর্জ ডকরেল, ম্যাথিউ হামফ্রিজ, জশ লিটল, ব্যারি ম্যাককার্থি, হ্যারি টেক্টর, টিম টেক্টর, বেন হোয়াইট ও ক্রেইগ ইয়াং।

মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার আজমল শাহজাদ। তিনি লর্ডসের কোচিং বিভাগে ২০১৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত কাজ করেছিলেন, তারপর ডারবিশায়ারে সহকারী কোচ (বোলিং লিড) হিসেবে পাঁচ বছর কাটান।
শাহজাদ এখন লর্ডসে ফিরে এসে এমসিসির হেড কোচ হিসেবে পুরো কোচিং টিমকে নেতৃত্ব দেবেন। তাঁর লক্ষ্য হবে সব স্তরের ক্রিকেটে মানসম্মত কোচিং নিশ্চিত করা, যা অংশগ্রহণমূলক প্রোগ্রাম থেকে শুরু করে এলিট পারফরম্যান্স পরিবেশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
সাবেক ইয়র্কশায়ার, ল্যানকাশায়ার, নটিংহ্যামশায়ার ও সাসেক্সের পেসার শাহজাদ ২০১৭ সালে নিজের পেশাদার ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে কোচিং পেশায় যুক্ত হন তিনি। এখন নতুনভাবে সংস্কারকৃত লর্ডস পারফরম্যান্স সেন্টার থেকে ক্লাবের ক্রিকেট কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সব কোচিং কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেবেন।
নতুন দায়িত্ব পেয়ে শাহজাদ বললেন,
‘লর্ডসে ফিরে এসে আমাদের প্রতিভাবান কোচদের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত। খেলোয়াড় এবং কোচ হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে আশা করি। আমি চাই আমাদের দল এবং এমসিসি সব স্তরের ক্রিকেটে প্রভাব রাখতে সক্ষম হোক।’
এমসিসির হেড অফ প্রোগ্রামস রিকি রেনল্ডস বলেন,
‘আজমলকে ফের এমসিসিতে পেয়ে আমরা আনন্দিত। একজন অভিজ্ঞ কোচ হিসেবে তিনি এমন একটি কোচিং ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করতে পারবেন যা খেলোয়াড়দের বিকাশে সাহায্য করবে। লর্ডস পারফরম্যান্স সেন্টারকে বিশ্বমানের কোচিং, উদ্ভাবন ও কোচ উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এই পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রথমবার বিগ ব্যাশে খেলতে গিয়েই একের পর এক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে উপহার দিয়ে যাচ্ছেন রিশাদ হোসেন। ফ্রাঞ্চাইজি এই লিগে আজ আরও তিন উইকেট নিলেন বাংলাদেশি এই লেগ স্পিনার।
আজ অ্যাডিলেড স্টাইকার্সের বিপক্ষে ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়েছেন রিশাদ। বিগ ব্যাশে এ নিয়ে এই তাঁর মোট উইকেট হলো ১১টি। রিশাদের আরেকটি দারুণ পারফরম্যান্সের ম্যাচে জিতেছে হবার্ট হারিকেন্সও।
শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭৮ রান করে রিশাদের দল। এরপর অ্যাডিলেডকে ১৪১ রানেই থামিয়ে দেয় হারিকেন্স। হারিকেন্সের ইনিংসে রিশাদ সর্বোচ্চ উইকেট নিলেও ২ ওভারে ৭ রান দিয়ে দুই উইকেট শিকার করা নাথান এলিস হন ম্যাচসেরা।
এদিন পাওয়ার প্লে’এর শেষ ওভারে রিশাদের হাতে বল তুলে দেন হারিকেন্সের অধিনায়ক নাথান এলিস। ২১ রানেই চার উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে তখন অ্যাডিলেডে। নিজের করা প্রথম ওভারে খানিকটা খরুচে হলেও শেষ বলে একটি উইকেট তুলে নেন রিশাদ। হ্যারি মানেনেত্তিকে নিখিল চৌধুরির ক্যাচ বানান ২৩ বছর বয়সী স্পিনার। একটি ছক্কা হজম করে মোট ১০ রান দেন ওই ওভারে।
দলীয় নবম আর নিজের দ্বিতীয় ওভারে করতে এসে আবার আঘাত করেন রিশাদ। প্রথম বলেই জেমি ওভার্টনকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন রিশাদ। তাঁর করা দ্বিতীয় ওভার থেকে দুই চারে মোট ১১ রান তোলে প্রতিপক্ষ। ৫৯ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ১০০ রানের আগে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় তখন অ্যাডিলেড।
নিজের শেষ দুই ওভারে বেশ কিপটে ছিলেন রিশাদ। তৃতীয় ওভারে তিন রান দেওয়ার পর শেষ ওভারে মাত্র দুই রান দিয়ে লুক উডকে আউট করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রানে অ্যাডিলেডকে আটকে দেয় রিশাদের দল। তাতে ৩৭ রানের জয়ে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে নিজেদের স্থান আরও পোক্ত করল হবার্ট হারিকেন্স। ৮ ম্যাচে ছয় জয় নিয়ে ১২ পয়েন্ট অর্জন তাদের। আগামী রোববার হারিকেন্সের প্রতিপক্ষ সিডনি সিক্সার্স।

উইকেটে হালকা ঘাস, হাটু গেঁড়ে ঝুঁকে গভীর দৃষ্টিতে পরখ করছিলেন কোচ হান্নান সরকার। সেই স্থির চিত্র পোস্ট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের প্রধান কোচ ক্যাপশন জুড়ে দেন, ‘এক নম্বর জায়গাটা সুনিশ্চিত করার ম্যাচ।’ তবে সেই সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় তাঁর দল। শেষ ওভারের রোমাঞ্চে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে ২ উইকেটে হেরে গেছে রাজশাহী।
১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শেষ ওভারে জয়ের জন্য রাজশাহীয় প্রয়োজন ছিল ১০ রান। শেষ বলে সেটি দাঁড়ায় ২ রানে। হাসান নওয়াজের দক্ষতায় শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটি জিতে শীর্ষস্থান সুদৃঢ় করেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস।
উইকেট যে কিছুটা জটিল সেটি ভালো করেই বুঝেছেন হান্নান সরকার। টস জিতলে ব্যাটিং নাকি বোলিং নিলে ভালো হবে? এমন উইকেটের ভাষা বোঝা রাজশাহী-চট্টগ্রাম দুই দলের জন্য কঠিন ছিল। টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান।
তবে লড়াইয়ের মধ্যেও ছিল লড়াই। রাজশাহী কোচ তো বললেনই ‘শীর্ষে ওঠার’ ম্যাচ। এই ম্যাচে মাঠে নামার আগে দুই দলেরই সমান ৮ পয়েন্ট করে ছিল। জিতলেই ১০ পয়েন্ট নিয়ে চট্টগ্রামকে সরিয়ে শীর্ষে উঠে যেত রাজশাহী। দুই দলের জন্যই কঠিন পরীক্ষা।
বোলিং সহায়ক উইকেটে শুরু থেকেই রান তুলতে হাঁসফাঁস করছিল রাজশাহী। পাওয়ার-প্লেতে উড়ন্ত শুরু না পেলেও ২ উইকেটে স্কোরে জমা করে ৪২ রান। দলীয় ফিফটি হওয়ার আগেই হারায় তিন টপ অর্ডার ব্যাটারকে।
দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েও ১৪ বলে ১৯ রানে ফেরেন ওপেনার মোহাম্মদ ওয়াসিম। তানভীর ইসলামের ঘূর্ণি জাদু ব্যাটের নিচ দিয়ে সরাসরি স্টাম্পের লালবাতি জ্বালিয়ে দেয়। আউট হওয়ার আগে দুটি ছক্কা ও একটি চার মেরেছেন আরব আমিরাতের এই তারকা ক্রিকেটার।
তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি ছন্দে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত। ষষ্ঠ ওভারে খণ্ডকালীন হাসান নওয়াজের শিকার হন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১০ বলে ৭ রান। সংগ্রাম করছিলেন ওপেনার তানিজদ হাসান তামিমও। বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারলেন না, সপ্তম ওভারে আমের জামালের বলে আউট হন ১২ বলে ৫ রানে।
মিডল অর্ডারে মুশফিকুর রহিম (১৫), এসএম মেহরব (১৯), রায়ান বার্ল (১১), আকবর আলীরা (১৭) থিতু হয়েও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হয়েছেন। শরীফুল ইসলাম-আমের জামালদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে ৯ উইকেটে ১২৮ রান তুলতে সক্ষম হয় রজশাহী।
আমের জামাল ২৩ রান দিয়ে ৩টি, শরীফুল ও তানভীর ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।
১২৯ রান—বড়সড় লক্ষ্য নয়। তবে চট্টগ্রামের শুরুটা রাজশাহীর চেয়েও অনুজ্জ্বল ছিল। পাওয়ার-প্লেতে ৪ উইকেট হারিয়ে তোলে ৩৪ রান। মোহাম্মদ নাঈম (৭), অ্যাডাম রোসিংটন (১৭), মাহমুদুল হাসান জয় (৪) ও সাদমান ইসলাম ফেরেন রানের খাতা খোলার আগেই।
রাজশাহীর ব্যাটিং বিপর্যয়ে চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে একপ্রান্ত আগলে থিতু হয়ে থাকেন হাসান নওয়াজ। শেষ বলে ২ রান নিয়ে দলের জয় নিশ্চিতও করেন পাকিস্তানি এই তরুণ ব্যাটার। বোলাররা জয়ের আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত হেরে যায় রাজশাহী।
চট্টগ্রামের জয়ে মাঝে শেখ মেহেদী ২৫ বলে ২৮ ও আসিফ আলির ২৫ বলে ২৭ রানের ইনিংসটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ৩৬ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন হাসান। স্লো স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটি হয়ে গেল ম্যাাচসেরা। ইনিংসে ছিল মাত্র ২টি চার।
১৯তম ওভারে ৩ রানে ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান তানজিম হাসান সাকিব। শেষ ওভারে ১০ রান দরকার চট্টগ্রামের। স্পিনার মেহরবের করা প্রথম তিন বলে— ২, ২ ও ৪ রান নিয়ে ম্যাচ সহজ করে ফেলেন হাসান। তবে পরের দুই বলে রান নিতে ব্যর্থ হলে ম্যাচ জমে ক্ষীর হয়ে ওঠে। সুপার ওভার নিয়ে ধারাভাষ্য কক্ষে আলাপ হচ্ছিল। তবে লং অফ বল পাঠিয়ে তড়িৎ গতিতে শরীফুলের সঙ্গে দুবার জায়গা বদল করে জয় নিশ্চিত করেন হাসান। ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি।