২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:০১ পিএম

চলতি বছরের এখনও বাকি ২৯ দিন। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য বছর এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। কারণ এই বছরের বাকি দিনগুলোতে আর কোনো খেলা নেই তাদের। আর এই বিদায়ী বছরে নিজেদের সেরা সময়ই কাটিয়েছে বাংলাদেশ।
পরিসংখ্যানের বিচারে, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এত সাফল্যময় বছর আর যায়নি বাংলাদেশ দলের। ম্যাচ জয়ের সংখ্যা কিংবা রানের জোয়ার বা ব্যাটারদের চার-ছক্কার ফুলঝুরি অথবা বোলারদের উইকেট শিকারের উৎসব- সব কিছুতেই আগের যে কোনো বছরকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সংখ্যার খেলায় বাংলাদেশের ২০২৫
জয়ের রেকর্ড
প্রায় ২০ বছরের টি-টোয়েন্টি অধ্যায়ে ২০২৫ সালেই সবচেয়ে বেশি ৩০ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০২১ সালে তারা খেলেছিল ২৭টি কুড়ি ওভারের ম্যাচ।
সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার বছরে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতার রেকর্ডও গড়েছে বাংলাদেশ। এই বছর তারা জিতেছে ১৫ ম্যাচ। বিপরীতে হেরেছে ১৪টি। জয়-পরাজয়ের অনুপাত ১.০৭১!
২০২৪ সালে ২৪ ম্যাচ খেলে ১২ ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ। হেরেছিলও ১২টি। জয়-পরাজয়ের অনুপাত ছিল ১.০০- গত বছরের রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে ২০২৫ সাল।
রানের জোয়ার
সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলায় স্বাভাবিকভাবেই বছরে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডও গড়েছে বাংলাদেশ। এই বছর ৩০ ম্যাচে বাংলাদেশের ২৩ ব্যাটার মিলে খেলেছেন ২৪৩টি ইনিংস। সব মিলে তারা করেছেন ৪ হাজার ২৩৯ রান।
২০২৫ সালে দলীয় ব্যাটিং গড় ২২.১৮ ও স্ট্রাইক রেট ১২৫.৯৭। অন্তত ১৫শ রান করা বছরগুলোর মধ্যে রান, ব্যাটিং গড় ও স্ট্রাইক রেট- সবই সর্বোচ্চ।
বছরে সর্বোচ্চ রান ছিল ২০২৪ সালে। সেবার ২৪ ম্যাচে ২১ ব্যাটার মিলে ২০৬ ইনিংস খেলে করেছিলেন ৩ হাজার ১৮৬ রান। দলীয় ব্যাটিং গড় ছিল বিশের নিচে আর স্ট্রাইক রেট ছিল ১২০-র নিচে।
ফিফটির মেলা
বছরে সর্বোচ্চ ফিফটির রেকর্ডটিও ২০২৫ সালে গড়েছে বাংলাদেশ। এই বছর ২৩ ফিফটির সঙ্গে একটি সেঞ্চুরিও করেছে বাংলাদেশের ব্যাটাররা। তারা ছাড়িয়ে গেছে গত বছর করা ১৪ ফিফটির রেকর্ড।
এই রেকর্ডে সবচেয়ে বড় অবদান তানজিদ হাসান তামিমের। এই বছর ৮টি পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংস খেলেছেন বাঁহাতি ওপেনার। এছাড়া অধিনায়ক লিটন কুমার দাসের ফিফটি ৫টি। আরেক বাঁহাতি ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ৩ ফিফটির সঙ্গে করেছেন বছরের একমাত্র সেঞ্চুরি।
চার-ছক্কার ফুলঝুরি
২০২৫ সালে বাংলাদেশের ব্যাটাররা মেরেছে মোট ২০৬টি ছক্কা। তারা ভেঙে দিয়েছে গত বছর হাঁকানো ১২২টি ছক্কার রেকর্ড। নির্দিষ্ট পঞ্জিকাবর্ষে অন্তত দুইশ ছক্কা মারা বিশ্বের চতুর্থ দেশ বাংলাদেশ।
তাদের আগে এক বছরে দুইশ বা এর বেশি ছক্কার রেকর্ড আছে শুধু ভারত (২০২২ সালে ২৮৯ ও ২০২৪ সালে ২৩৬), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২০২৪ সালে ২৪৩, ২০২১ সালে ২১৪ ও ২০২৫ সালে ২১৪) ও পাকিস্তানের (২০২৫ সালে ২৩৫)।
ছক্কার রেকর্ডেও সবচেয়ে বড় অবদান তামিমের। বাঁহাতি ওপেনার ২৭ ইনিংসে মেরেছেন ৪১টি ছক্কা। যা এক বছরে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। আরেক ওপেনার ইমনের ব্যাট থেকে এসেছে ৩৪টি ছক্কা।
এক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডটিও ২০২৫ সালে গড়েছে বাংলাদেশ। মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ১৯১ রান করার পথে মোট ১৩টি ছক্কা মারে তারা। সেদিন ৯টি ছক্কা মারেন সেঞ্চুরি করা ইমন। যা এক ম্যাচে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ছক্কা।
ব্যক্তিগত রানেও জোয়ার
২০২৫ সালে ২৭ ম্যাচ খেলে ৮ ফিফটিতে ৭৭৫ রান করেছেন তামিম। এক বছরে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। তিনি ভেঙেছেন ২০২১ সালে মোহাম্মদ নাঈম শেখের গড়া ২৬ ইনিংসে ৫৭৫ রানের রেকর্ড।
চলতি বছরের আগে এক পঞ্জিকাবর্ষে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ৫০০ রান করার ঘটনা ছিল মাত্র তিনটি। নাঈম শেখ ছাড়া ২০২২ সালে ৫৪৪ রান করেছিলেন লিটন কুমার দাস। একই বছর আফিফ হোসেন ধ্রুবর ব্যাট থেকে আসে ৫০০ রান।
আর শুধু ২০২৫ সালেই বাংলাদেশের তিন ব্যাটার পেরিয়েছেন ৫০০ রানের মাইলফলক। তামিম ছাড়াও লিটনের ব্যাট থেকে এসেছে ৬৩৫ রান। আর ইমন করেছেন ৫১৯ রান।
উইকেটের উৎসব
২০২৫ সালে ৩০ ম্যাচে বাংলাদেশের ২৩ বোলার মিলে নিয়েছেন ১৮৮ উইকেট। যা ভেঙে দিয়েছে ২০২১ সালে ২২ ম্যাচে নেওয়া ১৬০ উইকেটের রেকর্ড।
এই বছর বাংলাদেশের সম্মিলিত বোলিং গড় ২৩.২৯ আর ইকোনমি রেট ৭.৮৪ ও স্ট্রাইক রেট মাত্র ১৭.৮!
২০২১ সালে বাংলাদেশের বেশিরভাগ ম্যাচই ছিল মিরপুরের স্পিনসহায়ক উইকেটে। তাই সহজেই বেশি উইকেট নিতে পেরেছিলেন বোলাররা। তবে চলতি বছর মিরপুরে তারা খেলেছে মাত্র ৩টি ম্যাচ। অর্থাৎ তুলনামূলক ভালো উইকেট-কন্ডিশনেও সাফল্য পেয়েছেন রিশাদ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমানরা।
আবার ওপরে রিশাদ
গত বছর ৩৫ উইকেট নেওয়া রিশাদ হোসেন এবার পেয়েছেন ৩৩ উইকেট। বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে একাধিক পঞ্জিকাবর্ষে ৩০ বা এর বেশি উইকেটের রেকর্ড গড়েছেন তরুণ লেগ স্পিনার।
সব মিলিয়ে বিদায় নেওয়ার পথে থাকা বছরে অন্তত ২০ উইকেট পেয়েছেন বাংলাদেশের পাঁচ বোলার- রিশাদ (৩৩), মোস্তাফিজ (২৬) তাসকিন (২৪), তানজিম হাসান সাকিব (২৩) ও শেখ মেহেদি হাসান (২২)।
এর আগে ২০২১ সালে মিরপুরের স্পিন সহায়ক উইকেটে বেশিরভাগ ম্যাচ খেলা বছরেও অন্তত ২০ উইকেট নিয়েছিলেন বাংলাদেশের পাঁচ বোলার।
তামিমের বিশ্ব রেকর্ড
ব্যাট হাতে বছরজুড়ে আলো ছড়ানো তামিম বছরের শেষ ম্যাচে গড়েছেন ক্যাচের বিশ্ব রেকর্ড। একের পর এক বল তালুবন্দী করে তিনি নিয়েছেন পাঁচটি ক্যাচ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে নন-উইকেটকিপারদের সর্বোচ্চ ক্যাচের রেকর্ড এটিই।
চলতি বছর সব মিলিয়ে মোট ২০টি ক্যাচ নিয়েছেন তামিম। এক বছরে এর চেয়ে বেশি ক্যাচ আছে শুধু আরব আমিরাতের মোহাম্মদ ওয়াসিমের, ২০২৪ সালে ২৪টি।
উইকেটকিপারব্যতীত বাংলাদেশের ফিল্ডাররা ২০২৫ সালে নিয়েছেন মোট ১২০টি ক্যাচ। এবারই প্রথম কোনো নির্দিষ্ট বছরের একশর বেশি ক্যাচ নিয়েছেন তারা। এত দিন সর্বোচ্চ ছিল ২০২৪ সালে নেওয়া ৯৫টি ক্যাচ।
বাদ যায়নি জুটির রেকর্ডও
সব কিছুতে নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়া বছরে পার্টনারশিপেও রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। এই বছর খেলা ৩০ ম্যাচে মোট ২৪টি পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের জুটি গড়েছে তারা। যা ভেঙে দিয়েছে গত বছর গড়া ১৫টি পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটির রেকর্ড।
এছাড়া ২০২৫ সালে বাংলাদেশের শতরানের জুটি দুইটি। গত বছরও তারা মোট দুইটি শতরানের জুটি গড়েছিল।
No posts available.
২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮ এম
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯:২৯ পিএম

২০২৬ আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিলেন নিউজিল্যান্ড অলরাউন্ডার সুজি বেটস। আর এর মধ্য দিয়েই ইতি ঘটবে নারী টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের দুই দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার।
মে’র শুরুতে নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সফরের জন্য দলের সঙ্গে ইংল্যান্ড ভ্রমণ করবেন কিংবদন্তি সুজি বেটস। এরপরই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে 'হোয়াইট ফার্নস' তাদের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে নামবে।
নিজের যাত্রা সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বেটস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর কাটানো সময়ের জন্য গর্ব ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, ‘আমি যখন গত ২০ বছরেরও বেশি সময়ের দিকে ফিরে তাকাই, আমি বিশ্বাসই করতে পারি না যে সময় কত দ্রুত কেটে গেছে। নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে এতবার মাঠে নামতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। এই দলের জন্য প্রতিদিন একজন ভালো মানুষ, সতীর্থ, ক্রিকেটার এবং অ্যাথলেট হওয়ার চেষ্টায় আমি গভীর উদ্দেশ্য এবং আনন্দ খুঁজে পেয়েছি।’
আরও পড়ুন
| ‘দেশের সম্পদ নাহিদ’, যত্ন নিতে বললেন মিরাজ |
|
ক্যারিয়ারের শেষ অংশ বিশ্বকাপ জিতে রাঙাতে চান সুজি বেটস, ‘আমার শেষ একটি মিশন বাকি: ইংল্যান্ডে যাওয়া—এমন একটি জায়গা যেখানে আমার অনেক বিশেষ স্মৃতি রয়েছে—এবং আরেকটি বিশ্বকাপ জয় করা। আমি আমার এই শেষ অভিযানে শক্তির শেষ বিন্দু দিয়ে চেষ্টা করব এবং প্রতিটা মিনিট উৎসর্গ করব এই দলকে এমন ক্রিকেট খেলতে সাহায্য করতে যাতে আমরা এবং আমাদের দেশ গর্ববোধ করতে পারি।’
২০০৩ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বেটসের ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিষেক হয় এবং এর তিন বছর পর ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধ্যায় শুরু হয়। বর্তমানে তিনি ৪,৭১৭ রান নিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং ৫,৯৬৪ রান নিয়ে নারী ওয়ানডে-তে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। ২০১১ সালের জুলাইয়ে অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি প্রায় সাত বছর নিউজিল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৬ সালে উইজডেন তাকে বিশ্বের সেরা নারী ক্রিকেটার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
নিজের কাছের মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সুজি বেটস বলেন, ‘আমার প্রিয়জন এবং আমার পরিবার—সব সময় পাশে থাকার জন্য তোমাদের ধন্যবাদ। এবং আমার সঙ্গী স্কটি ও তার ছেলেদের বলছি: তোমরা এই দারুণ খেলাটি আমার জীবনে নিয়ে আসা সব চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী হয়ে ছিলে। আমি সেই সব স্টাফ এবং কোচদের প্রতিও বিশেষ শ্রদ্ধা জানাতে চাই যারা বছরের পর বছর ধরে নারী ক্রিকেটের জন্য এত কিছু দিয়েছেন, অথচ অনেক ক্ষেত্রেই তার স্বীকৃতি বা পুরস্কার পাননি।’
নিউজিল্যান্ডের বর্তমান অধিনায়ক অ্যামেলিয়া কার বেটসকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে অভিহিত করেছেন। কার বলেন, ‘বড় হওয়ার সময় সুজি আমার রোল মডেল ছিলেন এবং তিনি যখন অধিনায়ক ছিলেন তখন আমি দলে সুযোগ পাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করি। আপনি যদি কখনও তার সাথে খেলার সুযোগ পান, তবে জানবেন যে তিনি বিশ্বের অন্যতম নিঃস্বার্থ ক্রিকেটার এবং অন্যতম সেরা সতীর্থ।’

নিউ জিল্যান্ড সিরিজের শুরুটা মন্দ হলেও শেষ দুটি ম্যাচ মনের মতো করে রাঙিয়েছেন নাহিদ রানা। সিরিজের তিন ওয়ানডেতে ১৩৪ রানের বিপরীতে ৮ উইকেট তোলেন ডানহাতি এই ফাস্ট বোলার। প্রথম ম্যাচে অর্থাৎ বাংলাদেশের ব্যর্থতার ম্যাচে ৬৫ রান খরচায় মাত্র একটি উইকেট নিতে পারেন নাহিদ। দ্বিতীয় ম্যাচে দৃশ্যপট পরিবর্তন— একটি দুর্দান্ত ফাইফার। এরপর আজ আরও দুটি উইকেট নেন তিনি।
কিউইদের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর আলাদা করে নাহিদ রানার প্রশংসা করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
তিনি বলেন,
‘নাহিদ রানা দেশের জন্য অনেক বড় সম্পদ। আমরা সবাই অবশ্যই চেষ্টা করব ওর যত্ন নিতে। ও যেভাবে মেইনটেইন করছে এটা আসলে একটা টিমের জন্য অনেক অ্যাডভান্টেজ। শেষ দুই সিরিজ যেভাবে বোলিং করেছে পাশাপাশি ও যখন একটা ভালো মোমেন্টাম নিয়ে আসে, আমার কাছে মনে হয় যে, ও এটা ধারাবাহিকতায় রাখতে পারলে বাংলাদেশ টিম অনেক ম্যাচ জিততে পারবে।’
একটা সময় স্পিনে নির্ভর ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট। যেদিন স্পিনাররা ভালো পারফরম্যান্স করতো, সেদিন আশানুরূপ ফল পেত টিম। প্রেক্ষাপট বদলেছে। ছায়া হয়ে থাকা দেশের পেসাররা এখন নিজের আলোয় আলোকিত।
মিরাজ বলেন,
‘দেখেন আমাদের পেস ইউনিট অনেক ভালো বোলিং করছে গত দুই তিন বছর ধরে। আমরা দেশ এবং বাইরে অনেক ম্যাচ জিতেছি। দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে ওদের হারিয়েছি। পেস ইউনিট অনেক ভালো ছিল আমার কাছে মনে হয়। একটা টিমের যদি পেস ইউনিট ভালো থাকে তাহলে টিমের মোমেন্টাম চেঞ্জ হয়ে যায় এবং ব্যাটসম্যানরাও যদি ফর্মে থাকে আমার কাছে মনে হয় যে আমাদের টিমের ভিতরে এখন পেস ইউনিট এবং ব্যাটসম্যানরা যারা আছে, তারা অভিজ্ঞ।’

চোট শঙ্কা ও আসন্ন সিরিজের প্রস্তুতির কথা বিবেচনা করে মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানাকে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) বাকি অংশে অংশগ্রহণের অনুমতি দিচ্ছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বৃহস্পতিবার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষে এ তথ্য জানায় দেশীয় ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওডিআই শেষে জাতীয় দলের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছে বিসিবির মেডিকেল টিম। বোর্ড জানিয়েছে, মোস্তাফিজের কন্ডিশন আরও বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে জরুরি ভিত্তিতে তার ‘স্ক্যান’ করানো হবে। এরপর তিনি বিসিবির মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া (রিহ্যাব) শুরু করবেন।
চোট শঙ্কার কারণে দেশের বাঁ-হাতি পেসারকে দেওয়া অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রত্যাহার করে নিয়েছে বোর্ড। ফলে পিএসএলের বাকি ম্যাচগুলোতে তাকে আর দেখা যাবে না।
নাহিদ রানাকেও পিএসএলের জন্য ছাড়পত্র দিচ্ছে না বিসিবি। মূলত আগামী মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজের আগে তাকে প্রস্তুতির সুযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বোর্ড।
পিএসএলে পেশোয়ার জালমির হয়ে প্রথমবার খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন নাহিদ। চারটি ম্যাচে বোলিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৭ উইকেট নেন জাতীয় দলের এই তরুণ ফাস্ট বোলার। মোস্তাফিজ খেলেছেন লাহোর কালান্দার্সের হয়ে। ৫ ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়ে ৬টি উইকেট নিয়েছেন তিনি।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ব্যর্থতার পর বাকি দুই ম্যাচ রাঙিয়ে সিরিজের ট্রফি নিজেদের করে রাখল বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জিতল লাল সবুজের দল। গত বছরের অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাসের বীরত্বে ২৬৫ রানের পুঁজি দাঁড় করায় বাংলাদেশ। জবাবে ২১০ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা নিউ জিল্যান্ড।
নিউ জিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়ে ২০১৫ সালের পর প্রথমবার কোনো সিরিজের প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়ার পরও সিরিজ জেতার কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে এ নিয়ে তৃতীয়বার প্রথম ম্যাচ হারের পরও সিরিজের ট্রফি নিজেদের কাছে রাখতে পারল তারা।
বাংলাদেশ অধিনায়ক মিরাজ জানিয়েছেন, সিরিজের প্রথম ম্যাচ হারের পর কিছুটা চিন্তায় পড়ে যান তিনি। কারণ, প্রথম ম্যাচ হারের পর দ্বিতীয়টি অনেকটা নকআউটে পরিণত হয়। জিতলে টিকে থাকে আশা, হারলে সব শেষ।
মিরাজ বলেন,
‘আমরা অনেক টুর্নামেন্ট খেলতে যাই, নকআউট যে খেলাগুলো হয় বিশেষ করে। সেখানে হারলেই বাদ। তাই আমি মেন্টালি ওভাবে জিনিসটা নিয়েছি। যেহেতু প্রথম ম্যাচ হেরে গিয়েছি। দ্বিতীয় ম্যাচ যদি হেরে যাই তবে সিরিজ হেরে যাব। তাই এটা আমাদের জন্য একটা বড় সুযোগ যে, এটা যদি জিততে পারি তাহলে হয়তো আরেকটা সুযোগ তৈরি হবে।’
বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জয় নিয়ে মিরাজ বলেন,
‘অবশ্যই ভালো লাগছে টানা তিনটা সিরিজ জিতেছি এবং আমার কাছে মনে হয় ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বাংলাদেশ জিতছে এটাই অনেক বড় অর্জন আমার কাছে।’
নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরির (১০৫) সঙ্গে লিটন দাসের ৭৬ রান। এরপর বল হাতে মোস্তাফিজুর রহমানের ফাইফার। আজ মিরাজও ছিলেন প্রাণবন্ত। ৮.৫ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৩৬ রান খরচায় দুই উইকেট তোলেন বাংলাদেশ দলপতি। সে সঙ্গে নাহিদ রানাও নিয়েছেন দুই উইকেট। অর্থাৎ দলীয় পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনও দেখা গেছে সিরিজের শেষ ম্যাচে।
মিরাজ বলেন,
‘হ্যাঁ অবশ্যই, শান্ত যেভাবে ব্যাটিং করেছে, আমরা ওর কাছ থেকে এরকমই আশা করি। লিটন দাসও দারুণ খেলেছে। মোস্তাফিজসহ প্রত্যেকটা প্লেয়ার অনেক অভিজ্ঞ। তারা দেশের জন্য অনেক দিন খেলেছে এবং আমার কাছে মনে হয়, পারফরম্যান্স শো করার জন্য এটাই উপযুক্ত সময়। দিনশেষে দলের রেজাল্টটাই আসল।’

দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ৫৫ রানে জিতেছে স্বাগতিকরা। নাজমুল হোসেন শান্ত সেঞ্চুরি ও মোস্তাফিজুর রহমান ৫ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে রেখেছেন বড় অবদান।
প্রথম ম্যাচ হেরেও বাকি দুইটি জিতে সিরিজের ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে কিছু রেকর্ডও লেখা হয়েছে নতুন করে।
একনজরে দেখে নেওয়া যাক সব রেকর্ড
১৩
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রায় ১৩ বছর পর ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। মাঝের সময়ে টানা পাঁচ সিরিজ হেরেছে তারা। এর আগে ২০১০ ও ২০১৩ সালে ঘরের মাঠে কিউইদের হোয়াইটওয়াশড করেছিল তারা।
ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
প্রায় ১১ বছর পর প্রথম ম্যাচ হেরেও সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সবশেষ প্রথম ওয়ানডে হারের পরও সিরিজ জিতেছিল তারা। এছাড়া ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও একই কৃতিত্ব দেখায় তারা।
মিরাজের হ্যাটট্রিক
বাংলাদেশের পঞ্চম অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে টানা ৩টি সিরিজ জিতলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার নেতৃত্বে গত বছরের অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ দল।
টানা ৩ ওয়ানডে সিরিজ জেতা বাংলাদেশি অধিনায়ক
হাবিবুল বাশার সুমন (২০০৭)
সাকিব আল হাসান (২০০৯)
মাশরাফি বিন মুর্তজা (২০১৪-১৬) (টানা ৬ সিরিজ)
মাশরাফি বিন মুর্তজা (২০১৮)
তামিম ইকবাল (২০২১-২২) (টানা ৫ সিরিজ)
মেহেদী হাসান মিরাজ (২০২৫-২৬)
শান্ত-লিটন জুটির রেকর্ড
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে চাপের মুখে চতুর্থ উইকেটে ১৬০ রানের জুটি গড়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন কুমার দাস। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে যে কোনো উইকেটে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি।
২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পঞ্চম উইকেটে ২২৪ রানের জুটি গড়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব আল হাসান।
শান্তই সেরা
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৯ ওয়ানডে ১ সেঞ্চুরি ও ৪ ফিফটিতে ৩৮৭ রান করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিউইদের বিপক্ষে তার গড় ৫৫.৪৮ ও স্ট্রাইক রেট ৮৪.৬৮।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে অন্তত ৩৫০ রান করা বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে শান্তর গড় ও স্ট্রাইক রেট সবার ওপরে।
অনন্য মোস্তাফিজ
শান্তর সেঞ্চুরির পর ৫ উইকেট নিয়ে বাকি কাজ সারেন মোস্তাফিজুর রহমান। ওয়ানডেতে এটি তার ষষ্ঠ ৫ উইকেট।
বাঁহাতি এই পেসারের অভিষেকের পর ওয়ানডেতে আর কোনো বোলার এর চেয়ে বেশি ৫ উইকেট নিতে পারেননি। তার সমান ৬টি ৫ উইকেট আছে রশিদ খান ও মোহাম্মদ শামির।
আরও মোস্তাফিজনামা
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে মোস্তাফিজের চেয়ে বেশি ৫ উইকেট আছে শুধু বিশ্বের ৫ জন পেস বোলারের। তারা হলেন- ওয়াকার ইউনিস (১৩), ব্রেট লি (৯), মিচেল স্টার্ক (৯), লাসিথ মালিঙ্গা (৮) ও গ্লেন ম্যাকগ্রা (৭)।
বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে তার সামনে শুধুই মিচেল স্টার্ক।
নাহিদের অর্জন
তিন ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে বাকি সবাইকে ছাড়িয়ে সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতেছেন নাহিদ রানা। এ নিয়ে পরপর দুই সিরিজে তার হাতেই উঠল সিরিজ সেরার পুরস্কার।
বাংলাদেশের মাত্র তৃতীয় বোলার হিসেবে একাধিকবার সিরিজ সেরা হলেন নাহিদ। তার আগের দুজন মাশরাফি বিন মুর্তজা ও আব্দুর রাজ্জাক।