৫ জুলাই ২০২৫, ৬:৫১ পিএম

শুরুটা আদর্শ না হলেও পারভেজ হোসেন ইমনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ইনিংসের প্রথম অংশটা ভালোই কাটল বাংলাদেশের। তবে তরুণ এই ব্যাটার পারলেন না ইনিংস বড় করতে। তাওহীদ হৃদয় কিছুটা লড়লেও অন্য ব্যাটারদের কেউই পারলেন সেভাবে অবদান রাখতে। শেষের দিকে দারুণ এক ক্যামিও খেললেন তানজিম হাসান সাকিব। আর এতে ভর করে সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কাকে মোটামুটি একটা টার্গেট দিতে পারল সফরকারীরা।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশের ইনিংস থেমেছে ২৪৮ রানে। সর্বোচ্চ ৬৭ রান এসেছেন ইমনের ব্যাট থেকে।
বাংলাদেশের জন্য শুরুটা মোটেও সুখকর হয়নি। তৃতীয় ওভারেই সাজঘরের পথ ধরেন আগের ম্যাচে ফিফটি করা তানজিদ হাসান তামিম। আসিথা ফার্নান্দোর অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের ডেলিভারি তাড়া করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে করেন মাত্র ৭ রান।
আরও পড়ুন
| তানভীরের ফাইফার, রোমাঞ্চকর জয়ে সিরিজে টিকে রইল বাংলাদেশ |
|
এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে ইমন মিলে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। দ্বিতীয় উইকেটে একশ’র বেশি স্ট্রাইক রেটে ৬৩ রানের জুটি গড়েন এই দুজন, যেখানে বেশি ইতিবাচক ছিলেন ইমনই। জুটি যখন জমে উঠছিল, তখন অফ স্পিনার চারিথ আসালাঙ্কাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ তুলে দেন শান্ত, তার আগে ১৪ রান করেন ১৯ বলে।
তবে ছন্দময় ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার বোলারদের চাপে রাখেন ইমন৷ চল্লিশ থেকে পঞ্চাশে পা রাখেন পরপর দুই বলে চার ও ছক্কা মেরে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটির পর অবশ্য বেশিদূর যেতে পারেননি। ভানিন্দু হাসারাঙ্গার গুগলিতে বোল্ড হয়ে থামে তার ইনিংস। তবে তার আগে তরুণ এই ওপেনার উপহার দেন ৬৯ বলে ৬৭ রানের দারুণ এক ইনিংস।
লিটন দাস একাদশের বাইরে থাকায় প্রমোশন পেয়ে পাঁচে নামেন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। তবে পারেননি পরিস্থিতির চাহিদা মেটাতে। ৯ রানে দুশমন্থ চামিরার শর্ট বল পুল করতে গিয়ে বাউন্ডারির কাছে ধরা পড়েন ডানহাতি এই ব্যাটার।
তাওহীদ একপ্রান্ত আগলে ব্যাট করেন খোলসবন্দী হয়েই। অনেকদিজ পর ওয়ানডে দলে ফেরা শামীম হোসেন অবশ্য ছিলেন ইতিবাচক। ব্যাট করেন ১০০ স্ট্রাইট রেটে। তবে শর্ট বলের ট্র্যাপে তাকে ফেলেন আসিথা ফার্নান্দো। ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে যান ২ চার ও ১ ছক্কায় ২২ রান করে।
শামীমের আউটে চাপ আরও বাড়ে বাংলাদেশের ওপর। জাকের আলি অনিককে নিয়ে সেটা মোকাবেলা করার পথে তাওহীদ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ২৫তম ব্যাটার হিসেবে ১ হাজার রানের ক্লাবে পা রাখেন। এই মাইলফলক স্পর্শ করতে তার লেগেছে ৩৩ ইনিংস। তার চেয়ে চেয়ে কম ইনিংসে এই কীর্তি গড়েছেন কেবল দুই ব্যাটার, শাহরিয়ার নাফিস ও এনামুল হক বিজয়। দুজনেরই লেগেছিল ২৯ ইনিংস।
আরও পড়ুন
| এক বছরের জন্য স্থগিত হয়ে গেল ভারতের বাংলাদেশ সফর |
|
রয়েসয়ে খেলা জাকেরকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে আসিথা ফের চাপে ফেলেন বাংলাদেশকে। তাওহীদের ওপর তাতে দায়িত্ব বর্তায় দলকে ভালো একটা স্কোর এনে দেওয়ার। তবে তিনিও হন ব্যর্থ, যদিও ভাগ্যকে দুষতেই পারেন তিনি।
আসিথার বলে ডিপ মিড উইকেটে ঠেলে দুই রান নিতে চেয়েছিলেন তাওহীদ। শুরুটা সাড়া দিলেও পরে ফিরে যান তানজিম হাসান সাকিব। মাঝপথে গিয়েই আর ক্রিজে ফেরার সুযোগই পাননি তাওহীদ। রান আউটে শেষ হয় তার ২ বাউন্ডারিতে সাজানো ৫১ রানের ইনিংস।
সেই সময়ে মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশের ইনিংস থেমে যাবে ২২০ রানের মধ্যেই। তবে সেটা হতে দেননি তানজিম। চোখজুড়ানো সব চার-ছক্কার বাহারে ভড়কে দেন প্রতিপক্ষকে। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার এক ওভারে দুই চারের পর এক লেগ স্পিনারের স্পেলের শেষ ওভারে হাঁকান দুই ছক্কা। তবে ৪৯তম ওভারেই মুস্তাফিজুরকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের ইতি টানেন হাসারাঙ্গা। ২১ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থেকে যান তানজিম।
No posts available.
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ৪:২০ পিএম

কিছু ক্ষণ, নির্দিষ্ট একটি দিন কিংবা কিছু মাঠ—যা ব্যাটারদের প্রিয়, তীর্থস্থানতুল্য। যেদিন, যেসম কিংবা যে মাঠে নিপুণ চিত্রশিল্পী হয়ে ওঠেন একেকজন ব্যাটার। যতক্ষণ তার ব্যাট চলে, মনে হয় কোনো অভিজ্ঞ চিত্রশিল্পী তার ক্যানভাসে সুনিপুণ তুলির আঁচড় দিয়ে চলেছেন। দেখতে যা ভারি চমৎকার।
ভারতের সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলের প্রিয় স্টেডিয়াম যেমন বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী। এই মাঠের বাইশগজ তার জন্য এতই পয়া, যা বিরাট কোহলিকে কিং কোহলিতে রূপ দিতে সাহায্য করেছে। বেঙ্গালুরুর এই মাঠে আজ একটি কীর্তি গড়েছেন কোহলি।
বুধবার লখনৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে খেলতে নামে বেঙ্গালুরু। ম্যাচে লখনৌকে অল্পতেই বেধে বড় জয়ের পথে দলটি। এদিন ৪৯ রানের ইনিংস খেলেন কোহলি। তাতে টি-টোয়েন্টিতে এক ভেন্যুতে সর্বাধিক রান মালিক বনে যান তিনি।
কোহলি এখন পর্যন্ত বেঙ্গালুরুর এই স্টেডিয়ামে ১০৯ ইনিংস খেলেছেন। ৪ সেঞ্চুরিতে এখানে তার রান ৩ হাজার ৭৫১ রান। সাউদাম্পটনে এরচেয়েও বেশি অর্থাৎ ১১৭ ইনিংস খেলে ৩ হাজার ৫৮৫ রান করেছিলেন জেমস ভিন্স। তার সেঞ্চুরি দুটি।
নির্দিষ্ট এক ভেন্যুতে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে রান সংগ্রাহকদের কাতারে সেরা পাঁচে বাংলাদেশের দুইজন মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবাল রয়েছেন। তিন নম্বর স্থানটি মুশফিকের। এই উইকেটকিপার ব্যাটার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়অমে ১৪০টি টি-টোয়েন্টি স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। যাতে তার রান সংখ্যা ৩ হাজার ৪৫৯।
পঞ্চমে থাকা তামিম ইকবাল যিনি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাডহক কমিটির পরিচালকের দায়িত্ব পালন করা এই বাঁ-হাতি ব্যাটার সিঙ্গল এক ভেন্যু অর্থাৎ হোম অব ক্রিকেট মিরপুর শেরে বাংলায় ১১০টি কুড়ি কুড়ি ম্যাচ খেলেছেন। ২ সেঞ্চুরিতে তার প্রাপ্ত রান ৩ হাজার ২৩৮ রান। চতুর্থস্থানে থাকা নামটি অ্যালেক্স হেলসের। ইংলিশ ব্যাটার নটিংহ্যামে ১০৯ ম্যাচ খেলে ৩ হাজার ২৪১ রান করেছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন রুবেল হোসেন। বুধবার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এক আবগঘন বার্তায় ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দেন ৩৬ বছর বয়সী এই পেসার।
ফেসবুকে রুবেল রেখেন,
‘বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছি ২৭ টেস্ট, ১০৪ ওয়ানডে এবং ২৮ টি টোয়েন্টি। জাতীয় দল আমার আবেগ। কিন্তু একটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতেই হতো। সেই চিন্তা করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানালাম।’
২০০৯ সালে অভিষেক হওয়া রুবেল লাল-সবুজ জার্সিতে ১০৪ ওয়ানডেতে ১২৯ উইকেট শিকার করেছেন। টেস্টে ২৭ ম্যাচে তাঁর ঝুলিতে ৩৬ উইকেট এবং ২৮ টি-টোয়েন্টিতে নিয়েছেন ২৮ উইকেট। ২০২১ সালের মার্চ-এপ্রিলে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলেন রুবেল।
জাতীয় দলে অনিয়মিত হয়ে পড়লেও ঘরোয়া ক্রিকেটে সক্রিয় ছিলেন রুবেল। সবশেষ ২০২৪ সালে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে তাকে মাঠে দেখা গিয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সবশেষ স্বীকৃত ম্যাচ খেলেন রুবেল।
২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে রুবেলের এক ম্যাজিকাল স্পেলে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে বাংলাদেশ। অ্যাডিলেডে ইংলিশদের বিপক্ষে তাঁর ৫৩ রানে ৪ উইকেটের সেই বিধ্বংসী স্পেল বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছিল।
জাতীয় দলের জার্সিতে পথচলা থেমে গেলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন রুবেল। বাগেরহাট এক্সপ্রেস খ্যাত এই পেসার বলেন,
‘ঘরোয়া আসরের ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তদের ধন্যবাদ। বাকি সময়টাতেও এভাবেই আমাকে আপনাদের পাশে রাখবেন এটা আমার বিশ্বাস।’

বাংলাদেশ-নিউ জিল্যান্ডের তিন ওয়ানডের সিরিজ শুরু হচ্ছে আগামী পরশু (শুক্রবার)। কিউই দলে নেই তারকা ক্রিকেটারদের অনেকেই। আইপিএল ও পিএসএল নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এতে অবশ্য বিচলিত নন নিউ জিল্যান্ডের কোচ রব ওয়াল্টার। তাঁর মতে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রিকেটারদের ছড়িয়ে থাকা তাদের ক্রিকেটের ভালো অবস্থার বহিঃপ্রকাশ।
ওয়ানডে সিরিজের আগে আজ মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে ওয়াল্টার বললেন,
‘বর্তমানে আমাদের প্রায় ৫৪ জন ক্রিকেটার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যেমন আইপিএল, পিএসএল, শ্রীলঙ্কা এবং এখানে (বাংলাদেশে) খেলছে। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় ইতিবাচক দিক। আমরা বিশাল সংখ্যক খেলোয়াড়কে বিভিন্ন স্তরে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দিচ্ছি যাতে আমাদের পুরো ক্রিকেট কাঠামো শক্তিশালী হয়, শুধু নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড় নয়।’
সিরিজের ম্যাচগুলো দুপুর ২টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল, তবে চলমান জ্বালানি সংকটে তিন ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে। পুরো সিরিজই খেলতে হতে পারে তীব্র রোদে। বাংলাদেশের এই গরমকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন নিউ জিল্যান্ড কোচ। সেরা তারকারা না এলেও কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের ওপর আস্থা রাখছেন ওয়ালটার,
‘আমাদের এই স্কোয়াডের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় নিউ জিল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে এখানে খেলে গেছে। যদিও সেটা চার দিনের ম্যাচ ছিল, কিন্তু তারা এই কন্ডিশন সম্পর্কে জানে—এটা ভালো দিক।‘
সবশেষ ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বোলিং-ব্যাটিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগের দাপট দেখিয়েছে স্বাগতিকেরা। আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশকে নিয়ে তাই সাবধানী সুর ওয়াল্টারে,
‘বাংলাদেশ ভালো প্রতিপক্ষ, মানসম্পন্ন দল। তারা সম্প্রতি পাকিস্তানকে হারিয়ে সেটা প্রমাণ করেছে। আমাদের কম অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ভিনদেশি কন্ডিশনে এমন দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ দেওয়া আমাদের জন্য বড় পাওয়া।‘
বাংলাদেশের পেস আক্রমণের প্রশংসা ঝরল ওয়াল্টারের কণ্ঠে,
‘বাংলাদেশ দলে দারুণ কিছু ফাস্ট বোলার আছে। মোস্তাফিজুর রহমান শুরু থেকেই একজন চমৎকার ফাস্ট বোলার। তাই তাদের যে শুধু স্পিন সহায়ক পিচই বানাতে হবে এমন কোনো কথা নেই, সব বিভাগেই তাদের সামর্থ্য আছে।‘
বাংলাদেশ ও নিউ জিল্যান্ডের তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডে হবে মিরপুরে শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে হবে। শেষ ম্যাচটি হবে চট্টগ্রাম। সব ম্যাচই শুরু হবে বেলা ১১ টায়।

সম্প্রতি ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে স্টোকস জানিয়েছেন, সেই বলটি আর কয়েক ইঞ্চি এদিক-সেদিক হলেই তাঁর জীবন চিরতরে বদলে যেতে পারত। এমনকি প্রাণহানির শঙ্কাও ছিল।
সেই ভয়াবহ চোট নিয়ে ৩৪ বছর বয়সী স্টোকস বলেন, ‘খুবই বাজে পরিস্থিতি ছিল। তবে সত্যি বলতে, খারাপের মধ্যে এটাই বোধহয় সেরা ফলাফল। বলটা সরাসরি আমার মুখে এসে লেগেছিল। আঘাতটা যদি মাত্র কয়েক ইঞ্চি এদিক-সেদিক হতো কিংবা আমি যদি মাথাটা না ঘোরাতাম, তবে আজ হয়তো আমি এখানে বসে এই সাক্ষাৎকার দিতে পারতাম না।’
চোটের কারণে স্টোকসের গালের হাড় (চিকবোন) একদম ভেঙে গিয়েছিল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা ঠিক করা হয়েছে। নিজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বলেন, ‘সব দিক বিবেচনা করলে আমি অনেক ভাগ্যবান। গালের হাড়ের নিচে সব ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল। বড় ধরনের ফেসিয়াল সার্জারি করাতে হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আমি যে সুস্থভাবে ফিরে আসতে পেরেছি, তার জন্য কৃতজ্ঞ।’
মাঠে ফিরবেন কবে? এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণে স্টোকসের স্বাভাবিক ক্রিকেটে ফেরার সূচি প্রায় এক মাস পিছিয়ে গেছে। তবে আশার কথা হলো, তিনি এখন পুনর্বাসনের শেষ পর্যায়ে আছেন। আগামী জুনে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে ইংল্যান্ড। সেই সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবে মে মাসে ডারহামের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের দুটি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
স্টোকস বলেন, ‘সিজন শুরুর যে পরিকল্পনা ছিল, এই চোট সব পিছিয়ে দিয়েছে। আমাকে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হয়েছে। এখন লক্ষ্য হলো ডারহামের হয়ে অন্তত দুটি ম্যাচ খেলে টেস্ট সামারের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। ওটা ছিল এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। ভাগ্যক্রমে আমি এখনো বেঁচে আছি এবং সবকিছু ঠিকঠাক আছে।’

ক্রিকেট ইতিহাসের এক মহেন্দ্রক্ষণ ঘনিয়ে আসছে। দেড়শ বছর আগে যেখানে শুরু হয়েছিল সাদা পোশাকের লড়াই, সেই মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড (এমসিজি) আবারও সেজেছে নতুন রূপে। ২০২৭ সালের ১১-১৫ মার্চ হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ‘১৫০তম বর্ষপূর্তি টেস্ট’। মেলবোর্নের ঐতিহাসিক এই মাঠে পাঁচ দিনের এই লড়াই দেখতে এখন থেকেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে ক্ষণগণনা।
তবে মেলবোর্ন শুধু ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ নেই। এই উপলক্ষকে ঘিরে পুরো শহর হয়ে উঠেছে উৎসবমুখর। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও দর্শকদের জন্য থাকছে রোমাঞ্চকর সব আয়োজন। মেলবোর্নের গলি থেকে রাজপথ—সবই এখন প্রস্তুত পর্যটক আর ক্রিকেটপ্রেমীদের বরণ করে নিতে।
মেলবোর্নের সংস্কৃতি ও আভিজাত্য
ক্রিকেট ম্যাচের অবসরে পর্যটকদের জন্য মেলবোর্ন যেন এক স্বর্গরাজ্য। শহরের বিখ্যাত গলিগুলোতে (লেনওয়েজ) ছড়ানো বৈচিত্র্যময় স্ট্রিট আর্ট, সদ্য রোস্ট করা কফির সুগন্ধ আর আধুনিক বুটিক শপগুলো মুহূর্তেই মন জয় করে নেবে। যারা গান ভালোবাসেন, তাদের জন্য রয়েছে চেরি বার, দ্য টোট কিংবা দ্য কর্নারের মতো আইকনিক লাইভ মিউজিক ভেন্যু।
আরও পড়ুন
| বাংলা নববর্ষে ক্রিকেট ভক্তদের সুখবর দিয়েছেন নাহিদ রানা |
|
খাবার বিলাসী দর্শকদের জন্য মেলবোর্ন যেন এক সাজানো থালা। গিমলেটের রাজকীয় পরিবেশ থেকে শুরু করে কোডার আধুনিক আয়োজন—সবই মিলবে এখানে। আর যারা একটু খোলামেলা পরিবেশে বার্গার খেতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য সেরা গন্তব্য হতে পারে রুফটপ জয়েন্ট ‘ইজিস’।
ভিক্টোরিয়ার পথে পথে রোমাঞ্চ
শহর ছাড়িয়ে ভিক্টোরিয়ার আঞ্চলিক এলাকাগুলোতেও রয়েছে রোমাঞ্চের হাতছানি। মেলবোর্ন থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বেই অপেক্ষা করছে জীবনের সেরা কিছু অভিজ্ঞতা। ইয়াররা ভ্যালির আঙুর বাগান কিংবা ভিক্টোরিয়ার প্রাচীনতম স্টিম রেলওয়ে ‘পাফিং বিলি’তে ভ্রমণ আপনার সফরের আনন্দ বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ। প্রকৃতির খুব কাছে যেতে চাইলে হিলসভিল স্যাঙ্কচুয়ারিতে দেখা মিলবে কোয়ালা, ওমব্যাট আর ক্যাঙ্গারুর।
সমুদ্র সৈকত ও প্রকৃতির মেলবন্ধন
দ্বীপপুঞ্জ ও সমুদ্রপ্রেমীদের জন্য রয়েছে ফিলিপ আইল্যান্ড। মেলবোর্ন থেকে মাত্র দুই ঘণ্টার এই পথ পাড়ি দিলেই দেখা মিলবে পুঁচকে পেঙ্গুইনদের দলবেঁধে চলাফেরা। এ ছাড়া মার্নিংটন পেনিনসুলার উপকূলীয় সূর্যালোক আর জিওথার্মাল হট স্প্রিংয়ের উষ্ণতা পর্যটকদের দেবে অনাবিল শান্তি।
তবে সবকিছুর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে থাকবে ‘গ্রেট ওশান রোড’। ঘন রেইনফরেস্ট, গর্জনকারী জলপ্রপাত আর চুনাপাথরের বিখ্যাত পাহাড় ‘টুয়েলভ অ্যাপোস্টলস’ দেখার জন্য পর্যটকদের ভিড় এখন থেকেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ক্রিকেটবোদ্ধারা মনে করছেন, ১৫০তম বর্ষপূর্তি টেস্ট শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং এটি হতে যাচ্ছে ক্রিকেট এবং মেলবোর্নের সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন। এমসিজির গ্যালারি থেকে শুরু করে ভিক্টোরিয়ার প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্র এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায়।
১৫০তম বর্ষপূর্তি টেস্টে খেলবে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচটি হবে দিবারাত্রি।