৫ জুলাই ২০২৫, ১০:৫৯ পিএম

প্রথম ম্যাচে প্রায় একই স্কোর নিয়ে বিশাল জয় পেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। পারভেজ হোসেন ইমন ও তাওহীদ হৃদয়ের সাথে তানজিম হাসান সাকিবের ক্যামিওতে আড়াইশ ছুঁইছুঁই স্কোর যখন পেল বাংলাদেশ, জয়ের আশা কিছুটা হলেও বেড়ে গেল। তবে কুসাল মেন্ডিসের ঝড়ো ফিফটিতে সফরকারীদের চাপে ফেলে দিল লঙ্কানরা। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলা তানভীর ইসলাম এলেন ত্রাতা হয়ে, পাঁচ উইকেট নিয়ে ধস নামালেন ব্যাটিং অর্ডারে। সেই চাপ সামলে একাই লড়লেন জানিথ লিয়ানাগে। তার দারুণ এক ফিফটিতে জয়ের খুব কাছাকাছিও গেলেও শেষ রক্ষা আর হলো না শ্রীলঙ্কার। সিরিজে সমতা টানল বাংলাদেশ।
কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ জিতেছে ১৬ রানে। টস জিতে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ গুটিয়ে গিয়েছিল ২৪৮ রানে। রান তাড়ায় ৪৮.৫ ওভারে ২৩২ রানে থামে শ্রীলঙ্কার ইনিংস।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ওয়ানডেতে জয় খরা কাটল বাংলাদেশের। আর অধিনায়ক হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচেই জয়ের দেখা পেলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। আগামী ৮ জুলাই তার দল মাঠে নামবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে, সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে।
আরও পড়ুন
| এক বছরের জন্য স্থগিত হয়ে গেল ভারতের বাংলাদেশ সফর |
|
ব্যাট হাতে শেষের দিকে নেমে দারুণ এক ক্যামিও খেলা তানজিম দ্বিতীয় ওভারেই বাংলাদেশের এনে দেন সাফল্য। এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়ে ফেরেন ওপেনার পথুম নিশাঙ্কা। ব্যাটার রিভিউ নিলেও ‘আম্পায়ার্স কল’-এ বজায় থাকে আউটের সিদ্ধান্ত।
এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে শ্রীলঙ্কা। নিশান মাদুশকাকে নিয়ে কুসল শুরু করেন আগ্রাসী ব্যাটিং, যা পাল্টা চাপে ফেলে দেয় বাংলাদেশকে। অষ্টম ওভারে বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলামকে দুই চার ও এক ছক্কায় ওড়ান। এরপরের ওভারে ঝড় বয়ে যায় মুস্তাফিজুরের ওপর দিয়ে। বাঁহাতি এই পেসারকে টানা চারটি চার মেরে কুসল স্রেফ ২০ বলে পূর্ণ করেন ফিফটি। মাত্র ৩৫ বলে দ্বিতীয় উইকেটে হয় ৫০ রানের জুটি।
কুসল ও মাদুশকার ব্যাটে চড়ে এক পর্যায়ে শ্রীলঙ্কার স্কোর দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৭৫। প্রথম ওভারে ১৭ রান দেওয়ার পরও তানভীরের ওপর আস্থা রাখেন মিরাজ, যার প্রতিদান তিনি দেন দুহাতে। আক্রমণে এসেই ফিরিয়ে দেন মাদুশকাকে (২৫ বলে ১৭), ভাঙেন ৬৯ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি।
এরপর বড় উইকেটটাও আসে বাঁহাতি এই স্পিনারের হাত ধরেই। বিপজ্জনক কুসলকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন মাত্র ৩১ বলে ৫৬ রান করার পর। এই উইকেটে স্পিন ধরায় এই ম্যাচ দিয়ে একাদশে আসা শামীম হোসেনকে আক্রমণে আনেন মিরাজ। আর পার্ট টাইম স্পিনে চমকে দেখান তিনি। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা যখন তিনি শিকার বানান, তখন লঙ্কানদের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে মাত্র ৯৯।
পরের ওভারেই ফের উইকেট পেতে পারতেন শামীম। তবে কামিন্দু মেন্ডিসের ব্যাট ছুয়ে ক্যাচ উঠলেও তা গ্লাভসে জমাতে পারেননি জাকের আলী অনিক। বেশিক্ষণ অবশ্য টিকতে পারেননি। অন্যপ্রান্তে দারুণ বোলিং করা তানভীর খানিক বাদেই ৩৩ রান করা কামিন্দুকে ফিরিয়ে দেখা পান নিজের তৃতীয় শিকারের।
আরও পড়ুন
| ইমন-তাওহীদের ফিফটির পর তানজিমের ক্যামিওতে লড়াকু পুঁজি বাংলাদেশের |
|
এরপর আবারও আঘাত হানেন তানভীর। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে খেলতে গিয়ে ব্যাট-প্যাড হয়ে ক্যাচ তুলে দেন দুনিথ ভেলালাগে। এবার সহজ ক্যাচ নেন জাকের আলী। ১৩২ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।
সপ্তম উইকেটে ২৪ রান যোগ করে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন জানিথ লিয়ানাগে ও ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, যার ইতি টানেন মিরাজ। ওয়ানডেতে পাঁচ ম্যাচ পর উইকেটের দেখা পান ১৩ রান করা হাসারাঙ্গাকে ফিরিয়ে।
চাপ বজায় রেখে সুযোগ তৈরি করেছিলেন মুস্তাফিজুর। তবে ব্যাটে লেগে লেগ সাইড দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া লিয়ানাগের ক্যাচ ফেলে দেন জাকের আলি। সেই সময়ে তার রান ছিল ২৮।
নিজের স্পেলের শেষ ওভারে বাংলাদেশকে আরও একবার উল্লাসে ভাসান তানভীর। মাহেশ থিকসানাকে আউট করে পূর্ণ করেন ফাইফার। দুর্দান্ত বোলিং ফিগারে ইনিংস শেষ করেন তিনি ১০ ওভারে ২ মেডেন সহ ৩৯ রানে ৫ উইকেট নিয়ে।
তবে বাংলাদেশ শিবিরে ভীতি ছড়িয়ে শুরুতে জীবন পাওয়া লিয়ানাগে ম্যাচ হেলে দেন শ্রীলঙ্কার দিকে। তার একের পর এক বড় শটের সাথে যোগ হয় মিরাজদের ক্যাচ আর ফিল্ডিং মিসের মিছিল। তাতে বাড়তে থাকে রান, আর কমতে থাকে বাংলাদেশের জয়ের আশা।
ফিফটি পেরিয়ে লিয়ানাগে যখন ম্যাচ বাংলাদেশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাবেন বলেই মনে হচ্ছিল, ঠিক সেই সময়েই মহাআকাঙ্ক্ষিত উইকেটটা এনে দেন মুস্তাফিজুর। আগের বলে ছক্কা হজমের পর রিটার্ন ক্যাচে লিয়ানাগেকে থামান ৭৮ রানে।
৪৯তম ওভারে আসিথার ক্যাচ নিজের বলে নিতে ব্যর্থ হন তানজিম। তবে পরের বলেই বোল্ড করেন দুসমান্থ চামিরাকে। বাংলাদেশ পায় রোমাঞ্চকর এক জয়।
এর আগে দিনের শুরুতে টস জিতে আগে ব্যাটিং নেয় বাংলাদেশ। একাদশে শামীম ছাড়াও আসেন হাসান মাহমুদ। বাদ পড়েন লিটন দাস ও তাসকিন আহমেদ। শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। আগের ম্যাচে ফিফটি করা তানজিদ হাসান তামিম সাজঘরের পথ ধরেন এক ডিজিটেই।
তিনে নামা শান্ত সেট হয়েও পারেননি ইনিংস বড় করতে। তবে দারুণ গতিতে এগিয়ে যাওয়া ইমন এগিয়ে নেন বাংলাদেশের ইনিংস। তুলনায় তাওহীদ ছিলেন বেশ ধীরগতির। চল্লিশ থেকে টানা দুই বলে চার ও ছক্কা মেরে ফিফটিতে পা রাখেন ইমন, যা তার ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক।
আরও পড়ুন
| ১ বছর পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন সাইফউদ্দিন |
|
তবে এরপর বেশিদূর যেতে পারেননি। থামেন ৬৭ রানে। প্রমোশন পেয়ে পাঁচে নামা মিরাজ দলকে হতাশ করেন আউট হন অল্পেও। ২৩ বলে ২২ রানের ইনিংসে সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন শামীম, তবে বড় শট হাঁকাতে গিয়ে ইতি ঘটে তার পথচলার।
জাকের আলী ও তাওহীদ মিলে এরপর কিছুটা ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। দলকে দুইশ পার করে তাওহীদ দেখা পান ফিফটির। তবে তিনিও বেশিক্ষণ আর টিকতে পারেননি। ৯ উইকেটে ২১৮ থেকে ২৪৮ রান পর্যন্ত বাংলাদেশের স্কোর টেনে নেওয়ার একক কৃতিত্ব কেবল তানজিমের। অপরাজিত থাকেন মাত্র ২১ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ৩৩ রানে।
No posts available.
৯ মার্চ ২০২৬, ৯:৩৭ পিএম
৯ মার্চ ২০২৬, ৯:৩০ পিএম

দাপট দেখিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। রবিবার আহমেদাবাদে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৬ রানের বড় জয়ে তৃতীয়বারের মতো কুড়ি কুড়ি ট্রফি জয়ের স্বাদ পেল সূর্যকুমার যাদবরা। ভারতের এ জয়ের পর বিশেষ বার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি।
পাকিস্তানের ২০০৯ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন স্পিন অলরাউন্ডার আফ্রিদি। প্রতিবেশী ভারতের জয়ের পর সেই সময়কার স্মৃতি রোমন্থনের পাশাপাশি সূর্যকুমারদের প্রশংসা করেছেন তিনি।
নিজের এক্সে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে আফ্রিদি বলেন,
‘তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের জন্য অভিনন্দন টিম ইন্ডিয়া। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই তারা নিখুঁত দল হিসেবে প্রমাণ করেছে। এটি ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য গর্বের। এমন পারফরম্যান্সই প্রমাণ করে কেন ভারত এখনো বিশ্ব টুর্নামেন্টে শীর্ষে রয়েছে।’
বোলিং-ব্যাটিং ও ফিল্ডিং—তিন সেক্টরে ভারতের ক্রিকেটাররা সর্বোচ্চটুকু করে দেখিয়েছে। ব্যাটিং সঞ্জু স্যামসন, ইশান কিশান তাদের সেরাটা দেখিয়েছেন। বোলিংয়ে জসপ্রিত বুহমরাহ, আর্শদীপ সিংরা। তার মধ্যে শিবম দুবে ও হার্দিক পাণ্ডিয়ারা দেখিয়েছেন সেরাটা। অভিষেক শর্মা শুরুতে অপফর্মে থাকলেও শেষের দিকে ছিলেন বেশ মানানসই। অধিনায়ক সূর্যকুমারও সময়ের প্রয়োজনে জ্বলেছেন।
ভারতের বেঞ্চের শক্তির প্রশংসা করতে গিয়ে আফ্রিদি বলেন,
‘বিশ্বকাপ শেষ। আমার মতে, ভারতই এই শিরোপার যোগ্য। তাদের দলগত সমন্বয় অসাধারণ। বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়েরাও প্রথম একাদশের মতোই মানসম্পন্ন। তাই আমি সব সময় বলি, আপনার বেঞ্চ শক্তিশালী হতে হবে। ভারতের বেঞ্চ খুবই শক্তিশালী ছিল—সেখান থেকে যেকোনো খেলোয়াড়কে তুলে এনে সহজেই প্রথম একাদশে রাখা যেত। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তারা চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলেছে।’

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে স্থগিত হতে যাচ্ছে আফগানিস্তান-শ্রীলঙ্কার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজে মাঠে নামার কথা দুই দলের। তবে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে চলতি মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সিরিজটি স্থগিত হওয়ার পথে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহতে তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটি হওয়ার কথা ছিল ১৩ মার্চ। বাকি দুটি ১৫ ও ১৭ মার্চ। তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল দুবাইয়ে ২০, ২২ ও ২৫ মার্চ।
এখন পর্যন্ত আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও শ্রীলঙ্ক ক্রিকেট আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে ইএসপিএনক্রিকইনফো নিজেদের সূত্রের জানিয়েছে উভয় বোর্ডই একমত হয়েছেন যে চলমান সংকটের কারণে সিরিজ সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়োজন করা সম্ভব নয়।
আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ড বিকল্প স্থানের বিষয়ে আলোচনা করছে, তবে লজিস্টিক বাধার কারণে সিরিজ অন্যত্র স্থানান্তরিত হওয়াও সম্ভব নয়। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন সূচি ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর আগে পাকিস্তান নারী দলও দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষে একই কারণে ডারবানে আটকে পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। গত সপ্তাহে ভারতে বিশ্বকাপ শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা দলও আটকা পড়ে। তবে রোববার তাদের জানানো হয় যে মঙ্গলবার তারা দেশে ফিরবেন।

ক্রিকেটের দুর্নীতি এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই কম-বেশ। এশিয়া সাবকন্টিনেন্টে মাত্রাটা একটু বেশিই। এখানে কলি থেকে ফুল হওয়ার আগেই ঝরে পড়েন অনেকেই। তুখোড় খেলাপাগল অনেক তরুণ অল্পতেই থেমে যান পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবে।
পাকিস্তান ক্রিকেটের এমনই এক ঘটনা ঘটেছে। দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ সামনে এনে মাত্র ২৪ বছর বয়সেই ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিয়েছেন শাহজাইব ভাট্টি।
ভাট্টি তরুণ উদীয়মান ব্যাটার। পাকিস্তানের জনপ্রিয় ঘরোয়া লিগ কয়েদ-ই-আজম ট্রফিতে সিয়ালকোটকে ২০২৪-২৫ ট্রফি জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন। রোমাঞ্চে রূপ নেওয়া সেই ম্যাচে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন ভাট্টি। সিয়ালকোটের এই বাসিন্দা শেষ পর্যন্ত নিজ রাজ্যের দলকে জয় উপহার দিয়ে মাঠ ছাড়েন।
এতসবের পরও সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন ভাট্টি। রাজনৈতিক বাধা, দুর্নীতি এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে কাঠামোকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে ক্রিকেট থেকে বিদায় নিয়েছেন তিনি।
ভাট্টি জানান, তাঁর পারফরম্যান্স থাকা সত্ত্বেও তাকে বারবার সাইডলাইনে রাখা হয়েছে এবং প্রায় ৪০ ম্যাচে বেঞ্চে বসতে হয়েছে।
তরুণ এই ক্রিকেটার আরও জানিয়েছেন, তাঁর স্বপ্ন ছিল পাকিস্তান প্রতিনিধিত্ব করা, কিন্তু ঘরোয়া কাঠামোর বাস্তবতা তাকে খেলা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করেছে।

ভারতের সফল অভিযানের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কুড়ি কুড়ির আসরে বেশ ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেছে চ্যাম্পিয়ন দলের প্রতিটি সদস্য। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন সেক্টরে সমানভাবে কৃতিত্ব দেখিয়েছে ম্যান ইন ব্লুজরা। ফলস্বরূপ সোনালি ট্রফিতে চুঁমু এবং আইসিসির টুর্নামেন্টসেরা একাদশে সর্বোচ্চ ক্রিকেটারের আধিক্য।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বিশ্বকাপের সেরা একাদশ বাছাই করেছে। যেখানে ভারতের সর্বোচ্চ চারজন ক্রিকেটার সুযোগ পেয়েছে। অনুমিতভাবে এ তালিকায় রয়েছেন সঞ্জু স্যামসন। ভারতের এই উইকেটকিপার ব্যাটার ছাড়াও তালিকায় রয়েছেন ইশান কিশান, হার্দিক পাণ্ডিয়া ও জসপ্রিত বুমরাহ।
সঞ্জ মাত্র পাঁচ ইনিংসে ৩২১ রান করেছেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে ভারতের একাদশে সুযোগ না পেলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সুযোগ পেয়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়েছেন। আর শেষ ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন ৮৯ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস।
টুর্নামেন্টে কিশান ৩১৭ রান করেছেন। ওপেনিংয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭৭ রান করেন এবং পরে ইংল্যান্ড ও নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন তিনি। আর পাণ্ডিয়া দারুণ অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখিয়েছেন টুর্নামেন্টজুড়ে। ব্যাট ও বোলিং—উভয় বিভাগে অবদান রেখেছেন সমানভাবে। দুটি হাফ-সেঞ্চুরির পাশাপাশি ৯টি উইকেট নিয়েছেন পাণ্ডিয়া।
জসপ্রিত বুমরাহ ফাইনালে ম্যাচসেরা হয়েছেন। টুর্নামেন্টে ৮ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়ে শীর্ষ উইকেটটেকারদের মধ্যে রয়েছেন। ফাইনালে তাঁর বোলিং ফিগার ৪/১৫ এবং টুর্নামেন্টে ইকোনমি রেট ৬.২১।
টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান। টুর্নামেন্টে দুই সেঞ্চুরিতে মোট ৩৮৩ রান করেছেন পাকিস্তানের এই ওপেনার। দক্ষিণ আফ্রিকার দুইজন খেলোয়াড়—এইডেন মার্করাম ও লুঙ্গি এনগিদি রয়েছেন একাদশে। প্রোটিয়া দলপতি মার্করাম রান করেছেন ২৮৬ এবং এনগিদি উইকেট নিয়েছেন ১২টি।
ইংল্যান্ডের উইল জ্যাকস জায়গা পেয়েছেন একাদশে। আদিল রশিদও আছেন তালিকায়। জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে একজন করে ক্রিকেটার রয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেসন হোল্ডার ও ব্লেসিং মুজারাবানি জায়গা পেয়েছেন টুর্নামেন্টসেরা একাদশে।
১২তম খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শ্যাডলি ভ্যান শ্যালকওয়াইক। যিনি আসরে ১৩ উইকেট নিয়েছেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা একাদশ :
সহিবজাদা ফারহান, সঞ্জু স্যামসন (উইকেটকিপার), ইশান কিশান, এইডেন মার্করাম (অধিনায়ক), হার্দিক পাণ্ডিয়া, উইল জ্যাকস, জেসন হোল্ডার, জাসপ্রিত বুমরাহ, লুঙ্গি এনগিদি, আদিল রশিদ ও ব্লেসিং মুজারাবানি। ১২তম খেলোয়াড়: শাডলি ভ্যান শ্যালকওয়াইক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কার ব্যর্থতার পর দায়ভার কাঁধে নিয়ে সরে দাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন সানাৎ জায়াসুরিয়া। লঙ্কানদের সাবেক কিংবদন্তি এই ক্রিকেটারের বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর এবার দলটির প্রধান কোচ হিসেবে যোগ দিলেন কিংবদন্তি গ্যারি কারস্টেন।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) আজ এক বিবৃতিতে অভিজ্ঞ এই কোচকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। দুই বছরের দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই ব্যাটারকে নিয়োগ দিল শ্রীলঙ্কা। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রীলঙ্কার দায়িত্ব নেবেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী কারস্টেন এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ভারত জাতীয় দলের প্রধান কোচ ছিলেন। তাঁর কোচিংয়েই ২০১১ সালে বিশ্বকাপ জেতে ভারত।
এরপর ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার দায়িত্ব নেন। সাবেক কিংবদন্তি প্রোটিয়া ব্যাটার ডাগ-আউটে থাকাকালীন দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট, ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি—সব ফরম্যাটেই বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে উঠেছিল।
সবশেষ কারস্টেন নামিবিয়া জাতীয় দল–এর পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপেও এই দলের সঙ্গে ছিলেন ৫৮ বছর বয়সী কোচ।
খেলোয়াড়ি জীবনে ১৯৯৩ থেকে ২০০৪ সাল মাঠ মাতিয়েছেন কারস্টেন। এই সময়ে টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে তিনি মোট ১৪,০৮৭ রান করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ২১টি টেস্ট সেঞ্চুরি ও ১৩টি ওয়ানডে সেঞ্চুরি।
কারস্টেনের প্রধান দায়িত্বগুলোর একটি হবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য শ্রীলঙ্কাকে প্রস্তুত করা। দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়ে অনুষ্ঠেয় এই বিশ্বকাপ সামনে রেখে দল গঠনের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে তাকে।
নতুন প্রধান কোচ নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট জাতীয় হাই পারফরম্যান্স সেন্টারের কাঠামো নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে।