১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম

ইনিংসের প্রথম বলেই কিছুটা ওভারপিচড ডেলিভারি করলেন শরিফুল ইসলাম। সুযোগ পেয়ে বাউন্ডারি মেরে দিলেন হাসান ইসাখিল। গুছিয়ে নিতে একদমই সময় নিলেন না শরিফুল। তার পরের সাত বলে মাত্র ২ রান নিতে পারলেন ইসাখিল। আর অষ্টম বলে হারালেন নিজের উইকেট।
ইসাখিলের এই উইকেট দিয়ে শুরু। পরে দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে আরও দুর্বার শরিফুল। পুরোনো বলে ডেথ ওভারে ১.৫ ওভার বোলিং করে মাত্র ১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার। সব মিলিয়ে মাত্র ৯ রানে ৫ উইকেট নিয়ে জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
এমন বোলিংয়ের পর শরিফুল জানালেন, বিপিএলে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পেছনে রয়েছে তার এক ব্যক্তিগত অ্যানালিস্ট সাব্বিব বিন সাত্তার রাহুলের বড় অবদান। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচের পর থেকেই রাহুলের পরামর্শ নিচ্ছেন শরিফুল। নিয়মিত পাচ্ছেন সুফলও।
উদাহরণ হিসেবে আনা যায় ইসাখিলের উইকেটের কথাই। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে আসেন শরিফুল। দ্বিতীয় বলে স্ট্রাইক পান ইসাখিল। টানা ৪টি বল ১৩০ কিমি. প্রতি ঘণ্টার চেয়ে বেশি গতিবেগে করেন বাঁহাতি পেসার। মাত্র ২ রান নিতে পারেন ইসাখিল।
পরে ওভারের শেষ বল গতি কমিয়ে কিছুটা টেনে করেন শরিফুল। তাতেই ভড়কে যান ইসাখিল। গতির তারতম্য বুঝতে না পেরে ক্যাচ তুলে দেন আফগান ব্যাটার। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাকে আউট করার পরিকল্পনা খোলাসা করেন শরিফুল।
"আমি লক্ষ্য করছিলাম, আমি একটু পেছনে পেছনে বল করলে, ও আগেভাগে সরে যাচ্ছিল। তখন আমি আর কি মাথায় নিয়েছি যে, একটু স্লোয়ার মারলে হয়তোবা চান্স থাকবে। তো সামনে ওই জায়গার মতো পড়ছিল, তাই আর কি (আউট হয়েছে)।"
এসময় ব্যক্তিগত অ্যানালিস্ট রাহুলের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন শরিফুল।
"অবশ্যই (রাহুলের অবদান অনেক)। প্রতি ম্যাচের পরে তিনি আমাকে সব কিছু পাঠিয়ে দেন। যেখানে ভুল করি, সেগুলো আর কি আমি পরের ম্যাচে যাতে না করি, সেগুলো নিয়ে ম্যাচের আগে সেগুলো আর কি দেখে আসি বা ঠিক করে আসি।"
বিপিএলের প্রথম ম্যাচে ১৪ রানে ২ উইকেট পেয়েছিলেন শরিফুল। ওই ম্যাচ থেকে শুরু হয় তাকে নিয়ে রাহুলের বিশ্লেষণ। প্রতি ম্যাচের পরই নানান ইনপুট দিয়ে থাকেন তিনি। এর ছাপ পড়ছে শরিফুলের বোলিংয়েও।
পরের ৭ ম্যাচে ১৬ শিকার ধরে এখন পর্যন্ত চলতি বিপিএলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ২৪ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার। শরিফুলের সঙ্গে কী বিষয়ে কাজ করছেন সেসব বিষয়ে ধারণা দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহুল।
“আমরা প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে কাজ করছি। যেমন, কোনো একটি নির্দিষ্ট ম্যাচের জন্য আমরা এমনকি ফিল্ড সেটআপও ঠিক করি- এই ব্যাটসম্যানের জন্য ফিল্ডিং হবে এমন।”
“শুরু থেকেই আমরা যা লক্ষ্য করেছি, তা হলো শরিফুলের নতুন বলের ওভারগুলোতে লাইন ও লেংথে সামান্য পার্থক্য ছিল। সে যা করছিল, প্রয়োজনের তুলনায় একটু বেশি ফুল লেংথ বল করা।”
ফুল লেংথে বল করে শুক্রবার ইসাখিলের কাছেও শুরুতেই বাউন্ডারি হজম করেন শরিফুল। পরে সেটি শুধরে নিয়ে পান সাফল্য। রাহুলও বললেন, ব্যাটারদের ড্রাইভ বন্ধ করে দিয়ে উইকেটের সুযোগ বাড়ানোর কথা।
“পাওয়ার প্লেতে ব্যাটসম্যানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্কোরিং শটগুলোর একটি হলো ড্রাইভ। টি-টোয়েন্টিতে যদি আমরা ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে ড্রাইভ শটটা কেড়ে নিতে পারি- গুড লেংথ বা শর্ট অব গুড লেংথ বল করে- তাহলে ড্রাইভ খেলা কঠিন হয়ে যায়। তখন ব্যাটসম্যান স্কয়ার দিয়ে খেলতে বাধ্য হয়। পাওয়ার প্লেতে যদি ব্যাটসম্যান স্কয়ার দিয়ে খেলেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।”
মাঝের ওভারগুলোতে পরিকল্পনা সাজানোর বিষয়টিও খোলাসা করেন রাহুল।
“মিডল ওভার ও ডেথ ওভারগুলোতে আমরা যে বিষয়টা ঠিক করার চেষ্টা করেছি, তা হলো বেশির ভাগ ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে তার বল প্যাডের দিকে ড্রিফট করছিল। তাই আমরা সেটাকে একটু ফিরিয়ে এনে মিডল ও মিডল–অফে আক্রমণ শুরু করি। এর ফলে যেসব বল আগে রান দিত, সেগুলো এখন হয় উইকেট দিচ্ছে, না হয় এজ হচ্ছে বা ব্যাটসম্যানকে বিট করছে।”
“লেগ সাইডে ড্রিফট হওয়ার ব্যাপারে আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম, তুমি যদি রিলিজ পয়েন্টটা ক্রিজের ডান দিকের দিকে সামান্য সরাও, তাহলে বিষয়টা ঠিক হয়ে যাবে। তাই যখনই আমরা কোনো সমস্যা দেখি, সেভাবেই আলোচনা করি।”
এছাড়া শেষ দিকে ইয়র্কারে জোর দেওয়া নিয়েও কাজ করছেন শরিফুল, এমনটাই জানালেন তার ব্যক্তিগত অ্যানালিস্ট।
“ডেথ ওভারের জন্য আমরা একটি নির্দিষ্ট বোলিং প্যাটার্ন তৈরির কাজও করেছি। তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ইয়র্কার, কিন্তু সে সেটা করা বন্ধ করে দিয়েছিল। এখন সে আবার ইয়র্কার বল করছে, সঙ্গে ডেথ ওভারে একটি ঠিকঠাক প্যাটার্ন মেনে বল করছে।”
No posts available.
১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম

গণমাধ্যমকে দেয়া বিবিসি পরিচালক নাজমুল ইসলামের ইন্টারভিউ ক্রিকেটারদের ক্ষোভের আগুনে ঢেলেছে ঘি। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব নেতৃবৃন্দের একজোট হওয়ায় মাঝপথে এসে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল বিপিএল। ঢাকা পর্বের শুরুতে এই অনিশ্চয়তায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্রিকেট ফ্যানরা ক্রিকেটারদের চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করেছে। টিকিট এন্ড সিটিং কমিটির হিসেব বলছে টিকিট বিক্রি থেকে আয়ের অঙ্ক এদিন ৫৩ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অথচ অনিশ্চয়তা কেটে শুক্রবার ফিরেছে বিপিএল, ফিরেছে গ্যালারি ভর্তি দর্শক। এটাই এদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি। অবশ্য মিরপুরে বিপিএলের প্রত্যাবর্তন ম্যাচে দর্শকের মন ভরেনি।
অনেক দিন বিশ্রাম পেয়েছে মিরপুরের পিচ, এমন এক পিচের উপরের স্তরে ঘাসের আস্তরণ দূর থেকে ষ্পষ্টভাবে গেছে দেখা। বল পিচিং করে বাউন্সও পেয়েছে যথেষ্ট। এ ধরণের বৈশিষ্ট্যের পিচকে স্পোর্টিং বলাটাই সমীচিন। পিচে শুরুতে সহজাত ব্যাটিংও করতে পেরেছে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের দুই ওপেনার। অথচ, ইনিংসের শেষ ১০ ওভারে এই পিচেই উইকেটের মিছিল। ৪৭ রান যোগ করতে হাওয়া ৭ উইকেট! শেষ পাওয়ার প্লে-তে স্কোশিটে ২০ রান যোগ করে শরীফুলের ২টি স্পেলে হারিয়েছে নোয়াখালী ৪ উইকেট। বাঁ হাতি পেস বোলার শরীফুলের শেষ দুটি স্পেলে ( ১-০-১-২ ও ০.৫-০-১-২) এলোমেলো নোয়াখালী এক্সপ্রেস। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এই প্রথম শরীফুলের ৫ উইকেটের ম্যাচে ( ৩.৫-১-৯-৫) নোয়াখালী এক্সপ্রেস ২০ ওভার পার করতে পারেনি, থেমেছে ১২৬/১০-এ।
১২০ টি ডেলিভারীর মধ্যে ৫৯টি ডট করেছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ব্যাটাররা। যার মধ্যে শরীফুলের ২৪টি ডেলিভারির মধ্যে ১৮টি ডট! পুরো ইনিংসে ৭ চারের পাশে ৭ ছক্কা।
ওপেনিং পার্টনারশিপের ২০ বলে ৩৪, এটাই নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সর্বোচ্চ জুটি। সর্বোচ্চ ২৫ রানের ইনিংস মোহাম্মদ নবীর ছেলে ঈসাখিলের। ব্যাটিং বিপর্যয়ের বিশ্লেষনে শুরুতে আসবে সৌম্য'র অমার্জনীয় আউটের প্রসঙ্গ। অফ স্পিনার শেখ মেহেদীর প্রথম বলে রিভার্স সুইপ করতে যেয়ে বোল্ড আউটে (৮ বলে ১ চার, ১ ছক্কায় ১৪) তার থেমে যাওয়ার দৃশ্যটি এক কথায় দৃষ্টিকটু। বিপিএলে নিজের অভিষেকে ৮ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করা মোহাম্মদ নবির ছেলে ঈসাখিল দ্বিতীয় ম্যাচে দিয়েছেন শরীফুলকে উইকেট উপহার। এই বাঁ হাতি পেসারের দ্বিতীয় স্পেলে (১-০-৮-১) ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে যেয়ে মিড অফে দিয়েছেন ক্যাচ (২১ বলে ২ চার, ২ ছক্কায় ২৫)।
বাঁ হাতি স্পিনার শেখ মেহেদীর বলে হায়দার আলী লং অনে ক্যাচ দিলে (১১ বলে ১ ছক্কায় ১২) ইনিংসের মাঝপথে রানের জন্য ধুঁকেছে নোয়াখালী। এই অফ স্পিনারের বল (৩-০-১২-৩) খেলতে অস্বস্তিতে পড়েছে নোয়াখালী ব্যাটাররা। ১০ ওভার শেষে স্কোর ৭৯/৩, সেখান থেকে ১৬০ প্লাস স্কোরের পূর্বাভাস পেয়েছেন যারা, তাদের ভুল ভেঙ্গেছে শেষ ১০ ওভারে নেয়াখালীর ব্যাটিংয়ে। ১৬তম ওভারের তৃতীয় বলে হাসান মাহমুদকে পয়েন্টে (৭ বলে ৪) এবং পরের বলে মেহেদী হাসান রানাকে (১ বলে ০) কভারে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন শরীফুল। ১৯তম ওভারে দ্বিতীয় বলে ডিপ কভারে সাব্বির (১৯ বলে ১ চার, ২ ছক্কায় ২২) এবং ৫ম বলে ইহসানুলকে বোল্ড (২ বলে ০) করে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেটের মুখ দেখেছেন শরীফুল (৩.৫-১-৯-৫)। এমন পারফরমেন্সে বিপিএলের চলমান আসরে শীর্ষ উইকেট শিকারীর তালিকায় উঠে এসেছেন শরীফুল (৮ ম্যাচে ১৮ উইকেট)।
১২৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ইহসানুল্লাহ (২-০-৭-২) এবং হাসান মাহমুদের (২-০-১২-১) স্পেলে চট্টগ্রাম রয়্যালস স্কোরশিটে ৪৪ যোগ করতে ৪ উইকেট হারিয়ে বেকায়দায় পড়ে। ১০ ওভার শেষে স্কোর ৬৯/৫, তখনও ম্যাচটাকে ফিফটি ফিফটি ধরে নিয়েছিল সবাই। তবে শেষ ৬০ বলে ৫৫ রানের টার্গেট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে দেননি চট্টগ্রাম রয়্যালস অধিনায়ক শেখ মেহেদী (৩৬ বলে ৪ চার, ২ ছক্কায় ৪৯*)-আসিফ আলী (৩০ বলে ২ চার, ২ ছক্কায় ৩৬*)। অবিচ্ছিন্ন ৬ষ্ঠ উইকেট জুটির ৪৫ বলে ৫৯ রানে ১৮ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জিতে পয়েন্ট টেবিলে রাজশাহী ওরিয়র্সের সাথে যৌথভাবে শীর্ষে উঠে এসেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস (৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট)।

প্রথম ছয় ম্যাচ হেরে বিদায়ের শঙ্কা আগেই জাগিয়ে তুলেছিল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। এরপর টানা দুই জয় পেয়ে ভক্ত-সমর্থকদের আশা দিয়েছিল দলটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাজ হয়নি। চট্টগ্রাম রয়্যালসের কাছে হেরে প্রথম দল হিসেবে বিপিএল থেকে ছিটকে গেল প্রথমবার খেলতে আসা নোয়াখালী।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার নোয়াখালীকে ৫ উইকেটে হারায় চট্টগ্রাম। আগে ব্যাট করে শরিফুল ইসলামের তোপে পড়ে মাত্র ১২৬ রানে গুটিয়ে যায় নোয়াখালী। পরে কিছুটা চাপে পড়লেও ১৮ বল বাকি থাকতে জিতে যায় চট্টগ্রাম।
আট ম্যাচে চট্টগ্রামের এটি ষষ্ঠ জয়। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের সমান ১২ পয়েন্ট নিয়েই শ্রেয়তর রান রেটের সৌজন্যে শীর্ষে উঠে গেছে তারা। বিপরীতে ৯ ম্যাচের মধ্যে সপ্তম পরাজয়ের স্বাদ পেল নোয়াখালী। টেবিলের তলানিতেই তারা।
প্রতিপক্ষকে অল্পেই গুটিয়ে জয়ের কারিগর শরিফুল। চমৎকার বোলিংয়ে ৩.৫ ওভারে এক মেডেনসহ মাত্র ৯ রানে তিনি নিয়েছেন ৫ উইকেট। ১৫২ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটিই তার প্রথম ৫ উইকেট।
গত বছরের বিপিএলে ৫ রানে ৪ উইকেট ছিল এত দিন তার সেরা বোলিং ফিগার। সব মিলিয়ে চলতি বিপিএলে এখন পর্যন্ত শরিফুলের শিকার ১৮ উইকেট। যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
রান তাড়ায় শুরুটা একদমই ভালো ছিল না চট্টগ্রামের। প্রথম ওভারেই ড্রেসিং রুমে ফিরে যান মাহমুদুল হাসান জয়। পাওয়ার প্লের ভেতরে একই পথ ধরেন মোহাম্মদ হারিস, মাহফিজুল ইসলাম রবিন ও মোহাম্মদ নাঈম শেখ।
মাত্র ২৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে চট্টগ্রাম। হাসান নাওয়াজের সঙ্গে ৪০ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন শেখ মেহেদি হাসান। পরে জহির খানের বলে জাকের আলির চমৎকার স্টাম্পিংয়ে ফেরেন নাওয়াজ।
এরপর আসিফ আলিকে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান চট্টগ্রাম অধিনায়ক। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩৬ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন মেহেদি। আসিফের ব্যাট থেকে আসে ২টি করে চার-ছক্কায় ২৮ বলে ৩৫ রান।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শরিফুল ইসলামের প্রথম বলেই বাউন্ডারি মারেন হাসান ইসাখিল। পরের ওভারে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধর বলে ১৮ রান নেন ইসাখিল ও সৌম্য সরকার। তিন ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৩৪ রান।
চতুর্থ ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলেই রিভার্স শটের চেষ্টা করা সৌম্যকে বোল্ড করেন শেখ মেহেদি হাসান। প্রায় চার বছর পর তিন নম্বরে নামিয়ে দেওয়া হয় জাকের আলি অনিককে। তবে শুরুতে ছন্দই পাচ্ছিলেন না তিনি। প্রথম ১০ বলে করেন মাত্র ৬ রান।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ইসাখিলকে ফেরান শরিফুল। ২টি করে চার-ছক্কায় ২০ বলে ২৫ রান করেন আফগান ওপেনার। তার বিদায়ের পর আর কেউ উইকেটে তেমন টিকতে পারেননি।
আমির জামালের বলে ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কা মারেন জাকের। মুগ্ধর বলে থার্ড ম্যান দিয়ে মারেন বাউন্ডারি। তবু স্ট্রাইক রেট বাড়াতে পারেননি। জামালের ফুল টস মিস করে এলবিডব্লিউ হয়ে যান ২২ বলে ২৩ রান করা ব্যাটার।
সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৭ ইনিংসে ১০৯.৯০ স্ট্রাইক রেট ও ১৮.৫০ গড়ে জাকেরের সংগ্রহ ১১১ রান।
এরপর পুরোটাই শরিফুল শো! ১৬তম ওভারে বোলিংয়ে এসে তৃতীয় বলে হাসান মাহমুদকে ফেরান এই বাঁহাতি পেসার। পরের বলে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন মেহেদী হাসান রানা। সুযোগ তৈরি করলেও হ্যাটট্রিক করা হয়নি শরিফুলের।
পরে ১৯তম ওভারে আবার বোলিং করতে আসেন শরিফুল। তৃতীয় বলে ছক্কা মারতে গিয়ে এক্সট্রা কাভার অঞ্চলে ক্যাচ দেন সাব্বির হোসেন। এক বল পর ইহসানউল্লাহকে বোল্ড করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন ২৪ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার।
শরিফুলের ৫ উইকেট ছাড়াও মাত্র ১২ রানে ৩ উইকেট নেন মেহেদি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ১৮.৫ ওভারে ১২৬ (ইসাখিল ২৫, সৌম্য ১৪, জাকের ২৩, হায়দার ১২, সোহান ১১, মুনিম ১, সাব্বির ২২, হাসান ৪, রানা ০, জহির ৬*, ইহসানউল্লাহ ০; শরিফুল ৩.১-১-৯-৫ , মুগ্ধ ৪-০-৩৮-০, তানভির ৪-০-২৯-০, মেহেদি ৩-০-১২-৩, জামাল ৪-০-৩৬-১)
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ১৭ ওভারে ১২৮/৫ (জয় ০, নাঈম ১৮, হারিস ৭, রবিন ০, নাওয়াজ ১১, মেহেদি ৪৯*, আসিফ ৩৫*; হাসান ৩-০-১৭-১, ইহসানউল্লাহ ৪-০-২৩-২, সাব্বির ৩-০-৩২-১, রানা ৩-০-২৩-০, জহির ৪-০-২৯-১)
ফল: চট্টগ্রাম রয়্যালস ৫ উইকেটে জয়ী

ইনিংসের প্রথম বলে বাউন্ডারি হজম করলেন শরিফুল ইসলাম। এরপর তিনি করলেন আরও ২২টি বল। কিন্তু তার বলে আর একটিও বাউন্ডারি মারতে পারল না নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ব্যাটাররা। উল্টো দারুণ বোলিংয়ে ক্যারিয়ারে প্রথম ৫ উইকেট নিয়ে ফেললেন বাঁহাতি পেসার।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার দুপুরের ম্যাচে নোয়াখালীকে ১২৬ রানে অল আউট করে দিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। এই ম্যাচ হারলেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাবে এই প্রথম বিপিএল খেলতে আসা নোয়াখালীর।
প্রতিপক্ষকে অল্পেই গুটিয়ে দেওয়ার কারিগর শরিফুল। চমৎকার বোলিং করে ৩.৫ ওভারে এক মেডেন ওভারসহ মাত্র ৯ রানে তিনি নিয়েছেন ৫ উইকেট। ১৫২ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটিই তার প্রথম ৫ উইকেট।
গত বছরের বিপিএলে ৫ রানে ৪ উইকেট ছিল এত দিন তার সেরা বোলিং ফিগার। সব মিলিয়ে চলতি বিপিএলে এখন পর্যন্ত শরিফুলের শিকার ১৮ উইকেট। যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শরিফুল ইসলামের প্রথম বলেই বাউন্ডারি মারেন হাসান ইসাখিল। পরের ওভারে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধর বলে ১৮ রান নেন ইসাখিল ও সৌম্য সরকার। তিন ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৩৪ রান।
চতুর্থ ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলেই রিভার্স শটের চেষ্টা করা সৌম্যকে বোল্ড করেন শেখ মেহেদি হাসান। প্রায় চার বছর পর তিন নম্বরে নামিয়ে দেওয়া হয় জাকের আলি অনিককে। তবে শুরুতে ছন্দই পাচ্ছিলেন না তিনি। প্রথম ১০ বলে করেন মাত্র ৬ রান।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ইসাখিলকে ফেরান শরিফুল। ২টি করে চার-ছক্কায় ২০ বলে ২৫ রান করেন আফগান ওপেনার। তার বিদায়ের পর আর কেউ উইকেটে তেমন টিকতে পারেননি।
আমির জামালের বলে ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কা মারেন জাকের। মুগ্ধর বলে থার্ড ম্যান দিয়ে মারেন বাউন্ডারি। তবু স্ট্রাইক রেট বাড়াতে পারেননি। জামালের ফুল টস মিস করে এলবিডব্লিউ হয়ে যান ২২ বলে ২৩ রান করা ব্যাটার।
সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৭ ইনিংসে ১০৯.৯০ স্ট্রাইক রেট ও ১৮.৫০ গড়ে জাকেরের সংগ্রহ ১১১ রান।
এরপর পুরোটাই শরিফুল শো! ১৬তম ওভারে বোলিংয়ে এসে তৃতীয় বলে হাসান মাহমুদকে ফেরান এই বাঁহাতি পেসার। পরের বলে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন মেহেদী হাসান রানা। সুযোগ তৈরি করলেও হ্যাটট্রিক করা হয়নি শরিফুলের।
পরে ১৯তম ওভারে আবার বোলিং করতে আসেন শরিফুল। তৃতীয় বলে ছক্কা মারতে গিয়ে এক্সট্রা কাভার অঞ্চলে ক্যাচ দেন সাব্বির হোসেন। এক বল পর ইহসানউল্লাহকে বোল্ড করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন ২৪ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার।
শরিফুলের ৫ উইকেট ছাড়াও মাত্র ১২ রানে ৩ উইকেট নেন মেহেদি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ১৮.৫ ওভারে ১২৬ (ইসাখিল ২৫, সৌম্য ১৪, জাকের ২৩, হায়দার ১২, সোহান ১১, মুনিম ১, সাব্বির ২২, হাসান ৪, রানা ০, জহির ৬*, ইহসানউল্লাহ ০; শরিফুল ৩.১-১-৯-৫ , মুগ্ধ ৪-০-৩৮-০, তানভির ৪-০-২৯-০, মেহেদি ৩-০-১২-৩, জামাল ৪-০-৩৬-১)

আগামী মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার ইয়ান হার্ভিকে কোচিং প্যানেলে নিয়োগ দিলো নেপাল। বোলিং পরামর্শক কোচ হিসেবে কাজ করবেন ৫৩ বছর বয়সী সাবেক এই পেসার।
নেপালের প্রধান কোচ হিসেবে আছেন হার্ভির স্বদেশি স্টুয়ার্ট ল। ইংল্যান্ড কাউন্টির দল গ্লস্টারশায়ারের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হার্ভি।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৭৩ ওয়ানডে খেলে ৮৫ উইকেট ও ৭১৫ রান করেছেন হার্ভি। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ জেতা দলের অংশও ছিলেন তিনি।
বৈচিত্রের পসরা সাজিয়ে টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার হিসেবেও বিশেষ খ্যাতি পেয়েছেন হার্ভি। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ৫৪টি ম্যাচ খেলে ৫২ উইকেট ও ১ হাজার ৪৭০ রান করেছেন তিনি।
২০০৩ সালে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি কাপের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান ছিলেন হার্ভি। ২০০৭ সালের ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগের (আইসিএল) প্রথম সংস্করণে টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটার ছিলেন তিনি।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে নেপাল। 'সি' গ্রুপে তাদের পরের তিন প্রতিপক্ষ ইতালি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দুঃসংবাদ আফগানিস্তান দলে। দল থেকে ছিটকে গেছেন পেসার নাভিন উল হক। তার জায়গায় বদলি হিসেবে এখনো নাম ঘোষণা করেনি আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।
বিশ্বকাপের আগে সোমবার থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান। এই সিরিজও খেলতে পারবেন না নাভিন। চলতি মাসের শেষের দিকে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হবে, তবে চোটের ধরন এখনো জানা যায়নি।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আফগানিস্তানের হয়ে খেলেছিলেন নাভিন। এরপর ২০২৫ এসএ টি-টোয়েন্টি ও যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটে খেলেন। তবে কাঁধের চোটে ২০২৫ এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে পড়েন। সর্বশেষ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এমিরেটসের হয়ে গত মাসে আইএল টি-টোয়েন্টিতে খেলেছেন।
টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণে অন্যতম পেসার নাভিন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৭ উইকেট নিয়েছেন এই পেসার।
২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে পৌঁছায় আফগানরা। টুর্নামেন্টে ১৩ উইকেট শিকার করেন নাভিন।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১০ম সংস্করণ। আফগানদের ঘোষিত দলে রিজার্ভ হিসেবে রাখা আল্লাহ মোহাম্মদ গজানফর , ইজাজ আহমদজাই এবং জিয়া উর রহমান শরিফির মধ্য থেকে একজনকে চূড়ান্ত দলে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।