
টুর্নামেন্টের মাঝপথে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হারাল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। কাঁধের আঘাতের কারণে আইপিএলের বাকী অংশ থেকে ছিটকে গেছেন লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা।
জাম্পা টুর্নামেন্টের প্রথম দুটি ম্যাচে ইমপ্যাক্ট সাব হিসাবে খেলেছিলেন। দুটিতেই ছিলেন ব্যয়বহুল (১/৪৮ ও ১/৪৬)।
এরপর থেকে তিনি কাঁধে ব্যথা অনুভব করছিলেন। এজন্য মিস করেন পরের চারটি ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যেতে বাধ্য হলেন।
সম্ভাবনা ছিল জাম্পার চোট থেকে সেরে আইপিএলের শেষ ভাগে ফেরার। তবে সেদিকে আর যায়নি হায়দরাবাদ। অজি স্পিনারের জায়গায় তারা বদলি হিসেবে স্কোয়াডে নিয়েছে ২১ বছর বয়সী কর্ণাটকের ব্যাটার আর স্মারানকে।
ছয় ম্যাচ শেষে জাম্পার দলের জয় মাত্র দুটি। পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান নবম।
আইপিএলের পরের অংশে ফেরার সম্ভাবনা না থাকায় বেশ লম্বা সময়ই মাঠের বাইরে থাকতে হবে জাম্পাকে। আগামী জুলাইয়ের শেষের দিকে ক্যারিবিয়ান সফর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার টি -টোয়েন্টি সিরিজের আগ পর্যন্ত তার আর খেলার সম্ভাবনা নেই।
No posts available.
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৩২ পিএম
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:০৩ পিএম

বিপিএলের সময় থেকে মিরপুর শেরেবাংলার উইকেটের প্রতিজ্ঞা- স্কোরটা টেনেটুনে দেড়শর আশপাশে থামতে হবে! অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপেও রানের চাকা দেড়শর আশপাশে দমে যায়। প্রথম দুই ম্যাচের চিত্র এমনই। এই রানেও আজ দুর্বার-ধূমকেতুর লড়াই জমে ক্ষীর।
তবে সেখান থেকে অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানের ঝোড়ো ফিফটিতে জয়ের হাসি নিয়ে উঠেছে দুর্বার। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পেয়েছে ২ উইকেটের জয়। ধূমকেতুর জয় ফসকে যাওয়ায় কাল দুর্বার-দুরন্তর ম্যাচে নির্ধারণ হবে ফাইনাল-ভাগ্য।
১৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শেখ মেহেদী হাসানের দুর্দান্ত ঘূর্ণি জাদুতে ৪৬ রানেই চার উইকেট হারায় দুর্বার। ৮১ রানে নেই ৬ উইকেট। মনে হচ্ছিল, ধূমকেতুর টানা দ্বিতীয় জয় যেন কিছু সময়ের অপেক্ষা। সেখান থেকে সোহানের প্রতিরোধ। ৪৪ বলে খেলেছেন ৭৬ রানের অসাধারণ এক ইনিংসে। ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৬টি ছক্কা।
শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য দুর্বারের দরকার ৩১ রান। ১৯তম ওভারে শরীফুলকে ৪টি ছক্কা মেরে সেই জয় সহজ বানিয়ে ফেলেন সোহান। শেষ দরকার ওভারে ৭ রান, সোহান রান আউট হলেও জিততে সমস্যা হয়নি তাদের। হাসান মাহমুদ ১৯.৩ ওভারে চার মেরে দুর্বারের জয় নিশ্চিত করেন।
বৃথা যায় মেহেদীর অসাধারণ বোলিং। ৪ ওভারে এক মেডেন ও ১১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
তার আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পেয়ে ধূমকেতুর শুরুটা হয় নড়বড়ে। প্রথম ওভারে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যর্থ হয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। হাসান মাহমুদের বাইরের বল ইনসুইং করে আরো বেরিয়ে গেল, মুভমেন্ট না বুঝে খেলতে গিয়ে ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহানের তালুবন্দী হন তামিম (০)।
আরেক ওপেনার সাইফ হাসান দ্বিতীয় ম্যাচেও দারুণ শুরু করেছিলেন। থিতু হয়েও পঞ্চম ওভারে ফেরেন ২০ বলে ২৮ রান করে। মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের শিকার হওয়ার আগে মেরেছেন দুটি করে চার ও ছক্কা। আগের ম্যাচে করেছিলেন ফিফটি।
৩৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় ধূমকেতু। পারভেজ হোসেন ইমন ও তাওহীদ হৃদয়ও থিতু হতে পারেননি। সাইফের মতো অধিনায়ক লিটন দাসও আগের ম্যাচে ফিফটি। আজও হাঁটছিলেন সে পথে। তবে ৩৭ বলে ৪৩ রানে তাঁকে ফিরিয়ে তানভীর ইসলাম ধূমকেতুর রানের লাগাম টানেন।
শেষ দিকে শেখ মেহেদী হাসানের ২৭ বলে অপরাজিত ৩১ ও শামীম হোসেনের ৮ বলে ১৭ রানের সৌজন্যে ৮ উইকেটে ১৫৬ রান তোলে ধূমকেতু। ৩৫ রান করে দিয়ে হাসান ও তানভীর দুজনই দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।

কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে যে দিন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলােদেশ দলের লক্ষ্য নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত বলার কথা বাংলাদেশ অধিনায়কের, সেই দিন মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ধুমকেতু দল নিয়ে নেমেছেন লিটন দাস। দুধের স্বাদ ঘোলে মিটিয়ে নিতে অদম্য বাংলাদেশ টি-২০ টুর্নামেন্টে নিজের ব্যাটিংকে ভালই ঝালাই করে নিচ্ছেন। ২৪ ঘন্টা আগে দূরন্ত'র বিপক্ষে ৪৩ বলে ৬৫ রানের হার না মানা ইনিংসের পর শুক্রবার রাতে দূর্বার-এর বিপক্ষে করেছেন ৩৭ বলে ৪৩।
তবে যার জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জন করেছে বাংলাদেশ, সেই বাঁ হাতি কাটার মাস্টারের বিবর্ণ চেহারাটা দেখছে দর্শক অদম্য বাংলাদেশ টি-২০ টুর্নামেন্টে। একদিন আগে পিএসএল-এর দল লাহোর কালান্দার্সে ৬ কোটি ৪৪ লাখ পাকিস্তানী রুপিতে বিক্রি হওয়ার সুসংবাদেও অদম্য বাংলাদেশ টি-২০ টুর্নামেন্টে ছন্দহীন মোস্তাফিজ টানা ২ ম্যাচ ( ১.৫-০-১৫-১ ও ২-০-২০-১)। প্রথম ম্যাচের প্রথম ওভারে খরচ করেছেন ১৪ রান, দ্বিতীয় ম্যাচের প্রথম ওভারে খরচ সেখানে ১৭ রান।
দ্বিতীয় ম্যাচে মার খেয়েছেন শরীফুল (৩-০-৫২-২)।
ধুমকেতুর ১৫৬/৬ স্কোরের জবাবটা প্রায় অসম্ভব বলে ধরে নিয়েছিলেন মিরপুর স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার পাঁচেক দর্শক। তবে শেষ দুই ওভার থ্রিলারে অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করেছেন হাসান সোহান।
কপালপোড়া ক্রিকেটার হিসেবে নূরুল হাসান সোহানকে চেনেন সবাই। ১৬ বছরের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচের অভিজ্ঞতা ৯ বছর। ২০২১, ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর এবার তৃতীয়বারের মতো টি-২০ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ ছিল তার সামনে। বাংলাদেশের টি-২০ বিশ্বকাপ বর্জনে সোহানের ক্যারিয়ার থেকে ঝড়ে পড়েছে একটি মেগা আসর। এই কষ্টটা লাঘব করেছেন সোহান শুক্রবার। শেষ ১২ বলে ৩৩ রানের টার্গেট যখন দুরূহ বলে ধরে নিয়েছেন সবাই, তখন নিয়েছেন ঝুঁকি। ১৯তম ওভারে শরীফুলের উপর চড়াও হয়েছেন। নিয়েছেন ২৬ রান। মেরেছেন ওই ওভারে ৪টি ছক্কা, ১টি ২ রান। শেষ ওভারে মুগ্ধকে থার্ডম্যানে খেলে রান নিতে যেয়ে রান আউটে কাটা পড়লেও দলকে পৌছে দিয়েছিলেন জয়ের বন্দরে। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় সেরা ( ৪৪ বলে ৪ চার, ৬ ছক্কায় ৭৬) ইনিংস দিয়েছেন উপহার। বাকি দায়িত্বটা পালন করেছেন টেল এন্ডার মাহমুদ হাসান। শেষ ওভারের ৩য় বলে মুগ্ধ-কে হাসান মাহমুদ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে বাউন্ডারি মারলে ৩ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটে জিতেছে দুর্বার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ঘোষিত স্কোয়াডে থেকেও মিস করেছেন আইসিসির এই মেগা ইভেন্ট, সে কষ্টটা লাঘবে অফ স্পিনার শেখ মেহেদী নিজেকে একটু বেশিই মেলে ধরেছেন। শুক্রবার দুর্বারের বিপক্ষে করেছেন আইসিসির স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে সেরা বোলিং (৪-০-১১-৪)। ২৪টি ডেলিভারীর মধ্যে ১৪টি দিয়েছেন ডট। মেডেন উইকেট ওভার দিয়ে শুরু, তিনটি স্পেলই (২-০-৪-২, ১-০-৫-১ ও ১-০-২-১) ছিল বলার মতো। শুরুটা করেছেন তিনি ইনফর্ম শান্ত-কে (৭ বলে ২ রান) এলবিডাব্লুতে ফিরিয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে। তার দ্বিতীয় ওভারে আফিফ (৪ বলে ১) দিয়েছেন ডিপ মিড অফে ক্যাচ। দ্বিতীয় স্পেলে মাহামুদুল হাসান জয় (২০ বলে ১৩)ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ দিয়েছেন। শেষ স্পেলে জাকের আলী অনিক হয়েছেন বোল্ড (১২ বলে ১১)। তবে শেখ মেহেদীর এই বোলিংটা ম্লান করে দিয়ে ম্যাচ সেরা নূরুল হাসান সোহান।

বিতর্কের পাশ কাটিয়ে কাল থেকে শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কলম্বোয় কাল উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামবে নেদারল্যান্ডস-পাকিস্তান। তবে বিশ্বকাপের শুরু আগমুহূর্তে পাকিস্তান দলে আলোচনায় রহস্যময় স্পিনার উসমান তারিক।
বোলিং অ্যাকশন নিয়ে ওঠা প্রশ্ন, অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিনের ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ—সবকিছু মিলিয়ে বিশ্বকাপের ঠিক আগে তারিককে ঘিরে বাড়তি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত সপ্তাহে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে নেমে উসমান তারিকের বলে আউট হন অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার গ্রিন। মাঠ ছাড়ার সময় গ্রিন ইচ্ছাকৃতভাবে ‘চাকিংয়ের' ভঙ্গিতে হাত নাড়ান, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোড়ন তোলে। অনেকেই তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন।
তবে পাকিস্তান এসব অভিযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। দলের অধিনায়ক সালমান আলী আগা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারিকের বোলিং অ্যাকশন পুরোপুরি বৈধ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পাকিস্তানের প্রথম ম্যাচের আগে সাংবাদিকদের সালমান বলেন,
‘আমি বুঝতেই পারছি না কেন আমরা তার অ্যাকশন নিয়ে কথা বলছি। আমার মতে, তার অ্যাকশন পুরোপুরি ফেয়ার।’
সালমানের মতে, বিশ্বকাপে তারিক পাকিস্তানের এক্স ফ্যাক্টর। তাঁর ভাষায়,
‘তাকে দুবার পরীক্ষা করা হয়েছে এবং সে ক্লিয়ার্ড। তার অ্যাকশনে কোনো সমস্যা নেই। সে আমাদের দলের এক্স ফ্যাক্টর। যেখানে আমরা এক্স ফ্যাক্টরের প্রয়োজন অনুভব করব, সেখানে অবশ্যই তাকে ব্যবহার করা হবে।’
উসমান তারিক এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের হয়ে মাত্র তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। তবে ঘরোয়া ক্রিকেট ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে তাঁর রহস্যময় স্পিন ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে হ্যাটট্রিকও রয়েছে তাঁর। এই পথচলায় ছিল কঠিন সংগ্রাম। টানাপোড়নের মধ্যে বেড়ে ওঠা তারিক কাজ করতেন দুবাইয়ের হোটেলে। তাঁর কাজ ছিল পেঁয়াজ কাটা।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের সামনে চ্যালেঞ্জটা সহজ নয়। রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে 'এ' গ্রুপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। ফলে সুপার এইটে উঠতে হলে নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র ও নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচগুলোতে জয় পেতেই হবে বাবর আজমদের দলকে।
এই প্রেক্ষাপটে তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন অধিনায়ক সালমান। স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেট পডকাস্টে সালমান বলেন,
‘এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই দলগুলোর বিপক্ষে আমরা খুব বেশি খেলিনি। তাদের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে আমাদের পরিষ্কার ধারণা নেই। দল হিসেবে আমরা শুধু একটি বিষয়েই মনোযোগ দিচ্ছি—৪০ ওভারের মধ্যে কীভাবে আমাদের পরিকল্পনাগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।’
বিশ্বকাপের মঞ্চে সামান্য ভুলও যে পাকিস্তানের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে, সেটি ভালোভাবেই জানে দলটি। তাই বিতর্ক, সমালোচনা আর বাড়তি চাপের মধ্যেও মাঠের ক্রিকেটেই জবাব দিতে চায় পাকিস্তান।

১৫ ফেব্রুয়ারি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মাঠে না গড়ানোর সম্ভাবনাই প্রবল। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ব্লকবাস্টার এই ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা এলেও অনেকেই অবশ্য মনে করছেন পাল্টে যেতে পারে চিত্র। এই যেমন ভারতের সাবেক পেসার চেতন শর্মা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে পাকিস্তান। বিসিসিআইয়ের সাবেক এই প্রধান নির্বাচক বিশ্বাস করেন এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবিত এবং বাংলাদেশের নির্বাচন শেষ হলে পাকিস্তান তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শহবাজ শরীফ বুধবার নিশ্চিত করেছেন যে তারা ভারতের সঙ্গে খেলবেন না এবং বাংলাদেশের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করার কথা বলেন তিনি। গুঞ্জন আছে পাকিস্তানকে রাজি জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আইসিসি। তবে এখন পর্যন্ত নিজেদের সিদ্ধান্তে অটলই পাকিস্তান।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) অবশ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের কথা জানায়নি। ভারতের সাবেক চেতন শর্মা মনে করেন দ্রুতই ‘ইউ টার্ন’ নিয়ে ভারত ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে তিনি বলেন,
‘বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের কী দোষ? কোনো দোষই নেই। এটা রাজনীতি। বাংলাদেশের নির্বাচন ১২ তারিখে। এর পর দেখবেন ইউ-টার্ন।’
বাংলাদেশের নির্বাচনের পর পাকিস্তান ঠিক কী বিবৃতি দিয়ে ম্যাচ খেলতে রাজি হবে সেটাও রসিকতা করে বলেন চেতন,
‘তখন এমন একটি বিবৃতি আসবে—জনমতকে বিবেচনা করে, ক্রিকেটের ক্ষতি হওয়া উচিত নয়, পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে খেলবে।’ এই অবস্থান এখনও শুধুই বাংলাদেশের নির্বাচনের কারণে। আমি নিজে রাজনীতিবিদ; নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। নির্বাচনের পর, হয়তো সেনা প্রধানও বলবেন যে খেলা রাজনীতির বাইরে রাখা উচিত এবং ম্যাচ হওয়া উচিত।’
চেতন শর্মা আরও বলেন,
‘এখন পর্যন্ত, পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসি-কে কিছু জানায়নি। বিবৃতির কোনো মানে নেই যদি তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হয়। যদি কেউ অবসর ঘোষণা করে—কিন্তু যদি তা অফিসিয়ালি জমা না দেয়, কিছুই পরিবর্তিত হয় না। আসলে এখানে কে ক্ষতিগ্রস্ত? ক্রিকেট—এবং ক্রিকেটাররাই।’
ভারতের হয়ে ২৩ টেস্টে ৬১ উইকেট এবং ৬৫ ওয়ানডেতে ৬৭ উইকেট নিয়েছেন ৬০ বছর বয়সী চেতন শর্মা। ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিকও সাবেক এই পেসারের, ১৯৮৭ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ওয়ানডে ভারতের কোনো বোলারের সেটা প্রথম হ্যাটট্রিকও।

আগামীকাল মাঠে গড়াচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১০ম সংস্করণ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেল সহ আয়োজক ভারত। চোটে ছিকটে ছিটকে গেছেন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের পেসার হার্শিত রানা। তার বদলি হিসেবে আজ সন্ধ্যায় মোহাম্মদ সিরাজকে দলে নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
গতকাল সন্ধ্যায় হার্শিতের শারীরিক সমস্যার বিষয়টি টিম ম্যানেজমেন্টকে জানানো হয়। যদিও ভারতের টি–টোয়েন্টি অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ পেস বোলিং অলরাউন্ডার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ পড়েননি। তবে ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছেন বিশ্বকাপে খেলার মতো ফিট নন এই পেসার।
আগামীকাল বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে ভারত। এই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বলেন, ‘হার্শিত রানা এখনও বাদ পড়েনি। ফিজিওরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন, তবে পরিস্থিতি খুব একটা ভালো দেখাচ্ছে না।’
আরও পড়ুন
| টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ধারাভাষ্যে আতহার আলী খান |
|
হার্শিত রানা খেলতে না পারা ভারতের জন্য বড় ধাক্কা হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘১৫ জনের দল গঠনের ক্ষেত্রে আমাদের যে সমন্বয় থাকে, তার জন্যই এটি বড় ধাক্কা হবে। সে না থাকলে অবশ্যই তাকে মিস করব। তবে আমাদের কাছে যথেষ্ট বিকল্প আছে। যে ফাস্ট বোলাররা রয়েছে তাদের মধ্য থেকে সেরা বিকল্প বেছে নেওয়া হবে। হার্শিতের মতো কেউ যদি ৯ নম্বরে ব্যাট করতে পারে, সেটি অবশ্যই সুবিধা; কিন্তু প্রথম আট ব্যাটারদেরও তো দায়িত্ব নিতে হবে—তাদেরই রান করতে হবে।’
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে শারীরিক চোটের কারণে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন রানা। এক ওভারের মধ্যেই দু’বার রান-আপ সম্পূর্ণ করতে না পেরে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন, তাঁর চেহারাতেও স্পষ্ট অস্বস্তি ফুটে উঠছিল। চোটের পড়ার কিছুক্ষণ পরই হাঁটু চেপে ধরে ব্যথায় মাঠ ত্যাগ করেন হার্শিত।
বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচের পর নামিবিয়ার মুখোমুখি হবে ভারত। ১৫ ফেব্রুয়ারি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের ম্যাচটি এখন পর্যন্ত মাঠে না গড়ানোর সম্ভাবনাই বেশি। তারপর ১৮ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটি খেলবে ভারত।