১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০১ পিএম

আল ফাহাদের দারুণ বোলিংয়ে ভারতকে নাগালেই রাখল বাংলাদেশ। বৃষ্টির আগে-পরে ব্যাটিংয়েও ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখল তারা। কিন্তু এরপর নামল ব্যাটিং ধস। তাতেই শেষ জয়ের আশা। ভারতের কাছে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করল বাংলাদেশ।
বুলাওয়ায়োতে শনিবারের ম্যাচে ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশকে ১৮ রানে হারিয়েছে ভারত। আগে ব্যাট করে ২৩৮ রানে অলআউট হয় তারা। পরে বৃষ্টির কারণে ২৯ ওভারে ১৬৫ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। কিন্তু ২২ রানের মধ্যে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
রান তাড়ায় প্রথম ওভারেই জাওয়াদ আবরারের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শুরুর ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৬ রানের জুটি গড়েন আজিজুল হাকিম তামিম ও রিফাত বেগ। ৩৭ বলে ৩৭ রান করে রিফাত আউট হলে ভাঙে জুটি।
এরপর কালাম সিদ্দিকি এলিনকে নিয়ে এগোতে থাকেন তামিম। ইনিংসের ১৮তম ওভারে নামে বৃষ্টি। ফলে ম্যাচ নেমে আসে ২৯ ওভারে। পুনরায় খেলা শুরুর সময় বাংলাদেশের জয়ের জন্য বাকি থাকে ৭০ বলে ৭৫ রান।
দলকে ১০০ পার করিয়ে আউট হন ১৫ রান করা কালাম। এরপর একপ্রান্ত ধরে রেখে ফিফটি করেন তামিম। কিন্তু এরপর আর টিকতে পারেননি তিনি। খিলান প্যাটেলের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে সীমানায় ক্যাচ দেন ৫১ রান করা বাংলাদেশ অধিনায়ক।
এরপর আর পারেননি কোনো ব্যাটার। একপর্যায়ে ৩ উইকেটে ১২৪ রান থেকে ১৪৬ রানেই অল আউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
ভারতের পক্ষে মাত্র ১৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে জয়ের নায়ক বিহান মালহোত্রা।
এর আগে এদিন বৃষ্টির কারণে দেরিতে হয় টস। নিয়মিত অধিনায়ক তামিমের বদলে টস করেন সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার। টস জিতে তিনি ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠান।
ফাহাদের তোপে পাওয়ার প্লের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত। পরপর দুই বলে ভারত অধিনায়ক আয়ুশ মাত্রে (৬) ও ভেদান্ত ত্রিভেদি (০) ড্রেসিং রুমে ফেরেন। বিহান মালহোত্রাও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
চাপের মুখে অবিচল ছিলেন বৈভব সূর্যবংশী। অন্য প্রান্তের ব্যাটাররা টুকটুক করলেও মাত্র ৩০ বলে ফিফটি করে ফেলেন বাঁহাতি ওপেনার। ৬৭ বলে ৭২ রান করা সূর্যবংশীকে আউট করেন ইকবাল হোসেন ইমন।
এরপর একপ্রান্ত ধরে রেখে খেলতে থাকেন অভিজ্ঞান কুন্ডু। রয়েসয়ে খেলে দলকে দুইশ পার করান তিনি।
নতুন স্পেলে ফিরে খিলান প্যাটেলের পর ৮০ রান করা কুন্ডুকেও ফেরান ফাহাদ। আর ভারতের শেষ ব্যাটার দিপেশ দেবেন্দ্রকে আউট করে নিজের ৫ উইকেট পূর্ণ করেন তরুণ পেসার।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দারুণ বোলিং করে ৯.২ ওভারে ৩৮ রান খরচ করে ৫ উইকেট নেন ফাহাদ। যুব বিশ্বকাপে ৫ উইকেট নেওয়ার বাংলাদেশের অষ্টম বোলার তিনি। এছাড়া ইকবাল হোসেন ইমন ও আজিজুল হাকিম তামিম নেন ২টি করে উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত: ৪৮.৪ ওভারে ২৩৮ (আয়ুশ ৬, সূর্যবংশী ৭২, বেদন্ত ০, বিহান ৭, কুন্ডু ৮০, পাঙ্গালিয়া ২, কনিষ্ক ২৮, আমব্রিশ ৫, খিলান ৮, হেনিল ৭*, দিপেশ ১১; ফাহাদ ৯.২-১-৩৮-৫, ইমন ৮-১-৪৫-২, জীবন ১০-১-৪৬-১, তামিম ১০-১-৪২-২, রিজান ৮-০-৪৩-০, সাদ ২.২-০-১৮-০, রাতুল ১-০-৬-০)
বাংলাদেশ: (নতুন লক্ষ্য ২৯ ওভারে ১৬৫) ২৮.৩ ওভারে ১৪৬ (জাওয়াদ ৫, রিফাত ৩৭, তামিম ৫১, কালাম ১৫, জীবন ৭, রিজান ১৫, রাতুল ২, ফরিদ ১, ফাহাদ ০, ইমন ২, সাদ ১*; দিপেশ ৪-০-২৭-১, হেনিল ৪.৩-১-১৭-১, আমব্রিশ ৩-০-১৮-০, কনিষ্ক ৬-০-২২-১, খিলান ৬-০-৩৫-২, আয়ুশ ১-০-৭-০, বিহান ৪-০-১৪-৪)
ফল: ডিএলএস পদ্ধতিতে ১৮ রানে জয়ী ভারত
No posts available.
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:৪৯ পিএম
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:০৭ পিএম
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:৪৬ পিএম

বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই আলো ছড়ালেন আল ফাহাদ। চমৎকার বোলিংয়ে ৫ উইকেট নিলেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের তারকা পেসার। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে তার তোপে ২৩৮ রানে গুটিয়ে গেল ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দারুণ বোলিং করে ৯.২ ওভারে ৩৮ রান খরচ করে ৫ উইকেট নেন ফাহাদ। যুব বিশ্বকাপে ৫ উইকেট নেওয়ার বাংলাদেশের অষ্টম বোলার তিনি। এছাড়া ইকবাল হোসেন ইমন ও আজিজুল হাকিম তামিম নেন ২টি করে উইকেট।
এদিন বৃষ্টির কারণে দেরিতে হয় টস। নিয়মিত অধিনায়ক তামিমের বদলে টস করেন সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার। টস জিতে তিনি ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠান।
ফাহাদের তোপে পাওয়ার প্লের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত। পরপর দুই বলে ভারত অধিনায়ক আয়ুশ মাত্রে (৬) ও ভেদান্ত ত্রিভেদি (০) ড্রেসিং রুমে ফেরেন। বিহান মালহোত্রাও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
চাপের মুখে অবিচল ছিলেন বৈভব সূর্যবংশী। অন্য প্রান্তের ব্যাটাররা টুকটুক করলেও মাত্র ৩০ বলে ফিফটি করে ফেলেন বাঁহাতি ওপেনার। ৬৭ বলে ৭২ রান করা সূর্যবংশীকে আউট করেন ইকবাল হোসেন ইমন।
এরপর একপ্রান্ত ধরে রেখে খেলতে থাকেন অভিজ্ঞান কুন্ডু। রয়েসয়ে খেলে দলকে দুইশ পার করান তিনি।
নতুন স্পেলে ফিরে খিলান প্যাটেলের পর ৮০ রান করা কুন্ডুকেও ফেরান ফাহাদ। আর ভারতের শেষ ব্যাটার দিপেশ দেবেন্দ্রকে আউট করে নিজের ৫ উইকেট পূর্ণ করেন তরুণ পেসার।

সেরা দল নিয়েও ৮ম রাউন্ড শেষে রংপুর রাইডার্সের অবস্থান ছিল নড়বড়ে। ৮ ম্যাচ শেষে ৮ পয়েন্ট নিয়ে কোয়ালিফাইয়ার নিয়েই দুর্ভাবনায় পড়েছিল লিটন-মোস্তাফিজ-হৃদয়-নাহিদ রানা-সোহানদের দল রংপুর রাইডার্স। শেষ ৪ রাউন্ডের পরীক্ষায় পড়া দলটি শনিবার ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১১ রানে হারিয়ে প্লে অফের সমীকরণ মিলিয়েছে রংপুর রাইডার্স।
কীভাবে নবম রাউন্ডের হার্ডল পেরিয়েছে রংপুর, সেই আলোচনায় প্রথমে আনতে হবে দুই ওপেনারের নাম। ডেভিড মালান-তাওহিদ হৃদয়ের হৃদয় জুড়ানো ব্যাটিং, এই দুই ব্যাটারের জোড়া ফিফটি, ৮৫ বলে ১২৬ রানের পার্টনারশিপ বড় স্কোরের আবহ দিয়েছে রংপুর রাইডার্স।
সিলেটে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে চট্টগ্রাম রয়্যালসের মোহাম্মদ নাঈম-রশিংটনের অবিচ্ছিন্ন ১২৩ রানের জুটি ছিল চলমান বিপিএলে ওপেনিং পার্টনারশিপে সর্বোচ্চ। সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন মালান-হৃদয়। মারুফ মৃধাকে ইনিংসের তৃতীয় ওভারে দুর্দান্ত ফ্লিক শটে ছক্কা এবং পয়েন্ট ও মিড অফ দিয়ে দুটি বাউন্ডারিতে মালান ঝড় শুরু। ৩৫ বলে ৬ বাউন্ডারি, ২ ছক্বায় টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ৭৫তম, বিপিএল ক্যারিয়ারে ১২তম ফিফটি উদযাপনের ইনিংসটি থেমেছে নিজের ভুল শট সিলেকশনে। তাসকিনের সেকেন্ড স্পেলের ৬ষ্ঠ বলে লেগ এন্ড মিডল স্ট্যাম্পে পিচিং ডেলিভারিকে স্কুপ শট করতে যেয়ে থেমেছেন মালান ৭৮ রানে। তবে ১৫৯.১৮ স্ট্রাইক রেটে ৪৯ বলে ৮ চার, ৪ ছক্কায় ৭৮ রানের ইনিংসটি পেয়েছে হাততালি।
মিডল অর্ডার থেকে ওপেনিংয়ে প্রমোশন পেয়ে হৃদয় এই বিপিএলে নিজের জাত চেনাতে চেষ্ঠা করছেন। শনিবার শুরুতে ধীর গতিতে ব্যাটিং করে থিতু হওয়ার পর ব্যাটটাকে চওড়া করেছেন। ৪০ বলে ৪ চার, ৩ ছক্কায় টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ২১তম ফিফটি পূর্ণ করেছেন। মারুফ মৃধাকে লং অফের উপর দিয়ে খেলতে যেয়ে ধরা পড়েছেন যখন, তখন তার নামের পাশে ৪৬ বলে ৫ চার, ৪ ছক্কায় ৬২।
দারুণ ওপেনিং পার্টনারশিপের পর শেষ পাওয়ার প্লে-তে রংপুর রাইডার্স ব্যাটারদের কাছে ব্যাটিং ঝড়ের প্রত্যাশা ছিল সবার। তবে শেষ ৫ ওভারকে সেভাবে কাজে লাগাতে পারেনি, ৩ উইকেট হারিয়ে ৫১ রান যোগ করেছে রংপুর। তারপরও রংপুর রাইডার্স ১৮১/৪ স্কোর নিয়ে ছিল দুশ্চিন্তামুক্ত। দুই পেসার নাহিদ রানা (১-০-২-১) এবং ফাহিম আশরাফের (২-০-১৬-২) প্রথম স্পেলে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৩ উইকেট হারিয়ে (৫৩/৩) চাপের মুখে পড়ে ঢাকা ক্যাপিটালস। শেষ ৩০ বলে ৬৯ রানের টার্গেটে পড়ে ঝুঁকি নিয়েছিলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের লোয়ার অর্ডার সাইফুদ্দিন। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ফিফটি উদযাপন করেছেন ২৮ বলে। ৩০ বলে ৩ চার, ৫ ছক্কায় ৫৮ রানে অপরাজিত ইনিংসে অবশ্য ঢাকা ক্যাপিটালসকে জেতাতে পারেননি সাইফউদ্দিন। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গতির বোলার নাহিদ রানার বোলিং (৪-০-১১-৩) এদিন গড়ে দিয়েছে ব্যবধান। ২৪টি ডেলিভারির মধ্যে ১৪টি দিয়েছেন নাহিদ রানা ডট। একটিও বাউন্ডারি মারতে পারেনি তাকে কেউ। তাঁর প্রথম ডেলিভারিটি ছিল ইয়র্কার, সেই ডেলিভারিতে সাইফ হাসান হয়েছেন বোল্ড (৬ বলে ১২)। প্রথম স্পেলে (২-০-৫-২) তাঁর দ্বিতীয় শিকার সাব্বির, শর্ট বলে আপার কাট করতে যেয়ে থার্ডম্যানে থেমেছেন তিনি (৯ বলে ৮)। ৭ম উইকেট জুটিতে সাইফউদ্দিনের সাথে ২৯ বলে ৪৮ রানে অবদান রাখা মিঠুন নাহিদ রানার শেষ স্পেলে (২-০-৬-১) দিয়েছেন কভারে ক্যাচ ( ২৯ বলে ২৫)।

টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিং দিয়ে যেন নিজেদের বিপদই ডেকে আনল জাপান অনূর্ধ্ব-১৯ দল। শুরু থেকে তাণ্ডব চালিয়ে জোড়া বিশ্ব রেকর্ড গড়ল শ্রীলঙ্কার যুবারা। দুই ওপেনার মিলে গড়লেন তিনশ ছাড়ানো জুটি। আর ভিরান চামুদিথা করলেন সর্বোচ্চ রানের বিশ্ব রেকর্ড।
নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ সময় শনিবার দুপুরে শুরু হওয়া ম্যাচে উদ্বোধনী জুটিতে ৩২৮ রান যোগ করেছেন শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার চামুদিথা ও দিমন্থ মহাভিতানা। যুব ওয়ানডেতে যে কোনো জুটিতে এটিই সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।
বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ২০১৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ফিজির বিপক্ষে দ্বিতীয় উইকেটে ৩০৩ রানের জুটি গড়েছিলেন ইংল্যান্ডের দুই ব্যাটার ড্যান লরেন্স ও জ্যাক বার্নহাম। লরেন্সের ব্যাট থেকে আসে ১৭৪ রান ও বার্নহাম করেন ১৪৮ রান।
সেটি টপকে এবার ৪৩.৫ ওভারে ৩২৮ রানের জুটি গড়েছেন চামুদিথা ও মহাভিতানা। ১২৫ বলে ১১৫ রান করে মহাভিতানা রানআউট হলে ভাঙে এই জুটি। পরের ওভারে আউট হন ২৬ চার ও ১ ছক্কায় ১৪৩ বলে ১৯২ রান করা চামুদিথা।
যুব বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। এর আগে ২০১৮ সালের যুব বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে ১৯১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন কেনিয়ারই হাসিথা বোয়াগোড়া। তাকে টপকেই আউট হয়ে যান চামুদিথা।

পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার নজির নতুন নয়। কিংবদন্তি অলরাউন্ডার ইমরান খান রাজনৈতিক দল গঠন করে দেশটির প্রধানমন্ত্রীও হয়েছেন। তার সতীর্থ সরফরাজ নওয়াজও পাকিস্তান পিপলস পার্টিতে যোগ দিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
সেই ধারাবাহিকতায় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি। সম্প্রতি করাচি ছেড়ে রাজধানী ইসলামাবাদে বাসস্থান পরিবর্তন করেছেন আফ্রিদি। এরপরই এই তারকার রাজনীতিতে যোগ দেওয়া নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা।
শৈশবে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের একটি উপজাতীয় এলাকায় জন্ম হলেও আফ্রিদি জীবনের প্রায় পুরোটা সময় কাটিয়েছেন করাচিতে। তবে আফ্রিদি নিজেই নিশ্চিত করেন, এখন থেকে তিনি ইসলামাবাদেই থাকছেন।
রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না- এমন প্রশ্নে আপাতত বিষয়টি নাকচ করে দিলেও ভবিষ্যতের দরজা খোলা রাখলেন আফ্রিদি।
পাকিস্তানের জং পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘আমি চাই পাকিস্তান এগিয়ে যাক। আর সেটা সম্ভব তখনই, যখন সরকার ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাংবিধানিক মেয়াদ পূর্ণ করতে দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তান এবং পাকিস্তান ক্রিকেট আমাকে নাম খ্যাতি ও সম্পদ সবকিছু দিয়েছে। অবশ্যই আমার দেশের জন্য কিছু করতে চাই।’
এর আগে একাধিকবার রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার প্রশ্নে 'না' বললেও এবার তার বক্তব্যে কিছুটা ভিন্ন সুর দেখা গেছে। আফ্রিদি জানান, অতীতে তাকে সরকারি দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তবে তিনি তা গ্রহণ করেননি। কারণ শুধুমাত্র একটি পদে বসে থাকা নয়, দেশের জন্য বড় প্রভাব রাখতে চান তিনি।

পরপর তিন ম্যাচ হেরে কিছুটা শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল রংপুর রাইডার্স। তবে সেটিকে বড় হতে দেননি দাভিদ মালান, তাওহিদ হৃদয়, নাহিদ রানারা। তাদের চমৎকার পারফরম্যান্সে ঢাকা ক্যাপিটালসকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার দুপুরের ম্যাচে ঢাকাকে ১১ রানে হারায় রংপুর। আগে ব্যাট করে মালান ও হৃদয়ের ফিফটিতে তারা পায় ১৮১ রানের পুঁজি। পরে নাহিদের তোপে ১৭০ রানের বেশি করতে পারেনি ঢাকা।
৯ ম্যাচে রংপুরের এটি পঞ্চম জয়। চতুর্থ দল হিসেবে প্লে-অফে উঠল তারা। বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল ৯ ম্যাচে ২টি জেতা ঢাকার। রংপুরের আগে প্লে-অফে ওঠে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, চট্টগ্রাম রয়্যালস ও সিলেট টাইটান্স।
রান তাড়ায় কাইল মেয়ার্সের প্রথম বলেই ছক্কা মারেন উসমান খান। প্রথম ওভার থেকে আসে ১৭ রান। কিন্তু শুরুর এই ঝড় আর চালিয়ে নিতে পারেনি ঢাকা। উল্টো পাওয়ার প্লের ভেতরে তারা হারিয়ে ফেলে ৩টি উইকেট।
১৮ বলে ৩১ রান করে ফেরেন উসমান। রানের খাতা খুলতে পারেননি আব্দুল্লাহ আল মামুন। ক্রিজে গিয়ে প্রথম বল ছক্কায় ওড়ালেও ৬ বলে ১২ রান করে নাহিদ রানার গতিময় ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন সাইফ হাসান।
সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৮ ইনিংসে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সহ-অধিনায়কের সংগ্রহ মাত্র ৬০ রান। গড় ৭.৫০ আর স্ট্রাইক রেট মাত্র ৮৩.৩৩!
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপে পাকিস্তানের দল ঘোষণায় দেরি, হতাশ সাবেক অধিনায়ক |
|
এরপর সাব্বির রহমান ও মোহাম্মদ মিঠুনকেও ফেরান নাহিদ। তার গতির কোনো জবাব দিতে পারেননি অভিজ্ঞ ব্যাটাররা। ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান খরচ করেন ২৩ বছর বয়সী পেসার। কোটার পুরো ওভার করে এর চেয়ে কম রান আগে দেননি নাহিদ।
পরে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন একার লড়াইয়ে দলকে এগিয়ে নেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জেতাতে পারেননি। ৩ চার ও ৬ ছকায় ৩১ বলে খেলেন ক্যারিয়ার সেরা ৫৮ রানের ইনিংস।
নাহিদের ৩ উইকেটের পাশাপাশি ফাহিম আশরাফ নেন ২ উইকেট।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে চমৎকার জুটি গড়েন তাওহিদ হৃদয় ও দাভিদ মালান। শুরুতে কিছুটা সময় নিলেও ক্রমেই খোলস ছেড়ে বের হন দুই ওপেনার। পাওয়ার প্লেতে আসে বিনা উইকেটে ৫০ রান।
একই ছন্দে এগিয়ে ১২তম ওভারে একশ রান পূর্ণ হয় রংপুরের। ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৩৫ বলে ফিফটি করেন মালান। ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ফিফটি করতে হৃদয় খেলেন ৪০ বল। ১৪ ওভারে ১২৬ রান করে ফেলেন দুই ওপেনার।
১৫তম ওভারে তাসকিন আহমেদের প্রথম বলে স্কুপ করতে গিয়ে বোল্ড হন ৪৯ বলে ৭৮ রান করা মালান। পরে কাইল মেয়ার্সের সঙ্গে ১৮ বলে ৩৩ রানের জুটি গড়েন হৃদয়। তার ব্যাট থেকে আসে ৪৬ বলে ৬২ রান।
এছাড়া ১৬ বলে ২৪ রানের ইনিংস খেলেন কাইল মেয়ার্স। পাঁচ নম্বরে নেমে প্রথম বলেই ক্যাচ আউট হন লিটন কুমার দাস।
ঢাকার পক্ষে ৩৩ রানে ২ উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রংপুর রাইডার্স: ২০ ওভারে ১৮১/৪ (মালান ৭৮, হৃদয় ৬২, মেয়ার্স ২৪, খুশদিল ৬*, লিটন ০, সোহান ১*; তাসকিন ৪-০-২০-১, মারুফ ৪-০-৪১-১, সাইফউদ্দিন ৪-০-৩৩-২, ইমাদ ৪-০-৩৯-০, নাসির ২-০-৩০-০, মামুন ২-০-১৩-০)
ঢাকা ক্যাপিটালস: ২০ ওভারে ১৭০/৭ (উসমান ৩১, মামুন ০, সাইফ ১২, সাব্বির ৮, মিঠুন ২৫, শামীম ১০, সাইফউদ্দিন ৫৮*, ইমাদ ২০, তাসকিন ২*; মেয়ার্স ১-০-১৭-০, ফাহিম ৪-০-৪৩-২, মোস্তাফিজ ৪-০-৩০-১, নাহিদ ৪-০-১১-৩, রকিবুল ৪-০-৪৩-১, খুশদিল ৩-০-২৫-০)
ফল: রংপুর রাইডার্স ১১ রানে জয়ী