২৭ এপ্রিল ২০২৫, ৪:৫৩ এম

চলতি মৌসুমে দুটি এল ক্লাসিকোতে ছিল না কোনো প্রাণ। হেসেখেলেই জেতে বার্সেলোনা। কোপা দেল রের ফাইনালের প্রথমার্ধে এক গোল হজম করে যেন সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুই গোল দিয়ে জয়ের আশা জাগাল লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা। কিছুটা ছন্দ হারিয়ে ফেলা হান্সি ফ্লিকের দল সমতা টানল শুরুতে, এরপর জুলস কুন্দের শেষ সময়ের গোলে নিশ্চিত করল মৌসুমে নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা।
সেভিয়ায় রোববার কোপা দেল রের এল ক্লাসিকো ফাইনালে রিয়ালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ সমতায় শেষের পর অতিরিক্ত সময়ে ব্যবধান গড়ে দেন কুন্দে। এই মৌসুমে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে এটি ফ্লিকের দলের হ্যাটট্রিক জয়। এই ফাইনালের আগে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালেও রিয়ালকে হারিয়েছিল বার্সেলোনা।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে কোপা দেল রের শিরোপার জয়ীদের তালিকায় নিজেদের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে বার্সেলোনা। তারা এই প্রতিযোগিতা জিতেছে এই নিয়ে ৩২ বার। রিয়ালের নামের পাশে রয়েছে ২০টি, তারা আছে তিনে। দুইয়ে থাকা আথলেতিক বিলবাও জিতেছে ২৪ বার।
আরও পড়ুন
| ফাইনাল উপভোগ করতে চান বার্সা কোচ |
|
চলতি মৌসুমে এর আগে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে খেলেছিল দুই দল। দুটিতেই ফ্লিকের দলের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি রিয়াল। উভয় ম্যাচেই বার্সেলোনার আক্রমণাত্মক ফুটবলের কাছে মার খায় লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা। এই ম্যাচেও হয়নি তার ব্যতিক্রম।
প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণে প্রতিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত রাখে বার্সেলোনা। তৃতীয় মিনিটে কর্নার থেকে জুলস কুন্দের হেড চলে যায় পোষ্টের ওপর দিয়ে। ম্যাচের আগে রেফারি রিকার্ডো ডি বার্গোস বেনগোয়েটেক্সিয়াকে নিয়ে বিতর্কের কারণে বাড়তি চোখ ছিল তার দিকে। তবে সেই চাপ সামলে ম্যাচের প্রথম দিকে ভালো কিছু সিদ্ধান্তই নেন তিনি।
প্রথম দশ মিনিটে সেভাবে আক্রমণ শানাতে না পারা রিয়াল বড় ধাক্কা খায় ফেরলন্ড মন্ডির চোটে। ভঙ্গুর রক্ষণভাগে তার বদলি হিসেবে অনভিজ্ঞ ফ্রাঙ্ক গার্সিয়াকে নামান আনচেলত্তি। তবে তাতেও চিত্রে আসেনি কোনো বদল। বারবার উইং ধরে আক্রমণে উঠছিলেন ইয়ামাল, আর গতিতে হার মানাচ্ছিলেন রিয়ালের ডিফেন্ডারদের।
১৬তম মিনিটে রাফিনিয়ার ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের বক্সের ভেতর পড়ে যান ফেদেরিকো ভালভের্দে, তখন বল তার হাতে লাগলে পেনাল্টির আবেদন জানায় বার্সেলোনা। তবে রেফারি তাতে সাড়া দেননি।
২১তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া ক্রসে দারুণ এক হেডার লক্ষ্যেই রেখেছিলেন কুন্দে, তবে শেষ মুহূর্তে বাম হাতে ফিস্ট করে ক্লিয়ার করে রিয়ালকে বাঁচান থিবো কোর্তোয়া।
আরও পড়ুন
| এফএ কাপ জিতে ‘বড় ক্ষতি’ এড়াতে চান গার্দিওলা |
|
তবে এর ৭ মিনিট পর আর শেষ রক্ষা করতে পারেননি তিনি। পাল্টা আক্রমণ থেকে বল পেয়ে বাঁদিক থেকে গতিতে রিয়ালের খেলোয়াড়দের নিয়ে ছেলেখেলা করা ইয়ামাল বল বাড়ান বক্সের একটু বাইরে ফাঁকায় থাকা পেদ্রির দিকে। স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার সময় নিয়ে খুঁজে নেন ঠিকানা।
প্রথমার্ধে রিয়ালের সেরা খেলোয়াড় জুড বেলিংহাম ৩৫তম মিনিটে দানি সেবায়োসের পাস থেকে বল জালে পাঠালেও অফসাইডে থাকায় আর মেলেনি গোল।
৪৩তম মিনিটে রাফিনিয়ার কর্নার জটলার মধ্যে ডিফ্লেকশনের পর ফিরে আসে পোস্টে লেগে। এর এক মিনিট বাদে আরেকটি কর্নার থেকেও বার্সেলোনা পেয়েছিল ভালো সুযোগ, তবে কাজে লাগাতে পারেনি।
একতরফা প্রথম ৪৫ মিনিটে রিয়াল গোলের জন্য নিতে পারে মাত্র একটি শট, সেটাও থাকেনি লক্ষ্যে। আর আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়ে যাওয়া বার্সেলোনা ৭টি শটের চারটিই রাখে লক্ষ্যে।
বিরতিতে রদ্রিগোর জায়গায় কিলিয়ান এমবাপেকে নামায় রিয়াল। এই অর্ধের শুরুতেই ভিন্ন ছন্দে হাজির হয় দলটি। ৪৮তম মিনিটে বার্সেলোনার একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে বলের দখল নিয়ে ডান দিকে ক্রস বাড়ান বেলিংহাম। প্রথম টাচে শট না নিয়ে কিছুটা কঠিন এঙ্গেল থেকে শট নেন ভিনিসিয়ুস, যা ফেরান ওজসিচ সেজেনি। ফিরতি বল পেয়ে ফের ব্রাজিল তারকা শট নিলে কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন বার্সেলোনা গোলরক্ষক।
এমবাপে মাঠে নামার পর থেকেই বেড়ে যায় রিয়ালের আক্রমণের ধার। ৫৫তম মিনিটে ড্রিবলিং করে বক্সে প্রবেশ করে বল বাড়ান ভিনিসিয়ুসের দিকে। তবে আরও একবার প্রথম টাচে শট না করে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন ফিফার বর্ষসেরা এই ফুটবলার।
বিরতির আগে টানা আক্রমণ করে যাওয়া বার্সেলোনা এই অর্ধের শুরু থেকে কিছুটা ব্যস্ত সময় কাটায়। আর সেটা হচ্ছিল যার কারণে, সেই এমবাপেই শেষ পর্যন্ত রিয়ালকে ম্যাচ ফেরান। বক্সের বাইরে বল নিয়ে আগুয়ান গতিতে এগিয়ে যাওয়া ফরাসি তারকাকে টেনে ফেলে দেন পেদ্রি। রিয়ালের তীব্র প্রতিবাদের মুখে স্রেফ হলুদ কার্ড পান তিনি।
এরপর ফ্রি-কিক থেকে বার্সেলোনা খেলোয়াড়দের দেয়ালের মধ্য দিয়ে বুলেট গতির এক শটে বল জালে পাঠান এমবাপেই। এই প্রথম পেশাদার ক্যারিয়ারে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে গোলের দেখা পেয়েছেন সাবেক পিএসজি ফরোয়ার্ড।
আরও পড়ুন
| রেফারি পরিবর্তন না হলেও ফাইনালে অংশ নেবে রিয়াল |
|
একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যাওয়া রিয়াল খানিক বাদে পেয়েছিল দারুণ সুযোগ। বাঁদিক থেকে বল নিয়ে বক্সে প্রবেশ করে ভিনিসিয়ুস পাস দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ছয় গজে ফাঁকায় থাকা এমবাপের দিকে। তবে সেযাত্রায় বার্সেলোনা ক্লিয়ার করতে সমর্থ হয়।
প্রথমার্ধের ঠিক বিপরীত ফুটবল খেলা বার্সেলোনাকে এই দ্বিতীয়ার্ধে চেনাই ছিল দায়। একটা গোল হজমের পরও গুছিয়ে উঠতে পারেনি দলটি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে লিডও নিয়ে ফেলে রিয়াল। ৭৭তম মিনিটে আর্দা গুলেরের কর্নার থেকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত এক হেডারে গোল করেন ফরাসি মিডফিল্ডার অহেলিয়া চুয়ামেনি।
৮২তম মিনিটে পেদ্রির পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের কার্লিং শট নেন ইয়ামাল, যা দারুণ ক্ষিপ্রতায় থামান কোর্তোয়া। তবে এর একটু পর তার ভুলে গোল হজম করে বসে রিয়াল। প্রায় মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো বলের দখল নিতে এগিয়ে গিয়েছিলেন স্রেফ ফেররান তরেস। পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে ব্যর্থ হন কোর্তোয়া, আর ডিফেন্ডার আন্টোনিও রুডিগার পারেননি ক্লিয়ারেন্স করতে।
ম্যাচের ধারার বিপরীতে গোল করে যেন প্রাণ ফিরে পায় বার্সেলোনা শিবির। নব্বই মিনিটের খেলা শেষ হওয়ার একটু আগে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ভিনিসিয়ুস।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর দিকে, ঠিক তখন ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে রিয়ালকে প্রায় বিপদে ফেলেই দিচ্ছিলেন রাউল আসেন্সিও। রাফিনিয়াকে ডি-বক্সের মধ্যে ফাউল করে হজম করেন পেনাল্টি। তবে ভিএআর চেকের পর ডাইভ দেওয়ার কারণে পেনাল্টি বাতিল করে রাফিনিয়াকে হলুদ কার্ড দেন রেফারি।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথম দশ মিনিট চলে আক্রমণ ও পাল্টা-আক্রমণের মধ্য দিয়ে। ১০৩তম মিনিটে বক্সের ভেতর সতীর্থের পাস পেয়ে বাঁদিক থেকে জটলার মধ্যে শট নেন তরেস, যা অল্পের জন্য থাকেনি লক্ষ্যে। যদি থাকত, খুঁজে নিত জালের ঠিকানা। কারণ, কোর্তোয়ারও চেয়ে দেখা ছাড়া আর করার ছিল না কিছুই।
১০৭তম মিনিটে আরও একবার রিয়ালের জালে বল পাঠান তরেস। তবে তিনি অফসাইডে থাকাই এই দফায় হতাশই হতে হয় বার্সেলোনাকে। এর মিনিট পাঁচেক পর দুর্দান্ত একটি সুযোগ তৈরি করেন রিয়াল মিডফিল্ডার গুলের। তার ক্রসে ঝাঁপিয়েও হেডার দিতে পারেননি বেলিংহাম।
১১৬তম মিনিটে রিয়ালের সর্বনাশ করেন লুকা মদ্রিচ। নিজেদের অর্ধে অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডারের ভুল পাস থেকে বক্সের বাইরে বল পেয়ে যান কুন্দে। কিছুটা এগিয়ে গিয়ে প্লেসিং শটে পরাস্ত করেন কোর্তোয়া। এর মিনিট খানেক বাদেই বার্সেলোনার বক্সে ফাউলের শিকার হন এমবাপে। শুরুতে পেনাল্টির বাঁশি বাজলেও তিনি নিজেই অফসাইড থাকায় সেটা বাতিল হয়ে যায়।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার ঠিক আগে উত্তেজনা দেখা দেয় রিয়ালের ডাগআউটে। বদলি হিসেবে আগেই উঠে যাওয়া রুডিগার রেফারিকে উদ্দেশ্য করে একটা বস্তু ছুড়ে মারেন। শাস্তি হিসেবে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। এরপর যোগ হয় রিয়ালের হারের দুঃখ।
No posts available.
২২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪২ পিএম

দিনভর দফায় দফায় আলোচনা। লিয়াম রসেনিয়র চেলসির কোচ থাকছেন, নাকি এফএ কাপের আগেই তাকে বরখাস্ত করা হবে। অবশেষে নীতি-নির্ধারকদের সম্মতিতে এখনই চেলসি অধ্যায় শেষ হলো এই ইংলিশ কোচের।
বুধবার এক বিবৃতিতে রসেনিয়রের বরখাস্তের খবর নিশ্চিত করে চেলসি। দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস পর বরখাস্ত হয়েছেন এই ইংলিশ কোচ। স্ট্যাম্পফোর্ড ব্রিজের ক্লাবটির সঙ্গে ছয় বছরের চুক্তি ছিল তার।
রসেনিয়রের দায়িত্বকালে ২৩ ম্যাচের ১০টিতে হার, দুটিতে ড্রয়ের বিপরীতে ১১টি ম্যাচ জিতেছে দ্য ব্লুজরা। যা চেলসির সহস্রাব্দের ইতিহাসে কোনো স্থায়ী কোচের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত মাসে চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে ৫-২ গোলে হারার পর থেকেই পতন শুরু হয় ক্লাবটির। ১৯১২ সালের নভেম্বরের পর (টাইটানিক ডোবার সাত মাস পর) এই প্রথম টানা পাঁচ ম্যাচে কোনো গোল না করেই হারের তেতো স্বাদ পেল চেলসি।
সবশেষ প্রিমিয়ার লিগে ব্রাইটনের বিপক্ষে হারের পর বুধবার জরুরি বৈঠকে বসে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাজ্যভিত্তিক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘স্ট্যান্ডার্ড স্পোর্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ৪১ বছর বয়সী ইংলিশ কোচ লিয়াম রসেনিয়রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বুধবার দিনভর দফায় দফায় আলোচনা করেছে ক্লাবের নীতি-নির্ধারকরা। গত আট ম্যাচের মধ্যে সাতটি এবং টানা পাঁচ ম্যাচে হেরেছে চেলসি। আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়স লিগে খেলার স্বপ্ন এখন সুদূরপরাহত।
জানুয়ারির শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এতদিন টিম এবং ম্যানেজম্যান্ট নিয়ে চুপ থাকলেও এই প্রথম হারের জন্য সরাসরি খেলোয়াড়দের দায়ী করেছেন রসেনিয়র। ব্রাইটনের বিপক্ষে পারফরম্যান্সকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘অমার্জনীয়’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, তার শিষ্যরা ৮০ শতাংশ ডুয়েল (বল দখলের লড়াই) হেরেছে এবং তাদের মধ্যে কোনো লড়াই করার মানসিকতা ছিল না।
মঙ্গলবার ব্রাইটনের মাঠে উপস্থিত ছিলেন চেলসির সহ-মালিক বেহদাদ এগবালি এবং স্পোর্টিং ডিরেক্টর পল উইনস্ট্যানলি। সেখানে সমর্থকরা কোচের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি ‘ব্লু-কো’ মালিকানাধীন গোষ্ঠীকে ক্লাব ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে ব্যানার প্রদর্শন করেন।
এতকিছুর পরও রসেনিয়রের বিশ্বাস ছিল, তিনি চাকরি হারাচ্ছেন না। সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,
‘মালিকপক্ষের সঙ্গে আমার প্রতিদিন কথা হয়। আমার প্রতি খুবই ইতিবাচক। স্পোর্টিং ডিরেক্টররাও আমার এবং দলের প্রতি দারুণ সমর্থন দেখাচ্ছেন।’

প্রিমিয়ার লিগে টানা পাঁচ ম্যাচ হেরে বেশ বিতর্কে চেলসি। ১৯১২ সালের পর এই প্রথম লিগে টানা পাঁচ ম্যাচ হারের পথে কোনো গোল করতে পারল না স্টামফোর্ড ব্রিজের ক্লাব। হারের বৃত্তে বন্দী থাকা চেলসিতে এবার নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, চেলসি ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়ার ব্যক্তিগত হেয়ারড্রেসার (নাপিত) ম্যাচের আগেই ক্লাবের অভ্যন্তরীণ গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ব্রাইটনের বিপক্ষে চেলসির অ্যাওয়ে ম্যাচের (০-৩ গোলে হার) কয়েক ঘণ্টা আগে এই তথ্য ফাঁস হয়।
কুকুরেয়ার চুল কাটার একটি ছবি সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে তার হেয়ারড্রেসার লেখেন, ‘পালমার এবং জোয়াও পেদ্রো—দুজনেই চোটাক্রান্ত। আপনাদের জন্য এক্সক্লুসিভ খবর।’ পরবর্তীতে সেই অ্যাকাউন্টটি মুছে ফেলা হলেও ততক্ষণে তথ্যটি ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ময়করভাবে সেই তথ্য শতভাগ সঠিক প্রমাণিত হয়। কোল পালমার বা জোয়াও পেদ্রো কেউই ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচে নামতে পারেননি।
ম্যানেজমেন্টের ক্ষোভ ব্রাইটনের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ক্লাবের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সহকারী ম্যানেজার লিয়াম রসেনিয়র নিজের ক্ষোভ লুকাতে পারেননি। তিনি বলেন,
‘আমি অনেক সময় খেলোয়াড়দের পক্ষ নিয়ে কথা বলেছি, কিন্তু আজকের এই পারফরম্যান্সের পক্ষে সাফাই গাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
রেকর্ড ব্যর্থতা অবনমন আতঙ্কে থাকা প্রতিবেশী টটেনহ্যাম হটস্পার (২ পয়েন্ট) ছাড়া গত ৯ ম্যাচে চেলসির চেয়ে খারাপ অবস্থা আর কোনো ক্লাবের নেই। পয়েন্ট টেবিলের সাতে নেমে যাওয়া চেলসির জন্য আগামী মৌসুমে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নেওয়া এখন পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গ্রীষ্মকালীন দলবদলে মিডফিল্ডে শক্তি বাড়াতে অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির দিকে নজর দিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। গত বছর আক্রমণভাগ এবং গোলকিপার পজিশনে নজর দেওয়ার পর এবার মিডফিল্ড পুনর্গঠনকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাব।
ইউনাইটেডের সংক্ষিপ্ত তালিকায় নটিংহাম ফরেস্টের এলিয়ট অ্যান্ডারসন, ব্রাইটনের কার্লোস বালেবা এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের অ্যাডাম ওয়ার্টনের নাম নিয়মিত শোনা যাচ্ছে। ম্যাথিউস কুনিয়া এবং ব্রায়ান এমবিউমোর মতো প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড়রা এ মৌসুমে সফল হওয়ায় এই তিনজনের প্রতি ক্লাবের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।
ম্যান ইউনাইটেডের বড় সিদ্ধান্ত রিয়াল মাদ্রিদের ২৬ বছর বয়সী চুয়ামেনিকে নিয়ে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবে তার চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত এবং স্প্যানিশ ক্লাবটি তা আরও বাড়াতে আগ্রহী। তবে বার্নাব্যুতে কোনো ট্রফিহীন এই হতাশাজনক মৌসুম শেষ হওয়ার পর বড় কোনো পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আকর্ষণীয় প্রস্তাব পেলে রিয়াল তাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতে পারে। ২০২২ সালে মোনাকো ছাড়ার সময়ও চুয়ামেনিকে নিতে চেয়েছিল ইউনাইটেড। তখন রিয়ালকেই বেছে নিয়েছিলেন ফরাসি অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার।
চেলসির অপ্রত্যাশিত পতনে মাইকেল ক্যারিকের দল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিশ্চিত করার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। সোমবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ব্রেন্টফোর্ডকে হারাতে পারলে পরবর্তী চার ম্যাচ থেকে মাত্র একটি ইতিবাচক ফলাফল পেলেই দুই বছর পর ইউরোপসেরা টুর্নামেন্টে ফিরবে রেড ডেভিলরা।
চুয়েমেনির দলবদলের ব্যাপারটা কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। ক্যাসেমিরো এবং জেডন সানচোর মতো উচ্চ বেতনভোগী দুই খেলোয়াড়ের ক্লাব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ইউনাইটেডের বেতন কাঠামোতে বড় জায়গা তৈরি হবে। পাশাপাশি ১৫ জুনের ডেডলাইনের আগে বার্সেলোনা ৩ কোটি ইউরোর বিনিময়ে মার্কাস রাশফোর্ডকে কেনার সুযোগ নেয় কি না, তার ওপরও ক্লাবের পরবর্তী পরিকল্পনা নির্ভর করছে।

চ্যাম্পিয়নশিপে হাল সিটির বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করায় লিগ ওয়ানে অবনমন নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত হামজা চৌধুরীর ক্লাব লেস্টার সিটির। ২৪ দলের চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে ৪৪ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে ২৩তম লেস্টার। তাদের হাতে আর দুই ম্যাচ। অবনমন অঞ্চল থেকে বাঁচতে ৭ পয়েন্টের দূরত্বে রয়েছে ক্লাবটি। বাকি দুই ম্যাচ জিতলেও লেস্টারের পক্ষে এই ব্যবধান কাটিয়ে ওঠা সম্ভব না।
লেস্টার সিটির অবনমন নিশ্চিত হওয়ার ভীষণ চাপে কোচ গ্যারি রোয়েট। সামাজিক মাধ্যম এবং মাঠেই তাকে অপসারণের ডাক ওঠে। রোয়েট অবশ্য নিজেও বেশ হতাশ। ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্টস ফুটবলে নিজের চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
রোয়েট বলেন,
‘এটি হতাশাজনক। আজকের ম্যাচটি আমাদের পুরো মৌসুমের পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। প্রথমার্ধে আমরা একটি ভয়াবহ ভুল করে বসি যা প্রতিপক্ষকে এগিয়ে দেয়। আমরা বারবার এমনটা করেছি। ম্যাচের গুরুত্ব বুঝে যে ধরণের তাড়ণা দেখানোর কথা ছিল, তা আমরা দেখাতে পারিনি। যদিও আমরা গোল করার মতো কিছু ভালো সুযোগ তৈরি করেছিলাম।’
দ্বিতীয়ার্ধ নিয়ে তিনি,
‘দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। গত ৫-৬টি ম্যাচে যদি আমরা এই তাড়ণা নিয়ে খেলতাম, তবে আজ আমাদের পয়েন্ট আরও বেশি হতো। আমাদের লড়াকু মানসিকতা দেখা গেছে, অনেক সুযোগও তৈরি হয়েছে, কিন্তু আমরা সেগুলো কাজে লাগাতে পারিনি।’
লেস্টারের অবনমন প্রসঙ্গে রোয়েট বলেন,
‘বড় পরিসরে দেখলে, একটি দল কেবল তিন-চারটি ম্যাচের কারণে অবনমন হয় না। বরং পুরো মৌসুমের ব্যর্থতাই এর কারণ। আমরা গোল করার প্রচুর সুযোগ নষ্ট করেছি ঠিকই, সেটা একমাত্র কারণ নয়। মৌসুমে আমরা মাত্র পাঁচটি ক্লিন শিট রাখতে পেরেছি, তাই দোষটা শুধু ফরোয়ার্ডদের নয়। আমরা আজকেও খুব বাজেভাবে গোল হজম করেছি।’
লেস্টারের এমন পরিস্থিতিতে রোয়েটের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ঢের। তিনি বলেন,
‘ম্যানেজার হিসেবে সম্ভবত এটাই আমার সবচেয়ে হতাশাজনক সময়। কারণ আমি বিশ্বাস করি আমাদের পারফরম্যান্স আরও বেশি পয়েন্ট পাওয়ার যোগ্য ছিল। কিন্তু সুযোগ নষ্ট করার মাশুল আমাদের দিতে হচ্ছে।’

আগামী ২৫ মে ভারতের গোয়ায় পর্দা উঠতে যাচ্ছে অষ্টম সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। গত আসরের মতো এবারও প্রতিবেশী দুই দেশ বাংলাদেশ ও ভারত একই গ্রুপে।
বুধবার ঢাকার সাফ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র। ড্র অনুযায়ী ‘এ’ গ্রুপে পড়েছে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে ভারত, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ। ছয় দেশের অংশগ্রহণে এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে না পাকিস্তান।

ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে অনুষ্ঠিত হয়েছে ড্র। র্যাঙ্কিংয়ে ভারত ও নেপাল শীর্ষ দুই অবস্থানে থাকায় তাদের রাখা হয়েছে দুটি আলাদা গ্রুপে। আর বাংলাদেশ রয়েছে তিন নম্বরে।
২০১০ সালে ঢাকায় প্রথম নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই থেকে ভারত টানা পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তাদের সাফল্যে ভাগ বসায় বাংলাদেশ। গত দুটি আসরের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের সামনে এবার হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের লড়াই।