২৭ এপ্রিল ২০২৫, ৪:৫৩ এম

চলতি মৌসুমে দুটি এল ক্লাসিকোতে ছিল না কোনো প্রাণ। হেসেখেলেই জেতে বার্সেলোনা। কোপা দেল রের ফাইনালের প্রথমার্ধে এক গোল হজম করে যেন সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুই গোল দিয়ে জয়ের আশা জাগাল লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা। কিছুটা ছন্দ হারিয়ে ফেলা হান্সি ফ্লিকের দল সমতা টানল শুরুতে, এরপর জুলস কুন্দের শেষ সময়ের গোলে নিশ্চিত করল মৌসুমে নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা।
সেভিয়ায় রোববার কোপা দেল রের এল ক্লাসিকো ফাইনালে রিয়ালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ সমতায় শেষের পর অতিরিক্ত সময়ে ব্যবধান গড়ে দেন কুন্দে। এই মৌসুমে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে এটি ফ্লিকের দলের হ্যাটট্রিক জয়। এই ফাইনালের আগে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালেও রিয়ালকে হারিয়েছিল বার্সেলোনা।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে কোপা দেল রের শিরোপার জয়ীদের তালিকায় নিজেদের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে বার্সেলোনা। তারা এই প্রতিযোগিতা জিতেছে এই নিয়ে ৩২ বার। রিয়ালের নামের পাশে রয়েছে ২০টি, তারা আছে তিনে। দুইয়ে থাকা আথলেতিক বিলবাও জিতেছে ২৪ বার।
আরও পড়ুন
| ফাইনাল উপভোগ করতে চান বার্সা কোচ |
|
চলতি মৌসুমে এর আগে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে খেলেছিল দুই দল। দুটিতেই ফ্লিকের দলের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি রিয়াল। উভয় ম্যাচেই বার্সেলোনার আক্রমণাত্মক ফুটবলের কাছে মার খায় লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা। এই ম্যাচেও হয়নি তার ব্যতিক্রম।
প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণে প্রতিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত রাখে বার্সেলোনা। তৃতীয় মিনিটে কর্নার থেকে জুলস কুন্দের হেড চলে যায় পোষ্টের ওপর দিয়ে। ম্যাচের আগে রেফারি রিকার্ডো ডি বার্গোস বেনগোয়েটেক্সিয়াকে নিয়ে বিতর্কের কারণে বাড়তি চোখ ছিল তার দিকে। তবে সেই চাপ সামলে ম্যাচের প্রথম দিকে ভালো কিছু সিদ্ধান্তই নেন তিনি।
প্রথম দশ মিনিটে সেভাবে আক্রমণ শানাতে না পারা রিয়াল বড় ধাক্কা খায় ফেরলন্ড মন্ডির চোটে। ভঙ্গুর রক্ষণভাগে তার বদলি হিসেবে অনভিজ্ঞ ফ্রাঙ্ক গার্সিয়াকে নামান আনচেলত্তি। তবে তাতেও চিত্রে আসেনি কোনো বদল। বারবার উইং ধরে আক্রমণে উঠছিলেন ইয়ামাল, আর গতিতে হার মানাচ্ছিলেন রিয়ালের ডিফেন্ডারদের।
১৬তম মিনিটে রাফিনিয়ার ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের বক্সের ভেতর পড়ে যান ফেদেরিকো ভালভের্দে, তখন বল তার হাতে লাগলে পেনাল্টির আবেদন জানায় বার্সেলোনা। তবে রেফারি তাতে সাড়া দেননি।
২১তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া ক্রসে দারুণ এক হেডার লক্ষ্যেই রেখেছিলেন কুন্দে, তবে শেষ মুহূর্তে বাম হাতে ফিস্ট করে ক্লিয়ার করে রিয়ালকে বাঁচান থিবো কোর্তোয়া।
আরও পড়ুন
| এফএ কাপ জিতে ‘বড় ক্ষতি’ এড়াতে চান গার্দিওলা |
|
তবে এর ৭ মিনিট পর আর শেষ রক্ষা করতে পারেননি তিনি। পাল্টা আক্রমণ থেকে বল পেয়ে বাঁদিক থেকে গতিতে রিয়ালের খেলোয়াড়দের নিয়ে ছেলেখেলা করা ইয়ামাল বল বাড়ান বক্সের একটু বাইরে ফাঁকায় থাকা পেদ্রির দিকে। স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার সময় নিয়ে খুঁজে নেন ঠিকানা।
প্রথমার্ধে রিয়ালের সেরা খেলোয়াড় জুড বেলিংহাম ৩৫তম মিনিটে দানি সেবায়োসের পাস থেকে বল জালে পাঠালেও অফসাইডে থাকায় আর মেলেনি গোল।
৪৩তম মিনিটে রাফিনিয়ার কর্নার জটলার মধ্যে ডিফ্লেকশনের পর ফিরে আসে পোস্টে লেগে। এর এক মিনিট বাদে আরেকটি কর্নার থেকেও বার্সেলোনা পেয়েছিল ভালো সুযোগ, তবে কাজে লাগাতে পারেনি।
একতরফা প্রথম ৪৫ মিনিটে রিয়াল গোলের জন্য নিতে পারে মাত্র একটি শট, সেটাও থাকেনি লক্ষ্যে। আর আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়ে যাওয়া বার্সেলোনা ৭টি শটের চারটিই রাখে লক্ষ্যে।
বিরতিতে রদ্রিগোর জায়গায় কিলিয়ান এমবাপেকে নামায় রিয়াল। এই অর্ধের শুরুতেই ভিন্ন ছন্দে হাজির হয় দলটি। ৪৮তম মিনিটে বার্সেলোনার একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে বলের দখল নিয়ে ডান দিকে ক্রস বাড়ান বেলিংহাম। প্রথম টাচে শট না নিয়ে কিছুটা কঠিন এঙ্গেল থেকে শট নেন ভিনিসিয়ুস, যা ফেরান ওজসিচ সেজেনি। ফিরতি বল পেয়ে ফের ব্রাজিল তারকা শট নিলে কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন বার্সেলোনা গোলরক্ষক।
এমবাপে মাঠে নামার পর থেকেই বেড়ে যায় রিয়ালের আক্রমণের ধার। ৫৫তম মিনিটে ড্রিবলিং করে বক্সে প্রবেশ করে বল বাড়ান ভিনিসিয়ুসের দিকে। তবে আরও একবার প্রথম টাচে শট না করে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন ফিফার বর্ষসেরা এই ফুটবলার।
বিরতির আগে টানা আক্রমণ করে যাওয়া বার্সেলোনা এই অর্ধের শুরু থেকে কিছুটা ব্যস্ত সময় কাটায়। আর সেটা হচ্ছিল যার কারণে, সেই এমবাপেই শেষ পর্যন্ত রিয়ালকে ম্যাচ ফেরান। বক্সের বাইরে বল নিয়ে আগুয়ান গতিতে এগিয়ে যাওয়া ফরাসি তারকাকে টেনে ফেলে দেন পেদ্রি। রিয়ালের তীব্র প্রতিবাদের মুখে স্রেফ হলুদ কার্ড পান তিনি।
এরপর ফ্রি-কিক থেকে বার্সেলোনা খেলোয়াড়দের দেয়ালের মধ্য দিয়ে বুলেট গতির এক শটে বল জালে পাঠান এমবাপেই। এই প্রথম পেশাদার ক্যারিয়ারে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে গোলের দেখা পেয়েছেন সাবেক পিএসজি ফরোয়ার্ড।
আরও পড়ুন
| রেফারি পরিবর্তন না হলেও ফাইনালে অংশ নেবে রিয়াল |
|
একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যাওয়া রিয়াল খানিক বাদে পেয়েছিল দারুণ সুযোগ। বাঁদিক থেকে বল নিয়ে বক্সে প্রবেশ করে ভিনিসিয়ুস পাস দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ছয় গজে ফাঁকায় থাকা এমবাপের দিকে। তবে সেযাত্রায় বার্সেলোনা ক্লিয়ার করতে সমর্থ হয়।
প্রথমার্ধের ঠিক বিপরীত ফুটবল খেলা বার্সেলোনাকে এই দ্বিতীয়ার্ধে চেনাই ছিল দায়। একটা গোল হজমের পরও গুছিয়ে উঠতে পারেনি দলটি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে লিডও নিয়ে ফেলে রিয়াল। ৭৭তম মিনিটে আর্দা গুলেরের কর্নার থেকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত এক হেডারে গোল করেন ফরাসি মিডফিল্ডার অহেলিয়া চুয়ামেনি।
৮২তম মিনিটে পেদ্রির পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের কার্লিং শট নেন ইয়ামাল, যা দারুণ ক্ষিপ্রতায় থামান কোর্তোয়া। তবে এর একটু পর তার ভুলে গোল হজম করে বসে রিয়াল। প্রায় মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো বলের দখল নিতে এগিয়ে গিয়েছিলেন স্রেফ ফেররান তরেস। পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে ব্যর্থ হন কোর্তোয়া, আর ডিফেন্ডার আন্টোনিও রুডিগার পারেননি ক্লিয়ারেন্স করতে।
ম্যাচের ধারার বিপরীতে গোল করে যেন প্রাণ ফিরে পায় বার্সেলোনা শিবির। নব্বই মিনিটের খেলা শেষ হওয়ার একটু আগে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ভিনিসিয়ুস।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর দিকে, ঠিক তখন ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে রিয়ালকে প্রায় বিপদে ফেলেই দিচ্ছিলেন রাউল আসেন্সিও। রাফিনিয়াকে ডি-বক্সের মধ্যে ফাউল করে হজম করেন পেনাল্টি। তবে ভিএআর চেকের পর ডাইভ দেওয়ার কারণে পেনাল্টি বাতিল করে রাফিনিয়াকে হলুদ কার্ড দেন রেফারি।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথম দশ মিনিট চলে আক্রমণ ও পাল্টা-আক্রমণের মধ্য দিয়ে। ১০৩তম মিনিটে বক্সের ভেতর সতীর্থের পাস পেয়ে বাঁদিক থেকে জটলার মধ্যে শট নেন তরেস, যা অল্পের জন্য থাকেনি লক্ষ্যে। যদি থাকত, খুঁজে নিত জালের ঠিকানা। কারণ, কোর্তোয়ারও চেয়ে দেখা ছাড়া আর করার ছিল না কিছুই।
১০৭তম মিনিটে আরও একবার রিয়ালের জালে বল পাঠান তরেস। তবে তিনি অফসাইডে থাকাই এই দফায় হতাশই হতে হয় বার্সেলোনাকে। এর মিনিট পাঁচেক পর দুর্দান্ত একটি সুযোগ তৈরি করেন রিয়াল মিডফিল্ডার গুলের। তার ক্রসে ঝাঁপিয়েও হেডার দিতে পারেননি বেলিংহাম।
১১৬তম মিনিটে রিয়ালের সর্বনাশ করেন লুকা মদ্রিচ। নিজেদের অর্ধে অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডারের ভুল পাস থেকে বক্সের বাইরে বল পেয়ে যান কুন্দে। কিছুটা এগিয়ে গিয়ে প্লেসিং শটে পরাস্ত করেন কোর্তোয়া। এর মিনিট খানেক বাদেই বার্সেলোনার বক্সে ফাউলের শিকার হন এমবাপে। শুরুতে পেনাল্টির বাঁশি বাজলেও তিনি নিজেই অফসাইড থাকায় সেটা বাতিল হয়ে যায়।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার ঠিক আগে উত্তেজনা দেখা দেয় রিয়ালের ডাগআউটে। বদলি হিসেবে আগেই উঠে যাওয়া রুডিগার রেফারিকে উদ্দেশ্য করে একটা বস্তু ছুড়ে মারেন। শাস্তি হিসেবে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। এরপর যোগ হয় রিয়ালের হারের দুঃখ।
No posts available.
৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:২৯ পিএম
৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:৩৮ পিএম

জাতীয় দল কিংবা ক্লাব—দুই জার্সিতেই বছরজুড়ে গোলের পর গোল করেছেন। নরওয়ে ও ম্যানচেস্টার সিটিতে সমানতালে গোল উৎসব করে ক্যারিয়ারে পেলেন আরেকটি স্বীকৃতি। টানা ছয়বার নরওয়ের বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়ে ‘হেক্সা’ পূরণ করলেন তারকা এই ফরোয়ার্ড।
প্রতি বছর নরওয়েজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বছরের সেরা নারী ও পুরুষ ফুটবলারকে স্বর্ণপদক (গোল্ডেন বল) পুরস্কার দিয়ে থাকে। পুরুষদের বিভাগে আগের পাঁচ বছরে সেরার এই স্বীকৃতি পান হলান্ড। আর মেয়েদের বিভাগে বছরের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হওয়া ক্যারোলাইন গ্রাহাম হ্যানসেন গত সাত বছরে ষষ্ঠবার এই পদক পাচ্ছেন।
টানা ষষ্ঠবারের মতো বর্ষসেরা নির্বাচিত হয়ে হলান্ড বললেন, ‘আবার জিততে পেরে দারুণ লাগছে। এটা দারুণ এবং আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।
২০২৫ সাল হল্যান্ডের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। গত বছর হলান্ডের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল জাতীয় দলকে বিশ্বকাপে তোলা। সদ্য সমাপ্ত বছরের কথা স্বরণ করে এই ‘গোলমেশিন, বলেন,
‘এটা খুবই রোমাঞ্চকর একটি বছর ছিল, অনেক কিছু ঘটেছে। বিশ্বকাপের যোগ্যতা পাওয়া অসাধারণ এবং বড় ঘটনা। আমার জন্য এটাই বছরের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। এটা অংশ হওয়া দারুণ এবং অবশেষে সফল হওয়া আরও ভালো লাগছে।’
ইতালিকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের টিকিট কাটে নরওয়ে। ওই ম্যাচে জোড়া গোল করেন হলান্ড। ২০২৫ সালে মাত্র নয়টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৭টি গোল করে দলকে বিশ্বকাপে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ২৫ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
দলকে বিশ্বকাপে পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখাই ছিল হল্যান্ডের জন্য বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সিটির ফরোয়ার্ড বলেন,
‘আমরা সান সিরোতে গিয়েছিলাম এবং জানতাম আমরা যোগ্যতা অর্জন করব। তবে ৪-১ গোলে ইতালিকে হারিয়ে সেটা দারুণ স্টাইলিশভাবেই হলো। এটা আমরা কেবল স্বপ্নে ভাবতে পারতাম। তাই এটা অনেক বড় অর্জন, আমরা ভীষণ খুশি। এখন আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছি, এবং আমি অনেক আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছি।’
গত বছর প্রিমিয়ার লিগেও ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে অসাধারণ মৌসুম কাটিয়েছেন হলান্ড। প্রিমিয়ার লিগে ১০০ গোল করার দ্রুততম খেলোয়াড় এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৫০ গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি। চলতি মৌসুমেও লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হলান্ড। ২১ ম্যাচে ২০ গোল করেছেন এই স্ট্রাইকার।

একজন উইঙ্গারের প্রধান দায়িত্ব প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠানো। পাশাপাশি অ্যাসিস্টে অবদান রাখাও প্রত্যাশিত। কিন্তু ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সেই মানদণ্ডে একেবারেই ফিকে।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সবশেষ ২০ ম্যাচে গোলের খাতা খুলতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদের এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। এ সময়ে পেয়েছেন মাত্র তিনটি অ্যাসিস্ট। বিপরীতে শাস্তির খাতায় নাম লিখিয়েছেন আরও ঘন ঘন—চারটি হলুদ কার্ড পেয়েছেন এসময়।
ভিনিসিয়ুসের সর্বশেষ গোলের জন্য ফিরতে হবে প্রায় ৬০ দিন পেছনে। সবশেষ গত বছরের ১০ অক্টোবর জাতীয় দলের গোল হয়ে করেছিলেন ভিনি। সাউথ কোরিয়ার বিপক্ষে ১ গোল ও এক অ্যাসিস্ট পেয়েছিলেন ভিনি। তার আগে ৫ অক্টোবর ক্লাবের হয়ে লা লিগায় জোড়া গোল পেয়েছিলেন ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে। এরপর থেকে গোল যেন হারিয়েই ফেলেছেন ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গার।
ফর্মহীনতার সঙ্গে যোগ হয়েছে মাঠের উত্তেজনা ও আচরণগত বিতর্ক। শেষ ২০ ম্যাচে চারবার হলুদ কার্ড দেখার পাশাপাশি একাধিকবার জড়িয়েছেন নিজ দলের কোচ, প্রতিপক্ষ কোচ এবং টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে তর্কে।
গতবছরের ২৬ অক্টোবর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এল ক্লাসিকোতে ৭২ মিনিটে বদলি হিসেবে তুলে নেওয়া হয় ভিনিসিয়ুসকে। সিদ্ধান্তটি মেনে নিতে পারেননি তিনি। টাচলাইনের দিকে হাঁটার সময় বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রকাশ্যেই। বদলি হিসেবে রদ্রিগোকে নামানোর সিদ্ধান্ত নেন কোচ জাবি আলোনসো, যা নিয়েই মূলত ক্ষোভের সূত্রপাত।
সাধারণত বদলি হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় কোচের সঙ্গে হাই-ফাইভ বা কোলাকুলি করেন খেলোয়াড়রা। কিন্তু ভিনিসিয়ুস সেই সৌজন্য দেখাননি। আলোনসোর দিকে তাকানো তো দূরের কথা, বেঞ্চেও না বসে সরাসরি টানেলের দিকে চলে যান। পরে ফিরে এলেও কোচের সঙ্গে সম্পর্কের শীতলতা স্পষ্ট ছিল।
সর্বশেষ সুপারকোপার সেমিফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ দিয়েগো সিমিওনের সঙ্গেও তর্কে জড়ান ভিনিসিয়ুস। ম্যাচ চলাকালীন সিমিওনের খোঁচায় উতপ্ত হয়ে পাল্টা জবাব দেন রিয়ালের ৭ নম্বর জার্সিধারী।
গোল নেই, ফর্ম নেই—তার ওপর আচরণগত বিতর্ক। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জন্য সময়টা যে মোটেও স্বস্তির নয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় সত্য।

তারুণ্যের উৎসব ব্যানারে ধলেশ্বরী জোনে আজ থেকে শুরু হয়েছে অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ। উদ্বোধনী ম্যাচে শরিয়তপুর জেলাকে ৩-০ পরাজিত করে স্বাগতিক রাজবাড়ী জেলা।
রাজবাড়ী জেলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার প্রথমার্ধে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ করেও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় রাজবাড়ী। ৫৯ মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে মো. নাসিম খানের ক্রসে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে রাজবাড়ীকে লিড এনে দেন রাহুল বিশ্বাস।
দুই মিনিট পর মাঝমাঠ থেকে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মো. কাজী আসলান। ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আবারও ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন আসলান। এতে নিশ্চিত হয় রাজবাড়ীর বড় জয়।
পরিসংখ্যানেও রাজবাড়ীর আধিপত্য স্পষ্ট ছিল। তারা অন টার্গেট ৬টি শট নেয়, কর্নার আদায় করে ৭টি এবং ফ্রি কিক পায় ৮টি। বল দখলে রাজবাড়ী ছিল ৬০ শতাংশ সময়। অন্যদিকে শারিয়তপুর নেয় ৩টি অন টার্গেট শট, কর্নার ৫টি, ফ্রি কিক ৭টি।
জোড়া গোল করে ম্যাচসেরা হয়েছেন রাজবাড়ী জেলার আসলান।
এই প্রতিযোগিতার এটি দ্বিতীয় জোনের খেলা। এর আগে ঝিনাইদহ জোনের খেলা শেষ হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়ালের কাছে এক শোক বার্তায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। শুক্রবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায় বাফুফে।
শোক বার্তায় ফিফা সভাপতি উল্লেখ করেন,
‘বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ও পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে গেছেন।’
আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনের পক্ষ থেকে ফিফা সভাপতি বাংলাদেশ সরকার, বাফুফে এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও এই শোক বার্তার জন্য ফিফা সভাপতি এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল সম্প্রদায়ের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম নক্ষত্রের জীবনাবসান হয়েছে গত ৩০ ডিসেম্বর। সেদিন ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন ‘মা, মাটি ও মানুষের নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়া।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ইতিহাসে অনেক ব্রাজিলিয়ান তারকাই মাঠ মাতিয়েছেন। গোলের পর গোল করে দলের জয়ে অবদান রেখেছেন। ব্যাক্তিগত অনেক অর্জনেরও স্বাক্ষী হয়েছেন। তবে এত এত তারকাদের টপকে এক জায়গায় সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন আড়ালে থাকা এক ব্রাজিলিয়ান।
প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল করা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার এখন ইগোর থিয়াগো। সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে গত পরশু জোড়া গোল করে দারুণ এই রেকর্ডে নাম লেখান ব্রেন্টফোর্ডের এই ফরোয়ার্ড।
২০২৫-২৬ মৌসুমে লিগে ২১ ম্যাচে ১৬ গোল করে ইগোর থিয়াগো ছাড়িয়ে গেছেন ম্যাথিউস কুনহাকে। বর্তমানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলা কুনহা গত মৌসুম উলভারহ্যাম্পটনের হয়ে ৩৩ ম্যাচে ১৫ গোল করেন। অর্থাৎ ১২ ম্যাচ কম খেলেই এই রেকর্ডে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন ২৪ বছর বয়সী ইগোর থিয়াগো। এছাড়া প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে ১৫ গোল করেছেন রবার্তো ফিরমিনো, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি।
গত রোববার এভার্টনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পর টানা দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকের পথে ছিলেন থিয়াগো। তবে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ৮২তম মিনিটে তাকে তুলে নেন ব্রেন্টফোর্ডের কোচ কিথ অ্যান্ড্রুজ।
ইভান টোনি, ব্রায়ান এমবেউমো ও ইয়োয়ানে উইসার ক্লাব ছাড়ার পর ব্রেন্টফোর্ডের প্রথম পছন্দের স্ট্রাইকার হিসেবে থিয়াগোর এটি প্রথম মৌসুম। ২০২৪ সালের ক্লাব ব্রুজ থেকে ৩ কোটি পাউন্ডে তাকে দলে নেয় ব্রেন্টফোর্ড। তবে চোটের কারণে পুরো প্রথম মৌসুমই মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি।
এ মৌসুমে লিগে ২০ ম্যাচেই শুরুর একাদশে খেলেছেন ইগর থিয়াগো। চার ম্যাচে করেছেন জোড়া গোল, পেয়েছেন একটি হ্যাটট্রিক। ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ডের প্রশংসা করে ব্রেন্টফোর্ডের কোচ কেইথ অ্যান্ড্রু বিবিসিকে বলেন, ‘সে একজন বিশেষ মানুষ, যে খুব সুন্দরভাবে এই জীবন মানিয়ে নিয়েছে। এই জায়গায় আসতে তাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। নিজের পথ নিজেই তৈরি করেছে এবং কঠোর পরিশ্রম করেছে। তার ব্যক্তিত্বে প্রবল দৃঢ়তা আছে। সে নিয়মিত নিজের দক্ষতা বাড়াচ্ছে, আর আমরা ধীরে ধীরে তাকে আরও ভালোভাবে জানতে পারছি। সে প্রায় পরিপূর্ণ একজন সেন্টার-ফরোয়ার্ড।’
থিয়াগো এখনও ব্রাজিল জাতীয় দলে সুযোগ পাননি। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার দৌড়ে বেশ জোরালো দাবিই জানিয়ে রাখলেন তিনি।