২৭ এপ্রিল ২০২৫, ৪:৫৩ এম

চলতি মৌসুমে দুটি এল ক্লাসিকোতে ছিল না কোনো প্রাণ। হেসেখেলেই জেতে বার্সেলোনা। কোপা দেল রের ফাইনালের প্রথমার্ধে এক গোল হজম করে যেন সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুই গোল দিয়ে জয়ের আশা জাগাল লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা। কিছুটা ছন্দ হারিয়ে ফেলা হান্সি ফ্লিকের দল সমতা টানল শুরুতে, এরপর জুলস কুন্দের শেষ সময়ের গোলে নিশ্চিত করল মৌসুমে নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা।
সেভিয়ায় রোববার কোপা দেল রের এল ক্লাসিকো ফাইনালে রিয়ালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ সমতায় শেষের পর অতিরিক্ত সময়ে ব্যবধান গড়ে দেন কুন্দে। এই মৌসুমে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে এটি ফ্লিকের দলের হ্যাটট্রিক জয়। এই ফাইনালের আগে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালেও রিয়ালকে হারিয়েছিল বার্সেলোনা।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে কোপা দেল রের শিরোপার জয়ীদের তালিকায় নিজেদের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে বার্সেলোনা। তারা এই প্রতিযোগিতা জিতেছে এই নিয়ে ৩২ বার। রিয়ালের নামের পাশে রয়েছে ২০টি, তারা আছে তিনে। দুইয়ে থাকা আথলেতিক বিলবাও জিতেছে ২৪ বার।
আরও পড়ুন
| ফাইনাল উপভোগ করতে চান বার্সা কোচ |
|
চলতি মৌসুমে এর আগে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে খেলেছিল দুই দল। দুটিতেই ফ্লিকের দলের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি রিয়াল। উভয় ম্যাচেই বার্সেলোনার আক্রমণাত্মক ফুটবলের কাছে মার খায় লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা। এই ম্যাচেও হয়নি তার ব্যতিক্রম।
প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণে প্রতিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত রাখে বার্সেলোনা। তৃতীয় মিনিটে কর্নার থেকে জুলস কুন্দের হেড চলে যায় পোষ্টের ওপর দিয়ে। ম্যাচের আগে রেফারি রিকার্ডো ডি বার্গোস বেনগোয়েটেক্সিয়াকে নিয়ে বিতর্কের কারণে বাড়তি চোখ ছিল তার দিকে। তবে সেই চাপ সামলে ম্যাচের প্রথম দিকে ভালো কিছু সিদ্ধান্তই নেন তিনি।
প্রথম দশ মিনিটে সেভাবে আক্রমণ শানাতে না পারা রিয়াল বড় ধাক্কা খায় ফেরলন্ড মন্ডির চোটে। ভঙ্গুর রক্ষণভাগে তার বদলি হিসেবে অনভিজ্ঞ ফ্রাঙ্ক গার্সিয়াকে নামান আনচেলত্তি। তবে তাতেও চিত্রে আসেনি কোনো বদল। বারবার উইং ধরে আক্রমণে উঠছিলেন ইয়ামাল, আর গতিতে হার মানাচ্ছিলেন রিয়ালের ডিফেন্ডারদের।
১৬তম মিনিটে রাফিনিয়ার ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের বক্সের ভেতর পড়ে যান ফেদেরিকো ভালভের্দে, তখন বল তার হাতে লাগলে পেনাল্টির আবেদন জানায় বার্সেলোনা। তবে রেফারি তাতে সাড়া দেননি।
২১তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া ক্রসে দারুণ এক হেডার লক্ষ্যেই রেখেছিলেন কুন্দে, তবে শেষ মুহূর্তে বাম হাতে ফিস্ট করে ক্লিয়ার করে রিয়ালকে বাঁচান থিবো কোর্তোয়া।
আরও পড়ুন
| এফএ কাপ জিতে ‘বড় ক্ষতি’ এড়াতে চান গার্দিওলা |
|
তবে এর ৭ মিনিট পর আর শেষ রক্ষা করতে পারেননি তিনি। পাল্টা আক্রমণ থেকে বল পেয়ে বাঁদিক থেকে গতিতে রিয়ালের খেলোয়াড়দের নিয়ে ছেলেখেলা করা ইয়ামাল বল বাড়ান বক্সের একটু বাইরে ফাঁকায় থাকা পেদ্রির দিকে। স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার সময় নিয়ে খুঁজে নেন ঠিকানা।
প্রথমার্ধে রিয়ালের সেরা খেলোয়াড় জুড বেলিংহাম ৩৫তম মিনিটে দানি সেবায়োসের পাস থেকে বল জালে পাঠালেও অফসাইডে থাকায় আর মেলেনি গোল।
৪৩তম মিনিটে রাফিনিয়ার কর্নার জটলার মধ্যে ডিফ্লেকশনের পর ফিরে আসে পোস্টে লেগে। এর এক মিনিট বাদে আরেকটি কর্নার থেকেও বার্সেলোনা পেয়েছিল ভালো সুযোগ, তবে কাজে লাগাতে পারেনি।
একতরফা প্রথম ৪৫ মিনিটে রিয়াল গোলের জন্য নিতে পারে মাত্র একটি শট, সেটাও থাকেনি লক্ষ্যে। আর আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়ে যাওয়া বার্সেলোনা ৭টি শটের চারটিই রাখে লক্ষ্যে।
বিরতিতে রদ্রিগোর জায়গায় কিলিয়ান এমবাপেকে নামায় রিয়াল। এই অর্ধের শুরুতেই ভিন্ন ছন্দে হাজির হয় দলটি। ৪৮তম মিনিটে বার্সেলোনার একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে বলের দখল নিয়ে ডান দিকে ক্রস বাড়ান বেলিংহাম। প্রথম টাচে শট না নিয়ে কিছুটা কঠিন এঙ্গেল থেকে শট নেন ভিনিসিয়ুস, যা ফেরান ওজসিচ সেজেনি। ফিরতি বল পেয়ে ফের ব্রাজিল তারকা শট নিলে কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন বার্সেলোনা গোলরক্ষক।
এমবাপে মাঠে নামার পর থেকেই বেড়ে যায় রিয়ালের আক্রমণের ধার। ৫৫তম মিনিটে ড্রিবলিং করে বক্সে প্রবেশ করে বল বাড়ান ভিনিসিয়ুসের দিকে। তবে আরও একবার প্রথম টাচে শট না করে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন ফিফার বর্ষসেরা এই ফুটবলার।
বিরতির আগে টানা আক্রমণ করে যাওয়া বার্সেলোনা এই অর্ধের শুরু থেকে কিছুটা ব্যস্ত সময় কাটায়। আর সেটা হচ্ছিল যার কারণে, সেই এমবাপেই শেষ পর্যন্ত রিয়ালকে ম্যাচ ফেরান। বক্সের বাইরে বল নিয়ে আগুয়ান গতিতে এগিয়ে যাওয়া ফরাসি তারকাকে টেনে ফেলে দেন পেদ্রি। রিয়ালের তীব্র প্রতিবাদের মুখে স্রেফ হলুদ কার্ড পান তিনি।
এরপর ফ্রি-কিক থেকে বার্সেলোনা খেলোয়াড়দের দেয়ালের মধ্য দিয়ে বুলেট গতির এক শটে বল জালে পাঠান এমবাপেই। এই প্রথম পেশাদার ক্যারিয়ারে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে গোলের দেখা পেয়েছেন সাবেক পিএসজি ফরোয়ার্ড।
আরও পড়ুন
| রেফারি পরিবর্তন না হলেও ফাইনালে অংশ নেবে রিয়াল |
|
একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যাওয়া রিয়াল খানিক বাদে পেয়েছিল দারুণ সুযোগ। বাঁদিক থেকে বল নিয়ে বক্সে প্রবেশ করে ভিনিসিয়ুস পাস দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ছয় গজে ফাঁকায় থাকা এমবাপের দিকে। তবে সেযাত্রায় বার্সেলোনা ক্লিয়ার করতে সমর্থ হয়।
প্রথমার্ধের ঠিক বিপরীত ফুটবল খেলা বার্সেলোনাকে এই দ্বিতীয়ার্ধে চেনাই ছিল দায়। একটা গোল হজমের পরও গুছিয়ে উঠতে পারেনি দলটি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে লিডও নিয়ে ফেলে রিয়াল। ৭৭তম মিনিটে আর্দা গুলেরের কর্নার থেকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত এক হেডারে গোল করেন ফরাসি মিডফিল্ডার অহেলিয়া চুয়ামেনি।
৮২তম মিনিটে পেদ্রির পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের কার্লিং শট নেন ইয়ামাল, যা দারুণ ক্ষিপ্রতায় থামান কোর্তোয়া। তবে এর একটু পর তার ভুলে গোল হজম করে বসে রিয়াল। প্রায় মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো বলের দখল নিতে এগিয়ে গিয়েছিলেন স্রেফ ফেররান তরেস। পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে ব্যর্থ হন কোর্তোয়া, আর ডিফেন্ডার আন্টোনিও রুডিগার পারেননি ক্লিয়ারেন্স করতে।
ম্যাচের ধারার বিপরীতে গোল করে যেন প্রাণ ফিরে পায় বার্সেলোনা শিবির। নব্বই মিনিটের খেলা শেষ হওয়ার একটু আগে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ভিনিসিয়ুস।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর দিকে, ঠিক তখন ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে রিয়ালকে প্রায় বিপদে ফেলেই দিচ্ছিলেন রাউল আসেন্সিও। রাফিনিয়াকে ডি-বক্সের মধ্যে ফাউল করে হজম করেন পেনাল্টি। তবে ভিএআর চেকের পর ডাইভ দেওয়ার কারণে পেনাল্টি বাতিল করে রাফিনিয়াকে হলুদ কার্ড দেন রেফারি।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথম দশ মিনিট চলে আক্রমণ ও পাল্টা-আক্রমণের মধ্য দিয়ে। ১০৩তম মিনিটে বক্সের ভেতর সতীর্থের পাস পেয়ে বাঁদিক থেকে জটলার মধ্যে শট নেন তরেস, যা অল্পের জন্য থাকেনি লক্ষ্যে। যদি থাকত, খুঁজে নিত জালের ঠিকানা। কারণ, কোর্তোয়ারও চেয়ে দেখা ছাড়া আর করার ছিল না কিছুই।
১০৭তম মিনিটে আরও একবার রিয়ালের জালে বল পাঠান তরেস। তবে তিনি অফসাইডে থাকাই এই দফায় হতাশই হতে হয় বার্সেলোনাকে। এর মিনিট পাঁচেক পর দুর্দান্ত একটি সুযোগ তৈরি করেন রিয়াল মিডফিল্ডার গুলের। তার ক্রসে ঝাঁপিয়েও হেডার দিতে পারেননি বেলিংহাম।
১১৬তম মিনিটে রিয়ালের সর্বনাশ করেন লুকা মদ্রিচ। নিজেদের অর্ধে অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডারের ভুল পাস থেকে বক্সের বাইরে বল পেয়ে যান কুন্দে। কিছুটা এগিয়ে গিয়ে প্লেসিং শটে পরাস্ত করেন কোর্তোয়া। এর মিনিট খানেক বাদেই বার্সেলোনার বক্সে ফাউলের শিকার হন এমবাপে। শুরুতে পেনাল্টির বাঁশি বাজলেও তিনি নিজেই অফসাইড থাকায় সেটা বাতিল হয়ে যায়।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার ঠিক আগে উত্তেজনা দেখা দেয় রিয়ালের ডাগআউটে। বদলি হিসেবে আগেই উঠে যাওয়া রুডিগার রেফারিকে উদ্দেশ্য করে একটা বস্তু ছুড়ে মারেন। শাস্তি হিসেবে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। এরপর যোগ হয় রিয়ালের হারের দুঃখ।
No posts available.
৩ মার্চ ২০২৬, ৭:৩৯ পিএম

প্রতিপক্ষ শক্তিশালী, এশিয়ান কাপের সবচেয়ে সফল দল। তাদের বিপক্ষেই কি না বাজি ধরলেন বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার। দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোলকিপার রুপনা চাকমাকে বসিয়ে দিলেন বেঞ্চে। গোলবারের দায়িত্ব তুলে দিলেন মিলি আক্তারের কাঁধে। ১৯ বছর বয়সি এই গোলকিপার দায়িত্ব সামলেছেন, কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন, চীনের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছেন; আর সবশেষে লড়াকু এক ম্যাচের গল্পে নিজেকে রেখেছেন দারুণভাবে।
ফুটবলে গোলকিপারের বীরত্বগাথা নিয়ে অনেক সময় তুলনা করা হয় চীনের মহাপ্রাচীরের সঙ্গে। সেই চীনা দলের বিপক্ষেই অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে গোলবারের সামনে বাঁধার প্রাচীর গড়লেন বাংলাদেশের মিলি আক্তার। এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপে আজ তাদের বিপক্ষে যদিও ০-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ।
তবে এমন হারার মাঝেও যে জয় আছে। সেটি অনুধাবন করতে চীন সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য জানলেই তো হয়। এই চীন এশিয়ান কাপের সবচেয়ে সফল দল। তারা ৯বারের চ্যাম্পিয়ন। বর্তমান চ্যাম্পিয়নও তারা। নিয়মিত খেলে বিশ্বকাপে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে চীনের অবস্থান ১৭। সেখানে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে; ১১২ নম্বরে আছে লাল সবুজের মেয়েরা। এই প্রতিযোগিতায় এবারই প্রথম খেলছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ।
আজ বাংলাদেশ চীনের বিপক্ষে মাঠে নামে ৫-৩-২ ফর্মেশন মেনে। দ্বিতীয়ার্ধে ছক বদলে যায়, একজন ডিফেন্ডারের বদলে মিডফিল্ডে শক্তি বাড়ান বাংলাদেশ কোচ বাটলার। দ্বিতীয়ার্ধে আরও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে মাঠে নামে বাটলারের শিষ্যরা। এই অর্ধে গোলের সুযোগ যেমন তৈরি করেছে বাংলাদেশ, তেমনি কয়েকটি পরিষ্কার সেভও করেছেন মিলি আক্তার।
ম্যাচ শেষে কোচ বাটলারের প্রশংসা ধরেছে মিলিকে নিয়ে। এদিন প্রথম গোলে মিলির পজিশন ঠিক জায়গায় থাকলে হয়ত সেটি গোল না-ও হতে পারত। তবে এটুকু ভুল হতে পারে বলেও জানান ব্রিটিশ কোচ। বলেন,
‘মিলি আজ অসাধারণ খেলেছে। সে কিছু ভুল করেছে, মানুষ ভুল করবেই। তবে আমি দলে নতুনত্ব আনতে চেয়েছিলাম এবং আমি এ ধরণের সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পাই না।’
বাংলাদেশের শুরুর একাদশে আজ রুপনা চাকমার জায়গায় মিলিকে দেখে অনেকেই চমকে গেছেন। দেশসেরা গোলকিপার নেই, তাও আবার এমন একটা শক্তিশালী দলের বিপক্ষে। তবে বাটলার বলেছেন দলে কারও জায়গা স্থায়ী নয়, পারফরম্যান্স করেই টিকে থাকতে হবে। রুপনার না থাকার ব্যাখ্যায় কোচ বলেন,
‘রুপনা খুব ভালো খেলে, সে দারুণ একজন চরিত্র। কিন্তু তাঁর উচ্চতা কিছুটা কম। আমি তো আর তাঁকে রাতারাতি ৬ ইঞ্চি লম্বা করে দিতে পারব না। আমি সবসময় দলে স্বচ্ছতা এবং প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে চাই। রুপনা বা মিলি— কারোরই দলে জায়গা নিশ্চিত নয়।’
এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ৬ মার্চ, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মধ্যে বিলাসবহুল ব্যক্তিগত জেটে করে সৌদি আরব ছেড়েছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্যা সান জানিয়েছে, প্রায় সাত ঘণ্টার ফ্লাইট শেষে তাঁর ব্যক্তিগত জেট স্পেনের মাদ্রিদে অবতরণ করেছে। আল নাসরের তারকা ফরোয়ার্ড জীবনসঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজ ও পাঁচ সন্তানকে নিয়ে রিয়াদে থাকেন। সৌদি আরবের রাজধানীতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারসহ রোনালদোর স্পেনের উড়াল দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে একাধিক সংবাদমাধ্যম।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্যা সানের–এর দাবি, প্রায় ৬৭ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ১ হাজার কোটি) মূল্যের তার গালফস্ট্রিম জি৬৫০ ব্যক্তিগত জেটেই দেশ ছাড়েন রোনালদো। ‘উড়ন্ত প্রাসাদ’ নামে পরিচিত এই অত্যাধুনিক বিমানটি একটানা ৭ হাজার মাইলের বেশি উড়তে সক্ষম এবং এতে ১৯ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারেন।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটট্রেডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো-এর জেটটি মিশর ও ভূমধ্যসাগরের ওপর দিয়ে উড়ে স্পেনে পৌঁছায়। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক ডজনের বেশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে মার্কিন নাগরিকদের সরে যেতে আহ্বান জানায়। মিশরের পূর্বাঞ্চলে অবস্থানকারীদেরও দ্রুত এলাকা ছাড়তে বলা হয়। রাতভর রিয়াদের উদ্দেশে যাওয়া বহু ফ্লাইট মাঝপথ থেকে ফিরে যেতে দেখা গেছে। যুদ্ধাপরিস্থিতি থেকে বাঁচতে হাজার হাজার বিদেশি নাগরিক অঞ্চল ছাড়ার চেষ্টা করছেন।
২০২৪ সালে রোনালদো ২০১৫ সালে কেনা ১৬ মিলিয়ন পাউন্ডের গালফস্ট্রিম জি২০০ বিক্রি করে দেন। এরপর প্রায় ৬১ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে নতুন বোম্বার্ডিয়ার গ্লোবাল এক্সপ্রেস ৬৫০০ জেট কেনেন ‘সিআর সেভেন’। সম্পূর্ণ কালো রঙের এই বিলাসবহুল বিমানটিতে সর্বোচ্চ ১৫ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারেন। এতে আলাদা আলাদা কক্ষ রয়েছে—টেবিল ও সোফাসহ বসার জায়গা, ডাবল বেডসমৃদ্ধ স্যুট এবং পৃথক শাওয়ার এরিয়া।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের কারণে সব ধরনের খেলাই বন্ধ আছে। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৫-২৬ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিটের পশ্চিমাঞ্চলের শেষ ষোলোর প্রথম লেগের ম্যাচগুলোর সূচি নতুন করে নির্ধারণ করা হবে।
এছাড়া ৩ ও ৪ মার্চ এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু এবং এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের পশ্চিমাঞ্চলের কোয়ার্টার-ফাইনাল প্রথম লেগের ম্যাচগুলো হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তী ঘোষণা দেওয়া না পর্যন্ত বন্ধ থাকবে খেলা।

ক্রীড়াবিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার লরিয়াস ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ডসের সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছেন ২০২৫ ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান দেম্বেলে। ফরাসি ফরোয়ার্ডের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী পল ভোল্টার আরমান্ড ডুপ্লান্টিস, টেনিস তারকা কার্লোস আলকারাজ ও ইয়ানিক সিনার।
২০ এপ্রিল স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের ঐতিহাসিক প্যালাসিও ডি সিবেলেসে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। এবার মোট আটটি বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হবে। এর মধ্যে চারটি বিভাগেই জয়ের সুযোগ রয়েছে ফুটবলের—যা গত বছর ছিল তিনটি। অর্থাৎ ২০২৫ সালের তুলনায় এবার ফুটবলের সম্ভাবনা আরও বেড়েছে।
গত বছর একমাত্র ফুটবলার হিসেবে পুরস্কার জিতেছিলেন স্পেনের বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল। দলীয় বিভাগে পুরস্কার পেয়েছিল সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ।
দলীয় পুরস্কারে ফুটবলের আধিপত্য বেশ স্পষ্ট। গত সাত আসরের ছয়টিতেই জিতেছে ফুটবল দল। এবার মনোনয়ন পেয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি) এবং ইউরো শিরোপা ধরে রাখা ইংল্যান্ড নারী দল। তালিকায় আছে ইউরোপিয়ান রাইডার কাপ দল, ভারতের নারী ক্রিকেট দল, ওকলাহোমা সিটি থান্ডার ও ম্যাকলারেন।
‘স্পোর্টসম্যান অব দ্য ইয়ার’ বিভাগে রয়েছেন ব্যালন ডি’অর জয়ী ফরাসি তারকা দেম্বেলে। ইয়ানিক সিনার, আলকারাজ, সাইক্লিস্ট তাদেজ পগাচার ও মোটরসাইকেল রেসার মার্ক মার্কেস তাঁর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী।
‘স্পোর্টসওম্যান অব দ্য ইয়ার’ বিভাগে রয়েছেন স্পেন ও বার্সেলোনার মিডফিল্ডার বোনমাতি। টানা তিনবার ব্যালন ডি’অর ফেমিনিন জেতা এই তারকা দ্বিতীয়বারের মতো লরিয়াস জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছেন তিনি। গত বছর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জিমন্যাস্ট সিমন বেইলসের কাছে হেরে যান।
নারী বিভাগে বোনমাতির প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাথলেট সিডনি ম্যাকলাফলিন-লেভরোন, মেলিসা জেফারসন-উডেন, কেনিয়ার দৌড়বিদ ফেইথ কিপিয়েগন, টেনিস খেলোয়াড় আরিনা সাবালেঙ্কা ও সাঁতারু কেটি লেডেকি।
ইংল্যান্ড নারী দলের অধিনায়ক উইলিয়ামনসন শর্টলিস্টে রয়েছেন। ২০২৫ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর তার দল ইংল্যান্ডের ‘লায়নেসেস’-ও দলীয় পুরস্কারের শর্টলিস্টে জায়গা করে নিয়েছে।
পিএসজি তারকা দিজিরে দুয়ে মনোনয়ন পেয়েছেন ‘ওয়ার্ল্ড ব্রেকথ্রু অব দ্য ইয়ার’ বিভাগে। তার সঙ্গে রয়েছেন ব্রাজিলের টেনিস তারকা জোয়াঁও ফনসেকা, কানাডার বাস্কেটবল তারকা শাই জি গিলজিয়াস-আলেকজান্ডার, ডার্টস খেলোয়াড় লুক লিটালা, ফর্মূলা ওয়ান চ্যাম্পিয়ন ল্যান্ডো নরিস ও সাঁতারু ইউ জি-দি।
‘ওয়ার্ল্ড কামব্যাক অব দ্য ইয়ার’ বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন উইলিয়ামসন। ২০২৩ নারী বিশ্বকাপের মাত্র তিন মাস আগে এসিএল ইনজুরিতে পড়ে টুর্নামেন্ট মিস করেন তিনি। তবে সেই হতাশা কাটিয়ে গত বছর ইংল্যান্ডকে আবারও ইউরো শিরোপা জেতান।
এ বিভাগে আরও রয়েছেন টেনিস খেলোয়াড় আমান্দা আনিসিমোভা। সাইক্লিস্ট ইগান বার্নাল, গলফার ররি ড্যানিয়েল এবং ব্রিটিশ সাইক্লিস্ট সিমন ইয়াতেস। গত বছর এ পুরস্কার জিতেছিলেন ব্রাজিলের জিমন্যাস্ট রেবেকা আন্দ্রাদে।

ফুটবলে বাংলাদেশের মেয়েদের গণ্ডি দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের মধ্যে এতোদিন ছিল সীমাবদ্ধ। সেই গণ্ডিটা পেরিয়ে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে এখন আফঈদারা। এএফসি উইমেন্স ফুটবলে বাছাইপর্বের হার্ডল পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশের মেয়েদের কোয়ালিফাই করাকে অনেকে তুলনা করেছেন পুকুরের সাঁতারের সঙ্গে অথৈ সমুদ্র গর্ভে হারিয়ে যাওয়াকে। এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্বের অভিষেকটা না জানি কতোটা বিধ্বস্ত হতে হয়, সে শঙ্কাও করেছে অনেকে। চূড়ান্ত পর্বের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ যখন চীন, এএফসি এশিয়ান উইমেন্স কাপে সর্বাধিক ৯ বারের চ্যাম্পিয়নদের সাথে ব্যবধানটা অনেক, এমনটাই বলাবলি করেছে অনেকে। ফিফা উইমেন্স র্যাঙ্কিংয়ে ১৭-এর সঙ্গে ১১২ লড়বে কী করে ? এটাও ছিল অনেকের প্রশ্ন। তবে মাঠের লড়াইয়ে বাটলারের দল র্যাঙ্কিংয়ের এই ৯৫ ধাপ দূরত্ব কমিয়ে এনেছেন। নারী ফুটবলে এশিয়ার পরাশক্তি চীনের মেয়েদের চোখে চোখ রেখে ৯০ মিনিট সমানতালে লড়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা।
০-২ এ হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে ম্যাচের এই স্কোর লাইন কিন্তু বাংলাদেশের মেয়েদের লড়াকু খেলার প্রকৃত চিত্র নয়।
বল দখলের লড়াইয়ের চিত্রটা বাংলাদেশ নারী দলকে রাখবে এগিয়ে। যেখানে পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েদের পায়ে বলের দখল ছিল ৫৩%, চীনের সেখানে ৪৭%। ব্যবধান শুধুমাত্র অভিজ্ঞতার।
৫-৩-২ ফরমেশনে শুরু থেকে বাংলাদেশ নারী দল খেলেছে চীনের ৩-৩-৩-১ ফরমেশনের বিপক্ষে। চীনের আক্রমন সারাক্ষণ সামাল দিতে হবে, তা ধরে নিয়েই ডিফেন্সিভ স্ট্র্যাটেজিতে খেলার কৌশল ছিল বাংলাদেশ নারী দলের হেড কোচ বাটলারের। এই ফরমেশনে চীনের সাঁড়াশি আক্রমন সামাল দিয়েছে অধিকাংশ সময়।
খেলার প্রথম ৪৩ এবং শেষ ৪৫, এই ৮৮ মিনিট চীনকে ভালভাবেই প্রতিহত করেছে। এই সময়ে বাংলাদেশ নারী দলের কাউন্টার অ্যাটাকগুলোও ছিল বলার মতো। ম্যাচের ২৪ মিনিটে জে লিউ'র ক্রস থেকে যখন ওয়াং সুয়াং গোল করে বসেছিলেন, তখন গ্যালারি নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে সেটা যে ছিল অফসাইড, ভিএআর প্রযুক্তিতে তা ধরা পড়ায় সেই গোল বাতিল হলে প্রাণে পানি ফিরে পান প্রবাসী সমর্থকরা। এমন একটা ম্যাচে আক্ষেপ প্রথমমার্ধের ২ মিনিট। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এসে মাত্র ২ মিনিটের ২টি গোল হজম করতে হয়েছে। প্রথম গোলটিতে অবশ্য বাংলাদেশের মেয়েদের প্রতিরোধের সাধ্যি ছিল না। ডান প্রান্ত থেকে ম্যাচের সেরা উইংগার ওয়াং সুয়াং যে থ্রুটি পেয়েছেন, তা থেকে কোনাকুনি শটে গোল করে অস্বস্তি কাটিয়েছেন (১-০)। তবে মাত্র ২ মিনিট পর, অর্থাৎ ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে জাং রুই যে গোলটি করে ব্যবধান দ্বিগুন করেছেন (২-০), তার দায়টা বর্তাবে বাংলাদেশ নারী দলের ডিফেন্ডারদের উপর। বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থতায় হজম করতে হয়েছে এই গোলটি। ডি বক্সে জটলার মধ্যে নেয়া চীন স্ট্রাইকারের শট বাংলাদেশ গোলরক্ষক পাঞ্চ করেছেন, সামনে থাকা অধিনায়ক আফঈদা বলটি ক্লিয়ারে ব্যর্থ হলে আগুয়ান জাং রুইয়ের নেয়া শট কোহাতি কিসকুর পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জাল স্পর্শ করেছে।
সিডনীতে ঋতুপর্ণা চাকমার গতি, ক্ষীপ্রতা এবং দূরপাল্লার শট সবাইকে বিস্মিত করেছে। খেলার ১৪তম মিনিটে মাঝমাঠে বাঁ প্রান্ত থেকে বল পেয়ে দ্রুতগতিতে ঢুকে বাঁ পায়ে নিয়েছিলেন তীব্র শট। তার নেয়া কোনাকুনি শট অবিশ্বাস্যভাবে চীনের গোলরক্ষক লাফিয়ে ফিস্ট করে কর্নারের বিনিময়ে প্রতিহত করেন। বড় ম্যাচে মেসি, এমবাপের একটি দুটি মুভ যেমন দর্শককে মুগ্ধ করে, ঠিক তেমনি ঋতুপর্ণা ওই একক নৈপূণ্যে আক্রমনটি নিঃসন্দেহে পয়সা উশুল করেছে স্টেডিয়ামে জড়ো হওয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের। ২ মিনিট পর চীনের গোলরক্ষকের পা থেকে বল ছো মেরে ঋতুপর্ণা কোনাকুনি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ২টি পরিবর্তনে ডিফেন্সটা হয়েছে বেশ শক্ত। এই অর্ধে চীনের প্রাচীর ভাঙ্গার মতো সুযোগও তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে। খেলার ৫৯ মিনিটের মাথায় আফঈদার শুণ্যে ভাসানো বল থেকে ছোট ডি বক্সের ঠিক সামনে দাঁড়ানো সামসুন্নাহারের ব্যাকহেডটা গোলপোষ্টের দিকে ধাবিত হলেই অন্তত একবার ভেঙ্গে যেতো চীনের প্রাচীর। এমন এক ম্যাচে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে সুইডেন প্রবাসী অনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর অভিষেক হয়েছে। তবে খেলতে পেরেছেন মাত্র ৪ মিনিট। এই ম্যাচে বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি আক্তারকেও দিতে হবে হাততালি।
২ গোলে হেরেও সাহসী লড়াইয়ে সমৃদ্ধ আগামীর বার্তা দিয়েছে আফঈদার দল। এশিয়ার পরাশক্তিদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।

ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সফল কোচ হওয়ার মতো সবকিছুই করেছেন তিনি। তাঁর কোচিংয়ে একের পর এক শিরোপাও জিতেছে দল। এমনকি শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্তও করে ফ্লামেঙ্গো। আর এমন কোচকেই কি না বহিষ্কার করল ব্রাজিলের ক্লাবটি!
ফ্লামেঙ্গো থেকে বহিষ্কার হয়েছেন ফিলিপে লুইস। ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটির কোচের অধীনে শেষ ক্যাম্পেওনাতো ক্যারেওকা-র সেমিফাইনালে। যে ম্যাচে মাদুরেইরাকে ৮-০ উড়িয়ে দেয় ফ্লামেঙ্গো। আর ফাইনালের ওঠার কয়েক ঘণ্টা পরই চাকরি হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত হন ৪০ বছর বয়সী ফিলিপে লুইস।
ফিলিপেকে বহিষ্কার করার বিবৃতিতে ফ্লামেঙ্গো জানায়, ‘ফিলিপে লুইস আর পেশাদার দলের দায়িত্বে থাকছেন না। তার সঙ্গে সহকারী কোচ ইভান পালাঙ্কো এবং ফিটনেস ট্রেনার দিয়োগো লিনহারেসও ক্লাব ছাড়ছেন।’ ফ্লামঙ্গোতে ফিলিপের অবদানের ধন্যবাদ জানিয়ে ক্লাবটির পক্ষ থেকে আরও বল হয়, ‘সাবেক খেলোয়াড় ও কোচ ফিলিপে লুইসকে এই যাত্রায় অর্জিত সাফল্য ও অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছে ফ্লামেঙ্গো। তার পেশাদার ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য ক্লাব শুভকামনা জানাচ্ছে।’
সাবেক চেলসি ডিফেন্ডার ফিলিপে লুইস ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ফ্লামেঙ্গোর দায়িত্ব নেন। ক্লাবটির হয়ে ডাগ-আউটে ১০০ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এই সময়ে ফ্লামেঙ্গোকে জিতিয়েছেন সাতটি শিরোপা¬—গড়ে প্রতি ১৪ ম্যাচে একটি করে ট্রফি।
তবে নতুন বছরে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখা শুরু করে ফ্লামেঙ্গো। ২০২৬ সালে টানা দুটি ফাইনালে হেরে যায় ফ্লামেঙ্গো। সুপার কোপ ব্রাজিল এবং রিকোপা সুদামেরিকানো টুর্নামেন্টে-এ রানার্সআপ হয়।
সোমবার রাতে ক্যাম্পেওনাতো ক্যারেওকা-র সেমিফাইনালে দ্বিতীয় লেগে ৮-০ জয়ের মাধ্যমে মাদুরেইরার বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে ১১-০ ব্যবধানে জিতে ফাইনালের টিকিট কাটে ফ্লামেঙ্গো। ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্যারিওকা শিরোপা জয়ের সুযোগ তৈরি হয় তাদের সামনে। রোববারের ফাইনালে প্রতিপক্ষ ফ্লামেনেন্সে। কিন্তু সেই ফাইনালে লুইস আর ডাগআউটে থাকবেন না।
লুইস ফিলিপে খেলোয়াড়ি জীবনে হোসে মরিনিয়ো-র অধীনে ২০১৫ সালে চেলসির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ জেতেন। কোচিং ক্যারিয়ারেও একের পর এক চমক দেখাতে থাকেন তিনি। ২০২৫ সালে তার অধীনেই ফ্লামেঙ্গো জেতে কোপা লিবার্তাদোরেস। এর আগে তিনি ২০১৯ ও ২০২২ সালে খেলোয়াড় হিসেবে ফ্লামেঙ্গোর হয়ে লিবার্তাদোরেস জিতেছিলেন।
এছাড়া ফিলিপের কোচিংয়ে ফ্লামেঙ্গো আরও জেতে ব্রাজিলিয়ান সিরি আ, কোপা দো ব্রাজিল, সুপারকোপা দো ব্রাজিল, ক্যাম্পেওনাতো কারিওকা, ফিফা চ্যালেঞ্জার কাপ এবং ফিফা ডার্বি অব দ্য আমেরিকাস। এর আগে তিনি ফ্লামেঙ্গোর অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ দলকেও লিগ শিরোপা জেতান। লুইস ১০১ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করে ৬৪টি জয় ও মাত্র ১৫টি হার নিয়ে বিদায় নিচ্ছেন, যা অনেক অভিজ্ঞ কোচের কাছেও ঈর্ষণীয়।
চলতি মৌসুমে লিগ টেবিলে ফ্লামেঙ্গোর অবস্থান ১১তম। প্রথম তিন ম্যাচে তারা একটি করে জয়, ড্র ও হার পেয়েছে। এক ম্যাচ বেশি খেলা পালমেইরাস শীর্ষে আছে।
২০২৬ মৌসুমের শুরু থেকেই সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মাদুরেইরার বিপক্ষে বড় জয়ের আগে ফ্লামেঙ্গো সুপারকোপা দো ব্রাসিলে করিন্থিয়ান্সের বিপক্ষে এবং লানুসের কাছে কনমেবল রিকোপায় হেরেছে। বছরের শুরুতেই শিরোপা হাতছাড়া হওয়ায় সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
৮-০ জয়ের ম্যাচেও গ্যালারি থেকে কিছু সমর্থক খেলোয়াড়দের উদ্দেশে ‘লজ্জাহীন’ স্লোগান দেন। শেষ সংবাদ সম্মেলনে লুইস সমালোচনা এড়িয়ে যাননি। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল আমি এখানে না থাকলেও, ফ্লামেঙ্গোর প্রতি আমার ভালোবাসা চিরকাল থাকবে। এবং আমি বিশ্বাস করি সমর্থকদের পক্ষ থেকেও তা থাকবে।’
রিও ডি জেনেইরোতে সাত বছরের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত লুইস বলেন, ‘আমি নিঃসন্দেহে এখানে আমার জীবনের সেরা সময় কাটিয়েছি।’