৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ৬:৪৩ পিএম

ম্যানচেস্টার সিটির কোচ হিসেবে শুরু থেকে পেপ গার্দিওলার দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন তিনি। ফিট থাকলে তাকে কখনই বসিয়ে রাখেন না অভিজ্ঞ এই কোচ। অথচ আগের কয়েক ম্যাচের পর সবশেষ লিভারপুলের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচে ফিট কেভিন ডে ব্রুইনাকে শুরুর একাদশে রাখা হয়নি। এতে বাতাসে ভাসছে গুঞ্জন, গার্দিওলার সাথে নাকি সমস্যা চলছে বেলজিয়ান মিডফিল্ডারের। বিষয়টি নিয়ে ক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে সিটি কোচ একহাত নিয়েছেন নিন্দুকদের।
গত সেপ্টেম্বরে পাওয়া চোট কাটিয়ে ফেয়ার পর থেকে শুরুর একাদশে জায়গা করে নিতে লড়তে হচ্ছে ডে ব্রুইনাকে। পাঁচটি ম্যাচ খেলেছেন বদলি হিসেবে নেমে। লিভারপুলের সাথে তাকে গার্দিওলা নামান দল ২-০ তে পিছিয়ে পড়ার পর। স্কাই স্পোর্টসের দুই পন্ডিত গ্যারি নেভিল এবং জেমি ক্যারাগার ওই ম্যাচের পর দাবি করেন, গার্দিওলার সাথে ডে ব্রুইনার কিছু সমস্যা যাচ্ছে। সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা নেভিল বলেছিলেন, ব্রুইনের পরিস্থিতি ‘অস্বাভাবিক, উদ্ভট ও অদ্ভুত’।
আরও পড়ুন
| লিভারপুলের কাছে হেরে গার্দিওলা বললেন, ‘হয়ত ছাঁটাই হওয়া উচিত’ |
|
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রসঙ্গে জানতে না চাওয়া হলেও নিজেই বিষয়টি এনে বিরক্তি প্রকাশ করেন গার্দিওলা। “লোকেরা বলে আমার সাথে নাকি কেভিনের সমস্যা আছে। আপনারা কি আসলেই মনে করেন আমি কেভিনকে খেলাতে পছন্দ করি না? হ্যাঁ, আসলেই আমি চাই না কেভিন খেলুক। ফাইনাল থার্ডে সবচেয়ে বেশি প্রতিভা থাকা লোকটিকে আমি খেলাতে চাই না। আমি এটা চাই না। নয় বছর একসাথে কাজ করার পর তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সমস্যা হয়েছে।”
No posts available.
১ মে ২০২৬, ৫:৩৯ পিএম
১ মে ২০২৬, ২:৫২ পিএম
১ মে ২০২৬, ২:৩১ পিএম

ঘোষণা আগেই দিয়ে রেখেছিলেন মামুনুল ইসলাম। ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। বাংলাদেশ ফুটবলের উজ্জ্বল নক্ষত্রের দীর্ঘ দুই যুগের ক্যারিয়ারের ইতি ঘটেছে আজ। বিএফএলে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সব ধরণের ফুটবলকে বিদায় জানালেন বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক।
শুক্রবার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনাতে বাংলাদেশ সময় পৌনে তিনটার ম্যাচে ফর্টিস এফসির বিপক্ষে ৩-২ গোলের ব্যবধানে জিতেছে ফর্টিস। জয়-পরাজয় চাপিয়ে এই ম্যাচে আলোচনায় ছিলেন মামুনুল। বৃহস্পতিবার ফর্টিসের ক্লাব হাউসে ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে নিজেই বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন ৩৭ বর্ষী মিডফিল্ডার।
২০০৮ সালে অভিষেক হওয়া মামুনুল সবশেষ ২০২০ সালে বুরুন্ডির বিপক্ষে সবশেষ দেশের জার্সিতে খেলেছেন। তবে তার আগে অর্থাৎ ২০০৫ সালে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে ক্লাব ফুটবলে ক্যারিয়ার শুরু করেন। এই-ওই মিলিয়ে প্রায় ১০টি ক্লাব মাড়িয়ে ফর্টিসের হয়ে করেন শেষটা।
এক যুগেরও বেশি সময়কালে ফুটবল থেকে অর্জন ও প্রাপ্তিও কম নয়। লাল-সবুজ জার্সিতে ৬৭ ম্যাচের এক লম্বা জার্নি নিয়ে বিদায় বেলায় মামুনুল বলেন, ‘ফুটবল থেকে আমি অনেক কিছু পেয়েছি। নাম বলেন, খ্যাতি বলেন, অর্থ বলেন, ট্রফি বলেন, অর্জন বলেন—অনেক কিছু। এখন শুধু ঋণ শোধের পালা।’
ঘরোয়া ফুটবলে ১৬টি ট্রফি জিতেছেন মামুনুল। এছাড়া ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) ক্লাব অ্যাটলেটিকো ডি কলকাতার (এডিকে) হয়েও লিগ শিরোপা আছে তার। আবাহনী ও মোহামেডানের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবেও খেলেছেন তিনি।
বর্ণিল ক্যারিয়ারের বিদায়ী ম্যাচে ২৪ মিনিট পর্যন্ত মাঠে ছিলেন মামুনুল। এ সময় দুই দলের প্লেয়াররা তাকে গার্ড অব অনার প্রধান করেন। সারিবদ্ধ হয়ে দুই দলের খেলোয়াড় দাঁড়িয়ে তার ইতিকাব্য আরও রঙিন করে তোলেন। এসময় বাফুফে কর্তারা মামুনুলকে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দেশের ফুটবলের মহানায়ককে হাস্যজ্জ্বল মুখে মাঠ ছাড়তে দেখা যায়।
ম্যাচ শেষে মামুনুলের হাতে স্মারক ও বিভিন্ন পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় ফর্টিস এফসির পক্ষ থেকে। সতীর্থদের স্বাক্ষর সংবলিত ৮ নম্বর জার্সি তুলে দেওয়া হয় মামুনুলের হাতে। তার বিদায়ী সংবর্ধনায় শরিক হতে হাজির হয়েছিলেন স্ত্রী-সন্তান। এমনকী জন্মস্থান চট্টগ্রাম থেকেও ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা হাজির হন কিংস অ্যারেনাতে।
মামুনুল বিদায়টা জাতীয় দলের হয়েই নিতে চেয়েছিলেন। সেই সুযোগ হয়নি। এ নিয়ে আক্ষেপ ঝরেছিল ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে। তবে ফর্টিসের হয়ে তার যে স্মরণীয় বিদায়টা হয়েছে, তা কতজনেরই বা ভাগ্যে জোটে। এই ভেবে নিশ্চয়ই কিছুটা হলেও নিজেকে সান্ত্বনা দেবেন দেশের ফুটবল ইতিহাসের এই গুণী ফুটবলার।

বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) পৃথক তিনটি সমীকরণ মেলানোর লক্ষ্যে নেমেছিল ফর্টিস এফসি। রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির বিপক্ষে জয়, টেবিলের দ্বিতীয়স্থানে থাকা আবাহনী থেকে পয়েন্ট দুরত্ব কমানো এবং অধিনায়ক মামুনুল ইসলামের বিদায়ী ম্যাচ রাঙানো। এ যাত্রায় শতভাগ সফল ফর্টিস।
শুক্রবার বিএফএলের ১৫তম রাউন্ডের গোলপ্রসবা ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে জিতেছে ফর্টিস। দিনের অন্য দুই ম্যাচে ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্সকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ঢাকা আবাহনীকে। এ হারে রেলিগেশন শঙ্কা আরও গাঢ় হয়েছে ফকিরেরপুলের। ১৫ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই হেরেছে দলটি। তাদের হাতে অবশিষ্ট ৩ ম্যাচ। শেষ তিন ম্যাচে টানা জয় ছাড়াও ৪ পয়েন্ট এগিয়ে থাকা পিডব্লিডির হার কামনা করতে হবে তাদের। আরেক ম্যাচে পিডব্লিডিকে শেষ মুহূর্তের ম্যাজিকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে পুলিশ।
ফকিরেরপুলের বিপক্ষে পূর্ণ তিন পয়েন্ট আদায়ে শীর্ষস্থানে থাকা বসুন্ধরা কিংসের আরও কাছে চলে এলো ১৭ বারের চ্যাম্পিয়নরা। সমান ১৫ ম্যাচে আকাশী-নীলদের বর্তমান পয়েন্ট ৩১। বসুন্ধরা কিংসের ৩৪। তৃতীয়তে থাকা ফর্টিসের ২৮। পুলিশের ২২ এবং রহমগতগঞ্জের পয়েন্ট ১৯।
কিংস অ্যারেনাতে ম্যাচ ঘড়ির পঞ্চম মিনিটে জায়েদ আহমেদের গোলে এগিয়ে যায় রহমতগঞ্জ। তাদের সুখ দীর্ঘস্থায়ী হতে দেননি ওনেইকাছি ওকাফোর। মাঝমাঠ থেকে সাজ্জাদের ক্রসের সূত্র ধরে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে একাই ডি বক্সে ঢুকে পড়েন ফর্টিসের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড। ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে ছিলেন কেবল রহমতগঞ্জের গোলকিপার মামুন আলিফ। কৌশলী নিচু শটে ডানপ্রান্ত দিয়ে জালে জড়ান ওকাফোর।
১৮তম মিনিটে সেটপিস থেকে সোলাইমান কিংয়ের দূরপাল্লার শট দারুণভাবে কাজে লাগান আপ্পু। সুজন পেরেইরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই জালে বল জড়ান তিনি। ঠিক তিন মিনিট পরে সমতায় ফেরে ফর্টিস। এই গোলের নায়ক পাও ওমর বাবু। এর দুই মিনিট পর মাঠ ছাড়েন মামুনুল ইসলাম। ক্যারিয়ারের শেষবারের মতো ফুটবল খেলে ফেলেন তিনি। তার বদলি হিসেবে নামের মোর্শেদ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দলকে লিড উপহার দেন বাবু। এটাই ছিল ম্যাচ নির্ধারণী গোল। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে শেষ হয় ম্যাচ।

ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ৭৬তম ফিফা কংগ্রেসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখা গেল। সভায় উপস্থিত ছিলেন ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিব্রিল রাজউব, ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি বাসিম শেখ সুলাইমান। এসময় ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতির পাশে দাঁড়াতে ও হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানান ফিলিস্তিনের ফুটবল প্রধান।
গত বৃহস্পতিবারের এই অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো উভয়কে মঞ্চে ডাকেন। কিন্তু রাজউব দখলদার ইসরায়েলের নাগরিক সুলাইমানের কাছাকাছি আসতে রাজি হননি। ইনফান্তিনো রাজউবের হাত ধরে তাকে সুলাইমানের দিকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানালেও তাতে কোনো কাজ হয়নি।
আরও পড়ুন
| একই পেনাল্টি তিনবার মিস করলেন ভিনিসিউস |
|
রাজউব কেন করমর্দন করতে অস্বীকৃতি জানালেন—রয়টার্সের এমন প্রশ্নের জবাবে ফিলিস্তিনি ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সুসান শালাবি বলেন, ‘ইসরায়েলিরা তাদের ফ্যাসিবাদ এবং গণহত্যা ধামাচাপা দিতে যাকে নিয়ে এসেছে, আমি তার সঙ্গে হাত মেলাতে পারি না! আমরা যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’
এরপর ইনফান্তিনো মঞ্চ থেকে বলেন, ‘সভাপতি রাজউব, সহ-সভাপতি সুলাইমান—আমরা একসঙ্গে কাজ করব। শিশুদের মনে আশার আলো জাগাতে চলুন আমরা একযোগে কাজ করি। এগুলো খুবই জটিল বিষয়।’
কংগ্রেস শেষে রয়টার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) সহ-সভাপতি সুসান শালাবি বলেন, রাজউব এবং সুলাইমানের মধ্যে করমর্দন করানোর যে চেষ্টা জিয়ানি ইনফান্তিনো করেছেন, তাতে ফিলিস্তিন ফুটবল প্রধানের বক্তব্যের প্রতি বিন্দুমাত্র সম্মান দেখানো হয়নি। রাজউব তার বক্তব্যে আবারও জোর দাবি জানিয়েছিলেন যেন ইসরায়েলি ক্লাবগুলো অধিকৃত পশ্চিম তীরের বসতিগুলোতে (সেটেলমেন্ট) তাদের দল পরিচালনা না করে।
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোতে ফুটবল ক্লাব পরিচালনা করার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত সপ্তাহে ফিফার সিদ্ধান্তের বিপক্ষে 'কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস' (সিএএস)-এ আপিল করেছে ফিলিস্তিন।
পিএফএ দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তি দিয়ে আসছে যে, পশ্চিম তীরের মতো দখলকৃত এলাকায়—যা ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে চায়—সেখানকার কোনো ক্লাব ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএফএ) অধীনে লিগ খেলতে পারে না।
আরও পড়ুন
| মালিক হয়েই কর্নেয়া ফুটবলারদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন বার্তা মেসির |
|
সুসান শালাবি আরও বলেন, ‘সবকিছু বলার পর এমন এক পরিস্থিতিতে হাত মেলাতে বাধ্য করা—জেনারেলের (রাজউব) পুরো বক্তব্যের উদ্দেশ্যকেই নস্যাৎ করে দেয়। তিনি ১৫ মিনিট ধরে সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে নিয়মকানুন কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে কোনো সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের অধিকার নির্লজ্জভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। অথচ আমরা কি না দিনশেষে সবকিছুকে কার্পেটের নিচে চেপে রাখব? এটা ছিল পুরোপুরি হাস্যকর।’
সুসান আরও যোগ করেন, ‘আমি হাত মেলাতে অস্বীকার করেছি। খেলা তো খেলাই... আমি সেটাকে সম্মান করি। কিন্তু অন্য পক্ষ যদি বিবির (ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু) মতো একজন অপরাধীর প্রতিনিধিত্ব করে এবং এমনভাবে কথা বলে যেন বিবি একজন ‘মাদার তেরেসা’, তবে আমি কীভাবে এমন মানুষের সঙ্গে হাত মেলাব বা ছবি তুলব?’

দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এখন লিওনেল মেসি। খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার শেষে পরের অধ্যায়ের উদ্দেশ্যে এরমধ্যে ঠিক করে রাখছেন সর্বকালে অন্যতম সেরা ফুটবলার। স্প্যানিশ ফুটবলে সূচনা করেছেন নতুন এক অধ্যায়ের। স্পেনের কাতালান ক্লাব 'উয়ে কর্নেয়া' কিনে নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো ক্লাবটির খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের সামনে হাজির হলেন ইন্টার মায়ামির মহাতারকা। ক্লাবটি অধিগ্রহণের পর একটি আবেগপূর্ণ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্বপ্নের কথা জানান মেসি।
কাতালুনিয়ার বাইশ ইয়োব্রেগাত অঞ্চলে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়ে কর্নেয়ার খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন মেসি। ক্লাবটি কিনে নেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি এই পঞ্চম সারির দলটিকে এগিয়ে নেওয়ার এবং সবসময় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
আরও পড়ুন
| একই পেনাল্টি তিনবার মিস করলেন ভিনিসিউস |
|
ভিডিও বার্তায় মেসি কর্নেয়ার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি নিজের পরিচয় দিতে এবং তোমাদের এটা জানাতে চাই যে—আমরা এখানে এসেছি ক্লাবটিকে বড় করতে এবং সব ধরনের প্রয়োজনে সাহায্য করতে। এই নতুন প্রজেক্ট নিয়ে আমাদের অনেক উৎসাহ আছে। আমি তোমাদের সব খোঁজখবর রাখছি এবং প্রতি সপ্তাহে তোমাদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি।’
গত ১৬ এপ্রিল ইন্টার মায়ামি তারকা লিওনেল মেসি স্প্যানিশ ক্লাবটি কেনার ঘোষণা দেন। তরুণ ফুটবলারদের প্রতিভা বিকাশে এটি তার নতুন এক বিনিয়োগ। কর্নেলা তাদের শক্তিশালী ফুটবল অ্যাকাডেমির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত; যেখান থেকে উঠে এসেছেন জর্দি আলবা, জেরার্ড মার্টিন এবং ডেভিড রায়ার মতো বিশ্বমানের তারকা ফুটবলাররা।
লিগের (তেরসেরা আরএফইএফ) খেলা শেষ হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি। কর্নেয়া ইতিমধ্যে সেগুন্দা আরএফইএফ-এ ওঠার প্রমোশন প্লে-অফ নিশ্চিত করে ফেলেছে। ঠিক এমন সময়েই মেসির এই অনুপ্রেরণামূলক বার্তা এলো।
গত ১৬ এপ্রিল স্প্যানিশ ক্লাবটি কেনার ঘোষণা দেন মেসি। তরুণ ফুটবলারদের প্রতিভা বিকাশে এটি ‘এলএম টেনের’ নতুন এক বিনিয়োগ। কর্নেয়া তাদের শক্তিশালী ফুটবল একাডেমির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। যেখান থেকে উঠে এসেছেন জর্দি আলবা, জেরার্ড মার্টিন এবং ডেভিড রায়ার মতো বিশ্বমানের তারকা ফুটবলাররা।
কর্নেয়া ক্লাব কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘লিওনেল মেসির এই আগমন ক্লাবের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। এর লক্ষ্য হলো মাঠের পারফরম্যান্স এবং প্রাতিষ্ঠানিক—উভয় দিক থেকেই ক্লাবকে এগিয়ে নেওয়া, এর ভিত্তি শক্ত করা এবং নতুন প্রতিভাদের পেছনে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা। এই প্রজেক্টটি একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও কৌশলের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে, যেখানে বড় উচ্চাকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন এবং স্থানীয় শিকড়ের সঙ্গে গভীর সংযোগের সমন্বয় থাকবে।’
সামনে প্লে-অফ ম্যাচ, তাই এখন সব চাপ কর্নেয়ার খেলোয়াড়দের ওপর—তাদের নতুন মালিকের বিশাল উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মাঠের পারফরম্যান্সের মিল রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। মেসির লক্ষ্য একদম পরিষ্কার—স্প্যানিশ ফুটবলের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ধাপে ধাপে ক্লাবটির টেকসই উন্নতি নিশ্চিত করা। আপাতত সবার নজর মেসির উপস্থিতি এবং দূর থেকে তাঁর নিয়মিত সমর্থনের দিকে থাকলেও আসল পরীক্ষাটা হবে অন্য জায়গায়। মেসির এই উৎসাহ আর অনুপ্রেরণা কি সত্যিই কর্নেলাকে স্প্যানিশ ফুটবলের সিঁড়ি বেয়ে দ্রুত ওপরের দিকে তুলে আনতে পারবে? সেটা সময়ই বলে দেবে।

ফুটবল মাঠে পেনাল্টি মিস করা নতুন কিছু নয়, কিন্তু একই ম্যাচে একই পেনাল্টি তিনবার নিয়ে তিনবারই মিস করার ঘটনা বিরল। কোপা সুদামেরিকানায় চিলির ক্লাব পালেস্তিনোর বিপক্ষে বুধবার রাতে এমনই এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন গ্রেমিও ফরোয়ার্ড কার্লোস ভিনিসিউস।
ম্যাচের ১১ মিনিটে পেনাল্টি পায় গ্রেমিও। ভিনিসিউসের প্রথম শটটি পালেস্তিনোর গোলকিপার সেবাস্টিয়ান পেরেজ রুখে দেন। তবে শট নেওয়ার আগেই লাইন ছেড়ে বেরিয়ে আসায় রেফারি পুনরায় পেনাল্টি নেওয়ার নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন
| এই ফুটবল, যুদ্ধ নয় - সমালোচকদের এক হাতে নিলেন রোনালদো |
|
দ্বিতীয় চেষ্টায় ভিনিসিউস ডান দিকে শট মারেন, কিন্তু এবারও পেরেজ বলটি পোস্টে লাগিয়ে প্রতিহত করেন। নাটকীয়ভাবে রেফারি আবারও গোলকিপারের ভুলের কারণে পেনাল্টি বাতিলের বাঁশি বাজান।
ফলে তৃতীয়বারের মতো সুযোগ পান ৩১ বছর বয়সী ভিনিসিউস। এবার শট নেওয়ার সময় পিছলে গেলে সহজেই বলটি ঠেকিয়ে দেন পেরেজ। রেফারি আর নতুন সুযোগ দেননি।
পরে ভিএআরে ভিনিসিউসের একটি গোল বাতিল হয় এবং শেষ মিনিটে হলুদ কার্ডও দেখতে হয়। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র হয়। ফলে ৩ ম্যাচ শেষে গ্রুপ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রইল গ্রেমিও।
গত জুলাইয়ে ফুলহ্যাম থেকে ফ্রি ট্রান্সফারে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব গ্রেমিওতে যোগ দেওয়ার পর দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন ভিনিসিউস। ৪০ ম্যাচে করেছে ২৫ গোল করা এই ফরোয়ার্ডকে ব্রাজিল জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়ার আলোচনাও হচ্ছিল। তবে এই রাতটি দুঃস্বপ্নের মতই ছিল একসময় টটেনহামে খেলা ভিনিসিউসের জন্য।