
খেলোয়াড়ি বা ব্যক্তিগত জীবনে প্রাপ্তি-অর্জনের শেষ নেই লিওনেল মেসির। অর্থ-বিত্তের দিক থেকেও ধনকুবেরই বলা যায় আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে। তবু তার জীবনে রয়ে গেছে একটি আক্ষেপ। আর সেটি হলো ইংরেজি না শেখা ও বলতে না পারা।
সম্প্রতি আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক নাহুয়েল গুসমানের পডকাস্ট 'মিরো দে আট্রাসে' উপস্থিত হয়ে মেসি নিজের জীবনের এমন এক দিক খুলে বলেছেন, যা সাধারণত আলোচনায় আসে না। সাবলীলভাবে ইংরেজি বলতে না পারায় অনেক সময় নিজেকে ‘অজ্ঞ’ মনে হয়েছে, স্বীকার করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
আরও পড়ুন
| আজকাল ধর্ষণের বিচারের জন্য অভিযোগই যথেষ্ট, বললেন হাকিমি |
|
মেসি জানান, আর্জেন্টিনায় পড়াশোনা করেছেন উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত। এরপরই পুরো মনোযোগ চলে যায় ফুটবলে। প্রথমে নিওয়েলস ওল্ড বয়েজ ক্লাবে। আর তারপর ইতিহাসগড়া অধ্যায় স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে।
“আর্জেন্টিনায় শেষ বছরে জানতাম আমি চলে যাচ্ছি। এরপর তখন আর কিছুই করিনি। এখন অনেক কিছুর জন্যই আফসোস হয়। আমি আমার সন্তানদের বলি- ভালো শিক্ষা, পড়াশোনা, নিজেকে প্রস্তুত করা খুব জরুরি।”
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন মেসি। বৈশ্বিক তারকা, ব্যবসায়ী ও নানা ক্ষেত্রের খ্যাতিমান ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত ওঠাবসা তার। সেই পরিসরে দাঁড়িয়ে ইংরেজিতে দক্ষ না হওয়ার অভাবটা আরও বেশি করে অনুভব করেন তিনি।
“আমি আমার সন্তানদের বলি, আজ তাদের সুযোগ আছে- নষ্ট কোরো না। ছোটবেলায় ইংরেজি শেখার সময় ছিল, শিখিনি। বোকামি করেছি। এখন অসাধারণ সব মানুষের সঙ্গে থাকি, কখনও কখনও নিজেকে অজ্ঞ মনে হয়।”
আরও পড়ুন
| হামজা-জামালদের বেতন দেবে সরকার, আনন্দ দ্বিগুণ হচ্ছে আফঈদাদের |
|
বৈশ্বিক প্রচারণা কিংবা ক্লাবের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সতীর্থরা যখন ইংরেজি, ফরাসি বা অন্য ভাষায় কথা বলেন, মেসি বরাবরই স্প্যানিশেই স্বচ্ছন্দ। মাঠে তার পায়ের জাদু যদিও ভাষার সীমা মানে না, তবু ব্যক্তিগত পরিসরে ভাষাগত সীমাবদ্ধতাকে তিনি খোলামেলাভাবে মেনে নিচ্ছেন।
বিশ্বকাপ জয়, অগণিত শিরোপা আর ‘সর্বকালের সেরা’ বিতর্কের বাইরে এই স্বীকারোক্তি মেসির আরেক মানবিক মুখ তুলে ধরে। শিক্ষা ও আত্মপ্রস্তুতির গুরুত্ব নিয়ে তার এই বার্তা হয়তো নতুন প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেবে- স্বপ্ন শুধু মাঠে নয়, শ্রেণিকক্ষেও গড়ে ওঠে।
No posts available.
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৫৫ পিএম
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:১৩ পিএম
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৫৫ পিএম
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:১৯ পিএম
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১:১৭ পিএম

দুই দলের দ্বৈরথ ঐতিহাসিক। মাঠে কেউ কেউকে একচুলও ছাড় দিতে রাজি নয়। তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কোনো খেলোয়াড়ের প্রশংসা করতে তো আর বাধা নেই। এমনকি রিয়াল মাদ্রিদের এক খেলোয়াড়কে নিজেদের দল বার্সেলোনাতে দেখারও ইচ্ছা পোষণ করেছেন কাতালান ক্লাবটির তারকা মিডফিল্ডার পেদ্রি।
সম্প্রতি স্প্যানিশ একটি টক শো প্রোগ্রাম এল হরমিগুয়েরো’তে হাজির হন বার্সেলোনার দুই ফুটবলার ফেরান তোরেস ও পেদ্রি। ফুটবল সহ নানান বিষয় নিয়ে আলাপ করেন দুই স্প্যানিশ তারকা ফুটবলার। টক শোতে রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপের ভূয়সী প্রশংসা করেন পেদ্রি ও তরেস। সুযোগ থাকলে নাকি ফরাসি তারকাকে বার্সাতে নিয়ে আসতেন পেদ্রি।
পেদ্রি বলেন, ‘যদি আমি একজন রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড়কে বার্সেলোনায় আনতে পারতাম, তাহলে সেটি হতো কিলিয়ান এমবাপে।’ বার্সায় স্ট্রাইকার পজিশনেই খেলেন তরেস। এরপরও একই জায়গায় খেলা এমবাপেকে কাতালান ক্লাবটিতে দেখতে চান তিনিও।
এমবাপে রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর থেকে ৯২ ম্যাচে ৮২ গোল করেছেন। এরমধ্যে গত মৌসুমে বার্সেলোনার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকও রয়েছে। ওই ম্যাচে লস ব্লাঙ্কোসরা ৪-২ গোলে হারলেও চেষ্টার কোনো কমতি রাখেননি এমবাপে। রিয়ালের তিনটি গোলই আসে ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের নৈপুণ্যে, ওই ম্যাচে ভাঙেন ৩৩ বছরের পুরোনো একটি রেকর্ডও। বার্সার রক্ষণভাগকে ভালোই ভুগিয়েছেন তিনি। এমন একজন খেলোয়াড়কে নিজেদের দলে কে না পেতে চাইবে।
বার্সায় ফ্লিকের কড়াকড়ি নিয়ম নিয়েও কথা বলেন পেদ্রি-তরেস। অনুশীলনে দেরি করায় প্রায়ই জার্মান এই কোচের রোষাণলে পড়তে হয় খেলোয়াড়দের। জুলস কুন্দে, মার্কাস রাশফোর্ড ও ইনাকি পেনা নাকি দলের মিটিংয়ে দেরি করায় ফ্লিকের অন্য রূপ দেখেন। দেরি হলে তারা শুরুর একাদশ থেকে বাদ পড়ার নিয়ম তো আছেই, পাশাপাশি শৃঙ্খলায় হেরফের হলেই নাকি জরিমানাও গুনতে হবে।
বার্সায় ফ্লিকের নিয়ম নিয়ে পেদ্রি বলেন, ‘সময়ানুবর্তিতার ব্যাপারে আমরা কিছুটা পরিবর্তন করেছি। দেরি করলে জরিমানা দিতে হবে। এতে প্রকাশ করা হয়েছে, ম্যাচের দিনে যদি কেউ ১০ মিনিট দেরি করে, তবে তাকে ৪০ হাজার ইউরো জরিমানা দিতে হবে।’ এরপর তরেস যোগ করেন, ‘২০ মিনিট দেরি হলে কত টাকা হবে, কল্পনাই করতে পারি না। এখন তো তাকে আইবুপ্রোফেনের (অসুস্থতার) ছবি পাঠিয়ে দিতে পারেন!’
ফ্লিক যখন কুন্ডের সঙ্গে একটি ঘটনার কথা আলোচনা করেছেন, তিনি বলেছিলেন, ‘এক মিনিটের জন্যও দেরি করা মানে তোমার সতীর্থদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করা।’
কঠিন নিয়মের ফলও অবশ্য হাতেনাতেই পাচ্ছে বার্সেলোনা। ফ্লিক দায়িত্ব নেওয়ার মৌসুমেই ঘরোয়া ট্রেবল জিতেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। চলতি মৌসুমেও এখন পর্যন্ত সবধরনের শিরোপা জয়ের দৌড়ে আছে তারা। লা লিগায় আছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে।

বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ১৫ মার্চ। চলছে নির্বাচনী তোড়জোড়। নির্বাচন আসন্ন হলেও থেমে নেই গ্রীষ্মের প্লেয়ার বিকিকিনি নিয়ে আলোচনা। কাতালান ক্লাবের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ডেকো ও হান্সি ফ্লিক ইতোমধ্যে ঠিক করে ফেলেছেন, আগামী মৌসুমে কোন কোন পজিশনে শক্তি বাড়াতে হবে দলের।
বার্সেলোনার এই মুহুর্তে প্রয়োজন এক জন মানসম্পন্ন সেন্টার-ফরোয়ার্ড (নাম্বার নাইন)। ক্লাব ভালোভাবেই জানে—গ্রীষ্মে শীর্ষ মানের স্ট্রাইকারদের বাজার খুবই কঠিন। ভালো খেলোয়াড়ের স্বল্পতা, দামও আকাশছোঁয়া। তবুও সঠিক প্রোফাইলের একজনকে আনার ব্যাপারে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ক্যাম্প ন্যুয়ের ক্লাবের প্রথম পছন্দ হুলিয়ান আলভারেজ। তবে আতলেটিকো ক্লাব থেকে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ডকে আনা ভীষণ জটিল। সরাসরি না বললেও আতলেটিকো ইঙ্গিত দিয়েছে, বিশাল অঙ্ক গুণতে হবে আলভারেজকে পেতে। শোনা যাচ্ছে, ১৫০ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত উঠতে পারে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের দাম—যা দিতে রাজি নয় বার্সা।
এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প খুঁজছে কাতালানরা। স্প্যানিশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশ এখন বার্সেলোনার পছন্দের শীর্ষে। ক্লাবের টেকনিক্যাল টিম মনে করছে, ফ্লিকের কৌশলের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে যাবেন মিশরীয় ফরোয়ার্ড।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতেই রবার্ট লেভানডফস্কির বিকল্প হিসেবে মারমুশকে নেওয়ার পরিকল্পানা করেছিল বার্সেলোনা। শেষ পর্যন্ত আলোচনা আলোর মুখ দেখেনি। তবে দলের নিয়মিত আর্লিং হালান্ডের কারণে বেশিরভাগ সময় বেঞ্চেই কাটাতে হচ্ছে মারমুশকে।
২০২৫-২৬ প্রিমিয়ার লিগে মারমুশ খেলেছেন মাত্র ১৫ ম্যাচ, এর মধ্যে শুরুর একাদশে ছিলেন পাঁচবার। লিগে গোলও করেছেন মাত্র একটি। বদলি হিসেবে নামলে ভালো খেললেও নিয়মিত সুযোগ না পেয়ে অস্বস্তিতে আছেন মিশরীয় ফরোয়ার্ড।
জানুয়ারিতেই মারমুশের বিদায়ের গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। গ্রীষ্মের দলবদলে আলভারেজের চুক্তি ভেস্তে গেলে মারমুশ হতে পারেন বার্সার জন্য ‘হাই-ভ্যালু’ সমাধান। যদিও আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড এখনও প্রধান লক্ষ্য বার্সেলোনার। কিন্তু আতলেতিকোর ডিল ভেস্তে গেলে মারমুশ সহজেই প্রধান ফোকাস হয়ে উঠতে পারেন।

বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসছে ব্রাজিল সমর্থকদের মনে একটি শঙ্কা, সন্দেহ ক্রমশ বেড়েই চলছে। নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারকে কী বিশ্বকাপে দেখা যাবে? চোট নামক অভিশাপ পেছনে ফেলে সেলেসাওদের ‘হেক্সা’ মিশনের সঙ্গী কী সান্তোসের রাজপুত্র হবেন? নেইমার ভক্তদের জন্য আপাতত কোনো সুখবর নেই। ইএসপিএন ব্রাজিল উল্টো দুঃসংবাদই দিল।
নেইমারের ব্রাজিল দলে ফেরার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। কার্লো আনচেলোত্তির দল আগামী মার্চে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দু’টি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ইএসপিএনের একটি প্রতিবেদন জানিয়েছে, আনচেলোত্তির পরিকল্পনায় এখনো জায়গা করে নিতে পারেননি নেইমার।
অনেকের মতে নোভোরিজোনিতোর বিপক্ষে সান্তোসের হতাশাজনক হার এবং চ্যাম্পিয়শিপ থেকে ছিটকে পড়া হয়তো নেইমারকে জাতীয় দলে ফেরা থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। তবে আনচেলোত্তির প্রাথমিক ভাবনাতেই নাকি ছিলেন না নেইমার।
ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) সবাই নেইমারের শারীরিক অবস্থা ও মাঠের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার আগে শেষ দিকের ম্যাচগুলোতে তাকে রাখার পরিকল্পনা কখনোই নাকি ছিল না। প্রত্যাশা ছিল, ফেব্রুয়ারিতে ধীরে ধীরে মাঠে ফিরে চোট কাটিয়ে ছন্দ ফিরে পাবেন এবং সান্তোসের হয়ে খেলে নিজেকে আরও প্রস্তুত করবেন, তারপর জাতীয় দলে ফেরার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
আনচেলোত্তির কোচিং স্টাফের মূল্যায়ন অনুযায়ী, জাতীয় দলে নেইমার কীভাবে মানিয়ে নেবেন—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ বা বিতর্ক নেই। পরিকল্পনাও অপরিবর্তিত রয়েছে। মে মাসে তার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে দেখা হবে, ব্রাজিলের প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি বিশ্বকাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো ফিট আছেন কি না।
সংবাদ সম্মেলনগুলোতে আনচেলোত্তি সবসময়ই নেইমারের জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনার দরজা খোলা রেখেছেন। তবে শর্ত একটাই—সান্তোসের এই তারকাকে শারীরিকভাবে জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড়ের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। ইতালিয়ান এই কোচকে দেখে মনে হচ্ছে, তার পূর্বসূরি দরিভাল জুনিয়র-এর মতো তিনি এই মুহূর্তে নেইমারকে ফেরাতে খুব বেশি তাড়াহুড়া করছেন না।
সবকিছুই নির্ভর করবে চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার আগ পর্যন্ত নেইমারের অগ্রগতির ওপর। যদি ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড শারীরিক ও টেকনিক্যালভাবে ভালো অবস্থায় থাকেন, তাহলে তাকে বিবেচনায় নেওয়া হবে। অন্যথায় ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২-এর পর চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে তাঁর।
নেইমারের মতো তারকা ফুটবলারকে ঘিরে আলোচনা থাকলেও ব্রাজিলের কোচিং স্টাফের বর্তমান পূর্ণ মনোযোগ স্কোয়াডের কিছু অপূর্ণ জায়গা পূরণে। বিশেষ করে দুই ফুল-ব্যাক পজিশন, সেন্টার-ব্যাকে মার্কিনিওস ও গ্যাব্রিয়েল-এর বিকল্প, মিডফিল্ডে ব্রুনো গুইমেরেস-এর বদলি এবং ফরোয়ার্ড পজিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়গুলোতে জোর দেওয়া হচ্ছে।
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই আনচেলোত্তি ও তাঁর দল ২৬ ও ৩১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ও অরনাল্ডোতে অনুষ্ঠেয় প্রীতি ম্যাচগুলোকে কাজে লাগাবেন। আর নেইমারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে মে মাসে।

মেক্সিকোতে মাদকচক্রের শীর্ষ নেতাকে হত্যার পর ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে বেশ আশ্বস্ত জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ফিফা সভাপতি মঙ্গলবার এএফপিকে বলেছেন, মেক্সিকোর প্রস্তুতি নিয়ে তিনি ‘খুবই আশ্বস্ত’ এবং সব কিছু ঠিকঠাকই এগোচ্ছে।
কলম্বিয়ার বারানকিয়ায় এক অনুষ্ঠানে ইনফান্তিনো বলেন, ‘খুবই আশ্বস্ত। সব ঠিক আছে। বিশ্বকাপ হবে দারুণ।’ মাদক কার্টেল প্রধানকে সেনাবাহিনীর অভিযানে হত্যার পর যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, সে প্রসঙ্গে এটিই তাঁর প্রথম মন্তব্য।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। তবে সাম্প্রতিক সহিংসতায় আয়োজক শহরগুলোর একটি গুয়াদালাহারা কেঁপে ওঠায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সহিংসতার ছায়া
মেক্সিকোর সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত হন জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের (সিজেএনজি) প্রধান নেমেসিও ওসেগুয়েরা, যিনি ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত। গুয়াদালাহারার কাছে এক খামারে অভিযান চালিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়।
সরকারি হিসাবে, তাঁকে ধরতে চালানো অভিযানে এবং পরবর্তী সংঘর্ষে অন্তত ৭৪ জন নিহত হন। সরকারের দাবি, নিহতদের মধ্যে কেবল একজন সাধারণ নাগরিক ছিলেন। তবে কার্টেল সদস্যরা প্রতিশোধমূলক তাণ্ডব চালিয়ে দেশের ৩২টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ২০টিতে সড়ক অবরোধ, যানবাহন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জালিস্কোর পর্যটন শহর পুয়ের্তো ভাল্লার্তায় ৪১ বছর বয়সী প্রকৌশলী হাভিয়ের পেরেজ এএফপিকে বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমরা যেন যুদ্ধক্ষেত্রে আছি।’
বিশ্বকাপ শুরুর চার মাসেরও কম সময় আগে সহিংসতার এমন দৃশ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। যদিও সোমবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ফিফা।
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
ইনফান্তিনোর আশাবাদের বিপরীতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ২৯ মার্চ মেক্সিকো সিটিতে নির্ধারিত প্রীতি ম্যাচটি নিয়ে তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। খেলোয়াড়, কোচ ও সমর্থকদের নিরাপত্তাই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
অন্যদিকে মেক্সিকো জাতীয় দলের কোচ হাভিয়ের আগুইরে আশাবাদী সুরে বলেছেন, ‘সব পরিকল্পনামাফিক এগোচ্ছে।’
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমও আশ্বস্ত করে বলেছেন, বিশ্বকাপ দর্শকদের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।
আয়োজক শহর ও সূচি
গুয়াদালাহারা চারটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ আয়োজন করবে। এ ছাড়া মেক্সিকো সিটি ও মন্টেরেতেও ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সাম্প্রতিক সহিংসতা এই দুই শহরে ছড়িয়ে পড়েনি।
গুয়াদালাহারা ও মন্টেরে যৌথভাবে মার্চের শেষে প্লে-অফ টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে, যেখানে বিশ্বকাপের শেষ দুই দল নির্ধারিত হবে। জালিস্কো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পাবলো লেমুস বলেছেন, নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে গুয়াদালাহারাকে বাদ দেওয়ার ‘কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’
অর্থনীতিতেও প্রভাব
নিহত ওসেগুয়েরা যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিলেন। তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। ২০০৯ সালে গঠিত সিজেএনজি দ্রুতই মেক্সিকোর অন্যতম শক্তিশালী ও সহিংস মাদকচক্রে পরিণত হয়।
সহিংসতার প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতেও। জাপানি গাড়ি নির্মাতা হোন্ডা জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত সতর্কতা হিসেবে গুয়াদালাহারায় তাদের অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মেক্সিকো উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের বাজারের জন্য গাড়ি উৎপাদনের একটি বড় কেন্দ্র। এখানে ফোর্ড, জেনারেল মোটরস, বিএমডব্লিউ ও অডিসহ একাধিক আন্তর্জাতিক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
সব মিলিয়ে সহিংসতার ছায়া ঘিরে ধরলেও বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে এখনো আত্মবিশ্বাসী ফিফা ও আয়োজকরা। তবে বাস্তব পরিস্থিতি কত দ্রুত পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ে ঘরের মাঠে বেনফিকার বিপক্ষে ফিরতি লেগের ম্যাচ খেলতে নামছে রিয়াল মাদ্রিদ। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে থাকছেন না দলটির ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে।
হাঁটুর চোটের কারণে প্লে-অফে বুধবার রাতের ম্যাচে খেলবেন না এমবাপে। এই খবর জানিয়েছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ। লা লিগায় গেতাফে ও সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও এমবাপের খেলা অনিশ্চিত।
গত ডিসেম্বর থেকেই বাম হাঁটুর লিগামেন্টের সমস্যায় ভুগছিলেন এমবাপে। সেই চোট পুরোপুরি সেরে না উঠতেই গত কয়েক সপ্তাহ ধরে খেলছিলেন। মঙ্গলবার অনুশীলনের সময় অস্বস্তি অনুভব করলে সেশন শেষ না করেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপে একটি দলের মুখোমুখি হতে চান না মেসি |
|
এর আগে রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়া বলেছিলেন, এমবাপে খেলার জন্য প্রস্তুত। তবে ঝুঁকি এড়াতে এখন তাকে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোচিং স্টাফ।
চ্যাম্পিয়নস লিগে ৮ ম্যাচে ১৩ গোল করে গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে এমবাপে। ফরাসি এই তারকার অনুপস্থিতি তাই দলটির জন্য বড় ধাক্কা। এমবাপের বদলি হিসেবে রিয়ালের আক্রমণভাগে গঞ্জালো গার্সিয়া সুযোগ পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে প্রথম লেগে বর্ণবাদমূলক আচরণের অভিযোগে সাময়িক এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেলেও সতীর্থদের সঙ্গে বার্নাব্যুতে অনুশীলন করেছেন বেনফিকার উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে ম্যাচে খেলতে পারবেন- এমন আশাতেই প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন এই আর্জেন্টাইন তরুণ।
লিসবনে প্রথম লেগে ১-০ গোলে জয় লাভ করেছিল রিয়াল। প্রতিপক্ষের মাঠে এগিয়ে থাকায় আজ ড্র করলেই শেষ ১৬তে পৌঁছে যাবে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে রিয়ালের দুর্গে অন্তত ২ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে বেনফিকাকে।
ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত দুইটায়।