
বার্সেলোনার মুখোমুখি হওয়ার আগে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচ জয় পেয়েছিল আতলেতিকো মাদ্রিদ। লিগে তিন মাসেরও বেশি সময় হার দেখেনি তারা। বার্সার বিপক্ষেও শুরুতে এগিয়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি আতলেতিকো। অবশেষে ভাঙল তাদের জয়ের ধারা। প্রিয় আঙিনা ন্যূ ক্যাম্পে ফেরার পর দারুণে ছন্দে থাকা বার্সা সহজেই হারাল দিয়েগো সিমিওনের দলকে।
লা লিগায় ঘরের মাঠে গতকাল আতলেতিকোর বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতেছে বার্সা। অ্যালেক্স বায়েনার গোলে পিছিয়ে পড়ার পর স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান রাফিনহা। এরপর দানি ওলমো এবং যোগ করা সময়ে ফেরান তরেসের গোলে উড়তে থাকা আতলেতিকোকে মাটিতে নামিয়ে আনে হান্সি ফ্লিকের দল।
এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল বার্সা। ১৫ ম্যাচে ১২ জয়, একটি হার ও দু’টি ড্রয়ে কাতালান ক্লাবটির পয়েন্ট ৩৭। এক ম্যাচ কম খেলে বার্সার চেয়ে ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে দুইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ। বার্সেলোনার বিপক্ষে জয় পেলে রিয়ালকে হটিয়ে দুইয়ে উঠে আসতে পারত আতলেতিকো। তবে ১৫ ম্যাচের ৯টিতে জিতে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরেই আছে জুলিয়ান আলভারেজের দল।
বল দখলের লড়াইয়ে প্রায় সমানতালেই লড়েছে বার্সা-আতলেতিকো। তবে আক্রমণে আর গোলের সুযোগ তৈরিতে সফরকারীদের চেয়ে ঢের এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ১৯টি শট নিয়ে ৯টি লক্ষ্যে রেখেছেন লামিনে ইয়ামাল-রবার্ট লেভানডফস্কিরা। যেখানে মোটে সাতটি শট নিয়ে দুটি লক্ষ্যে রাখতে পারে আতলেতিকো।
সমতায় ফিরতে সাত মিনিট সময় নিয়েছে বার্সা। চোট থেকে ফিরে প্রথম গোল পেলেন স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটির ব্রাজিলিয়ান তারকা উইঙ্গার রাফিনহা। পেদ্রির নিখুঁত থ্রু-পাস ধরে আতলেতিকোর গোলকিপার ইয়ান ওবলাককে কাটিয়ে খালি জালে বল পাঠান রাফিনহা।
আরও পড়ুন
| হামজা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে মারিয়ার অ্যাক্রোবেটিক গোল |
|
প্রথামার্ধেই লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল বার্সা। আতলেতিকোর খেলোয়াড় পাবলো বারিওস বার্সা মিডফিল্ডার ওলমোকে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজায় রেফারি। কিন্তু স্পট কিক নিতে আসা লেভানডফস্কি ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে মেরে সুযোগ হাতছাড়া করেন।
দ্বিতীয়ার্ধ পরিণত হয় শ্বাসরুদ্ধকর এক দফা আক্রমণ–প্রতিআক্রমণে। ৬৫ মিনিটে ব্যবধান ২-১ করা গোলটি পেয়ে যায় বার্সা। বার্সাকে এগিয়ে দেন ওলমো। তবে এই গোলের জন্য চড়া মূল্যও চুকাতে হয়েছে বার্সেলোনাকে। শট নেওয়ার সময় কাঁধে চোট লেগে মাঠ ছাড়েন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
এরপর সিমিওনের দল সমতায় ফিরতে পারত। কিন্তু বদলি নামা আর্জেন্টাইন উইঙ্গার থিয়াগো আলমাদা অবিশ্বাস্যভাবে খালি জাল পেয়েও শট মিস করেন। আর শেষ দিকে যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে আরেক দফা আতলেতিকোর জালে বল পাঠিয়ে তাদের ফেরার সব সম্ভাবনা শেষ করে দেয় বার্সা। আলেহান্দ্রো বালদের ক্রস ধরে কাছ থেকে গোল করে বার্সার জয় নিশ্চিত করেন ফেরান তরেস।
লা লিগায় বার্সার পরের ম্যাচ রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে। আগামী শনিবার ক্লাবটির মাঠে আতিয়েতা নেবে বর্তমান লিগ চ্যাম্পিয়নরা। আর আতলেতিকো মাদ্রিদের পরের অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে।
No posts available.
১১ মে ২০২৬, ৮:৪০ পিএম
১১ মে ২০২৬, ৮:০২ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান উপদ্বীপের দেশটি বিশ্বকাপ সারথী দলের প্রধান কাণ্ডারি অভিজ্ঞ এডিন জেকো। ৪০ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার গত মৌসুমে শালকেকে বুন্দেসলিগায় ফিরতে বড় ভূমিকা রেখেছেন।
সোমবার রাজধানী সারায়েভোতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেন বসনিয়া কোচ সের্জেই বারবাবেজ।
দল ঘোষণার সময় বারবারেজ বলেন,
'আমরা এমন খেলোয়াড়দের বেছে নিয়েছি, যারা বসনিয়ার পরিচয় এবং আমাদের জাতির লড়াকু মানসিকতাকে সঠিকভাবে প্রতিনিধিত্ব করবে।'
বেশ নাটকীয়ভাবে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছিল বসনিয়া। চলতি বছরের মার্চে উয়েফা প্লে-অফে ইতালিকে টাইব্রেকারে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে দলটি। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হয়েছিল।
বিশ্বকাপে 'বি' গ্রুপে কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বাকি দুই সঙ্গী সুইজারল্যান্ড এবং কাতার। ১১ জুন বিশ্বকাপ শুরুর পরের দিনেই মিশন শুরু বসনিয়ার। নিজেদের প্রথম ম্যাচে কানাডার মুখোমুখি হবে তারা।
২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: নিকোলা ভাসিলি (সেন্ট পাওলি), মার্টিন জ্লোমিসলিচ (রিজেকা), ওসমান হাজিকিচ (স্লাভেন বেলুপো)।
ডিফেন্ডার: সেয়াদ কোলাসিনাচ (আটালান্টা), ডেনিস হাদজিকাদুনিচ (সাম্পদোরিয়া), আমার দেদিচ (বেনফিকা), নিকোলা কাটিচ (শালকে), তারিক মুহারেমেভিচ (সাসুওলো), নিহাদ মুজাকিচ (গাজিয়ানটেপ), স্তেপান রাদেলিচ (রিজেকা), নিদাল চেলিক (লঁস)।
মিডফিল্ডার: আমির হাজিয়াহমেতোভিচ (হাল সিটি), বেঞ্জামিন তাহিরোভিচ (ব্রন্ডবি), জেনিস বুর্নিচ (কার্লসরুহার), আরমিন গিগোভিচ (ইয়াং বয়েজ), ইভান বাসিচ (আস্তানা), এস্মির বাজরাকতারেভিচ (পিএসভি), আমার মেমিচ (ভিক্টোরিয়া প্লাজেন), ইভান সুনিচ (পাফোস), কেরিম আলাইবেগোভিক (আরবি সালজবার্গ), এরমিন মাহমিচ (স্লোভান লিবেরেক)।
ফরোয়ার্ড: এডিন জেকো (শালকে), এরমেদিন ডেমিরোভিচ (স্টুটগার্ট), সামেদ বাজদার (জাগিলোনিয়া বিয়ালিস্তক), হারিস তাবাকোভিচ (বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখ), জোভো লুকিচ (ক্লুজ)।

বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিল দলকে প্রস্তুত করার প্রথম ধাপ সম্পন্ন করেছেন কার্লো আনচেলত্তি। প্রাথমিক বিবেচনার ভিত্তিতে খেলোয়াড়দের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেছেন তিনি।
ব্রাজিলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ক্রীড়া সংবাদ মাধ্যম ইউওএল এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আনচেলত্তি ইতোমধ্যেই ৫৫ সদস্যের একটি প্রাথমিক দল গঠন করেছেন। যেখান থেকে তিনি টুর্নামেন্টের জন্য তাঁর চূড়ান্ত দল বেছে নেবেন।
এই তালিকার উল্লেখযোগ্য নাম দুই অভিজ্ঞ তারকা—নেইমার জুনিয়র ও থিয়াগো সিলভার অন্তর্ভুক্তি। দুজনই দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন।
১৮ মে রিও ডি জেনেরিওতে ব্রাজিলের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করবেন আনচেলত্তি। তার আগে ইউওএল জানিয়েছে, নেইমার ও সিলভার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি। শতভাগ ফিট না থাকলেও ঠিকই ক্লাব ফুটবলে নিয়মিত গোল পাচ্ছেন নেইমার। তার মধ্যে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ স্কোরারকে বিশ্বকাপে স্কোয়াডে দেখতে ব্রাজিলীয় ফেডারেল ডেপুটি হেলিও লোপেস সরাসরি চিঠি পাঠিয়েছেন দেশটির ফুটবল কনফেডারেশনে (সিবিএফ)।
আগামী ১১ জুন মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বিশ্বকাপ। তার আগে সোমবার (১১ মে) থেকে দলগুলোর খেলোয়াড় তালিকা প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ৪৮টি অংশগ্রহণকারী দেশের হাতে জুন মাসের শুরু পর্যন্ত সময় রয়েছে চূড়ান্ত তালিকা জমা দেওয়ার জন্য। তবে অনেক পরাশক্তি ইতোমধ্যেই তাদের দল ঘোষণার দিনক্ষণ জানিয়ে দিয়েছে।
১১ মে দলগুলোর জন্য প্রাথমিক বা সাময়িকভাবে খেলোয়াড় তালিকা জমা দেওয়ার শেষ দিন। এই তালিকায় ৩৫ থেকে ৫৫ জন খেলোয়াড় রাখতে পারে ফেডারেশনগুলো। আজ থেকে শুরু হচ্ছে চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার সময়। ২ জুন ফিফার কাছে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড জমা দেওয়ার শেষ দিন। এই দিনেই ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে ৪৮টি দেশের সব খেলোয়াড়ের নাম প্রকাশ করবে।
গত কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও প্রত্যেক দল সর্বোচ্চ ২৬ জন খেলোয়াড় নিয়ে স্কোয়াড গঠন করতে পারবে। দলে অন্তত তিনজন গোলরক্ষক থাকা বাধ্যতামূলক। চূড়ান্ত তালিকা জমা দেওয়ার পর শুধুমাত্র গুরুতর চোট বা অসুস্থতার ক্ষেত্রেই ফিফার অনুমতি সাপেক্ষে খেলোয়াড় পরিবর্তন করা যাবে।

আসন্ন সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি হিসেবে আজ থাইল্যান্ডের ব্যাংককে কাসেমবুন্দিত এফসির বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ক্লোজ-ডোর প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। যেখানে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে পিটার বাটলারের দল।
ম্যাচজুড়ে গোছানো এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানের দাপুটে জয় তুলে নেয়। খেলার ১৫ মিনিটে আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। এরপর ৭৭ মিনিটে উমেহ্লা মারমা দ্বিতীয় গোলটি করলে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়।
দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কোচ বাটলার। সাফ টুর্নামেন্টের আগে এই ম্যাচটি খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস এবং অনুপ্রেরণা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন তিনি। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ১৭ মে বাংলাদেশ দল আরও একটি ক্লোজ-ডোর প্রীতি ম্যাচ খেলবে।
আজকের ম্যাচের ধকল কাটিয়ে ওঠার জন্য আগামীকাল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই মঙ্গলবার আফঈদাদের মাঠে কোনো অনুশীলন সেশন থাকছে না। এর পরিবর্তে সকালে টিম হোটেলে স্কোয়াডের সকল সদস্য স্ট্রেচিং এবং পুল রিকভারি সেশনে অংশ নেবেন।
থাইল্যান্ডের কন্ডিশনিং ক্যাম্প শেষে ২১ মে দল সরাসরি যাবে ভারতের গোয়ায়। যেখানে ৬ দল নিয়ে গড়াবে এবারের নারী সাফ। বাংলাদেশ পড়েছে ‘বি’ গ্রুপে স্বাগতিক ভারত ও মালদ্বীপের সঙ্গে। ২৮ মে মালদ্বীপের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এরপর ৩১ মে স্বাগতিক ভারতকে মোকাবিলা করবে বাটলারের দল। ৩ জুন হবে সেমি-ফাইনাল, আর ৬ জুন ফাইনাল দিয়ে পর্দা নামবে এবারের সাফের।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সেই কঠিন দিনগুলো এখন অতীত; রিয়াল বেতিসে দারুণ সময় কাটছে আন্তনির। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা আক্রমণভাগের এই ফুটবলার এবার লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কিলিয়ান এমবাপের একটি অনন্য রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। রোববার রাতে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ২-২ ব্যবধানে ড্র হওয়া ম্যাচে গোল করেন তিনি। এর মাধ্যমে ২৬ বছর বয়সী উইঙ্গার প্রমাণ করেছেন যে ক্যারিয়ারের পুনরুত্থান এখন আর কেবল সম্ভাবনা নয়, বাস্তবতা।
স্পেনের সেরাদের তালিকায়
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক এই ফুটবলার লা লিগায় আসার পর থেকেই উড়ছেন। ফাইনাল থার্ডে নিজের দক্ষতাকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। বিশেষ করে বক্সের বাইরে থেকে গোল করার ক্ষেত্রে তিনি এখন বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছেন। আনোয়েতা স্টেডিয়ামে সোসিয়েদাদের বিপক্ষে গোল করার পর চলতি মৌসুমে লা লিগায় বক্সের বাইরে থেকে সবচেয়ে বেশি (৫টি) গোল করার রেকর্ডে তিনি ছুঁয়েছেন এমবাপেকে। এই পরিসংখ্যানটিই বলে দেয়, প্রিমিয়ার লিগে ধুঁকতে থাকা সেই আন্তনি এখন কতটা আত্মবিশ্বাসী।
খেলা শেষে ডিএজেডএন-কে আন্তনি বলেন,
‘আমি খুবই খুশি। এটি কঠোর পরিশ্রমের ফল। আমি যা করছি তার জন্য আমি গর্বিত। এর জন্য আমি আমার সতীর্থ এবং কোচের কাছে কৃতজ্ঞ, কারণ তারা আমাকে অনেক আত্মবিশ্বাস দিয়েছেন। আমরা এভাবেই এগিয়ে যেতে চাই।’
ম্যান ইউনাইটেড ব্যর্থতা ঝেড়ে পুনর্জন্ম
২০২২ সালে নেদারল্যান্ডসের ক্লাব আয়াক্স থেকে বড় অঙ্কের বিনিময়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেন আন্তনি। কিন্তু এই চুক্তিটি ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের জন্য দারুণ কিছু বয়ে আনেনি। বরং ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ‘ফ্লপ’ তকমা জুটেছিল তাঁর কপালে। তবে সেভিয়া ভিত্তিক ক্লাব বেতিসে যোগ দেওয়াটা যেন তার ক্যারিয়ারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে ধরা দিয়েছে। এখন তিনি আর সেই খামখেয়ালি উইঙ্গার নন, বরং বেতিস আক্রমণের মূল ভরসা। চোটের সঙ্গে লড়াই করলেও আন্তনি স্বীকার করেছেন যে, এটাই তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম।
আন্তনি বলেন,
‘ব্যক্তিগতভাবে এই মৌসুমটি নিয়ে আমি খুব খুশি। এটি আমার ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম। আমি জানি কতটা ত্যাগ স্বীকার করে আমি খেলে যাচ্ছি। ২০টিরও বেশি ম্যাচ আমি শারীরিক অস্বস্তি নিয়ে খেলেছি। এই জার্সি গায়ে দিলে আমি নিজের সবটুকু উজাড় করে দিই।’
সোসিয়েদাদ ম্যাচে আক্ষেপ
ব্যক্তিগত অর্জন থাকলেও, সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ম্যাচটি বেতিসের জন্য আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। এই ফলাফলে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় (ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ) কোয়ালিফাই করার দৌড়ে সেল্টা ভিগোর চেয়ে মাত্র ৪ পয়েন্ট এগিয়ে রইল বেতিস। ম্যাচের পর আন্তনি স্বীকার করেন যে, সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ফলাফল অন্যরকম হতে পারত।
তাঁর ভাষ্যমতে,
‘আমি আমার নিজের কথা বলতে পারি। প্রথমার্ধে আমি দুটি সহজ সুযোগ পেয়েছিলাম যা গোল হওয়া উচিত ছিল। জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় আমরা কিছুটা হতাশ ও দুঃখিত। তবে এখন আমাদের সামনে তাকাতে হবে।’
নজর এখন ইউরোপে
লা লিগার চলতি মৌসুমে আর মাত্র তিনটি ম্যাচ বাকি। পঞ্চম স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করার লক্ষ্যে বেতিস সুবিধাজনক অবস্থানেই আছে। এর মধ্যে দুটি ম্যাচই তাদের ঘরের মাঠে। আন্তনি মনে করেন ঘরের মাঠের দর্শকদের সমর্থন তাদের লক্ষ্য (চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ালিফাই) অর্জনে সহায়ক হবে,
‘সোসিয়েদাদের প্রথম গোলের আগে থেকেই তারা (প্রতিপক্ষ) আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। এখন আমাদের মঙ্গলবার এলচের বিপক্ষে হোম ম্যাচের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদের হাতে তিনটি ম্যাচ আছে, যার দুটিই নিজেদের মাঠে। আমরা জেতার জন্য লড়ব।’

এক মাস দূরে বিশ্বকাপ। আজই শেষ হচ্ছে ফিফাকে প্রাথমিক দল হস্তান্তরের সময়সীমা। শেষ দিনে এসে কোচ লিওনেল স্কালোনি ঘোষণা করলেন আর্জেন্টিনার প্রথমিক স্কোয়াড। তালিকায় রেখেছেন ৫৫ খেলোয়াড়, এখান থেকেই বাছাই করে পরবর্তীতে ঘোষণা করবেন ২৬ জনের চূড়ান্ত দল।
স্থানীয় সময় সোমবার সকালে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এই তালিকা প্রকাশ করে। আজ থেকে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার সময়, চলবে ২ জুন পর্যন্ত। বিশ্বকাপের মূল আসর শুরুর আগে কোনো খেলোয়াড় চোটে পড়লে কেবল এই তালিকায় থাকা ফুটবলারদের মধ্য থেকেই বিকল্প নিতে পারবে আলবিসেলেস্তেরা।
স্কালোনির এই তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক রিভার প্লেটের তরুণ গোলরক্ষক সান্তিয়াগো বেলট্রান। ছয় গোলরক্ষকের তালিকায় তিনি জায়গা পেলেও মূল দলে তাঁর সুযোগ পাওয়া কঠিন। তাঁর সামনে আছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, জেরোনিমো রুলি ও হুয়ান মুসোর মতো পরীক্ষিত প্রহরীরা।
রক্ষণে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নাহুয়েল মলিনার চোট। মাংসপেশির চোটে পড়া মলিনার সেরে উঠতে অন্তত ২১ দিন সময় লাগবে। তাঁর বিকল্প হিসেবে তালিকায় রাখা হয়েছে অগুস্তিন গিয়াওয়াই ও কেভিন ম্যাক অ্যালিস্টারকে। এ ছাড়া বোকা জুনিয়র্সের লাউতারো দি ললো ও হেতাফের জাইদ রোমেরোকে ডাক দিয়ে চমক দেখিয়েছেন স্কালোনি। তবে বাদ পড়েছেন গত আন্তর্জাতিক বিরতিতে ডাক পাওয়া টমাস পালাসিওস।
মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের তালিকায় স্কালোনি এমন কিছু নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন যাঁরা আগে কখনো জাতীয় দলে ডাক পাননি। বোকা জুনিয়র্সের মিল্টন দেলগাদো ও তমাস আরান্দা তাদের মধ্যে অন্যতম। আরান্দাকে নিয়ে বেশ আশাবাদী স্কালোনি। তিনি এই তরুণকে ‘অসাধারণ এক আবিষ্কার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
দীর্ঘদিন দলের বাইরে থাকা আলেহান্দ্রো গারনাচো, মাতিয়াস সুলে ও ক্লদিও এচেভেরিও ফিরেছেন প্রাথমিক তালিকায়। কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন সদস্য গিদো রদ্রিগেজকেও রাখা হয়েছে এই বড় বহরে। তবে জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি দলে থাকলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারবেন না।
শিরোপা ধরে রাখার মিশনে স্কালোনি যে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নতুন রক্ত সঞ্চালনেও গুরুত্ব দিচ্ছেন, এই বিশাল তালিকা তারই প্রমাণ। ৩০ মে চূড়ান্ত দল ঘোষণা করতে পারে আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রাথমিক দল:
গোলকিপার: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা), জেরোনিমো রুলি (অলিম্পিক মার্শেই), হুয়ান মুসো (আতলেতিকো মাদ্রিদ), ওয়াল্টার বেনিতেজ (ক্রিস্টাল প্যালেস), ফাকুন্দো কাম্বেসেস (রাসিং ক্লাব), সান্তিয়াগো বেলট্রান (রিভার প্লেট)
ডিফেন্ডার: অগুস্তিন গিয়াওয়াই (পালমেইরাস), গনজালো মন্টিয়েল (রিভার প্লেট), নাহুয়েল মলিনা (আতলেতিকো মাদ্রিদ), নিকোলাস কাপালদো (হামবুর্গ), কেভিন ম্যাক অ্যালিস্টার (ইউনিয়ন সেন্ট জিলয়েস), লুকাস মার্তিনেজ কুয়ার্তা (রিভার প্লেট), মার্কোস সেনেসি (বোর্নমাউথ), লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নিকোলাস ওতামেন্দি (বেনফিকা), হের্মান পেজেয়া (রিভার প্লেট), লিওনার্দো বালের্দি (অলিম্পিক মার্শেই), ক্রিস্তিয়ান রোমেরো (টটেনহাম হটস্পার), লাউতারো দি ললো (বোকা জুনিয়রস), জাইদ রোমেরো (গেতাফে), ফাকুন্দো মেদিনা (অলিম্পিক মার্শেই), মার্কোস আকুনা (রিভার প্লেট), নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (অলিম্পিক লিওঁ), গাব্রিয়েল রোহাস (রাসিং ক্লাব)
মিডফিল্ডার: মাক্সিমো পেরোনে (কোমো ১৯০৭), লিয়ান্দ্রো পারেদেস (বোকা জুনিয়রস), গিদো রদ্রিগেজ (ভ্যালেন্সিয়া), আনিবাল মোরেনো (রিভার প্লেট), মিল্টন দেলগাদো (বোকা জুনিয়রস), অ্যালান ভারেলা (পোর্তো), এজিকুয়েল ফার্নান্দেজ (বায়ার লেভারকুসেন), রদ্রিগো দি পল (ইন্টার মায়ামি), এক্সেকুয়েল পালাসিওস (বায়ার লেভারকুসেন), এনজো ফার্নান্দেজ (চেলসি), অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (লিভারপুল), জিওভানি লো সেলসো (রিয়াল বেতিস), নিকোলাস দোমিঙ্গেজ (নটিংহাম ফরেস্ট), এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া (অ্যাস্টন ভিলা), ভ্যালেন্টিন বার্কো (রাসিং ক্লাব ডি স্ট্রাসবার্গ)
ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি), নিকোলাস পাজ (কোমো ১৯০৭), ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানো (রিয়াল মাদ্রিদ), থিয়াগো আলমাদা (আতলেতিকো মাদ্রিদ), তমাস আরান্দা (বোকা জুনিয়রস), নিকোলাস গনজালেজ (আতলেতিকো মাদ্রিদ), আলেহান্দ্রো গারনাচো (চেলসি), জুলিয়ানো সিমিওনে (আতলেতিকো মাদ্রিদ), মাতিয়াস সুলে (রোমা), ক্লদিও এচেভেরি (গিরোনা), জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি (বেনফিকা), সান্তিয়াগো কাস্ত্রো (বোলোনিয়া), লাউতারো মার্তিনেজ (ইন্টার মিলান), হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ (পালমেইরাস), জুলিয়ান আলভারেজ (আতলেতিকো মাদ্রিদ), মাতেও পেলেগ্রিনো (পার্মা)।