২০ নভেম্বর ২০২৫, ১০:২০ এম

দলের ফরোয়ার্ডরা নিয়মিত ভূরিভূরি গোল করে বড় জয়ে ভূমিকা রাখবে, এমনটাই তো সবসময় চায় যেকোনো ক্লাব। আর স্ট্রাইকারদের কাজই তো গোল করা। তবে ক্লাব থেকে যদি নির্দেশ দেওয়া হয়, ‘আর গোল করার প্রয়োজন নেই’। শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও এমনটাই নাকি ঘটেছে বাসেলোনার তারকা ফরোয়ার্ড রবার্ট লেভানডফস্কির সঙ্গে।
২০২২-২৩ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখ ছেড়ে তখন বার্সায় যোগ দিয়েছেন লেভানডফস্কি। মৌসুমের প্রায় শেষ দিকের কথা। লা লিগা জয় তখন নিশ্চিত কাতালান ক্লাবটির। ওই মৌসুমে লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও বাকিদের ধরাছোঁয়ার বাইরে ক্লাবটির ফরোয়ার্ড লেভানডফস্কি। আর ঠিক এমন সময় নাকি পোলিশ তারকাকে গোল করতে নিষেধ করে বার্সা।
সম্প্রতি লেভানডফস্কির জীবনী নিয়ে প্রকাশিত একটি বই ‘লেভানডোভস্কি: দ্য রিয়াল ওয়ান’ এ এমনটাই দাবী করেছেন লেখক সেবাস্তিয়ান স্টাশেভস্কি। লিগের দুটি ম্যাচ বাকি থাকতেই চ্যাম্পিয়ন হয় জাভি হার্নান্দেজের বার্সা। সেই সময় নাকি লেভানডফস্কিকে বার্সেলোনার কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনার জন্য ডাকা হয়। তখন ২৩ গোল করে স্প্যানিশ লিগটির শীর্ষ গোলদাতা ছিলেন তিনি। দুইয়ে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে। ঠিক তখনই নাকি আসে সেই অদ্ভুত অনুরোধ।
আরও পড়ুন
| আফ্রিকার বর্ষসেরা হয়ে ইতিহাস হাকিমির |
|
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগতে পারে কেন প্রথম মৌসুমেই লেভানডফস্কিকে ‘গোল করা বন্ধ করতে’ বলেছিল বার্সা ? গোল করতে নিষেধ করার এমন অদ্ভুত অনুরোধ শুনে ৩৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড তাজ্জব বনে যান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের কোনো ক্লাব থেকে এমন অনুরোধ শুনেননি তিনি।
বিষয়টি কৌশলগত কারণে নয়—বরং আর্থিক কারণে এই অনুরোধ করা হয়েছিল। আর্থিকভাবে বেশ সংকটে ছিল তখন বার্সেলোনা। মূলত ২৫ লাখ ইউরো বোনাস এড়াতে চেয়েছিল ক্লাবটি। বায়ার্নের সঙ্গে বার্সার চুক্তিতে উল্লেখ ছিল এমন এক শর্ত যেখানে বলা হয়েছিল, লেভানডফস্কি যদি লিগে ২৫টি গোল করেন, তবে তার ট্রান্সফারের পারফরম্যান্স-সংক্রান্ত বোনাস হিসেবে জার্মান ক্লাবটিকে ২.৫ মিলিয়ন ইউরো দিতে হবে।
বার্সেলোনার তখন লিগ জয় নিশ্চিত, সঙ্গে লেভানডফস্কির সর্বোচ্চ গোলদাতাও হওয়াও নিশ্চিত। আর্থিকভাবে চাপে থাকা ক্লাবটি তখন বাড়তি খরচের বোঝা বাড়াতে অপারগ ছিল।
শেষ পর্যন্ত অবশ্য ক্লাবের কথা রেখেছিলেন লেভানডফস্কি। লিগের শেষ দুটি ম্যাচে পুরো সময় খেললেও কোনো গোল করেননি তিনি। এরপরও অবশ্য পিচিচি ট্রফি জিততে কোনো সমস্যাই হয়নি তাঁর। নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী করিম বেনজেমা থেকে অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন লেভা।
চলতি মৌসুমেও দারুণ ছন্দে আছেন লেভানডফস্কি। লা লিগায় ৯ ম্যাচ খেলে ৭ গোল করেছেন তিনি। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে চুক্তি আছে বার্সার। গুঞ্জন তাঁর সঙ্গে আর চুক্তি নবায়ন করবে না বার্সা।
No posts available.
১ মে ২০২৬, ২:৫২ পিএম
১ মে ২০২৬, ২:৩১ পিএম

ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ৭৬তম ফিফা কংগ্রেসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখা গেল। সভায় উপস্থিত ছিলেন ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিব্রিল রাজউব, ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি বাসিম শেখ সুলাইমান। এসময় ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতির পাশে দাঁড়াতে ও হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানান ফিলিস্তিনের ফুটবল প্রধান।
গত বৃহস্পতিবারের এই অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো উভয়কে মঞ্চে ডাকেন। কিন্তু রাজউব দখলদার ইসরায়েলের নাগরিক সুলাইমানের কাছাকাছি আসতে রাজি হননি। ইনফান্তিনো রাজউবের হাত ধরে তাকে সুলাইমানের দিকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানালেও তাতে কোনো কাজ হয়নি।
আরও পড়ুন
| একই পেনাল্টি তিনবার মিস করলেন ভিনিসিউস |
|
রাজউব কেন করমর্দন করতে অস্বীকৃতি জানালেন—রয়টার্সের এমন প্রশ্নের জবাবে ফিলিস্তিনি ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সুসান শালাবি বলেন, ‘ইসরায়েলিরা তাদের ফ্যাসিবাদ এবং গণহত্যা ধামাচাপা দিতে যাকে নিয়ে এসেছে, আমি তার সঙ্গে হাত মেলাতে পারি না! আমরা যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’
এরপর ইনফান্তিনো মঞ্চ থেকে বলেন, ‘সভাপতি রাজউব, সহ-সভাপতি সুলাইমান—আমরা একসঙ্গে কাজ করব। শিশুদের মনে আশার আলো জাগাতে চলুন আমরা একযোগে কাজ করি। এগুলো খুবই জটিল বিষয়।’
কংগ্রেস শেষে রয়টার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) সহ-সভাপতি সুসান শালাবি বলেন, রাজউব এবং সুলাইমানের মধ্যে করমর্দন করানোর যে চেষ্টা জিয়ানি ইনফান্তিনো করেছেন, তাতে ফিলিস্তিন ফুটবল প্রধানের বক্তব্যের প্রতি বিন্দুমাত্র সম্মান দেখানো হয়নি। রাজউব তার বক্তব্যে আবারও জোর দাবি জানিয়েছিলেন যেন ইসরায়েলি ক্লাবগুলো অধিকৃত পশ্চিম তীরের বসতিগুলোতে (সেটেলমেন্ট) তাদের দল পরিচালনা না করে।
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোতে ফুটবল ক্লাব পরিচালনা করার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত সপ্তাহে ফিফার সিদ্ধান্তের বিপক্ষে 'কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস' (সিএএস)-এ আপিল করেছে ফিলিস্তিন।
পিএফএ দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তি দিয়ে আসছে যে, পশ্চিম তীরের মতো দখলকৃত এলাকায়—যা ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে চায়—সেখানকার কোনো ক্লাব ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএফএ) অধীনে লিগ খেলতে পারে না।
আরও পড়ুন
| মালিক হয়েই কর্নেয়া ফুটবলারদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন বার্তা মেসির |
|
সুসান শালাবি আরও বলেন, ‘সবকিছু বলার পর এমন এক পরিস্থিতিতে হাত মেলাতে বাধ্য করা—জেনারেলের (রাজউব) পুরো বক্তব্যের উদ্দেশ্যকেই নস্যাৎ করে দেয়। তিনি ১৫ মিনিট ধরে সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে নিয়মকানুন কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে কোনো সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের অধিকার নির্লজ্জভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। অথচ আমরা কি না দিনশেষে সবকিছুকে কার্পেটের নিচে চেপে রাখব? এটা ছিল পুরোপুরি হাস্যকর।’
সুসান আরও যোগ করেন, ‘আমি হাত মেলাতে অস্বীকার করেছি। খেলা তো খেলাই... আমি সেটাকে সম্মান করি। কিন্তু অন্য পক্ষ যদি বিবির (ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু) মতো একজন অপরাধীর প্রতিনিধিত্ব করে এবং এমনভাবে কথা বলে যেন বিবি একজন ‘মাদার তেরেসা’, তবে আমি কীভাবে এমন মানুষের সঙ্গে হাত মেলাব বা ছবি তুলব?’

দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এখন লিওনেল মেসি। খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার শেষে পরের অধ্যায়ের উদ্দেশ্যে এরমধ্যে ঠিক করে রাখছেন সর্বকালে অন্যতম সেরা ফুটবলার। স্প্যানিশ ফুটবলে সূচনা করেছেন নতুন এক অধ্যায়ের। স্পেনের কাতালান ক্লাব 'উয়ে কর্নেয়া' কিনে নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো ক্লাবটির খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের সামনে হাজির হলেন ইন্টার মায়ামির মহাতারকা। ক্লাবটি অধিগ্রহণের পর একটি আবেগপূর্ণ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্বপ্নের কথা জানান মেসি।
কাতালুনিয়ার বাইশ ইয়োব্রেগাত অঞ্চলে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়ে কর্নেয়ার খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন মেসি। ক্লাবটি কিনে নেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি এই পঞ্চম সারির দলটিকে এগিয়ে নেওয়ার এবং সবসময় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
আরও পড়ুন
| একই পেনাল্টি তিনবার মিস করলেন ভিনিসিউস |
|
ভিডিও বার্তায় মেসি কর্নেয়ার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি নিজের পরিচয় দিতে এবং তোমাদের এটা জানাতে চাই যে—আমরা এখানে এসেছি ক্লাবটিকে বড় করতে এবং সব ধরনের প্রয়োজনে সাহায্য করতে। এই নতুন প্রজেক্ট নিয়ে আমাদের অনেক উৎসাহ আছে। আমি তোমাদের সব খোঁজখবর রাখছি এবং প্রতি সপ্তাহে তোমাদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি।’
গত ১৬ এপ্রিল ইন্টার মায়ামি তারকা লিওনেল মেসি স্প্যানিশ ক্লাবটি কেনার ঘোষণা দেন। তরুণ ফুটবলারদের প্রতিভা বিকাশে এটি তার নতুন এক বিনিয়োগ। কর্নেলা তাদের শক্তিশালী ফুটবল অ্যাকাডেমির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত; যেখান থেকে উঠে এসেছেন জর্দি আলবা, জেরার্ড মার্টিন এবং ডেভিড রায়ার মতো বিশ্বমানের তারকা ফুটবলাররা।
লিগের (তেরসেরা আরএফইএফ) খেলা শেষ হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি। কর্নেয়া ইতিমধ্যে সেগুন্দা আরএফইএফ-এ ওঠার প্রমোশন প্লে-অফ নিশ্চিত করে ফেলেছে। ঠিক এমন সময়েই মেসির এই অনুপ্রেরণামূলক বার্তা এলো।
গত ১৬ এপ্রিল স্প্যানিশ ক্লাবটি কেনার ঘোষণা দেন মেসি। তরুণ ফুটবলারদের প্রতিভা বিকাশে এটি ‘এলএম টেনের’ নতুন এক বিনিয়োগ। কর্নেয়া তাদের শক্তিশালী ফুটবল একাডেমির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। যেখান থেকে উঠে এসেছেন জর্দি আলবা, জেরার্ড মার্টিন এবং ডেভিড রায়ার মতো বিশ্বমানের তারকা ফুটবলাররা।
কর্নেয়া ক্লাব কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘লিওনেল মেসির এই আগমন ক্লাবের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। এর লক্ষ্য হলো মাঠের পারফরম্যান্স এবং প্রাতিষ্ঠানিক—উভয় দিক থেকেই ক্লাবকে এগিয়ে নেওয়া, এর ভিত্তি শক্ত করা এবং নতুন প্রতিভাদের পেছনে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা। এই প্রজেক্টটি একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও কৌশলের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে, যেখানে বড় উচ্চাকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন এবং স্থানীয় শিকড়ের সঙ্গে গভীর সংযোগের সমন্বয় থাকবে।’
সামনে প্লে-অফ ম্যাচ, তাই এখন সব চাপ কর্নেয়ার খেলোয়াড়দের ওপর—তাদের নতুন মালিকের বিশাল উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মাঠের পারফরম্যান্সের মিল রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। মেসির লক্ষ্য একদম পরিষ্কার—স্প্যানিশ ফুটবলের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ধাপে ধাপে ক্লাবটির টেকসই উন্নতি নিশ্চিত করা। আপাতত সবার নজর মেসির উপস্থিতি এবং দূর থেকে তাঁর নিয়মিত সমর্থনের দিকে থাকলেও আসল পরীক্ষাটা হবে অন্য জায়গায়। মেসির এই উৎসাহ আর অনুপ্রেরণা কি সত্যিই কর্নেলাকে স্প্যানিশ ফুটবলের সিঁড়ি বেয়ে দ্রুত ওপরের দিকে তুলে আনতে পারবে? সেটা সময়ই বলে দেবে।

ফুটবল মাঠে পেনাল্টি মিস করা নতুন কিছু নয়, কিন্তু একই ম্যাচে একই পেনাল্টি তিনবার নিয়ে তিনবারই মিস করার ঘটনা বিরল। কোপা সুদামেরিকানায় চিলির ক্লাব পালেস্তিনোর বিপক্ষে বুধবার রাতে এমনই এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন গ্রেমিও ফরোয়ার্ড কার্লোস ভিনিসিউস।
ম্যাচের ১১ মিনিটে পেনাল্টি পায় গ্রেমিও। ভিনিসিউসের প্রথম শটটি পালেস্তিনোর গোলকিপার সেবাস্টিয়ান পেরেজ রুখে দেন। তবে শট নেওয়ার আগেই লাইন ছেড়ে বেরিয়ে আসায় রেফারি পুনরায় পেনাল্টি নেওয়ার নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন
| এই ফুটবল, যুদ্ধ নয় - সমালোচকদের এক হাতে নিলেন রোনালদো |
|
দ্বিতীয় চেষ্টায় ভিনিসিউস ডান দিকে শট মারেন, কিন্তু এবারও পেরেজ বলটি পোস্টে লাগিয়ে প্রতিহত করেন। নাটকীয়ভাবে রেফারি আবারও গোলকিপারের ভুলের কারণে পেনাল্টি বাতিলের বাঁশি বাজান।
ফলে তৃতীয়বারের মতো সুযোগ পান ৩১ বছর বয়সী ভিনিসিউস। এবার শট নেওয়ার সময় পিছলে গেলে সহজেই বলটি ঠেকিয়ে দেন পেরেজ। রেফারি আর নতুন সুযোগ দেননি।
পরে ভিএআরে ভিনিসিউসের একটি গোল বাতিল হয় এবং শেষ মিনিটে হলুদ কার্ডও দেখতে হয়। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র হয়। ফলে ৩ ম্যাচ শেষে গ্রুপ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রইল গ্রেমিও।
গত জুলাইয়ে ফুলহ্যাম থেকে ফ্রি ট্রান্সফারে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব গ্রেমিওতে যোগ দেওয়ার পর দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন ভিনিসিউস। ৪০ ম্যাচে করেছে ২৫ গোল করা এই ফরোয়ার্ডকে ব্রাজিল জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়ার আলোচনাও হচ্ছিল। তবে এই রাতটি দুঃস্বপ্নের মতই ছিল একসময় টটেনহামে খেলা ভিনিসিউসের জন্য।

সৌদি প্রো লিগ নিয়ে একের পর এক সমালোচনা এবং নেতিবাচক কথাবার্তা নিয়ে জমানো ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন ক্রিস্তিয়ানো। রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রমাগত অভিযোগ এই লিগের বিশ্বব্যাপী ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলে মনে করছেন আল নাসর ফরোয়ার্ড। মৌসুম শেষে এই বিষয়ে নাকি বিস্তারিত মুখ খুলবেন ‘সিআর সেভেন’।
চলতি মাসের শুরুর দিকে আল-নাসরের কাছে হারের পর আল-আহলির বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় অভিযোগ করেছিলেন, রোনালদোর দল রেফারিদের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। আল-আহলি ডিফেন্ডার মেরিহ ডেমিরালের অভিযোগের পরই ফুঁসে ওঠেন রোনালদো। তুর্কি এই ফুটবলার দাবি করেছিলেন, পুরো মৌসুম জুড়েই আল-নাসর রেফারিদের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পেয়ে আসছে।
গতকাল সৌদি প্রো লিগে আল-আহলিকে ২-০ গোলে হারিয়ে শিরোপার আরও কাছে যাওয়ার পর সমালোচকদের তোপ দাগান রোনালদো। সৌদির লিগে ৩০ ম্যাচ শেষে ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে আল নাসর। এক ম্যাচ কম খেলে ৭১ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আল হিলাল। আর ২৯ ম্যাচে ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে আল আহলি।
আল আহলির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ জয়ে গোল পাওয়া রোনালদো ম্যাচ শেষে সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি মনে করি এটা লিগের জন্য মোটেও ভালো কিছু নয়। এখানে সবাই শুধু অভিযোগ করে। ভাই, এটা ফুটবল, যুদ্ধ নয়। আমরা জানি আমাদের লড়াই করতে হবে, সবাই জিততে চায়—কিন্তু তার মানে এই নয় যে জেতার জন্য সবকিছুই জায়েজ।’
সৌদির এই লিগে আরও বাজে ব্যাপারও নাকি ঘটছে। তবে সব বিষয়ে নিয়ে মৌসুম শেষেই মুখ খুলবেন পর্তুগিজ মহাতারকা, ‘আমি মৌসুমের একদম শেষ দিকে কথা বলব, কারণ আমি এখানে অনেক অনেক খারাপ জিনিস ঘটতে দেখেছি।’
রোনালদো আরও যোগ করেন, ‘অনেক খেলোয়াড়ই ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অভিযোগ করছে; তারা রেফারি নিয়ে কথা বলছে, লিগ নিয়ে কথা বলছে, এমনকি (লিগের) প্রজেক্ট নিয়েও কথা বলছে। এটা মোটেও ভালো হচ্ছে না। লিগের লক্ষ্য তো এটা ছিল না।’
মাঠের বাইরের বিতর্ক বন্ধ করে সৌদি লিগকে বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করার আহ্বান জানিয়ে রোনালদো বলেন, ‘আমাদের এমন একটা উদাহরণ তৈরি করা উচিত যাতে শুধু এখানকার মানুষ নয়, ইউরোপের মানুষও দেখে যে আমরা বিশ্বের সেরা লিগগুলোর একটি হওয়ার জন্য তাদের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছি। কিন্তু যেভাবে সমালোচনা চলছে, আমার মনে হয় এগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করা দরকার এবং দ্রুত এসব বন্ধ করা উচিত... কারণ আমার কাছে, এটা ফুটবল নয়।’
৪১ বছর বয়সী রোনালদো জানিয়েছেন, এ বছরের শুরুর দিকে তিনি কেন সৌদি প্রো লিগের দুটো ম্যাচ বর্জন করেছিলেন, তার ব্যাখ্যা তিনি দেবেন। গুঞ্জন আছে শীতকালীন দলবদলের সময় পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ করিম বেনজেমা যখন আল-ইত্তিহাদ ছেড়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল-হিলালে যোগ দেন এবং তাদের শক্তি আরও বাড়িয়ে দেন, তখন প্রতিবাদ স্বরূপ রোনালদো ওই ম্যাচগুলো খেলেননি।
রোনালদো বলেন, ‘এই মৌসুমটা শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও খুব কঠিন ছিল। আমরা জানি অন্য দলগুলোর ক্ষমতা কতটুকু, তবে আমি মৌসুম শেষেই সব বিষয়ে কথা বলার সুযোগ পাব।’
সব হতাশা আর প্রতিবন্ধকতা একপাশে রেখে রোনালদো এখন আল-নাসরকে ২০১৯ সালের পর তাদের প্রথম শিরোপা জেতাতে উন্মুখ হয়ে আছেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর এটিই হতে পারে তাঁর প্রথম শিরোপা। পর্তুগাল অধিনায়ক বলেন, ‘শিরোপার জন্য এই লড়াই একদম শেষ পর্যন্ত চলবে। আজকের (গতকাল) ম্যাচটা খুব কঠিন ছিল। আমরা জানতাম যে লিগের অন্যতম সেরা একটা দলের বিপক্ষে আমরা খেলতে নামছি।’
চলতি মৌসুমে আল-নাসরের শিরোপা জয়ের মিশনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। লিগে ২৬ ম্যাচে ২৫ গোলের সঙ্গে দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার। সবশেষ আল আহলির বিপক্ষে জালের দেখা পাওয়া রোনালদোর ক্যারিয়ার গোল সংখ্যা এখন ৯৭০-এ গিয়ে ঠেকেছে।

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপে খেলার ঘোষণা দিয়েছেন গুইলার্মো ওচোয়া। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরে যাবেন এই কিংবদন্তি গোলকিপার। ৪১ বছর বয়সী এই তারকা বৃহস্পতিবার জানান, বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের পাশাপাশি সব ধরনের ফুটবল থেকেও বিদায় নিতে পারেন তিনি।
এবারের বিশ্বকাপে ডাক পেলে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করবেন ওচোয়া। ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ দলে থেকে তিনি নাম লেখাবেন লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মতো মহাতারকাদের পাশে।
মেক্সিকোর হয়ে এর আগে আন্তোনিও কারভাহাল, রাফায়েল মার্কেজ ও আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন। এবারের বিশ্বকাপে নামলে প্রথম গোলকিপার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার নজির গড়বেন ওচোয়া।
আরও পড়ুন
| সমর্থকদের কারণে রেফারির সিদ্ধান্ত বদল, অভিযোগ রাইসের |
|
বর্তমানে সাইপ্রাসের ক্লাব এএল লিমানসোল এফসিতে খেলেন ওচোয়া। মেক্সিকান টেলিভিশন চ্যানেল টিইউডিএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ বিশ্বকাপের পর অবসরে যাব। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সবসময়ই কঠিন। তবে আমি দীর্ঘ সময় ফুটবল উপভোগ করেছি বলে আমার জন্য এটি খুব বেশি কষ্টের হবে না। একটা সময় শরীর ও মন বলে দেয় আপনি নিজের সেরাটা দিয়ে ফেলেছেন। আমি খুব শান্ত মনেই বিদায় নিতে চাই।‘
মেক্সিকো কোচ হাভিয়ের আগুইরে সম্প্রতি যে প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছেন, সেখানে মেক্সিকান লিগের দুই গোলকিপারকে রাখা হয়েছে। তৃতীয় গোলকিপার হিসেবে ওচোয়ার জন্য জায়গাটি ফাঁকা রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত তিন বিশ্বকাপে গোলবারের নিচে মেক্সিকোর প্রথম পছন্দের থাকলেও এবার রাউল রাঙ্গেলের ব্যাকআপ হিসেবে দেখা যেতে পারে ওচোয়াকে। সবশেষ ২০২৪ সালের নভেম্বরে মেক্সিকোর জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন এই গোলকিপার।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পাশাপাশি ২০২৬ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকো। ঘরের মাঠের এই টুর্নামেন্ট দিয়েই নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানতে যাচ্ছেন ওচোয়া।