
চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা লড়াই এখন শেষ লগ্নে। পিএসজি, বায়ার্ন মিউনিখ, আর্সেনাল কিংবা আতলেতিকো মাদ্রিদ—সবার চোখ এখন স্বপ্নের ফাইনালের দিকে। শেষ চারের এই স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে যখন নতুন কোনো নায়ক হওয়ার অপেক্ষা, তখন ইতিহাসের পাতা ওল্টালে একটি নামই সবার ওপরে ভাস্বর হয়ে ওঠে—ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের মঞ্চে গোল করাকে যিনি এক সময় ডালভাত বানিয়ে ছেড়েছিলেন।
১৯৯২ সালে নতুন নামকরণের পর থেকে এই প্রতিযোগিতায় শেষ চারের লড়াইয়ে গোলের যে রেকর্ড রোনালদো গড়েছেন, তা যেন হিমালয়ের চূড়া। চলুন দেখে নেওয়া যাক চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে সবচেয়ে বেশি গোল করা ফুটবলারদের তালিকা।
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো: ১৩ গোল
চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি পাঁচবারের শিরোপাজয়ী এই পর্তুগিজ মহাতারকা সেমিফাইনালেও তাঁর একক আধিপত্য। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি সেমিফাইনালে গোলের সংখ্যার দিক থেকে দুই অঙ্কের ঘর ছুঁয়েছেন। ২০০৭ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে এসি মিলানের বিপক্ষে প্রথম সেমিফাইনাল গোল করেন রোনালদো। আর ২০১৭ সালে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে নিজের ১৩তম গোলটি আদায় করে নেন।
করিম বেনজেমা: ৮ গোল
রিয়াল মাদ্রিদে দীর্ঘ সময় রোনালদোর সহযোগী হিসেবে খেললেও ফরাসি স্ট্রাইকার বেনজেমা নিজেও এই মঞ্চে অনন্য। রিয়ালের হয়ে সেমিফাইনাল পর্বে তিনি করেছেন ৮টি গোল। ২০১৩ সালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে প্রথম গোলের স্বাদ পান তিনি। তবে ২০২১-২২ মৌসুমে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অবিশ্বাস্য। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে ৩ গোল করে দলকে একাই ফাইনালে তুলেছিলেন।
৩. রবার্তো লেভানডফস্কি: ৭ গোল
পোলিশ গোলমেশিন লেভানডফস্কি চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের মঞ্চে নিজের আবির্ভাব ঘটিয়েছিলেন রাজকীয়ভাবে। বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে ২০১৩ সালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে একাই ৪ গোল করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে বায়ার্ন মিউনিখের হয়েও আরও ৩টি গোল যোগ করেন তিনি।
লিওনেল মেসি: ৬ গোল
বিস্ময়কর মনে হলেও সত্যি, নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম ছয়টি চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে জালের দেখা পাননি আর্জেন্টাইন জাদুকর। খরা কাটে ২০১১ সালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে জোড়া গোল করে। পরবর্তীতে বায়ার্ন মিউনিখ এবং লিভারপুলের বিপক্ষেও সেমিফাইনালের প্রথম লেগে জোড়া গোল করার কীর্তি আছে তার। বড় মঞ্চের এই ফুটবলারের নামের পাশে রয়েছে ৬টি সেমিফাইনাল গোল।
আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো ও জারি লিটম্যানেন: ৫ গোল
জুভেন্টাসের কিংবদন্তি দেল পিয়েরো ১৯৯০-এর দশকে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল রাঙিয়েছিলেন ৫ গোল করে। বিশেষ করে ১৯৯৮ সালে মোনাকোর বিপক্ষে তাঁর হ্যাটট্রিকটি এখনো ফুটবল ভক্তদের মনে গেঁথে আছে। সমসংখ্যক গোল করে তালিকায় সমান অবস্থানে আছেন আয়াক্সের প্রাক্তন তারকা জারি লিটম্যানেন।
৪ গোল করা একঝাঁক তারকা
তালিকায় এরপরই রয়েছেন চারজন ফুটবলার, যাঁরা প্রত্যেকেই সেমিফাইনালের মঞ্চে ৪টি করে গোল করেছেন। সাদিও মানে—লিভারপুলের হয়ে রোমা এবং ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোলগুলো করেছিলেন এই সেনেগালিজ তারকা।
টমাস মুলার, বায়ার্ন মিউনিখের এই জার্মান তারকার ৪টি সেমিফাইনাল গোলই এসেছে বার্সেলোনার বিপক্ষে। আরিয়েন রোবেন, বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ২০১৩ সালের ট্রেবল জয়ে তার অবদান ছিল অবিস্মরণীয়।
জিনেদিন জিদান, জুভেন্টাসের হয়ে ১৯৯৭ সালে এবং পরবর্তী সময়ে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে মাঝমাঠের এই জাদুকর করেছেন ৪টি গোল।
No posts available.
২৮ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৫২ এম

একজন ক্লাবের সর্বকালের অন্যতম সেরা। অন্যজন বিশাল প্রত্যাশা নিয়ে পা রেখেছিলেন ‘স্বপ্নের ঠিকানায়’। গোলের পর গোল করে রিয়াল মাদ্রিদকে একের পর এক সাফল্য এনে দিয়েছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ওল্ড ট্যাফোর্ড থেকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এসেই রোনালদো বদলে দিয়েছিলেন লস ব্লাঙ্কোসদের ভাগ্য। ঠিক তেমনি এক বুক স্বপ্ন নিয়ে পিএসজি থেকে মাদ্রিদে পা রাখেন কিলিয়ান এমবাপে।
লা লিগায় গত ২৫ এপ্রিল রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচে রিয়ালের হয়ে শততম ম্যাচ খেলেন এমবাপে। ১০০ ম্যাচের মাইলফলকের স্পর্শ করার পর স্বাভাবিকভাবেই ফরাসি ফরোয়ার্ডের পারফরম্যান্স নিয়ে চলছে ব্যবচ্ছেদ। রিয়ালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল করা রোনালদোর সঙ্গেই এমবাপের তুলনা টানছেন অনেকে। উভয়ই ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাবের ইতিহাসে গভীর ছাপ ফেলেছেন (এমবাপ্পে এখনও সেই ধারা বজায় রাখছেন)। রিয়ালের হয়ে প্রথম ১০০ ম্যাচ শেষে দুজনেই অর্জন করেছেন বড় বড় সব কীর্তি। তবে এই ১০০ ম্যাচের পথচলায় কার যাত্রা কেমন ছিল এবং কে কতটা সফল, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এমবাপের জন্য তেতো সত্য হলো, রিয়াল মাদ্রিদের দলীয় হতাশাজনক পারফরম্যান্স তাঁর ব্যক্তিগত অর্জনগুলোকে কিছুটা আড়ালে পাঠিয়ে দিয়েছে। গত মৌসুমে ইউয়েফা সুপার কাপ এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ ছাড়া দলগতভাবে বড় কোনো সাফল্য এখনও আসেনি।
আরও পড়ুন
| ডাগ আউটে নেই কোম্পানি, দিয়ে রাখলেন বার্তা |
|
অবশ্য এই দিক থেকে এমবাপে কিছুটা সান্ত্বনা পেতে পারেন, কারণ রোনালদোর শুরুর বছরগুলোও কিন্তু ট্রফিতে খুব একটা ঠাসা ছিল না। রিয়ালের হয়ে নিজের অভিষেক মৌসুমে রোনালদো কোনো শিরোপাই জিততে পারেননি, আর দ্বিতীয় মৌসুমে জিতেছিলেন কেবল কোপা দেল রে।
এবার আসা যাক গোলের লড়াইয়ে। গোলের খেলা ফুটবলে রোনালদো শুরু থেকেই এক আকাশচুম্বী মানদণ্ড তৈরি করে দিয়েছিলেন। রিয়ালে নিজের প্রথম ১০০ ম্যাচে ৮,১৬০ মিনিট খেলে ৯৫টি গোল (১৯টি পেনাল্টি থেকে) করেছিলেন ‘সিআর সেভেন’। বিপরীতে এমবাপ্পে ১০০ ম্যাচে ৮,৪৬৪ মিনিট মাঠে থেকে ( রোনালদোর চেয়ে প্রায় ৩০০ মিনিট বেশি) করেছেন ৮৫টি গোল (১৬টি পেনাল্টি থেকে) এবং ২৩টি অ্যাসিস্ট।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে প্রথম ১০০ ম্যাচ শেষে কিলিয়ান এমবাপ্পের পরিসংখ্যান তাকে ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতাদের কাতারেও নিয়ে এসেছে। এরইমধ্যে করিম বেনজেমা, হুগো সানচেজ এবং রোনালদো নাজারিও-র মতো কিংবদন্তিদের ছাড়িয়ে গেছেন এবং রোনালদোর রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।
রিয়ালের ইতিহাসের সেরা গোলমেশিনদের প্রথম ১০০ ম্যাচের সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, ফরাসি এই তারকা এমবাপের অবস্থান বেশ উঁচুতে। এই তালিকায় তাঁর ওপরে আছেন কেবল ফেরেঙ্ক পুসকাস (১০০ গোল), রোনালদো (৯৫ গোল) এবং প্রুদেনসিও সানচেজ ও পাহিঁয়ো (৮৬ গোল)। তবে আলফ্রেডো ডি স্টেফানো (৮৩ গোল) এবং হুগো সানচেজের (৭১ গোল) মতো ক্লাবের অনেক মহাতারকাকেও পেছনে ফেলে দিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
লা লিগায় ৫৫টি, চ্যাম্পিয়নস লিগে ২২টি, কোপা দেল রে-তে ৪টি, স্প্যানিশ সুপার কাপে ৩টি এবং ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ, ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ ও উয়েফা সুপার কাপে একটি করে গোল করেছেন এমবাপে।
বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে বড় তারকা হওয়া সত্ত্বেও, এমবাপে আসার পর থেকে স্প্যানিশ জায়ান্টদের হতাশাজনক ফলাফল এই ফরাসি অধিনায়কের ব্যক্তিগত অর্জনকে একেবারেই ম্লান করে দিয়েছে। তাঁর উপস্থিতিতে গত মৌসুমে দলটি কেবল উয়েফা সুপার কাপ এবং ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জিততে পেরেছে।
আরও পড়ুন
| প্যারিসে বায়ার্নের দাপট নাকি পিএসজির প্রতিশোধ |
|
অবশ্য ব্যাক্তিগত পারফরম্যান্সে কোনো কমতি না রাখা এমবাপে এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত ২৪ গোল করে লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘পিচিচি’ ট্রফি ধরে রাখার দৌড়ে বেশ এগিয়ে আছেন। এছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও তিনি ১৫ গোল করে সবার ওপরে। সেমিফাইনাল ওঠা বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইন (১২ গোল) তাঁর চেয়ে পিছিয়ে আছেন।
সাবেক পিএসজি তারকা এমবাপে এখনও বড় ম্যাচগুলোতে নিজের জাত চেনাতে পারেননি। তাঁর উপস্থিতিতে রিয়াল মাদ্রিদ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি বার্সেলোনাকে মাত্র একবার হারাতে পেরেছে, বিপরীতে হার মেনেছে পাঁচবার। এমনকি নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষেও পরিসংখ্যান খুব একটা সুবিধাজনক নয়; দুই জয়ের একটিতে এমবাপে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন, বাকি ম্যাচগুলোতে একটি ড্র এবং দুই হার সঙ্গী হয়েছে তাঁর।
সব মিলিয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এমবাপের সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। লা লিগার গত পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই কোনো গোল পাননি। এছাড়া ক্লাবের শিরোপাহীন যাত্রা এবং তার বাঁ হাঁটুর চোট ভক্তদের মনে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেছে।

ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনালের ফাস্ট লেগে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) বিপক্ষে ডাগ আউটে থাকতে পারছেন না বায়ার্ন মিউনিখ কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি। নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ায় টাচলাইন থেকে শিষ্যদের নির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ হারালেন এই বেলজিয়ান মাস্টারমাইন্ড।
কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচে রেফারির একটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে কার্ড দেখেছিলেন কোম্পানি। সেটি ছিল আসরে তার তৃতীয় হলুদ কার্ড। ইউয়েফার বিধি অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের তিনবার হলুদ কার্ড দেখলে পরবর্তী এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। সে নিয়মেই পার্ক দে প্রাঁসে দর্শক হয়ে থাকতে হচ্ছে কোম্পানিকে।
আরও পড়ুন
| চাপ থাকলেও ‘চাপ না নিয়ে’ হৃদয়দের রেকর্ড জয় |
|
কোম্পানির অনুপস্থিতিতে বায়ার্নের ডাগ আউটে সামলাবেন সহকারী কোচ অ্যারন ড্যাঙ্কস। তবে প্রধান কোচের অবর্তমানেও জয়ের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হচ্ছে না বাভারিয়ানরা। সহকারী ড্যাঙ্কসের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে কোম্পানি বলেন, ‘ড্যাঙ্কসের যথেষ্ট অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন কোচ। তিনি বেশ কিছুদিন ইংল্যান্ডের ডাগআউটেও (অ্যাসিস্টন ভিলা ও জাতীয় দল) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আমার কোচিং স্টাফ এবং স্কোয়াডের সবার ওপর শতভাগ আস্থা আছে।’
ইউয়েফার কড়া নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালীন কোম্পানি ড্রেসিংরুম কিংবা টেকনিক্যাল এরিয়ায় প্রবেশের অনুমতি পাবেন না। এমনকি খেলোয়াড়দের সাথে সরাসরি যোগাযোগও করতে পারবেন না তিনি। তবে দলের রণকৌশল সাজাতে কোনো কমতি রাখছেন না তিনি। প্যারিসের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে দলের প্রতিটি প্রস্তুতি সেশনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে শিষ্যদের শেষ মুহূর্তের টোটকা দিয়েছেন কোম্পানি। এমনকী ম্যাচের দিনও টিম বাসে করে স্টেডিয়ামে আসা এবং ম্যাচ পরবর্তী দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন তিনি।
দেখার বিষয়, পার্ক দে প্রাঁসের গ্যালারিতে বসে কোম্পানির মস্তিষ্ক আর ডাগআউটে ড্যাঙ্কসের পরিচালনা বায়ার্নকে ফাইনালের পথে কতটা এগিয়ে নেয়।

বন্ধুর এক পথ মাড়িয়ে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ নিষ্পত্তির পথে। তার আগে অবশ্য সেমি-ফাইনাল দেয়াল। এরপরই পূর্ণ ফয়সালা—ট্রফি উৎসব। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ঘরের মাঠ পার্ক দে প্রাঁসে প্রথম সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্ন মিউনিখকে আতিথ্য দেবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নস প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)।
নিজেদের দূর্গে ম্যাচ হলেও স্বস্তিতে থাকার জো নেই লুইস এনরিকের। ইতিহাস অন্তত সেটাই বলছে। ২০১৭ সালের পর থেকে ঘরের মাঠে বায়ার্নের বিপক্ষে পাঁচবারের মুখোমুখিতে চার বারই হেরেছে পিএসজি। সবশেষ অর্থাৎ চ্যাম্পিয়নস লিগের চলতি আসরেও একবারের দেখায় পার্ক দে প্রাঁসে থেকে ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে ফিরেছে বাভারিয়ানরা। ফলে ম্যাচটি স্বাগতিকদের জন্য একদিকে যেমন ঘরের মাঠে গেরো খোলার, অন্যদিকে ফরাসি জায়ান্টদের জন্য প্রতিশোধেরও।
সব ধরণের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ভিনসেন্ট কোম্পানির দলেরই আধিপত্য। ১৯৯৪ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ বার লড়াইয়ে নেমেছে জায়ান্ট দুই ক্লাব। ১০টিতেই জিতেছে বায়ার্ন, ৭টিতে লুইস এনরিখের দল। বাভারিয়ানদের বিপক্ষে ফরাসি ক্লাবের সবশেষ জয় ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে। হ্যারি কেইনদের হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠেছিল তারা। রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে ফাইনালে। তবে চেলসির বিপক্ষে তারা হোঁচট খায় শিরোপার মঞ্চে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফাস্ট লেগে খেলতে নামার আগেও বেশি স্বস্তি নিয়েই নামছে বায়ার্ন। বুন্দেস লিগায় ইতোমধ্যে শিরোপা নির্ধারণ করে নিয়েছে তারা। ডিএফবি-পোকালেও সেমিফাইনালে বায়ার লেভারকুসেনকে হারিয়ে উঠেছে ফাইনালে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ স্টুটগার্ট। আগামী ২৪মে ফাইনাল হওয়ায় নেই গেম লোডের ভয়।
পিএসজি দম ফেলানোর পুসরত একদমই পাচ্ছে না । লিগ আঁ-তে কড়া শিডিউলে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। প্রতিযোগিতাতয় টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা লঁ-সের চেয়ে ৬ পয়েন্ট এগিয়ে তারা। নিজেদের সবশেষ ম্যাচে ব্রেস্টের বিপক্ষে লঁ-সের ৩-৩ ব্যবধানে ড্র এবং পিএসজির অঁজার্সের বিপক্ষে জয়ে এখন কিছুটা হলেও স্বস্তিতে।
২০২৩ সালে লুইস এনরিকে কোচ হওয়ার পর এ নিয়ে টানা তিনবার সেমিফাইনালে উঠেছে পিএসজি। গত মৌসুমে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার পর এবার তারা টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে। নকআউট পর্বের আগের দুই রাউন্ডে চেলসি ও লিভারপুলকে হারিয়ে এই পর্যায়ে পৌঁছেছে তারা।
এনরিকে বলেন, ‘সেমিফাইনালে ওঠাটা আনন্দের এবং আমরা এর যোগ্য। এই পর্যায়ে আসতে হলে উচ্চাকাঙ্ক্ষী হতে হয় এবং আমার মনে হয় আমাদের তা আছে। আমরা আরও সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’
২০২৪ সালের নভেম্বরে লিগ পর্বে বায়ার্ন ১-০ গোলে জিতেছিল। এরপর গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পিএসজি ২-০ গোলে জয় পায়। তবে সর্বশেষ নভেম্বরে প্যারিসের মাটিতে বায়ার্ন ২-১ গোলে জয়ী হয়েছিল। এনরিকে জানিয়ে জানিয়েছেন, ‘সবাই এখন প্রস্তুত।’ বরং সেমিফাইনালে তার দল ফেভারিট বলেও জানিয়েছেন।
এনরিকে যেমন স্বস্তিতে, দল নিয়েও রয়েছে সুখবর। ইনজুরি কাটিয়ে তিন মাস পর গত সপ্তাহে মাঠে ফিরেছেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ফ্যাবিয়ান রুইজ। পর্তুগিজ প্লে-মেকার ভিতিনহার চোট নিয়ে পিএসজি শিবিরে কিছুটা দুশ্চিন্তা ছিল, কারণ তিনি শেষ দুটি ম্যাচে খেলতে পারেননি। তবে সোমবার তিনি অনুশীলনে ফেরায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের জন্য বড় স্বস্তি মিলেছে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) বিপক্ষে লড়াইয়ে টাচলাইনে থাকতে পারবেন না বায়ার্ন মিউনিখ কোচ কোম্পানি। নিষেধাজ্ঞার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ডাগআউটে অনুপস্থিত থাকবেন তিনি। দলেও আসবে পরিবর্তন। চোটের কারণে তারকা ফরোয়ার্ড সার্জ গ্যানাব্রির জায়গায় জামাল মুসিয়ালাকে দেখা যেতে পারে।
কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে বায়ার্নের নাটকীয় জয়ের ম্যাচে রেফারি একটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় তৃতীয় হলুদ কার্ড দেখেন কোম্পানি। ফলে মঙ্গলবার পার্ক দে প্রাঁসে বেলজিয়ান এই কোচকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে বায়ার্নকে। তার পরিবর্তে ডাগআউটে কোচের দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী অ্যারন ড্যাঙ্কস। কোম্পানি বলেন, ‘ড্যাঙ্কসের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে, তিনি বেশ কিছুদিন ইংল্যান্ডের ডাগআউটেও ছিলেন। কোচিং স্টাফ এবং বাকি সবার ওপর আমার শতভাগ আস্থা আছে।’
সবমিলিয়ে ম্যাচটি যে কঠিন হতে চলেছে সেটা অবশ্য স্বীকার করেছেন কোম্পানি, ‘প্রতিটি ম্যাচে তাদের বিপক্ষে আমাদের লড়াই সবসময়ই বেশ হাড্ডাহাড্ডি হয়েছে—আমরা দুটিতে জিতেছি, তারা জিতেছে একটিতে। তবে ম্যাচগুলো এতটাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল যে ফলাফল যেকোনো দিকেই যেতে পারত।’

মৌসুম শেষে আলভারো আরবেলোয়ার বিদায় অনেকটাই নিশ্চিত। এরপর রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটের গুরুদায়িত্বের ভার কে নিতে পারেন সেটা নিয়েই এখন যত জল্পনা-কল্পনা। কখনও সাবেক কোচ হোসে মরিনিয়ো কখনও আবার ইয়র্গেন ক্লপের মতো অভিজ্ঞ কোচের নাম শোনা যাচ্ছে। এবার এ তালিকায় নতুন চমক লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী এই কোচের সঙ্গে নাকি এরমধ্যে যোগাযোগও করেছে রিয়াল, এমনটাই জানিয়েছে একাধিক স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম।
স্পেনের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদের পরবর্তী কোচ হওয়ার দৌড়ে লিওনেল স্কালোনিকে অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। স্প্যানিশ সাংবাদিক মানোলো লামা 'কাদেনা কোপ' কে জানিয়েছেন, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবটি ইতিমধ্যেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের এই কোচের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। 'এল টারটুলিয়ন' প্রোগ্রামে লামা বলেন, ‘আমি আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, রিয়াল মাদ্রিদ স্কালোনির সাথে যোগাযোগ করেছে।’
৪৭ বছর বয়সী লিওনেল স্কালোনি আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপ জেতানোর পর থেকে বিশ্ব ফুটবলে নিজের অবস্থানকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে অন্যতম সেরা কৌশলী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। বিশেষ করে লিওনেল মেসির মতো বড় মাপের তারকাদের সামলানোর যে দক্ষতা তিনি দেখিয়েছেন, আর সেটাই রিয়াল মাদ্রিদ বোর্ডকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে।
গত কয়েক বছরে আর্জেন্টিনাকে অভাবনীয় সাফল্য এনে দিয়েছেন স্কালোনি। ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ রয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্লাবটির পরিকল্পনা হলো বিশ্বকাপের পরেই তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া।
রিয়াল মাদ্রিদের সম্ভাব্য কোচের তালিকায় স্কালোনি ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজনের নাম শোনা গেলেও, তবে আর্জেন্টাইন কোচের প্রোফাইল রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর কেড়েছে। তবে এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও আর্জেন্টিনা কোচ সম্প্রতি জানিয়েছেন, তাঁর পুরো মনোযোগ এখন আসন্ন বিশ্বকাপকে ঘিরে এবং টুর্নামেন্টের পরের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি এখনই কিছু ভাবছেন না।
আরও পড়ুন
| পিএসজির চেয়ে সেরা কোনো ক্লাব নেই: বায়ার্ন ম্যাচের আগে এনরিকে |
|
গত মার্চে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্কালোনি বেশ কৌশলী ভূমিকা পালন করেন। এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এখন সামনে কী আসছে তা নিয়ে ভাবছি; খুব বেশি দূরের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা আমার অভ্যাস নয়। আমার মনে হয় এখনই এটা নিয়ে চিন্তা করা ঠিক হবে না, কারণ এটি বর্তমান কাজ থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়।’
রিয়াল মাদ্রিদ বর্তমানে এক চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। লা লিগায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার চেয়ে ১১ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকায় এবং এই মৌসুমে জেতার মতো আর কিছু অবশিষ্ট না থাকায়, কোচ আরবেলোয়ার ওপর চাপ এখন তুঙ্গে। শুরু থেকেই আরবেলোয়ার নিয়োগকে একটি 'অস্থায়ী ব্যবস্থা' হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তাই মাদ্রিদের নীতিনির্ধারকরা এখন সক্রিয়ভাবে একজন হাই-প্রোফাইল কোচের সন্ধানে নেমেছেন।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর এই শূন্য পদের জন্য ইতিমধ্যেই বেশ কিছু বড় নাম শোনা যাচ্ছে। ক্লাব প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সংক্ষিপ্ত তালিকায় সেস্ক ফ্যাব্রেগাস, ইয়ুর্গেন ক্লপ এবং এমনকি ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমও রয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে সবশেষ যে নামটি সামনে এসেছে, তা ফুটবল বিশ্বকে সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছে।

জুভেন্টাস ম্যাচে মুখে মারাত্মক আঘাতের ফলে সিরি’আ লিগে মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলোতে খেলা হবে না ক্রোয়েট মিডফিল্ডার লুকা মদরিচের।
সোমবার ক্রোয়েশিয়ান গণমাধ্যম ‘স্পোর্টসকে নভোস্তি’ জানিয়েছে, লুকা মদরিচের গালের হাড়ে জোড়া ফাটল ধরা পড়েছে। এসি মিলানের হয়ে তার এই মৌসুম শেষ হয়ে গেছে।
বিশ্বকাপের আগে এই চোটের খবর বেশ উদ্বেগজনক হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সুরক্ষামূলক মাস্ক পরেই মাঠে নামবেন মদরিচ। তবে তার সুস্থ হতে কেমন সময় লাগবে বা অস্ত্রোপচার প্রয়োজন কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জুভেন্টাসের বিপক্ষে ম্যাচে লোকাত্যাল্লির সঙ্গে সংঘর্ষে মুখে প্রচণ্ড আঘাত পান মদরিচ। সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। মাঠ ছাড়ার সময় মচরিচের মুখে বরফ দেওয়া ছিল।