
গ্যালাক্টিকো দল নিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলে দাপট দেখানো রিয়াল মাদ্রিদের ডিএনএ’তে আছে। দলে তারার হাট বসিয়ে সবসময় সাফল্যও পেয়ে আসছে স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটি। ইউরোপে সবচেয়ে সফলও তারা। গত দশকেও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো-গেরেথ বেল-করিম বেনজেমার মতো তারকারা এনে দিয়েছে ব্যাপক সাফল্য। অসংখ্য স্মরণীয় রাত উপহার দেওয়া এই কিংবদন্তিদের সময় এখন অতীত।
অতীতের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ‘গ্যালাক্টিকো’ দলই সাজিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। বর্তমানে লস ব্লাঙ্কোসদের দলে আছে ট্রান্সফার মাকের্টে চড়া মূল্যের বেশ কিছু খেলোয়াড়। এরমধ্যে আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও কিলিয়ান এমবাপ কোনো সন্দেহ ছাড়াই রিয়ালের সবচেয়ে বড় দুই তারকা। সর্বোচ্চ ১৫বারের চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী ক্লাবটি ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ভিনিকে নিয়েই নিয়মিত সাফল্য পেয়ে আসছিল। তারপর পিএসজি থেকে কিলিয়ান এমবাপে যোগ দেওয়ার পর তো অনেকেই ধরে নিয়েছিল, ‘অজেয়’ হওয়া থেকে এই দলকে ঠেকায় কে?
‘অতি সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট’। রিয়াল মাদ্রিদের দশা হয়েছে আসলে এমন। সমর্থকদের প্রত্যাশার বেলুন চুপসে যায় ভিনিসিয়ুস-এমবাপে জুটির সমন্বয়হীনতা দেখে। বাস্তবে এই জুটি উচ্চাশা পূরণে এখন পর্যন্ত বেশ পিছিয়ে আছে।
চলতি মৌসুমে দেখা গেছে, মাঠে তাদের মধ্যে বোঝাপড়া খুবই সামান্য, যা এখন ক্লাবের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ম্যাচেই তাদের একটি সুসংবদ্ধ ইউনিটের বদলে আলাদা আলাদাভাবে খেলতে দেখা গেছে। সবশেষ লা লিগায় জিরোনার বিপক্ষে ম্যাচের কথাই ধরা যাক। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ড্রিবলিংয়ের নেশায় এতটাই মগ্ন ছিলেন যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা কোনো ফল বয়ে আনতে পারেনি। অন্যদিকে, এমবাপে মূল ফরোয়ার্ড হিসেবে খেললেও প্রায়ই তাকে পেনাল্টি বক্স ছেড়ে বেরিয়ে এসে একক প্রচেষ্টায় গোল করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
একজন প্রথাগত 'নাম্বার নাইন' বা স্ট্রাইকার হিসেবে বক্সের ভেতরে না থেকে বাঁ প্রান্তে (যেখানে ভিনিসিয়াস খেলে থাকেন) চলে যাওয়ার প্রবণতাই তাদের মাঠের রসায়ন না জমার অন্যতম প্রধান কারণ। একাধিকবার দেখা গেছে, ভিনিসিয়াস এমবাপেকে বক্সের ভেতরে গিয়ে স্ট্রাইকারের পজিশন নিতে অনুরোধ করছেন। বক্সে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য বা ফিনিশার না থাকায় ব্রাজিলিয়ান এই তারকার অনেক আক্রমণই শেষ পর্যন্ত বৃথা যাচ্ছে।
মজার ব্যাপার হলো, এমবাপে যখন চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন, তখন ভিনিসিয়ুস উজ্জ্বল ছিলেন। দলের জয়ে সাম্বা তারকা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখিছিলেন। আবার ভিনিসিয়ুস যখন ছন্দহীনতায় ভুগছিলেন (বিশেষ করে জাবি আলোনসোর অধীনে), তখন এমবাপে প্রায় একাই দলের হাল ধরেছেন। দুজনেই ব্যক্তিগতভাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিলেও, একসঙ্গে জ্বলে ওঠার নজির এখন পর্যন্ত খুব একটা দেখা যায়নি।
ভিনি-এমবাপে জুটির রসায়ন না জমায় ধুঁকতে হচ্ছে রিয়ালকেও। গত মৌসুমে ট্রফিশূন্য থাকা ক্লাবটি এই মৌসুমেও একই পরিণতি দেখার শঙ্কায় আছে। কোপা দেল’রে ও সুপার কোপা থেকে আগেই বিদায় নেওয়া আরভেলো আরবেলোয়ার দলের লিগ জেতার সম্ভাবনাও প্রায় শূন্যের কোঠায়। পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা থেকে এক ম্যাচ বেশি খেলে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে তারা। ঘরোয়া শিরোপার সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগেও কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষা করছে। ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতায় শেষ আটে বায়ার্ন মিউনিখকে তাদের মাঠেই অন্তত দুই গোলের ব্যবধানে হারাতে হবে ভিনি-এমবাপেদের।
No posts available.
১১ এপ্রিল ২০২৬, ৪:৪১ পিএম
১১ এপ্রিল ২০২৬, ৩:৩৭ পিএম

ব্রাজিল জাতীয় দলে ফেরার পথে আছেন নেইমার—এমনটাই মনে করছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ফরাসি পত্রিকা লেকিপকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই ফরোয়ার্ডকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং তিনি ‘সঠিক পথে’ এগোচ্ছেন।
সাম্প্রতিক ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের দলে রাখা হয়নি নেইমারকে। আগামী ১৮ মে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে এটিই ছিল ব্রাজিলের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ। আনচেলত্তি আবারও স্পষ্ট করেছেন, শুধু শতভাগ ফিট খেলোয়াড়দেরই বিশ্বকাপে নেওয়া হবে। তবে তাঁর বিশ্বাস, নেইমার এখনো সেই ফিটনেসে পৌঁছাতে পারবেন।
আনচেলত্তি বলেন, ‘
সে শতভাগে ফিরতে সক্ষম। হাঁটুর চোটের পর তার পুনর্বাসন ভালো হয়েছে, সে গোলও করছে। তাকে এই পথেই এগোতে হবে এবং ফিটনেস আরও উন্নত করতে হবে।’
চলতি মৌসুমে সান্তোসের হয়ে খেলে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছেন নেইমার। কোচের মতে, জাতীয় দলে তাঁকে সবচেয়ে কার্যকর দেখা যাবে আক্রমণের কেন্দ্রভাগে, প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের কাছাকাছি খেললে।
৬৬ বছর বয়সী এই কোচ আরও বলেন, নেইমারকে ঘিরে প্রশ্ন থাকাটা স্বাভাবিক,
‘সে ব্রাজিল ফুটবলের ইতিহাস গড়েছে এবং এখনও গড়ছে। তার মতো প্রতিভা থাকলে মানুষ আশা করবেই, সে বিশ্বকাপ জয়ে সহায়তা করতে পারে।’
ব্রাজিল ফুটবল ফেডারশন ও কোচিং স্টাফ মিলেই নেইমারের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের জন্য হাতে এখনও প্রায় দুই মাস সময় পাচ্ছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।

প্রথমার্ধে বসুন্ধরা কিংসের প্রবল আক্রমণের সামনে সেভাবে দাঁড়াতে পারল না আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। দুই গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে আত্মবিশ্বাসী শুরু করে আরামবাগ। এক গোল শোধ দেওয়ার পর সমতায় ফেরার সুযোগ হারায় তারা। তাতে দারুণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মারিও গোমেজের দল।
শনিবার বাংলাদেশ ফুটবল লিগের খেলায় বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ২-১ গোলের জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধে কিংসের হয়ে গোল করেন ইমানুয়েল সানডে ও দোরিয়েলতন গোমেজ নাসিমেন্তো। আরামবাগের হয়ে ব্যবধান কমানো গোলটি করেন মিলস।
লিগের ১২ রাউন্ড শেষে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে বসুন্ধরা কিংস। এদিন গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে পুলিশ এফসিকে ২-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে ফর্টিস এফসি। তাদের পয়েন্ট ২৪। ১৬ পয়েন্ট পেয়ে পাঁচেই থাকলো পুলিশ। আর ৯ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তলানির দল আরামবাগ।
২৪ মিনিটে দোরিয়েলতনের গোলে লিড নেয় বসুন্ধরা কিংস। আক্রমণের শুরুটা ইউসুফের পা থেকে। তাঁর থ্রু বল ধরে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে কাটব্যাক দেন রাকিব। এরপর ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের নিচু শট গড়িয়ে গড়িয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে বল খুঁজে নেয় জাল।
৪ মিনিট পর লিড দ্বিগুন করেন সানডে। মাঝ মাঠ থেকে এবার রাকিব বল দেন দোরিয়েলতনকে। বল নিয়ে ডান দিকের কর্নারের কাছ থেকে গতিময় ক্রস দেন তিনি। বক্সের সামনে হেড নেন সানডে। বল মাটিতে ড্রপ খেয়ে আরামবাগ গোলকিপারের মাথার উপর দিয়ে জালে প্রবেশ করে।
৪৫ মিনিটে রাকিবের ক্রস একটুর জন্য নাগাল পাননি ফাহিম। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় কিংস। ৫৫ মিনিটে ফাহিমের কর্নারে দোরিয়েলতন মাথা ছোঁয়ালেও বল যায় পোস্টের উপরে দিয়ে। পরের মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে আসা লং বল হাত দিয়ে মাটিতে নামান আরামবাগের ঘানার ফরোয়ার্ড কিজিতো। কিংস গোলকিপার জিকোকে পরাস্ত করে বল জালে ঠেলে দিলেও তাঁকে ফাউল ধরেন রেফারি। এটা মেনে নিতে না পেরে রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন আরামবাগের রকি।
ব্যবধান কমাতে বেশি সময় নেয়নি আরামবাগ। ৬৩ মিনিটে মিলসের সাইড ভলিতে ব্যবধান নেমে আসে ১-২ গোলে। ৬৭ মিনিটে আরামবাগকে সমতায় ফিরতে দেননি বসুন্ধরা কিংসের গোলকিপার। ডান দিক থেকে রকির ক্রসে মিলসের দারুণ হেড ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন জিকো।
২ মিনিট পর ইউসুফের লম্বা থ্রোয়ে বিশ্বনাথের সাইড ভলি লাগে সানডের শরীরে। একটু এদিক সেদিক হলে গোল হতে পারত। ৮৮ মিনিটে দোরিয়েলতনের চিপ শট আরামবাগ গোলকিপারকে পরাস্ত করলে বল গড়িয়ে বের হয়ে যায় দূরের পোস্ট ঘেঁষে। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিগের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।

স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) সঙ্গে সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্পেনের রেফারিং ব্যবস্থাকে ‘অন্যায়’ ও ‘কারচুপিতে’ ভরা আখ্যা দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্লাবটি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’ জানিয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদের জেনারেল ম্যানেজার হোসে আনহেল সানচেজ নতুন রেফারিং সংস্কার চুক্তির চূড়ান্ত স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। যদিও তিনি প্রাথমিক আলোচনাগুলোতে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু ক্লাবটি মনে করছে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো কেবল লোকদেখানো এবং এর মাধ্যমে প্রকৃত স্বচ্ছতা আসবে না।
সানচেজ সরাসরি ফেডারেশন প্রেসিডেন্টকে ফোন করে জানিয়ে দেন, রিয়াল মাদ্রিদ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না। ক্লাবটির দাবি, বর্তমান রেফারিং ব্যবস্থায় সংস্কার না আসা পর্যন্ত তারা কোনো আলোচনায় অংশ নেবে না।
রিয়ালের ক্ষোভের কারণ জিরোনার বিপক্ষে সবশেষ লা লিগা ম্যাচ। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বৃহস্পতিবার ১-১ গোলে ড্র করে করেছে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। ম্যাচের শেষ দিকে প্রতিপক্ষের বক্সে ফাউলের শিকার হয়ে পড়ে যান এমবাপে।
আরও পড়ুন
| ইতালির কোচের দায়িত্বে বালদিনি |
|
রিপ্লেতে দেখা যায়, জিরোনা ডিফেন্ডার ভিতর রেইস এমবাপেকে আটকাতে গিয়ে হাতের কনুই দিয়ে মুখে আঘাত করেন। ফলে ফরাসি ফরোয়ার্ডের কপাল ফেটে রক্ত ঝরতে দেখা যায় এবং তাকে মাঠেই চিকিৎসা নিতে হয়।
রেফারি আলবারোলা রোজাস এটিকে ফাউল হিসেবে গণ্য না করে খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ভিএআর রেফারি ট্রুজিলো সুয়ারেজও এই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেননি বা রেফারিকে মনিটর দেখার পরামর্শ দেননি।
ম্যাচ শেষে রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়া এই সিদ্ধান্তে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘এটি পেনাল্টি ছিল, এমনকি চাঁদ থেকেও পরিষ্কার দেখা যাচ্ছি।’
রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষের মতে, তাদের সাম্প্রতিক ছন্দের পতনের পেছনে মাঠের পারফরম্যান্স যেমন দায়ী, তার চেয়েও বড় কারণ মাঠের বাইরের অদৃশ্য হাতের খেলা। ক্লাবটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না, কেবল ন্যায়বিচার চাই। যা ঘটছে তা অসহনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য।’

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিশ্বকাপের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোয় নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল ইরান। তবে সেই আবেদন শেষ পর্যন্ত নাকচ করে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রেই খেলতে হবে ইরানকে।
শুক্রবার মেক্সিকো সিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম। তাঁর ভাষ্য, ‘শেষ পর্যন্ত ফিফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ম্যাচগুলো মূল ভেন্যু থেকে সরানো সম্ভব নয়। তাদের মতে, এটি বিশাল ধরনের লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করত।’
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই ঘটনার পরই ইরান বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের তিনটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে না খেলার অনুরোধ জানায়। যদিও সম্প্রতি একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তবুও নিরাপত্তা শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা বিশ্বকাপ। গ্রুপ পর্বে ইরানের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও মিসর। এর আগে থেকেই ম্যাচ সরানোর বিষয়ে ফিফা অনাগ্রহ দেখিয়ে আসছিল।
আরও পড়ুন
| আশা দেখছে ওয়েস্ট হ্যাম, এখনও অচেনা পথে স্পার্স |
|
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই ইরান বিশ্বকাপে খেলবে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ইরান খেলুক, এবং ইরান খেলবেই। কোনো বিকল্প পরিকল্পনা নেই, একটাই পরিকল্পনা।’
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র বয়কটের কথা ভাবছে, তবে বিশ্বকাপ বয়কট নয়। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানের অংশগ্রহণ উপযুক্ত নয় বলেই তিনি মনে করেন।
পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এ বৈঠক হওয়ার কথা।

টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফুটবলে থেকে ছিটকে যাওয়ার ক্ষত নিয়ে আবারও মাঠে ফিরছে ইতালি। আগামী জুনে লুক্সেমবার্গ ও গ্রিসের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচের জন্য সিলভিও বালদিনিকে জাতীয় দলের অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি) এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থতায় ইতালিয়ান ফুটবলে ওলটপালট হয়ে গেছে। রাজনৈতিক চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) প্রধান গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা।
একইসঙ্গে সরে দাঁড়িয়েছেন ফুটবল প্রতিনিধিদলের প্রধান ও কিংবদন্তি গোলকিপার জিয়ানলুইজি বুফন। এরপর ৩ এপ্রিল প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে বিদায় নেন জেনেরো গাত্তুসো।
আপাতত নতুন কোনো পূর্ণ মেয়াদী কোচ নিয়োগ না দিয়ে ইতালির অনূর্ধ্ব-২১ দলের কোচ বালদিনির ওপর আস্থা রাখছে ফেডারেশন। ৩ জুন লুক্সেমবার্গের মাঠে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে ইতালি। এরপর ৭ জুন গ্রিসের ক্রেত দ্বীপে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচটি খেলবে তারা।
প্রীতি ম্যাচের পর সেপ্টেম্বরে ইউয়েফা নেশনস লিগে মাঠে নামবে ইতালি।