
এক একটি হারে বাড়ছিল চাপ। ড্রেসিংরুমে চাপা উত্তেজনার গুঞ্জন চলছিল অনেকদিন। দলের তারকা ফুটবলারদের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না। সব মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউট থেকে জাবি আলোনসোর বিদায়টা যেন অবধারিত হয়ে ওঠে। গতকাল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে নিজের সাবেক ফুটবলারের সঙ্গে স্প্যানিশ জায়ান্টদের সংক্ষিপ্ত পথচলা। এবার আলোচনায় রিয়ালের নতুন কোচ।
আলভারো আরবেলোয়া—এক সময় রিয়াল মাদ্রিদের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার, আর এখন ক্লাবের ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর। রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমি কাস্তিয়ার কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাবটির কোচিং কাঠামোয় তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২০/২১ মৌসুমে, ইনফান্তিল দলের হাত ধরে। এরপর ধাপে ধাপে ক্যাডেট, জুভেনীল ওকাস্তিয়া থেকে এখন রিয়ালের মূল দলের ডাগআউটে।
কাস্তিয়ায় আসার আগে জুভেনীল পর্যায়ে ৪২ বছর বয়সী আরবেলোয়ার অর্জনগুলো ছিল চোখে পড়ার মতো। ২০২২/২৩ মৌসুমে তিনি জুভেনীলকে এনে দেন ঐতিহাসিক ট্রেবল। শুধু তাই নয়, তিন বছরে দুইবার লিগ শিরোপা জয় এবং ট্রেবল জেতা সেই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতায় অপরাজিত থাকা—সবকিছুই ছিল রেকর্ডবইয়ের পাতায় লেখার মতো।
একজন খেলোয়াড় হিসেবে আলভারো আরবেলোয়া সবচেয়ে বেশি পরিচিত রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের জন্যেই। তবে রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়াও তিনি আরও কয়েকটি ক্লাবের জার্সিতে খেলেছেন। তাঁর ফুটবল যাত্রা শুরু হয়েছিল জারাগোসার যুব দলে, ১৮ বছর বয়সে তিনি যোগ দেন রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমিতে। মূল দলে সুযোগ পাওয়ার পর ২০০৬ সালে তিনি মাদ্রিদ ছেড়ে স্পেনের গ্যালিসিয়ান ক্লাব দেপোর্তিভো লা কোরুনিয়ায় পাড়ি জমান এবং সেখানে এক মৌসুম খেলেন।
পূর্বসূরি জাভি আলোনসোর মতোই এরপর আরবেলোয়া ইংল্যান্ডে চলে যান এবং লিভারপুলে যোগ দেন। অ্যানফিল্ডে তিনি কাটান মাত্র দুই বছর, তবে এই সময়েই ২০০৬/০৭ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে খেলেছিলেন। পরবর্তীতে আরবেলোয়া আবার রিয়াল মাদ্রিদে ফিরে আসেন এবং পরবর্তী সাত বছর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে কাটান। এই সময়ে তিনি একটি লা লিগা শিরোপা এবং দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বাদ পান।
ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে তিনি আবার প্রিমিয়ার লিগে ফেরেন। ২০১৬/১৭ মৌসুমে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের হয়ে তিনি চারটি ম্যাচ খেলেন, এখানেই তার খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি ঘটে।
আরও পড়ুন
| তিন ভেন্যুতে সাফ আয়োজন করতে চায় বাংলাদেশ |
|
কোচিং ক্যারিয়ারে ট্রফির চেয়েও আরবেলোয়ার বড় অবদান এসেছে অন্য জায়গায়। এই কোচের হাত ধরেই রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ প্রতিভা বিকাশের কাঠামোর জন্য একটি কার্যকর সিস্টেম গড়ে উঠেছে। রিয়ালের একাডেমি কাস্তিয়ার প্রতিভাদের বড় একটা অংশই এসেছে আরবেলোয়ার তৈরি কাঠামো থেকে।
প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ভেতরের প্রতিভা বের করে আনা আরবেলোয়ার কোচিং দর্শনের অন্যতম মূল স্তম্ভ। প্রতিটি খেলোয়াড়কে আলাদা করে সময় দেওয়া, তাদের দুর্বল দিকগুলো নিয়ে কাজ করা এবং শক্তিমত্তা আরও শাণিত করে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তিনি।
আরবেলোয়ার ফুটবল দর্শন খুব স্পষ্ট—পজেশন ধরে রাখা, ম্যাচের ছন্দ আর গতি নিয়ন্ত্রণ করা, পিচে পুরোটা সময় সচল থাকা, সংগঠিত প্রেসিং এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা। ৪-৩-৩ কিংবা ৩-৫-২—দুই ফরমেশনেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। রিয়ালের সাবেক কোচ কার্লো আনচেলত্তির মতোই আরবেলোয়া মাঠে খেলোয়াড়দের স্বাধীনতা দেন।
রিয়াল মাদ্রিদের আরেক সাবেক কোচ হোসে মরিনহো থেকেও দীক্ষা নিয়েছেন আরবেলোয়া। ২০২৩ সালে ‘কোচেস ভয়েজ’ এর সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি মরিনহোর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। পর্তুগিজ এই কোচকে নিয়ে তিনি ছিলেন ভীষণ প্রশংসামুখর এবং মরিনিওর নিখুঁত, আপসহীন কোচিং স্টাইলের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
আর্বেলোয়া বলেন, ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমি তাঁর সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পেরেছিলাম, কারণ তিনি আমাকে যেসব মূল্যবোধ শিখিয়েছেন। প্রতিদিন নিজের সেরাটা দেওয়া এবং উদাহরণ তৈরি করে কাজটা করা—এই ব্যাপারগুলো। হোসের অধীনে খেলতে হলে ট্রেনিংয়ে শতভাগ দিতে হতো, খেলোয়াড়ের নাম বা পরিচয় যাই হোক না কেন। এই মূল্যবোধ আর আদর্শগুলোর সঙ্গে আমি পুরোপুরি একমত ছিলাম।’
No posts available.
১৪ মার্চ ২০২৬, ৮:৩৪ পিএম
১৪ মার্চ ২০২৬, ৭:৪৭ পিএম

দল বদলের বাজারে টাকার বস্তা নিয়ে নেমেছিল লিভারপুল। ইউরোপীয় ফুটবল ইতিহাসে এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করার রেকর্ড ভেঙে দিয়ে বেশ ক’জন তারকা ফুটবলারদে দলে ভেড়ায় অল রেডরা। তবে বিপুল পরিমান এই অর্থ খরচের ফল পাচ্ছে না ইংলিশ জায়ান্ট ক্লাবটি। উল্টো পরিসংখ্যান বলছে লিভারপুলের নখ-দন্তহীন আক্রমণভাগ প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে বাজে!
প্রিমিয়ার লিগে ২৯ ম্যাচে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে ছয় নম্বরে আছে লিভারপুল। এরমধ্যে ১৮টি ম্যাচে জয়, নয়টিতে হার এবং ছয়টি ড্র করেছে আর্নে স্লটের দল। চলতি মৌসুমে লিগে এখন পর্যন্ত মোহাম্মদ সালাহরা গোল দিয়েছে গোল করেছে ৪৮টি বিপরীতে হজম করেছে ৩৯টি।
শট নেওয়ায় অবশ্য বেশ এগিয়ে আছে লিভারপুল। প্রিমিয়ার লিগে এ মৌসুমে কেবল ৪৫৭ শট নেওয়া ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডই এগিয়ে আছে অ্যান ফিল্ডের ক্লাবটি। তবে মোহাম্মদ সালাহ-হুগো একিতিকেদের অধিকাংশ শটই যে লক্ষ্যহীন। প্রতিপক্ষের গোলকিপারদের তেমন কোনো বিপদেই ফেলতে পারছে না লিভারপুলের আক্রমনভাগ। লিগে ২০ দলের মধ্যে লক্ষ্যে শট রাখায় তাদের অবস্থান সাতে। এমনকি ক্লাবটির মোট শটের মাত্র ২৮.৭ শতাংশ লক্ষ্যে ছিল— এই সূচকে তারা শেষ থেকে চারে অবস্থান করছে। লিভারপুলের চেয়ে পিছিয়ে আছে কেবল ফুলহাম, নটিংহাম ও এভার্টন।
প্রতিপক্ষের বক্সে বল স্পর্শের সংখ্যায় লিভারপুলের চেয়ে এগিয়ে আছে শুধু আর্সেনাল। আর বল দখলের পরিসংখ্যানে পুরো লিগে তাদের চেয়ে এগিয়ে নেই কোনো দল। সুযোগ তৈরির পরিসংখ্যানে ব্যক্তিগতভাবে দমিনিক সোবস্লাই, ফ্লোরিয়ান ভির্টজ, মোহাম্মদ সালাহ এবং কোডি গাকপো—এই চারজনই শীর্ষ ১২–এর মধ্যে আছেন। শীর্ষ ১৫–এ অন্য কোনো ক্লাবের দুইজনের বেশি খেলোয়াড় নেই।
লিভারপুলের আসল সমস্যা স্পষ্ট। বল দখল, শট নেওয়া, প্রতিপক্ষের বক্সে আধিপত্য সবকিছুতে দাপট দেখানোর পরও গোল করার আসল কাজটাই করতে পারছে না স্লটের শিষ্যরা। প্রতি ম্যাচে নিয়মিত গোলের সুযোগ তৈরি করার পরও জালে বল পাঠাতে ব্যর্থ হচ্ছে ক্লাবটি।
মূল কথা হলো, ‘রেডস’রা যখন লক্ষ্যভেদী শট নিতে পারে, তখন তাদের গোল করার হার প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে কার্যকর আক্রমণভাগগুলোর মতোই। সমস্যা হলো, তাদের অনেক শটই প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে তেমন পরীক্ষা নিতে পারছে না। আর এত বেশি বল দখলে রাখার পরও তারা পর্যাপ্ত গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারছে না।
রোববার অ্যানফিল্ডে টটেনহ্যাম আসছে টানা ছয় ম্যাচ হারের পর। তিন দিন পর গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে ফিরতি লেগও রয়েছে সামনে। তুর্কি ক্লাবটির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে এরমধ্যেই ০-১ গোলে পিছিয়ে আছে তারা। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষের প্রতি কোনো ‘দয়া’ না দেখানোর সময় এখনই লিভারপুলের।

বার্সেলোনা সমর্থকদের জন্য সুখবর। দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার পর অবশেষে কাতালান ক্লাবটির মিডফিল্ডার মাঠে নামার সবুজ সংকেত পেলেন। গত বছরের আগস্টে হাঁটুতে চোট পান স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার। ২০৫ দিন পর আবার আগামীকাল লা লিগায় ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে সেভিয়ার বিপক্ষে দেখা যেতে পারে গাভিকে।
গত বছরের আগস্টের শেষ দিকে হাঁটুর চোটে পড়েন গাভি। সমস্যার সমাধানে আর্থ্রোস্কোপিক অস্ত্রপচার করতে হয়। সার্জারির সময় দেখা যায়, সমস্যা মূলত ধারণার চেয়ে বেশি গুরুতর, যার ফলে মিডফিল্ডারকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। শেষ পর্যন্ত ছয় মাসেরও বেশি সময় মাঠের বাইরে কাটিয়ে এবং পুনর্বাসন ও চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় কঠোর পরিশ্রমের পর, গাভি মাঠে ফিরতে সবুজ সংকেত পেয়েছেন।
গাভির মাঠে ফেরা নিয়ে বার্সেলোনা এক বিবৃতিতে বলেছে,
‘গাভি মেডিকেল অনুমোদন পেয়েছেন এবং আগামীকাল সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে খেলার জন্য প্রস্তুত।’
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে গাভিকে নিয়ে হান্সি ফ্লিক বলেন,
‘আমি খুশি যে সে ফিরেছে। আমাদের তার সঙ্গে ধাপে ধাপে এগোতে হবে। আমরা তাকে অনুশীলনে দেখেছি, এবং যা দেখেছি তা ভালো লেগেছে, তবে আমাদের তাকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে হবে… তার মানসিকতা দারুণ, সে নিজের শরীরের উপর বিশ্বাস রাখে, কীভাবে খেলতে পারে তা জানে… আমরা সবাই গাভিকে চিনি, আমি তার উদ্দীপনা পছন্দ করি, যা কিছু সে আমাদের দেয় সবই অনন্য।’
গাভি ইতিমধ্যে সম্প্রতি অ্যাথলেটি ক্লাব এবং নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে গুরুত্বর্পূণ ম্যাচেও দলের সঙ্গে করেছিলেন। মৌসুমের শেষ দিকে ২১ বছর বয়সী লা মাসিয়ান গ্র্যাজুয়েটকে ফিরে পাওয়া ফ্লিকের কাজ অনেকটাই সহজ করে দেবে। সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে অবশ্য তাঁর শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা কমই। তবে ফিটনেস বৃদ্ধির সঙ্গে ধীরে ধীরে ম্যাচে সময় বাড়ানো এবং মূল ভূমিকায় ফিরে আসতে পারবেন গাভি।
চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত লিগ শিরোপা জয়ের দৌড়ে বেশ এগিয়ে আছে বার্সেলোনা। শীর্ষে থাকা ফ্লিকের দলের পয়েন্ট ৬৭। ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে রিয়াল মাদ্রিদ।

লা লিগার রাউন্ড অব এইটিনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শনিবার রাতে এলচের মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ। টাইটেল রেসে নিজেদের জিইয়ে রাখতে মাস্ট উইন এই ম্যাচ। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগ মুহুর্তে জানা গেছে রাউল আসেনসিও চোটের খবর।
আলভারো কারেরাস, ডেভিড আলাবাসহ রিয়ালের নয় জন ফুটবলার চোটে। সেখানে নতুন করে নাম লেখালেন আসেনসিও। দলের এমন অবস্থা নিয়ে বেশ চিন্তিত কোচ আলভারো আরবেলোয়া।
লা লিগায় শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা থেকে ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে রিয়াল। আর চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর সেকেন্ড লেগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে বাঁচা-মরা ম্যাচ—এসবের আগে চোট সমস্যায় নাজেহাল লস ব্লাঙ্কোস শিবির।
একটার পর একটা ধাক্কায় উদ্বেগ বেড়ে গেছে রিয়াল শিবিরে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে কোচিং স্টাফের মধ্যেও দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এখন প্রায় আতঙ্কজনক—কারণ ভুল সিদ্ধান্ত নিলে দল আরও কঠিন অবস্থায় পড়ে যেতে পারে।
এই অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা নেন আরবেলোয়া। শুক্রবার অনুশীলনের সময় ড্রেসিংরুমে থাকা চার ফুটবলার—চুয়ামেনি, রুডিগার, ভালভার্দে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন তিনি।
এই বৈঠকের লক্ষ্য পরিষ্কার— এলচের বিপক্ষে নামানোর আগে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের শারীরিক অবস্থা জানা। আরবেলোয়া জানতে চেয়েছিলেন, রুডিগাররা কতটা ঝুঁকি নিতে পারবেন, নাকি সামনে কঠিন এক সপ্তাহের কথা ভেবে তাদের বিশ্রাম দেওয়াই ভালো হবে। এখন ভুল করার সুযোগ খুবই কম।
ম্যাচের আগে আরবেলোয়া বলেন,
“আমার কাছে এখন শুধু এমন খেলোয়াড়রাই আছে, যারা হাত তুলে বলছে তারা আরও একবার চেষ্টা করতে প্রস্তুত। তারা খুবই নিবেদিত এবং আমরা জানি এই ম্যাচটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।”
ড্রেসিংরুমে কোচ ঠিক এমন মনোভাবই দেখেছেন—সবাই দলকে সাহায্য করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং পরিস্থিতির গুরুত্বও বুঝছে। তবুও উদ্বেগ পুরোপুরি কাটছে না। কারণ আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে—চোটের তালিকা আরও বড় হয়ে যেতে পারে, আর দলে নতুন করে কেউ ছিটকে পড়লে পরিস্থিতি আরও নড়বড়ে হয়ে উঠতে পারে।

‘ট্রুথ সোশ্যালে’ বৃহস্পতিবার দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন,
‘ইরান জাতীয় ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত। কিন্তু তাদের নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করলে সেখানে থাকা তাদের জন্য উপযুক্ত হবে বলে আমি সত্যিই মনে করি না।’
ট্রুথ সোশ্যালে পোস্টের শুরুতে ইরান দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি ট্রাম্প ইরানিদের যুক্তরাষ্ট্রে না আসার পরামর্শ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এমন ব্ক্তব্য নিয়ে তীর্যক মন্তব্য করে ইরান।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় ইরান দল বলেছে,
“কেউ আমাদেরকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিতে পারবে না।”
ইরানের বিশ্বকাপের বয়কটের ডাক আসে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বক্তব্যের পরই। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ফিফা প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের দ্বন্দ্ব থাকলেও বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাধা নেই ইরানের। এরপরই দেশটির ক্রীড়া মন্ত্রী জানায়, ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেবে না ইরান।
ইরানের তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা স্পষ্ট করার পরই ট্রথ সোশ্যালে পোস্ট করেন ট্রাম্প। তার সেই পোস্টের পরই ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র এত বড় আয়োজনে দলগুলোর নিরাপত্তার দিতে সক্ষম নয় বলেও মনে করে তারা।
ইরান জানায়,
“বিশ্বকাপ একটি ঐতিহাসিক ও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট এবং এর নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা-কোনো একটি দেশ নয়। ইরান জাতীয় দল নিজেদের শক্তিমত্তা এবং ইরানের সাহসী সন্তানদের দ্বারা অর্জিত অনেক জয়ের মাধ্যমে বাছাইপর্ব পেরিয়ে প্রথম দলগুলোর একটি হিসেবে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে।”
দেশটি আরও জানায়,
“নিশ্চিতভাবেই কেউ ইরান জাতীয় দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিতে পারে না। একটি দলই কেবল বাদ যেতে পারে, যারা কেবল ‘স্বাগতিক’ এর মর্যাদা নিয়ে আছে, এমনকি এই বৈশ্বিক আসরে দলগুলোর নিরাপত্তা দিতে অপরাগ হওয়া সত্ত্বেও।”
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে হবে ৪৮ দলের এবারের বিশ্বকাপ। তবে, ‘জি’ গ্রুপে ইরানের তিনটি ম্যাচই হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রে।

যৌথভাবে শীর্ষে থেকে আজ বসুন্ধরা কিংস ও ফর্টিস এফসি মাঠে নামে। রোমাঞ্চকর ৫ গোলের লড়াইটা শেষ পর্যন্ত জিতে নেয় মারিও গোমেজের দল। যদিও ফর্টিসের বিপক্ষে জিততে ঘাম ঝরাতে হয়েছে লিগের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের।
দোরিয়েলতন গোমেজ নাসিমেন্তো হ্যাটট্রিক করে দলকে জেতান ৩-২ ব্যবধানে। জয়ের নায়ক ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড হলেও বদলি হিসেবে নামা তপু বর্মণ ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিমই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। প্রথমার্ধ শেষে দুই দল ছিল ১-১ সমতায়। সেখান থেকে ফাহিমের দুটি ক্রসে গোল করেন দোরিয়েলতন। বিশেষ করে ফর্টিস ২-২ সমতায় ফেরার পর ফাহিমের দারুণ এক অ্যাসিস্টে জয়ের মুখ দেখে কিংস।
খেলা শেষে তপু ও ফাহিম দুজনেই স্বীকার করেছেন তাঁরা নামতে যে খেলায় গতি পেয়েছে বসুন্ধরা কিংসের। ফাহিম বলেন,
‘মাঠে নামার আগে ভাই আমাকে বলছে, আমাদের এই ম্যাচ যা করার করতে হবে। আমার উপর ভাইয়ের বিশ্বাস ছিল, আমি ভাইয়ের উপর বিশ্বাস রাখছিলাম। ভাই রক্ষণে সামলেছে, আমি আক্রমণে কাজ করছি।’
ফর্টিসের বিপক্ষে আজকের জয়ে এককভাবে লিগ টেবিলের শীর্ষে এখন বসুন্ধরা কিংস। শিরোপা রেসে এগিয়ে গেল মারিও গোমেজের দল। তবে পথটা এখনো অনেক দূরের মনে করেন তপু,
‘এই ম্যাচটা নিয়ে অনেক একটা ভালো প্রস্তুতি হয়েছে। এই জয়টা বসুন্ধরা কিংসের জন্য খুবই জরুরি ছিল। মনে করি, ৮০ ভাগ আমাদেরকে এগিয়ে রাখবে। কারণ আমরা এখন শীর্ষে আছি এবং আমাদের যে লক্ষ্য এই ম্যাচটা নিয়ে ছিল সেটা আমরা অতিক্রম করেছি। সামনে একটা লং রেস, এই জায়গায় স্টেপ বাই স্টেপ যেতে হয়।’
এই ম্যাচে ফাহিমের পারফরম্যান্স মুগ্ধ করেছে তপুকে। খেলা শেষে সতীর্থকে নিয়ে বলেছেন,
‘ফাহিম দুর্দান্ত ছিল। আসলে যেটা আপনি বললেন সুপার সাব। আমি বলবো ফাহিম নামার পরে আমাদের স্পিড যে লেভেল ছিল সেটা আরেক ধাপ এগিয়ে গেছে। কারণ সে নামার পরে দুইটা অ্যাসিস্ট করেছে। এরকম খেলোয়াড় দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
আন্তর্জাতিক বিরতি এখন আবার লিগে। সোমবার থেকে শুরু জাতীয় দলের ক্যাম্প। সামনে ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রীতি ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই ম্যাচ। দুটি ম্যাচের জন্য প্রাথমিক স্কোয়াডে আছেন ফাহিম। এই দুই ম্যাচে জিততে চান জাতীয় দলের এই উইঙ্গার। বলেছেন,
‘যেহেতু আমাদের এখন এশিয়ান কোয়ালিফাইটা আমাদের হাত থেকে চলে গেছে তাই এখন আমরা চেষ্টা করবো দুইটা ম্যাচ উইন হয়ে যেন আমাদের আত্মবিশ্বাসটা আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারি।’