
তারকার হাট বসিয়েও বছরের পর বছর যার দেখা পায়নি, দায়িত্ব নিয়ে প্রথম মৌসুমেই পিএসজিকে সেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়েছেন লুইস এনরিকে। একটা তারকাহীন, তরুণ দল নিয়েই তিনি চমক দেখিয়ে করেছেন বাজিমাত। এর রহস্য কী? পিএসজি কোচ জানালেন, ইতিহাস গড়ার বাসনাই তাদের এই জায়গায় নিয়ে এসেছে।
ইন্তার মিলানের সাথে ফাইনালের আগেও অবশ্য ইতিহাস গড়ার কথা বলেছিলেন এনরিকে। কারণ, তিনি আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বাদ পেলেও পিএসজির জন্য তা এতদিন ছিল অধরাই। তবে যাদুর পরশে প্যারিসের ক্লাবটিকে বদলে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের সাথে রেকর্ড গড়েছেন ক্লাবের ইতিহাসে প্রথম ট্রেবল জয়ের মধ্য দিয়েও।
আরও পড়ুন
| আবেগময় ম্যাচে মেয়ের হয়েও শিরোপা জিতলেন এনরিকে |
|
ফাইনালে ৫-০ গোলে জয়ের পর উচ্ছ্বসিত এনরিকে মনে করেন, চাপের মুহূর্তে ভেঙে না পড়াই তার দলের মূল শক্তির জায়গা।
“আমি মনে করি মৌসুমের শুরু থেকেই ইতিহাস গড়াই ছিল আমাদের লক্ষ্য। তখন থেকেই আমি খেলোয়াড় আর সমর্থকদের সাথে একটা গভীর সম্পর্ক অনুভব করেছিলাম। এটা ছিল খুব মজবুত একটা সম্পর্ক, যা পুরো মৌসুমজুড়েই ছিল আমাদের চলার পথের শক্তি। আমরা রোমাঞ্চকর মুহূর্ত এবং চাপকে সবচেয়ে ভালোভাবে সামলাতে পেরেছি বলেই ধরা দিয়েছে এই সাফল্য।”
ফাইনালে ইতিহাস গড়েছেন এনরিকেও। পেপ গার্দিওলার পর মাত্র দ্বিতীয় কোচ হিসেবে দুটি ভিন্ন ভিন্ন ক্লাবের হয়ে ট্রেবল জেতার কীর্তি এখন তার। এর আগে তিনি ২০১৫ সালে বার্সেলোনার হয়ে। আর এবার দায়িত্ব নিয়েই উঠলেন নতুন উচ্চতায়।
তারকা ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমির কাছে এনরিকে তাদের সাফল্যের সবচেয়ে বড় কারিগর।
“আমরা খুবই আনন্দিত। আমরা সবাই মিলে একটা দারুণ পরিবার তৈরি করেছি। লুইস এনরিকে পিএসজিতে সবকিছু রাতারাতি বদলে দিয়েছেন। তিনি আসার পর থেকে আমাদের ফুটবল দেখার দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে গেছে। তিনি একজন বিশ্বস্ত মানুষ, এই সাফল্য তারই সবচেয়ে বেশি প্রাপ্য।”
No posts available.
৩ মার্চ ২০২৬, ৫:৩৯ পিএম
৩ মার্চ ২০২৬, ৪:২১ পিএম

ফুটবলে বাংলাদেশের মেয়েদের গণ্ডি দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের মধ্যে এতোদিন ছিল সীমাবদ্ধ। সেই গণ্ডিটা পেরিয়ে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে এখন আফঈদারা। এএফসি উইমেন্স ফুটবলে বাছাইপর্বের হার্ডল পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশের মেয়েদের কোয়ালিফাই করাকে অনেকে তুলনা করেছেন পুকুরের সাঁতারের সঙ্গে অথৈ সমুদ্র গর্ভে হারিয়ে যাওয়াকে। এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্বের অভিষেকটা না জানি কতোটা বিধ্বস্ত হতে হয়, সে শঙ্কাও করেছে অনেকে। চূড়ান্ত পর্বের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ যখন চীন, এএফসি এশিয়ান উইমেন্স কাপে সর্বাধিক ৯ বারের চ্যাম্পিয়নদের সাথে ব্যবধানটা অনেক, এমনটাই বলাবলি করেছে অনেকে। ফিফা উইমেন্স র্যাঙ্কিংয়ে ১৭-এর সঙ্গে ১১২ লড়বে কী করে ? এটাও ছিল অনেকের প্রশ্ন। তবে মাঠের লড়াইয়ে বাটলারের দল র্যাঙ্কিংয়ের এই ৯৫ ধাপ দূরত্ব কমিয়ে এনেছেন। নারী ফুটবলে এশিয়ার পরাশক্তি চীনের মেয়েদের চোখে চোখ রেখে ৯০ মিনিট সমানতালে লড়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা।
০-২ এ হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে ম্যাচের এই স্কোর লাইন কিন্তু বাংলাদেশের মেয়েদের লড়াকু খেলার প্রকৃত চিত্র নয়।
বল দখলের লড়াইয়ের চিত্রটা বাংলাদেশ নারী দলকে রাখবে এগিয়ে। যেখানে পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েদের পায়ে বলের দখল ছিল ৫৩%, চীনের সেখানে ৪৭%। ব্যবধান শুধুমাত্র অভিজ্ঞতার।
৫-৩-২ ফরমেশনে শুরু থেকে বাংলাদেশ নারী দল খেলেছে চীনের ৩-৩-৩-১ ফরমেশনের বিপক্ষে। চীনের আক্রমন সারাক্ষণ সামাল দিতে হবে, তা ধরে নিয়েই ডিফেন্সিভ স্ট্র্যাটেজিতে খেলার কৌশল ছিল বাংলাদেশ নারী দলের হেড কোচ বাটলারের। এই ফরমেশনে চীনের সাঁড়াশি আক্রমন সামাল দিয়েছে অধিকাংশ সময়।
খেলার প্রথম ৪৩ এবং শেষ ৪৫, এই ৮৮ মিনিট চীনকে ভালভাবেই প্রতিহত করেছে। এই সময়ে বাংলাদেশ নারী দলের কাউন্টার অ্যাটাকগুলোও ছিল বলার মতো। ম্যাচের ২৪ মিনিটে জে লিউ'র ক্রস থেকে যখন ওয়াং সুয়াং গোল করে বসেছিলেন, তখন গ্যালারি নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে সেটা যে ছিল অফসাইড, ভিএআর প্রযুক্তিতে তা ধরা পড়ায় সেই গোল বাতিল হলে প্রাণে পানি ফিরে পান প্রবাসী সমর্থকরা। এমন একটা ম্যাচে আক্ষেপ প্রথমমার্ধের ২ মিনিট। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এসে মাত্র ২ মিনিটের ২টি গোল হজম করতে হয়েছে। প্রথম গোলটিতে অবশ্য বাংলাদেশের মেয়েদের প্রতিরোধের সাধ্যি ছিল না। ডান প্রান্ত থেকে ম্যাচের সেরা উইংগার ওয়াং সুয়াং যে থ্রুটি পেয়েছেন, তা থেকে কোনাকুনি শটে গোল করে অস্বস্তি কাটিয়েছেন (১-০)। তবে মাত্র ২ মিনিট পর, অর্থাৎ ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে জাং রুই যে গোলটি করে ব্যবধান দ্বিগুন করেছেন (২-০), তার দায়টা বর্তাবে বাংলাদেশ নারী দলের ডিফেন্ডারদের উপর। বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থতায় হজম করতে হয়েছে এই গোলটি। ডি বক্সে জটলার মধ্যে নেয়া চীন স্ট্রাইকারের শট বাংলাদেশ গোলরক্ষক পাঞ্চ করেছেন, সামনে থাকা অধিনায়ক আফঈদা বলটি ক্লিয়ারে ব্যর্থ হলে আগুয়ান জাং রুইয়ের নেয়া শট কোহাতি কিসকুর পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জাল স্পর্শ করেছে।
সিডনীতে ঋতুপর্ণা চাকমার গতি, ক্ষীপ্রতা এবং দূরপাল্লার শট সবাইকে বিস্মিত করেছে। খেলার ১৪তম মিনিটে মাঝমাঠে বাঁ প্রান্ত থেকে বল পেয়ে দ্রুতগতিতে ঢুকে বাঁ পায়ে নিয়েছিলেন তীব্র শট। তার নেয়া কোনাকুনি শট অবিশ্বাস্যভাবে চীনের গোলরক্ষক লাফিয়ে ফিস্ট করে কর্নারের বিনিময়ে প্রতিহত করেন। বড় ম্যাচে মেসি, এমবাপের একটি দুটি মুভ যেমন দর্শককে মুগ্ধ করে, ঠিক তেমনি ঋতুপর্ণা ওই একক নৈপূণ্যে আক্রমনটি নিঃসন্দেহে পয়সা উশুল করেছে স্টেডিয়ামে জড়ো হওয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের। ২ মিনিট পর চীনের গোলরক্ষকের পা থেকে বল ছো মেরে ঋতুপর্ণা কোনাকুনি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ২টি পরিবর্তনে ডিফেন্সটা হয়েছে বেশ শক্ত। এই অর্ধে চীনের প্রাচীর ভাঙ্গার মতো সুযোগও তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে। খেলার ৫৯ মিনিটের মাথায় আফঈদার শুণ্যে ভাসানো বল থেকে ছোট ডি বক্সের ঠিক সামনে দাঁড়ানো সামসুন্নাহারের ব্যাকহেডটা গোলপোষ্টের দিকে ধাবিত হলেই অন্তত একবার ভেঙ্গে যেতো চীনের প্রাচীর। এমন এক ম্যাচে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে সুইডেন প্রবাসী অনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর অভিষেক হয়েছে। তবে খেলতে পেরেছেন মাত্র ৪ মিনিট। এই ম্যাচে বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি আক্তারকেও দিতে হবে হাততালি।
২ গোলে হেরেও সাহসী লড়াইয়ে সমৃদ্ধ আগামীর বার্তা দিয়েছে আফঈদার দল। এশিয়ার পরাশক্তিদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।

ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সফল কোচ হওয়ার মতো সবকিছুই করেছেন তিনি। তাঁর কোচিংয়ে একের পর এক শিরোপাও জিতেছে দল। এমনকি শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্তও করে ফ্লামেঙ্গো। আর এমন কোচকেই কি না বহিষ্কার করল ব্রাজিলের ক্লাবটি!
ফ্লামেঙ্গো থেকে বহিষ্কার হয়েছেন ফিলিপে লুইস। ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটির কোচের অধীনে শেষ ক্যাম্পেওনাতো ক্যারেওকা-র সেমিফাইনালে। যে ম্যাচে মাদুরেইরাকে ৮-০ উড়িয়ে দেয় ফ্লামেঙ্গো। আর ফাইনালের ওঠার কয়েক ঘণ্টা পরই চাকরি হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত হন ৪০ বছর বয়সী ফিলিপে লুইস।
ফিলিপেকে বহিষ্কার করার বিবৃতিতে ফ্লামেঙ্গো জানায়, ‘ফিলিপে লুইস আর পেশাদার দলের দায়িত্বে থাকছেন না। তার সঙ্গে সহকারী কোচ ইভান পালাঙ্কো এবং ফিটনেস ট্রেনার দিয়োগো লিনহারেসও ক্লাব ছাড়ছেন।’ ফ্লামঙ্গোতে ফিলিপের অবদানের ধন্যবাদ জানিয়ে ক্লাবটির পক্ষ থেকে আরও বল হয়, ‘সাবেক খেলোয়াড় ও কোচ ফিলিপে লুইসকে এই যাত্রায় অর্জিত সাফল্য ও অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছে ফ্লামেঙ্গো। তার পেশাদার ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য ক্লাব শুভকামনা জানাচ্ছে।’
সাবেক চেলসি ডিফেন্ডার ফিলিপে লুইস ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ফ্লামেঙ্গোর দায়িত্ব নেন। ক্লাবটির হয়ে ডাগ-আউটে ১০০ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এই সময়ে ফ্লামেঙ্গোকে জিতিয়েছেন সাতটি শিরোপা¬—গড়ে প্রতি ১৪ ম্যাচে একটি করে ট্রফি।
তবে নতুন বছরে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখা শুরু করে ফ্লামেঙ্গো। ২০২৬ সালে টানা দুটি ফাইনালে হেরে যায় ফ্লামেঙ্গো। সুপার কোপ ব্রাজিল এবং রিকোপা সুদামেরিকানো টুর্নামেন্টে-এ রানার্সআপ হয়।
সোমবার রাতে ক্যাম্পেওনাতো ক্যারেওকা-র সেমিফাইনালে দ্বিতীয় লেগে ৮-০ জয়ের মাধ্যমে মাদুরেইরার বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে ১১-০ ব্যবধানে জিতে ফাইনালের টিকিট কাটে ফ্লামেঙ্গো। ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্যারিওকা শিরোপা জয়ের সুযোগ তৈরি হয় তাদের সামনে। রোববারের ফাইনালে প্রতিপক্ষ ফ্লামেনেন্সে। কিন্তু সেই ফাইনালে লুইস আর ডাগআউটে থাকবেন না।
লুইস ফিলিপে খেলোয়াড়ি জীবনে হোসে মরিনিয়ো-র অধীনে ২০১৫ সালে চেলসির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ জেতেন। কোচিং ক্যারিয়ারেও একের পর এক চমক দেখাতে থাকেন তিনি। ২০২৫ সালে তার অধীনেই ফ্লামেঙ্গো জেতে কোপা লিবার্তাদোরেস। এর আগে তিনি ২০১৯ ও ২০২২ সালে খেলোয়াড় হিসেবে ফ্লামেঙ্গোর হয়ে লিবার্তাদোরেস জিতেছিলেন।
এছাড়া ফিলিপের কোচিংয়ে ফ্লামেঙ্গো আরও জেতে ব্রাজিলিয়ান সিরি আ, কোপা দো ব্রাজিল, সুপারকোপা দো ব্রাজিল, ক্যাম্পেওনাতো কারিওকা, ফিফা চ্যালেঞ্জার কাপ এবং ফিফা ডার্বি অব দ্য আমেরিকাস। এর আগে তিনি ফ্লামেঙ্গোর অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ দলকেও লিগ শিরোপা জেতান। লুইস ১০১ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করে ৬৪টি জয় ও মাত্র ১৫টি হার নিয়ে বিদায় নিচ্ছেন, যা অনেক অভিজ্ঞ কোচের কাছেও ঈর্ষণীয়।
চলতি মৌসুমে লিগ টেবিলে ফ্লামেঙ্গোর অবস্থান ১১তম। প্রথম তিন ম্যাচে তারা একটি করে জয়, ড্র ও হার পেয়েছে। এক ম্যাচ বেশি খেলা পালমেইরাস শীর্ষে আছে।
২০২৬ মৌসুমের শুরু থেকেই সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মাদুরেইরার বিপক্ষে বড় জয়ের আগে ফ্লামেঙ্গো সুপারকোপা দো ব্রাসিলে করিন্থিয়ান্সের বিপক্ষে এবং লানুসের কাছে কনমেবল রিকোপায় হেরেছে। বছরের শুরুতেই শিরোপা হাতছাড়া হওয়ায় সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
৮-০ জয়ের ম্যাচেও গ্যালারি থেকে কিছু সমর্থক খেলোয়াড়দের উদ্দেশে ‘লজ্জাহীন’ স্লোগান দেন। শেষ সংবাদ সম্মেলনে লুইস সমালোচনা এড়িয়ে যাননি। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল আমি এখানে না থাকলেও, ফ্লামেঙ্গোর প্রতি আমার ভালোবাসা চিরকাল থাকবে। এবং আমি বিশ্বাস করি সমর্থকদের পক্ষ থেকেও তা থাকবে।’
রিও ডি জেনেইরোতে সাত বছরের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত লুইস বলেন, ‘আমি নিঃসন্দেহে এখানে আমার জীবনের সেরা সময় কাটিয়েছি।’

ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো নারী এশিয়ান কাপে খেললো বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক ম্যাচে অবশ্য শক্তিশালী চীনের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। তবে এশিয়ান কাপের ৯বারের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে যেভাবে লড়াই করেছে বাংলাদেশ সেটি সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। ম্যাচ শেষে ঋতুপর্ণা চাকমা, মিলি আক্তাররা বাহবা পেয়েছেন কোচ বাটলারেরও।
শুরুতেই মুহুর্মুহু আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণে ভীতি ছড়ায় চীন। পাল্টা জবাব দিতে খুব বেশি দেরি করেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। দারুণ লড়াইয়ের পর প্রথমার্ধের শেষ দিকে কিছুটা মনোযোগ হারালে সুযোগ কাজে লাগায় প্রতিপক্ষ ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৭ নম্বরে থাকা দলটি। তিন মিনিটের মধ্যে দুই গোল দিয়ে এগিয়ে যায় চীন।
ম্যাচ শেষে হারের কারণ উল্লেখ করে এটাই বলেন বাংলাদেশ কোচ। বাটলার বলেন, ‘আমি মেয়েদের নিয়ে আনন্দিত। প্রায় ৪০ মিনিট পর্যন্ত আমরা তাদের আটকে রেখেছিলাম, তারপর কিছুটা মনোযোগ হারিয়ে ফেলায় পরিস্থিতি বদলে যায়। তবে সামগ্রিকভাবে আমি গর্বিত।’
এদিন ১৪ মিনিটের মাথায় আগে লিড লিড নিতে পারত বাংলাদেশ। প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে নেওয়া ঋতুপর্ণা চাকমার অবিশ্বাস্য শট খুজে নিচ্ছিল জালের ঠিকানা। লাফিয়ে সেটি জালের ওপর দিয়ে কর্নার করে দেন চীনের গোলকিপার চেন চেন। ম্যাচে দারুণ ছিলেন ঋতুপর্ণাসহ প্রত্যেকে। তাদের এমন নিবেদনে খুশি কোচ বাটলার, ‘তারা দেশের সম্মান এবং জার্সির মর্যাদা রক্ষা করেছে। এটি প্রমাণ করে আমরা কতদূর এগিয়েছি। কিছু নেতিবাচক মানুষ হয়ত বলবে আমরা হেরেছি, গোলসংখ্যা এমন হতে পারতো বা তেমন হতে পারতো। কিন্তু আমি মেয়েদের অবদানে খুশি। তারা নিজেদের গর্বিত করার মতো পারফর্ম করেছে।’
নারী এশিয়ান কাপে ‘বি’ গ্রুপ থেকে দিনের প্রথম খেলায় উজবেকিস্তানকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে উত্তর কোরিয়া। যাদের বিপক্ষে আগামী ৬ মার্চ মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এরপর ৯ মার্চ লাল সবুজের মেয়েদের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান।

২০২৬ বিশ্বকাপের আর ১০০ দিন বাকি। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বসতে যাওয়া এই টুর্নামেন্ট ঘিরে উত্তেজনা ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। সময় যত এগোচ্ছে, ততই নজর পড়ছে বিশ্বের সেরা তারকাদের দিকে—কারা কেমন ছন্দে আছেন, কারা চোটে ভুগছেন, আবার কারা নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরছেন।
মেসি–রোনালদো: শেষ নাচের অপেক্ষা
৩৮ বছর বয়সী লিওনেল মেসি ও ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো এখনো থামার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছেন না। মেসি যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে নিয়মিত গোল–অ্যাসিস্ট করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে রোনালদো সৌদি আরবের আল-নাসরের জার্সিতে এখনো দলের প্রধান ভরসা।
আরও পড়ুন
| চীনের বিপক্ষে নেই স্বপ্না-তহুরা, অভিষেকের অপেক্ষায় সুইডেনপ্রবাসী আনিকা |
|
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন দেখছে। ১৯৬২ সালের পর আবারও শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি গড়তে চায় তারা। আর পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দলও প্রতিভায় ভরপুর। রোনালদোর বয়স নিয়ে আলোচনা থাকলেও গোল করার ক্ষমতায় এখনো ভাটা পড়েনি। ২০০৬ সালে জার্মানিতে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন দুজন। দুই দশক পরও তাঁদের দ্বৈরথ অটুট। সম্ভাবনা আছে, কোয়ার্টার ফাইনালে আবার দেখা হতে পারে দুই মহাতারকার।
এমবাপে–কেইন: গোলের বন্যা
কিলিয়ান এমবাপে এ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৩৩ ম্যাচে ৩৮ গোল করেছেন। যদিও চোট নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা আছে, তবু ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলর প্রধান ভরসা তিনিই। ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা এই ফরোয়ার্ড এবার বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই নামবেন।
অন্যদিকে হ্যারি কেইন যেন গোলের কারখানা। জার্মানির ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখর হয়ে ৩৭ ম্যাচে ৪৫ গোল করে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলর আক্রমণভাগে তাঁকে ঘিরেই পরিকল্পনা। ২০১৮ সালে গোল্ডেন বুট জেতা কেইন এবারও বড় কিছু করতে মুখিয়ে।
ইয়ামালের উত্থান, ডি ব্রুইনের অপেক্ষা
মাত্র ১৮ বছর বয়সেই নিজেকে বিশ্বসেরাদের কাতারে নিয়ে গেছেন লামিনে ইয়ামাল। বার্সেলোনার হয়ে দারুণ ফর্মে থাকা এই তরুণ ২০২৪ ইউরো জয়ের পর এবার বিশ্বমঞ্চেও নজর কাড়তে প্রস্তুত।
অন্যদিকে ৩৪ বছর বয়সী কেভিন ডি ব্রুইনে চোটে পড়ে কয়েক মাস মাঠের বাইরে। ইতালির ক্লাব নাপোলিতে মৌসুমের শুরুটা ভালো হলেও হ্যামস্ট্রিং চোটে থেমে যান। বেলজিয়াম জাতীয় ফুটবল দলর রূপান্তরের সময়ে তাঁর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
হালান্ড–সালাহ: ছন্দের খোঁজে
আরলিং হালান্ড প্রিমিয়ার লিগে ২২ গোল করলেও পুরো মৌসুমে ধারাবাহিক নন। ইংল্যান্ডের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে চোট সামলে খেলছেন তিনি। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে ওঠা নরওয়ে জাতীয় ফুটবল দলর বড় আশা এই স্ট্রাইকার।
আরও পড়ুন
| চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে বিরতিতে বাংলাদেশ |
|
মোহাম্মদ সালাহর সময়টা আরও কঠিন। ইংল্যান্ডের ক্লাব লিভারপুলর হয়ে এ মৌসুমে লিগে মাত্র চার গোল। গোলখরা চলছে টানা ১০ ম্যাচ। মিসর জাতীয় ফুটবল দল তাঁকে ঘিরেই পরিকল্পনা সাজাচ্ছে, তবে ছন্দে ফেরাটা জরুরি।
স্বাগতিকদের মিশ্র চিত্র
মেক্সিকোর আশা রাউল হিমেনেস। ইংল্যান্ডের ক্লাব ফুলহামর হয়ে ভালো খেলছেন তিনি। ভয়াবহ মাথার চোট কাটিয়ে ফেরার গল্পটি অনুপ্রেরণাদায়ক। মেক্সিকো জাতীয় ফুটবল দলর আক্রমণভাগে অভিজ্ঞতার ভার তাঁর কাঁধে।
যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক ইতালির ক্লাব এসি মিলানে নিয়মিত নন। তবে অনুকূল গ্রুপ পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দল আশাবাদী।
কানাডার সবচেয়ে বড় নাম আলফন্সো ডেভিস। কানাডা জাতীয় ফুটবল দলর এই ডিফেন্ডার আবারও চোটে ভুগছেন। জার্মানির ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখর এই লেফটব্যাক পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে পারলে স্বাগতিকদের শক্তি অনেক বেড়ে যাবে।
অপেক্ষা আর ১০০ দিনের
১০০ দিন পর শুরু হবে ফুটবলের মহাউৎসব। ফর্ম, চোট আর মানসিক প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে এখনই আঁচ করা যাচ্ছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে তারকাদের লড়াইয়ের আরেক মহারণ। কে জ্বলে উঠবেন, কে হতাশ করবেন—তার উত্তর মিলবে মাঠেই।

নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। প্রথমবারের মতো খেলেছে এশিয়ান কাপ ফুটবলে। নিজেদের ইতিহাসের উদ্বোধনী খেলায় বাংলাদেশ পেয়েছে এই প্রতিযোগিতার সবচেয়ে সফল দল চীনকে। তবে শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে মাথা উঁচু করে খেলেছে লাল সবুজের মেয়েরা। যদিও লড়াইয়ের পর হেরেছে পিটার বাটলারের দল।
সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপে চীনের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। দুটি গোলই হয়েছে প্রথমার্ধের শেষ দিকে। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি কোনো দল।
এশিয়ার বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে আজ ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। আক্রমণের গোলা সামলে সুযোগ বুঝে বাংলাদেশও উঠেছে প্রতিপক্ষের সীমানায়। শুরুতেই গোল পেতে পারতেন বাংলাদেশের পোস্টারগার্ল ঋতুপর্ণা চাকমা। নিজেদের সর্বোচ্চটা নিংড়ে দেওয়া বাংলাদেশের মেয়েরা প্রথমার্ধ দারুণ খেলে শেষ দিকের ভুলে গোল হজম করে। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে আরও চমৎকার ফুটবল উপহার দিয়েছেন মনিকা চাকমারা।
আরও পড়ুন
| চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে বিরতিতে বাংলাদেশ |
|
এদিন শুরুতেই মুহুর্মহু আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণে চিড় ধরানোর চেষ্টায় মেতে উঠে চীনের মেয়েরা। ৫ মিনিটের মধ্যে দুই-তিনবার গোলের সুযোগও পেয়ে যায় দলটি। কখনও শট লক্ষ্যে থাকেনি, কখনও ফাঁকা জায়গায় পেয়েও সময় মতো শট নিতে পারেনি তারা। বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা দারুণ ছিলেন এ সময়।
১২ মিনিটে মিলির দারুণ সেভে রক্ষা। বক্সে দুরূহ কোন থেকে জোরালো শট নেন চীনের ওয়াং শুয়াং। বাঁদিকে লাফিয়ে সেভ করেন মিলি। প্রতিপক্ষ মিডফিল্ডারের ফিরতি হেড বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে।
প্রতি আক্রমণে ১৪ মিনিটে ঋতপর্ণাকে গোলবঞ্চিত করেন চীনের গোলকিপার চেন চেন। কর্নার প্রতিহতের পর বাংলাদেশের অর্ধ থেকে ঋতুকে লক্ষ্য করে উড়ন্ত পাস দেন মারিয়া। চীনের ডিফেন্ডার উ হাইয়ানকে গতিতে পরাস্ত করে প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে সরাসরি গোলে শট নেন ঋতুপর্ণা। গোলকিপার টোকায় বল জালের ওপর দিয়ে কর্নার করে দেন।
১৭ মিনিটে গোল হতে হতে বেঁচে গেছে যায় বাংলাদেশ। বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়। তবে তাঁকে গোলে শট নিতে দেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। দারুণ ব্লক করেন তিনি। তিন মিনিট পর পা দিয়ে ঠেকিয়ে জাল অক্ষত রাখেন মিলি।
২৪ মিনিটে হেডে বাংলাদেশের জালে বল ঠেলে দেন ওয়াং শুয়াং। তবে ভিএআর-এ গেলে গোল বাতিল হয়ে অফসাইডের কারণে। পরের ১০ মিনিটে বাংলাদেশও ওপরে উঠে খেলেছে। সমানে সমান লড়াইয়ে এ সময় প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন ঋতুপর্ণা, শামসুন্নাহার জুনিয়ররা।
তবে প্রথমার্ধের শেষ কয়েক মিনিটে যেন খেই হারায় বাংলাদেশ। ৪৩ মিনিটে কোহাতি কিসকুর অবিশ্বাস্য ট্যাকলে গোলে শট নিতে পারেনি চীনের এক ফরোয়ার্ড। ৪৪ মিনিটে বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে টপ কর্নার দিয়ে বাংলাদেশের জাল কাঁপান ওয়াং শুয়াং। গোলকিপার মিলির কিছুই করার ছিল না।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ঝাং রুই। তাঁর নেওয়া রিবাউন্ড শট আফঈদা খন্দকারের পায়ে লেগে আশ্রয় নেয় জালে। ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন
| লাল সবুজের জার্সিতে সুইডেনপ্রবাসী আনিকার অভিষেক |
|
বিরতির পর উমেহ্লা ও শিউলির বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তহুরা খাতুন ও মোসাম্মৎ হালিমা খাতুন। ডিফেন্ডার নবিরনকে তুলে বদলি হিসেবে মিডফিল্ডে স্বপ্না রানীকে মাঠে নামান কোচ বাটলার। প্রথমার্ধের শেষ কয়েক মিনিটের ভুল শুধরে দ্বিতীয়ার্ধে আরও দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ। তিন পরিবর্তনের পর গোলের জন্য চেষ্টা চালায় লাল সবুজের মেয়েরা।
৫৯ মিনিটে আফঈদার ফ্রি কিকে বলে মাথা ছোয়ান শামসুন্নাহার জুনিয়র। তবে বল বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে। দুই মিনিট পর কর্নার থেকে বাংলাদেশের রক্ষণে ভীতি ছড়ায় চীন। ৬৬ মিনিটে ঝাই জংমাইয়ের নিচু শট লক্ষ্যে থাকেনি। ৬৮ মিনিটে মিলির অবিশ্বাস্য সেভ; বক্সের সামনে থেকে চীনা ডিফেন্ডার ঝান শেংঝুর শট লাফিয়ে টোকায় কর্নার করে দেন মিলি।
৭৪ মিনিটে শামসুন্নাহারের ক্রস কর্নার করে দেন চীনের এক ডিফেন্ডার। খানিক পর কয়েকজনকে কাটিয়ে স্বপ্নার নেওয়া শট একটুর জন্য লক্ষ্যে থাকেনি। পরের মিনিটে মারিয়ার নিচু শটও খুঁজে পায়নি জালের দেখা। এ সময়ে বাংলাদেশ মধ্যমাঠে প্রভাব বিস্তার করে খেলে।
৮৬ মিনিটে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলে অভিষেক হয় আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর। শামসুন্নাহার জুনিয়রের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। শেষ দিকে উল্লেখযোগ্য আর কিছু ঘটেনি। ২-০ গোলে পরাজয় মেনে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
‘বি’ গ্রুপের অপর খেলায় সকালে উজবেকিস্তানকে ৩-০ গোলে হারায় উত্তর কোরিয়া। বাংলাদেশের পরের ম্যাচ আগামী ৬ মার্চ, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে।