
লুইস দিয়াসের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর হ্যারি কেইনের নৈপুণ্য, শেষদিকে কিলিয়ান এমবাপের শোধ—সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মঙ্গলবার রিয়াল মাদ্রিদ-বায়ার্ন মিউনিখ ম্যাচের গল্প এমনই। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে ১-২ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ভিনসেন্ট কোম্পানির দল আপাতত স্বস্তিতে।
বাভারিয়ানদের স্বস্তিকর একটি উপলক্ষ্যের মূলে লুইস দিয়াস। লিভারপুলে থেকে গ্রীষ্মের দলবদলে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়া কলিম্বিয়ান উইঙ্গার যেন আগের ফর্মটাই ধরে রেখেছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে এখন পর্যন্ত ৬টি গোল উপহার দিয়েছেন তিনি। আর দিয়াস নিজেও মনে করেন অ্যানফিল্ডের ক্লাব ছেড়ে বায়ার্নে যোগ দেওয়াটা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সঠিক সিদ্ধান্ত।
প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ইউরোতে বায়ার্নে যোগ দেন দিয়াস। ২৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গার বাভারিয়ান ক্লাবটিতে প্রথম মৌসুমেই দারুণ ছাপ রেখেছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪০ ম্যাচে ৩৮টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন (২৩ গোল, ১৫ অ্যাসিস্ট)। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে এই মৌসুমে তার চেয়ে বেশি গোল অবদান রেখেছেন শুধু হ্যারি কেইন (৫৪), কিলিয়ান এমবাপে (৪৪), মাইকেল ওলিসে (৪১) ও আর্লিং হলান্ড (৪০)।
মৌসুমে সম্ভাব্য ট্রেবল জয়ের পথে বায়ার্ন। আর ভিনসেন্ট কোম্পানির দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে বেশ সন্তুষ্ট দিয়াস। বুধবার ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বায়ার্নে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল সঠিক। আমি খুবই খুশি এবং প্রতিটি ম্যাচ উপভোগ করছি। আমি নিজেকে দারুণ অনুভব করছি, ভালো ফর্মে আছি—যার অর্থ আমি দলকে সাহায্য করতে প্রস্তুত।’’
রিয়ালের বিপক্ষে ২০টি শট নেওয়া বায়ার্ন আরও এক-দুটি গোল করতে পারত বলে মনে করেন দিয়াস, “আমরা আগেই রিয়াল মাদ্রিদকে বিশ্লেষণ করেছিলাম। প্রথম গোলের মুভটি ঠিক আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ীই হয়েছে। খেলা যত এগিয়েছে, আমরা ততই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছি, বেশি করে বল দখলে নিয়েছি এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছি—এটাই আমরা করতে চাই।’’
ফল যা হয়েছে, তাতে অবশ্য নারাজ দিয়াস। তবে সতীর্থ এবং নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট তিনি, “আমরা খুব খুশি, তবে কিছুটা আক্ষেপ রয়ে গেছে—আরও এক-দুটি গোল করতে পারতাম। খুব শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আমরা দারুণ খেলেছি।”
No posts available.
৮ এপ্রিল ২০২৬, ৬:০৫ পিএম
৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫:২৫ পিএম

চ্যাম্পিয়নস লিগের মঙ্গলবার রাতটি রিয়াল মাদ্রিদের জন্য সুখকর ছিল না। ইউরোপের সর্বোচ্চ ১৫ বার চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ ২০২৫-২৬ মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ১-২ গোল ব্যবধানে হেরেছে। পিছিয়ে থেকেই আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যরা দ্বিতীয় লেগে আলিয়াঞ্জ এরেনায় খেলতে যাবে।
ব্যর্থতার ম্যাচে রিয়ালের বড় সান্ত্বনা কিলিয়ান এমবাপের গোল। মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রায় ৬ ম্যাচ গোলহীন থাকলেও, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এমবাপে শূন্যতা ভাঙেন। চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০ ম্যাচে ১৪ গোল করে অসাধারণ মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।
ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় এক মৌসুমে ১৪ বা তার বেশি গোল করা সাতজন ফুটবলারদের একজন এখন এমবাপে। চ্যাম্পিয়নস লিগের এক মৌসুমে এখন পর্যন্ত হোসে আলতাফিনি, রুড ভ্যান নিস্টলরয়, লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, রবার্ট লেভানডফস্কি, করিম বেনজেমা এক মৌসুমে ১৪ বা তার চেয়ে বেশি গোল করেছেন।
রিয়াল মাদ্রিদের তৃতীয় তারকা হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন এমবাপে। আল নাসর তারকা রোনালদো এক মৌসুমে ১৪ বা তার বেশি গোল করেছেন তিনবার। ২০১৩-১৪ মৌসুমে রিয়ালের জার্সিতে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ১৭ গোল করেন সিআরসেভেন।
বায়ার্নকে হারিয়ে রিয়াল যদি সেমিফাইনাল পা রাখে এবং ফাইনালে পৌঁছে, তবে আরও চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন এমবাপে। ম্যাচগুলোতে গোল দেখা পেলে পর্তুগিজ সুপারস্টার রোনালদোকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন তিনি। আর মাত্র তিনটি গোল হলেই চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলস্কোরের নামটি হবে এমবাপের।

প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি) ম্যানেজার লুইস এনরিক বলেছেন, চ্যাম্পিয়নস লিগে তার দলকে ফেভারিট হিসেবেই দেখছেন অনেকেই—এটা মোটেও উচিত নয়। বুধবার পার্ক দ্য প্রিন্সেসে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে লিভারপুলের মুখোমুখির আগে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
২০২৪-২৫ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল। অথচ এবার তারা টাইটেল রেসে পিছিয়ে। লিগে অল রেডসদের অবস্থান পঞ্চম স্থানে। আর চ্যাম্পিয়নস লিগেও খুঁড়াতে খুঁড়াতে উঠেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। মৌসুমে সব প্রতিযোগিতায় মোট ১৫ বার হেরেছে আর্নে স্লটের দল। এক মৌসুমে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরাজয় এটি। এর আগে ২০১৪-১৫ মৌসুমে ১৮ ম্যাচ হেরেছিল লিভারপুল।
লিভারপুলের বর্তমান অবস্থানের কারণেই পিএসজিকেই এগিয়ে রাখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। তবে লুইস এনরিকে মনে করেন, আজকের প্রতিযোগীতা কঠিনই হতে যাচ্ছে। ম্যাচ পূববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “লিভারপুলের মতো দলের সঙ্গে খেলা সবসময় সেমিফাইনালে পৌঁছাতে চাই; আমরা জানি এটি কতটা কঠিন হবে, তবে আমরা খুব উৎসাহী।”
এই ম্যাচটি গত মৌসুমের রাউন্ড-অফ-১৬-এর পুনরাবৃত্তি। সে সময় লিভারপুলকে পেনাল্টিতে হারিয়ে পরের রাউন্ডে উঠেছিল পিএসজি। স্প্যানিশ কোচ বলেন, “গত বছর সবাই বলেছিল লিভারপুল ফেভারিট, কিন্তু পিএসজি এগিয়ে গেল।’’
স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইজ সোমবার ইনজুরির কারণে দলের সঙ্গে অনুশীলনে অংশ নেননি। তবে ফরাসি উইঙ্গার ব্র্যাডলি বারকোলা চোখে আঙুলে সমস্যা কাটিয়ে অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন।

চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ২-১ গোলে হেরে বেশ অস্বস্তি রিয়াল মাদ্রিদ। কারণ দ্বিতীয় লেগে বাভারিয়ানদের দূর্গ আলিয়াঞ্জ এরেনায় ফেরার কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হবে লস ব্লাঙ্কোসদের।
১৯৭০-৭১ মৌসুমের পর কখনোই নিজেদের মাঠে নকআউট পর্বের প্রথম লেগ হেরে পরের রাউন্ডে যেতে পারেনি রিয়াল। বায়ার্নের বিপক্ষে ম্যাচ জিততে হলে আলভারো আরবেলোয়ার দলকে ফেরাতে হবে প্রায় ৫৬ বছর আগের স্মৃতি।
১৯৭০ সালের অক্টোবরে সবশেষ ইউরোপিয়ান কাপ উইনার্স কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে অস্ট্রিয়ান ক্লাব ওয়াকার ইনসব্রুকের কাছে ঘরের মাঠে ১-০ গোলে হেরেছিল রিয়াল। ফিরতি লেগের ম্যাচে ২-০ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখায় লস ব্লাঙ্কোসরা।
আরও পড়ুন
| চল্লিশেও চালশে নয়্যার, জানালেন পারফরম্যান্সের ‘সিক্রেট’ |
|
এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ছয়বার বার্নাব্যুতে প্রথম লেগে হারের মুখ দেখেছে রিয়াল। কোনোবারই ঘুরে দাঁড়িয়ে পরের রাউন্ডে যেতে পারেনি তারা। সবশেষ ২০১৯-২০ চ্যাম্পিয়নস লিগ মৌসুমে ঘরের মাঠে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ১-২ গোলে হারে লিগে ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা। দুই লেগ মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত সিটি ৪-২ ব্যবধানে জয়ী হয়।
রিয়ালকে সরাসরি সেমিফাইনালে যেতে হলে ফিরতি লেগে অন্তত ২ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে। তবে বায়ার্নের মাঠের পরিসংখ্যান কথা বলছেনা আরবেলোয়ার দলের পক্ষে। ২০২৪ সালের মার্চের পর থেকে নিজেদের মাঠে দুই গোলের ব্যবধানে হারেনি ভিনসেন্ট কোম্পানির দল।
চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো বড় মঞ্চে অসম্ভবকে সম্ভব করার খ্যাতি রিয়ালের বরাবরের মতোই আছে, তবুও পরিসংখ্যান বলছে কাজটা মোটেও সহজ হবে না। আগামী বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায় ফিরতি লেগে আলিয়াঞ্জ এরেনায় রিয়াল মাদ্রিদকে আতিথ্য দেবে বায়ার্ন।

বয়স তো কম হলো না। জাতীয় দলকে তো বিদায়ই বলে দিয়েছেন। তবে ৪০ বছর বয়সেও এতটুকু ধার কমেনি ম্যানুয়েল নয়্যারের। গোলপোস্টের নিচে এখনও একের পর এক সেভ করাটা যেন দুধভাত বায়ার্ন মিউনিখের গোলকিপারের কাছে। গতকাল চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে আরও একবার চোখধাঁধানো নয়্যারকেই দেখা গেল।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়ালের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয় পাওয়া ম্যাচে নয়্যার পুরো ক্যারিয়ারের যা করে আসছেন, সেটারই যেন পুনরাবৃত্তি করলেন। স্বাগতিক রিয়ালের নেওয়া ৯টি শট সেভ করেছেন বায়ার্নের কিংবদন্তি গোলকিপার। যে বয়সে অধিকাংশ খেলোয়াড় অবসরের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে, আর নয়্যার কিনা এখনও ক্যারিয়ারের চূড়ায় থাকা একজনের মতোই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে যাচ্ছেন। কিভাবে পারেন নয়্যার? কী সেই বিশেষ মন্ত্র?
আরও পড়ুন
| ফুরফুরে আরতেতা, আক্ষেপ বোরগেসের |
|
৪০ বছর বয়সেও মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাওয়া নয়্যার জানালেন নিজের পারফরম্যান্সের ‘সিক্রেট’। খুব বেশি কিছু নয়, প্রতিদিন তাড়িত করা এক অদম্য আবেগই তার এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের মূল শক্তি।
ম্যাচের পর নয়্যার বলেন, ‘এটা খুব ভালো একটি ম্যাচ ছিল। ভালো সুযোগ তৈরি হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ গোলও হয়েছে—সবার মাথায় আছে যে ফিরতি লেগটা আরও কঠিন হবে। এই পর্যায়ে পারফর্ম করার আমার রহস্য? এটা আমার খেলা, আমি এই খেলাকে ভালোবাসি। অনুশীলন করতে ভালো লাগে, আর এই দলের সঙ্গে আমি ভীষণ উপভোগ করি। এটা একটা আবেগ- আর সেটাই আমার “সিক্রেট”।’
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গত পাঁচ মৌসুমের মধ্যে এক ম্যাচে এটাই নয়্যারের সর্বোচ্চ সেভসংখ্যা। চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউটে নয়্যার এক ম্যাচে এর চেয়ে সর্বোচ্চসংখ্যক সেভ করেছিলেন ২০১৭ সালের এপ্রিলে- ১০টি সেভ, সেটা এই রিয়ালের বিপক্ষেই!
আরেকটি অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে বায়ার্ন মিউনিখকে জেতানো নয়্যারের প্রশংসা পঞ্চমুখ জার্মান জায়ান্টদের কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানিও, ‘সবারই নিজস্ব পছন্দ থাকতে পারে। তবে ম্যানু (নয়্যার) দীর্ঘ সময় ধরে নিজের সেরা ফর্ম ধরে রেখেছে। খুব কম গোলকিপারই এটা করতে পারেন। আমি প্রতিদিন অনুশীলনে ওকে দেখি এবং এখনো সমানভাবে মুগ্ধ হই। এটি প্রমাণ করে যে বিশ্বসেরা গোলরক্ষকদের একজন হয়ে থাকার সামর্থ্য তার কতটা প্রবল...সে যদি সেরা খেলোয়াড় হয়, তবে আমি খুশি এতে কোনো সমস্যা নেই। এই পর্যায়ের ম্যাচে এমন বড় পারফরম্যান্সেরই প্রয়োজন হয়।’
আরও পড়ুন
| গ্রিজমানের ‘লাস্ট ডান্স’ নাকি আবারও ইয়ামাল শো |
|
যদি এই মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখ চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে, তবে চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে ইকার ক্যাসিয়াস, নেভাস ও ভিক্টর ভালদেসের পর কেবল চতুর্থ গোলকিপার হিসেবে ইউরোপ সেরার এই ট্রফি তিনবার তুলে ধরার কীর্তি গড়বেন নয়্যার।
বুদাপেস্টে ৩০ মে ফাইনালে নয়্যারের বয়স হবে ৪০ বছর ৯৩ দিন। তাতে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলকিপার হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী ফুটবলার হবেন তিনি। এখন পর্যন্ত এই রেকর্ডের মালিক এডভিন ভ্যান দের সার। ২০০৮ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-এর হয়ে যখন চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিলেন, তার বয়স ছিল তখন ৩৭ বছর ২০৫ দিন।
এই মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে আছে বায়ার্ন, আর নয়্যারের তর্কাতিকভাবে সর্বকালের সেরা গোলকিপারের ছন্দ নিয়ে তো কোনো প্রশ্নই নেই। তাতে বয়সকে সংখ্যা বানিয়ে ফেলা সাবেক জার্মান গোলকিপারের এই কীর্তিতে নাম লেখাতেই পারেন।

এস্তাদিও হোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে যোগ করা সময়ে স্পোটিং লিসবনের বিপক্ষে কোনোমতে জিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে রইল আর্সেনাল।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে গানারদের একমাত্র গোলটি আসে কাই হাভার্টজের পা থেকে। এর ফলে ইএফএল কাপ ও এফএ কাপের হতাশা কাটিয়ে ওঠতে সক্ষম হয়েছে আর্সেনাল।
দুই মিনিট যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে চমৎকার ফিনিশিংয়ে গোল এনে দেন হাভার্টজ। গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির ক্রস বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগে এই নিয়ে সপ্তমবারের মতো ৯০ মিনিটের জয়সূচক গোলের দেখা পেল আর্সেনাল। যার শেষ চারটিই এসেছে প্রতিপক্ষের মাঠে।
আরও পড়ুন
| গ্রিজমানের ‘লাস্ট ডান্স’ নাকি আবারও ইয়ামাল শো |
|
এই প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে শেষ ছয় ম্যাচে আর্সেনাল প্রথম লেগে মাত্র একবার হেরেছে (৩ জয়, ২ ড্র)। আর প্রথম লেগ জিতলে শেষ আটটির মধ্যে সাতবারই পরের রাউন্ডে উঠেছে তারা।
আরতেতা স্বীকার করেন, ম্যাচে ব্রেকথ্রু না পাওয়ার শঙ্কা ছিল তার। তবে পরের লেগের জন্য এমিরাট স্টেডিয়ামে এগিয়ে থাকা অবস্থায় ফিরতে পেরে তিনি দারুণ খুশি। আরতেতা বলেন, “কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষের মাঠে জেতা—তাও এমন এক দলের বিপক্ষে যারা অনেকদিন ধরে ঘরের মাঠে হারেনি—এটা খুবই কঠিন ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “শেষ তৃতীয়াংশে গিয়ে আমরা ঠিক শেষ পাসটা দিতে পারছিলাম না। আরও দ্রুত ও নিখুঁত হতে হতো। কয়েকটা সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত ফিনিশারদের এক জাদুকরী মুহূর্তেই জয় এসেছে।”
স্পোর্টিং কোচ রুই বোরগেস বলেন, “এত ভালো খেলার পর কিছুটা হতাশ লাগাটাই স্বাভাবিক। ৯০ মিনিটে আমাদের তিন-চারটি পরিষ্কার সুযোগ ছিল, কিন্তু গোল করতে পারিনি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “গোলের সামনে একটু বেশি ধারালো হতে পারলেই হতো। এটাই ফুটবল। এখন মাথা ঠান্ডা রেখে বিশ্বাস রাখতে হবে—ফিরে আসা সম্ভব।”