২৬ এপ্রিল ২০২৬, ২:৩৫ পিএম

বার্সেলোনার সাবেক কোচ জাভি হার্নান্দেজ সম্প্রতি ক্লাবে তাঁর সময়কাল নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন। রোমারিও টিভির ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে লিওনেল মেসিকে ন্যু ক্যাম্পে ফিরিয়ে আনার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও খোদ ক্লাব সভাপতি হুয়ান লাপোর্তার আপত্তির কারণে তা ভেস্তে যায়।
সেই সময়ের কথা উল্লেখ করে জাভি বলেন, ‘বার্সেলোনার কোচ থাকাকালীন আমি দানি আলভেসকে ফিরিয়ে এনেছিলাম। এ ছাড়া নেইমার, পেদ্রো ও মেসিকেও ফেরানোর চেষ্টা করেছিলাম।’ মেসির প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে আরও যোগ করেন, ‘আমরা পাঁচ মাস ধরে মেসির সঙ্গে কথা বলেছিলাম, সবকিছু চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সভাপতি 'না' বলে দেন।’ নেইমার ও পেদ্রোর ক্ষেত্রে অবশ্য ক্লাবের আর্থিক সীমাবদ্ধতাকেই মূল বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
মেসির সঙ্গে জাভির ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জাভি জানান, মাঠে মেসি কতটা মনোযোগী ও দাবিদার ছিলেন। এক সময়ের সতীর্থকে নিয়ে বলেন, ‘মাঝে মাঝে অন্য কাউকে পাস দিলে মেসি আমার ওপর বিরক্ত হতো। সে এসে বলত, হেই, তুমি কী করছ? আমাকে পাস দাও! আমার কাছাকাছি এসে খেলো!’
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের আগে আরেকটি চোট, দুশ্চিন্তায় জার্মানি |
|
১৬ বছর বয়সে মেসিকে প্রথম দেখার অভিজ্ঞতায় জাভি বলেছিলেন, ‘আমি দেখেই বুঝেছিলাম এটি একেবারেই আলাদা কিছু, এমনটা আগে কখনো দেখিনি।’
বর্তমান বার্সেলোনা দল নিয়ে জাভি বেশ আশাবাদী। বিশেষ করে লামিন ইয়ামালকে তিনি 'ফুটবলের জাদুকর' ও বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে অভিহিত করেছেন। নিজের বিদায় প্রসঙ্গে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে তিনি বলেন, ‘আমি চালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম এবং সভাপতির সঙ্গে তেমন কথাই ছিল। কিন্তু ক্লাবের ভেতরের কারো সঙ্গে কোনো একটি সমস্যার কারণে পরিস্থিতি বদলে যায়।’
বর্তমান কোচ হান্সি ফ্লিকের কাজের প্রশংসা করে জাভি জানান, তিনি যে ভিত্তি তৈরি করে দিয়ে এসেছেন, তার ওপর দাঁড়িয়ে এই তরুণ দলটি আগামী ১০ বছর ফুটবল বিশ্বে রাজত্ব করার ক্ষমতা রাখে। বার্সেলোনায় তাঁর এই সময়টাকে তিনি নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের 'মাস্টার্স ডিগ্রি' হিসেবে দেখছেন।
No posts available.
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৮ এম
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০০ পিএম

চ্যাম্পিয়নস লিগে মঙ্গলবার বায়ার্ন মিউনিখকে আতিথ্য দিবে পিএসজি। সেমি-ফাইনাল মহারণের আগে মাইন্ড গেম শুরু করে দিয়েছেন পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে।
শনিবার রাতে লিগ ওয়ানে অ্যাঞ্জার্সের বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ের পর দলের চোট আক্রান্ত খেলোয়াড়দের বর্তমান অবস্থা নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ এই স্প্যানিশ কোচ।
অ্যাঞ্জার্সের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমার্ধের পরেই (৪৬ মিনিটে) আশরাফ হাকিমি, ফাবিয়ান রুইস এবং লুকাস হার্নান্দেজ তুলে নেন এনরিকে। এই পরিবর্তনগুলো কি চোটের কারণে নাকি বায়ার্ন ম্যাচের আগে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে পিএসজি কোচ বলেন, ‘বায়ার্নের বিপক্ষে সেমিফাইনাল লড়াই এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে এবং আমি (খেলোয়াড়দের বিষয়ে) কোনো তথ্য দেব না।’
আরও পড়ুন
| রেকর্ড গড়ে আবারও শীর্ষে ফিরল আর্সেনাল |
|
শনিবার রাতের জয়ে লেন্সের চেয়ে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষস্থান মজবুত করেছে পিএসজি। তবে সহজ জয়ের দিনে অবশ্য প্যারিসিয়ানদের জন্য বড় অস্বস্তি হয়ে এসেছে গনসালো রামোসের লাল কার্ড।
যদিও চ্যাম্পিয়নস লিগে এর প্রভাব পড়বে না, তবে ঘরোয়া লিগের পরবর্তী ম্যাচে তাকে ছাড়াই কৌশল সাজাতে এনরিকেকে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের গত ২০২৪-২৫ মৌসুমে ইন্টার মিলানকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো ইউরোপসেরার মুকুট পরেছিল পিএসজি।
এবারও প্যারিসের এই ক্লাবটি রয়েছে দুর্দান্ত ছন্দে। প্রথমবারের মতো সেই ধারাবাহিকতায় রেকর্ড টানা তিনবার ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের সেমি-ফাইনালে পা রাখল প্যারিসের ক্লাবটি।

লিভারপুলে ৯ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন মোহামেদ সালাহ। প্রিমিয়ার লিগে অল রেডদের বাকি ছিল আর চারটি ম্যাচ। লিভারপুল সমর্থকরা যখন সালাহর বর্ণিল বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই চোট যেন এক বিষাদময় সমাপ্তি নিয়ে এল।
শনিবার রাতে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং চোটে পড়ে মৌসুমের বাকি অংশ থেকে ছিটকে গেছেন সালাহ। মিশর জাতীয় দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসান শনিবার নিশ্চিত করেছেন, ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড লিভারপুলের জার্সিতে তার শেষ ম্যাচটি খেলে ফেলেছেন।
লিভারপুলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না এলেও ইব্রাহিম হাসান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন এই খবর।
"সালাহ হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তার সুস্থ হতে অন্তত চার সপ্তাহ সময় লাগবে।"
আরও পড়ুন
| ঘুরে দাঁড়ানো জয়ে ফাইনালে উঠে ম্যান সিটির রেকর্ড |
|
ফলে আগামী ২৪ মে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে মৌসুমের শেষ ম্যাচটি ক্লাবের জার্সিতে খেলে নয়, মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে সমর্থকদের কাছ থেকে বিদায় নিতে হবে লিভারপুলের এই কিংবদন্তিকে।
২০১৭ সালে যোগ দেওয়ার পর লিভারপুলের হয়ে সম্ভাব্য সব শিরোপা জিতেছেন সালাহ। ক্লাবটির ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে চলতি মৌসুমে করেছেন ১২ গোল ও সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৯টি।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি এবং অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে সালাহর অনুপস্থিতি লিভারপুলের জন্য বড় এক ধাক্কা।
মিশরীয় সমর্থকদের জন্য আপাতত স্বস্তির খবর, ২০২৬ বিশ্বকাপের আগেই সালাহ ফিট হয়ে উঠবেন বলে জানিয়েছেন হাসান।
আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকায় শুরু হতে যাওয়া এই মহাযজ্ঞে গ্রুপ 'জি'-তে মিশর মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড এবং ইরানের।

প্রিমিয়ার লিগে টানা দুই হারের পর অবশেষে জয়ের দেখা পেল আর্সেনাল। শনিবার রাতে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে হারিয়ে আবারও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ফিরেছে উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি।
ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্সেনালের জয় ১-০ গোলে। দলের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেছেন এবেরেচি এজে।
ম্যাচের ৯ মিনিটে কর্নার কিক থেকে অসাধারণ ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন এজে। কর্নার থেকে নোনি মাদুয়েকে পাস দেন কাই হাভার্টজের দিকে। হাভার্টজ বলটি বক্সের ঠিক বাইরে অবস্থান করা এজের দিকে ঠেলে দেন। বল রিসিভ করে দারুণ কার্লিং শটে গোল করেন এজে।
এই গোলের মাধ্যমে অনন্য রেকর্ড গড়েছে মিকেল আরতেতার দল। চলতি মৌসুমে কর্নার থেকে ১৭টি গোল করল তারা। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এক মৌসুমে কর্নার থেকে করা সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এটি।
আরও পড়ুন
| ঘুরে দাঁড়ানো জয়ে ফাইনালে উঠে ম্যান সিটির রেকর্ড |
|
গোল খেয়ে ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল নিউক্যাসল। ৩০ মিনিটে সান্দ্রো তোনালির দূরপাল্লার শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন আর্সেনাল গোলকিপার ডেভিড রায়া। জো উইলকের একটি প্রচেষ্টাও সরাসরি তার হাতে জমা পড়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা ইয়োনে উইসা অ্যাক্রোবেটিক শট নিলেও তা পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়।
পুরো ম্যাচে লড়াই করলেও কাজের কাজ গোলটি আর পাওয়া হয়নি এডি হাউয়ের শিষ্যদের। পুরো ম্যাচের বল দখলে নিউক্যাসল এগিয়ে থাকলেও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্সেনাল।
এই জয়ের পর শিরোপা লড়াইয়ে ভালোভাবেই টিকে রইল গানার্সরা। ৩৪ ম্যাচ শেষে আর্সেনালের সংগ্রহ ৭৩ পয়েন্ট। এক ম্যাচ কম খেলা ম্যানচেস্টার সিটি ৭০ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে দুইয়ে।

গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর হঠাৎই গোল করে এগিয়ে গেল সাউদাম্পটন। তবে খেলার ধারার বিপরীতে গোল হজম করে খেই হারাল না ম্যানচেস্টার সিটি। বরং দ্রুতই ২ গোল করে ম্যাচের ফল নিজেদের কাছে এনে ফাইনালের টিকিট কাটল তারা।
লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে এফএ কাপের সেমি-ফাইনালে সাউদাম্পটনকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ম্যান সিটি। ফিন অ্যাজাজের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর জেরেমি ডকু ও নিকো গনজালেজের গোলে জয় নিশ্চিত করে তারা।
এই জয়ে প্রথম ক্লাব হিসেবে টানা ৪ বছর এফএ কাপের ফাইনালে ওঠার রেকর্ড গড়ল ম্যান সিটি। তবে গত দুই আসরে শিরোপা জিততে পারেনি তারা। এবার অষ্টম শিরোপার খোঁজে নামবে পেপ গার্দিওলার দল।
আরও পড়ুন
| লিভারপুলের হয়ে কি শেষ ম্যাচ খেললেন চোটাক্রান্ত সালাহ |
|
নিয়মিত একাদশের বেশিরভাগ ফুটবলারকে বিশ্রাম দিয়ে এদিন শুরুর একাদশ সাজান গার্দিওলা। ফলে শুরুতে গুছিয়ে নিতে কিছুটা সমস্যা হয় সিটির। তবু সব মিলিয়ে দাপুটে ফুটবল খেলতে ভুল হয়নি ইংলিশ জায়ান্ট ক্লাবটির।
ম্যাচে প্রায় ৭০ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে গোলের জন্য ২৪টি শট করে ম্যান সিটি। এর মধ্যে ৬টি ছিল লক্ষ্য বরাবর। বিপরীতে সাউদাম্পটনের ৪ শটের ৩টি ছিল লক্ষ্যে।
তবু প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি দুই দল। বেশ কয়েকবার জোরাল আক্রমণ করেও হতাশা সঙ্গী হয় ম্যান সিটির। বিরতির পর আক্রমণের জোর বাড়ায় তারা। তবু মিলছিল না কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা।
ম্যাচের ৭৯ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে ম্যান সিটিকে হকচকিয়ে দেন ফিন অ্যাজাজ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে চমৎকার শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন ইংলিশ মিডফিল্ডার।
পিছিয়ে পড়ে দ্রুতই জবাব দেয় ম্যান সিটি। ৮২ মিনিটে গোল শোধ করেন ডকু। ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার জোরালো শট এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পাল্টে জড়িয়ে যায় জালে। পাঁচ মিনিট পর এবার নিকো গনজালেজের আরেকটি জোরালো শটে লিড পেয়ে যায় ম্যান সিটি।
পরে ব্যবধান বাড়তে পারত আরও। কিন্তু দারুণ সুযোগ নষ্ট করেন ডকু। তাই ২-১ গোলের জয়েই মাঠ ছাড়তে হয় সিটিজেনদের।
দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে রোববার রাতে মুখোমুখি হবে চেলসি ও লিডস। এই ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে নামবে ম্যান সিটি।

টানা তিনবার হারের পর ক্রিস্টল প্যালেস ‘জুজু’ থেকে মুক্তি মিলেছে লিভারপুলের। টানা তৃতীয় জয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের চতুর্থ স্থানেও উঠে এসেছে অল রেডরা। তবে এই জয়ের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে দলের প্রাণভোমরা মোহাম্মদ সালাহর চোটে। এই মৌসুমে যে ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে তিন তিনবার হারতে হয়েছিল, সেই 'অভিশাপ’ কাটলেও হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে সালাহকে হারানোটা আর্নে স্লটের দলের জন্য বড় ধাক্কা।
প্রিমিয়ার লিগে ক্রিস্টল প্যালেসের বিপক্ষে আজ লিভারপুলের ৩-১ গোলের জয়ে বল জালে পাঠিয়েছেন আলেক্সান্দ্রো ইসাক, আন্ড্রু রবার্টসন ও ফ্লোরিয়ান ভিৎস। এই জয়ে ৩৪ ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে উঠে এলো লিভারপুল। সমান ম্যাচ খেলে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে পাঁচে আজ ফুলহামের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়া অ্যাস্টন ভিলা। ৩৩ ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পয়েন্টও সমান ৫৮।
প্যালেসের বিপক্ষে আগের চারবারের দেখায় একটিও জয় ছিল না লিভারপুলের। গত সেপ্টেম্বরে লিগের প্রথম দেখায় ২-১ গোলে এবং পরের মাসে লিগ কাপে ৩-০ ব্যবধানে। এই দুই ম্যাচের আগে, গত অগাস্টে কমিউনিটি শিল্ড কাপেও প্যালেসের বিপক্ষে ২-২ ড্রয়ের পর, টাইব্রেকারে হেরেছিল স্লটের দল। শেষ পর্যন্ত ক্রিস্টল প্যালেস নামক ‘গেরো’ ভেঙেছে লিভারপুল।
ঘরের মাঠ অ্যান ফিল্ডে ম্যাচের শুরুতে সালাহকে বক্সে ফাউল করেন ক্রিস্টল প্যালেসের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ব্রেনান জনসন। রেফারি প্রথমে পেনাল্টির বাঁশি বাজলেও ভিএআর তা বাতিল করে দেয়। ৩৫ মিনিটে ইসাকের গোলে লিড নেয় স্বাগতিকরা। এরপর লিভারপুল তাদের চিরচেনা দাপুটে কাউন্টার অ্যাটাকের ঝলক দেখায়। অ্যান্ডি রবার্টসনের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।
এরপরই নামে বিষাদের ছায়া। হ্যামস্ট্রিং চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন সালাহ। প্যালেস ডি-বক্সের ঠিক বাইরে খুব সাধারণ এক চ্যালেঞ্জের মুখে সালাহ যখন তাঁর বাঁ পায়ের পেছনের অংশ (হ্যামস্ট্রিং) চেপে ধরে মাঠে শুয়ে পড়লেন, তখনই অ্যান ফিল্ডের উৎসবের আমেজ বিষাদে রূপ নেয়। রেফারি অবশ্য ফাউলের হালকা আবেদন নাকচ করে দেন, কিন্তু সালাহ তখনই ডাগ-আউটের দিকে ইশারায় বদলি নামানোর সংকেত দেন।
মেডিকেল টিম দ্রুত মাঠে ছুটে আসে। প্রাথমিক পরীক্ষার পর সালাহ যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, পুরো অ্যানফিল্ড দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে তাঁকে সম্মান জানায়। ৩৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন জেরেমি ফ্রিম্পং। মৌসুমের আর মাত্র চারটি ম্যাচ বাকি থাকতে এই চোট নতুন এক শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। চলতি গ্রীষ্মেই ক্লাব ছাড়ার কথা রয়েছে সালাহর, তাই সমর্থকদের ভয়—লিভারপুলের জার্সিতে এটাই হয়তো প্রিয় তারকার শেষ ম্যাচ হয়ে থাকল।
এরপরই ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা। লিভারপুল গোলরক্ষক ফ্রেডি উডম্যান চোট পেয়ে পড়ে থাকলেও খেলা চালিয়ে যায় প্যালেস। দানিয়েল মুনোজের বিতর্কিত চিপে একটি গোল শোধ করে সফরকারীরা। ম্যাচের শেষ দিকে লিভারপুল সমর্থকদের বেশ খানিকটা স্নায়ুচাপের মুহূর্ত পার করতে হয়েছে। তবে ইনজুরি টাইমের ষষ্ঠ মিনিটে ভিৎসের এক দুর্দান্ত গোল সব শঙ্কার অবসান ঘটায়।