২৪ এপ্রিল ২০২৬, ৭:১৬ পিএম

রিয়াল মাদ্রিদ লেফট উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে বর্ণবাদী ও আপত্তিকর গালির অভিযোগে বেনফিকার ২০ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নিকে ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউয়েফা। শুক্রবার এক বিবৃতিতে এই শাস্তির কথা জানানো হয়।
ফেব্রুয়ারিতে লিসবনে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে-অফ ম্যাচ চলাকালীন এই ঘটনার সূত্রপাত।
ইউয়েফার মতে, রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ওই ম্যাচে ‘বৈষম্যমূলক আচরণের’ দায়ে প্রেস্তিয়ান্নিকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। সংস্থার বিবৃতিতে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে, ভিনিকে ‘মারিকন’ বলে সম্বোধন করেছেন প্রেস্তিয়ান্নি। যা একটি সমকামী বিদ্বেষী গালি। এই নিষেধাজ্ঞা ইউরোপীয় ক্লাব প্রতিযোগিতা অথবা আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ম্যাচে কার্যকর হবে।
ইউয়েফা ব্যাখ্যা করেছে, ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তিন ম্যাচ আগামী দুই বছরের জন্য স্থগিত (প্রোবেশন) থাকবে। বাকি তিন ম্যাচের মধ্যে এক ম্যাচ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। যা রিয়াল ও বেনফিকার মধ্যকার প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে কার্যকর হয়েছিল।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ের প্রথম লেগে ১-০ গোলে জেতে রিয়াল। ম্যাচে একমাত্র গোলটি করার পর ভিনি রেফারির কাছে অভিযোগ করেন, প্রেস্তিয়ান্নি তাকে বর্ণবাদী গালি দিয়েছেন। ম্যাচ পরিচালনাকারী ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার তাৎক্ষণিকভাবে খেলা বন্ধ করে দেন।
ইউয়েফা তদন্ত চলাকালীন প্রেস্তিয়ান্নিকে সাময়িকভাবে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল। সেই কারণে তিনি সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফিরতি লেগে খেলতে পারেননি, যেখানে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় বেনফিকা।
বেনফিকা এক বিবৃতিতে জানায়, ইউয়েফার দেওয়া সাজার বিষয়ে ক্লাবকে জানানো হয়েছে। সমকামী বিদ্বেষী ভাষা ব্যবহারের দায়ে প্রেস্তিয়ান্নিকে ৬ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে তিন ম্যাচ স্থগিত রাখা হয়েছে। বাকি তিন ম্যাচের একটি সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি দুটি তাকে উয়েফা বা ফিফা স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ম্যাচে পূর্ণ করতে হবে।
No posts available.
২৪ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৪২ পিএম

বায়ার্ন মিউনিখ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে বাজারে প্রচলিত গুঞ্জন ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ক্লাবটির স্পোর্টিং ডিরেক্টর ক্রিস্টোফ ফ্রয়েন্ড।
শুক্রবার সকালে জার্মান সংবাদমাধ্যম ‘ম্যুনখেনার আবন্দৎসাইতুং’ এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ২০২৭ সাল পর্যন্ত বায়ার্নের সাথে নতুন চুক্তি সম্পন্ন করেছেন নয়্যার। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগামী মৌসুমে ৪০ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি গোলরক্ষক তরুণ ইয়োনাস উরবিগের সাথে পর্যায়ক্রমে গোলপোস্ট সামলাবেন।
এমন সংবাদের পর ফ্রয়েন্ড বলেন, ‘এই প্রথম এমন কথা শুনলাম আমি। অনেক সময় দেখা যায় আমাদের চেয়ে সংবাদমাধ্যমই বেশি জানে। এ ধরনের কোনো আলোচনা এখনও হয়নি, তাই খবরটি কোথা থেকে এলো তা নিয়ে আমি বিস্মিত।’ তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, নয়্যারের ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্লাবের সাথে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
পেশির চোট কাটিয়ে ফেরার পর নয়্যার চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন। ডিএফবি-পোকালের সেমিফাইনালেও তার গোলপোস্ট সামলানোর দক্ষতা ছিল দেখার মতো। নিজের অবসর বা ভবিষ্যৎ নিয়ে নয়্যার বলেন, ‘আমি এখনই কোনো ঘোষণা দিচ্ছি না, তবে বর্তমানে সবকিছু ইতিবাচক মনে হচ্ছে।’
‘স্পোর্ট বিল্ড’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, নয়্যার যদি অবসরের সিদ্ধান্ত নেন, তবে বায়ার্ন বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অভিজ্ঞ কাউকে দলে নিতে চায়। সেক্ষেত্রে হামবুর্গ এসভি-র ড্যানিয়েল হয়ার ফার্নান্দেসের নাম শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে, ধারে খেলা আলেকজান্ডার নুবেল এবং ড্যানিয়েল পেরেটজকে ক্লাবটি বিক্রি করে দিতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

গ্যালারিতে তখনও আড়মোড়া ভেঙে বসে উঠতে পারেননি দর্শকেরা। এদিকে কিক অফের পর আচমকাই কাঁপলো ফর্টিস এফসির জাল। এগিয়ে গেল আবাহনী। দাঁতে দাঁত কামড়ে সেই গোলের লিড ধরে মাঠ ছাড়লো মারুফুল হকের দল। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের (বিএফএল) শিরোপা রেসে ফর্টিসকে টপকে এগিয়ে গেল ধানমন্ডিপাড়ার ক্লাবটি।
শুক্রবার কুমিল্লার ভাষা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ফর্টিসকে ১-০ গোলে হারিয়েছে আবাহনী। লিগের অনেকটা সময় পর্যন্ত শিরোপা রেসে বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে রাখা হয়েছিল ফর্টিসকে। কিন্তু ১৪তম রাউন্ডে এসে পিছিয়ে গেল তারা। আর ১৪ খেলায় ৮ জয়, চার ড্র এবং দুই হারে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থানে থাকা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের ছুঁয়ে ফেললো আবাহনী। কিংস অবশ্য এক ম্যাচ কম খেলেছে। ঘরের মাঠে কাল ব্রাদার্স ইউনিয়নকে হারাতে পারলে এককভাবে শীর্ষস্থান দখলে নেবে ফেডারেশন কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ২৫ পয়েন্ট নিয়ে এই তালিকার তিনে ফর্টিস।
এদিন ম্যাচের সময় তখন ৩৩ সেকেন্ড। কিক অফের পর প্রথম আক্রমণেই গোল পেয়ে যায় আবাহনী। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা মিরাজুল ইসলাম বক্সে ক্রস বাড়িয়েছিলেন। শটে খুব একটা গতিও ছিল না। তা রুখে দিতে গোলকিপার সুজন পেরেইরাও ছিলেন বলের লাইনে, কিন্তু হঠাৎই তালগোল পাকিয়ে বসেন মিঠু চৌধুরী। সুজনের সামনে দিয়ে ছুটে গিয়ে ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বল তার পায়ে লেগে গড়িয়ে গড়িয়ে জালে জড়ায়।
পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে নিতে আবাহনী রক্ষণে চাপ দিতে থাকে ফর্টিস এফসি। সেরা সুযোগটি তারা তৈরি করে প্রথমার্ধের শেষ দিকে। ৪২ মিনিটে বাইলাইনের একটু উপর থেকে দাওয়া টিশেরিংয়ের আড়াআড়ি ক্রস আটকাতে পারেননি মিতুল মারমা; বল চলে যায় গোলমুখে ফাঁকা থাকা ইসা জালোর কাছে, কিন্তু অভাবনীয়ভাবে হেডে ক্রসবারের উপর দিয়ে উড়িয়ে দেন গাম্বিয়ান এই মিডফিল্ডার।
পরের মিনিটেই আবারও সমতায় ফেরার সুযোগ হারায় ফর্টিস। এবার বক্সের ভেতর থেকে নিজে শট না নিয়ে ইসা জালে বাড়ান বাঁ-দিকে ফাঁকায় থাকা ওনিয়েকাচি ওকাফোরককে, কিন্তু নাইজেরিয়ার এই ফরোয়ার্ডের শট এক ডিফেন্ডারের গায়ে লিগে অল্পের জন্য পোস্টে বাইরে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে চেষ্টা করেও গোলের দেখা পায়নি ফর্টিস। মিতুল মারমাও দারুণ ছিলেন পোস্টের নিচে। তাতে শুরুতে পাওয়া গোলের লিড ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে আকাশি-নীলরা।
দিনের অপর ম্যাচে মানিকগঞ্জের শহীদ মিরাজ তপন স্টেডিয়ামে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটিকে ১-০ গোলে হারাল আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। এই জয়ে রেলিগেশন জোন থেকে বেরিয়ে গেলো আরামবাগের ক্লাবটি। ১৪ খেলায় তিন জয় চার ড্র এবং এবং ৭ হারে ১৩ পয়েন্ট শেখ জাহিদুর রহমানের দলের। তারা অবস্থান করছে তালিকার আটে। এক ম্যাচ কম খেলা এবং অবনমন অঞ্চলে থাকা পিডব্লিউডির পয়েণ্টও সমান ১৩। তবে গোলগড়ে এগিয়ে গেছে আরামবাগ। ১৯ পয়েন্ট পেয়ে টেবিলের চারে পুরান ঢাকার ক্লাব রহমতগঞ্জ।

দলবদল শুরু হওয়ার আগেই ঘরে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন নিকোলাস ওতামেন্দি। অনেকদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল, তবে এবার সেই পালে হাওয়া দিলেন আর্জেন্টাইন এই রক্ষণপ্রহরী। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসে প্রথমবার নিজ দেশের ক্লাব ফুটবলে ফিরতে পারেন তিনি। ক্লাব রিভার প্লেটের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন ওতামেন্দি।
টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুলাইয়েই দেখা যেতে পারে এই বড় চমক। রিভার প্লেট কেবল ওতামেন্দিতেই থমকে নেই, তার প্রমাণ মিলেছে আনহেল কোরেয়া আর মাউরো আরামবারির সঙ্গে তাদের আলোচনার খবরে। তবে ওতামেন্দির মতো একজন বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারকে ঘরে ফেরানো হবে রিভারের জন্য বড় সাফল্যও।
৩৮ ছুঁইছুঁই ওতামেন্দি ভালো করেই জানেন, এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ। বিশ্বমঞ্চের লড়াই শেষে যখন বুট তুলে রাখার সময় ঘনিয়ে আসবে, তখনই তিনি ক্যারিয়ারের পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে চূড়ান্ত সিলমোহর দেবেন। রিভারের কোচ এদুয়ার্দো কুদেত অনেক আগে থেকেই এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারকে নিজের ডেরায় ভেড়াতে মুখিয়ে আছেন।
তবে রিভার প্লেটের পথে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে স্প্যানিশ ক্লাব ভ্যালেন্সিয়া। ওতামেন্দির পুরনো ঠিকানা হওয়ায় তাদের প্রতিও একটা আলাদা টান থাকতে পারে এই ফুটবলারের। বিশাল অর্থের হাতছানি নিয়ে প্রস্তুত সৌদি আরবের ক্লাবগুলোও।
বেনফিকার হয়ে গত মৌসুমটা দারুণ কেটেছে ওতামেন্দির। হোসে মরিনিয়োর কোচিংয়ে ৪৬ ম্যাচে মাঠে নেমে সরাসরি ৭টি গোলে অবদান রেখেছেন, ঝুলিতে পুরেছেন পর্তুগিজ সুপার কাপ। বেনফিকার সঙ্গে তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই জুনেই। রিভার প্লেট তাঁকে ফ্রি-ট্রান্সফারে বা বিনা মূল্যে দলে পাওয়ার সুযোগ পেলেও, তার আকাশচুম্বী বেতনের চাহিদা মেটানোই হবে ক্লাব কর্তৃপক্ষের আসল পরীক্ষা।
এখন প্রশ্ন একটাই—টাকার মোহ আর ইউরোপের আভিজাত্য ছেড়ে ওতামেন্দি কি তবে শৈশবের সেই চেনা আঙ্গিনাতেই ফিরছেন? উত্তরটা পেতে বিশ্বকাপ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হচ্ছে ভক্তদের।

নৌ এস্তাদি মিউনিসিপ্যালের প্রবেশপথে একটি অস্থায়ী দোকানে ঝুলছে একটি সবুজ জার্সি, যার পেছনে কেবল একটি শব্দ লেখা—‘মেসি’। আর এই দৃশ্যটিই নিশ্চিত করছে সম্প্রতি তোলপাড় সৃষ্টি করা খবরটিকে। বার্সেলোনার শিল্পাঞ্চলের অন্যতম শহর কর্নেয়া, যেখানে প্রায় এক লক্ষ মানুষের বসবাস এবং যাদের দীর্ঘদিনের শ্রমিক ও সমাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য রয়েছে (গণতন্ত্র ফেরার পর থেকে শহরের সব মেয়রই এই ঘরানার)।
গত ১৬ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়, বার্সেলোনার ইতিহাসের সেরা এবং তর্কাতিতভাবে ফুটবল ইতিহাসেরই সর্বকালের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় মেসি—ইউই কর্নেয়া ক্লাবটি কিনে নিয়েছেন। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটি বর্তমানে স্পেনের ‘তেরসেরা আরএফইএফ’-এ খেলছে এবং তাদের যুব একাডেমিটি স্পেনের অন্যতম সেরা হিসেবে স্বীকৃত।
কাতালান ফুটবলে এই ঘটনাকে সমর্থকরা গ্যালারিতে বসে বলছেন, ‘বছরের সেরা বোমা’। খবরটি প্রায় সবাইকে চমকে দিলেও কেউ কেউ হয়তো কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন। কর্নেয়ার মেয়র আন্তোনিও বালমন ভিডিও কলের মাধ্যমে মেসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। যদিও কর্নেয়ার মূলধন ব্যক্তিগত মালিকানাধীন, কিন্তু ক্লাবের মাঠ ও অবকাঠামো সরকারি (মিউনিসিপ্যাল)। ফলে নগর কাউন্সিল ও স্পেনের উচ্চতর ক্রীড়া কাউন্সিলকে এই প্রক্রিয়ায় অবগত রাখতে হয়েছে।
আরও পড়ুন
| আরও বিধ্বংসী রূপে ফেরার বার্তা চোটাক্রান্ত ইয়ামালের |
|
কর্নেয়ার শহরটি কাতালোনিয়ার স্পোর্টিং ইঞ্জিন বা ক্রীড়াক্ষেত্রের প্রাণকেন্দ্র। গত ১৭ বছর ধরে এস্পানিওল ক্লাবের হোম গ্রাউন্ড ‘আরসিডিই স্টেডিয়াম’ ঠিক কর্নেয়ার পাশেই অবস্থিত। ফুটবলের মেসির নতুন এই ডেরাই এখন তাঁর একসময়ের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও প্রতিবেশী ক্লাব এস্পানিওলের ঠিক উল্টো দিকে! এছাড়া মাঠ দুটি থেকে মাত্র কয়েকশ ফুট দূরেই রয়েছে এক বিশাল আন্তর্জাতিক টেনিস সেন্টার, যেখানে বিশ্বসেরা সব উদীয়মান খেলোয়াড় তৈরি করা হচ্ছে।
২০২২-২৩ মৌসুমে কর্নেয়ার স্টেডিয়ামের মান সন্তোষজনক না হওয়ায় ক্লাবটিকে ভাড়াটিয়া হিসেবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এস্পানিওলের আরসিডিই স্টেডিয়ামে খেলতে হয়েছিল। কিন্তু সেটি মাত্র এক বছর স্থায়ী হয়। এরপর ক্লাবটিকে আবারও যাযাবর হতে হয়; তারা প্রথমে গাভা এবং পরে পালামোসে গিয়ে খেলা শুরু করে। সমর্থকদের তাদের প্রিয় দলের খেলা দেখতে প্রায় ১৫৫ মাইল পথ পাড়ি দিতে হতো। কর্নেয়ার ফুটবলার ভিসেন্তে আশাবাদী হয়ে বলেন, ‘আমার মনে হয় না সামনে এমন আর ঘটবে।’
ভিসেন্তে আশাবাদী হতেই পারেন। তাঁর ক্লাবটি মেসি কিনে নেওয়ার পর যে হু হু করে বাড়ছে কর্নেয়ার ব্র্যান্ড ভেল্যু। ক্লাবের ইনস্টাগ্রাম অনুসারী এখন পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। ইন্টার মায়ামির সামাজিক মাধ্যমের পরিসংখ্যানই বলে দেয় মেসির প্রভাব ঠিক কতটা বিশাল। আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী কিংবদন্তি ক্লাবটিতে দেওয়ার আগে তাদের ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার ছিল ৯ লাখ ৫৩ হাজার, টুইটারে ২ লাখ ৭ হাজার এবং টিকটকে ১০ লাখ। আর মেসি আসার পর এই সংখ্যাগুলো এক লাফে যথাক্রমে ১ কোটি ৮২ লাখ, ১৩ লাখ এবং ১ কোটি ৩০ লাখে গিয়ে ঠেকেছে।
ক্লাব মালিক হিসেবে মেসির অভিজ্ঞতা এটিই প্রথম নয়। ২০১৫ সালে তিনি আর্জেন্টিনায় ‘লিওনেস এফসি’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার দেখভাল করেন তাঁর ভাই মাতিয়াস। এছাড়া ২০২৫ সালে তিনি লুইস সুয়ারেজের সাথে উরুগুয়ের লিগের দল ‘দেপোর্তিভো এলএসএম’-এর সঙ্গেও যুক্ত হন।
ইগনাসি সেনাব্রের অধীনে কর্নেয়া বর্তমানে ‘তেরসেরা আরএফইএফ’-এর গ্রুপ ৫-এ খেলছে। তাদের লক্ষ্য ‘সেগুন্দা আরএফইএফ’-এ প্রমোশন পাওয়া, যেখানে বার্সেলোনা আতলেতিকো খেলে থাকে। বর্তমানে তারা প্লে-অফ পজিশনে আছে এবং এই স্কোয়াডে দুটি পরিচিত নাম বেশ নজর কাড়ছে। একজন হলেন গোলরক্ষক রুবেন মিনো, যিনি একসময় মেসির সঙ্গে বার্সার ড্রেসিংরুম শেয়ার করেছিলেন। অন্যজন হলেন সেন্টার ব্যাক ইভান দে লা পেনা—যিনি আশির দশকের স্প্যানিশ ফুটবলের মহাতারকা দে লা পেনার ছেলে। দে লা পেনাই বর্তমানে গাভি এবং এরিক গার্সিয়ার মতো তারকাদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন।
আরও পড়ুন
| ইরানের জায়গায় বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তাবকে ‘লজ্জাজনক’ বলে প্রত্যাখান ইতালির |
|
বার্সেলোনায় বসবাসরত বুলগেরিয়ান নাগরিক দিমিতার বেলচেভ, যিনি লস অ্যাঞ্জেলেস এবং নিউ ইয়র্কে বড় হয়েছেন, তাঁর গায়ে ছিল মেসির অটোগ্রাফ করা একটি জার্সি। তিনি বলেন, ‘মেসি এখানে খেলোয়াড় হিসেবে না এলেও মালিক হিসেবে আসছেন। তিনি সর্বকালের সেরা এবং তাঁর ব্র্যান্ডটি বৈশ্বিক। কর্নেয়া এখনই সারা বিশ্বে পরিচিতি পেয়ে গেছে। আমি নিশ্চিত তিনি যুব ফুটবলে বিনিয়োগ করবেন এবং একটি দুর্দান্ত দল গড়ে তুলবেন।’
অবশ্য মেসির এই নতুন প্রজেক্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা খুব ধীরস্থিরভাবে এগোতে চাচ্ছেন। তাঁরা খুব একটা প্রচার-প্রচারণা চাচ্ছেন না, এমনকি খেলোয়াড়দেরও খুব একটা মিডিয়ার সামনে আনা হচ্ছে না (এখনও কোনো সাক্ষাৎকার দেওয়া হয়নি)। যেহেতু পুরো ক্রয় প্রক্রিয়াটি মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে, তাই তাঁরা এখন ক্লাবের বর্তমান পরিস্থিতি, সুযোগ-সুবিধা এবং উন্নতির সম্ভাবনাগুলো গভীরভাবে বুঝতে চাইছেন। আপাতত মেসি কেবল কর্নেয়া নামটি বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরেছেন।

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল কি নিজের শেষ রাঙিয়ে দেওয়ার মঞ্চ হিসেবে বেছে নিতে পারবেন নেইমার? ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টারের ভাগ্য নির্ধারণে এখন আর এক মাসও বাকি নেই। কোচ কার্লো আনচেলত্তির ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত তালিকায় নিজের নাম লেখাতে মাঠ এবং মাঠের বাইরে সমানতালে লড়ে যাচ্ছেন নেইমার। গ্লোবোর প্রতিবেদন, একদিকে চলছে নিজের শরীরকে শতভাগ ফিট করার লড়াই, অন্যদিকে চলছে ফুটবল ফেডারেশনের নীতিনির্ধারকদের ‘তদবির’।
সান্তোসের হয়ে টানা চার ম্যাচে ৯০ মিনিট খেলেছেন নেইমার। প্রায় এক বছর পর এমন টানা খেলার অভিজ্ঞতা হলো তাঁর। তবে শরীরকে অতিরিক্ত চাপের হাত থেকে বাঁচাতে আগামী শনিবার বাহিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ এবং নেইমারের নিজস্ব চিকিৎসক দল মিলে একটি বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছে, যাতে চোটের ঝুঁকি এড়িয়ে ১৮ মে দল ঘোষণার আগে তিনি নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে পারেন।
ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ হিসেবে কার্লো আনচেলত্তির এটাই প্রথম বড় পরীক্ষা। ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নেইমার দলে জায়গা পাবেন কি না তা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে তাঁর শারীরিক সক্ষমতা এবং টেকনিক্যাল স্কিলের ওপর। তবে সিবিএফ (ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন) প্রধান সামির জাউদের পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন নেইমার। জাউদ নিজে নেইমারের বড় ভক্ত এবং তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপে এই অভিজ্ঞ তারকার উপস্থিতি দলের জন্য ইতিবাচক হবে।
আরও পড়ুন
| আরও বিধ্বংসী রূপে ফেরার বার্তা চোটাক্রান্ত ইয়ামালের |
|
অবশ্য জাউদ এও মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনচেলত্তিরই। এখানে কারিগরি যোগ্যতাই হবে একমাত্র মাপকাঠি।‘
ব্রাজিল ড্রেসিংরুমে নেইমার এখনো এক মহীরুহ। ক্যাসেমিরোর মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় থেকে শুরু করে হোয়াও পেদ্রোর মতো তরুণ তুর্কি—সবাই নেইমারকে দলে চান। চোটের কারণে রদ্রিগো ও এস্তেভাওর বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে সংশয় থাকায় নেইমারের প্রয়োজনীয়তা এখন আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। অলিম্পিক লিওঁর এনড্রিক কিংবা ব্রেন্টফোর্ডের ইগর থিয়াগোদের মতো তরুণেরা লাইমলাইটে থাকলেও নেইমারের অভিজ্ঞতাকে ছোট করে দেখছেন না কেউই।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র বলেছে, ‘নেইমার কেবল একজন খেলোয়াড় নন, তিনি এই দলের অনুপ্রেরণা। তাঁর উপস্থিতি ড্রেসিংরুমের আবহাওয়া বদলে দেয়।’
আপাতত সান্তোসের ‘রেই পেলে’ ট্রেনিং সেন্টারে ঘাম ঝরাচ্ছেন নেইমার। কখনো ক্লাবের মাঠে, কখনো নিজের বাড়ির ব্যক্তিগত জিমনেসিয়ামে চলছে হেক্সা জয়ের স্বপ্ন পূরণের প্রস্তুতি। হাতে সময় মাত্র কয়েক সপ্তাহ। রিও ডি জেনিরোর ফুটবল সদরদপ্তর থেকে যখন আনচেলত্তি স্কোয়াড ঘোষণা করবেন, সেখানে নেইমারের নাম থাকবে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে পুরো ফুটবল বিশ্ব।
ষষ্ঠ শিরোপার খোঁজে থাকা ব্রাজিলের জন্য নেইমার কি হতে পারবেন ট্রাম্প কার্ড, নাকি সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাবে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র? উত্তরটা তোলা রইল মে মাসের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য।