১৭ এপ্রিল ২০২৫, ৬:২০ পিএম

ভক্তরা মুখিয়ে থাকেন তাদের পছন্দের ফুটবলারের খেলায় মত্ত হয়ে থাকতে, তাঁর গোল করা দেখতে। কিন্তু নেইমার ভক্তদের জন্য এ যেন এক বিলাসীতা। যখন তাদের আকুল হয়ে চেয়ে থাকতে হয়--ব্যস, খেলুক বা না খেলুক, চোটে না পরুক নেইমার।
কিন্তু বলে না, যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধ্যে হয়। নেইমারের ক্ষেত্রেও তাই। মাঠে নামলেই কেন যেন চোটের কবলেই পড়তে হয় তাঁকে। বুধবার রাতে এক মাইলফলকের ম্যাচেও সেই দুঃখই সঙ্গী হলো তাঁর। সান্তোসের মাঠ ভিলা বেলমিরোতে তার শততম ম্যাচ। তাই মাঠে নেমেছিলেন ‘১০০’ নম্বর জার্সি গায়ে। অনেকটা দিন পর জায়গা করে নিয়েছিলেন শুরুর একাদশে। তাঁকে দেখতে মাঠে ছিল দর্শকের ভীড়, গ্যালারিতে ছিল উন্মাদনা। ম্যাচে দলের শুরুটাও ছিল দুর্দান্ত। কিন্তু স্বপ্নময় সেই আবহ বদলে গেল দুঃস্বপ্নে। প্রথমার্ধেই নেইমারকে মাঠ ছাড়তে হলো অশ্রুসিক্ত চোখে।
আরও পড়ুন
| সাহসী ফুটবলে রিয়ালকে হারিয়ে সেমিতে আর্সেনাল |
|
চোট দুর্ভাগ্য নেইমারের নিত্যসঙ্গী হয়ে আছে সান্তোসেও। অনেক দিন বাইরে থাকার পর গত রোববার ফ্লুমিনেসির বিপক্ষে ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে ফেরেন তিনি। বুধবার আতলেতিকো মিনেইরোর বিপক্ষে তাঁকে শুরুর একাদশে রাখেন কোচ সেজার সাম্পাইয়ো।
নেইমারের ফিট থাকা নিয়ে সংশয় অবশ্য ছিল শুরু থেকেই। দুই উরুতেই মোটা করে টেপ পেচিয়ে নামতে দেখা যায় তাঁকে। মাঠেও খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন না তিনি।
তাঁর দল অবশ্য ২৪ ও ২৭তম মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় ২-০ ব্যবধানে। তবে ভুগতে থাকা নেইমার ৩৪ তম মিনিটের পর আর পারলেন না। বাঁ উরুতে হাত রেখে একটু খোঁড়াতে দেখা যায় তাকে। ডাগআউটের দিকে ইশারা করেন বদলির জন্য। উরু চেপে বসে পড়েন মাঠে। এতক্ষণ ধরে উল্লাস করতে থাকা গ্যালারিও তখন প্রায় নিশ্চুপ।
সান্তোসে নিজের ১০০ তম ম্যাচের দিনেও এমন করুণ, অসহায় পরিণতিতে কান্না ছাড়া আর কিছুই সঙ্গী হলো না নেইমারের। সেই কান্না তিনি চেপেও রাখতে পারেননি। তাঁর চোখ জোড়া অশ্রুসিক্ত হয়েছে মাঠেই। সতীর্থ ও প্রতিপক্ষ দুদিক থেকেই সকলে তখন নেইমরাকে স্বান্তনা দিচ্ছেন। শেষমেশ দুজনের সহায়তায় কার্টে বসে মাঠ ছাড়েন নেইমার। আর সে সময় গ্যালারি থেকে আসতে থাকে জোর করতালির আওয়াজ।
চোটে পড়ে আগেও নানা সময়ে চোখের পানিতে মাঠ ছেড়েছেন নেইমার। সৌদি আরবের আল-হিলাল থেকে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে গিয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রথমবার মাঠে নামেন তিনি। টানা সাতটি ম্যাচে খেলেন এই তারকা, আস্তে আস্তে তাঁর মাঠে থাকার সময় বাড়তে থাকে। তবে গত ২ মার্চ করিঞ্চাসের বিপক্ষে ম্যাচে আবার চোটে পড়ে বাইরে থাকেন ছয় সপ্তাহ।
আরও পড়ুন
| ইন্তার বাধায় শেষ আটেই থামল বায়ার্নের পথচলা |
|
মাঝে ব্রাজিল জাতীয় দলে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত ওই চোটের কারণে মার্চের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দুটি ম্যাচে তিনি খেলতে পারেননি। যে উরুর চোটের কারণে তিনি বাইরে ছিলেন, সেখানেই আবার সমস্যা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। চোটের ধরন কী বা কতটা গুরুতর, তা অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো জানানো হয়নি।
No posts available.
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৩২ পিএম

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পাড় ভক্ত ফ্রাঙ্ক ইলেটের ২৮ মাসের দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষ দিকে। ২০২৪ সালে সামাজিক মাধ্যমে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—যদি তাঁর প্রিয় ক্লাব টানা পাঁচটি ম্যাচে জয় না পায়, তিনি চুল কাটবেন না।
চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া ওল্ড ট্রাফোর্ডের ক্লাবের জন্য এটি দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ। একাধিকবার ধারাবাহিক জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি ইউনাইটেড। তবে নতুন ম্যানেজার মাইকেল ক্যারিক দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলেছে। প্রিমিয়ার লিগে টানা চারটি জয় অর্জনের পর ওয়েস্ট হ্যাম ম্যাচ ফ্রাঙ্কের জন্য একটি নতুন প্রত্যাশার মুহূর্ত এনে দিয়েছে।
গত বছরের নভেম্বরে টানা তিন ম্যাচ জয় সম্ভাবনা জাগিয়েছিল ম্যান ইউনাইটেডকে। তবে নটিংহ্যাম ফরেস্টের সঙ্গে ড্রয়ে থামে সে ধারাবাহিকতা। ফলে ইলেটকে ২০২৪ সালের পর প্রথমবার চুল কাটার সুযোগ মিস করতে হয়েছিল।
ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ইলেটের চুল না কাটার বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেন ম্যান ইউনাইটেড ম্যানেজার। তিনি বলেন,
“হ্যাঁ, বিষয়টা আমি জানি। শিষ্যরা আমাকে এটা জানিয়েছে। তবে পেশাদার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি কখনোই দলের টিম টকে আসবে না। মানুষ যা ভাবছে, আমি সেটা বুঝতে পারছি। সত্যি বলতে, এতে আমার একটু হাসি আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এর কোনো প্রভাব পড়বে না।”
শনিবার টটেনহ্যামকে ২-০ গোলে হারানোর পর ইলেট ইনস্টাগ্রামে লেখেন,
“ক্যারিক সব নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। এই চুল খুব শিগগিরই কাটা হবে। পরের ম্যাচ ওয়েস্টহাম। পাঁচের মধ্যে চারটি জয় শেষ – এটা প্রথমবার যা আমি চ্যালেঞ্জ শুরু করার পর ধারাবাহিক চারটি জয় দেখছি। এবার সত্যিই হবে! ক্যারিককে অসংখ্য ধন্যবাদ – ধন্যবাদ, ধন্যবাদ, ধন্যবাদ।”
ফ্রাঙ্ক ইলেটের এই ছোট কিন্তু মজার প্রতিশ্রুতি ফুটবল ভক্তদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ২৮ মাসের ধৈর্য এবং ইউনাইটেডের নতুন জয়ধারা মিলিয়ে এবার আসলেই হাসি–আনন্দের মুহূর্তটি হতে চলেছে।

প্রিমিয়ার লিগে রবিবার অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে নাটকীয় জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। এই জয়ে প্রায় পাঁচ বছর পর লিভারপুলের ঘরের মাঠ থেকে তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরল পেপ গার্দিওলার দল।
হাইভোল্টেজ ম্যাচটির নাটক চূড়ায় পৌঁছায় যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে। পেনাল্টি থেকে গোল করে সিটিকে এগিয়ে দেন আর্লিং হলান্ড। এরপর ফাউল ও পাল্টা ফাউলের এক ঘটনায় আবারও বল জড়ায় লিভারপুলের জালে। তবে ভিএআর পর্যালোচনায় সিটির সেই গোল বাতিল হয় এবং লিভারপুলের ডমিনিক সোবসলাই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট ছিলেন না ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন,
“এটা তো সাধারণ জ্ঞান, তাই না? ম্যাচে এমন টানাটানি কতবারই তো হয়, যেখানে রেফারি খেলা চালিয়ে যেতে দেন। গোলটা দিয়ে দিন, খেলা চালু রাখুন, আর সোবসলাইকে খেলতে দিন—ব্যস।”
এই জয়ের ফলে শিরোপা দৌড়ে শক্ত অবস্থান ধরে রাখল ম্যানচেস্টার সিটি। ২৫ ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ ৫০ পয়েন্ট, যা নিয়ে তারা টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান এখনো ছয়।
ম্যাচ বিশ্লেষণে গার্দিওলা বলেন,
“প্রথমার্ধটা ছিল অসাধারণ। কিন্তু অনেক সময়ই আমরা শেষ তৃতীয়াংশে যথেষ্ট সংযত থাকতে পারি না। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমাদের আরও একটু শান্ত থাকা দরকার।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“অনেক দিক থেকেই আমরা এখনো তরুণ দল। দ্বিতীয়ার্ধে জানতাম লিভারপুল আরও চাপ দেবে। প্রথমার্ধে আমরা লং পাস খেলেছি, লড়াই করেছি। ওমার (মারমুশ) আর আর্লিং সামনে ছিল, কারণ ইব্রাহিমা কোনাতে ও ভার্জিল ভ্যান ডাইকের বিপক্ষে বল জেতা ভীষণ কঠিন।”

১৯৩৬–৩৭ মৌসুমের পর এই প্রথমবার লিগে একই মৌসুমে লিভারপুলকে দুবার হারাল ম্যানচেস্টার সিটি। গতকাল অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের বিপক্ষে ২–১ গোলে জয়ের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোল করেন আর্লিং হলান্ড। তার আগে ৮৪তম মিনিটে বার্নার্দো সিলভার গোলের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখেন তিনি।
তারপরও স্বস্তিতে নেই হলান্ড। সবশেষ আটটি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে তাঁর গোল এসেছে দুটি—দুটিই পেনাল্টি থেকে। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এই তারকা স্ট্রাইকার। ওপেন প্লে গোল না পাওয়ায় তিনি স্বীকার করেছেন, নিজের আরও উন্নতি করা প্রয়োজন এবং পারফরম্যান্স নিয়ে কোনো অজুহাত নেই।
হলান্ড ওপেন প্লেতে সবশেষ গোল করেছিলেন গত ২০ ডিসেম্বর, ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে ২–০ জয়ের ম্যাচে। তারপর লিগে আর ওপেন প্লে থেকে গোল পাননি নরওয়ের এই ফরোয়ার্ড। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ২১ গোল করে প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে আছেন ২৫ বছর বয়সী হলান্ড।
নিজের খেলার ঘাটতি নিয়ে ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের হলান্ড বলেন,
‘এই বছরের শুরু থেকে যথেষ্ট গোল করতে পারিনি, এটা বলা যেতেই পারে। আমি জানি, আমাকে আরও ভালো হতে হবে। আমাকে আরও ধারালো হতে হবে, সব দিকেই উন্নতি করতে হবে। এটা এমন কিছু, যেটার ওপর আমাকে কাজ করতে হবে। আমাকে এগিয়ে যেতে হবে, কারণ সবাই এটাই প্রত্যাশা করে।’
নিজের ফর্ম খারাপ হওয়ার পেছনে কোনো কারণ বা অজুহাত দাঁড় করাতে চান না হলান্ড,
‘কেন আমি ভালো খেলতে পারিনি, সেটা নিয়ে কথা বলতে চাই না। মনে করি না, কোনো অজুহাত আছে। ক্লান্তি অনেকটাই মানসিক ব্যাপার।’
তবে সূচির চাপের কথাও স্বীকার করেন সিটি স্ট্রাইকার,
‘অনেক ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। সূচির দিকে তাকালেই বোঝা যায়, এটা সহজ নয়। আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফিট থাকা এবং চোটমুক্ত থাকা। তারপর দলের জন্য প্রস্তুত থাকার চেষ্টা করা।’
অ্যানফিল্ডে এই জয়ের ফলে লিভারপুলের বিপক্ষে লিগে ‘ডাবল’ নিশ্চিত করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ১৯৩৬–৩৭ মৌসুমের পর এই প্রথমবার লিগে একই মৌসুমে লিভারপুলকে দুবার হারাল তারা। এই জয়ে শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে সিটির পয়েন্ট ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে ছয় পয়েন্টে।
আগামী ১৮ এপ্রিল ইতিহাদ স্টেডিয়ামে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে পেপ গার্দিওলার দল। সেই ম্যাচটি শিরোপা লড়াইয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। হলান্ড মনে করেন, এখনও শিরোপার আশা শেষ হয়ে যায়নি তাঁর ক্লাবের। বললেন,
‘আগেও আমরা দেখেছি, শিরোপা লড়াই শেষ হয় শেষ পর্যন্ত। তাই এখন আমার কাজ হলো দ্রুত সেরে ওঠা, ভালো খাবার খাওয়া এবং ফুলহামের বিপক্ষে ম্যাচে মনোযোগ দেওয়া। সামনে এখনও অনেক ম্যাচ বাকি।’
বুধবার ঘরের মাঠে ফুলহামকে হারাতে পারলে আর্সেনালের সঙ্গে ব্যবধান আরও কমিয়ে তিন পয়েন্টে নামিয়ে আনতে পারবে সিটিজেনরা।

প্রিমিয়ার লিগে টানা হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের হেড কোচ এডি হাউ বলেছেন, যদি তিনি মনে করেন যে, দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি সঠিক ব্যক্তি নন, তবে তিনি পদ থেকে সরে যাবেন।
গত শনিবার সেন্ট জেমস পার্কে ব্রেন্টফোর্ডের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হারের পর সমর্থকদের ধিক্কার শুনতে হয় নিউক্যাসলকে। ওই ম্যাচের পর ক্লাব প্রিমিয়ার লিগের টেবিলের ১২তম স্থানে নেমে আসে। এ প্রসঙ্গে হাউ বলেছেন, “আমি এই মুহূর্তে আমার কাজ যথাযথভাবে করতে পারছি না।”
মঙ্গলবার টটেনহ্যাম হটস্পারের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তিনি আরও বলেন,
“যদি আমাকে নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকত, আমি এখানে থাকতাম না—কারণ ক্লাব সবকিছুর উপরে। আমি কখনো নিজেকে ক্লাবের আগে রাখিনি। যদি আমি মনে করতাম আমি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার সঠিক ব্যক্তি নই, এবং খেলোয়াড়দের যা প্রয়োজন তা দিতে পারতাম না, তাহলে আমি সরব হয়ে অন্য কাউকে সুযোগ দিতাম।”
নিউক্যাসল সাম্প্রতিক আটটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটি জয় পেয়েছে। তবু ক্লাবের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ হাউকে সমর্থন দিয়ে আসছেন। তিনি ২০২১ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ক্লাবকে উন্নতির পথে ধাবিত করেছেন। গত বছর কারাবাও কাপের ফাইনালে লিভারপুলকে হারানো এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুইবার ক্লাবকে পৌঁছে দেওয়ার মতো সাফল্য তাঁর অবদানকে তুলে ধরে।
হাউ আশাবাদী যে তাঁর দল শিগগিরই ঘুরে দাঁড়াবে। তিনি যোগ করেন,
“আমরা যা চাই, তা হলো দলগত মানসিকতা। সমস্ত খেলোয়াড়ের মধ্যে সম্মিলিত লড়াই প্রয়োজন। যদি দলের মধ্যে সেই দৃঢ় সংকল্প থাকে, তাহলে আবার অসাধারণ কিছু অর্জন সম্ভব। পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলাতে পারে।”

স্পেনের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদ গঠনগন্ত্র অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করেছে। এর মধ্যমে পুরো নির্বাচনী সূচি কার্যকর হয়েছে।
স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক স্পোর্টের প্রতিবেদনে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ১৫ মার্চ ভোটগ্রহণের মাধ্যমে শেষ হবে। ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একাধিক ধাপে এ নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
তফসিল অনুযায়ী—৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন আহ্বানের ঘোষণা প্রকাশ করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন বোর্ড ও নির্বাচন কমিটির সদস্য বাছাইয়ের জন্য লটারির মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৩ বা ১৪ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বোর্ড ও কমিটি গঠন করা হবে।
১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে সমর্থনপত্র (এনডোর্সমেন্ট ব্যালট) সংগ্রহের আবেদন জমা দেওয়া যাবে। ১৫ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ থাকবে। ২০ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি নিষ্পত্তি ও চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন দেওয়া হবে।
২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত প্রার্থিতা জমা দেওয়া যাবে। ৩ থেকে ৫ মার্চ সমর্থনপত্র গণনা শেষে কমপক্ষে অ্যাসেম্বলির ৫০ শতাংশ প্রতিনিধির সমর্থন পাওয়া প্রার্থীদের চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হবে। ৬ থেকে ১৩ মার্চ চলবে নির্বাচনী প্রচারণা। ১৪ মার্চ থাকবে ‘ডে অব রিফ্লেকশন’। ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।
ভোটকেন্দ্র ও ভোটিং পদ্ধতি
ভোটগ্রহণ সহজ করতে কাতালুনিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে মোট পাঁচটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করবে বার্সেলোনা। এগুলো হবে বার্সেলোনা, জিরোনা, লেইদা ও তারাগোনায়। পাশাপাশি আন্দোরার প্রিন্সিপালিটিতেও একটি ভোটকেন্দ্র থাকবে। ক্লাব সদস্যরা নিজ নিজ আবাসস্থল নির্বিশেষে যে কোনো ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে পারবেন।
এই নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। কোভিড মহামারির কারণে ২০২১ সালের নির্বাচনে কেবল ডাকযোগে ভোটের ব্যবস্থা ছিল। এ ছাড়া পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
পরিচালনা পর্ষদের পদত্যাগ
নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর সোমবার পরিচালনা পর্ষদের নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে যেসব পরিচালক নির্বাচনে অংশ নেবেন, তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
| সৌদি থেকে বিদায় হও—রোনালদোকে নিয়ে কড়া সমালোচনা |
|
এই নির্বাচন হবে বার্সেলোনার ইতিহাসে ১৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ১৯৫৩ সালে প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে শুধু পুরুষ সদস্যদের ভোটাধিকার ছিল। আর সার্বজনীন ভোটাধিকার চালুর পর এটি নবম নির্বাচন।
লাপোর্তা এগিয়ে?
বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট পদে ফেরার দৌড়ে এগিয়ে আছেন হুয়ান লাপোর্তা। নির্বাচনে অংশ নিতে সম্প্রতি তিনি নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেটি জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের দিন পর্যন্ত।
এদিকে মাঠের খেলায়ও ভালো সময় পার করছে বার্সেলোনা। চলতি মৌসুমে বড় সব শিরোপার লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে কাতালান ক্লাবটি। এমন প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে সমর্থকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
নির্বাচনী তফসিল
৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন আহ্বানের ঘোষণা প্রকাশ করা হয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন বোর্ড ও নির্বাচন কমিটির সদস্য বাছাইয়ের জন্য লটারির মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
১৩ অথবা ১৪ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বোর্ড ও কমিটি গঠন করা হবে।
১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে সমর্থনপত্র (এনডোর্সমেন্ট ব্যালট) সংগ্রহের আবেদন জমা দেওয়া যাবে।
১৫ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ থাকবে।
২০ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি নিষ্পত্তি ও চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন দেওয়া হবে।
২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত প্রার্থিতা জমা দেওয়া যাবে।
৩ থেকে ৫ মার্চ সমর্থনপত্র গণনা শেষে কমপক্ষে অ্যাসেম্বলির ৫০ শতাংশ প্রতিনিধির সমর্থন পাওয়া প্রার্থীদের চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হবে।
৬ থেকে ১৩ মার্চ চলবে নির্বাচনী প্রচারণা।
১৪ মার্চ থাকবে ‘ডে অব রিফ্লেকশন’।
১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।