১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২:৪৫ এম

ম্যানচেস্টার সিটিতে ছোট তবে সফল একটা সময় কাটিয়েছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে এরই মধ্যে জিতে ফেলেছেন বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা। হুলিয়ান আলভারেজকে দলে টেনে আতলেতিকো মাদ্রিদ তাই তাকে ঘিরে বুনছে বড় স্বপ্ন। স্প্যানিশ ক্লাবের হয়ে তরুণ এই স্ট্রাইকার প্রথম গোল করার পর কোচ দিয়েগো সিমেওনে বলেছেন, সামনের পথচলায় তাদের সাফল্যে অবদান রাখবেন আলভারেজ।
এই গ্রীস্মের দলবদলে সিটি থেকে ৭৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে আতলেতিকোয় নাম লেখান আলভারেজ। গত জুলাইয়ে আর্জেন্টিনার কোপা আমেরিকা জয়ে ভালো অবদান রেখে নতুন ক্লাবে আসায় তার কাছে শুরু থেকেই প্রত্যাশা একটু বেশিই ছিল। তবে প্রথম চার ম্যাচে রীতিমত হতাশ করেন তিনি। ব্যর্থ হন গোল করতে। অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেয়েছেন গত রবিবার লা লিগায়, ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে। ডাগআউটে সেই গোলের বিশেষ উদযাপন করতে দেখা গেছে সিমেওনেকে।
ম্যাচের পর সিমেওনে বলেছেন, এই গোলটি আলভারেজকে নিজের ওপর বিশ্বাস ফিরে পেতে সাহায্য করবে। “তার সতীর্থ এবং সমর্থকরা তার গোলটি যেভাবে উদযাপন করেছে, সেটা বিশেষ কিছু ছিল। স্ট্রাইকারদের জন্য গোলই সব। সে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে হাজির হয়েছে। সে সঠিক জায়গায় ছিল এবং সুযোগের সেরাটা কাজে লাগিয়েছে। তার গোল পাওয়াটা আমাদের দরকার ছিল, কারণ এখন সে স্থির থাকবে। এখন থেকে সে কেবল উন্নতি করতে থাকবে।”
ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে আলভারেজ দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে যখন নামেন, দল আতলেতিকো তখন ২-০ গোলে এগিয়ে। ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন ২৪ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার।
লা লিগায় ৫ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে আতলেতিকো। সমান পয়েন্টে গোল পার্থক্যে পিছিয়ে তিনে রিয়াল মাদ্রিদ। আর ১৫ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে বার্সেলোনা, যারা দিনের অন্য ম্যাচে জিরোনাকে হারিয়েছে ৪-১ গোলে।
No posts available.
২১ মে ২০২৬, ১২:১৪ এম

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বাকি মাত্র ২২ দিন। তার আগে আঙুল ভেঙেছে আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজের।
বুধবার ইউরোপা লীগ ফাইনালে এসসি ফ্রাইবুর্গের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল অ্যাস্টন ভিলা। ইস্তাম্বুলের বেসিকতাস পার্কে নামার আগেই বড় ধাক্কা খায় ভিলা। ম্যাচ শুরুর আগের অনুশীলনের সময় আঙুল ভেঙে যায় মার্তিনেজের।
চোট পাওয়ার পরপরই মার্তিনেজ মাঠের পাশে গিয়ে ভিলার মেডিকেল টিমের কাছ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। এরপর আঙুলে বিশেষ টেপ পেঁচিয়েই মূল ম্যাচের জন্য মাঠে নেমে পড়েন।
চোট পেলেও মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারেনি মার্তিনেজের। পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত কিছু সেভ করে জাল অক্ষত রাখেন এই বিশ্বকাপজয়ী গোলকিপার। ফাইনালে ফ্রাইবুর্গকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ৩০ বছর পর প্রথম কোনো বড় ট্রফি জয়ের স্বাদ পায় ভিলা।
ম্যাচ শেষে ইএসপিএন-কে মার্তিনেজ বলেন, ‘আজ (বুধবার) রাতে আমরা যা অর্জন করেছি তা এককথায় অসাধারণ। আমি সত্যিই গর্বিত এবং প্রতিটি ম্যাচের সাথে সাথে আমার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ছে। আজ ওয়ার্ম-আপের সময় আমার আঙুলটি ভেঙে যায়। এর আগে কখনো আমার আঙুল ভাঙেনি। যতবারই আমি বল ধরতে যাচ্ছিলাম, আঙুলটি উল্টো দিকে মচকে যাচ্ছিল। কিন্তু দিনশেষে, সাফল্যের জন্য এমন কিছু পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আপনাকে যেতেই হবে।‘
ম্যাচের প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই ইউরি তিলেমানস, এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া এবং মরগান রজার্সের চমৎকার তিনটি গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভিলা। আর পোস্টের নিচে মার্তিনেজ অতন্দ্র প্রহরী হয়ে থাকায় ফ্রাইবুর্গের ম্যাচে ফেরার আর কোনো সুযোগই ছিল না।
ক্লাবের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানিয়ে মার্তিনেজ বলেন, ‘সত্যি বলতে, এই ক্লাবের সমর্থক এবং এখানকার সবাই আমার পরিবারের মতো। যতবারই অ্যাস্টন ভিলার গোলপোস্ট সামলাতে মাঠে নামি, বুকভরা গর্ব নিয়ে নামি। আজ সবটুকু অভিজ্ঞতা ঢেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। পর্দার আড়ালে যে কঠোর পরিশ্রম আর অনুশীলন আমরা করি, আজ রাতে তারই ফল পেয়েছি।‘
ম্যাচ শেষে নিজের চোট নিয়ে হাসিমুখেই কথা বলেন মার্তিনেজ। ফলে জুনে শুরু হতে যাওয়া আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বললেই চলে।
ভিলার এই গোলকিপার জানান, ‘আমি ভীষণ আনন্দিত। এখন দলের সবার সাথে উদযাপনের সময়। কারণ, এই ক্লাবটি দীর্ঘদিন ধরে এমন উপলক্ষ পায়নি। এরপরই আমার পুরো মনোযোগ চলে যাবে বিশ্বকাপের দিকে।‘
১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ‘জে’ গ্রুপে আর্জেন্টিনা। ১৭ জুন শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। এরপর ২২ জুন অস্ট্রিয়া ও ২৮ জুন জর্ডানের বিপক্ষে খেলবে আলবিসেলেস্তেরা।

সৌদি প্রো লিগের ভাগ্য নির্ধারণ হতে যাচ্ছে আজ। লিগের শিরোপা নির্ধারণী শেষ দিনে দামাক এফসিকে আতিথ্য দেবে আল নাসর। এই ম্যাচের ওপরই নির্ভর করছে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর আল নাসরের দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়া না হওয়া। আজকে জিতলেই দীর্ঘ পাঁচ বছরের ট্রফি খরা ঘুচবে সিআরসেভেনের।
২০২৩ সালে ইউরোপ ছেড়ে সৌদিতে পাড়ি জমান রোনালদো। এরপর কেটে গেছে প্রায় সাড়ে তিন বছর। রিয়াদভিত্তিক ক্লাবটিতে বারবার শিরোপার খুব কাছে গিয়েও ট্রফি ছোঁয়া হয়নি পর্তুগিজ তারকার। সবশেষ যুভেন্তাসের হয়ে ২০২১ সালে ক্লাব পর্যায়ে অফিশিয়াল শিরোপা জিতেছিলেন রোনালদো।
গত সপ্তাহেই শিরোপা জয়ের খুব কাছে গিয়েছিল আল নাসর। আল হিলালের বিপক্ষে ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে ড্র করে লিগ শিরোপা নিশ্চিতের সুযোগ হাতছাড়া করে তারা। এরপর শনিবার জাপানি ক্লাব গাম্বা ওসাকার কাছে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ ২-এর ফাইনালে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় আল নাসরের।
৩৩ ম্যাচে ৮৩ পয়েন্ট নিয়ে সৌদি প্রো লিগের শীর্ষে আল নাসর। সমান ম্যাচে ৮১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আল হিলাল। লিগ শিরোপা জয়ের চাবিকাঠি তাই এখনও রয়েছে রোনালদোদের হাতেই। আজ দামাকের বিপক্ষে একটি জয়ই আল নাসরকে ক্লাবের ইতিহাসে ১১ বারের মতো চ্যাম্পিয়নের মুকুট এনে দেবে।
চলতি মৌসুমে আল নাসরে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৮ গোল করেছেন রোনালদো। তবে তাঁর সবশেষ দুই ম্যাচের পারফরম্যান্স ভাবাচ্ছে আল নাসরকে। দুই ম্যাচের একটিতেও জালের দেখা পাননি পর্তুগিজ তারকা।
পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার টিকিট নিশ্চিত করা রোনালদোর চোখ এখন কেবলই দামাক ম্যাচের দিকে। তবে আল নাসরের জন্য কাজটা সহজ হবে না।
দামাক নিজেরাও রেলিগেশন এড়ানোর মরণপণ লড়াইয়ে নামবে। বর্তমানে রেলিগেশন জোন থেকে মাত্র ২ পয়েন্ট ওপরে থাকা দামাকের জন্য লিগে টিকে থাকতে আজ অন্তত ১টি পয়েন্ট প্রয়োজন।
পরিসংখ্যান অবশ্য আল নাসরের পক্ষেই কথা বলছে। নিজেদের মাঠে লিগে টানা ৯ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে তারা। এছাড়া দামাকের বিপক্ষে শেষ ৯ দেখাতেই জিতেছে আল নাসর।
সবশেষ ২০১৮-১৯ মৌসুমে লিগ শিরোপা জিতেছিল আল নাসর। আল হিলালের সঙ্গে হেড-টু-হেড রেকর্ডে পিছিয়ে থাকায় আল নাসর ভালো করেই জানে—আজ ড্র বা হারলে শিরোপা চলে যেতে পারে আল হিলালের ঘরে। তাই ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে আজ জয়ের কোনো বিকল্প নেই রোনালদোর দলের সামনে।
কয়েক সপ্তাহ আগে রোনালদো প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি এই ক্লাবটিকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যেতে এখানে এসেছি।‘ এখন দেখার বিষয়, আজই কি সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, নাকি দীর্ঘ প্রতীক্ষা আরও দীর্ঘ হবে।
আল নাসর ও দামাক এফসির ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১২ টায়। একই সময়ে লড়বে করিম বেনজেমার আল হিলাল ও আল ফায়হা এফসি।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ২৭ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে মিশর। ২৮ মে রাশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের পর স্কোয়াড ২৬ জনে নামিয়ে আনা হবে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্ত স্কোয়াড হতে হবে ২৬ জনের। দল চূড়ান্ত করার আগে বিশ্বকাপের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি হিসেবে রাশিয়ার বিপক্ষের ম্যাচটিকেই বেছে নিয়েছে মিশর। এই ম্যাচের পরেই চূড়ান্ত দল নির্ধারণ করবেন কোচ হোসাম হাসান।
এবারের স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক বার্সেলোনার অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলা তরুণ তুর্কি হামজা আবদেলকারিম। এখনও জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয়নি এই ১৮ বছর বয়সী তরুণের। মিশরের অনূর্ধ্ব-১৭ দলে ১৭ ম্যাচে ১২ গোল করেছেন এই ফরোয়ার্ড।
আরও পড়ুন
| ৩০ বছরের অপেক্ষা ঘুচল ভিলার |
|
হামজা জায়গা পেলেও মোস্তফা মোহামেদকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নঁতের হয়ে খেলা এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মিশরের হয়ে ৬১ ম্যাচে করেছেন ১৪ গোল।
মিশরের নেতৃত্বে থাকবেন মোহাম্মদ সালাহ। এর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপে খেললেও এবারই প্রথমবার দেশটির অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এই তারকা। এটিই সম্ভবত সালাহর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপও হতে যাচ্ছে। আক্রমণভাগে সালাহর সঙ্গী হিসেবে থাকবেন ম্যানচেস্টার সিটির তারকা ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশ।
বিশ্বকাপের মঞ্চে মিশরের অতীত রেকর্ড খুব একটা সুখকর নয়। এর আগে তিনবার বিশ্বকাপে অংশ নিলেও এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচও জিততে পারেনি ফারাওরা। সবশেষ ২০১৮ বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই হেরেছিল মিশর।
বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে আজ থেকে ন্যাশনাল টিমস সেন্টারে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শুরু করবে মিশর। ২৮ মে কায়রোর নিউ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ক্যাপিটাল স্টেডিয়ামে রাশিয়ার মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা। এরপর ৩০ মে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা দেবে তারা। সেখানে ৬ জুন ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের শেষ প্রীতি ম্যাচটি খেলবে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো বিশ্বকাপে 'জি' গ্রুপে খেলবে মিশর। আগামী ১৫ জুন সিয়াটলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তারা বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। এরপর ২২ জুন ভ্যাঙ্কুভারে নিউ জিল্যান্ড এবং ২৭ জুন আবার সিয়াটলে ইরানের মুখোমুখি হবে মিশর।
মিশরের ২৭ সদস্যের প্রাথমিক দল
গোলকিপার: মোহামেদ এল শেনাওয়ি, মোস্তফা শোবেইব, এল মাহদি সোলেমান, মোহামেদ আলা।
রক্ষণভাগ: মোহামেদ হ্যানি, তারেক আলা, হামদি ফাথি, রামি রাবিয়া, ইয়াসের ইব্রাহিম, হোসাম আবদেলমাগুইদ, মোহামেদ আবদেলমোনেম, আহমেদ ফাতুহ, কারিম হাফেজ।
মধ্যমাঠ: মারওয়ান আত্তিয়া, মোহানাদ লাশিন, নাবিল ইমাদ দোনগা, মাহমুদ সাবের, আহমেদ সায়েদ জিজো, ইমাম আশুর, মোস্তফা আবদেল রউফ জিকো, মাহমুদ ত্রেজেগে, ইব্রাহিম আদেল, হাইসেম হাসান।
আক্রমণভাগ: ওমর মারমুশ, মোহাম্মদ সালাহ (অধিনায়ক), আকতাই আবদুল্লাহ, হামজা আবদেলকারিম।

একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে এসসি ফ্রাইবুর্গকে ধুলোয় মিশিয়ে দিল অ্যাস্টন ভিলা। সেই সঙ্গে অবসান ঘটল তাদের দীর্ঘ ৩০ বছরের শিরোপা খরার। ইস্তাম্বুলের বেসিকতাস পার্কে ইউরোপা লিগের ফাইনালে জার্মানির দলটিকে পাত্তাই দেয়নি উনাই এমেরির শিষ্যরা।
বুধবার রাতে ফ্রাইবুর্গের বিপক্ষে ভিলার জয় ৩-০ গোলের। ১৯৮২ সালে ইউরোপিয়ান কাপ জয়ের দীর্ঘ ৪৪ বছর পর আবারও ইউরোপের মঞ্চে কোনো বড় ট্রফি ঘরে তুলল তারা।
ভিলার এই ঐতিহাসিক ক্ষণে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন প্রিন্স অব ওয়েলস উইলিয়াম। ১৯৯৬ সালের লিগ কাপ জয়ের পর এটিই ভিলার প্রথম বড় কোনো শিরোপা।
আরও পড়ুন
| ভিন্ন দেশে জন্মেও বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন ২২ ফুটবলার |
|
ভিলার জন্য এই রাতটি ছিল স্মৃতির পাতা থেকে ইতিহাস ফিরিয়ে আনার। ১৯৮২ সালে ইউরোপিয়ান কাপজয়ী ভিলা দলের ৯ জন কিংবদন্তি সদস্য গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে নতুন প্রজন্মের এই ট্রফি জয় প্রত্যক্ষ করেন। তাদের সামনেই নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের রেকর্ড পঞ্চম ইউরোপা লিগ ট্রফি উঁচিয়ে ধরলেন উনাই এমেরি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব স্পষ্ট করে দিয়েছিল ভিলা। মাত্র দুই মিনিটের মাথায় রজার্সের জোরালো শট ফ্রাইবুর্গ গোলকিপার রুখে না দিলে তখনই গোল পেয়ে যেত তারা।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক চার মিনিট আগে ডেডলক ভাঙে ভিলা। কর্নার থেকে রজার্সের বাড়ানো পাসে দারুণ এক ভলিতে বল জালে জড়ান ইউরি তিলেমানস।
এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই, প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ভিলা। বক্সের প্রান্ত থেকে নিখুঁত এক বাঁকানো শটে বল জড়িয়ে দেন এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া। ফ্রাইবুর্গের গোলকিপার নোয়াহ আতুবোলুর চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।
দুই গোলের লিড নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে মাঠে নামে ভিলা। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে বুয়েন্দিয়ার অ্যাসিস্ট থেকে আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে ভিলার তিন নম্বর গোলটি করেন রজার্স। বেসিকতাস পার্কের গ্যালারি তখন ভিলার উল্লাসে মাতোয়ারা।
ম্যাচের শেষদিকে আমাদু ওনানার শট পোস্টে না লাগলে ব্যবধান ৪-০ হতে পারতো। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয়ে ইস্তাম্বুলে উৎসবে মাতে ভিলা সমর্থকরা।
২০২২ সালের অক্টোবরে যখন স্টিভেন জেরার্ড বরখাস্ত হন, ভিলা তখন টেবিলের ১৬তম স্থানে ধুঁকছিল। সেখান থেকে দায়িত্ব নিয়ে মাত্র সাড়ে তিন বছরে দলটিকে দুইবার চ্যাম্পিয়নস লিগে উঠিয়েছেন এমেরি। এখন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নে রূপান্তর করলেন এই স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড।

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে নজিরবিহীন ঘটনার ম্যাচটি বাতিলের দাবি তুলেছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সান্তোস। ব্রাজিলের শীর্ষ লিগের ম্যাচে করোতিবার বিপক্ষে হেরে যায় তারা। তবে খেলার ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় ক্লাবের পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়রের মাঠ থেকে ‘ভুলবশত’ বদলি হওয়ার ঘটনা।
সান্তোসের দাবি, ম্যাচ অফিশিয়ালদের মারাত্মক ভুলের কারণে দলের সেরা তারকা নেইমারকে অন্যায্যভাবে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। এই আইনি ভুলের কারণে ম্যাচটি পুরোপুরি বাতিল বা পুনরনুষ্ঠানের আবেদন জানিয়ে ব্রাজিলের ক্রীড়া আদালতের সর্বোচ্চ সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিক আপিল করেছে ক্লাবটি।
ম্যাচের তখন দ্বিতীয় অর্ধ চলছিল। খেলার একপর্যায়ে সান্তোস তারকা নেইমার পায়ের সমস্যার কারণে সাইডলাইনে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
ঠিক এই সময়েই সান্তোসের কোচিং স্টাফ মাঠের একজন ডিফেন্ডারকে তুলে অন্য একজন খেলোয়াড়কে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নেন। নিয়ম অনুযায়ী চতুর্থ অফিশিয়াল বোর্ডে সেই ডিফেন্ডারের নম্বর তোলার কথা ছিল। কিন্তু চরম এক প্রশাসনিক গোলযোগের কারণে চতুর্থ অফিশিয়াল বোর্ডে নেইমারের নম্বর প্রদর্শন করেন।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ভুল নম্বর তোলার কারণে নতুন খেলোয়াড় মাঠে প্রবেশ করে ফেলেন, অথচ নেইমার তখনো মাঠের বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। মাঠে কী ঘটেছে বুঝতে পেরে নেইমার দ্রুততম সময়ে আবার খেলতে নামার চেষ্টা করেন। কিন্তু রেফারি ও চতুর্থ অফিশিয়াল তাকে জানান, আইন অনুযায়ী তিনি ইতিমধ্যে বদলি হয়ে গেছেন, তাই আর মাঠে নামার সুযোগ নেই।
এই সিদ্ধান্তের পর মাঠের মধ্যেই প্রচণ্ড ক্ষোভে ফেটে পড়েন নেইমার। তিনি মূল রেফারির সঙ্গে তীব্র তর্কে জড়ান। সান্তোসের ডাগআউট থেকে চতুর্থ অফিশিয়ালকে অফিশিয়াল বদলি চিরকুটটি দেখানো হয়, যেখানে পরিষ্কারভাবে অন্য খেলোয়াড়কে তোলার কথা লেখা ছিল।
চরম উত্তেজিত নেইমার একপর্যায়ে রেফারির হাত থেকে সেই চিরকুটটি কেড়ে নেন এবং মাঠের ক্যামেরার সামনে তুলে ধরে বিশ্ববাসীকে দেখান যে ভুলটি রেফারিদের ছিল। কিন্তু রেফারি তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন এবং প্রতিবাদ করার কারণে নেইমারকে উল্টো হলুদ কার্ড দেখান। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই ক্ষোভে মাঠ ছাড়েন নেইমার।
সান্তোস বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, চতুর্থ অফিশিয়াল সম্পূর্ণ ভুলভাবে এই বদলি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছেন, যা ম্যাচের লাইভ সম্প্রচার এবং রেফারির নিজের নথিতেই প্রমাণিত। এটি একটি অবিশ্বাস্য এবং ক্ষমার অযোগ্য ভুল, যা ম্যাচ চলাকালীন আর সংশোধন করা হয়নি।
ক্লাবটি আরও স্পষ্ট করেছে, তারা ম্যাচটির টেকনিক্যাল পারফরম্যান্স কিংবা ফলের বিরুদ্ধে লড়ছে না; বরং বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার অফিশিয়াল নিয়ম ও একটি ফুটবল প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষার খাতিরেই তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
এই ম্যাচটি নেইমারের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ সামনেই বিশ্বকাপ ফুটবল, আর চোট কাটিয়ে দলে ফেরা নেইমার সান্তোসের হয়ে নিজেকে প্রমাণ করতেই মাঠে নেমেছিলেন। এমন একটি মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পরিচালকদের এমন দৃষ্টিকটু ভুল নেইমারের জন্য বড় একটি ধাক্কা ছিল।
ক্রীড়া আদালত এখন সান্তোসের এই আবেদনের ভিত্তিতে কী রায় দেয়, তার ওপরেই নির্ভর করছে ব্রাজিলিয়ান লিগের এই বহুল আলোচিত ম্যাচের ভাগ্য।