১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ৪:১২ পিএম

জাবি আলোনসোকে নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ ফরোয়ার্ড এন্ড্রিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে আর কোনো ধোঁয়াশা নেই। চলতি মৌসুমের মাঝপথেই জানুয়ারিতে রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ছেন ব্রাজিলিয়ান এই ফুটবলার। ধারে ফরাসি ক্লাব অলিম্পিক লিওঁতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে গেছে।
স্প্যানিশ দৈনিক এএসের প্রতিবেদন, কোচ পরিবর্তন হলেও এন্ড্রিকের পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। রিয়াল মাদ্রিদ, লিওঁ ও খেলোয়াড়—তিন পক্ষের মধ্যেই ধারে যাওয়ার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
রিয়ালে প্রথম মৌসুমে কার্লো আনচেলত্তির অধীনে খুব বেশি সুযোগ না পাওয়া এন্ড্রিকের জন্য চলতি মৌসুমটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হচ্ছিল। তবে মৌসুমের শুরুতেই চোটের কারণে প্রথম কয়েক মাস মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ফেরার পরও জাবি আলোনসোর পরিকল্পনায় নিয়মিত জায়গা পাননি এই তরুণ স্ট্রাইকার।
ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ম্যাচে অল্প সময় মাঠে নেমে দারুণ লড়াই ও মানসিকতা দেখান এন্ড্রিক। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে দর্শকদের কাছ থেকেও প্রশংসা কুড়ান তিনি। সেই পারফরম্যান্স নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়—এন্ড্রিক কি আদৌ যথেষ্ট সুযোগ পাচ্ছেন?
আরও পড়ুন
| মেসির কাছে ক্ষমা চাইলেন মমতা |
|
তবে ক্লাবের সিদ্ধান্ত বদলায়নি। রিয়াল মাদ্রিদের দৃষ্টিতে জানুয়ারিতে এন্ড্রিককে ধারে পাঠানোই সেরা সমাধান। দলে ইতিমধ্যেই কিলিয়ান এমবাপে প্রথম পছন্দের স্ট্রাইকার হিসেবে আছেন। পাশাপাশি ক্লাব বিশ্বকাপে গনসালো গার্সিয়ার উত্থানের পর আলোনসো একাডেমির এই ফুটবলারকেও ভরসার জায়গায় দেখছেন। আলোনসোর চোখে গার্সিয়া একজন খাঁটি নম্বর নাইন, যেখানে এন্ড্রিক তুলনামূলকভাবে বেশি গতিশীল খেলোয়াড়।
এই অবস্থায় সীমিত সময়ের জন্য একাধিক ফরোয়ার্ডের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাস্তবসম্মত নয় বলেই মনে করছে ক্লাব।
লিওঁতে ধারে যাওয়ার ফলে তিন পক্ষই লাভবান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এন্ড্রিক এমন একটি ক্লাবে যেতে পারছেন, যারা ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় এবং যেখানে তিনি নিয়মিত একাদশে খেলার বাস্তব সুযোগ পাবেন। এতে করে ব্রাজিল জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্যে নিজেকে আরও ভালোভাবে মেলে ধরার সুযোগ পাবেন তিনি।
রিয়াল মাদ্রিদও তাদের বড় বিনিয়োগ সুরক্ষিত রাখতে পারবে। এন্ড্রিককে দলে আনতে ক্লাব ইতিমধ্যে ৬ কোটি ইউরোর বেশি খরচ করেছে। ভবিষ্যতের জন্য তার ওপর আস্থা রাখলেও নিয়মিত না খেললে তার মূল্য কমে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল।
কোচ জাবি আলোনসোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চললেও এন্ড্রিকের লিওঁ যাত্রা এখন নিশ্চিত। সবকিছু ঠিক থাকলে জানুয়ারিতেই ফরাসি লিগ ওয়ানের ক্লাবটিতে যোগ দেবেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড, ধারে থেকে মৌসুম শেষ করার লক্ষ্যে।
No posts available.

প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়
এবং চতুর্থ—বায়ার্ন মিউনিখের একাদশে থাকার মতো প্রথম চার গোলকিপারই চোটে। তাতে চ্যাম্পিয়নস
লিগে আটালান্টার বিপক্ষে শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে ম্যাচের আগে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছে
বাভারিয়ানরা। ক্লাবটির শেষ ভরসা হিসেবে আছে ১৬ বছর বয়সী এক ‘পুঁচকে’ গোলকিপার লিওনার্ড
প্রেস্কট।
বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কম্পানি জানিয়েছেন, ম্যানুয়েল
নয়ার পেশির চোটের কারণে আন্তর্জাতিক বিরতির পরে এপ্রিলের প্রথম দিকে ফিরবেন বায়ার লেভারকুসেনের
সঙ্গে ১-১ ড্র ম্যাচে পেশি ছিঁড়ে গেছে সভেন উলরেইচের, কয়েক সপ্তাহের জন্য বাইরে থাকবেন
তিনি। ২২ বছর বয়সী জোনাস উরবিগ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম লেগে আতালান্তার বিরুদ্ধে ৬-১ গোলে জয়ের ম্যাচে
কনকশন চোটে পড়েছিলেন। পরবর্তী বিকল্প হিসেবে রিজার্ভ থেকে লিওন ক্লানাক থাকার কথা,
কিন্তু তিনি উরুর চোটের কারণে কিছু সময় ধরে বাইরে আছেন তিনিও।
গোলকিপারদের চোটের মিছিলে
১৬ বছর বয়সী লিওনার্ড প্রেস্কটের দ্বারস্থ হতে পারে বায়ার্ন মিউনিখ। চ্যাম্পিয়নস লিগে
আটালান্টার বিপক্ষে গোলপোস্টের সামলোনোর দায়িত্ব পেলে ইতিহাসেও নাম লেখাবেন তিনি। প্রেস্কট
হবেন বায়ার্নের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলরক্ষক। ১৬ বছর ও ১৭৬ দিনের বয়সী এই তরুণ ছাড়িয়ে
যাবেন তাঁর চেয়ে দুই বছর বেশি বয়সে গোলকিপিং করা স্বেন শোয়ার। ১৯৮৯ সালে ১৮ বছর বয়সে
বায়ার্নে অভিষেক হয়েছিল তাঁর।
চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে
অষ্টম সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের তালিকাতেও নাম লেখাতে পারেন প্রেস্কট। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন
ম্যাক্স ডাউম্যান। মাত্র ১৫ বছর বয়সে নভেম্বরে আর্সেনালের হয়ে অভিষেক হয়েছিল তাঁর।
তালিকায় এরপর আছেন ইউসুফা মুকোকো (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড) এবং লামিনে ইয়ামাল (বার্সেলোনা)।
প্রেস্কট ২০০৯ সালে নিউ
ইয়র্কে জন্ম নেন। বাবা আমেরিকান আর মা জার্মান। বার্লিনে বড় হওয়া প্রেস্কট খেলেছেন
স্থানীয় ইউনিয়নের যুব দলে। ২০২৩ সালে প্রেস্কট এফসি বায়ার্নে যোগ দেন। ১.৯৬ মিটার লম্বা
প্রেস্কট জার্মান জায়ান্ট ক্লাবটির অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলেছেন।
গোলপোস্টের নিচে প্রেস্কটের
পারফরম্যান্স বলার মতো নয়। ১৬ ম্যাচে মাত্র একবার ক্লিন শীট রেখেছেন তিনি এবং হজম করেছেন
৩০টি গোল। প্রেস্কট ইতিমধ্যেই জার্মানির অনূর্ধ্ব-১৬ ও ১৭ দলের হয়ে খেলেছেন। তবে তাঁর
আমেরিকান নাগরিকত্বও আছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের
জাতীয় দলের হয়েও খেলার সুযোগ আছে তাঁর। বায়ার্নের সঙ্গে ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি আছে
প্রেস্কটের।

৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে শেষ ম্যাচটি খেলবে বাংলাদেশ। তার আগে ২৬ মার্চ ভিয়েতনামে একটি প্রীতি ম্যাচে অংশ নেবে হাভিয়ের কাবরেরা দল। এই দুটি ম্যাচ সামনে রেখে আজ থেকে ক্যাম্প শুরু হয়েছে। গুলশানের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ম্যানেজার আমের খানের কাছে রিপোর্ট করেছেন ২৭ ফুটবলার। ঢাকার পথে রয়েছেন জাতীয় দলের কানাডা প্রবাসী মিডফিল্ডার সোমিত সোম।
এবার ঢাকার ক্যাম্পের জন্য ২৮ জন ফুটবলারকে স্কোয়াডে রেখেছেন প্রধান কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। আর ভিয়েতনামে ২২ মাার্চ সরাসরি যোগ দেবেন লেস্টার সিটির মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। এমনটাই জানিয়েছেন আমের খান।
ভিয়েতনাম ম্যাচের আগে ঢাকায় ৪ দিন অনুশীলন করবে বাংলাদেশ। এরপর ২১ মার্চ ২৩ সদস্যের স্কোয়াড নিয়ে ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ দল। এবার জাতীয় দলের গোলকিপার কোচ হয়ে আবার জাতীয় দলে ফিরেছেন সাবেক গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানা।
২০১৫ থেকে ২০২১ পর্যন্ত বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছেন আশরাফুল রানা। এই সময়ে ২৫ ম্যাচে গোলবার সামলে ৯টিতে ক্লিন শিট রেখেছেন তিনি। কিন্তু এরপর জাতীয় দলের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ২০২৫ সালের ২২ মে মাসে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। ২০১৫-১৬ মৌসুমে মোহামেডানের হয়ে খেলা ব্রাদার্সের এই গোলকিপার সেই সাদা-কালোদের বিপক্ষে খেলেই সব ধরনের ফুটবল থেকে অবসর নেন। অবশেষে জাতীয় দলে গোলকিপার কোচ হয়ে ফিরলেন তিনি।
এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ৫ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ একমাত্র ভারতের বিপক্ষে জয়লাভ করে। এছাড়া গত বছরের ২৫ মার্চ শিলংয়ে ভারতের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে ড্র এবং হংকংয়ের বিপক্ষে আরেকটি অ্যাওয়ে ম্যাচে এক পয়েন্ট আদায় করে লাল সবুজের দল। মোট ৫ পয়েন্ট নিয়ে এখন টেবিলের তিনে। এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলেও শেষটা জয় দিয়ে রাঙাতে চায় বাংলাদেশ।

ভিয়েতনামের বিপক্ষে ২৬ মার্চ প্রীতি ম্যাচে এবং সিঙ্গাপুরের সঙ্গে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ খেলায় ৩১ মার্চ মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। দুটি ম্যাচ সামনে রেখে আজ সোমবার থেকে ক্যাম্প শুরু করেছে বাংলাদেশ। ঢাকায় ক্যাম্পের জন্য ২৮ জন খেলোয়াড়কে ডেকেছেন প্রধান কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। যেখানে নেই অভিজ্ঞ গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা বসুন্ধরা কিংসের এই গোলকিপারের না থাকা নিয়ে সমালোচনার মুখে আজ নিজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্প্যানিশ কোচ।
আজ টিম হোটেল গুলশানের রেনেশায় রিপোর্ট করেছেন ২৭ জন ফুটবলার। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কোচ কাবরেরা। চলমান বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) বসুন্ধরা কিংসের হয়ে দারুণ ছন্দে আছেন জিকো। ১১ ম্যাচে ৩ ড্রয়ের সঙ্গে কেবল এক ম্যাচ হেরেছে টেবিলের শীর্ষে থাকা জিকোর দল। তারপরও জাতীয় দলের প্রাথমিক স্কোয়াডে তাঁর না থাকা নিয়ে কোচ বলেন,
‘ক্লিন শিট রাখা কেবল একজন গোলকিপারের একার সাফল্য নয়। আমরা সাধারণত একজন তরুণ গোলকিপারকে দলে ডাকার চেষ্টা করি। ইশাক আকন্দও ভালো করছে এবং আমাদের খেলার ধরনের সঙ্গে সে মানানসই। তবে এই ক্যাম্পের জন্য আমি আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
ডাক পাওয়া ২৮ ফুটবলার এবং ভিয়েতনামে যোগ দেওয়া হামজা চৌধুরীসহ ২৯ ফুটবলারের মধ্যে চারজন গোলকিপার। আছেন মিতুল মারমা, মেহেদী হাসান শ্রাবণ, ইশাক আকন্দ ও মো. সুজন হোসেন। চারজনের মধ্যে শ্রাবণ এই মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসের হয়ে কেবল এক ম্যাচ মাঠে নেমেছেন। লিগের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের এবার প্রথম ভরসা জিকোর ওপর। কিন্তু তারপরও চারজনের মধ্যে জিকোর না থাকায় বিস্ময় জন্মেছে সমর্থকদের মধ্যে। এ নিয়ে কাবরেরা বলেন,
‘দল নির্বাচন করা সব সময়ই কঠিন। জিকো শ্রাবণের চেয়ে বেশি ম্যাচ খেললেও আমার কাছে শ্রাবণ বাংলাদেশের ফুটবলের অন্যতম প্রতিভাবান এবং সম্ভাবনাময় গোলকিপার। তাঁকে জাতীয় দলে না নেওয়াটা আমার দিক থেকে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা হতো। আমি বলছি না যে জিকো যোগ্য নয়, কিন্তু আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’
এদিকে ৩১ মার্চ বাফুফের সঙ্গে চুক্তি শেষ হবে হাভিয়ের কাবরেরার। নতুন করে চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে আগ্রহী কি না জানতে চাইলে কাবরেরা বলেন,
‘অবশ্যই। আমি ফেডারেশনের কথা শুনতে চাই এবং তারাও নিশ্চয়ই আমার সঙ্গে কথা বলতে চায়। তার ওপর ভিত্তি করেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
১৬ মার্চ ২০২৬, ৭:৫০ পিএম

রুশ ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচ
মালিকানায় থাকতে চেলসি ফুটবল ক্লাব ৭৪টি নিয়ম ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ এনেছিল ইংলিশ ফুটবল
অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। ওই অভিযোগে বড় শাস্তি পেল ইংলিশ ক্লাবটি। ১ কোটি ৭৫ লাখ পাউন্ড
জরিমানার পাশপাশি ক্লাবটিকে এক ট্রান্সফার উইন্ডোর জন্য খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা
দেওয়া হয়েছে, যা দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
প্রিমিয়ার লিগ কতৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে,
‘চেলসি ফুটবল ক্লাবের বিরুদ্ধে দুটি আলাদা শৃঙ্খলামূলক তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ক্লাবটি স্বেচ্ছায় অতীতের সম্ভাব্য নিয়মভঙ্গের বিষয়গুলো জানানোয় এই তদন্ত শুরু হয়।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়,
‘একটি স্বাধীন কমিশনের অনুমোদনে দুটি শাস্তিমূলক চুক্তি কার্যকর করা হয়েছে। এর অধীনে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক প্রতিবেদন, তৃতীয় পক্ষের বিনিয়োগ এবং যুব উন্নয়ন সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের দায়ে চেলসি মোট ১০.৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড জরিমানা মেনে নিয়েছে।’
এছাড়া প্রিমিয়ার লিগ চেলসিকে
তাৎক্ষণিকভাবে নয় মাসের জন্য একাডেমি পর্যায়ে ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পাশাপাশি
প্রথম দলের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এক বছরের ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও সেটি দুই
বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
প্রিমিয়ার লিগ জানিয়েছে,
তাদের তদন্তে দেখা গেছে যে ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে চেলসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তৃতীয়
পক্ষের মাধ্যমে খেলোয়াড়, নিবন্ধনহীন এজেন্ট এবং আরও কিছু তৃতীয় পক্ষকে গোপনে অর্থ প্রদান
করা হয়েছিল।
লিগের বিবৃতিতে বলা হয়,
‘সে সময় এসব অর্থপ্রদানের বিষয়টি প্রিমিয়ার লিগসহ ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছে প্রকাশ করা হয়নি। অথচ এসব অর্থ চেলসির স্বার্থেই দেওয়া হয়েছিল এবং সেগুলো ক্লাবের পক্ষ থেকেই দেওয়া হয়েছে বলে বিবেচিত হওয়া উচিত ছিল।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ক্লাবটি স্বীকার করেছে যে এই অর্থ প্রদান এবং সেগুলো লিগের কাছে প্রকাশ না করা—দুটিই লিগের প্রতি সৎ আচরণ বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের শামিল।
চেলসির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর
মধ্যে ছিল এমন নিয়ম ভঙ্গের বিষয়ও, যা ক্লাবগুলোকে এমন চুক্তি করা থেকে বিরত রাখে যাতে
তৃতীয় পক্ষ ক্লাবের নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
কমিশনের কাছে ক্রীড়াসংক্রান্ত শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতাও ছিল—যার মধ্যে পয়েন্ট কাটা পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত। তবে চেলসি ধারণা করেছিল তদন্তের প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফলাফল ২০২৩ সালে ইউয়েফার সঙ্গে হওয়া সমঝোতার মতোই হবে। সে সময় ‘অসম্পূর্ণ আর্থিক প্রতিবেদন’ দেওয়ার অভিযোগে ক্লাবটিকে ১ কোটি ইউরো জরিমানা করা হয়েছিল।
এরপর চেলসি এক বিবৃতিতে জানায়,
‘প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই ক্লাবটি বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে এবং সংশ্লিষ্ট সব নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। প্রিমিয়ার লিগ আমাদের অসাধারণ সহযোগিতা’কে স্বীকৃতি দেওয়ায় আমরা তা স্বাগত জানাই। একই সঙ্গে লিগ স্বীকার করেছে যে আমাদের স্বেচ্ছায় তথ্য প্রকাশ ও আত্মপ্রতিবেদন না থাকলে প্রিমিয়ার লিগের নিয়মভঙ্গের বেশ কয়েকটি বিষয় হয়তো কখনোই তাদের নজরে আসত না।’
ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ
উঠলেও রোমান আব্রামোভিচের সময়েই সর্বোচ্চ সাফল্য পেয়েছে চেলসি। ২০০৩ থেকে ২০২২ সাল
পর্যন্ত ক্লাবটির মালিক ছিলেন এই ধনকুবের। তাঁর সময়কালে পাঁচটি প্রিমিয়ার লিগ, দুটি
চ্যাম্পিয়নস লিগ, দুটি ইউরোপা লিগ, একটি ক্লাব বিশ্বকাপসহ মোট ২১টি শিরোপা জিতেছে পশ্চিম
লন্ডনের ক্লাবটি।

প্রায়
১৬ বছর আগে হয়েছিল
ফুটসাল লিগ। ২০০৮ সালে হওয়া প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন
হয়েছিল ব্রাদার্স ইউনিয়ন। এরপর আর কোর্টে
গড়ায়নি এই লিগ। অবশেষে
আবার ফুটসাল লিগ আলোর মুখ
দেখতে পারে। নতুন করে এই
টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
এবারই
প্রথমবার ফুটসাল লিগ হবে নারী
এবং পুরুষ দুই ক্যাটাগরিতে। এজন্য
আগ্রহী ক্লাবগুলোতে লিগে অংশ নিতে
হলে একইসঙ্গে নারী এবং পুরুষ
দুই লিগেই দল দিতে বাধ্যতামূলক
করেছে ফেডারেশন। একই সঙ্গে কোনো
ক্লাব এই টুর্নামেন্টে অংশ
নিতে ৫ লাখ টাকা
বাফুফেকে পে-অর্ডার করতে
হবে। লিগের নিয়ম ও শর্তসাপেক্ষে
গ্যারান্টি মানি ফেরত পাবে
ক্লাবগুলো।
ফুটসাল
লিগ চালুর জন্য আগামী ২
মে সময় নির্ধারণ করেছে
বাফুফে। এখন পর্যন্ত কোনো
ক্লাব লিগের জন্য আগ্রহ প্রকাশ
করেনি। কেউ আগ্রহ প্রকাশ
করলে ক্লাব এবং আনুষঙ্গিক বিষয়
পর্যালোচনা করবে ফেডারেশনের লাইসেন্সিং
কমিটি।
গেল
জানুয়ারিতে বাংলাদেশ
নারী ফুটসাল দল থাইল্যান্ডের ব্যাংককে
সাফ ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
তার আগে অবশ্য তেমন
কোনো প্রস্তুতি ছিল না সাবিনা খাতুনদের। বাংলাদেশের ইরানি কোচ সাইদ খোদারাহমির
অধীনে কিছুদিন অনুশীলন ক্যাম্প করেই সাফে সাফল্য
নিয়ে আসেন সাবিনা, মাসুরা,
কৃষ্ণা রানী সরকাররা।
একই
সময়ে বাংলাদেশ পুরুষ দলও অংশ নেয়
ফুটসাল সাফে। তবে তারা সেভাবে
সাফল্য বয়ে আনতে পারেননি।
এবার দেশের ফুটসালকে সামনে এগিয়ে নিতে এবং সাবিনা-মাসুরাদের লিগে ব্যস্ত রাখতে
চায় বাফুফে।