
শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে বাংলাদেশ, সুফল মিলতেও তাই দেরি হয়নি। ধারার বিপরীতে গিয়ে ম্যাচ ফেরে চাইনিজ তাইপে। এরপর এগিয়েও যায় দলটি। আগের ম্যাচে এগিয়ে গিয়ে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হেরেছিল বাংলাদেশ, আবার তেমন হারের চোখরাঙানি নয়ত? এমন দুশ্চিন্তা দূর করতে সময় নেয়নি তারা। ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত চাইনিজ তাইপেকে ৮-৩ গোলে বিধ্বস্ত করেছে মশিউর রহমান বিপ্লবের শিষ্যরা।
ভারতের বিহারে রাজগীর স্পোর্টস হকি কমপ্লেক্সে বাংলাদেশের বাধা শুধু তাইনিজ তাইপে ছিল না, পরীক্ষা নিয়েছে ৩২ ডিগ্রি তাপমাত্রার গরমও। প্রথম দুই কোয়ার্টারে সমানতালে লড়ে দুই দল। পরের দুই কোয়ার্টারে স্রেফ বাংলাদেশের আধিপত্য। খেলায় দুটি করে গোল করেন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, রাকিবুল হাসান রকি ও আশরাফুল ইসলাম। একবার করে প্রতিপক্ষের জাল কাঁপান সোহানুর রহমান সবুজ ও অধিনায়ক রেজাউল করিম বাবু।
চতুর্থ মিনিটে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন আব্দুল্লাহ। সোহানুর রহমান সবুজের পাস থেকে রিভার্স হিটে জাল কাঁপান তিনি। ১০ মিনিটে দূরপাল্লার শটে চাইনিজ তাইপেকে সমতায় ফেরান ইউ সুং সিয়ে। ১৩ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার পায় বাংলাদেশ। তবে আশরাফুলের ড্রাগ ফ্লিক সহজেই ঠেকান চায়নিজ তাইপের গোলরক্ষক ওয়েই ইউ সিয়েন।
আরও পড়ুন
| শেষ মুহূর্তে চেলসি ফরোয়ার্ডকে ছিনিয়ে নিল মিলান |
|
দ্বিতীয় কোয়ার্টারের তৃতীয় মিনিটে পরপর দুটি পেনাল্টি কর্নার পায় চায়নিজ তাইপে। প্রথমবার জাল খুঁজে না পেলেও দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে গোল করেন সিয়েন। ডান পাশের দূরূহ কোণে জাল খুঁজে নিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ১-২ ব্যবধানে।
মনে হচ্ছিল, দ্বিতীয় কোয়ার্টার শেষ করার আগে হয়ত পিছিয়েই থাকবে বাংলাদেশ। সেটি হতে দেননি আব্দুল্লাহ। ২৬ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে আশরাফুলের বাড়ানো পাসে আলতো ছোঁয়ায় বল জালে পাঠান তিনি। ২-২ ব্যবধানে ড্র নিয়ে বিরতিতে যায় তারা।
তৃতীয় কোয়ার্টারে একক আধিপত্য বিস্তার করে বাংলাদেশ। ৩৬ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে দুর্দান্ত ড্রাগ ফ্লিকে ব্যবধান ৩-২ করেন সবুজ। এরপর একই মিনিটে জোড়া গোল করেন রকি। দুটো গোলই আসে ৪২ মিনিটে। প্রথমটি মেহেদীর পাস থেকে। আর দ্বিতীয় গোলে অবদান কেবল তাঁরই। ৪৫ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে জোরালো শটে দলের ষষ্ঠ গোলটি করেন আশরাফুল।
আরও পড়ুন
| একগাদা টেস্ট ক্রিকেটার নিয়েও ‘এ’ দলের ইনিংস হার |
|
শেষ কোয়ার্টারে তিনটি পেনাল্টি কর্নারের দুটি থেকে গোল আদায় করে বাংলাদেশ। ৫৬ মিনিটে গোলের খাতায় নাম লেখান অধিনায়ক বাবু। যদিও পেনাল্টি কর্নার থেকে ড্রাগ ফ্লিক করেছিলেন আশরাফুল। তাঁর শট বাবু স্টিক ছুঁয়ে আশ্রয় নেয় জালে। দুই মিনিট পর নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান আশরাফুল। ৬০ মিনিটে চায়নিজ তাইপে এক গোল পরিশোধ করলেও তা শুধু ব্যবধানই কমিয়েছে।
সোমবার ‘বি’ গ্রুপ থেকে শেষ ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম ম্যাচে গতকাল মালয়েশিয়ার কাছে ৪-১ গোলে হার মানে বাংলাদেশ দল। এই গ্রুপ থেকে তিন পয়েন্ট করে পেয়েছে তিনটি দল দক্ষিণ কোরিয়া, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ ম্যাচ খেলেছে দুটি। চাইনিজ তাইপে দুই খেলায় দুটিতেই হেরেছে।
No posts available.

চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়িতে খুদে ক্রিকেটার হিসেবেই সুখ আর নীলকে চিনতেন এলাকাবাসী। জমজ বোনের পুরো নাম অবশ্য হিমাদ্রী বড়ুয়া সুখ ও নিলাদ্রী বড়ুয়া নীল। বাবা বিজয় বড়ুয়া দুই মেয়ের নাম রেখেছেন তাদের দাদা-দাদীর নামানুসারে। দাদার নাম অনীল বড়ুয়া, তাঁর নামের শেষ দুই অক্ষর পেয়েছেন নিলাদ্রী। আর দাদি সুখীর থেকে সুখ নাম রাখা হয় হিমাদ্রীর। মজার ব্যাপার হলো জমজ মেয়েদের নাম ছেঁটে বিজয় বড়ুয়া ছোট মেয়ের নাম রেখেছেন নীসু (পুরো নাম অতিন্দ্রী বড়ুয়া নীসু)।
বিজয় বড়ুয়ার সেই জমজ মেয়েরা এখন বাংলাদেশ জাতীয় নারী হকি দলের খেলোয়াড়। তাঁরা সুযোগ পেয়েছেন ১৮ সদস্যের এশিয়ান গেমস বাছাই টুর্নামেন্টের জন্য ঘোষিত লাল সবুজের স্কোয়াডে। আগামীকাল রোববার রাতে বাংলাদেশ দল দেশ ছাড়বে। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় ২৩-২৯ এপ্রিল হতে যাচ্ছে উইমেন’স এশিয়ান গেমস হকি বাছাই। যে টুর্নামেন্ট খেলে প্রথমে এশিয়ান গেমস কোয়ালিফাই করতে চান; তবে দুজনের সুপ্ত বাসনা এবং স্বপ্ন- অলিম্পিকে খেলা।
জমজ বোনের সঙ্গে কথা বলতেই শনিবার দুপুরে জাহিদ হোসেন রাজুকে ফোন করা। তখন দল নিয়ে অনুশীলনে ব্যস্ত বিকেএসপির এই কোচ। তিনিই ডেকে দিলেন হিমাদ্রী ও নিলাদ্রীকে। সালাম দিয়ে ‘কেমন আছি’ জিজ্ঞেস করলেন হিমাদ্রী। প্রাণোচ্ছল কণ্ঠে এই গোলকিপারের কুশলাদি বিনিময়ে বোঝার বাকি নেই তিনি কতটা খুশি। সেটা হওয়াটাই খুব স্বাভাবিক। সিনিয়র নারী হকি দল এবারই প্রথমবার খেলতে যাচ্ছে বড় কোনো প্রতিযোগিতায়; আর সেই দলে আছেন তাঁরা দুজন।
দলের দুই গোলকিপারের মধ্যে একজন হিমাদ্রী। বড় দায়িত্ব, একটা নতুন শুরুর চাপ; সবকিছু মিলিয়ে চিন্তা ভর করাটা স্বাভাবিক। কিন্তু তিনি আত্মবিশ্বাসী। সেই সঙ্গে ধন্যবাদ জানালেন ফেডারেশনকে,
‘অনেক ভালো লাগছে যে এশিয়ান গেমস বাছাইয়ের মতো বড় প্রতিযোগিতায় যেতে পারছি। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন চাইছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। তারা আমাদের সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে বলেই আমরা এখন যেতে পারছি। ভালো লাগছে।’

৮ দলের বাছাই প্রতিযোগিতা থেকে সেরা চার দল খেলবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে জাপানের নাগোয়া শহরে হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসের মুল আসরে। প্রথমবারের মতো সিনিয়র দল গঠন, সেই দল নিয়ে খুব বড় কিছুর স্বপ্ন দেখতে চাইবে না অনেকেই। তবে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করতে চান হিমাদ্রী,
‘যেহেতু বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো যাচ্ছে, আমাদের প্রত্যাশা থাকবে যেন এশিয়ান গেমসে যোগ্যতা অর্জন করতে পারি। আর এতটা আত্মবিশ্বাসী বলতে পারব না। তবে আমরা যথেষ্ট পরিশ্রম করছি এবং চেষ্টা করব সেরাটা দিতে।’
এই প্রতিযোগিতা সামনে রেখে সাভারের বিকেএসপিতে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে নিবিড় অনুশীলন করেছেন হিমাদ্রীরা। যে কারণে সবার সঙ্গে বোঝাপড়াটা ভালোই হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তবে সবচেয়ে বেশি বোঝাপড়াটা অবশ্যই দলে থাকা তারই বোন নিলাদ্রীর সঙ্গে। গোলকিপারের সামনেই যে তাঁর দায়িত্ব। দুই মিনিটের বড় হিমাদ্রীকে আগলে রাখবেন বলে জানালেন ডিফেন্সের সেনানী নিলাদ্রী,
‘ও (হিমাদ্রী) যদি গোল হজম করে তাহলে তো আমার নিজেরও খারাপ লাগবে। তখন আমি চেষ্টা করব ওকে সাহস দেওয়ার, যেন পরে গোল না খায় বা ও যেন ভালোভাবে সেভ দিতে পারে। আর ডিফেন্সে তো আমি থাকবই, চেষ্টা করব যেন বল ওর কাছে না যায়। ও যেন নিশ্চিন্তে থাকতে পারে।’
দুজন দুজনকে এভাবেই আগলে রেখে বড় হয়েছেন তাঁরা। ২০ বছর বয়সি এই জমজের মধ্যে দুই মিনিটের বড় হিমাদ্রী। চট্টগ্রামের রাউজানে জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। ২০২০ সালে ভর্তি হন বিকেএসপিতে। এই সময় পর্যন্ত কেউ কাউকে ছেড়ে একা থাকেননি। সেই গল্প জানান নিলাদ্রী,
‘আমরা ছোটবেলা থেকেই একসঙ্গে আছি। আসলে যেখানেই গিয়েছি একসঙ্গে থেকেছি। আমরা কোথাও আলাদা যাইনি। এমন না যে এক রাতও আমি ওকে ছাড়া থেকেছি, এ রকম আসলে ব্যাপারটা। তো আমাদের সম্পর্কটা অনেক ভালো।’
সম্পর্ক কিংবা বোঝাপড়াটা কতটা চমৎকার তা বোঝাতে হিমাদ্রী জানান যে তাদের কোনো কিছু পছন্দ হলেও সেটি একসঙ্গে হয়। তাঁদের মধ্যে কিছুটা চঞ্চল প্রকৃতির হিমাদ্রী। যদিও নিলাদ্রী জানান যে ছোটবেলায় সে-ই বেশি চঞ্চল ছিলেন, এখন কিছুটা গম্ভীর হয়েছেন। দুজনের মধ্যে তেমন কোনো অমিল নেই বলেই জানালেন তাঁরা।
.jpeg)
মাঠে যখন নামেন দুজনের পরিচয়ও একই- হকি খেলোয়াড়। সেখানে কার চ্যালেঞ্জ বেশি, হিমাদ্রী না নিলাদ্রীর? মজার ছলে প্রশ্নটা করি রক্ষণ সামলানো নিলাদ্রীর কাছে। তিনি অবশ্য বোনকেই এখানে এগিয়ে রাখলেন। দুজনের পজিশন পরিবর্তন করলে হিমাদ্রী এগিয়ে থাকবেন বলে জানিয়ে নিলাদ্রী বলেন,
‘আমার জন্যই কষ্ট হবে গোলকিপার হওয়া। কারণ কী, ও তো গোলকিপার পজিশনেই খেলে। আর এর আগে কোচ ওকে মাঠেও খেলিয়েছেন, কিন্তু আমি তো আর কখনো গোলকিপার খেলিনি।‘
অনুশীলনের সময় দুজনের মধ্যে খুনসুটি হয়, মজা করেন বন্ধুর মতো। সেটি নিয়েও সতীর্থদের কাছ থেকে টিপ্পনী শুনতে হয়। তেমন এক গল্প জানান নিলাদ্রী,
‘এমনিতে হচ্ছে কী শুট আউট হয় না? শুট আউট হলে আমি গোল দেই, ও (হিমাদ্রী) গোল খায়। বা ও গোল সেভ দেয়, আমি গোল দিতে পারি না। তখন সবাই বলে যে ইচ্ছা করে গোল দিয়ে দিলি কি না? বা ও ইচ্ছা করে গোল খেল কি না? মাঝে মধ্যে অনেকে (সতীর্থরা) মজা করে এটা নিয়ে।’
বিকেএসপিতে তাঁরা দুজন একসঙ্গে থাকছেন ৬ বছরের মতো হলো। কিন্তু বাড়িতে বাবা বিজয় বড়ুয়া এবং মা রায়না বড়ুয়া নিপার তাঁদের নিয়ে চিন্তার অন্ত নেই। দুই মেয়ের জন্য প্রায় একা একা কাঁদেন মা। তবে সেই সময় পেরিয়ে এখন মেয়েদের এ পর্যন্ত আশায় খুশি তাঁরা। বিজয় বড়ুয়াই প্রথম মেয়েদের খেলোয়াড় বানানোর উদ্যোগ নেন। এমএ আজীজ স্টেডিয়ামের পাশে বাসা থাকায় মেয়েদেরকে ছোটবেলা থেকেই স্টেডিয়ামমুখী করেছেন। শুধু তাই নয় তাদেরকে নাচ-গানে উৎসাহ দিয়ে সংস্কৃতিমনা করেছেন। দুই মেয়ে যে ভালো গান করেন সেটার প্রমাণ মেলে কোচ জাহিদ হোসেন রাজুর কাছ থেকেও।
মেয়েদের ক্রীড়ামুখী করার পেছনে কি কারণ ছিল, জানতে চাইলে বাবা বিজয় বড়ুয়া বলেন,
‘আমি নিজে খেলোয়াড় ছিলাম, স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে এখনও খেলি। তাই মেয়েদেরকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছি ওরা যেন খেলোয়াড় হয়। কারণ দেশে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন তো সবাই দেখে, সে অর্থে খেলোয়াড় তো নেই। মেয়েদের তাই খেলোয়াড় বানাতে চেয়েছি।’
বিজয় বড়ুয়ার সবচেয়ে ছোট মেয়ের বয়স ৯ বছর, ক্লাস তিনের ছাত্রী। তাঁকেও এরই মধ্যে ভর্তি করেছেন একটি একাডেমিতে। ছোট মেয়ে নীসু ফুটবলার হোক এই স্বপ্ন বাবার।
শুরুতে চট্টগ্রামে স্থানীয় একটি একাডেমিতে জমজ মেয়েদের ক্রিকেট অনুশীলনে পাঠান বিজয় বড়ুয়া। সেখান থেকে তাঁরা সুযোগ পান বিকেএসপিতে। উচ্চতা বেশি থাকায় কোচ জাহিদ হোসেনই তাঁদের মধ্যে বীজ বপন করেন হকির। নিলাদ্রী-হিমাদ্রীদের হাত ধরেই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সিনিয়র জাতীয় নারী হকি দল গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে দুজনের উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। দুজনের মধ্যে দারুণ সম্ভাবনা দেখেন কোচ জাহিদ হোসেন,
‘মূলত ওরা ক্রিকেট খেলোয়াড় হিসেবে বাছাইয়ে উতরেছিল। উচ্চতা দেখে আমি ওদের অভিভাবককে বললাম হকিতে দিতে। তখন ওরা হকি চেনে না। তারপর বোঝানো হলো। ওরাও দ্রুত মানিয়ে নিলো। ওদের শক্তির দিক হলো উচ্চতা ও শক্তিমত্তা এবং শক্ত মানসিকতা। পরের গল্পটা তো দেখছেনই।’
হিমাদ্রী-নিলাদ্রীদের এতদূর আসার পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। মফস্বল শহরে বেড়ে ওঠা, খেলাধুলা করেন বলে শুনতে হয়েছে কটু কথা। সেসব বাধা পেরিয়ে এবং অনেক পরিশ্রমের পর এখন সিনিয়র জাতীয় দলে তাঁরা। তাঁদের হাত ধরে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ পৌঁছাবে এশিয়ান গেমসে; সেই স্বপ্ন এখন লাল সবুজের ক্রীড়াপ্রেমীদের। তবে হিমাদ্রী ও নিলাদ্রীরা কতদূর যেতে পারবেন সেটি সময়ই বলে দেবে। আপাতত সবাই এই মেয়েদের সমর্থন দিক, এটাই চাওয়া হকি সংশ্লিষ্টদের।

ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় ২৩-২৯ এপ্রিল হতে যাচ্ছে উইমেন’স এশিয়ান গেমস হকি বাছাই। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মহিলা হকি দল আগামী ২০ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বে।
এশিয়ান গেমস বাছাই হকি প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ নারী হকি দল অংশগ্রহণ করছে। আজ ১৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ দলও ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধান কোচ হিসেবে দলের সঙ্গে যাবেন মো. জাহিদ হোসেন রাজু। তাঁর সহকারী হিসেবে এই টুর্নামেন্টে থাকছেন রিতু খানম।
৮ দলের টুর্নামেন্টে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের মেয়েরা পড়েছে চাইনিজ তাইপে, হংকং ও উজবেকিস্তানের সঙ্গে। অপর গ্রুপের চার দল হলো- ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান, সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কা।
বাছাই প্রতিযোগিতা থেকে শীর্ষ চার দল খেলবে সেপ্টেম্বরে জাপানে হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসের মূল আসরে।
বাংলাদেশ নারী হকি দল
গোলকিপার: মহুয়া, হিমাদ্রী বড়ুয়া সুখ।
ডিফেন্স: নীলাদ্রী বড়ুয়া নীল, মোছা. রিয়াশা আক্তার রিশি, নিনিসেন রাখাইন, মোছা. তন্নী খাতুন, ডনুচিং মারমা, রিতু আক্তার।
মিডফিল্ড: নাদিরা, অর্পিতা পাল, ফারদিয়া আক্তার রাত্রি, শারিকা সাফা রিমন, ফাতেমা তুজজোহুরা।
ফরোয়ার্ড: আইরিন আক্তার রিয়া, নাদিরা তালুকদার ইমা, মোছা. কণা আক্তার, মোছা. জাকিয়া আফরোজ লিমা, সানজিদা আক্তার মনি।

টাইব্রেকারে হংকংকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসের হকি ইভেন্টে খেলার যোগ্যতা আগেই অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। এবার টুর্নামেন্টের বাছাইয়ে চাইনিজ তাইপেকে হারিয়ে পঞ্চম অবস্থানে থেকে শেষ করল বাংলাদেশ।
ব্যাংককের রয়েল থাই এয়ারফোর্স হকি মাঠে চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে বাংলাদেশের জিতেছে ৩-২ ব্যবধানে। বাংলাদেশের হয়ে জোড়া গোল করেন আশরাফুল ইসলাম। অন্য গোলটি মেহরাবের।
চাইনিজ তাইপেকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়েই আসর করে বাংলাদেশ। এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হেরেছিল ৩-২ গোলে হারের পর উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ে স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলতে হয় দলকে।
এই পর্বের প্রথম ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের খেলা ৪-৪ সমতায় শেষের পর হংকংয়ের চীনের বিপক্ষে শুট আউটে ৩-২ গোলে জিতে এশিয়ান গেমসে খেলা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। আগের আসরের রানার্সআপরা এবার আর শিরোপার লড়াইয়ে থাকতে না পারলেও, চাইনিজ তাইপেকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের শেষটা অন্তত জয়ে রাঙিয়েছে।
এশিয়ান গেমসের টিকিট কাটার স্বস্তি নিয়ে মাঠে নামা বাংলাদেশ ম্যাচের শুরুতেই লিড পেয়ে যায়। ৭ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে দারুণ এক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আশরাফুল ইসলাম। তবে মিনিট চারেক পরই চাইনিজ তাইপেকে ১-১ সমতায় ফেরান ওয়েই চেং-জে। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের দ্বিতীয় মিনিটেই আবারও দৃশ্যপটে হাজির হন আশরাফুল। আরও একটি পেনাল্টি কর্নার থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বাংলাদেশকে দ্বিতীয়বারের মতো লিড এনে দেন তিনি।
বিরতির ঠিক এক মিনিট আগে আবারও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় চাইনিজ তাইপে। এবার লো হাই-কাইয়ের ফিল্ড গোল থেকে স্কোরলাইন ২-২ করে ফেলে তারা। লিড পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে মরিয়া হয়ে আক্রমণ করে বাংলাদেশ।
শেষ পর্যন্ত ৩৮ মিনিটে ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোলটির দেখা পায় বাংলাদেশ। দুর্দান্ত এক ফিল্ড গোল থেকে বল জালে জড়িয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন নতুন মুখ মেহরাব হাসান সামিন। এই গোলেই শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

অবশেষে নিশ্চিত হলো ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমস হকিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ। বাছাইপর্বে স্থান নির্ধারণী পর্বের প্রথম ম্যাচে হংকং, চায়নাকে হারিয়ে মূল পর্বে খেলার টিকিট নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।
কুয়ালালামপুরে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের জয়টি অবশ্য সহজ ছিল না। নির্ধারিত সময়ে মূল ম্যাচ ৪-৪ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে গিয়ে ৩-২ গোলে জিতেছে বাংলাদেশ।
এই জয়ের সুবাদে বাছাইপর্বে অন্তত ষষ্ঠ হওয়া নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। আর এতেই মিলেছে মূল পর্বে খেলার টিকেট।
আরও পড়ুন
| বাংলাদেশের সঙ্গে ড্র করে এশিয়ান গেমসে উজবেকিস্তান |
|
বাছাইয়ে অংশ নিয়েছে মোট ৯টি দেশ। এর মধ্যে সেরা ৬ দেশ সুযোগ পাবে ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসের মূল পর্বে। গ্রুপ পর্বে তৃতীয় হওয়ার পর স্থান নির্ধারণী পর্বের (পঞ্চম থেকে অষ্টম) প্রথম ম্যাচ জিতে নিজেদের কাজ সেরেছে বাংলাদেশ।
শুক্রবার পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চাইনিজ তাইপের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে তাদেরকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছিলেন আমিরুল ইসলামরা।
হংকং, চায়নার বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে আশরাফুল ইসলাম করেন ২ গোল। এছাড়া আমিরুল ইসলাম ও রকিবুল করেন একটি করে গোল। পরে খেলা টাইব্রেকারে গড়ালে সেখানে ব্যবধান গড়ে জিতে যায় বাংলাদেশ।

থাইল্যান্ডে বড় ‘অঘটনের’ মুখোমুখি হলো বাংলাদেশ। যে উজবেকিস্তানকে আন্তর্জাতিক হকিতে স্রেফ গোলবন্যার সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা ছিল বাংলাদেশের অভ্যাস, আজ সেই দলটির বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করলেন আমিরুল-আশরাফুলরা।
এই ড্রয়ে সেরা চারে থেকে এশিয়ান গেমসে সরাসরি খেলার সুযোগ হারাল বাংলাদেশ। ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের তিনে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করল বাংলাদেশ। সমান পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় সেমিফাইনালে উঠেছে উজবেকিস্তান।
বাংলাদেশের সম্ভাবনা অবশ্য শেষ হয়ে যায়নি। স্থাননির্ধারণী ম্যাচগুলোতে ছয়ে থেকে শেষ করতে পারলেই টিকিট পাবে এশিয়ান গেমসের।
আরও পড়ুন
| মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ক্রীড়া দিবসে প্রতিমন্ত্রী |
|
বাছাই টুর্নামেন্টে বরাবরই দাপট দেখানো বাংলাদেশ এবার গিয়েছিল শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। গত ম্যাচে ২০ বছর পর শ্রীলঙ্কার কাছে হারের ক্ষতে আজ নতুন করে প্রলেপ দিল উজবেকিস্তান।
থাইল্যান্ডের এয়ারফোর্স হকি মাঠে আজ পুরো ম্যাচেই ছন্নছাড়া ছিল বাংলাদেশ। প্রথম কোয়ার্টারের ৭ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে দল। সমতা ফেরাতে হন্যে হয়ে লড়লেও উজবেকিস্তানের রক্ষণভাগ ভাঙতে ঘাম ঝরাতে হয়েছে।
চতুর্থ কোয়ার্টারের ২ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে আমিরুল গোল করে সমতা আনলেও জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় লিড আর নিতে পারেনি বাংলাদেশ। উল্টো একাধিক পেনাল্টি কর্নার পেয়ে ম্যাচে আধিপত্য বজায় রেখেছিল উজবেকরাই।