নারী হকির চ্যাম্পিয়ন বিকেএসপি। কিশোরগঞ্জকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক নারী ডেভেলপমেন্ট কাপ হকিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দে মাতে বিকেএসপির মেয়েরা। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই একতরফা প্রাধান্য দেখায় বিকেএসপি। ৩টি করে গোল করেন অর্পিতা পাল ও আইরিন আক্তার। ১টি করে গোল করেন জাকিয়া আফরোজ ও তন্নী খাতুন।
খেলা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন হকি ফেডারেশনের সভাপতি ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেহেরিয়ার এম হাসান। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৩০ গোল দিয়ে সেরা গোলদাতার পুরস্কার জেতেন বিকেএসপির অধিনায়ক অর্পিতা পাল। আর সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন কিশোরগঞ্জের অধিনায়ক ফারদিয়া আক্তার রাত্রি।
এবারের টুর্নামেন্টে অংশ নেয় বিকেএসপি ও ১০টি জেলা দল। দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে লিগ পদ্ধতিতে অংশ নেয় দলগুলো। দুই গ্রুপের শেরা চার দল খেলে সেমিফাইনালে। একমাত্র দল হিসেবে আসরের সবগুলো ম্যাচ জিতেছে বিকেএসপি। পুরো টুর্নামেন্টে ৭ ম্যাচে করেছে ১০২ গোল। খেয়েছে মাত্র ১টি গোল, ঠাকুরগাঁওয়ের বিপক্ষে।
আরও পড়ুন
হকি খেলোয়াড় কল্যাণ ঐক্য’র বিপক্ষে সেনাবাহিনীর জয় |
![]() |
অপ্রতিরোধ্য বিকেএসপি ডজন ডজন গোল দিয়েছে প্রতিপক্ষের জালে। ওদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি কেউ। পারবেই বা কিভাবে? বিকেএসপির চেয়ে সব দিক থেকেই পিছিয়ে বাকি দলগুলো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা দলের সাথে আসা এক কর্মকর্তা আক্ষেপ করে বলেন, ‘এই ধরনের টুর্নামেন্টে বিকেএসপি কেনো অংশ নেবে? বিকেএসপির সাথে কখোনোই অন্য দলগুলো পারবে না। এটা সবাই জানে। যদি প্রতিদ্বন্দিতা না হয় তাহলে তো টুর্নামেন্টও জমবে না।’ পাশেই দাঁড়ানো আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিকেএসপি দল হিসেবে না খেলে প্রতিটা দলে তাদের খেলোয়াড়রা খেলতে পারতো। তাহলে দলগুলো সমশক্তির হতো। প্রতিযোগিতা বাড়তো। আর আজকে যদি এই ট্রফিটা কোনো জেলা দল পেতো তাহলে সেই জেলায় হকির উন্মাদনা বাড়তো, কদর বাড়তো। হকির উন্নতি হতো।’
মেয়েদের ডেভেলপমেন্ট কাপ হকি শুরু হয় ২০২১ সাল থেকে। ২০২২ সালের পর এবার হলো তৃতীয় আসর। প্রথম আসরেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো বিকেএসপি। দ্বিতীয় আসরে প্রতিষ্ঠনটি অংশ নেয়নি। তবে বিকেএসপির খেলোয়ড়দের নিয়েই গঠন করা হয় হকি ফেডারেশন সবুজ ও লাল দল। সে দুইটা দলই জিতেছিলো চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপের শিরোপা। সুতরাং এখন পর্যন্ত বিকেএসপির গন্ডি পেরুতে পারেনি মেয়েদের এই টুর্নামেন্টের শিরোপা।
আরও পড়ুন
বিজয় দিবস হকিতে জয় পেয়েছে হকি খেলোয়াড় কল্যাণ ঐক্য পরিষদ |
![]() |
এবারের আসরে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। নারী হকির উন্নতিতে কাজ করতে চায় ব্যাংকটি। সমাপনী অনুষ্ঠানে ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেহেরিয়ার এম হাসান জেলা পর্যায়ে মেয়েদের হকি নিয়ে কাজ করার ইচ্ছার কথা জানান। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে ফেডারেশনকে। একইসাথে টুর্নামেন্টগুলো যেনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয় সে বিষয়টাও খেয়াল রাখতে হবে ফেডারেশনকে। না হলে জেলা দলগুলোর পাশাপাশি আগ্রহ হারাবে দর্শকরাও।
ভারতের উড়িষ্যায় আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে অনূর্ধ্ব-২১ আমন্ত্রণমূলক আন্তর্জাতিক হকি টুর্নামেন্ট। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য দু’দিন ব্যাপী খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম শেষ করল হকি একাডেমি এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।
সংস্থাটির উদ্যোগে ২৯ ও ৩০ আগস্ট হয় আবাসিক ওপেন ট্রায়াল। মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে হওয়া এই ট্রায়ালে কোচ হিসেবে ছিলেন সাবেক হকি খেলোয়াড় রফিকুল ইসলাম কামাল ও কোচ মওদুদুর রহমান শুভ।
ট্রায়ালে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার মোট ২০টি একাডেমির ৮৭ জন অনূর্ধ্ব-২১ হকি খেলোয়াড়। যারা দেশের বিভিন্ন জেলার হকি একাডেমি থেকে আগত প্রতিভাবান খেলোয়াড় (বিকেএসপির খেলোয়াড় ব্যতীত)। সেখান থেকে ৩৩জনকে বাছাই করা হয়েছে। এখান থেকে হকি একাডেমি এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের নামে একটি দল গঠন করা হবে বলে জানা যায়।
তবে বাছাই করা ৩৩ জনকে নিয়ে আপাতত ক্যাম্প করার সুযোগ পাচ্ছে না সংস্থাটি। কেননা মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে বর্তমানে চলমান আছে জাতীয় দলের ক্যাম্প (অনূর্ধ্ব-২১)। তবে ৩৩ জন খেলোয়াড় নিয়ে বিকেএসপিতে কোনো ক্যাম্প করা যায় কি না সে বিষয়ে ভাবা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
লিটনের উত্তাল ব্যাটে বাংলাদেশের ঝড়ো সূচনা |
![]() |
শনিবার টি-স্পোর্টসকে এমনটাই জানিয়েছেন সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী খান পিয়াল। এছাড়া বাছাইকৃত খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ হচ্ছে। নিজ নিজ জেলার একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে সেসব ভিডিও খেলোয়াড়দের দিতে হবে ওই গ্রুপে।
বর্তমানে ৪৫ জন অনূর্ধ্ব-২১ পর্যায়ের হকি খেলোয়াড় নিয়ে ক্যাম্প চলমান হকি স্টেডিয়ামে। সেখানে মাত্র একজন খেলোয়াড়ই বিকেএসপির বাইরের। সামনে এই জায়গাটাতে পরিকর্তন আসতে পারে বলে মনে করেন কিংবদন্তি হকি তারকা কামাল।
শনিবার সন্ধ্যায় টি-স্পোর্টসের সঙ্গে আলাপে তিনি জানিয়েছেন দেশের আনাচে কানাচে থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বের করাই তাদের লক্ষ্য।
আরও পড়ুন
শিরোপা উদযাপনে নিহতদের পরিবারে বেঙ্গালুরুর আর্থিক সহায়তা |
![]() |
“বিকেএসপি ছাড়া কোনো খেলোয়াড় পাওয়ার সুযোগ নেই এটা আমরা মনে করতাম। কিন্তু এই বাছাইয়ে থাকতে পেরে বুঝতে পারলাম যে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে। অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় দেখলাম। তারা আগামী দিনের কান্ডারি হতে পারে। সব কিছু মিলিয়ে এটি দারুণ উদ্যোগ।“
হকি একাডেমি এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ ২০২৩ সাল থেকে তৃণমূল হকির উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে এসোসিয়েশনটি সারা দেশের ২০টি হকি একাডেমির সঙ্গে সমন্বয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই ২০টি একাডেমি থেকেই খেলোয়াড়রা ওপেন ট্রায়ালে অংশগ্রহণ করছে।
বাংলাদেশের হকি খেলাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সমৃদ্ধ ও প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। হকি একাডেমি এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ২০২৩ সাল থেকে প্রতি বছর অনূর্ধ্ব ২১ যুব একাডেমি কাপ, নারী হকি একাডেমি কাপ ও বিচ হকি টুর্নামেন্ট আয়োজন করে থাকে।
শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে বাংলাদেশ, সুফল মিলতেও তাই দেরি হয়নি। ধারার বিপরীতে গিয়ে ম্যাচ ফেরে চাইনিজ তাইপে। এরপর এগিয়েও যায় দলটি। আগের ম্যাচে এগিয়ে গিয়ে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হেরেছিল বাংলাদেশ, আবার তেমন হারের চোখরাঙানি নয়ত? এমন দুশ্চিন্তা দূর করতে সময় নেয়নি তারা। ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত চাইনিজ তাইপেকে ৮-৩ গোলে বিধ্বস্ত করেছে মশিউর রহমান বিপ্লবের শিষ্যরা।
ভারতের বিহারে রাজগীর স্পোর্টস হকি কমপ্লেক্সে বাংলাদেশের বাধা শুধু তাইনিজ তাইপে ছিল না, পরীক্ষা নিয়েছে ৩২ ডিগ্রি তাপমাত্রার গরমও। প্রথম দুই কোয়ার্টারে সমানতালে লড়ে দুই দল। পরের দুই কোয়ার্টারে স্রেফ বাংলাদেশের আধিপত্য। খেলায় দুটি করে গোল করেন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, রাকিবুল হাসান রকি ও আশরাফুল ইসলাম। একবার করে প্রতিপক্ষের জাল কাঁপান সোহানুর রহমান সবুজ ও অধিনায়ক রেজাউল করিম বাবু।
চতুর্থ মিনিটে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন আব্দুল্লাহ। সোহানুর রহমান সবুজের পাস থেকে রিভার্স হিটে জাল কাঁপান তিনি। ১০ মিনিটে দূরপাল্লার শটে চাইনিজ তাইপেকে সমতায় ফেরান ইউ সুং সিয়ে। ১৩ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার পায় বাংলাদেশ। তবে আশরাফুলের ড্রাগ ফ্লিক সহজেই ঠেকান চায়নিজ তাইপের গোলরক্ষক ওয়েই ইউ সিয়েন।
আরও পড়ুন
শেষ মুহূর্তে চেলসি ফরোয়ার্ডকে ছিনিয়ে নিল মিলান |
![]() |
দ্বিতীয় কোয়ার্টারের তৃতীয় মিনিটে পরপর দুটি পেনাল্টি কর্নার পায় চায়নিজ তাইপে। প্রথমবার জাল খুঁজে না পেলেও দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে গোল করেন সিয়েন। ডান পাশের দূরূহ কোণে জাল খুঁজে নিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ১-২ ব্যবধানে।
মনে হচ্ছিল, দ্বিতীয় কোয়ার্টার শেষ করার আগে হয়ত পিছিয়েই থাকবে বাংলাদেশ। সেটি হতে দেননি আব্দুল্লাহ। ২৬ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে আশরাফুলের বাড়ানো পাসে আলতো ছোঁয়ায় বল জালে পাঠান তিনি। ২-২ ব্যবধানে ড্র নিয়ে বিরতিতে যায় তারা।
তৃতীয় কোয়ার্টারে একক আধিপত্য বিস্তার করে বাংলাদেশ। ৩৬ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে দুর্দান্ত ড্রাগ ফ্লিকে ব্যবধান ৩-২ করেন সবুজ। এরপর একই মিনিটে জোড়া গোল করেন রকি। দুটো গোলই আসে ৪২ মিনিটে। প্রথমটি মেহেদীর পাস থেকে। আর দ্বিতীয় গোলে অবদান কেবল তাঁরই। ৪৫ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে জোরালো শটে দলের ষষ্ঠ গোলটি করেন আশরাফুল।
আরও পড়ুন
একগাদা টেস্ট ক্রিকেটার নিয়েও ‘এ’ দলের ইনিংস হার |
![]() |
শেষ কোয়ার্টারে তিনটি পেনাল্টি কর্নারের দুটি থেকে গোল আদায় করে বাংলাদেশ। ৫৬ মিনিটে গোলের খাতায় নাম লেখান অধিনায়ক বাবু। যদিও পেনাল্টি কর্নার থেকে ড্রাগ ফ্লিক করেছিলেন আশরাফুল। তাঁর শট বাবু স্টিক ছুঁয়ে আশ্রয় নেয় জালে। দুই মিনিট পর নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান আশরাফুল। ৬০ মিনিটে চায়নিজ তাইপে এক গোল পরিশোধ করলেও তা শুধু ব্যবধানই কমিয়েছে।
সোমবার ‘বি’ গ্রুপ থেকে শেষ ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম ম্যাচে গতকাল মালয়েশিয়ার কাছে ৪-১ গোলে হার মানে বাংলাদেশ দল। এই গ্রুপ থেকে তিন পয়েন্ট করে পেয়েছে তিনটি দল দক্ষিণ কোরিয়া, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ ম্যাচ খেলেছে দুটি। চাইনিজ তাইপে দুই খেলায় দুটিতেই হেরেছে।
এশিয়া কাপ হকিতে বাংলাদেশের শুরুটা হলো বেশ হতাশার। র্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা মালয়েশিয়ার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৪-১ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়লেন আশরাফুল-রেজাউলরা। বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন আশরাফুল ইসলাম। তাঁর গোলেই প্রথমে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ, পরে নিজেরা হজম করল এক হালি।
ভারতের রাজগীরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে র্যাঙ্কিংয়ে ১২ নম্বরে থাকা মালয়েশিয়ার বিপক্ষে শুরুটা ভালোই হয়েছিল ২৯তম নম্বরে থাকা বাংলাদেশের। প্রথম কোয়ার্টারে ছিল গোলশূন্য ড্র। ম্যাচের ৫ মিনিটেই মালয়েশিয়ার পেনাল্টি কর্নার থেকে সাঈদ চোলানের শট দারুণভাবে ঠেকান গোলরক্ষক বিপ্লব কুজুর।
আরও পড়ুন
এশিয়া কাপ খেলতে ভারতের পথে হকি দল |
![]() |
দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আক্রমণাত্মক শুরু করে বাংলাদেশ। ১৬ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন আশরাফুল। ২৫ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলে গোল পেয়ে সমতায় ফেরে মালয়েশিয়া।
তৃতীয় কোয়ার্টারে শুরুতে বিপ্লবের দুর্দান্ত সেভে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু ৩৬ মিনিটে আনুয়ারের শটে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া। তারপর বেশ কয়েকবার সুযোগ পেলেও নিজেদের জাল সামাল দিতেই বেশি হিমশিম খেতে হয় বাংলাদেশকে।
শেষ কোয়ার্টারে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। পরপর দুটি পেনাল্টি কর্নার পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি আশরাফুল। উল্টো ৪৮ ও ৫৪ মিনিটে দুটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে মালয়েশিয়া।
তিন বছর আগের এশিয়া কাপে মালয়েশিয়ার কাছে ৮-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার ব্যবধান কিছুটা কমালেও, হার এড়ানো গেল না। প্রতিযোগিতায় কাল চায়নিজ তাইপের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
ভারতে শনিবার শুরু হবে এশিয়া কাপ হকি। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় দেশ ছেড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। খেলাগুলো হবে রাজগীর শহরের বিহার স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি হকি স্টেডিয়ামে। প্রতিযোগিতার পর্দা নামবে ৭ সেপ্টেম্বর।
রাতের মধ্যে বিহারে পৌঁছে উদ্বোধনী দিনে মাঠে নামবে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া। ‘বি’ গ্রুপ থেকে ৩০ আগস্ট বাংলাদেশকে মোকাবিলা করবে চাইনিজ তাইপে। ১ সেপ্টেম্বর গ্রুপের শেষ ম্যাচে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা মাঠে নামবে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে।
৮ দলের এই প্রতিযোগিতার আরেক গ্রুপে আছে স্বাগতিক ভারত, চীন, জাপান ও কাজাখস্তান। পয়েন্টে ভিত্তিতে দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল খেলবে সেমিফাইনালে।
আরও পড়ুন
হকিতে হট্টগোল, খেলোয়াড়দের সম্মানহানির অভিযোগ |
![]() |
হকি এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে ২০২৬ সালের হকি বিশ্বকাপে। বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ থাকবে এই প্রতিযোগিতার ২ থেকে ৫ নম্বর দলেরও। তার আগে অবশ্য বাছাইপর্ব পেরোতে হবে।
হকি এশিয়া কাপে বাংলাদেশ সুযোগ পায় মূলত পাকিস্তান নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায়। আকস্মিক পাওয়া সুযোগ কাজে লাগানোর কথা বলেন দলের খেলোয়াড়েরা। সেরা চার-পাঁচে থেকে বিশ্বকাপ বাছাই খেলার লক্ষ্য মশিউর রহমান বিপ্লবের দলের।
তবে কঠিন এই প্রতিযোগিতার আগেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ১৮ সদস্যের দল থেকে এক সঙ্গে বাদ দেওয়া হয় চার সিনিয়র সদস্যকে— পুস্কর খিসা মিমো, মঈনুল ইসলাম কৌশিক, নাঈম উদ্দিন ও আবেদ উদ্দিন।
বাদ পড়ার কারণ জানেত চাইলে গত মঙ্গলবার রাতে ঘটে অনভিপ্রেত ঘটনা। খেলোয়াড়দের অশ্রাব্য ভাষায় গালির অভিযোগ ওঠে হকি ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর তপনের বিরুদ্ধে। পরে তার অপসারণ দাবিতে জাতীয় স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনও করেন মিমো, নাঈমরা।
এশিয়া কাপ হকির প্রাথমিক দলে রাখা হয়নি পুস্কর খিসা মিমো, মঈনুল ইসলাম কৌশিক, নাঈম উদ্দিন ও মাহবুব হোসেনদের মতো সিনিয়রদের। বাদ পড়াদের অভিযোগ- কেবল অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়াই নয়, বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের (বাহফে) কর্মকর্তা আবু জাফর তপনের কাছ থেকে প্রকাশের অযোগ্য গালি এবং সম্মানহানির শিকার হয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার রাতে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসানের রুমে ঘটে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। জানা যায়, রিয়াজুলের সঙ্গে কথা বলার সময় রুমে ঢোকেন জাতীয় দল নির্বাচক কমিটির সদস্য ও ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আবু জাফর তপন। তার সঙ্গেই কথা বলতে গেলে এক পর্যায়ে তিনি নাঈমে অশ্রাব্য ভাষায় গালি দেন।
আরও পড়ুন
হকি এশিয়া কাপে নেতৃত্বে বাবু, বাদ মিমোসহ চার সিনিয়র |
![]() |
টি-স্পোর্টসের সঙ্গে আলাপে মিমো জানিয়েছেন এই কথা।
“আমাদের মনে হয়েছিল টিম ঘোষণায় অন্যায় করা হয়েছে এবং আমরা ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার। তাই সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলার সময় রুমে ঢোকেন তপন ভাই। তখন সেক্রেটারি তপন ভাইকে বলেন, ওরা কী বলছে শোনেন। পরে ওনার সঙ্গে কথা বলতে গেলে তর্কাতর্কি শুরু হয়।”
“নাঈমকে অশ্রাব্য ভাষায় গালি দেন তপন ভাই। নাঈম এটা মেনে নিতে পারেনি। তখন ও তপন সাহেবকে বলে, কোনো খেলোয়াড়কে এভাবে আপনি গালি দিতে পারেন না। তারপর এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তিও হয়।”
আরও পড়ুন
হাঁটুর চোটে মাঠের বাইরে কাই হাভার্টজ |
![]() |
যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই তপন অবশ্য গালি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় ফোন করলে এই প্রতিবেদককে বলেন,
“ওরা সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলতে এসেছিল এটা ঠিক। তাদেরকে কেন রাখা হয়নি এটা জানতে চেয়েছে ওরা। এখন কথা যখন হয়, তখন সবকিছু নরমাল হয় না, অনেক সময় উত্তেজিত হয়ে কথা হয়; সেরকমই কথা হয়েছে।”
ঘটনা কেবল উত্তেজিতের মধ্যেই থেকেছে নাকি আপনি নির্দিষ্ট কোনো গালি দিয়েছেন তাদের? এমন প্রশ্নে তপন বলেন,
“অনেক সময় যেটা হয়, রাগের মাথায় মানুষ উচ্চস্বরে কথা বলে এরকম কিছু কথা হয়েছে।”
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ অস্বীকার করায় বরং অবাক হয়েছেন নাঈম। টি স্পোর্টসের সঙ্গে কথোপকথনে তিনিও মিমোর মতো একই অভিযোগ করেন।
“(তপনের বক্তব্য) সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ব্যাপারে আমরা লিখিত অভিযোগ দেবো।”
এরপর জানান দল থেকে বাদ পড়েছেন বলে কোনো ক্ষোভ নেই তার।
“দল থেকে বাদ পড়েছি এটা নিয়ে স্বাভাবিক আছি। কিন্তু কষ্ট লাগছে আমাদের সর্বশেষ ট্যুরের (এএইচএফ কাপ) ক্ষোভ এখানে টেনে আনা হয়েছে। আমরা ওনার (তপন) ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়েছি।”
No recent posts available.