২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পর 'ক্রীড়া হলে পেশা পরিবার পাবে ভরসা'-এই শ্লোগানে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে উজ্জীবিত করতে চাইছেন আমিনুল হক। সাফ জয়ী ফুটবল দলের অধিনায়ক অমিনুল হক এই শ্লোগানে ক্রীড়াঙ্গনকে আমূল বদলে দিতে একটার পর একটা সভা এবং মত বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চলেছেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়ের মধ্য দিয়ে শুরু ভবিষ্যত কর্মকান্ডের একটা গাইড লাইন পেয়েছেন। পরদিন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) অধিভুক্ত ৫২টি ক্রীড়া ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসে এদেশের ক্রীড়াঙ্গনে উন্নতির অন্তরায়সমূহ জেনে নিয়েছেন। তাঁর পরদিন দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে পুরোপুরি পেশাদারিত্বের উপর দাঁড় করাতে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে বসে তাঁদের সহযোগিতা চেয়েছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্রীড়াদল সেমিনার আয়োজনের মধ্য দিয়ে ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছে।
প্রচলিত সেমিনারের ধরণের চেয়ে ব্যতিক্রম ছিল এই সেমিনারটি। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করা হয়নি। সুতরাং মূল নিবন্ধের উপর আলোচনার সুযোগ ছিল না আলোচকদের। বক্তাদের প্রত্যেকের জন্য নির্দ্দিষ্ট ছিল ৩ মিনিট। এই সময়ের মধ্যে যে যার মতো বক্তব্য দিয়েছেন। যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী যেসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন, সেই ৯টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচকদের অধিকাংশ ছিলেন ক্রীড়া চিকিৎসক, বিভিন্ন পাবলিক এবং বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট এবং ক্রীড়া পরিদপ্তরের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা। এর বাইরে ৩ জন সাংবাদিক, ৪টি ফেডাশেনের কর্মকর্তা করেছেন আলোচনা। বক্তাদের বক্তব্যে ৪র্থ শ্রেনী থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করতে শিক্ষাক্রমে খেলা সংযুক্ত করার প্রস্তাব উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সঙ্গে এমওইউ করে সকল খেলায় পেশাদারিত্ব প্রবর্তনের কথা উঠেছে। দেশের সকল ফেডারেশনে মেডিকেল সেন্টার স্থাপন, খেলোয়াড়দের বীমার আওতায় আনার প্রস্তাবও উঠেছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে স্পোর্টসের উপর বিষয় উচ্চতর শিক্ষার সুযোগের দাবি উঠেছে। দেশে বিশ্বমানের ক্রীড়া সরঞ্জাম শিল্প গড়ে তুলে দেশের ক্রীড়াবিদদের চাহিদা সংকুলান করে বিদেশে রপ্তানীর আইডিয়াও এসেছে এই সেমিনার থেকে। এক সময়ে দেশের বেশ ক'টি সংস্থা ক্রীড়াবিদদের চাকরির নিশ্চয়তা দেয়ায় ক্রীড়াবিদরা পেয়েছে রুটি রুজির নিশ্চয়তা, বিটিএমসি, বিজেএমসির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর ক্রীড়াবিদদের পরিচর্যা করে না। সত্তর থেকে নব্বই দশকের সেই চেহারা ফিরিয়ে আনতে যুবও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে সংস্থাসমূহকে রাজি করানোর প্রস্তাবও উঠেছে। নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য পৃথক ট্রেনিং সুবিধা নিশ্চিতের দাবিও উঠেছে। জাতীয় খেলা কাবাডির সমৃদ্ধ অতীত ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত: একটি মাঠকে কাবাডির জন্য নিদ্দিষ্ট করা, আন্ত ইউনিয়ন, আন্ত উপজেলা, আন্ত জেলা কাবাডি আয়োজনের প্রস্তাব এসেছে। তিন ঘন্টার এই সেমিনারে দেশের ক্রীড়ার ভৌত অবকাঠামোর রুগ্ন চিত্র তুলে ধরেছেন সাংবাদিক শামীম চৌধুরী। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে পরিকল্পিত এবং উন্নত ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণে ক্রীড়াবিদদের ক্রীড়া চর্চার সুযোগ তৈরি করে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দলের আহ্ববায়ক উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ড মাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ এই সেমিনারকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেছেন-
'আজ আলোচকরা যা বলেছেন, এখান থেকে যদি কিছুটা নিতে পারি, তাহলে এদেশের ক্রীড়াঙ্গনে পেশাদারিত্ব আনা সম্ভব।'
সেমিনারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দলের সদস্য সচিব জাহিদ পারভেজ চৌধুরী, বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ সোহেল, ডা. অনুপম হোসেন, মোহাম্মদ ওসমান, নয়না চৌধুরী, ড. মুহাম্মদ আর এফ এ জামান, ড. আসাদুর রহমান, হৃদয় নন্দিতা রিনি, মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মাহামুদুল আলম সুমন, মোয়াজ্জেম হোসেন সেন্টু, আব্দুল জলিল, সৈয়দ নুরুজ্জামান, কামরুন্নাহার ডানা, নিয়ামুর রশিদ রাহুল এবং ক্রীড়া সাংবাদিক পরাগ আরমান, শামীম চৌধুরী ও রায়হান আল মুঘনি এই সেমিনারে আলোচনা করেছেন।
এই সেমিনার শেষে জাতীয়বাদী ক্রীড়া দলের ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়েছেন যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
No posts available.
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২:০৯ পিএম
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩:১৯ পিএম

আগামী ২২ এপ্রিল থেকে চীনের হাইনান প্রদেশের সানিয়া শহরে শুরু হতে যাচ্ছে ৬ষ্ঠ এশিয়ান বীচ গেমস। মর্যাদাপূর্ণ এই আসরে অংশ নিতে দেশ ছাড়ার আগে আজ বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) এবং বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সভাপতি মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ পুরুষ ও নারী কাবাডি দলের খেলোয়াড়রা।
সাক্ষাৎকালে আইজিপি খেলোয়াড়দের মনোবল বৃদ্ধিতে উৎসাহ প্রদান করেন এবং বিদেশের মাটিতে দেশের সম্মান বজায় রেখে সেরাটা খেলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ, যুগ্ম সম্পাদক ও টিম অফিসিয়াল পুলিশের ডিআইজি ইসরাইল হাওলাদার, সদস্য ও পুরুষ দলের কোচ বাদশা মিয়া, নারী দলের কোচ শাহনাজ পারভীন মালেকা এবং ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান চুন্নুরা উপস্থিত ছিলেন।

পান্তা-ইলিশ, ঢাক-ঢোল আর উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করে নিল ক্রীড়াঙ্গন। রাজধানীর পল্টন ময়দানে আজ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় ‘কিউট বৈশাখী ক্রীড়া উৎসব’। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, বাঙালির লোকজ ঐতিহ্য ও গ্রামীণ খেলাধুলাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে সরকার বদ্ধপরিকর, ‘মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সহযোগীদের সমন্বয়ে আগামী বৈশাখ থেকে দেশের প্রতিটি জেলায় এই ধরণের গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসব আয়োজন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য নতুন প্রজন্মের কাছে হাড়িয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোকে পরিচিত করা।’
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নারী ক্রীড়াবিদদের উন্নয়নে সরকারের বিশেষ গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের ক্রীড়াঙ্গনে সমভাবে এগিয়ে নিতে বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। নারী ক্রীড়া সংস্থার জন্য খুব শীঘ্রই একটি বড় ধরনের বিশেষ ঘোষণা আসার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘নারী ক্রীড়াবিদদের নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে, যা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করা হবে।’
খেলাধুলাকে সামাজিক পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাধুলা ও উৎসবের মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে হবে। সমাজের সকল বিশৃঙ্খলা দূর করে একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা মননশীলতা, আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গঠন করে এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।’
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোঃ মাহবুব-উল-আলম। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী প্রচণ্ড দাবদাহ ও গরমের মধ্যেও ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার জন্য উপস্থিত দর্শক ও ক্রীড়াবিদদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এরপর তিনি ‘কিউট বৈশাখী ক্রীড়া উৎসব’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। দিনব্যাপী এই উৎসবে বিভিন্ন গ্রামীণ ও লোকজ খেলাধুলার পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড প্রদর্শিত হয়।

রাজধানীর পূর্বাচলে বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে ফর্টিস গ্রুপ গড়ে তুলেছে আধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স। যার নাম দিয়েছে ফর্টিস জলসিড়ি গ্রাউন্ড। যেখানে ইতোমধ্যে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টনসহ নানা খেলাধুলার অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। এবার সেই কমপ্লেক্সে একেবারেই নতুন একটি খেলা যুক্ত করেছে দেশের শীর্ষ এই শিল্পগোষ্ঠী। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো তারা প্রতিষ্ঠা করেছে ইকুয়েস্ট্রিয়ান (অশ্বারোহী) ক্লাব।
অলিম্পিক গেমসের অন্তর্ভুক্ত হলেও ইকুয়েস্ট্রিয়ান খেলা বাংলাদেশে এখনও সেভাবে পরিচিত নয়। তবে বিশ্বজুড়ে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সাধারণত অভিজাত শ্রেণির মানুষদের মধ্যেই বেশি প্রচলিত। এই খেলাটিকে দেশের মানুষের কাছে পরিচিত ও জনপ্রিয় করে তুলতেই ফর্টিস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন নিয়েছেন এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
প্রাথমিকভাবে তিনটি ভারতীয় ঘোড়া দিয়ে ফর্টিস ইকুয়েস্ট্রিয়ান ক্লাবের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে ইউরোপ থেকে উন্নত জাতের ঘোড়া আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি হর্স পোলো চালুর ব্যাপারে আশাবাদী ক্রীড়াপ্রেমী উদ্যোক্তা। ফর্টিস গ্রুপের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছে ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ইকুয়েস্ট্রিয়ান অ্যাসোসিয়েশনও।
সোমবার ফর্টিস ইকুয়েস্ট্রিয়ান ক্লাবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাহাদাত হোসেন জানান, ছোটদের মধ্যেই ঘোড়সওয়ারি শেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ভবিষ্যতে যেন এই শিশুরাই আন্তর্জাতিক আসরে, বিশেষ করে অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। তিনি বলেন,
‘বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রেই এখনও পিছিয়ে। অথচ বিশ্বজুড়ে হর্সরাইডিং ও হর্স পোলো খুবই জনপ্রিয়। আমাদের দেশে এসবের কোনো ক্লাব বা প্রতিযোগিতা নেই। তাই নতুন প্রজন্মকে ভিন্নধর্মী একটি খেলায় যুক্ত করতেই এই ক্লাব শুরু করেছি।’
আপাতত ঢাকার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের ঘোড়া পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানা যায়। ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে ক্লাবটির, যাতে শিশুদের আগ্রহ জন্মে।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা ফরিদুল আকবর ২০০৯ সালে ভারতে ইকুয়েস্ট্রিয়ান খেলা দেখে দেশে একটি সংস্থা গড়ে তুলেছিলেন। তবে নানা সীমাবদ্ধতায় সেটি সক্রিয়ভাবে এগোতে পারেনি। অল্প কিছু রাইডার ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিদেশে গিয়ে বা অনলাইনে প্রশিক্ষণ নিয়ে এই খেলা শিখেছেন। ফর্টিস গ্রুপের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন,
‘একজন মানুষ এই খেলাকে এগিয়ে নিতে এগিয়ে এসেছেন, এটা বড় বিষয়। তার নেতৃত্বে দেশে আরও ক্লাব ও ব্রিডিং ফার্ম গড়ে উঠবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
বাংলাদেশ ইকুয়েস্ট্রিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি এবং পেশাদার হর্স রাইডার তাহিয়া ইসলাম জানান দেশে এই খেলার কোনো শক্ত প্ল্যাটফর্ম না থাকায় অ্যাসোসিয়েশন গঠন করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়,
‘আমরা চাই মানুষ জানুক, এটাও একটি সম্ভাবনাময় খেলা। আমাদের অনেক প্রতিভাবান রাইডার রয়েছে, যারা সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ভালো করতে পারবে।’
ফর্টিস ক্লাবকে আন্তর্জাতিক মানের বলে অভিহিত করে তাহিয়া বলেন,
‘আমি বিভিন্ন দেশের রাইডিং ক্লাব দেখেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এখানকার সুবিধা অনেক উন্নত।’
এতদিন ফুটবলের জন্যই বেশি পরিচিত ছিল ফর্টিস। দেশের শীর্ষ লিগে কয়েক বছর ধরে খেলছে দলটি এবং বর্তমান মৌসুমে শিরোপা লড়াইয়েও রয়েছে। পাশাপাশি তাদের যুব একাডেমি থেকে নিয়মিত প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসছে। এবার ঘোড়সওয়ারি খেলাতেও অবকাঠামো গড়ে তুলে এই খেলাকে জনপ্রিয় করতে চায় তারা।

পাকিস্তানের মাটিতে স্বর্ণপদক জিতে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে ফিরছিলেন দুই শাটলার সিফাত উল্লাহ গালিব ও নাজমুল ইসলাম জয়। সেই বিমানেই ছিলেন সাবেক ক্রিকেটার সানোয়ার হোসেন। স্বর্ণজয়ী দুই তরুণ ক্রীড়াবিদকে স্বাগত জানিয়ে বিমানেই কেক কাটলেন সানোয়ার। সেই আয়োজন যাত্রী এবং খেলোয়াড়দের জন্য ছিল আবেগঘন এক মুহূর্ত। ৯ এপ্রিল বিমান থেকে নামার পর ফেডারেশনের পক্ষ থেকেও অভ্যর্থনা জানানো হয় কোচ, খেলোয়াড়দের। তারপরও কিছুটা আড়ালেই রয়ে গেছে বিদেশের মাটিতে দুই শাটলারের সোনালি অর্জন।
বাংলাদেশের ব্যাডমিন্টনে বিদেশের মাটিতে স্বর্ণজয় সচরাচর হয় না। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে এর আগে ২০২২ সালে ভারতের আসামে সাউথ এশিয়ান রিজিওনাল চ্যাম্পিয়নশিপের অনূর্ধ্ব-১৫-তে স্বর্ণ জেতেন গালিব। দ্বৈতে সেবার তাঁর সঙ্গী ছিলেন মুস্তাকিম হোসেন। পাকিস্তানে এবার একই টুর্নামেন্টের অনূর্ধ্ব-২৩ ক্যাটাগরিতে জয়কে নিয়ে দ্বৈতে সেরার মুকুট জিতলেন চট্টগ্রাম থেকে উঠে আসা এই শাটলার। এই প্রতিযোগিতাতেই সিঙ্গেলসে ব্রোঞ্জ জেতেন গালিব। টুর্নামেন্টে দুজন খেলোয়াড় পাঠিয়ে একটি স্বর্ণ এবং একটি ব্রোঞ্জ জয় দেশের ক্রীড়ায় অসাধারণ অর্জন।
কিন্তু গালিব-জয়দের অর্জনের এই পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। ফাইনালে তাঁরা পেয়েছিলেন নেপালের অন্যতম সেরা জুটি প্রিন্স দাহাল ও ক্রিস্তিজ কাহালকে। দাহাল জুনিয়র পর্যায়ে বিশ্বের এক নম্বর শাটলার ছিলেন। প্রথম সেট হারার পর দ্বিতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়ায় নেপাল। তবে শেষ সেট জিতে সোনার মেডেল নিশ্চিত করেন গালিব ও জয়। সেই মধুর মুহূর্তের ঘোর থেকে এখনো বেরোতে পারেননি জয়, ‘ফাইনালের আগে একটু চিন্তিত ছিলাম। তার ওপর প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী। তবে আমাদের চেষ্টা ছিল যেভাবেই হোক ম্যাচটা বের করবো। ইতিবাচক খেলার চেষ্টা করবো। আলহামদুলিল্লাহ আমরা পেরেছি। মেডেল পাওয়ার পর আমাদের অনুভূতিটা ছিল অন্যরকম। পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছি, সেই অনুভূতিটা বলে বোঝানোর মতো নয়।’
আরও পড়ুন
| একের পর এক চোট, বিশ্বকাপের আগে দুঃসময়ে আর্জেন্টিনা |
|
জয়ের মতো একই অনুভূতি গালিবেরও। জাতীয় দলের এই শাটলার বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস ছিল পারব। তবে দ্বিতীয় সেট হারার পর একটু চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত জিততে পেরে খুশি।’
ময়মনসিংহের শেরপুর থেকে উঠে এসেছেন জয়। গালিবের নিজ ঠিকানা চট্টগ্রামে। পাকিস্তান সফরের আগে দুজন একসঙ্গে বড় কোনো প্রতিযোগিতায় খেলেছেন আরও ৪ বছর আগে, জাতীয় জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে। দীর্ঘদিন পর জুটি বেঁধে সফলতা পেয়েছেন তাঁরা। দুজনের উঠে আসার গল্পটাও ভিন্ন। পরিবারিক টানাপোড়েন বেড়ে উঠেছেন জয়। বাবা ঢাকার উত্তরায় মাছের ব্যাবসা করেন। খেলাধুলার জন্য সেভাবে পাননি সমর্থন।
ক্রীড়া বিজ্ঞান নিয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটেতে দ্বিতীয় বর্ষে আছেন জয়। নিজের পড়াশোনার খরচ, পাশাপাশি অনুশীলনের জন্য আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কিনতে হিমশিম খেয়েছেন। যে কারণে মাঝে দুই বছর খেলা থেকে অনেকটা দূরেই ছিলেন এই শাটলার। তবে ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের বর্তমান সেক্রেটারি রাসেল কবির সুমন আবার তাঁকে সুযোগ করে দেন। অনুশীলনের জন্য শ্যামলিতে নিজের একাডেমিতে নিয়ে যান। আনুষঙ্গিক সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থাও করে দেন। তারই সুফল পেলেন সাউথ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে।
ক্রীড়ানুরাগী পরিবারে বেড়ে উঠেছেন গালিব। বাবা সৈয়দ সারোয়ার আলম চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থায় চাকরিরত। বড় ভাই সাবেক ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়, বর্তমানে লেভেল টু কোর্স করা কোচ। মেজো ভাই সিদগাত উল্লাহ বর্তমান জাতীয় দলের খেলোয়াড়। জিতেছেন ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ। বড় বোন সাদিয়া সুলতানা দুই বছর আগে পরলোকগমন করেছেন। সুখ্যাতিসম্পন্ন এই শ্যুটার ২০১০ সালে ঢাকায় এসএ গেমসে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে শারমিন রত্নার সঙ্গে সোনা জিতেছিলেন। তিন বছর পর বাংলাদেশ গেমসেও স্বর্ণপদক জিতেছিলেন তিনি। আরেক বোন সৈয়দা সাইমা সুলতানা। সেও শ্যুটার। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ মেডেল জিতেছেন তিনি।
ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারে জন্ম হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই গালিব ধ্যানজ্ঞান করেছেন ব্যাডমিন্টনে। এ জন্য পড়াশোনায় সেভাবে মনোযোগী হতে পারেননি। উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হওয়ার পরও আগায়নি তাঁর পড়াশোনা। তবে জানালেন পড়াশোনাটা চালিয়ে যাবেন। আপাতত ব্যাডমিন্টনে ফোকাস। গালিবের শুরুটা চট্টগ্রামের নিখিল চন্দ্রধর একাডেমি থেকে। এখন স্বপ্ন বাংলাদেশের হয়ে যেতে চান বহুদূর। কিন্তু সেই কঠিন পথ পাড়ি দেওয়া যে কতটা কঠিন তাও জানেন তিনি। দেশের ব্যাডমিন্টনে করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা পিছিয়ে পড়ছি একমাত্র স্পন্সরের (পৃষ্ঠপোষক) কারণে। আমাদের কোনো স্পন্সর নেই। আপনি জানেন যে বিদেশে গিয়ে বেশি বেশি না খেললে র্যাঙ্কিং বাড়ানো সম্ভব না। আর সেটা না হলে বিশ্বকাপের স্বপ্নও দেখা সম্ভব না। কারণ এখানে অনেক খরচের ব্যাপার আছে।’
পাকিস্তান সফর শেষ মুহূর্তে ঠিক করা হয়। বিশ্ব পরিস্থিতি যখন টালমাটাল সেই সময়ে দেশের বাইরে খেলোয়াড় পাঠানোর মতো অবস্থায় ছিল না ফেডারেশন। অনেকেই বলেন এবার খেলোয়াড়দের অনেকটা নিজ খরচে পাকিস্তান পাঠিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক রাসেল কবির সুমন। সেইসঙ্গে নিয়মিতই খোঁজ-খবর রেখেছেন দলের। তার প্রতিও কৃতজ্ঞতা দুই শাটলারের। জয় বলেন, ‘আসলে আমাদের ফেডারেশনের কাছে কিছু চাওয়ার নেই। না চাইতেই তারা বেশি দিচ্ছে। তবে বলব সরকার যদি আমাদের দিকে একটু নজর দিতো, তবে আমরা আশাবাদী হতাম। ইতিমধ্যে ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়া ভাতা প্রদান করছে সরকার। এজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককে ধন্যবাদ। আশা করব আমাদের কথাও ওনারা বিবেচনা করবেন।’
ব্যাডমিন্টন খেলে সেভাবে উপার্জন হয় না। বাধ্য হয়েই শাটলাররা শীতের সময়টা খ্যাপ খেলে বেড়ান। সেই তিন মাসে যা আয় হয়, তা দিয়েই কষ্ট-ক্লেশ করে বছর চালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু খেলাটাকে পেশা হিসেবে নিতে হলে আয়ের কথাও ভাবতে হবে। গালিবের ভাষ্য, ‘ছোটবেলা থেকে যখন খেলি, তখন আয়ের ব্যাপারটা জানতাম না। সেভাবে কখনও অনুভবও করিনি। কিন্তু এই খেলাটা অনেক ব্যয়বহুল। শাটল, র্যাকেট, নেট, জুতা ও পোশাক কিনতে অনেক টাকা লাগে। ঢাকায় গিয়ে থাকতে গেলে প্রতি মাসে বড় একটা পরিমাণ টাকা লাগে। কিন্তু সেটা কে দেবে। শুনেছি আাগামী মাসে লিগ চালু হবে। এটা হলেও কিছুটা হয়। তবে সরকারের ক্রীড়া কার্ড বা ভাতায় আমাদের মতো যারা অন্যান্য খেলাধুলায় আছেন তাদেরকে বিবেচনায় রাখলে আমরাও বিশ্বে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারব।’
এবার পাকিস্তানে কোচ হয়ে দলের সঙ্গে গিয়েছিলেন সাবেক খেলোয়াড় জাবেদ। ২০০৪ সালে ইসলামাবাদ গেমসে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল তাঁর। এবার কোচের ভূমিকায় স্বর্ণপদক জিতলেন তিনি। বলেন, ‘আমাদের অনেক ভালো লাগছে একটা পদক আমরা জিতলাম। সিঙ্গেলসে জয় ভালো খেলত কিন্তু চোটে পড়ায় সেটি হয়নি। ধন্যবাদ জানাই ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সেক্রেটারি সুমন ভাইকে। তিনি খেলোয়াড়দের যেভাবে উৎসাহ দিয়েছেন এবং খুব অসুস্থ থাকার পরও আমাদের বিমানবন্দরে গিয়েছেন অভ্যর্থনা জানাতে, এটাই সবচেয়ে ভালো লেগেছে।’ চট্টগ্রামের সাবেক এই শাটলার জানিয়েছেন, পরিশ্রম আর সাংগঠনিক বিচক্ষণতার কারণেই এই সফলতা আসলো। তাঁর মতে, এভাবে বিদেশের মাটিতে নিয়মিত খেলতে পারলে জয়, গালিবরা একদিন বিশ্বকাপে খেলবে।
অসুস্থতা নিয়েও ভোরে স্বর্ণজয়ীদের বিমানবন্দরে বরণের জন্য ছুটে যান ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল কবির সুমন। বললেন, ‘আসলে কি, একটা খেলোয়াড়ই একটা খেলোয়াড়ের মর্ম বুঝবে। আমিও আগে খেলোয়াড় ছিলাম, জাতীয় দলে খেলেছি। জাতীয় দলে খেলতে একটা খেলোয়াড়ের যে কি কষ্ট, একমাত্র খেলোয়াড়ই সেটি বুঝবে। ওরা অনেক কষ্ট করে, কিন্তু ওদেরকে ওই পরিমাণ কিন্তু কেউ কোন অনার করে না, এখন জানি ওরা কি পরিমাণ কষ্ট করে স্বর্ণ জিতেছে। সেইদিন কথাই বলতে পারছিলাম না, তারপরও গিয়েছি যাতে ওদের ভালো লাগে বা একটু অনুপ্রাণিত হয়। এই আরকি।’
ব্যাডমিন্টনে আসার পর থেকে সফলতা পেয়েছেন রাসেল কবির। সফলভাবে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছেন। অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও খেলোয়াড়দের অনুশীলনে রেখেছেন। এক যুগেরও বেশি সময় পর আগামী মাসে লিগ চালু করতে যাচ্ছেন। সাংগঠনিকভাবে তাঁর এই কাজের ফল পাচ্ছে দল। যদিও কোনো কৃতিত্ব নিতে চান না। পাকিস্তানের মাটিতে পাওয়া সাফল্যের কৃতিত্ব রাসেল কবির দিতে চান খেলোয়াড়দের, ‘পাকিস্তানের মাটিতে ওরা যে স্বর্ণপদক জিতলো এটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি খুব বেশিদিন হয়নি। এর মধ্যে একটা স্বর্ণপদক এল তাতে আল্লাহর কাছে হাজারো শুকরিয়া। বুঝলাম যদি কেউ পরিশ্রম করে ফল অবশ্যই আসবে, এটাই তার প্রমাণ। ওরা পরিশ্রম করেছে তাই ফল মিলেছে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে চেষ্টা করেছি যতটুকু পারা যায়।’
জয়-গালিবদের স্বর্ণ জয়ের রূপকথার আড়ালে আক্ষেপও তো কম নয়। পৃষ্ঠপোষক, ফেডারেশন ও ক্রীড়া পরিষদের সমন্বয়ে ব্যাডমিন্টনে আসতে পারে আরও উজ্জ্বল সাফল্য।

রেকর্ড গড়ে, ভেঙেও যায়। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি রেকর্ড কোনো না কোনো সময় ভেঙে গেছে। দৌড়বিদ উসাইন বোল্টের গতির বিশ্বরেকর্ড এতদিন মনে হচ্ছিল অক্ষুণ্ণই থেকে যাবে। অথচ ২০০ মিটার দৌড়ে জ্যামাইকান কিংবদন্তির ১৮ বছর বয়সের রেকর্ডের চেয়েও কম সময় নিয়েছেন কুইন্সল্যান্ডের ১৮ বছর বয়সী তরুণ গাউট।
২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ে ২০০ মিটার দৌড়ে বোল্ট সময় নিয়েছিলেন ১৯.৯৩ সেকেন্ড। এবার অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় শিরোপা জয়ের পথে কুইন্সল্যান্ডে জন্ম নেওয়া গাউট সময় নিয়েছেন মাত্র ১৯.৬৭ সেকেন্ড। গত বছর ১৯.৮৪ সেকেন্ড সময় নিয়েছিলেন তিনি। তবে সেবার বাতাসের সহায়তা পাওয়ায় সেটি রেকর্ড হিসেবে গণ্য হয়নি।
অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ে কারও জন্য সবচেয়ে কম সময়ে ২০০ মিটার দৌড়ানোর কীর্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের এরিয়ন নাইটনের (১৯.৪৯ সেকেন্ড)। যদিও আপনার উল্লিখিত ১৯.৬৯ সেকেন্ডের টাইমিংটিও এরিয়নেরই ছিল। গাউট এখন বোল্ট ও নাইটনের সেই সময়ের ছায়ায় দৌড়াচ্ছেন। তার পেছনে থেকে দ্বিতীয় হওয়া এইডেন মার্ফিও ২০ সেকেন্ডের কম সময় নেন।
রবিবার কীর্তিময় একটি দিন পার করার পর গাউট বলেন,
“আমার কাঁধ থেকে বিশাল বোঝা সরে গেল। জানতাম বাতাসের সাহায্য ছাড়াই দৌড়াতে পারব আমি। সেই গতি এবং শরীর আছে আমার। তাই অবশ্যই দারুণ অনুভূতি হচ্ছে এবং আরও বেশি কিছুর জন্য তৈরি।”