১০ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪৫ পিএম

সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিস (টিটি) চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম তিন দিনে ১টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য এবং ৬টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৮টি পদক নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতার শেষ দিনে পদকের সংখ্যা ও মান আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার অর্থাৎ প্রতিযোগীতার তৃতীয় দিনে ১টি রৌপ্যসহ ৫টি ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এর আগে বৃহস্পতিবার দলগত ইভেন্টে অনূর্ধ্ব-১৯ বালক দল স্বর্ণপদক জেতে এবং অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা দল গ্রুপ পর্যায়ে তৃতীয় হয়ে ব্রোঞ্জ অর্জন করে।
দলগত ইভেন্টে প্রত্যাশিত ফল না পেলেও একক ইভেন্টে এখনও পদকের লড়াইয়ে টিকে আছেন বাংলাদেশের খই খই মারমা। অনূর্ধ্ব-১৯ বালক বিভাগে নাফিজ ইকবাল, আবুল হাশেম হাসিব এবং অনূর্ধ্ব-১৫ বালক বিভাগে মো. মিদুল রহমান প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছেন।
একক ইভেন্টের ফলাফল: অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা এককে ভারতের অনন্যা মুরালিধরনের কাছে ৩-০ সেটে হেরে গেলেও মালদ্বীপের মোহাম্মদ ইব্রাহিম মিশকাতকে ৩-২ সেটে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হন খই খই মারমা। কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি শ্রীলঙ্কার শামালশা হালাওয়াথাগের মুখোমুখি হবেন।
অনূর্ধ্ব-১৯ বালক এককে নাফিজ ইকবাল টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ র্যাঙ্কধারী প্রিয়ানুজ ভট্টাচার্যের কাছে ০-৩ সেটে পরাজিত হলেও মালদ্বীপের এয়ন ইব্রাহিমকে একই ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হন। কোয়ার্টার ফাইনালে নেপালের হিমাল বিস্তার মুখোমুখি হবেন তিনি।
আবুল হাশেম হাসিব নেপালের হিমাল বিস্তার কাছে হেরে গেলেও পরবর্তীতে শ্রীলঙ্কার হারিন মুনাসিংহ এবং মালদ্বীপের মোহাম্মদ রাফিউকে ৩-০ সেটে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হন। কোয়ার্টারে তার প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার আকাইন রাজাভেলু।
অনূর্ধ্ব-১৫ বালক এককেমিদুল রহমান ভারতের অক্ষয় কিরিকারারের কাছে ০-৩ সেটে হেরে গেলেও নেপালের বিপক্ষে ৩-২ সেটে জিতে গ্রুপ রানার্সআপ হন। প্রি-কোয়ার্টারে তার প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার সানন মেনুয়েলগে।
দ্বৈত এবং মিশ্র দ্বৈতের ফলাফল: অনূর্ধ্ব-১৫ বালক দ্বৈতে শাহীন আহমেদ ও মিদুর রহমান মালদ্বীপের মোহাম্মদ রাফিউ ও ফাজ লতিফ জুটিকে ৩-২ সেটে হারান। তবে সেমিফাইনালে তারা ভারতের রিসান চট্টোপাধ্যায় ও আকাশ রাজাভেলু জুটির কাছে ১-৩ সেটে পরাজিত হয়ে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেন।
অনূর্ধ্ব-১৫ বালিকা দ্বৈতে মোসা. রাফিয়া চৌধুরী ও রোজা ইসলাম কোয়ার্টার ফাইনালে বাই পেয়ে সেমিফাইনালে ওঠেন। সেখানে তারা নেপালের আরসানা মহারাজ ও সুরম্য শাক্য জুটির কাছে ১-৩ সেটে হেরে ব্রোঞ্জ পান।
অনূর্ধ্ব-১৯ বালক দ্বৈতে নাফিজ ইকবাল ও আবুল হাশেম হাসিব কোয়ার্টার ফাইনালে মালদ্বীপ জুটিকে ৩-০ সেটে হারান। সেমিফাইনালে তারা নেপালের হিমাল বিস্তা ও এরিশ শাক্য জুটিকে ৩-১ সেটে পরাজিত করে বাংলাদেশের জন্য রৌপ্য নিশ্চিত করেন। ফাইনালে তারা ভারতের বিপক্ষে খেলবেন।
অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা দ্বৈতে খই খই সাই মারমা ও রেশমী তৈঞ্চঙ্গা সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে ০-৩ সেটে হেরে ব্রোঞ্জ অর্জন করেন।
মিশ্র দ্বৈতে অনূর্ধ্ব-১৫ বিভাগে মিদুল রহমান ও রোজা ইসলাম নেপালের রিভান বজ্রাচার্য ও সুরম্য শাক্য জুটিকে ৩-২ সেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে আরও একটি ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেন। সেমিফাইনালে তারা ভারতের বিপক্ষে খেলবেন।
অনূর্ধ্ব-১৯ মিশ্র দ্বৈতে আবুল হাশেম হাসিব ও খই খই সাই মারমা সেমিফাইনালে পৌঁছে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেছেন। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মালদ্বীপের জুটি।
অন্যান্য ফলাফল: সিঙ্গেলস ইভেন্টে রেশমী তৈঞ্চঙ্গা (অনূর্ধ্ব-১৯), রাফিয়া চৌধুরী (অনূর্ধ্ব-১৫), রোজা ইসলাম ও শাহীন আহমেদ প্রি-কোয়ার্টার পর্যন্ত পৌঁছাতে ব্যর্থ হন।
No posts available.
১২ এপ্রিল ২০২৬, ১:১২ পিএম
১১ এপ্রিল ২০২৬, ৮:২১ পিএম

রাজধানীর পূর্বাচলে বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে ফর্টিস গ্রুপ গড়ে তুলেছে আধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স। যার নাম দিয়েছে ফর্টিস জলসিড়ি গ্রাউন্ড। যেখানে ইতোমধ্যে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টনসহ নানা খেলাধুলার অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। এবার সেই কমপ্লেক্সে একেবারেই নতুন একটি খেলা যুক্ত করেছে দেশের শীর্ষ এই শিল্পগোষ্ঠী। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো তারা প্রতিষ্ঠা করেছে ইকুয়েস্ট্রিয়ান (অশ্বারোহী) ক্লাব।
অলিম্পিক গেমসের অন্তর্ভুক্ত হলেও ইকুয়েস্ট্রিয়ান খেলা বাংলাদেশে এখনও সেভাবে পরিচিত নয়। তবে বিশ্বজুড়ে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সাধারণত অভিজাত শ্রেণির মানুষদের মধ্যেই বেশি প্রচলিত। এই খেলাটিকে দেশের মানুষের কাছে পরিচিত ও জনপ্রিয় করে তুলতেই ফর্টিস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন নিয়েছেন এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
প্রাথমিকভাবে তিনটি ভারতীয় ঘোড়া দিয়ে ফর্টিস ইকুয়েস্ট্রিয়ান ক্লাবের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে ইউরোপ থেকে উন্নত জাতের ঘোড়া আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি হর্স পোলো চালুর ব্যাপারে আশাবাদী ক্রীড়াপ্রেমী উদ্যোক্তা। ফর্টিস গ্রুপের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছে ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ইকুয়েস্ট্রিয়ান অ্যাসোসিয়েশনও।
সোমবার ফর্টিস ইকুয়েস্ট্রিয়ান ক্লাবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাহাদাত হোসেন জানান, ছোটদের মধ্যেই ঘোড়সওয়ারি শেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ভবিষ্যতে যেন এই শিশুরাই আন্তর্জাতিক আসরে, বিশেষ করে অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। তিনি বলেন,
‘বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রেই এখনও পিছিয়ে। অথচ বিশ্বজুড়ে হর্সরাইডিং ও হর্স পোলো খুবই জনপ্রিয়। আমাদের দেশে এসবের কোনো ক্লাব বা প্রতিযোগিতা নেই। তাই নতুন প্রজন্মকে ভিন্নধর্মী একটি খেলায় যুক্ত করতেই এই ক্লাব শুরু করেছি।’
আপাতত ঢাকার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের ঘোড়া পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানা যায়। ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে ক্লাবটির, যাতে শিশুদের আগ্রহ জন্মে।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা ফরিদুল আকবর ২০০৯ সালে ভারতে ইকুয়েস্ট্রিয়ান খেলা দেখে দেশে একটি সংস্থা গড়ে তুলেছিলেন। তবে নানা সীমাবদ্ধতায় সেটি সক্রিয়ভাবে এগোতে পারেনি। অল্প কিছু রাইডার ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিদেশে গিয়ে বা অনলাইনে প্রশিক্ষণ নিয়ে এই খেলা শিখেছেন। ফর্টিস গ্রুপের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন,
‘একজন মানুষ এই খেলাকে এগিয়ে নিতে এগিয়ে এসেছেন, এটা বড় বিষয়। তার নেতৃত্বে দেশে আরও ক্লাব ও ব্রিডিং ফার্ম গড়ে উঠবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
বাংলাদেশ ইকুয়েস্ট্রিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি এবং পেশাদার হর্স রাইডার তাহিয়া ইসলাম জানান দেশে এই খেলার কোনো শক্ত প্ল্যাটফর্ম না থাকায় অ্যাসোসিয়েশন গঠন করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়,
‘আমরা চাই মানুষ জানুক, এটাও একটি সম্ভাবনাময় খেলা। আমাদের অনেক প্রতিভাবান রাইডার রয়েছে, যারা সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ভালো করতে পারবে।’
ফর্টিস ক্লাবকে আন্তর্জাতিক মানের বলে অভিহিত করে তাহিয়া বলেন,
‘আমি বিভিন্ন দেশের রাইডিং ক্লাব দেখেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এখানকার সুবিধা অনেক উন্নত।’
এতদিন ফুটবলের জন্যই বেশি পরিচিত ছিল ফর্টিস। দেশের শীর্ষ লিগে কয়েক বছর ধরে খেলছে দলটি এবং বর্তমান মৌসুমে শিরোপা লড়াইয়েও রয়েছে। পাশাপাশি তাদের যুব একাডেমি থেকে নিয়মিত প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসছে। এবার ঘোড়সওয়ারি খেলাতেও অবকাঠামো গড়ে তুলে এই খেলাকে জনপ্রিয় করতে চায় তারা।

পাকিস্তানের মাটিতে স্বর্ণপদক জিতে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে ফিরছিলেন দুই শাটলার সিফাত উল্লাহ গালিব ও নাজমুল ইসলাম জয়। সেই বিমানেই ছিলেন সাবেক ক্রিকেটার সানোয়ার হোসেন। স্বর্ণজয়ী দুই তরুণ ক্রীড়াবিদকে স্বাগত জানিয়ে বিমানেই কেক কাটলেন সানোয়ার। সেই আয়োজন যাত্রী এবং খেলোয়াড়দের জন্য ছিল আবেগঘন এক মুহূর্ত। ৯ এপ্রিল বিমান থেকে নামার পর ফেডারেশনের পক্ষ থেকেও অভ্যর্থনা জানানো হয় কোচ, খেলোয়াড়দের। তারপরও কিছুটা আড়ালেই রয়ে গেছে বিদেশের মাটিতে দুই শাটলারের সোনালি অর্জন।
বাংলাদেশের ব্যাডমিন্টনে বিদেশের মাটিতে স্বর্ণজয় সচরাচর হয় না। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে এর আগে ২০২২ সালে ভারতের আসামে সাউথ এশিয়ান রিজিওনাল চ্যাম্পিয়নশিপের অনূর্ধ্ব-১৫-তে স্বর্ণ জেতেন গালিব। দ্বৈতে সেবার তাঁর সঙ্গী ছিলেন মুস্তাকিম হোসেন। পাকিস্তানে এবার একই টুর্নামেন্টের অনূর্ধ্ব-২৩ ক্যাটাগরিতে জয়কে নিয়ে দ্বৈতে সেরার মুকুট জিতলেন চট্টগ্রাম থেকে উঠে আসা এই শাটলার। এই প্রতিযোগিতাতেই সিঙ্গেলসে ব্রোঞ্জ জেতেন গালিব। টুর্নামেন্টে দুজন খেলোয়াড় পাঠিয়ে একটি স্বর্ণ এবং একটি ব্রোঞ্জ জয় দেশের ক্রীড়ায় অসাধারণ অর্জন।
কিন্তু গালিব-জয়দের অর্জনের এই পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। ফাইনালে তাঁরা পেয়েছিলেন নেপালের অন্যতম সেরা জুটি প্রিন্স দাহাল ও ক্রিস্তিজ কাহালকে। দাহাল জুনিয়র পর্যায়ে বিশ্বের এক নম্বর শাটলার ছিলেন। প্রথম সেট হারার পর দ্বিতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়ায় নেপাল। তবে শেষ সেট জিতে সোনার মেডেল নিশ্চিত করেন গালিব ও জয়। সেই মধুর মুহূর্তের ঘোর থেকে এখনো বেরোতে পারেননি জয়, ‘ফাইনালের আগে একটু চিন্তিত ছিলাম। তার ওপর প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী। তবে আমাদের চেষ্টা ছিল যেভাবেই হোক ম্যাচটা বের করবো। ইতিবাচক খেলার চেষ্টা করবো। আলহামদুলিল্লাহ আমরা পেরেছি। মেডেল পাওয়ার পর আমাদের অনুভূতিটা ছিল অন্যরকম। পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছি, সেই অনুভূতিটা বলে বোঝানোর মতো নয়।’
আরও পড়ুন
| একের পর এক চোট, বিশ্বকাপের আগে দুঃসময়ে আর্জেন্টিনা |
|
জয়ের মতো একই অনুভূতি গালিবেরও। জাতীয় দলের এই শাটলার বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস ছিল পারব। তবে দ্বিতীয় সেট হারার পর একটু চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত জিততে পেরে খুশি।’
ময়মনসিংহের শেরপুর থেকে উঠে এসেছেন জয়। গালিবের নিজ ঠিকানা চট্টগ্রামে। পাকিস্তান সফরের আগে দুজন একসঙ্গে বড় কোনো প্রতিযোগিতায় খেলেছেন আরও ৪ বছর আগে, জাতীয় জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে। দীর্ঘদিন পর জুটি বেঁধে সফলতা পেয়েছেন তাঁরা। দুজনের উঠে আসার গল্পটাও ভিন্ন। পরিবারিক টানাপোড়েন বেড়ে উঠেছেন জয়। বাবা ঢাকার উত্তরায় মাছের ব্যাবসা করেন। খেলাধুলার জন্য সেভাবে পাননি সমর্থন।
ক্রীড়া বিজ্ঞান নিয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটেতে দ্বিতীয় বর্ষে আছেন জয়। নিজের পড়াশোনার খরচ, পাশাপাশি অনুশীলনের জন্য আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কিনতে হিমশিম খেয়েছেন। যে কারণে মাঝে দুই বছর খেলা থেকে অনেকটা দূরেই ছিলেন এই শাটলার। তবে ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের বর্তমান সেক্রেটারি রাসেল কবির সুমন আবার তাঁকে সুযোগ করে দেন। অনুশীলনের জন্য শ্যামলিতে নিজের একাডেমিতে নিয়ে যান। আনুষঙ্গিক সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থাও করে দেন। তারই সুফল পেলেন সাউথ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে।
ক্রীড়ানুরাগী পরিবারে বেড়ে উঠেছেন গালিব। বাবা সৈয়দ সারোয়ার আলম চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থায় চাকরিরত। বড় ভাই সাবেক ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়, বর্তমানে লেভেল টু কোর্স করা কোচ। মেজো ভাই সিদগাত উল্লাহ বর্তমান জাতীয় দলের খেলোয়াড়। জিতেছেন ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ। বড় বোন সাদিয়া সুলতানা দুই বছর আগে পরলোকগমন করেছেন। সুখ্যাতিসম্পন্ন এই শ্যুটার ২০১০ সালে ঢাকায় এসএ গেমসে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে শারমিন রত্নার সঙ্গে সোনা জিতেছিলেন। তিন বছর পর বাংলাদেশ গেমসেও স্বর্ণপদক জিতেছিলেন তিনি। আরেক বোন সৈয়দা সাইমা সুলতানা। সেও শ্যুটার। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ মেডেল জিতেছেন তিনি।
ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারে জন্ম হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই গালিব ধ্যানজ্ঞান করেছেন ব্যাডমিন্টনে। এ জন্য পড়াশোনায় সেভাবে মনোযোগী হতে পারেননি। উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হওয়ার পরও আগায়নি তাঁর পড়াশোনা। তবে জানালেন পড়াশোনাটা চালিয়ে যাবেন। আপাতত ব্যাডমিন্টনে ফোকাস। গালিবের শুরুটা চট্টগ্রামের নিখিল চন্দ্রধর একাডেমি থেকে। এখন স্বপ্ন বাংলাদেশের হয়ে যেতে চান বহুদূর। কিন্তু সেই কঠিন পথ পাড়ি দেওয়া যে কতটা কঠিন তাও জানেন তিনি। দেশের ব্যাডমিন্টনে করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা পিছিয়ে পড়ছি একমাত্র স্পন্সরের (পৃষ্ঠপোষক) কারণে। আমাদের কোনো স্পন্সর নেই। আপনি জানেন যে বিদেশে গিয়ে বেশি বেশি না খেললে র্যাঙ্কিং বাড়ানো সম্ভব না। আর সেটা না হলে বিশ্বকাপের স্বপ্নও দেখা সম্ভব না। কারণ এখানে অনেক খরচের ব্যাপার আছে।’
পাকিস্তান সফর শেষ মুহূর্তে ঠিক করা হয়। বিশ্ব পরিস্থিতি যখন টালমাটাল সেই সময়ে দেশের বাইরে খেলোয়াড় পাঠানোর মতো অবস্থায় ছিল না ফেডারেশন। অনেকেই বলেন এবার খেলোয়াড়দের অনেকটা নিজ খরচে পাকিস্তান পাঠিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক রাসেল কবির সুমন। সেইসঙ্গে নিয়মিতই খোঁজ-খবর রেখেছেন দলের। তার প্রতিও কৃতজ্ঞতা দুই শাটলারের। জয় বলেন, ‘আসলে আমাদের ফেডারেশনের কাছে কিছু চাওয়ার নেই। না চাইতেই তারা বেশি দিচ্ছে। তবে বলব সরকার যদি আমাদের দিকে একটু নজর দিতো, তবে আমরা আশাবাদী হতাম। ইতিমধ্যে ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়া ভাতা প্রদান করছে সরকার। এজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককে ধন্যবাদ। আশা করব আমাদের কথাও ওনারা বিবেচনা করবেন।’
ব্যাডমিন্টন খেলে সেভাবে উপার্জন হয় না। বাধ্য হয়েই শাটলাররা শীতের সময়টা খ্যাপ খেলে বেড়ান। সেই তিন মাসে যা আয় হয়, তা দিয়েই কষ্ট-ক্লেশ করে বছর চালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু খেলাটাকে পেশা হিসেবে নিতে হলে আয়ের কথাও ভাবতে হবে। গালিবের ভাষ্য, ‘ছোটবেলা থেকে যখন খেলি, তখন আয়ের ব্যাপারটা জানতাম না। সেভাবে কখনও অনুভবও করিনি। কিন্তু এই খেলাটা অনেক ব্যয়বহুল। শাটল, র্যাকেট, নেট, জুতা ও পোশাক কিনতে অনেক টাকা লাগে। ঢাকায় গিয়ে থাকতে গেলে প্রতি মাসে বড় একটা পরিমাণ টাকা লাগে। কিন্তু সেটা কে দেবে। শুনেছি আাগামী মাসে লিগ চালু হবে। এটা হলেও কিছুটা হয়। তবে সরকারের ক্রীড়া কার্ড বা ভাতায় আমাদের মতো যারা অন্যান্য খেলাধুলায় আছেন তাদেরকে বিবেচনায় রাখলে আমরাও বিশ্বে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারব।’
এবার পাকিস্তানে কোচ হয়ে দলের সঙ্গে গিয়েছিলেন সাবেক খেলোয়াড় জাবেদ। ২০০৪ সালে ইসলামাবাদ গেমসে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল তাঁর। এবার কোচের ভূমিকায় স্বর্ণপদক জিতলেন তিনি। বলেন, ‘আমাদের অনেক ভালো লাগছে একটা পদক আমরা জিতলাম। সিঙ্গেলসে জয় ভালো খেলত কিন্তু চোটে পড়ায় সেটি হয়নি। ধন্যবাদ জানাই ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সেক্রেটারি সুমন ভাইকে। তিনি খেলোয়াড়দের যেভাবে উৎসাহ দিয়েছেন এবং খুব অসুস্থ থাকার পরও আমাদের বিমানবন্দরে গিয়েছেন অভ্যর্থনা জানাতে, এটাই সবচেয়ে ভালো লেগেছে।’ চট্টগ্রামের সাবেক এই শাটলার জানিয়েছেন, পরিশ্রম আর সাংগঠনিক বিচক্ষণতার কারণেই এই সফলতা আসলো। তাঁর মতে, এভাবে বিদেশের মাটিতে নিয়মিত খেলতে পারলে জয়, গালিবরা একদিন বিশ্বকাপে খেলবে।
অসুস্থতা নিয়েও ভোরে স্বর্ণজয়ীদের বিমানবন্দরে বরণের জন্য ছুটে যান ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল কবির সুমন। বললেন, ‘আসলে কি, একটা খেলোয়াড়ই একটা খেলোয়াড়ের মর্ম বুঝবে। আমিও আগে খেলোয়াড় ছিলাম, জাতীয় দলে খেলেছি। জাতীয় দলে খেলতে একটা খেলোয়াড়ের যে কি কষ্ট, একমাত্র খেলোয়াড়ই সেটি বুঝবে। ওরা অনেক কষ্ট করে, কিন্তু ওদেরকে ওই পরিমাণ কিন্তু কেউ কোন অনার করে না, এখন জানি ওরা কি পরিমাণ কষ্ট করে স্বর্ণ জিতেছে। সেইদিন কথাই বলতে পারছিলাম না, তারপরও গিয়েছি যাতে ওদের ভালো লাগে বা একটু অনুপ্রাণিত হয়। এই আরকি।’
ব্যাডমিন্টনে আসার পর থেকে সফলতা পেয়েছেন রাসেল কবির। সফলভাবে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছেন। অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও খেলোয়াড়দের অনুশীলনে রেখেছেন। এক যুগেরও বেশি সময় পর আগামী মাসে লিগ চালু করতে যাচ্ছেন। সাংগঠনিকভাবে তাঁর এই কাজের ফল পাচ্ছে দল। যদিও কোনো কৃতিত্ব নিতে চান না। পাকিস্তানের মাটিতে পাওয়া সাফল্যের কৃতিত্ব রাসেল কবির দিতে চান খেলোয়াড়দের, ‘পাকিস্তানের মাটিতে ওরা যে স্বর্ণপদক জিতলো এটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি খুব বেশিদিন হয়নি। এর মধ্যে একটা স্বর্ণপদক এল তাতে আল্লাহর কাছে হাজারো শুকরিয়া। বুঝলাম যদি কেউ পরিশ্রম করে ফল অবশ্যই আসবে, এটাই তার প্রমাণ। ওরা পরিশ্রম করেছে তাই ফল মিলেছে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে চেষ্টা করেছি যতটুকু পারা যায়।’
জয়-গালিবদের স্বর্ণ জয়ের রূপকথার আড়ালে আক্ষেপও তো কম নয়। পৃষ্ঠপোষক, ফেডারেশন ও ক্রীড়া পরিষদের সমন্বয়ে ব্যাডমিন্টনে আসতে পারে আরও উজ্জ্বল সাফল্য।

রেকর্ড গড়ে, ভেঙেও যায়। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি রেকর্ড কোনো না কোনো সময় ভেঙে গেছে। দৌড়বিদ উসাইন বোল্টের গতির বিশ্বরেকর্ড এতদিন মনে হচ্ছিল অক্ষুণ্ণই থেকে যাবে। অথচ ২০০ মিটার দৌড়ে জ্যামাইকান কিংবদন্তির ১৮ বছর বয়সের রেকর্ডের চেয়েও কম সময় নিয়েছেন কুইন্সল্যান্ডের ১৮ বছর বয়সী তরুণ গাউট।
২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ে ২০০ মিটার দৌড়ে বোল্ট সময় নিয়েছিলেন ১৯.৯৩ সেকেন্ড। এবার অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় শিরোপা জয়ের পথে কুইন্সল্যান্ডে জন্ম নেওয়া গাউট সময় নিয়েছেন মাত্র ১৯.৬৭ সেকেন্ড। গত বছর ১৯.৮৪ সেকেন্ড সময় নিয়েছিলেন তিনি। তবে সেবার বাতাসের সহায়তা পাওয়ায় সেটি রেকর্ড হিসেবে গণ্য হয়নি।
অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ে কারও জন্য সবচেয়ে কম সময়ে ২০০ মিটার দৌড়ানোর কীর্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের এরিয়ন নাইটনের (১৯.৪৯ সেকেন্ড)। যদিও আপনার উল্লিখিত ১৯.৬৯ সেকেন্ডের টাইমিংটিও এরিয়নেরই ছিল। গাউট এখন বোল্ট ও নাইটনের সেই সময়ের ছায়ায় দৌড়াচ্ছেন। তার পেছনে থেকে দ্বিতীয় হওয়া এইডেন মার্ফিও ২০ সেকেন্ডের কম সময় নেন।
রবিবার কীর্তিময় একটি দিন পার করার পর গাউট বলেন,
“আমার কাঁধ থেকে বিশাল বোঝা সরে গেল। জানতাম বাতাসের সাহায্য ছাড়াই দৌড়াতে পারব আমি। সেই গতি এবং শরীর আছে আমার। তাই অবশ্যই দারুণ অনুভূতি হচ্ছে এবং আরও বেশি কিছুর জন্য তৈরি।”

ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ভারোত্তোলক এবং এসএ গেমসে টানা দুইবারের স্বর্ণজয়ী অ্যাথলেট মাবিয়া আক্তার সীমান্ত।
সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশন (সারাদো) ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সির (ওয়াদা) কোড অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
শাস্তির পর হতাশা ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন মাবিয়া। তার দাবি, তিনি চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন মেনেই ওষুধ সেবন করেছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা জানিয়েছিলেন।
জানা গেছে, গত বছর সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমস শুরুর আগে মাবিয়ার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেই নমুনায় নিষিদ্ধ ‘ডাইইউরেটিক্স’ (Diuretics) নামক পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়। ডাইইউরেটিক্স মূলত এমন এক ধরনের ওষুধ, যা শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের করে দেয় (যাকে ওয়াটার পিলস বলা হয়)। এটি দ্রুত ওজন কমাতে সহায়ক হলেও খেলাধুলায় এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারণ এটি অন্য নিষিদ্ধ উপাদান লুকানোর জন্য 'মাস্কিং এজেন্ট' হিসেবে কাজ করতে পারে। ভারোত্তোলনের মতো ওজনভিত্তিক খেলায় এর ব্যবহার অত্যন্ত সংবেদনশীল।
আরও পড়ুন
| দেশে ফিরলেন মোস্তাফিজ-তামিমরা, ২ দিন পর আসবেন নাহিদ-শরিফুল |
|
গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে মাবিয়াকে দুই বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ও প্রতিযোগিতামূলক সব ধরনের ক্রীড়া কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশ্যে আসার পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন মাবিয়া। জানান, অসুস্থতার কারণে যে ওষুধ খেয়েছিলেন সেটির প্রেসক্রিপশন তার কাছে রয়েছে। আক্ষেপ করে বলেন, 'এখন আমাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, সব দোষ আমারই হবে। কিন্তু এতদিন যাবত সব সেমিনারে আমাদেরকে বলা হয়েছে, 'নাপা বা যে কোনো ওষুধ যেটাই খাও, আমাদেরকে প্রেসক্রিপশন দেখাবে; প্রেসক্রিপশন থাকতে হবে।' এর বেশি কিছু কোনো সেমিনারে আমাদের বলা হয়নি। তো আমি যে ওষুধ খেয়েছি বা আমি যে মেডিকেশনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি তার সবই সকলে জানতো। সবকিছুর প্রেসক্রিপশন আমার কাছে আছে। কিন্তু এখন যেহেতু শাস্তি হয়ে গেছে, এখন তো সব দোষ আমারই হবে।'
কর্তৃপক্ষকে প্রেসক্রিপশন না দেখানোর অভিযোগও নাকচ করেছেন এই তারকা ভারোত্তোলক। তিনি বলেন, 'আমি প্রেসক্রিপশন দেখাইনি এমনটা বলা হচ্ছে। তবে আমি প্রেসক্রিপশন দেখিয়েছি। শফিক সাহেব এখন বলছেন আমি প্রেসক্রিপশন দেখাইনি। কিন্তু আমি তাঁকে প্রেসক্রিপশন দেখিয়েছি।'
আন্তর্জাতিক অ্যান্টি-ডোপিং বিধি অনুযায়ী এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে মাবিয়ার। আপিলের প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি খুব বেশি অবগত না হলেও, ১৪ দিনের মধ্যেই আপিল করার কথা জানিয়েছেন, 'আপিলের বিষয়ে আমি আসলে জানিনা, আপিল কিভাবে করতে হয় সেটাও আমি জানিনা। তবে আমি সব খোঁজ খবর নিচ্ছি, আমি আপিল করবো। সময় কম, ১৪ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। প্রয়োজনে মার্সি (ক্ষমা) চেয়ে আপিল করতে পারি।'
মাদারীপুরের মেয়ে মাবিয়া আক্তার সীমান্তের ক্যারিয়ার কখনোই খুব মসৃণ ছিল না। চরম দারিদ্র্য ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে উঠে আসা এই ভারোত্তোলক ২০১৬ সালের এসএ গেমসে (৬৩ কেজি ওজন শ্রেণিতে) স্বর্ণ জিতে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনেন। এরপর ২০১৯ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসেও তিনি স্বর্ণ জেতেন এবং টানা দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল কীর্তি গড়েন।
২৬ বছর বয়সি দেশের এই শীর্ষ ভারোত্তোলকের জন্য দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা ক্যারিয়ারের জন্য এক বিশাল অশনিসংকেত। এখন তিনি আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের নিষেধাজ্ঞা কমাতে পারেন কি না।

সাউথ এশিয়ান ইয়ুুথ টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ দিনে সিঙ্গেলস ইভেন্টে আজ কোর্টে নেমেছিলেন খই খই সাই মারমা, নাফিজ ইকবাল, আবুল হাসেম হাসিব এবং মো. মিদুল রহমান। তবে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে হেরে বিদায় নেন চার প্যাডেলার। তাতে বাংলাদেশের নতুন কোনো পদক আর যোগ হয়নি। ফলে পুরো টুর্নামেন্টে ১টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ৬টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৮টি পদক নিয়ে বাংলাদেশ রানার্স আপ হয়।
টুর্নামেন্টে আয়োজক দেশ ভারত সব ইভেন্টে শতভাগ আধিপত্য বজয়া রেখে ১৩টি স্বর্ণ ও ৪টি রৌপ্যসহ মোট ১৭টি পদক জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়।
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা ৩টি রৌপ্য ও ১১টি ব্রোঞ্জসহ মোট ১৪টি পদক নিয়ে তৃতীয়, নেপাল ৩টি রৌপ্য ও ৭টি ব্রোঞ্জসহ ১০টি পদক পেয়ে চতুর্থ এবং মালদ্বীপ ৩টি রৌপ্য ও ৪টি ব্রোঞ্জসহ ৭টি পদক নিয়ে পঞ্চম স্থান অধিকার করে।
শনিবার অনূর্ধ্ব-১৯ বালক দ্বৈতের ফাইনালে নাফিজ-হাসিব জুটি স্বর্ণ জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করলেও ভারতের রাজশেখরন-সেথিল জুটির কাছে ১-৩ সেটে (১১-৯, ৭-১১, ৪-১১, ৫-১১) পরাজিত হলে রৌপ্য নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাংলাদেশকে।
দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এ. এম. মাকসুদ আহমেদ সনেট বলেন,
'বালক দল প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো খেললেও বালিকারা সে তুলনায় পিছিয়ে ছিল। তারপরও সংখ্যাতত্ত্বের হিসাবে সাউথ এশিয়ান জুনিয়রে এটা আমাদের সর্বোচ্চ অর্জন।'
প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ যুব দলের অফিসিয়াল অ্যাটায়ার পার্টনার হবার জন্য উর্মি গ্রুপ তথা তুরাগ অ্যাক্টিভের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান মাকসুদ আহমেদ।