
অনেক চোখ রাঙানির পর আফগানদের শেষমেশ ফিরতে হলো খালি হাতেই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটা হারার সাথে সাথেই চূড়ান্ত হয়ে গেল সুপার ফোরের দল। অনুমিতভাবেই আপসেট ছাড়া এশিয়ার সেরা চারটা দলই পেল সুপার ফোরের আরাধ্য টিকেট।
বুধবার লাহোরে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে সুপার ফোরের লড়াই। এশিয়া কাপের হোস্ট পাকিস্তানে এটাই শেষ ম্যাচ। দিবারাত্রির ম্যাচ খেলেই বাংলাদেশকে ধরতে হবে শ্রীলঙ্কার ফ্লাইট। শনিবারেই আবার আছে আরেক হোস্ট শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ। গ্রুপ পর্বে ভারত-পাকিস্তানের হাই ভোল্টেইজ ম্যাচটা ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। সুপার ফোরে আরও একবার মিলবে সেই মহারণের স্বাদ্গ্রহণের সুযোগ। ১০ই সেপ্টেম্বার দিবারাত্রির ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভিরাট-বাবররা।
একদিন বাদেই স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে ভারত। ১৪ তারিখ পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা আর সুপার ফোরের সবশেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত।
আরও পড়ুন: সাকিব-শরিফুল জুটিতে দিশেহারা নিউজিল্যান্ড
গ্রুপ স্টেইজে শ্রীলঙ্কায় সবগুলো ম্যাচ হয়েছে পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে। সুপার ফোরের ম্যাচগুলো হবার কথা কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। তবে বৃষ্টির আশঙ্কায় গুঞ্জণ ওঠে বিকল্প ভেন্যু হতে পারে হাম্বানটোটা বা ডাম্বুল্লা। এরই মধ্যে পিসিবি আবার দাবি জানায় তাদের দেশে যেন হয় সুপার ফোর আর ফাইনাল।
তবে হোটেল সুবিধা আর সম্প্রচারের অপ্রতুলতায় শেষমেশ আর বদলাচ্ছে না ভেন্যু। দড়ি টানাটানি শেষে ঐতিহ্যবাহী প্রেমাদাসাই হবে ফাইনালসহ বাকী ম্যাচগুলোর ভেন্যু। তা হোক বৃষ্টি-বাদল কিংবা সাপের আনাগোনা। তবে ভারত-পাকিস্তান আর ফাইনালের জন্যে থাকছে রিজার্ভ ডে-র সুযোগ।
১৭ই সেপ্টেম্বার পর্দা নামবে এশিয়া কাপের। তিন তিনবার ফাইনাল খেলা টাইগারদের অবশেষে শিরোপার স্বাদ মিলবে কিনা সেটা হয়তো জানা যাবে সেদিনই।
No posts available.
১৮ মে ২০২৬, ৪:৪৮ পিএম
১৮ মে ২০২৬, ১২:০৪ পিএম

টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংস ৪১৮-এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই। সিলেট টেস্ট জিততে হলে অ্যান্টিগায় ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড করতে হবে পাকিস্তানকে। পাকিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসে ৪র্থ ইনিংসে ৪শ রান তাড়া করে জয়ের অতীত নেই। ২০১৫ সালে পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৯৫ রান তাড়া করে ৭ উইকেটে জয়-ই তাদের চতুর্থ ইনিংসে সেরা সফলতা। চলমান সিলেট টেস্টে সেই পাকিস্তানকে চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশ দিয়েছে ৪৩৭ রানের মহাচ্যালেঞ্জ।
সিলেটে চতুর্থ ইনিংসে ১৭৪-এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের অতীত নেই কারো। গত বছরের এপ্রিলে এই রান তাড়া করে ৩ উইকেটে জয়ের রেকর্ডটা জিম্বাবুয়ের। আড়াই বছর আগে সিলেটে ৪র্থ ইনিংসে ৩৩২ রান তাড়া করে বাংলাদেশের কাছে ১৫০ রানে নিউ জিল্যান্ডের হারের সেই অতীত থেকে টনিক নিতে পারে শান্ত এন্ড কোং।
২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান সফরে স্বাগতিকদের টেস্ট সিরিজে হোয়াইট ওয়াশের অতীত সুখস্মৃতিই ফিরতি টেস্ট সিরিজে বুক চিতিয়ে বাংলাদেশকে খেলতে অনুপ্রাণিত করছে। মিরপুর টেস্টে জয়ের রেশটাই সিলেটে স্মরনীয় প্রাপ্তির জন্য উদ্বুদ্ধ করছে শান্ত'র দলকে। এই প্রথম হোমে পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ দল।
১১০/৩ স্কোর নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করতে এসে বাংলাদেশ তৃতীয় ইনিংস শেষ করেছে ৩৯০/১০-এ। দ্বিতীয় দিন ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ দল যোগ করেছে ২৮০রান। তা সম্ভব হয়েছে মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরি ১৩৭, লিটনের ফিফটি (৬৯), চতুর্থ উইকেট জুটিতে মুশফিক-লিটনের ১৮৮ বলে ১২৩ রান এবং ৭ম উইকেট জুটিতে মুশফিক-তাইজুলের ১২৮ বলে ৭৭ রানে।
সিলেটে তৃতীয় দিনের পিচটা ছিল ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি। সবুজ পিচে বল পেয়েছে প্রত্যাশিত বাউন্স। ফলে পাকিস্তান বোলারদের বোলিং খেলতে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়নি বাংলাদেশ মিডল অর্ডারদের।
এদিন প্রথম সেশনে ১ উইকেট হারিয়ে ৯৭, দ্বিতীয় সেশনে ২ উইকেট হারিয়ে ১০৪ এবং শেষ সেশনে ৪ উইকেট হারিয়ে ৮৩ রান যোগ করেছে বাংলাদেশ দল।
তৃতীয় দিনের প্রথম ঘন্টা নির্বিঘ্নে পার করতে পারেনি বাংলাদেশ। পাকিস্তানের দুই মিডিয়াম পেসার খুররম শেহজাদ এবং মুহাম্মদ আব্বাসের ছোট-ছোট সুইং ডেলিভারি খেলতে সতর্ক থাকতে হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাটারদের। এই ঘন্টায় অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে হারিয়ে বাংলাদেশ যোগ করেছে ৪০ রান।
দিনের দশম ওভারে খুররম শেহজাদকে ক্রস খেলতে যেয়ে এলবিডাব্লুউতে কাটা পড়েছেন শান্ত (৪৬ বলে ১ বাউন্ডারিতে ১৫)। রিভিউ আপীলে লাভ হয়নি। বল ট্র্যাকিংয়ে লেগ স্ট্যাম্পে হিটের ধরা পড়েছে।
১ বল পর লিটন বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছেন। খুররম শেহজাদের বলে স্লিপে ক্যাচ থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন লিটন। ০ রানের মাথায় বেঁচে যাওয়া লিটন খেলছেন লিটনের মতো।
তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় ঘন্টাটা অবশ্য ভালই কাটিয়েছে বাংলাদেশ। এই ঘন্টায় উইকেটহীন ৫৩ রান যোগ করেছে শান্ত'র দল।
লাঞ্চ ব্রেকের সময় ৪৮ রানে ব্যাটিংয়ে থাকা লিটন দাস লাঞ্চ ব্রেকের পর ৫৪তম টেস্টে ২০তম ফিফটি উদযাপন করেছেন। তবে ফিফটির পর ইনিংসটা বড় করতে পারেননি। পেসার হাসান আলীর আউটসাইড অফ পিচিং ডেলিভারিতে স্ল্যাশ করতে যেয়ে বাউন্ডারি রোপের কাছে ক্যাচে থেমেছেন লিটন (৯২ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৬৯ রান)। ৫ম উইকেট জুটিতে মুশফিককে নিয়ে ১৮৮ বলে ১২৩ রানে রেখেছেন লিটন অবদান।
লিটন ফিরে যাওয়ার পর মুশফিকুর রহিমকে খুব বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি মিরাজ। খুররমের শর্ট অব লেন্থের বল লেগ সাইডে ঘোরাতে যেয়ে বোল্ড আউটে থেমেছেন তিনি (৩৯ বলে ১৯)।
বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে খেলেছেন শততম টেস্ট। সেঞ্চুরি টেস্টে বিশ্বের ১১তম ব্যাটার হিসেবে উদযাপন করেছেন সেঞ্চুরি। ৬ মাস আগে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সেই কৃতি গড়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে টেস্টে সর্বাধিক সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুলের সেঞ্চুরির সংখ্যাকে (১৩) ছুঁয়েছেন। সোমবার সিলেটে টি ব্রেকের পর মুহাম্মদ আব্বাসকে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে বাউন্ডারি মেরে মুমিনুলকে টপকে বাংলাদেশের সর্বাধিক টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান (১৪টি) এখন তিনি।
সিলেটে তিন অঙ্কে পৌছে যাওয়ার সংকল্প ছিল মুশফিকুর রহিমের। তৃতীয় দিনে একবারও ভুল করেননি। ১০৩ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় ৩০তম টেস্ট ফিফটির পর সেঞ্চুরির লক্ষ্যে ব্যাট করেছেন। পরবর্তী ফিফটির জন্য খেলেছেন তিনি ৭৫টি বল। মেরেছেন এই সময়ে ৬টি বাউন্ডারি। খুররম শেহজাদকে এক ওভারে ২টি বাউন্ডারি মেরে ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে মনযোগী মুশফিক ৯০-এর ঘরে বেশিক্ষণ আটকে থাকেননি। শেষ ১০ রানে খেলেছেন তিনি ২৩টি বল। ৯০-এর ফরে অফ স্পিনার সাজিদ খানকে ডাউন দ্য উইকেটে মেরেছেন বাউন্ডারি। ৯৯ থেকে সেঞ্চুরিতে পৌছুঁতে বেছে নিয়েছেন বাউন্ডারি শট।
পাকিস্তানের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিমের এটি ১০ম টেস্টে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ২০২৪ সালের আগস্টে রাওয়ালপিণ্ডি টেস্টে ম্যাচ উইনিং ১৯১ রানের ইনিংসের পর এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ২ টেস্ট বিরতি দিয়ে করেছেন দ্বিতীয় সেঞ্চুরি উদযাপন। উদযাপনের অভিব্যক্তি সেই নিজস্ব স্টাইল। হেলমেট খুলে পিচের উপর সেজদা দিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে সন্তুষ্টি প্রকাশের মাধ্যমে করেছেন ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি উদযাপন।
সেঞ্চুরির পর দ্রুতগতিতে রান তোলার চেষ্টা করেছেন মুশফিক। তবে বাংলাদেশের লিড যখন ৪৩৬ রান, তখন সাজিদ খানকে এক হাতে ডাউন দ্য উইকেটে শট নিতে যেয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়েছেন মুশফিক (২৩৩ বলে ১২ চার,১ ছক্কায় ১৩৭)।
তৃতীয় ইনিংসে পাকিস্তান বোলারদের মধ্যে মিডিয়াম পেসার খুররম শেহজাদ সবচেয়ে সফল (২০-৩-৮৬-৪)। অফ স্পিনার সাজিদ খান পেয়েছেন ৩ উইকেট (৩৩.২-২-১২৬-৩)।

দেশের ক্রীড়া সাংবাদিক ও ক্রীড়ালেখকদের প্রাচীন সংগঠন বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন-বিএসপিএর ২০২৫ সালের বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতেছেন রিশাদ হোসেন। বাংলাদেশ জাতীয় দল ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে আলো ছড়িয়ে এই স্বীকৃতি পেয়েছেন তরুণ লেগ স্পিনার।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২৫ সালের বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ পুরস্কারের মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম প্রকাশ করেছে বিএসপিএ। যেখানে বর্ষসেরা ক্রিকেটার ক্যাটাগরিতে বাজিমাত করেছেন রিশাদ। এছাড়া উদীয়মান ক্রীড়াবিদের পুরস্কার জিতেছেন রিপন মন্ডল।
২০২৫ সালে বাংলাদেশের জার্সিতে ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ৩১ ইনিংসে মোট ৫০টি উইকেট নেন রিশাদ। তার সেরা বোলিং ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডেতে ৩৫ রানে ৬ উইকেট। এছাড়া বিগ ব্যাশ ও পিএসএলেও আলো ছড়ান তরুণ লেগ স্পিনার।
আরও পড়ুন
| খাজাকে ছাড়িয়ে সেঞ্চুরির রেকর্ডটি এখন মুশফিকের |
|
এছাড়া গত বছরের ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপে সুপার ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করে নজর কাড়েন রিপন। যার সৌজন্যে সবাইকে পেছনে ফেলে বছরের উদীয়মান ক্রীড়াবিদের পুরস্কার জিতেছেন ২৩ বছর বয়সী এই পেসার।
পুরস্কার জেতার সম্ভাবনা রয়েছে জাতীয় দলের বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমেরও। পপুলার চয়েজ এওয়ার্ডে মনোনয়ন পেয়েছেন ২৫ বছর বয়সী ওপেনার। যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হামজা চৌধুরী, ঋতুপর্ণা চাকমা ও আমিরুল ইসলাম।
প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে শুক্রবার বিকেলে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গত জুনে সেঞ্চুরি করলেও অল্পের জন্য রেকর্ডটি গড়তে পারেননি মুশফিকুর রহিম। তবে বছর না ঘুরতেই আবার তিন অঙ্ক ছুঁয়ে এবার উসমান খাজাকে টপকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সবচেয়ে বেশি বয়সে সেঞ্চুরির মালিক হয়ে গেলেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটার।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি করেছেন মুশফিক। টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে তিনিই এখন সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক। এই শতকের সৌজন্যে মুমিনুল হককে (১৩) টপকে গেছেন ৩৯ বছর বয়সী ব্যাটার।
একইসঙ্গে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সবচেয়ে বয়স্ক ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরির রেকর্ডটিও নিজের করে নিয়েছেন মুশফিক। চলতি ম্যাচটি শুরুর দিন মুশফিকের বয়স ছিল ৩৯ বছর ৭ দিন। তার চেয়ে বেশি বয়সে চ্যাম্পিয়নশিপে সেঞ্চুরি নেই আর কারও।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ৩৮ বছর ৪২ দিন বয়সে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৩২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন খাজা। এরপর জুনে তার খুব কাছে গিয়েছিলেন মুশফিক। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬৩ রানের ইনিংস খেলার দিন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়কের বয়স ছিল ৩৮ বছর ৩৯ দিন।
তবে গত জুনে না পারলেও, ২০২৬ সালের মে মাসে ঠিক রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন মুশফিক। এর বাইরে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সবচেয়ে বেশি বয়সে সেঞ্চুরির তালিকায় পাঁচ নম্বরেও আছেন তিনি। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৯১ রান করার ম্যাচে তার বয়স ছিল ৩৭ বছর ১০৪ দিন।

টেস্ট উপভোগ করেন বলেই ওডিআই, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়ে দিয়ে থেকে গেছেন মুশফিকুর রহিম লাল বলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে খেলেছেন শততম টেস্ট। সেঞ্চুরি টেস্টে বিশ্বের ১১তম ব্যাটার হিসেবে উদযাপন করেছেন সেঞ্চুরি। ৬ মাস আগে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সেই কৃতি গড়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে টেস্টে সর্বাধিক সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুলের সেঞ্চুরির সংখ্যাকে (১৩) ছুঁয়েছেন। সোমবার সিলেটে টি ব্রেকের পর মুহাম্মদ আব্বাসকে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে বাউন্ডারি মেরে মুমিনুলকে টপকে বাংলাদেশের সর্বাধিক টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান (১৪টি) এখন তিনি।
পার্টনারের অভাবে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে মিস করেছেন সেঞ্চুরি (৭১)। সে কারণেই সিলেটে তিন অঙ্কে পৌছে যাওয়ার সংকল্প ছিল মুশফিকুর রহিমের। প্রথম ইনিংসে আম্পায়ার্স কলে ২৩ রানে এলবিডাব্লু হয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তৃতীয় দিনে একবারও ভুল করেননি। ১০৩ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় ৩০তম টেস্ট ফিফটির পর সেঞ্চুরির লক্ষ্যে ব্যাট করেছেন। পরবর্তী ফিফটির জন্য খেলেছেন তিনি ৭৫টি বল। মেরেছেন এই সময়ে ৬টি বাউন্ডারি। খুররম শেহজাদকে এক ওভারে ২টি বাউন্ডারি মেরে ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে মনযোগী মুশফিক ৯০-এর ঘরে বেশিক্ষণ আটকে থাকেননি। শেষ ১০ রানে খেলেছেন তিনি ২৩টি বল। ৯০-এর ফরে অফ স্পিনার সাজিদ খানকে ডাউন দ্য উইকেটে মেরেছেন বাউন্ডারি। ৯৯ থেকে সেঞ্চুরিতে পৌছুঁতে বেছে নিয়েছেন বাউন্ডারি শট।
পাকিস্তানের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিমের এটি ১০ম টেস্টে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ২০২৪ সালের আগস্টে রাওয়ালপিণ্ডি টেস্টে ম্যাচ উইনিং ১৯১ রানের ইনিংসের পর এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ২ টেস্ট বিরতি দিয়ে করেছেন দ্বিতীয় সেঞ্চুরি উদযাপন। উদযাপনের অভিব্যক্তি সেই নিজস্ব স্টাইল। হেলমেট খুলে পিচের উপর সেজদা দিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে সন্তুষ্টি প্রকাশের মাধ্যমে করেছেন ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি উদযাপন।

২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান সফরে স্বাগতিকদের টেস্ট সিরিজে হোয়াইট ওয়াশের অতীত সুখস্মৃতিই ফিরতি টেস্ট সিরিজে বুক চিতিয়ে বাংলাদেশকে খেলতে অনুপ্রাণিত করছে। মিরপুর টেস্টে জয়ের রেশটাই সিলেটে স্মরনীয় প্রাপ্তির জন্য উদ্বুদ্ধ করছে শান্ত'র দলকে। এই প্রথম হোমে পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ দল। দ্বিতীয় দিন শেষে ১৫৬ রানের লিড নিয়ে ড্রাইভিং সিটে উঠে আসা বাংলাদেশ দল তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে ২৪৯ রানের লিড পেয়েছে। তৃতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের স্কোর তৃতীয় দিনের লাঞ্চ ব্রেক পর্যন্ত ২০৩/৪। লিটন ৪৮ এবং মুশফিক ৩৯ রানে ব্যাটিংয়ে আছেন। দিনের প্রথম সেশনে ১ উইকেট হারিয়ে যোগ করেছে বাংলাদেশ ৯৩ রান।
সিলেটে চতুর্থ ইনিংসে ১৭৪-এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের অতীত নেই কারো। গত বছরের এপ্রিলে এই রান তাড়া করে ৩ উইকেটে জয়ের রেকর্ডটা জিম্বাবুয়ের। আড়াই বছর আগে সিলেটে ৪র্থ ইনিংসে ৩৩২ রান তাড়া করে বাংলাদেশের কাছে ১৫০ রানে নিউ জিল্যান্ডের হারের সেই অতীত থেকে টনিক নিতে পারে শান্ত এন্ড কোং।
তৃতীয় দিনের প্রথম ঘন্টা নির্বিঘ্নে পার করতে পারেনি বাংলাদেশ। পাকিস্তানের দুই মিডিয়াম পেসার খুররম শেহজাদ এবং মুহাম্মদ আব্বাসের ছোট-ছোট সুইং ডেলিভারি খেলতে সতর্ক থাকতে হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাটারদের। এই ঘন্টায় অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে হারিয়ে বাংলাদেশ যোগ করেছে ৪০ রান।
দিনের দশম ওভারে খুররম শেহজাদকে ক্রস খেলতে যেয়ে এলবিডাব্লুউতে কাটা পড়েছেন শান্ত (৪৬ বলে ১ বাউন্ডারিতে ১৫)। রিভিউ আপীলে লাভ হয়নি। বল ট্র্যাকিংয়ে লেগ স্ট্যাম্পে হিটের ধরা পড়েছে।
১ বল পর লিটন বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছেন। খুররম শেহজাদের বলে স্লিপে ক্যাচ থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন লিটন। ০ রানের মাথায় বেঁচে যাওয়া লিটন খেলছেন লিটনের মতো।
তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় ঘন্টাটা অবশ্য ভালই কাটিয়েছে বাংলাদেশ। এই ঘন্টায় উইকেটহীন ৫৩ রান যোগ করেছে শান্ত'র দল। ৫ম উইকেট জুটিতে লিটন-মুশফিক লাঞ্চ ব্রেক পর্যন্ত যোগ করেছে ৮৮ রান।