
বাংলাদেশের ক্রিকেটের শুরু থেকেই দলের শক্তি জায়গা হয়ে এসেছে স্পিন বিভাগ। বরাবরই তাই বাংলাদেশ দলে দেখা গেছে স্পিনারদের আধিক্য। হাতেগোনা কয়েকজন পেসার অবশ্য তার মাঝেও আলো ছড়িয়েছেন। এখন অবশ্য যুগ বদলেছে। এখন জাতীয় দলে দাপট দেখাচ্ছেন পেসাররাই, যার সবশেষ সংযোজন নাহিদ রানা। গতিময় এই পেসার বলেছেন, বাংলাদেশের সব পেসারকে আদর্শ মেনেই পথচলায় এগিয়েছে তার।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় তরুণ যে পেসাররা উঠে আসেন বা আসছেন, তাদের জন্য দেশের পেসারদের মধ্যে অনুপ্রেরণা খুঁজে নেওয়াটা একটু কঠিনই। কারণ, হাতেগোনা এক-দুইজন বাদে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শীর্ষ মানের পেসার বাংলাদেশ দলে ধারাবাহিক দেখা যায়নি। ফলে উঠতি পেসারদের অনেকেরই আইডল থাকেন ভিনদেশী কোর্টনি ওয়ালস, শোয়েব আক্তার, ব্রেট লি, গ্লেন ম্যাকগ্রাথ, ডেল স্টেইনরা।
তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিওতে নাহিদ জানিয়েছেন, পূর্বসূরিরাই তাকে পেসার হতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। “সত্যি বলতে আমি কাউকে সেভাবে ফলো করি না। তবে বাংলাদেশে আমার সব পেস বোলারদেরই আমার ভালো লাগে। কারণ তাদের খেলা দেখেই আমি বড় হয়েছি। তাই নির্দিষ্ট কেউ একজন নেই। বাংলাদেশের সব পেসারদেরই আমার পছন্দ, যারা আমার সিনিয়র।”
আরও পড়ুন: কাউন্টিতে প্রথম দিনে সাকিবের ৩ স্পেল, ৪ উইকেট
সেটা না হলেও সব পেসারদেরই একজন আইডল থাকেন, যার মত তিনি হতে চান। তবে এখানেও ব্যতিক্রম নাহিদ। “আসলে আমি কারও মত হতে চাই না। আমি নাহিদ রানা, বাংলাদেশের নাহিদ রানাই হতে চাই।”
টেস্টে আগে অভিষেক হলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে হওয়া সদ্য সমাপ্ত টেস্ট সিরিজ দিয়েই মূলত শোরগোল ফেলে দিয়েছেন নাহিদ। পেসারদের দেশ পাকিস্তানে গিয়ে তাদেরই দেশের ব্যাটাদের গতি দিয়ে রীতিমত খাবি খাইয়েছেন এই ডানহাতি পেসার। কিছু স্পেলে ধারাবাহিকভাবে বল করেছেন ঘণ্টায় ১৪৫ কি.মি গতিতে। কিছু ডেলিভারি পার করেছে ১৫০ কি.মি, বাংলাদেশের একজন পেসারের জন্য যা স্বপ্নের সমতুল্যই ছিল এতদিন।
তবে নিরাবেগ নাহিদ বললেন, বেশি গতিতে বল করার আলাদা ভাবনা নিয়ে বোলিং করেননি তিনি। “এটা কখনও অনুভব করিনি যে আমাকে (ঘণ্টায়) ১৫২ কি.মি গতিতে বোলিং করতে হবে। একটা জিনিসই সবসময় মাথায় ছিল যে আমাকে প্ল্যান যেটা দেওয়া হয়েছে, সেই অনুযায়ী বোলিং করেছি বা আমার নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করেছি।”

পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ে বড় অবদান ছিল নাহিদের। দুইবার আউট করেছেন পাকিস্তানের সেরা ব্যাটার বাবর আজমকে আর দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেট নেওয়া যা স্পেল উপহার দিয়েছেন, তা অনেকটাই গড়ে দেয় ম্যাচের ভাগ্য।
দলের জয়ে অবদান রাখতে পারাটাই নাহিদকে বেশি তৃপ্তি দিচ্ছে। “স্বপ্নের মত না আসলে। কিন্তু আমি যেটা আশা করেছিলাম, বা দল আমার কাছে যা আশা করেছিল, সেটা করতে পেরেছি। দেশ ছাড়ার আগে বলেছিলাম দেশের জন্য কিছু করতে চাই। সেটা করতে পেরেছি তাই ভালো লাগছে।”
No posts available.

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট রেকর্ডটা লিটন দাসের দারুণ। ক্যারিয়ারের ২৬ তম টেস্টে এসে দেখা পেয়েছেন প্রথম সেঞ্চুরি, সেই সেঞ্চুরিতে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। ২০২১ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রামে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে প্রিয় প্রতিপক্ষ হয়ে গেছে তাঁর পাকিস্তান। ২০২৪ সালে রাওয়ালপিণ্ডি টেস্টে ১৩৮ রানের ইনিংসে বাংলাদেশকে টেস্ট জিতিয়ে পেয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। পাকিস্তানের বিপক্ষে ফিরতি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৩৩ ও ১১-তে থেমেও ছিলেন শেষ ম্যাচে সংকল্পবদ্ধ। সিলেট টেস্টের প্রথম দিন টেস্ট ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় সেঞ্চুরিতে তুলেছেন তৃপ্তির ঢেকুর।
৬ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে বড় ইনিংসের সুযোগ খুবই কম। টেল এন্ডারদের সাথে বোঝাপড়ায় নিজের ইনিংসটা বড় করা কঠিন। তারপরও ৬ নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নিজেকে ভালই মেলে ধরেছেন। ৫৪টি টেস্টের ২৬টিতে এই পজিশনে ব্যাট করে ৩টিতে উদযাপন করেছেন লিটন সেঞ্চুরি।
১০৬ রানের মাথায় ৪র্থ উইকেট জুটির পতনে লাঞ্চ ব্রেকের পরের ঘন্টায় বড় একটা ঝাকুনি খেয়েছে বাংলাদেশ। মাত্র ১০ রানের মধ্যে তিনটি উইকেট পড়ে যাওয়ায় স্কোরটা ২০০-তে টেনে নেয়াই ছিল বড় পরীক্ষা। দিনের দ্বিতীয় সেশনের শেষ ঘন্টা তাইজুলকে নিয়ে পার করেছেন লিটন। ৭ম উইকেট জুটিতে ৪৪ বলে ৬০ রান যোগ করে বাংলাদেশ দলকে ফিরিয়েছেন প্রতিরোধযুদ্ধে। টি-ব্রেকের পর ৯৩ বলে ফিফটি উদযাপনের পর ৫২ রানের মাথায় খুররম শেহজাদের বলে কট বিহাইন্ড থেকে বেঁচে গেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক রিভিউ আপীল না নেওয়ায়। এর পর আর ভুল করেননি। ৭৬ থেকে সেঞ্চুরি, এই ২৪ রান করেছেন ঝটপট। মেরেছেন ৫ চার, ১ ছক্কা। খুররম শেহজাদের শর্ট পিচ ডেলিভারিতে দর্শনীয় সুইপে ফাইন লেগের উপর দিয়ে ছক্কায় শুরু এই ঝড়। পরের ওভারে সাজিদ খানকে মেরেছেন ২টি বাউন্ডারি। তার পরের ওভারে খুররমকে ২টি বাউন্ডারি। ৯৯-এ এসে মোটেও বিচলিত হননি। ৭১তম ওভারের ২য় বলে খুররম শেহজাদকে দিনের সেরা শট কাভার ড্রাইভে বাউন্ডারিতে পৌছে গেছেন তিন অঙ্কে। ১৫৩ বলে ১৩ চার, ১ ছক্কায় শোভিত সেঞ্চুরির শেষ ৫০টি রান এসেছে ওয়ানডে স্টাইলে, ৬০ বলে। যে ৬০ টি বলের মধ্যে ৯টিকে বাউন্ডারি, একটিকে ছক্কায় পরিণত করেছেন লিটন দাস।
টেল এ্রন্ডার পার্টনারদের উপর ভরসা রাখতে না পেরে সেঞ্চুরির পর বাংলাদেশের স্কোর দ্রুত বাড়িয়ে নিতে ঝুঁকিপূর্ণ শটে মনোনিবেশ করেছিলেন লিটন। খুররম শেহজাদকে ফাইন লেগের উপর দিয়ে ছক্কা মেরে প্রকারান্তরে সে কথাই জানিয়ে দিয়েছেন লিটন। তবে সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি লিটন। হাসান আলীর বলে ডিপ স্কোয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে থেমেছেন লিটন (১৫৯ বলে ১৬ চার, ২ ছক্কায় ১২৬)। ৭৯.২৪ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিংয়ে নিজের ইতিবাচক মানসিকতার কথাই জানিয়ে দিয়েছেন লিটন দাস।
সত্যিই টেস্টে লিটন দাসের প্রিয় প্রতিপক্ষের নাম পাকিস্তান। ৭ টেস্টে ১১ ইনিংসে ৩ সেঞ্চুরির পাশে ২ ফিফটি। ৫৯.০৯ গড়ে ৬৫০ রান সেই চিত্রই মেলে ধরেছে।

খুররাম শাহজাদের অফ স্টাম্পের বাইরে করা ডেলিভারি দারুণ কাভার ড্রাইভ করে দিলেন লিটন কুমার দাস। বল সীমানা পেরোতেই হেলমেট খুলে ব্যাটে চুমু এঁকে দিলেন ড্যাশিং ব্যাটার। পরে দুই হাত ছড়িয়ে তিনি সারলেন তিন অঙ্ক ছোঁয়ার উদযাপন।
আর এই আনন্দ লিটনকেই মানায়। কারণ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের অন্য ব্যাটারদের যাওয়া-আসার মিছিলে লিটনই শুধু ব্যতিক্রম। বোলারদের নিয়ে ব্যাটিং করে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি যে উপহার দিয়েছেন তিনি।
অযথা পুল শট খেলতে গিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ যখন ড্রেসিং রুমের পথ ধরলেন, তখন মাত্র ২ রানে অপরাজিত লিটন। সেখান থেকে তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে দলকে ভালো জায়গা নেওয়ার পাশাপাশি নিজেও পেলেন সেঞ্চুরির উষ্ণ ছোঁয়া।
আরও পড়ুন
| ব্যর্থতার মিছিলে তাইজুলকে নিয়ে লড়ছেন লিটন |
|
ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে ১৩ চার ও ১ ছক্কায় ১৩৫ বলে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি করেছেন লিটন।আর পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি। এর আগে ২০২১ সালে চট্টগ্রামে ও গত বছর রাওয়ালপিন্ডিতে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন তিনি।
নিঃসন্দেহে লিটনের ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসগুলোর মধ্যে ওপরের দিকেই থাকবে এবারের শতরানের ইনিংসটি। কারণ ১১৬ রানের মাথায় ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে মিরাজ ফেরার পর পুরোপুরি একা হয়ে যান ৩১ বছর বয়সী ব্যাটার।
সেখান থেকে প্রথমে সপ্তম উইকেটে তাইজুলের সঙ্গে ৬০ রানের জুটি গড়েন লিটন। যেখানে তার একার অবদান ৪৩ রান। লিটনের ফিফটির আগেই আউট হয়ে যান ১৪ রান করা তাইজুল। পরে তাসকিনের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে যোগ করেন মাত্র ৪২ বলে ৩৮ রান।
ওই জুটিতে লিটনের অবদান ছিল ৩০ রান। তাসকিন ড্রেসিং রুমের পথ ধরলে শরিফুলকে সঙ্গে হিসেবে পান লিটন। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে যত কম সম্ভব ডেলিভারি শরিফুলকে খেলতে দেন তিনি। ওভারের চতুর্থ, পঞ্চম বা শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে বেশিরভাগ সময় স্ট্রাইক নিজের কাছেই রাখেন লিটন।
দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পরিচয় দিয়েই আগ্রাসন ও নিয়ন্ত্রণের মিশেলে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরিতে পৌঁছান তিনি। শাহজাদের বলে ছক্কা মেরে ৭৬ থেকে তিনি চলে যান ৮২ রানে। পরের ওভারে সাজিদ খানের বলে জোড়া চার মেরে ঢোকেন নব্বইয়ের ঘরে।
আরও পড়ুন
| টপ-অর্ডারকে হারিয়ে শান্ত-মুশফিকের লড়াই |
|
পরে শাহজাদের বলে বাউন্ডারি মেরেই পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। শতক ছোঁয়ার ঠিক পরের বলে পুল শট করে ছক্কা মেরে নিজের অভিপ্রায়ও পরিষ্কার করে দেন লিটন।
সেঞ্চুরির ইনিংসটি অবশ্য শতভাগ নিখুঁত ছিল না। ব্যক্তিগত ৫২ রানে শাহজাদের পুল করতে গিয়ে তার গ্লাভস ছুঁয়ে বল যায় উইকেটকিপারের হাতে। কিন্তু সাড়া দেননি আম্পায়ার। জোরাল আবেদনের পরও রিভিউ নেয়নি পাকিস্তান। তাই বেঁচে যান লিটন। আর করেন চমৎকার এক সেঞ্চুরি।
এই প্রতিবেদন পর্যন্ত ৭৫ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৭১ রান। নবম উইকেটে শরিফুলের সঙ্গে লিটনের অবিচ্ছিন্ন জুটির সংগ্রহ ৫৭ রান। যেখানে শরিফুলের অবদান শুধু ১১ রান। আর ১৪ চার ও ২ ছক্কায় ১৫২ বলে ১২০ রানে অপরাজিত লিটন।

মিরপুর টেস্টের বাংলাদেশ ব্যাটারদের ব্যাটিং বীরত্ব উধাও সিলেটে। পাকিস্তানের দুই পেসার মুহাম্মদ আব্বাস এবং খুররম শেহজাদের মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে এলোমেলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাটারদের আত্মাহুতির প্রবণতায় নামতা গুনে টেস্টের প্রথম দিন সেশনপ্রতি ৩টি করে উইকেট পড়েছে। দিনের প্রথম সেশনে ১০১ রান যোগ করে হারিয়েছে বাংলাদেশ ৩ উইকেট। দ্বিতীয় সেশনে সমসংখ্যক উইকেট হারিয়ে যোগ করতে পেরেছে বাংলাদেশ দল মাত্র ৬৭ রান। টি ব্রেকের সময়ে বাংলাদেশের স্কোর ১৬৮/৬। লিটন ৪২ এবং তাইজুল ১১ রানে ব্যাটিংয়ে ছিলেন তখন।
এমনিতেই লাকাতুরা টি গার্ডেনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামটি যেনো সবুজের সমারোহ। দেশের সবচেয়ে সুদৃশ্য ক্রিকেট ভেন্যুতে টেস্টের জন্য যে উইকেটটি বানানো হয়েছে, তার সঙ্গে আউটফিল্ড আলাদা করার উপায় নেই। বৃষ্টি পেয়ে আউটফিল্ড-পিচ সবুজে একাকার। এমন এক মাঠে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা মানেই বড় একটা প্রতিরোধ যুদ্ধে অবতীর্ন হওয়া। সেই প্রতিরোধ যুদ্ধে দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশ হারিয়েছে ৩ উইকেট। পাকিস্তান পেসার মুহাম্মদ আব্বাস (৭-১-২২-২) এবং খুররম শেহজাদের (৭-০-৩৪-১) বোলিংয়ে প্রথম দিনের লাঞ্চ ব্রেকের সময় বাংলাদেশের স্কোর ১০১/৩।
পাকিস্তানের পেস অ্যাটাক নিয়ে সে দেশের সাবেক এবং মিডিয়ার ব্যাপক সমালোচনায় পেস কম্বিনেশনে পরিবর্তন এনেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এই পরিবর্তন আনতে যেয়ে বাদ দেয়া হয়েছে দলটির সবচেয়ে গতির বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদিকে। এর পেছনে কারণটা অবশ্যই প্রথম দিনের প্রথম সেশনে দিয়েছে পাকিস্তানের পরিবর্তিত পেস অ্যাটাক। মিডিয়াম পেস দিয়ে, নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বাংলাদেশ ব্যাটারদের চাপে ফেলতে ছোট ছোট সুইংয়ের কাজ ভালই করেছেন মুহাম্মদ আব্বাস, খুররম শেহজাদ।
আরও পড়ুন
| সিলেটে প্রথম সেশনটি পাকিস্তানের |
|
দিনের প্রথম ঘন্টায় মুহাম্মদ আব্বাসের এক স্পেলে (৬-১-২০-২) বাংলাদেশ হারায় ২ উইকেট (৫৫/২)।মিরপুর টেস্টে মাহামুদুল হাসান জয়ের দুটি ইনিংসই ছিল সিঙ্গল ডিজিটের ঘরে। ৮ ও ৫ রান করে আউট হয়েছেন তিনি ওই টেস্টে। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে করেছেন আরো বেশি হতাশ। প্রথম দিনে সকালের সেশনে টিকলেন মাত্র দুই বল। ইনিংসের প্রথম বলে এলবিডব্লুর আবেদনে বেঁচে যান জয়। আব্বাসের দ্বিতীয় ডেলিভারি ছিল শর্ট, সেই বলে ক্যাচ দেন দ্বিতীয় স্লিপে (০)।
সাদমানের ইনজুরিতে তানজিদ হাসান তামিমের অভিষেক ছিল প্রত্যাশিত। ৩৪ ওডিআই, ৪৭ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই ওপেনারের টেস্ট অভিষেক হয়েছে সিলেটে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের ৩৩ মাস পর টেস্ট ঘরানায় পথচলাটা তার শুভ হয়নি। আব্বাসের ৫ম ওভারে আউটসাইড অফ ডেলিভারি ছিল মাঝারিমানের উচ্চতায়। সেই বলটিকে মিড অনের ওপর দিয়ে তুলে খেলতে যেয়ে ভুল করেছেন তাকে স্রেফ আত্মহত্যা বলাই সমীচিন। টপ এজ হয়ে বলটি আকাশে । আব্বাসের রিটার্ন ক্যাচে থেমেছেন তানজিদ হাসান তামিম (৩৪ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২৬)।
খুররমের সেকেন্ড স্পেলের প্রথম ওভারে মুমিনুলের ধৈর্যচ্যুতিও টেস্টে তার চরিত্রের সঙ্গে মানানসই নয়। বল বাতাসেই একটু সুইং করে ভেতরে ঢুকেছে। সামনে পা নিয়ে খেললেও বল তাঁর ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক খুঁজে নিয়েছে।ক্রস খেলতে যেয়ে বোল্ড হয়েছেন তিনি (৪১ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২২)।
লাঞ্চ ব্রেকের পরের ঘন্টাটি ছিল দুর্যোগপূর্ণ। এই ঘন্টায় খুররম শেহজাদ ( ২-০-৫-২) এবং মুহাম্মদ আব্বাসের (৫-২-৪-১) দুটি স্পেলে স্কোরশিটে মাত্র ১৬ রান যোগ করে হারিয়েছে বাংলাদেশ ৩ উইকেট। তিনটি উইকেটই দিয়ে এসেছেন শান্ত, মুশফিক, মিরাজ। লাঞ্চের পর আধ ঘন্টার প্রতিরোধ ভেঙ্গেছে শান্ত'র দ্বিধা-দ্বন্দ্বে নেয়া হাফ হার্টেড শটে। মুহাম্মদ আব্বাসের আউটসাইড অফ ডেলিভারি খেলব, কি খেলব না করতে করতে শেষ মুহূর্তে খেলতে যেয়ে উইকেটের পেছনে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন অধিনায়ক শান্ত (৭৪ বলে ৩ বাউন্ডারি, ২৯ রান)। তার ৪ ওভার পর খুররম শেহজাদের অ্যাঙ্গেল ডেলিভারিতে লেগ সাইডে খেলতে যেয়ে ব্যাট-বলের সংযোগ ঘটাতে পারেননি মুশফিক। রিভিউ আপীলে লাভ হয়নি। আম্পায়ার্স কলে এলবিডাব্লুউতে থেমেছেন তিনি (৬৪ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২৩)। টি ব্রেকের আগের ওভারে খুররম শেহজাদের শর্ট বলে মাথা না ঝুঁকিয়ে হুক করতে যেয়ে ডিপ ফাইন লেগে ধরা পড়েছেন মিরাজ (৬ বলে ৪)।
১০৬ থেকে ১১৬-এই ১০ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বেসামাল বাংলাদেশ দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করছেন লিটন-তাইজুল। টি ব্রেক পর্যন্ত ৫৫ মিনিটের পার্টনারশিপে তাঁরা অবিচ্ছিন্ন ৭ম উইকেট জুটিতে যোগ করেছেন ৫২ রান। টেস্ট ক্যারিয়ারে ২০তম ফিফটি থেকে ৮ রান দূরে লিটন।
আরও পড়ুন
| টপ-অর্ডারকে হারিয়ে শান্ত-মুশফিকের লড়াই |
|
দিনের প্রথম ঘন্টায় পাকিস্তান পেসার হাসান আলীর ইনজুরি উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্টকে।
ইনিংসের অষ্টম ওভারে হাসান আলীর পঞ্চম বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। ডান দিকে ডাইভ দিয়ে ক্যাচটি নিতে পারেননি। উল্টো পিচের ওপর পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁকে। পরে স্ক্যান করে আঘাতটা গুরুতর নয় জেনে মাঠে নামানো হয়েছে হাসান আলীকে।

দ্বিতীয় সেশনে চাপে পড়ে গেল বাংলাদেশ। মধ্যাহ্ন বিরতির পর টানা ৩ উইকেট হারিয়ে প্রথম দিনে অল আউট হওয়ার শঙ্কায় স্বাগতিকরা। তবে প্রতিরোধ গড়ার আভাস দিয়েছেন লিটন কুমার দাস ও তাইজুল ইসলাম। দুজন মিলে এগিয়ে নিচ্ছেন দলকে।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম দিনের চা বিরতি পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫৪ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান। লিটন ৭৭ বলে ৪২ ও তাইজুল ৩১ বলে ১১ রানে অপরাজিত রয়েছেন। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটির সংগ্রহ ৫২ রান।
প্রথম সেশনে ২৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১০১ রান করেছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে পরের সেশনে ২৮ ওভার খেলে মাত্র ৬৭ রান করতে আরও ৩ উইকেট হারিয়েছে তারা।
মেঘাচ্ছন্ন সকালে কয়েনভাগ্য পাশে পান পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। বাবর আজমকে ফেরানোর পাশাপাশি মোট তিন পরিবর্তন নিয়ে আগে ফিল্ডিং নেন তিনি। অধিনায়কের সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করে এরই মধ্যে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন দুই পেসার মোহাম্মদ আব্বাস ও খুররাম শাহজাদ।
সাদমান ইসলামের চোটে এই ম্যাচ দিয়ে টেস্ট অভিষেক হয় তামিমের। বাংলাদেশের ১০৯তম ক্রিকেটার হিসেবে অভিজাত সংস্করণে খেলতে নেমে শুরুটা ইতিবাচক করেন বাঁহাতি ওপেনার। কিন্তু ইনিংস টেনে নিতে পারেননি তিনি।
অন্য প্রান্তে শুরুতেই ফেরেন আরেক ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। আব্বাসের করা ইনিংসের দ্বিতীয় বলে আরও একবার খোঁচা মেরে স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। এ নিয়ে ২২ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৮ বার শূন্য রানে ফিরলেন তরুণ এই ওপেনার।
পরে মুমিনুল হককে নিয়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন তামিম। ইতিবাচক ব্যাটিং করে প্রতি ওভারে গড়ে চারের বেশি রান নিতে থাকেন দুই বাঁহাতি ব্যাটার। তবে বেশিক্ষণ টানতে পারেনি এই জুটি। আব্বাসের শর্ট বলে আলগা শট খেলতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দেন তামিম।
অভিষেক ইনিংসে ৩ চারে ৩৪ বলে ২৬ রান করে ফেরেন বাঁহাতি ওপেনার।
এরপর মুমিনুল বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। শাহিন শাহ আফ্রিদির জায়গায় একাদশে ফিরে অভিজ্ঞ এই ব্যাটারকে দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড করেন খুররাম। আগের পাঁচ ইনিংসেই ফিফটি করা মুমিনুল এদিন ৪১ বলে করতে পারেন ২২ রান।
সেশনের বাকি অংশে আর বিপদ ঘটতে দেননি শান্ত ও মুশফিক। শান্ত ৫১ বলে ২৬ ও মুশফিক ৩১ বলে ১৮ রানে দ্বিতীয় সেশনের খেলা শুরু করেন। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতির পর একদমই সুবিধা করতে পারেননি তারা দুজন।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে ভাগ্যের জোরে বেঁচে যান মুশফিক। সাজিদ খানের অফ স্পিন তার গ্লাভস ছুঁয়ে উইকেটকিপারের হাতে গেলেও আউট দেননি আম্পায়ার। জোরাল আবেদনের পরও রিভিউ নেয়নি পাকিস্তান। তাই ১৮ রানে বেঁচে যান অভিজ্ঞ ব্যাটার।
তবে বেশিক্ষণ তিনি টিকতে পারেননি। খুররাম শাহজাদের ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হন ২৩ রান করা মুশফিক। রিভিউ নিয়েও লাভ হয়নি তার। রিপ্লেতে দেখা যায়, লেগ স্টাম্প হালকা ছুঁয়ে যেত বল। অর্থাৎ আম্পায়ার্স কল।
মুশফিক ফেরার আগে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন শান্ত। আব্বাসের চমৎকার আউটসুইং ডেলিভারিতে খোঁচা মেরে কট বিহাইন্ড হন ৭৪ বলে ২৯ রান করা বাংলাদেশ অধিনায়ক। বামে নিচু হয়ে দারুণ ক্যাচ নেন মোহাম্মদ রিজওয়ান।
দলের বিপদ আরও বাড়িয়ে শাহজাদের শর্ট বলে দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো অযথা পুল শট খেলে ফাইন লেগ সীমানায় ক্যাচ দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মাত্র ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে তখন বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
সেখান থেকে দলের হাল ধরেন লিটন ও তাইজুল। সাজিদের স্পিন ও আব্বাস-শাহজাদের পেস আক্রমণ সামলে ধীরে ধীরে পঞ্চাশছোঁয়া জুটি গড়েন তারা দুজন। আপাতত টেস্ট ক্যারিয়ারের ২০তম ফিফটির সামনে দাঁড়িয়ে লিটন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ৯ আসরের সবকটি খেললেও নকআউট পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দল। এবার দশম আসরে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে নকআউটে যেতে চায় তারা। সে লক্ষ্যে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান।
ইংল্যান্ডে আগামী ১২ জুন শুরু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। এর আগে ডাবলিনে আয়ারল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে পাকিস্তান। ত্রিদেশীয় সিরিজ ও বিশ্বকাপের জন্য অভিন্ন স্কোয়াড ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
ফাতিমা সানার নেতৃত্বাধীন দলে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ডাক পেয়েছেন আয়মান ফাতিমা, নাটালিয়া পারভেজ, রামিন শামিম, সাইরা জাবিন ও তাসমিয়া রুবাব। এ নিয়ে টানা দুই বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দেবেন সানা।
সম্প্রতি ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়েকে ৩-০তে হোয়াইটওয়াশ করে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে পাকিস্তান। এরপর ২৮ মে থেকে ৪ জুন ডাবলিনে ত্রিদেশীয় সিরিজটি খেলবে তারা। যেখানে একে অপরের বিপক্ষে হবে দুইটি করে ম্যাচ।
বার্মিংহামে আগামী ১৪ জুন চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করবে পাকিস্তান। এর আগে ৬ জুন শ্রীলঙ্কা ও ৯ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে সানার নেতৃত্বাধীন দল।
আরও পড়ুন
| টপ-অর্ডারকে হারিয়ে শান্ত-মুশফিকের লড়াই |
|
বিশ্বকাপে এক নম্বর গ্রুপে পাকিস্তানের চার প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা (১৭ জুন), বাংলাদেশ (২০ জুন), অস্ট্রেলিয়া (২৩ জুন) ও নেদারল্যান্ডস (২৭ জুন)। গ্রুপে সেরা দুই দল পাবে নক আউট তথা সেমি-ফাইনালের টিকিট।
লর্ডসে আগামী ৫ জুলাই হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ।
পাকিস্তানের বিশ্বকাপ স্কোয়াড
ফাতিমা সানা (অধিনায়ক), আলিয়া রিয়াজ, আয়েশা জাফর, ডিয়ানা বেগ, আয়মান ফাতিমা, গুল ফিরোজা, ইরাম জাভেদ, মুনিবা আলি (উইকেটকিপার), নাশরা সান্ধু, নাটালিয়া পারভেজ, রামিন শামিম, সাদিয়া ইকবাল, সাইরা জাবিন, তাসমিয়া রুবাব, তুবা হাসান
রিজার্ভ: আম্বার কাইনাত, মোমিনা রিয়াসাত, সাদাফ শামস, সিদরা আমিন, সৈয়দা আরুব শাহ, উম্মে হানি