১৩ মার্চ ২০২৪, ১১:২৫ এম

সেই ২০১০ সালে শেষবারের মত আর্সেনাল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো লিগের বাধা পার করেছিল পোর্তোকে হারিয়ে। ১৪ বছর বাদে এবারও সেই পোর্তোকে টপকেই তারা জায়গা করে নিয়েছে শেষ আটে। দুই দলের লড়াইয়ে কি ছিল না? উত্তেজনায় ভরপুর এই ম্যাচ শেষে দুই দলের কোচের মধ্যেও ছিল কথার লড়াই। পোর্তো কোচ সার্জিও কনসেসো তো করেছেন গুরুতর অভিযোগ। তার দাবি, আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা অসম্মান করেছেন তার পরিবারকে।
আরও পড়ুন: সেই পোর্তোকে হারিয়েই আর্সেনালের ১৪ বছরের আক্ষেপের অবসান
রোমাঞ্চে ঠাসা দ্বিতীয় লেগ অতিরিক্ত সময়ে শেষ ১-১ সমতায়। টাইব্রেকারে নিষ্পত্তির পর দুই দলের কোচদের মধ্যে লেগে যায় ঝামেলা। এমনকি পরিবারকে অসম্মান করার কথাও জানিয়েছেন পোর্তো কোচ। “আর্তেতা বেঞ্চ থেকে স্প্যানিশ ভাষায় অনেক কথাই বলেছে, সে আমার পরিবারকে অসম্মান করে কিছু কথা বলেছে। তার স্রেফ নিজের ক্লাবকে অনুশীলনের দিকে নজর দেওয়া উচিত। ফলাফল আমাদের পক্ষে আসেনি। আমাদের পরের পর্বে যাওয়া উচিত ছিল।”

অবশ্য কনসেসোর তোলা অভিযোগকে মোটেও পাত্তা দেননি আর্তেতা। এমনকি এই বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্যও করতে রাজি হননি আর্সেনাল কোচ।
এর আগে ২০২০ সালেও এমন অভিযোগ তুলেছিলেন কনসেসো। সেবার তার অভিযোগ ছিল পেপ গার্দিওলার দিকে। ম্যানচেস্টার সিটি কোচ নাকি তাকে উদ্দ্যেশ্য করে বাজে মন্তব্য করেছিলে।
প্রথম লেগে পোর্তো ঘরের মাঠে ১-০ গোলে জয় দিয়ে শেষ করেছে। ফিরতি লেগে আর্সেনাল প্রথমার্ধে শোধ করে সেই গোল। এরপর আর্তেতার দল একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে গেলেও পোর্তোর ডিফেন্সকে টলাতে পারেনি তারা।
অতিরিক্ত সময়েও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। টাইব্রেকারে গিয়ে আর্সেনালের হিরো বনে যান ডেভিড রায়া। ঠিকেয়ে দেন পোর্তোর দুটি পেনাল্টি। ৪-২ ব্যবধানে ম্যাচ জতে নাচিয়েছেন পুরো এমিরেটস স্টেডিয়াম।
No posts available.
৩১ মার্চ ২০২৬, ৮:৩৬ পিএম
৩১ মার্চ ২০২৬, ৬:৫২ পিএম
৩১ মার্চ ২০২৬, ৫:২৪ পিএম

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে দু’বারের চ্যাম্পিয়ন নেপাল। আর বয়সভিত্তিক এই টুর্নামেন্টে ট্রফির স্বাদ একবারই পেয়েছে বাংলাদেশ। কাল মালদ্বীপের মালেতে সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নেপাল। সবশেষ এই নেপালকে হারিয়েই শিরোপার স্বাদ পায় লাল-সবুজ বাহিনীরা। শিরোপা ধরে রাখতে এবার শেষ চারেই তাদের বিদায় করার লক্ষ্যে নামবে বাংলাদেশ।
মালদ্বীপের মালেতে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে কাল সেমিফাইনালে নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে জয় আর ভারতের বিপক্ষে ড্রয়ের পর ফাইনালের টিকিট পেতে মুখিয়ে আছে যুবারা।
গ্রুপ ‘এ’ থেকে ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিল টপার হিসেবে সেমিতে উঠেছে নেপাল। এই গ্রুপ থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে রানার্স-আপ হয়েছে ভুটান। অন্যদিকে, গ্রুপ ‘বি’ থেকে ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ের পয়েন্ট ৪ হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ভারত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং বাংলাদেশ রানার্স-আপ হিসেবে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে।
এ পর্যন্ত ৮ বারের অংশগ্রহণে ২০২৪ সালে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। এর আগে চারবার রানার্স আপ ও একবার সেমিফাইনালে ওঠে যুবারা। ২০২৪ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফাইনালে এই নেপালকেই ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে শিরোপা জিতেছিল লাল-সবুজরা। সেই সুখস্মৃতি আর আত্ববিশ্বাস সঙ্গী করেই মাঠে নামবে বাংলাদেশের যুবারা। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামার আগে আজ প্রস্তুতির চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন করেছে তারা।
নেপালের মুখোমুখি হওয়ার আগে দলের টেকনিক্যাল স্টাফ ও কোচিং ইউনিট দলগত পারফরম্যান্সকে আরও সুসংহত করতে বিশেষ কোচিং সেশন পরিচালনা করেছে। কৌশলগত পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং ম্যাচ পরিস্থিতি মোকাবেলার বিভিন্ন দিক নিয়েও নিবিড়ভাবে কাজ করা হয়। পাশাপাশি, খেলোয়াড়দের মনোবল বাড়াতে ও উজ্জীবিত করতে কোচিং স্টাফরা অনুপ্রেরণামূলক সেশনও পরিচালনা করেন।
সেমিফাইনালের আগে আজ চূড়ান্ত প্রস্তুতির পর বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ মার্ক কক্স বলেন, ‘রিকভারির জন্য আমরা দুই-তিনদিন যাই পেয়েছে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। স্কোয়াডের ২২ জনকেই আমি শতভাগ বিশ্বাস করি।’
অতিরিক্ত সময় না থাকায় নির্ধারিত সময়ের পরই টাইব্রেকারে নির্ধারণ হবে ফাইনালিস্ট। সেমিফাইনালের ম্যাচ ৯০ মিনিটের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্যের কথা বললেন বাংলাদেশ কোচ, ‘আশা করি আমরা ৯০ মিনিটের মধ্যেই খেলা শেষ করতে পারব। এখানে কোনো অতিরিক্ত সময় নেই, সরাসরি পেনাল্টি শুটআউটে শেষ হবে খেলা, আমরা প্রস্তুত।’

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ফুটবলের শুরুতে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ড্র'র অতীতটাই বার বার মনে করতে হচ্ছে। ১৯৭৩ সালে মারদেকা কাপে ১-১ গোলে ড্র'র পর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলায় কোনো সুখবর দিতে পারেনি বাংলাদেশ দল। ২০১৫ সালে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ কিংবা তার এক দশক পর এ এফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে নিজেদের ঘরের মাঠে ১-২ গোলে হারের বদলা নিতে পারেনি বাংলাদেশ।
৫৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষম সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে প্রবাসী বাংলাদেশের ব্যাপক সমর্থন থেকেও টনিক নিতে পারেনি বাংলাদেশ দল। এ এফসি এশিয়া কাপের 'সি' গ্রুপের বাছাইপর্ব থেকে বিদায় ঘন্টা অনেক আগেই বেজেছে। এই গ্রুপ থেকে এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করা সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অন্তত একটি পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল দলের বাড়ি ফেরার দিকে তাকিয়েছিল সমর্থকরা। তবে ৬ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। র্যাঙ্কিংয়ে ৩২ ধাপ এগিয়ে থাকা সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরে এশিয়া কাপ বাছাইপর্ব শেষ করেছে বাংলাদেশ।
৪-৩-৩ ফরমেশনে ২টি পরিবর্তন এনে একাদশ সাজিয়ে হাভিয়ের কারবেরা চেয়েছিলেন মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রন নিতে। গোলরক্ষক মিতুল মারমা এবং মোরসালিনের প্রত্যাবর্তন ম্যাচে বাংলাদেশের খেলা ভালই উপভোগ করেছে সিঙ্গাপুর প্রবাসী দর্শকরা। বল দখলে স্বাগতিকদের ছেড়ে কথা বলেনি বাংলাদেশ দল। বল পজিশনের পরিসংখ্যানে ছিল ফিফটি-ফিফটি। গোল লক্ষ্য করে নেয়া শটেও ছিল সমতা (২-২)। আক্রমনের সংখ্যার দিকে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ ১৪-৫-এ। তবে গোলের খেলা ফুটবলে কৌশলগত দিকে এগিয়ে গেছে সিঙ্গাপুর। ৩১ মিনিটের মাথায় ডিফেন্ডার তপুর ভুলে গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। ওই গোলই তৈরি করেছে ব্যবধান।
ভিয়েতনামের কাছে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ ০-৩ গোলে হেরে আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। তার প্রতিফলনই পড়েছে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে। স্ট্রাইকিং জোনে থাকা মোরসালিন-ফাহিম-ফাহমিদুলকে গোলপোষ্ট লক্ষ্য করে একটি শটও নিতে দেখা যায়নি প্রথমার্ধে।
তারপরও প্রথমার্ধে গোলের সেরা সুযোগটা পেয়েছিল বাংলাদেশ খেলার ১৪ তম মিনিটে। ডান প্রান্ত দিয়ে ওভারল্যাপিং করে সাদ উদ্দিন দিয়েছিলেন ক্রস সমিত সোমকে লক্ষ্য করে। তবে অনমার্কড সমিত সোমের হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
খেলার ধারার বিপক্ষে গোল পেয়ে যায় সিঙ্গাপুর। খেলার ৩১তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে মধ্যমাঠ থেকে বল পেয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে সিঙ্গাপুর। ডি বক্স থেকে কুহেয়'র নেওয়া শট গোলরক্ষক মিতুল মারমা ঠেকিয়ে দিলেও বল বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ছোট ডি বক্সের সামনে দাঁড়ানো ইখসান ফান্দির পায়ে বল আসলে তার মার্কিংয়ে থাকা তপু বর্মন বল ক্লিয়ার করতে পারেননি। ইখসান দারুণ চতুরতার সঙ্গে বল বাড়িয়ে দেন হারিস স্টুয়ার্টের দিকে। তাঁর নিখুঁত প্লেসিং শটে বল জালে জড়িয়ে যায় (১-০)।
খেলার ৩৯তম মিনিটে সমতার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। ডান প্রান্ত থেকে আসা লম্বা থ্রো থেকে সাদ ও ফাহিমের মধ্যে বল দেওয়া-নেওয়া হওয়ার পর ফাহিমের শট ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়।
এক মিনিট পর বাঁ প্রান্ত প্রান্ত দিয়ে আক্রমন থেকে মোরছালিনের নেওয়া শট সিঙ্গাপুর ডিফেন্ডার বাহারুদিন ব্লক করার পরও ছিল সুযোগ। কিন্তু ফিরতি বলে ফাহিম যখন শট নিতে উদ্যত, তখন ডি-বক্সের ভেতর সিঙ্গাপুরের এক ডিফেন্ডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মাটিতে পড়ে যান ফাহিম। বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা সমস্বরে পেনাল্টির আবেদন জানালেও অস্ট্রেলিয় রেফারি তাতে সাড়া দেননি।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের খেলায় ছিল পরিকল্পনার ছাপ। বিশেষ করে ৭২ মিনিটের মাথায় ফাহমিদুলের জায়গায় মিরাজুল এবং মোরছালিনের জায়গায় বিশ্বনাথকে মাঠে নামানোয় শেষ ১৮ মিনিট একতরফা খেলেছে বাংলাদেশ। দুবার গোলের সুযোগও তৈরি করেছে এই সময়ে। মিড ফিল্ড থেকে উপরে উঠে হামজা চৌধুরীও চেষ্টা করেছেন সমতাসূচক গোলের।
খেলার ৭৫ মিনিটের মাথায় ডান প্রান্ত থেকে সাদউদ্দিনের ক্রস পেয়ে ডি বক্সের বাইরে থেকে হামজা চৌধুরী দ্বিতীয় পোষ্ট লক্ষ্য নিয়েছিলেন শট। পোষ্টের উপর দিয়ে চলে যায় তা।
খেলার ৭৯ তম মিনিটে সমিত সোমের ফ্রি-কিক জটলার মধ্যে পেয়ে হামজা চৌধুরী পেনাল্টি বক্সে দারুণ এক ক্রস দিয়েছিলেন স্ট্রাইকার মিরাজুলকে উদ্দেশ্য করে। তবে হতভাগ্য বাংলাদেশ। মিরাজুলের নেওয়া শট গোলরক্ষক পরাস্ত হলেও দুর্ভাগ্যক্রমে গোলপোস্টে লেগে সেই শটটি প্রতিহত হয়। আশাভঙ্গ হয় হামজার দল।

পেশাদার ফুটবলের একেবারে শেষপ্রান্তে দাড়িয়ে নেইমার। জীবনের পরমান্ত্যে মানুষ যেমন, স্থির হয়ে বসে সবকিছুর যোগ-বিয়োগ করেন। একটা পর্যায়ে কী হলে কী হতো, এমন অনেক ভাবনায় ডুবে যাওয়ার সময় আসে। তেমন অধ্যায়ই যেন পার করছেন নেইমার। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ক্যারিয়ার শুরু করে অনেক সাফল্যের স্বাক্ষী হয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। পাশাপাশি শৈশব থেকেই নিয়েছেন ত্যাগ ও তিতিক্ষার পাঠ। ফুটবল আর ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে নেইমার এবার ফিরে গেলেন ‘ছোট্ট নেইমারের’ কাছে।
বিশ্বকাপ শুরু হতে আর তিন মাসও বাকি নেই। ব্রাজিল জাতীয় দলে নেইমারের জায়গা এখনো অনিশ্চিত। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নে বিভোর নেইমার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে হাজির হলেন জীবনের গল্প নিয়ে। শোনালেন নিজের একান্ত ব্যাক্তিগত গল্প। শৈশব থেকে শুরু সান্তোসের ‘রাজপুত্রের’ আখ্যান, ‘তখন আমার বয়স ১৩–১৪। স্কুলের ভ্রমণে যাওয়া হয়নি, বন্ধুদের সঙ্গে সন্ধ্যায় সিনেমা দেখতে যাওয়া হয়নি—কারণ পরদিন সকালে অনুশীলন থাকত। আমি প্রায়ই বলতাম, ‘ধুর! আমার সব বন্ধুরা মজা করছে, আর আমি ঘরে বসে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছি।’
এরপর নেইমার যোগ করেন, ‘কিন্তু এর পেছনে একটা লক্ষ্য ছিল, একটা কারণ ছিল—আমি সেটা বুঝতাম। মাঝে মাঝে বিরক্ত লাগত, কিন্তু পরের দিনই আমি আনন্দে ভেসে যেতাম, কারণ আমি ফুটবল খেলতাম।’
বিশ্বজুড়ে খ্যাতি ও বিপুল অর্থসম্পদ অর্জন করলেও, কখনো কখনো নেইমার চান—এই সবকিছু থেকে একটু দূরে সরে গিয়ে, ফুটবলের বাইরের এক সাধারণ জীবনও অনুভব করতে, ‘আমি প্রায় ২০ বছর থরে এই পরিস্থির মধ্যে আছি। ব্যাপারটা খুব কঠিন। ব্রাজিলে তো এটা একেবারেই ক্লান্তিকর ও নির্মম। মানুষ তোমাকে একেবারে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে, অথচ বোঝেই না তুমি একজন সাধারণ মানুষ।’
দিন শেষে নিজেকে সাধারণ একজন মানুষ হিসেবে ভাবতেই স্বস্তি পান নেইমার, ‘ঠিক আছে, এটা ভীষণ কঠিন। আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ—কারণ আমি পরিশ্রম করে এখানে পৌঁছেছি। কিন্তু আমি তো একজন মানুষই।’
কয়েক বছরই চোটের সঙ্গে লড়াই নেইমারকে স্বস্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। সবকিছু মেনে নিয়েই একজন সাধারণ মানুষের মতো আবেগ নিয়েই বাঁচতে চান তিনি, ‘আমিও কষ্ট পাই, ব্যথা অনুভব করি, কখনো খারাপ মুডে ঘুম থেকে উঠি, কাঁদি, রেগে যাই, আবার খুশিও হই—এগুলো সবই স্বাভাবিক। আমি কেন স্বাভাবিক জীবনটা কাটাতে পারব না?
অনেকের কাছেই ব্রাজিল ফুটবলে একজন কিংবদন্তি হওয়ার মতো অনেক কিছুই করেছেন নেইমার। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা বলে কথা। সান্তোসের এই তারকার অর্জনও তো কম নয়। ব্রাজিল তথা বিশ্বেই তাঁর আছে বিশাল সমর্থকগোষ্ঠি। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও তো আছে। বার্সেলোনা ও পিএসজির সাবেক এই ফুটবলারের সমালোচকও যে কম নয়।
সম্প্রতি সমালোচকদের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে নেইমারকে। পান থেকে চুন খসলেই সমালোচকদের শূলে চড়ানো আচরণ পীড়া দেয় তাকে, ‘কোনো না কোনো কারণে কিছু মানুষ আমাকে পছন্দ করে না—এটা দেখলে আমার খারাপ লাগে। আমি যেন ভুল করতে পারি না—একেবারেই না। অথচ আমি আগেই অনেক ভুল করেছি। আমি মাথা নত করে সেগুলো স্বীকার করি, কারণ এগুলো জীবনেরই অংশ। এখন আমার বয়স ৩৪, অনেক ভুল করেছি, সামনে আরও করব।’
নেইমার ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। সাম্বাদের হয়ে ৭৯ গোল করা এই তারকা খেলেছেন তিনটি বিশ্বকাপে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাঁ হাঁটুর এসিএল ও মেনিসকাস ছিঁড়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি আর জাতীয় দলের হয়ে খেলেননি। সাম্প্রতিক সময়ে সান্তোসের হয়ে মাঠে ফিরলেও, তার পারফরম্যান্স এখনো জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তিকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। ফলে আসন্ন বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা এখনো ঝুলেই আছে তাঁর।

আত্মবিশ্বাসী শুরুর পর বেশ কিছু সুযোগও তৈরি করে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে সিঙ্গাপুরও মাঠে নামে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে। আর সেখানেই বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় সিঙ্গাপুর।
সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে সিঙ্গাপুরকে মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ। এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে শেষ ম্যাচের প্রথমার্ধে বল পজেশনে বাংলাদেশ এগিয়ে। তবে এই অর্ধে গোল আদায় করে নিয়েছে স্বাগতিকরা।
১৫ মিনিটে জায়ানের বাড়ানো বলে ডান দিক থেকে সাদের ক্রসে হেড নেন সমিত। তবে বল চলে যায় পোস্টের উপর দিয়ে। তিন মিনিট পর বাংলাদেশের পোস্টে শট নেন হ্যারিস স্টুয়ার্ট। তবে গোলমুখের সামনে হামজা বুক থেকে বল ক্লিয়ার করেন।
২০ মিনিটে ইকসান ফান্দি জোরালো শট নেন গোলে। সরাসরি মিতুল বরাবর হওয়ায় গ্লাভসবন্দি করতে কোনো সমস্যা হয়নি বাংলাদেশ গোলকিপারের। এ সময় বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ বাড়ায় সিঙ্গাপুর।
৩১ মিনিটে এগিয়ে যায় সিঙ্গাপুর। বা প্রান্ত দিয়ে উপরে উঠে গোলে শট নেন গ্লেন কুয়ে। মিতুল ফিরিয়েও দেন; তবে হ্যারিস স্টুয়ার্টের ফিরতি শটে ডান দিকে ঝাপিয়ে পড়েও ঠেকাতে পারেননি বাংলাদেশ গোলকিপার।
৩৯ মিনিটে দারুণ সুযোগ আসে বাংলাদেশের সামনে। বা প্রান্ত দিয়ে উপরে উঠেন ফাহিম। তাঁকে আটকে দিলেও বল কেড়ে নিয়ে গোলে শট নেন মোরছালিন। এই ফরোয়ার্ডের শট ব্লক করেন বাহার উদ্দিন। গোলমুখের সামনে অরক্ষিত বলে দৌড়ে শট নিতে যান ফাহিম, তবে তিনি পড়ে যান প্রতিপক্ষের একজন ডিফেন্ডারের বাধায়। এ সময় পেনাল্টির জোরালো আবেদন করে বাংলাদেশ। যদিও তাতে কর্ণপাত করেননি রেফারি।

মূল দলের পর প্রথমবার এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার অপেক্ষা শেষ হচ্ছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলেরও। কাল থাইল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলারের প্রত্যাশা, ফলাফল যাই হোক প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবল খেলবে আফঈদা-মিলিরা।
চলতি মাসেই প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলে এসেছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী দল। অনূর্ধ্ব-২০ দলের বড় সংখ্যক সদস্য ছিলেন সিনিয়র দলের সঙ্গে। অভিজ্ঞ এই সদস্যরা অস্ট্রেলিয়া থেকে পাওয়া শিক্ষা কাজে লাগাবে বিশ্বাস বাটলারের, ‘অনূর্ধ্ব-২০ দলের ১০ থেকে ১২ জন তরুণ খেলোয়াড় জাতীয় দলের কার্যক্রমের সঙ্গেই ছিল। সিনিয়র দলের হয়ে খেলাটা মেয়েদের জন্য ছিল প্রথম বড় অভিজ্ঞতা। সেই যাত্রায় আমরা কিছু ম্যাচ হারলেও যে শিক্ষা তারা পেয়েছে, তা এই অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে আমাদের ভালো অবস্থানে রাখবে।’
আরও পড়ুন
| ফিরলেন মোরছালিন, গোলবারের সামনে মিতুল |
|
দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের তুলনায় এশীয় ফুটবলের মান যে অনেক উঁচুতে, তা মনে করিয়ে বাটলার বলেন, ‘সাফ আর এএফসির মান সম্পূর্ণ আলাদা। এএফসি-ই হলো সেই জায়গা যেখানে আপনি সত্যিকারের প্রতিযোগিতার স্বাদ পাবেন। আমি সবসময় চাই মেয়েরা এই বড় মঞ্চে নিজেদের সেরাটা দিক এবং এখান থেকে শিখে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি হোক।’
থাইল্যান্ডের উন্নত পিচ, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং নারী ফুটবলের প্রতি দেশটির সমর্থনের প্রশংসা করেছেন বাটলার। তিনি মনে করেন, থাইল্যান্ডের মতো বাংলাদেশকেও নারী ফুটবলের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ‘থাইল্যান্ডে খেলার পরিবেশ দারুণ। আমি চাই বাংলাদেশও তাদের নারী ফুটবল দলের প্রতি আরও বেশি সহায়ক হোক, কারণ এখানে অমিত সম্ভাবনা রয়েছে। দিনশেষে এটি সংখ্যার খেলা এবং সঠিক বিনিয়োগই এখানে পরিবর্তন আনতে পারে।’
গ্রুপ ‘এ’ তে বাংলাদেশের অন্য দুই প্রতিপক্ষ চীন ও ভিয়েতনাম। প্রতিপক্ষ অভিজ্ঞতা আর র্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকলেও বাটলারের প্রত্যাশা আফঈরা ভালো খেলবে ‘আশা করি মেয়েরা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবল খেলবে। আমার মনে হয় সিনিয়র জাতীয় টুর্নামেন্টে তারা যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তা আমাদের ভালো অবস্থানে রাখবে। আশা করি ফলাফলের কথা চিন্তা না করে আমরা কিছু ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেখতে পাব।’
ব্যাংককের থামমাসাত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৭ টায়।